All posts by lutfor

যুক্তরাষ্ট্রে ১২৭ বাংলাদেশির মৃ’ত্যু

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাস মহামারীতে যুক্তরাষ্ট্র বিপর্যয়কর পরিস্থিতিতে রয়েছে। এর মধ্যে নিউইয়র্ক যেন মৃ’ত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। পার্শ্ববর্তী রাজ্য নিউজার্সির অবস্থাও শোচনীয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ১৩ এপ্রিল রাত পর্যন্ত আরও ছয় বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে ক’রোনায় আ’ক্রা’ন্ত হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে ১২৭ জন বাংলাদেশির মৃ’ত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃ’ত্যু হওয়া সর্বশেষ ছয় বাংলাদেশি হলেন বেদান্ত অ্যাসোসিয়েশন অব নিউইয়র্কের সভাপতি ঝন্টু সরকার, জ্যামাইকা ফ্রেন্ডস সোসাইটির সাবেক সভাপতি মুক্তিযো’দ্ধা মনির হোসেনের স্ত্রী পেয়ারা হোসেন বেবী, নরসিংদী জেলা জাতীয় পার্টি সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ভূঁইয়ার বড় বোন হাসনা বেগম, নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সমিরুল ইসলাম বাবলুর বাবা শফিকুর রহমান এবং মানিক মিয়া ও মোহাম্মদ খোকন (৫৪)।

এদিকে নিউজার্সির গভর্নর বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের দুই বেদনার যু’দ্ধ ভিয়েতনাম ও কোরিয়ান যু’দ্ধে মা’রা যাওয়া রাজ্যের লোকসংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে ক’রো’না ম’হা’মারী। ১৩ এপ্রিল পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় আড়াই হাজার মানুষের মৃ’ত্যু হয়েছে।

এদিকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশিদের লা’শ গণক’বরে দেওয়া হচ্ছে না বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন বাংলাদেশ সোসাইটির সিনিয়র সহসভাপতি আবদুর রহিম হাওলাদার। তিনি বলেন, যদি কোনো বাংলাদেশির লাশ কোনো হাসপাতালে থাকে এবং কেউ দায় না নেয়, তাহলে বাংলাদেশ সোসাইটির সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ করছি।

একদিনে মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড, মোট শনাক্ত ১০১২

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনায় প্রাণ হারিয়েছে ৭ জন। এ নিয়ে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ জনে। এছাড়া নতুন করে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে ২০৯ জন। সব মিলিয়ে দেশে শনাক্ত হওয়া রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ১০১২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হননি একজনও।মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) করোনাভাইরাস নিয়ে নিয়মিত অনলাইনে ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করে আইইডিসিআর।

বাংলাদেশে ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়। এরপর ধাপে ধাপে বাড়তে থাকে শনাক্ত রোগী। গেল ৯ এপ্রিল ২৪ ঘণ্টায় দেশে শতাধিক করোনা সংক্রমিত রোগী শনাক্তের কথা জানায় সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট (আইইডিসিআর)। এরপর থেকে শনাক্তের সংখ্যা কিছুটা কমলেও বাড়ে মৃত্যুর সংখ্যা।

এদিকে মঙ্গলবার এ প্রতিবেদনটি লেখা পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ১৯ লাখ ২৫ হাজার ১৭৯ জনে দাঁড়িয়েছে। ২১০টি দেশ ও অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া এ ভাইরাস মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকাল ১০টা পর্যন্ত ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৯৯ মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়ার্ল্ডওমিটারে এ সংখ্যা নিশ্চিত করা হয়েছে।

আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ঘরে ফিরেছেন ৪ লাখ ৪৫ হাজার ২৩ জন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন ১৩ লাখ ৬০ হাজার ৪৫৭ জন। এদের মধ্যে ১৩ লাখ ৮ হাজার ৬৯৩ জনের অবস্থা স্থিতিশীল এবং ৫১ হাজার ৭৬৪ জনের অবস্থা গুরুতর।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের ভয়াবহ তাণ্ডব চলছে। এই ভাইরাসে যুক্তরাষ্ট্রে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজার ৬৪৪ জনে। আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ লাখ ৮৭ হাজার ১৫৫ জনে।

মৃতের সংখ্যায় যুক্তরাষ্ট্রের পরে অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ২০ হাজার ৪৬৫ জন মানুষের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্ত হয়েছে ১ লাখ ৫৯ হাজার ৫১৬ জন।

মৃত্যুর হিসেবে ইতালির পরের অবস্থানেই রয়েছে স্পেন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৭ হাজার ৭৫৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৭০ হাজার ৯৯ জন। মৃত্যুর তালিকার চার নম্বরে রয়েছে ফ্রান্স। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১৪ হাজার ৯৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৭৯ জন।

মৃত্যু তালিকায় ফ্রান্সের পরের অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের আরেক দেশ ব্রিটেন। দেশটিতে এখন পর্যন্ত ১১ হাজার ৩২৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৮ হাজার ৬২১ জন। এদিকে জার্মানিতে ১ লাখ ৩০ হাজার ৭২ জন মানুষ আক্রান্ত হলেও দেশটিতে মাত্র ৩ হাজার ১৯৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ভাইরাসটি প্রথম শনাক্ত হয় চীনে। সেখানে এ ভাইরাসে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮২ হাজার ২৪৯ জন এবং মারা গেছেন ৩ হাজার ৩৪১ জন।

এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়েছে ইরানে। এখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩০৩ জন। মৃত্যু হয়েছে ৪ হাজার ৫৮৫ জনের।

ছুটি বাড়ল ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাস সংকটে সরকারি ছুটি আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো সাধারণ ছুটি বাড়ানো হল।

অবশ্য এখনো এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জানি করা হয়নি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।

কোভিড-১৯ মহামারী মোকাবেলায় প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি দেয়া হয়েছিল। এরপর ছুটি বাড়িয়ে তা ১১ এপ্রিল করা হয়।

ছুটি তৃতীয় দফা বাড়িয়ে করা হয় ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত চতুর্থ দফা ছুটি বাড়ানো হয়েছে।

দেশে কোভিড-১৯ রোগ শনাক্তের পরীক্ষা বাড়ছে, বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যাও।

এই পরিস্থিতিতে সরকার ছুটি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। গত ১৮ মার্চ করোনায় প্রথম মৃত্যুর পর নড়েচড়ে বসে সরকার।

বাতিল হয়েছে পহেলা বৈশাখের সরকারি আয়োজনও। এর আগে মার্চ মাসের মাঝামাঝি সময়ে ঘোষণা করা হয় যে ১৭ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বাংলাদেশে সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

বাতিল করা হয় ১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া উচ্চ মাধ্যমিক ও সমমানের পরীক্ষা।

 

করোনায় চীনের আসল মৃত্যু সংখ্যা ৪৭ হাজার : ওয়াশিংটন পোস্ট

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: করোনাভাইরাসের মৃত্যুর যে পরিসংখ্যান শুরু থেকে চীন দিয়ে আসছে তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে সন্দেহ পোষণ করেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গণমাধ্যম। এবার এই বিতর্কে নতুন তথ্য হাজির করেছে মার্কিন প্রভাবশালী দৈনিক ওয়াশিংটন পোস্ট। মার্কিন এই দৈনিক চীনা সাময়িকী ক্যাইক্সিনের বরাত দিয়ে বলছে, চীনে করোনায় কমপক্ষে ৪৬ হাজার ৮০০ জন মারা গেছেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম রেডিও ফ্রি এশিয়া বলছে, কর্তৃপক্ষ চীনের মধ্যাঞ্চলীয় উহান শহরের দুই মাসের লক ডাউন প্রত্যাহার করে নেয়ার পর সেখানকার বাসিন্দারা বলছেন, উহানে করোনায় মাত্র আড়াই হাজার মানুষ মারা গেছেন; এটি তাদের কাছে বিশ্বাসযোগ্য মনে হচ্ছে না।

করোনার প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যে উহানের অন্তত ৭টি বৃহৎ শ্মশানে দিনে গড়ে ৫০০ জনের মরদেহ পোড়ানোর পর তাদের স্বজনদের কাছে ছাই-ভস্ম হস্তান্তর করা হয়। সেই হিসেবে দেশটির সরকার করোনায় মৃত্যুর যে পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে, প্রকৃত সংখ্যা তারচেয়ে কয়েকগুণ বেশি।

শুক্রবার উহানের বাসিন্দা ঝ্যাং রেডিও ফ্রি এশিয়াকে বলেছেন, সরকারের প্রকাশিত পরিসংখ্যান সত্য হতে পারে না… কারণ সেখানকার চুল্লিগুলোতে ২৪ ঘণ্টাই মরদেহ পোড়ানো হয়েছে। তাহলে সেখানে এত কম সংখ্যক মানুষ কীভাবে মারা যায়?

বর্তমানে উহানে সাতটি মরদেহ পোড়ানো কেন্দ্র রয়েছে। এছাড়াও হ্যানকু, উচ্যাং এবং হ্যানইয়াং শহরেও আছে। এসব চুল্লিতে প্রত্যেকদিনের মরদেহ পোড়ানোর সক্ষমতার হিসেবে-নিকেশ করেছেন। চীনা সাময়িকী ক্যাইক্সিন বলছে, শুধুমাত্র একদিনেই হ্যানকু ফিউনারেল হোম কর্তৃপক্ষের কাছে মরদেহ পোড়ানোর পর ছাইভর্তি ৫ হাজার কলস দেয়া হয়েছে। দেশটির সরকার উহানে করোনায় মৃত্যুর যে সংখ্যা প্রকাশ করেছে; এই সংখ্যা তার দ্বিগুণ।

এই হিসেবে উহানের সাতটি শ্মশান থেকে প্রত্যেকদিন মরদেহের ছাই ভরা সাড়ে ৩ হাজার কলস সরবরাহ করা হয়েছে। চুল্লি কর্তৃপক্ষ করোনায় মৃতদের পরিবারকে জানিয়েছে যে, আগামী ৫ এপ্রিল ঐতিহ্যবাহী কিং মিং উৎসবের আগে তারা মৃতদের সৎকার সম্পন্ন করবে। এ হিসেবে গত ২৩ মার্চ থেকে মাত্র ১২ দিনে ৪২ হাজার মরদেহ পোড়ানো হয়েছে।

রেডিও ফ্রি এশিয়া আরেকটি হিসাবে বলছে, উহানের সাতটি শ্মশানের ৮৪টি চুল্লিতে ২৪ ঘণ্টাই মরদেহ পোড়ানোর সক্ষমতা রয়েছে। সেই হিসেবে সেখানে মোট মরদেহ পোড়ানো হয়েছে ৪৬ হাজার ৮০০।

হুবেই প্রদেশের একজন বাসিন্দা বলেন, এখান অধিকাংশ মানুষ বিশ্বাস করে যে লক ডাউনের আগে এবং পরে শহরের ৪০ হাজারের বেশি মানুষ মারা গেছেন। পুরোনাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই ব্যক্তির ডাকনাম মাও। তিনি বলেন, সম্ভবত কর্তৃপক্ষ ধীরে ধীরে আসল চিত্র প্রকাশ করছে। এটা ইচ্ছাকৃত অথবা অনিচ্ছাকৃতভাবেও করে থাকতে পারে।

দেশটির প্রাদেশিক সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র বলছে, অনেক মানুষ চিকিৎসার অভাবে বাড়িতে মারা গেছেন। উহানের প্রকৃত মৃত চিত্র নিয়ে কথা বলাটা খুবই স্পর্শকাতর। তবে কর্তৃপক্ষ আসল সংখ্যাটা জানে।

উহানের বাসিন্দা সান লিনান বলেন, যারা করোনায় মারা গেছেন, তাদের আত্মীয়রা প্রত্যেকদিন প্রিয়জনের ছাই-ভষ্ম নেয়ার জন্য শ্মশানের সামনে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে থাকেন।

জার্মানির বড় স্টেডিয়াম এখন হাসপাতাল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: করোনাভাইরাসের কারণে খেলাধুলা বন্ধ। শূন্য পড়ে রয়েছে বিশ্বের সব স্টেডিয়াম। সারাবছর ক্রীড়াবিদ-দর্শকদের উপস্থিতিতে মেতে থাকে মাঠগুলো। সেগুলো এখন সবই মরুভূমি।

তবে এই বিশাল বিশাল স্টেডিয়ামগুলো পুরোপুরি ফাঁকা রাখার কোন চিন্তা নেই কর্তৃপক্ষের। এরই মধ্যে ইংল্যান্ড ও ভারতে খেলার মাঠেই করা হয়েছে করোনা হাসপাতাল কিংবা চিকিৎসা কেন্দ্র।

এবার সে তালিকায় যোগ দিলো জার্মানিও। দেশটির সবচেয়ে বড় ফুটবল স্টেডিয়াম ‘দ্য ওয়েস্টফালেন’ শনিবার থেকে রুপ নিলো করোনা চিকিৎসা কেন্দ্রে।

ওয়েস্টফালেন বললে অনেক ক্রীড়াপ্রেমিই হয়তো চিনবেন না। এটি হলো মূলত বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের মাঠ ‘সিগন্যাল ইদুনা পার্ক’। ক্লাবটির পক্ষ থেকে এক আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।

শুক্রবার দেয়া সেই বিজ্ঞপ্তিতে তারা লিখেছে, শনিবার থেকে সিগনাল ইদুনা পার্কে উত্তর পাশের গ্যালারি ফুটবল নয়, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়তে ব্যবহৃত হবে। যেখানে করোনা উপসর্গ থাকা মানুষদের চিকিৎসা করা হবে।’

জার্মানিতে এরই মধ্যে প্রায় নব্বই হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হয়েছে, মারা গিয়েছে ১২শরও বেশি। তবে ইতোমধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সিগনাল ইদুনা পার্কে আনার দরকার নেই বলে জানানো হয়েছে।

যাদের মধ্যে নতুন করে উপসর্গ দেখা দেবে, তাদেরকে প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত সিগনাল ইদুনা পার্কে পরীক্ষা করা হবে এবং যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হবে।

রাজধানীর যে ১৮ এলাকায় করোনা রোগী শনাক্ত

দেশের ৯ জেলায় এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ৩৬ জন শনাক্ত হয়েছে ঢাকায়। রাজধানীর যেসব এলাকায় করোনা আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে তার মধ্যে মিরপুর অঞ্চল সবচেয়ে এগিয়ে। মণিপুর, সেনপাড়া, মিরপুর-১০ ও মিরপুর-১১ নম্বর এই তালিকায় রয়েছে।

সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) ওয়েবসাইটের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদফতরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণকক্ষ এ তথ্য জানাচ্ছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণকক্ষের তথ্যমতে, রাজধানীর বাসাবো, পুরান ঢাকার বাংলাবাজার, মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, হাজারীবাগ, মগবাজার, উত্তরা, উত্তরখান, যাত্রাবাড়ি, আজিমপুর, কলাবাগান, রামপুরা, মহাখালী, বনানী, গুলশান, বারিধারা, খিলক্ষেত এলাকায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত‌ রোগী শনাক্ত হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্যানুযায়ী, বিদেশফেরত মানুষের মাধ্যমেই দেশে প্রথম করোনার সংক্রমণ ঘটেছে। ৬১ জন আক্রান্তের মধ্যে ১৬ জন বিদেশফেরত। বিদেশফেরতদের মধ্যে ইতালির ৬ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৩ জন, সৌদি আরবের ২ জন। এছাড়াও কুয়েত, বাহারাইন, ভারত, জার্মানি ও ফ্রান্সের একজন করে রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এই ১৬ জন দেশে আসে। এরপর থেকেই দেশের বিভিন্ন জায়গায় এ ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।

আইইডিসিআর এর তথ্যানুযায়ী, রাজধানীর মিরপুর অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি ৯ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মণিপুরে‌ ৫জন, সেনপাড়ায় ২ জন, মিরপুর ১০ ও ১১ নম্বর এলাকায় একজন করে রোগী আছেন। রাজধানীর বাসাবো এলাকায় ৪ জন, পুরান ঢাকার বাংলাবাজার এলাকায় ৩ জন শনাক্ত হয়েছে। মোহাম্মদপুর, লালমাটিয়া, হাজারীবাগ, মগবাজার, উত্তরা ও উত্তরখানে ২ জন করে রোগী আছেন। এছাড়া যাত্রাবাড়ী, আজিমপুর, কলাবাগান, রামপুরা, মহাখালী, বনানী-গুলশান, বারিধারা ও খিলক্ষেত এলাকায় একজন করে রোগী শনাক্ত হয়েছেন।

শুক্রবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ গণমাধ্যমকে বলেন, এ পর্যন্ত মোট নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ২ হাজার ১১৩ জনের। গত ২৪ ঘণ্টায় ৬ জনসহ মোট ৬১ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩৮ জন‌ পুরুষ। ২৩ জন নারী রয়েছেন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৬ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২৬ জন। আইইডিসিআর এর অধীনে চিকিৎসাধীন ২৯ জন। এদের ২২ জন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বাকি ৭জন বাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। বর্তমানে আইসোলেশন আছেন ৮২ জন।

করোনায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনার প্রস্তাব বিএনপির

চলমান করোনাভাইরাস সংকট মোকাবিলায় জিডিপির তিন শতাংশ অর্থাৎ ৮৭ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ প্রণোদনা ঘোষণার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি।

শনিবার (৪ এপ্রিল) সকালে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ প্রস্তাব তুলে ধরেন।

তিনি বলেন, ‘চলমান করোনা সংকট কেবল জীবনের জন্য ঝুঁকি নয়, অর্থনীতির জন্যও তা মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে। আর এ জন্য সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়বে সাধারণ খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষ। সেজন্য আমরা স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি কতগুলো পদক্ষেপ গ্রহণের প্রস্তাব রাখছি। সরকার এই প্রস্তাবগুলো সদয় বিবেচনার মাধ্যমে বাস্তবায়ন করবে এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

‘ইতোমধ্যে সরকার কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। সেগুলো এই সংকট নিরসনে যথেষ্ট নয় বলে আমরা মনে করি। এ জন্য জিডিপর তিন শতাংশ অর্থাৎ ৮৭ হাজার কোটি টাকার প্যাকেজ প্রণোদনা ঘোষণার দাবি জানাচ্ছি’ বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যে জাতি হতাশ: ওবায়দুল কাদের

প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাসে সৃষ্ট বৈশ্বিক সংকটের এই সময়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মতো দায়িত্বশীল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব যখন কাণ্ডজ্ঞানহীন বক্তব্য রাখেন তখন জাতি হতাশ হয়। তার বক্তব্য আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থ হওয়া একজন দিশেহারা রাজনীতিকের অসংলগ্ন প্রলাপ ও ব্যর্থতার বেসামাল বহিঃপ্রকাশ।

শনিবার (৪ এপ্রিল) নিজ বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।কাদের বলেন, সারা বিশ্বে সব মানুষ একযোগে যখন এই সংকট মোকাবিলায় এক প্লাটফর্মে দাঁড়িয়েছে তখন অর্বাচীনের মতো মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাখা বক্তব্য জাতিকে বিভ্রান্ত করে। তাদের এই বালখিল্যতার কারণে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে মির্জা ফখরুলরা জনগণ দ্বারা প্রত্যাখিত হয়েছেন।

মির্জা ফখরুল ইসলামরা যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গৃহীত কর্মসূচিকে ভিত্তি ধরে কোনো প্রস্তাব দিতেন আমরা মনে করি সেটা জাতির জন্য আশাব্যঞ্জক হত। কিন্তু তারা সেটা না করে সরকারের বিরুদ্ধাচারের নামে বিপরীত প্রস্তাব তুলে ধরে জাতিকে বিভ্রান্ত ও উদ্বিগ্ন করেছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়া ডাক্তার-নার্স ও স্বাস্থ্য কর্মীদের ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জাতীয় এই দুর্যোগে যখন নিরলসভাবে কাজ করছেন, সাধারণ জনগণের পাশে থেকে জনগণকে আশ্বস্ত করে চলেছেন ঠিক তখনই মির্জা ফখরুলরা ভুল তথ্য উপস্থাপন করে জাতিকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। দুর্যোগের এই মুহূর্তে বিভেদ নয়-এটা তাদের বোধগম্য নয়। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা এ সময়ে শেখ হাসিনার নির্দেশে জনগণকে সতর্ক, সচেতন ও দায়িত্বশীল করার কাজ করে চলেছে।

সেতুমন্ত্রী বলেন, সরকার করোনা ভাইরাস সংক্রমণে অন্য দেশের তুলনায় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীররা ব্যথিত হয়েছেন। মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে হয়তো তারা খুশী হতেন। মৃত্যুর হার নিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে মন্তব্য করেছেন সেটা থেকে প্রমাণিত হয় উনি গণিতের সাধারণ সূত্রই জানেন না। আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কম বলেই সেখানে মৃত্যুর হার বেশি হওয়াটা স্বাভাবিক।

কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে প্রস্তাব দিয়েছেন তা আমাদের অর্থনীতির ঊর্ধ্বগামী সম্ভাবনার বিপরীত। এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য জনগণকে শুধু হতাশই করতে পারে। এডিবির এক অর্থনীতিবিদ যেখানে বলেছেন, এই সংকটের মধ্যেও এশিয়ায় বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি চলতি অর্থ বছরে সর্বোচ্চ হবে, সেখানে অর্থনীতির এই সম্ভাবনাকে নাকচ করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার এই প্রস্তাব সংকটকে আরও ঘণীভূত করবে।

শবে বরাতের ইবাদত বাসায় থেকে করার আহ্বান

৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নিজ নিজ বাসস্থানে বসে পবিত্র শবে বরাতের ইবাদত যথাযথ মর্যাদায় আদায় করার জন্য সবাইকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন। সংস্থাটির মহাপরিচালক আনিস মাহমুদ স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তৃতি প্রতিরোধে সরকার সব সরকারি-বেসরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজন ছাড়া জনসাধারণকে ঘরের বাইরে বের হতে নিষেধ করা হয়েছে। সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় জনসমাগমে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

সবাইকে ঘরে থাকতে কঠোরভাবে নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকেও মসজিদে জুমা ও পাঁচ ওয়াক্তের ফরজ নামাজে মুসল্লিদের অংশগ্রহণ সীমিত রাখার আহ্বান করা হয়েছে। অজু, নফল ও সুন্নত নামাজ বাসায় আদায় করার অনুরোধ করা হয়েছে।

এতে আরও বলা হয়, চলমান সংকটকালীন পরিস্থিতিতে দেশের নাগরিকদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তার স্বার্থে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত করোনা ভাইরাস সম্পর্কিত দিক নির্দেশনামূলক বক্তব্য এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক ঘোষিত নির্দেশনা মান্য করে আগামী ৯ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নিজ নিজ বাসস্থানে বসে পবিত্র শবে বরাতের ইবাদত যথাযথ মর্যাদায় আদায় করার জন্য সকলকে বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয়েছে।

টাকা সরকারকে না দিয়ে ইউনিসেফকে দিলেন সাইফ-কারিনা

মরনঘাতী ভাইরাস করোনা মোকাবিলার জন্য আর্থিক সাহায্য করেছেন ভারতের বড়সড় সেলিব্রিটিরা৷ তালিকায় রয়েছেন অক্ষয় কুমার, সচিন তেন্ডুলকর, শিল্পা শেট্টি, অনুষ্কা-বিরাট, ধোনি, বরুণ ধাওয়ানও। তবে অনেক তারকাই এখনো এ নিয়ে মুখ বা হাত কোনোটাই খোলেননি। সে নিয়ে সমালোচনাও হচ্ছে খুব।

তালিকায় ছিলেন সাইফ আলী খান ও কারিনা কাপুর। অবশেষে তারা হাত খুলেছেন। তবে দেশের প্রধানমন্ত্রীর তহবিল পিএম কেয়ারে আর্থিক সাহায্য করেননি তারা। এই তারকা দম্পতি ইউনিসেফে টাকা দিলেন। সে নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন হৈ চৈ।

ইনস্টাগ্রামে কারিনা লিখলেন, ‘এই কঠিন সময়ে আমাদের একসঙ্গে থাকবে হবে। কাঁধে কাঁধ দিয়ে লড়াই করতে হবে। আমাদের তিনজনের পক্ষ থেকে তাই ছোট্ট প্রচেষ্টা৷ ছোট্ট সাহায্য ইউনিসেফ, গিভ ইন্ডিয়া, আইএএইচভিকে ৷’ মেসেজের শেষে লিখলেন তিনজনের নাম, কারিনা কাপুর খান, সাইফ আলি খান ও তৈমুর।

কারিনার ওই ইনস্টাগ্রাম পোস্ট প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই শুরু হয়েছে জোর শোরগোল। কেন অনুদানের বিষয় নিয়ে ৩টি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের নাম উল্লেখ করেও এড়িয়ে গেলেন প্রধানমন্ত্রী ত্রাণ তহবিলের কথা সেই প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।

প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান দিয়ে কেন ভারতকে সাহায্য করছেন না, এমন প্রশ্নও করতে শুরু করেন অনেকে। কেউ কেউ আবার বলতে শুরু করেছেন ইউনিসেফ, গিভ ইন্ডিয়ার মতো সংস্থায় অনুদানের কথা বলে সস্তায় প্রচার পেতে চাইছেন সাইফিনারা।