All posts by lutfor

সেই বাড়িওয়ালা কারাগারে

রাজধানীর পান্থপথে এক মাসের ভাড়া বকেয়া থাকায় ভাড়াটিয়াকে মারধর করে বের করে দেয়া বাড়িওয়ালা নুর আক্তার শম্পার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (২২ এপ্রিল) তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করে পুলিশ। এ সময় তার বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যা চেষ্টা মামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ডে আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ওই থানার উপ-পরিদর্শক সাইদুর রহমান। অপরদিকে শম্পার আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সাঈদ তার জামিন ও রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
কলাবাগান থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা পুলিশের উপ-পরিদর্শক সাফায়েত শরীফ বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এর আগে মঙ্গলবার রাতে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি সড়ক থেকে তাকে আটক র‌্যাব। রোববার (১৯ এপ্রিল) রাতে ৫৮/৭ নম্বর পান্থপথ এলাকার দ্বিতীয় তলায় ভাড়াটিয়ার এক মাসের ভাড়া বাকি থাকায় দুই মাসের নবজাতক শিশুসহ তিন সন্তান ও তার বাবা-মাকে মারধর করে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেন বাড়িওয়ালা শম্পা। র‍্যাব-পুলিশের সদস্যরা মানবিক বিবেচনায় শম্পার কাছে ভাড়াটিয়াকে ঘরে রাখার অনুরোধ জানায়।

শম্পা তাদের অনুরোধ অবজ্ঞা করে এবং র‍্যাব-পুলিশকে দেখে নেয়ার হুমকি দিয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে যান। এ ঘটনায় শম্পার বিরুদ্ধে রাজধানীর কলাবাগান থানায় ভাড়াটিয়াকে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মো. সেলিম হোসেন।

সাধারণ ছুটি আরও বাড়ল

দেশে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ব্যাপকতার মধ্যেই সাধারণ ছুটি আরো ১০ দিন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। বুধবার (২২ এপ্রিল) জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. ফরহাদ হোসেন এ তথ্য জানান। বিকেলের মধ্যেই এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে বলেও জানান তিনি। তিনি বলেন, আগামী ২৬ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত ছুটি বর্ধিত করা হয়েছে। তবে এই ছুটির সঙ্গে বেশকিছু নির্দেশনা থাকবে। সেই নির্দেশনাগুলো আমাদের অবশ্যই মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে গঠিত করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি এর আগে আরো সাতদিন সাধারণ ছুটি বাড়ানোর প্রস্তাব করে সরকার প্রধানের কাছে পাঠিয়েছিল।গত ৮ মার্চ প্রথম করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়ার পর গত ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল এবং পরে ৫-৯ এপ্রিল, পরে ১৪ এপ্রিল এবং সবশেষ ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়ানো হয়েছিল।

আইসোলেশন ওয়ার্ডের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিট

 করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে আইসোলেশন ওয়ার্ড খোলার সিদ্ধান্তে ফিরে এসেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। যদিও বার্ন ইউনিটের রোগীদের শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় দুদিন আগেই সিদ্ধান্তটি স্থগিত করা হয়েছিল।

সোমবার (১৫এপ্রিল) বিকেল থেকে ঢামেক হাসাপাতালের বার্ন ইউনিটের রোগীদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়েছে। এর আগে ঢামেক কর্তৃপক্ষ বার্ন ইউনিটে করোনাভাইরাসের জন্য আইসোলেশন ওয়ার্ড না খুলতে অনেক চেষ্টা করেন।

ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের প্রধান অধ্যাপক ডা. বিধান সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান , হাসপাতালের পরিচালকের নির্দেশে সোমবার বিকেল থেকে রোগী স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, ঢামেক হাসপাতাল বার্ন ইউনিটে ১০০টি শয্যা রয়েছে। সেখানে রোগী আছে প্রায় ৩০০ জন। এতগুলো পোড়া রোগী স্থানান্তর করা খুবই রিস্কের ব্যাপার। এমনকি রোগীদের জন্য খুব কষ্টের। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলাপ করে সেটা স্থগিত করার চেষ্টা করেছিল। কিন্তু সেটা এখন বাতিল হয়েছে। ঢামেক পাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আমাদের রোগী স্থানান্তর করতে বলেছে। বার্ন ইউনিটের রোগীদের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট নেয়া হচ্ছে।

ঢামেকের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. খান মো. আবুল কালাম আজাদ জানান, আইসোলেশনে রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। সে কারণে স্থগিতের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। তাছাড়া বার্ন ইউনিটে রোগীর সংখ্যা কমে গেছে। এ কারণে ঢামেক হাসপাতাল বার্ন ইউনিট থেকে রোগীর স্থানান্তর করে ভবনটিকে আইসোলেশন ওয়ার্ড করা হচ্ছে।

শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের সমন্বয়কারী অধ্যাপক সামন্তলাল সেন জানান , ‘আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। বার্ন ইউনিট থেকে রোগীদের নিয়ে আসা হচ্ছে। তাদের জন্য এখানে দেড়শ বেড প্রস্তুত করা হয়েছে। এমনকি স্থানান্তর করা রোগীদের চিকিৎসাও শুরু হয়েছে।ঢামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন জানান, রোগী স্থানান্তর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঢামেক হাসপাতাল বার্ন ইউনিট আইসোলেন ওয়ার্ডের জন্য প্রস্তুত করা হবে।

তিন ধাপে বাড়ল হজ নিবন্ধনের সময়

বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে চলতি বছর হজ গমনেচ্ছুদের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রমের সময়সীমা আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে তিন ধাপে বাড়ানো হলো হজ নিবন্ধনের সময়।বৃহস্পতিবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে আগ্রহী প্রাক- নিবন্ধিত ব্যক্তিবর্গের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, হজ পালনে ইচ্ছুক, নিবন্ধনের জন্য পাসপোর্ট জমা প্রদানকারী অনেকে সরকারি ছুটির কারণে ব্যাংক থেকে নিবন্ধন ভাউচার গ্রহণ করতে পারেননি। ইতিমধ্যে নিবন্ধন ভাউচার গ্রহণকারী অনেকে টাকা জমা প্রদান করতে না পারায় নিবন্ধন করতে পারেননি। এমতাবস্থায় ২০২০ সালে সরকারি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের নিবন্ধনের সুবিধার্থে হজযাত্রী নিবন্ধনের সময়সীমা শেষবারের মতো আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।

সেখানে বলা হয়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত সকল প্রাক-নিবন্ধিত ব্যক্তিসহ হজগমনেচ্ছু যেকোনো ব্যক্তি নতুনভাবে একইসঙ্গে প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধন করতে পারবেন। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনার প্রাক-নিবন্ধনের সর্বশেষ ক্রমিক ৬ লাখ ৭২ হাজার ১৯৯ পর্যন্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আগে আসলে আগে নিবন্ধন করা হবে ভিত্তিতে নিবন্ধন করতে পারবেন। পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের সুবিধার্থে আগামী ২৯ এপ্রিলের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কেন্দ্রে পাসপোর্ট দাখিল করতে হবে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা শুধুমাত্র ১ লাখ ৫১ হাজার ৯৯০ টাকা জমা প্রদান করে নিবন্ধন করবেন। আপাতত কোন অবস্থাতেই এর অতিরিক্ত টাকা জমা প্রদান করবেন না। কোনো হজযাত্রী এ পর্যায়ে ১ লাখ ৫১ হাজার ৯৯০ টাকার বেশি টাকা জমা প্রদান করলে এর জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো এজেন্সি নিবন্ধনের জন্য এর অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় গৃহীত অর্থ কোনো অবস্থাতেই এ পর্যায়ে হজ কার্যক্রম বাবদ বাংলাদেশে ব্যয় করা যাবে না এবং সৌদি আরবেও প্রেরণ করা যাবে না । ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ব্যতীত কোনো এজেন্সি ব্যাংক থেকে এ টাকা উত্তোলন করতে পারবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপকগণকে এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।

গত ১ মার্চ থেকে হজযাত্রী নিবন্ধন শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে হজ নিবন্ধনের সময়সীমা ১৫ মার্চ পর্যন্ত বেধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। নিবন্ধনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না মানুষ। এরপর ১২ মার্চ তা ২৫ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়।চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন সহ সর্বমোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জনের হজে যাওয়া কথা রয়েছে।

১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৪০৫ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫১ হাজার ১৬ জন নিবন্ধন করেছেন।বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবারের হজ অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সৌদি সরকার বর্তমানে ওমরা হজ কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। মক্কা ও মদিনার প্রধান মসজিদে নামাজে বন্ধ রাখা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত হজ হবে কি হবে না এ নিয়ে সরকারিভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

কাওরান বাজারে কাঁচামালের আড়ত লকডাউন

রাজধানীর কাওরান বাজারের কাঁচাবাজার আড়তে (লাউ পট্টি) একজন ব্যবসায়ী ও তাঁর কর্মচারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এই দুই জনের করোনাভাইরাস পরীক্ষার ফলাফল পজিটিভ আসায় ওই ব্যবসায়ীর আড়ত ও বাসা লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম অর রশীদ বলেন, কাঁচাবাজার আড়তে দুজনের করোনা পজিটিভ আসায় ওই ব্যবসায়ীর আড়ত ও বাসা লকডাউন করা হয়েছে। করোনাভাইরাসের লক্ষণ ও উপসর্গ নিয়ে দুজনের নমুনা পরীক্ষা করানোর পর বৃহস্পতিবার জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) পক্ষ থেকে তাদের করোনাভাইরাস পজিটিভের তথ্য জানানো হয়।  এরপরই কাওরান বাজারে এরশাদ ভবন সংলগ্ন লাউপট্টির একটি আড়ত ও তার পাশে একটি বাসা লকডাউন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তেজগাঁও থানার এসআই  ইয়াসিন আলী। তিনি বলেন, ‘আক্রান্ত দুজনের মধ্যে একজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। অপরজন বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

করোনা ঝুঁকিতে বাংলাদেশ : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর

পুরো বাংলাদেশ করোনা ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে ঘোষণা করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সন্ধ্যায় এ সংক্রান্ত এক আদেশ জারি করে অধিদফতর।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত ওই আদেশে বলা হয়, বিশ্বব্যাপী করোনা ভাইরাস (কভিড-১৯) মহামারি আকারে বিস্তার লাভ করায় লাখ লাখ লোক আক্রান্ত হয়েছে ও লক্ষাধিক লোক মৃত্যুবরণ করেছে এবং বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটেছে। হাঁচি, কাশি ও পরস্পর মেলামেশার কারণে এ রোগের বিস্তার ঘটে। এখন পর্যন্ত বিশ্বে এ রোগের কোন প্রতিষেধক আবিষ্কার হয়নি।

বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুযায়ী এ রোগের একমাত্র প্রতিষেধক হলো পরস্পর থেকে পরস্পরকে নির্দিষ্ট দূরত্বে অবস্থান করা এবং যেহেতু, জনসাধারণের একে অপরের সাথে মেলামেশা নিষিদ্ধ করা ছাড়া সংক্রমণ প্রতিরােধ করা সম্ভব নয় এবং যেহেতু, বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় এই রোগের সংক্রমণ ঘটেছে।

সেহেতু সংক্রামক রোগের (প্রতিরোধে, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মল) আইন, ২০১৮ (২০১৮ সালের ৬১ নং আইন) এর ১১ (১) ধারার ক্ষমতাবলে সমগ্র বাংলাদেশকে সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করা হলো।

সংক্রমিত এলাকার জনসাধারণকে নিম্নলিখিত নির্দেশাবলি কঠোরভাবে অনুসরণ করার জন্য অনুরোধ
করা হলো :

১. করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রশমনে জনগণকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে। অতীব জরুরি প্রয়োজনে ব্যতীত ঘরের বাইরে বের হওয়া যাবে না।

২. এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হলো।

৩. সন্ধ্যা ৬টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত কেউ ঘরের বাইরে যেতে পারবে না।

এ আদেশ অমান্যকারীর বিরুদ্ধে উপরে বর্ণিত আইনে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এছাড়া স্থানীয় স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের সহায়তা নিয়ে আইনের সংশ্লিষ্ট অন্য ধারাগুলো প্রয়োগ করার ক্ষমতা সংরক্ষণ করবে।

যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ক্রমে আজ ১৬ এপ্রিল ২০২০ আদেশ জারি করা করো।

এশিয়ার প্রবৃদ্ধি হবে শূন্যের কোঠায় : আইএমএফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক  :  মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্ব অর্থনীতির শতাব্দীর সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) সতর্ক করে বলেছে, চলতি বছর এশিয়ার দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি শূন্যের কোঠায় নামতে পারে, যা গত ৬০ বছরের মধ্যে প্রথম। আইএমএফ বলছে, এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়বে সেবা ও রফতানি খাত। দেশে দেশে লকডাউনের কারণে বিমান চলাচল খাত, কারখানা, দোকান, রেস্তোরাঁগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি ২ শতাংশ হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। অর্থনীতির বর্তমান হালচাল বিশ্লেষণ করে এর আগে সংস্থাটি জানিয়েছিল, ১৯৩০ সালের বৈশ্বিক মহামন্দার পর এই প্রথম সবচেয়ে খারাপ অর্থনৈতিক অবস্থায় বিশ্ব। এবার এশিয়ার প্রবৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক করে আইএমএফ বলছে, এটা অনাকাঙ্খিত।

আইএমএফের এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় বিভাগের পরিচালক চ্যাংইয়ং রি বলেছেন, ‘মহামারি প্রতিরোধে ভ্রমণ–নিষেধাজ্ঞা, সামাজিক দূরত্বসহ অন্যান্য কঠোর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার এবং সংস্থাগুলোকে অবশ্যই সহায়তা করতে হবে নীতিনির্ধারকদের।

তিনি আরও বলেছেন, ‌এটা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত অনিশ্চিত ও চ্যালেঞ্জিং একটা সময়। এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলটিও এর ব্যতিক্রম নয়। অঞ্চলটিতে করোনাভাইরাসের প্রভাব হবে আরও তীব্র এবং নজিরবিহীন।

সংস্থাটি আরও বলছে, এই অঞ্চলের সরকারগুলোকে এখন অসাধারণ কোনো পদক্ষেপ নিতে হবে। কারণ স্বাভাবিক উপায়ে ব্যবসা করার সময় এটা নয়। তাই এশিয়ার দেশগুলোকে তাদের ঝুলিতে থাকা অর্থনৈতিক নীতির সমস্ত সরঞ্জাম ব্যবহার করতে হবে।

রাষ্ট্রপতির সাথে নতুন আইজিপির সৌজন্য সাক্ষাৎ

রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ এর সাথে বাংলাদেশ পুলিশের নবনিযুক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজিপি) ড. বেনজীর আহমেদ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিকেলে বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। আইজিপি বাংলাদেশ পুলিশের চলমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। তিনি তার দায়িত্ব পালনকালে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহযোগিতা ও দিকনির্দেশনা কামনা করেন। রাষ্ট্রপতি বর্তমান করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতিতে পুলিশ সদস্যদের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি সাধারণ জনগণের পাশে থেকে এভাবে দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখার আহবান জানান।তিনি পুলিশকে আরও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার জন্য নবনিযুক্ত আইজিপিকে নির্দেশনা প্রদান করেন।রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট সচিবগণ এবং ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাগণ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

করোনায় আরও ১০ জনের মৃত্যু, নতুন শনাক্ত ৩৪১

 মহামারি করোনাভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬০ জনে। আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৩৪১ জন। এতে দেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৭২ জনে।

বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস সংক্রান্ত নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানানো হয়। অনলাইনে বুলেটিন উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।

তিনি জানান, করোনা শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় দুই হাজার ১৯টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এতে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন আরও ৩৪১ জন। ফলে দেশে মোট করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৫৭২ জনে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ১০ জন। এতে মৃতের সংখ্যা হয়েছে ৬০।

বুলেটিন উপস্থাপনকালে করোনার বিস্তাররোধে সবাইকে বাড়িতে থাকার এবং স্বাস্থ্য বিভাগের পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে চীনের উহান থেকে ছড়িয়ে বৈশ্বিক মহামারিতে পরিণত হয়েছে করোনাভাইরাস। চীন পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিয়ে উঠলেও এখন ভুগছে ইউরোপ-আমেরিকা-এশিয়াসহ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চল। এ ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় ২১ লাখ। মৃতের সংখ্যা এক লাখ ৩৪ হাজারেরও বেশি। তবে পাঁচ লাখ ১৬ হাজারের মতো রোগী ইতোমধ্যে সুস্থ হয়েছেন।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া যায়। এরপর প্রথম দিকে কয়েকজন করে নতুন আক্রান্ত রোগীর খবর মিললেও গত ক’দিনে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ সংখ্যা। সবশেষ হিসাবে দেশে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা এক হাজার ৫৭২। মারা গেছেন ৬০ জন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৪৯ জন।

অমানবিক বাড়িওয়ালারা সাবধান: দুদক চেয়ারম্যান

যারা চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে অমানবিক আচরণ করছেন এমন বাড়িওয়ালাদের সাবধান হতে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

তিনি বলেন, ‘অমানবিক আচরণকারী চিকিৎসকরা সাবধান। যারা চিকিৎসাখাতে কাজ করা ভাড়াটিয়াদের নিগৃহীত করছেন, বের করে দিতে চাইছেন তাদের সম্পদের অনুসন্ধান করবে দুদক।’বৃহস্পতিবার দুপুরে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

সাংবাদিকদের দুদক চেয়ারম্যান আরও বলেন, জাতির এই সংকটময়ে ডাক্তার, নার্স, ওয়ার্ডবয় এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মী জীবনের মায়া ত্যাগ করে জাতির সেবায় নিয়োজিত আছেন। এদের সঙ্গে খারাপ আচরণ কিংবা কোনো ধরনের অসম্মান করা আইনগতভাবেই অপরাধ।

তিনি বলেন, দেশে বিদ্যমান ‘সংক্রামক রোগ আইন, ২০১৮’ অনুযায়ী এমন আচরণ শাস্তিযোগ্য অরপরাধ। কেউ যদি এই আইনের লঙ্ঘন করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবেন।

এরপরও যদি কোনো বাড়ির মালিক এমন আচরণ করেন তাহলে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়ার হুশিয়ারি দিয়ে দুদক চেয়ারম্যান বলেন, যদি কোনো বাড়ির মালিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত কোনো ব্যক্তিকে বাড়ি ছাড়ার কথা বলেন বা বাড়ি ছাড়তে বাধ্য করেন, তাহলে আইন অনুযায়ী তাদের বাড়ি নির্মাণের অর্থের উৎস খুঁজে দেখবে দুদক। অবৈধ সম্পদের উৎস পেলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।