All posts by lutfor

নবীনগরে খবর পেলেই নিজ উদ্যোগে খাবার পৌঁছে দিচ্ছেন যুবলীগের আলামিন

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা নবীনগর উপজেলা করোনাভাইরাসের মহামারীতে খাদ্য সংকটে পড়া মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন যায়যায় কাল পত্রিকার প্রকাশক ও সম্পাদক সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ সম্পাদক আলামিনুল হক আলামিন । বিশেষ করে যে পরিবারগুলো বিপদগ্রস্ত, কিন্তু সহায়তা নিতে অস্বস্তি বোধ করছেন তাদের খোঁজ-খবর নিচ্ছেন তিনি। খবর পেলেই নিজ উদ্যোগে তিনি বাসায় পৌঁছে দিয়ে আসছেন খাবার। সংকটে খাবার পেয়ে এই মধ্য ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো উপকৃত হচ্ছে। বর্তমানে করোনা সৃষ্ট পরিস্থিতিতে আত্মমর্যাদাশীল মধ্য ও নিম্নমধ্যবিত্ত শ্রেণীর একাংশ দ্বিমুখী সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই অংশটি লাইনে দাঁড়িয়ে খাদ্য সামগ্রী নিতে সংকোচ বোধ করছেন আবার প্রকাশ্যে কারো কাছে সাহায্য চাইতেও পারছেন না। তাদের সহায়তায় এগিয়ে এসেছেন তিনি।আলামিনুল হক আলামিন জানান, প্রতিটি জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, ওয়ার্ড ও গ্রাম পর্যায়ে খাদ্য ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পৌঁছে দেওয়ার নিশ্চয়তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তাঁর নির্দেশনার সফল বাস্তবায়নের জন্যই যুবলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলের পরামর্শে এ কার্যক্রমে হাত দিয়েছেন তিনি। গত ২৫শে মার্চ থেকে তিনি নবীনগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অসহায় মানুষের পাশা পাশি সচেতন মূলক কাজও করে যাচ্ছেন।

চাষিদের পণ্য বাজারজাত করবে মন্ত্রণালয়

দেশের প্রান্তিক পর্যায়ের চাষী, খামারি এবং উদ্যোক্তাদের উৎপাদিত মাছ, দুধ, ডিম ও পোল্ট্রি বাজারজাত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ ব্যাপারে পদক্ষেপ গ্রহণে সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করেছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

আজ বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, করোনা পরিস্থিতিতে বাজারজাতকরণ সংকটে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ উৎপাদক, খামারি ও উদ্যোক্তাদের কথা মাথায় রেখে এবং ভোক্তাদের প্রাণিজ পণ্য প্রাপ্তির চাহিদা বিবেচনা করে এ নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন, উদ্যোক্তা ও খামারিদের সহযোগিতায় স্থানীয় প্রশাসনের সাথে সমন্বয় করে এ উদ্যোগ গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে। আজ এ সংক্রান্ত নির্দেশনা জারী করে মৎস্য অধিদপ্তর ও প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে পাঠিয়েছে মন্ত্রণালয়। নির্দেশনা পত্রটি জেলা প্রশাসকদের বরাররও পাঠানো হয়েছে।

স্বাস্থ্যকর্মীদের ২০ হাজার জোড়া জুতা দিলেন প্রিয়াঙ্কা

বিনোদন ডেস্ক : করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দিনরাত মানুষের সেবা দিয়ে চলেছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। এরকম স্বাস্থ্যকর্মীকে ২০ হাজার জোড়া জুতা উপহার দিলেন জনপ্রিয় বলিউড অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা চোপড়া। এর মধ্যে ভারতের কেরালা, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও কর্ণাটকের স্বাস্থ্যকর্মীদের ১০ হাজার ও লস অ্যাঞ্জেলেসের স্বাস্থ্যকর্মীদের আরো ১০ হাজার জোড়া জুতা উপহার দিয়েছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে এক বিবৃতিতে এই অভিনেত্রী বলেন, দেশজুড়ে যে সকল স্বাস্থ্যকর্মী কাজ করছেন তারা প্রকৃত সুপারহিরো, তারা প্রতিদিন আমাদের সুরক্ষা নিশ্চিত করছেন এবং সামনে থেকে লড়াই করছেন। তাদের সাহস, অঙ্গীকার এবং আত্মত্যাগের কারণে এই বৈশ্বিক মহামারির সময় অসংখ্য জীবন রক্ষা পাচ্ছে। আমরা দেখতেও পাই না তাদের জুতা জোড়া কেমন, অন্তত তাদের কিছুটা স্বস্তি দিতে পারি। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে তারা পোশাক ও জুতা জোড়া পরিষ্কারের সময় পান না। আমরা তাদের এই বিষয়ে সহযোগিতা করতে পেরে আনন্দিত এবং আশা করছি এই সহযোগিতা তাদের ভাইরাসের সঙ্গে লড়তে সাহায্য করবে।

এছাড়া এর আগে প্রিয়াঙ্কা চোপড়া ও তার স্বামী মার্কিন গায়ক নিক জোনাস ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কেয়ার ফান্ড, ইউনিসেফ, গুঞ্জ, ডক্টরস উইদাউথ বর্ডার, নো কিড হাংরি, স্যাগ-আফট্রা সহ প্রায় দশটির মতো সংস্থায় সাহায্যের হাত বাড়িয়েছেন। তবে কী পরিমাণ অর্থ তারা দান করেছেন তা প্রকাশ করেননি।

প্রিয়াঙ্কা বলেন, ‘অন্য সময়ের চেয়ে এখন আমাদের চারপাশের মানুষের বেশি সাহায্যের প্রয়োজন। যে সকল সংস্থাগুলো নিম্নআয়, গৃহহীন, চিকিৎসক, স্বেচ্ছাসেবক, শিশুদের খাবার এবং অবশ্যই সংগীত ও বিনোদন ইন্ডাস্ট্রির মানুষের সাহায্য করছে তাদের অনুদান দেয়া আমার ও নিকের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে। আপনার সাহায্যও তাদের প্রয়োজন। সাহায্য করার জন্য আপনাদের অনুরোধ করছি। কোনো দানই ছোট নয়, সেটি ১ মার্কিন ডলার হোক না কেন। সবাই মিলেই আমরা পরিবর্তন আনতে পারি।

সঠিক সিদ্ধান্তের কারণেই দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা কম

করোনা মোকাবিলায় সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের কারণেই আক্রান্তের ৪৪ দিন পার হলেও দেশে করোনা রোগীর সংখ্যা আমেরিকা-ইতালি-ফ্রান্স থেকে বহুগুণ কম রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক।

বুধবার (২২ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ-২০২০ উপলক্ষে আয়োজিত জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মন্ত্রী।

জাহিদ মালেক বলেন, আজ দেশে করোনার নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩ হাজার ৯৬, গতকালও প্রায় ৩ হাজার করা হয়েছে। কিন্তু বিশ্বের অন্যান্য দেশে ৪৪ দিন পর যখন লাখ লাখ মানুষ আক্রান্ত হয়েছে সেখানে আমাদের দেশে মোট আক্রান্ত এখন ৩ হাজার ৭৭২ জন। দেশে দৈনিক আক্রান্ত সর্বোচ্চ ৩০০ থেকে ৪০০ এর ঘরেই আছে।

তিনি বলেন, এটি এমনি সম্ভব হয়নি। চিকিৎসক, নার্সদের জীবন বাজি রেখে লড়াই করা, স্বাস্থ্যখাতের যথাসময়ে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী উদ্যোগ গ্রহণ একই সঙ্গে দেশের মানুষের সরকারি নির্দেশনাসমূহ মেনে আত্ম-সচেতনতা বৃদ্ধির ফলেই দেশে করোনা এখনো মহাবিপর্যয়ে পৌঁছেনি। করোনায় দেশের এই বর্তমান চিত্রটি আর কিছুদিন ধরে রাখা গেলেই করোনা মহামারিকে ভালোভাবেই রুখে দেয়া সম্ভব হবে।

ভিডিও কনফারেন্সে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সিভিল সার্জনসহ অন্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সমালোচনায় হতাশ না হয়ে করোনার এই দুর্যোগের সময়জনগণের পাশে থেকে নিরলস কাজ করে যাওয়া আহ্বান জানান।

এ সময় পুষ্টি দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে, মানবদেহে পুষ্টির গুণাগুণ বর্ণনা করে মন্ত্রী বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন। মন্ত্রী তার বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ ২০২০ এর শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। প্রতি বছরের মতো ২৩ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী জাতীয় পুষ্টি সপ্তাহ পালন করা হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অভ্যন্তরীণ নৌরুটে পণ্য পরিবহন অব্যাহত থাকবে : নৌপ্রতিমন্ত্রী

খাদ্য ও পণ্য পরিবহন অব্যাহত রাখতে নৌ-কর্মকাণ্ড সচলে সর্বাত্মক চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার (২২ এপ্রিল) কার্গো ভেসেল এবং কন্টেইনার শিপ মালিকদের সহযোগিতা কামনা করে তিনি বলেন, শ্রমিকদের জীবন হুমকির মুখে ফেলা যাবেনা, যথাযথ সুরক্ষা দিয়েই কর্মকাণ্ড সচল রাখা হবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতিতে কার্গো হ্যান্ডলিং বিষয়ে কার্গো ভেসেল মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের সাথে এক বৈঠকে এ কথা বলেন তিনি।

বৈঠকে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী, নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর সৈয়দ আরিফুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক, কার্গো ভেসেল মালিক সমিতির সভাপতি ইকবাল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক, সাংগঠনিক সম্পাদক জি এম সরওয়ার এবং কন্টেইনার জাহাজ মালিক সমিতির সহ-সভপতি শেখ মাহফুজ হামিদ এবং নৌপুলিশের ডিআইজি আতিকুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।

সংকটে দেশের মানুষের সাথে থাকা দেশপ্রেমিকের পরিচয় উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, কার্গো ভেসেল মালিক, কন্টেইনার শিপ মালিক এবং নৌ পুলিশের সহযোগিতায় অভ্যন্তরীণ নৌরুটে পণ্য পরিবহন অব্যাহত থাকবে।খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শত প্রতিকুলতার মধ্যেও বর্তমান পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের সুরক্ষা বিষয়ে কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।

৫৫ জেলায় ছড়িয়েছে করোনা

সারা দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৫ জেলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় সবচেয়ে বেশি। আবার ঢাকার মধ্যে বেশি ঢাকা সিটিতে। এরপর যথাক্রমে নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা।

আজ বুধবার (২২ এপ্রিল) দুপুরে মহাখালীর ইনফরমেশন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এমআইএস) বিভাগের মিলনায়তনে করোনা ভাইরাস সংক্রান্ত অনলাইন স্বাস্থ্য বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৫ জেলা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ঢাকা বিভাগের জেলাগুলো। ঢাকা সিটি, ঢাকা জেলা ও ঢাকা বিভাগে এখন পর্যন্ত করোনা আক্রান্তদের সংখ্যা বেশি। করোনা আক্রান্ত প্রায় ৭৭ শতাংশ রোগী ঢাকা বিভাগের।

ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ঢাকা জেলার পর আক্রান্তের দিকে দিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ, তারপর রয়েছে গাজীপুর, কিশোরগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা।

এর আগে ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৯০ জন করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৭৭২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১০ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে দেশে ভাইরাসটিতে ১২০ জনের প্রাণহানি হলো।

ডা. নাসিমা সুলতানা বলেন, ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যুবরণ করেছে ১০ জন। এদের মধ্যে পুরুষ ৭ জন, নারী ৩ জন। এদের মধ্যে ঢাকায় ৭ জন, ময়মনসিংহ, নারায়ণগঞ্জ, টাঙ্গাইলে একজন করে। বয়স বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে ৬০ বছরের অধিক বয়সের রয়েছেন তিনজন, ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সের মধ্যে দু’জন, ৪১ থেকে ৫০ বয়সের মধ্যে রয়েছে তিনজন, ২১ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে দু’জন।

করোনা ভাইরাসের কারণে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে বিশ্ব -জাতিসংঘ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে সারাবিশ্ব ব্যাপক দুর্ভিক্ষের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। অদৃশ্য এই ভাইরাসটির কারণে সবকিছু স্থবির হওয়ায় অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে বিশ্ব। এই সংকট শেষ পর্যন্ত আঘাত হানবে মানুষের পেটে। কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্বের ৩৬টি দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে বলেছে, কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট বিশ্বজুড়ে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা মানুষের সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করতে পারে।

করোনার কারণে পর্যটন থেকে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া, রেমিটেন্সে ধস, ভ্রমণ এবং অন্যান্য কার্যক্রমে নানামাত্রিক নিষেধাজ্ঞার ফলে সৃষ্ট অভিঘাত চলতি বছর নতুন করে আরও ১৩ কোটি মানুষকে তীব্র ক্ষুধার্তের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, বলেছে তারা। বিশ্বের প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি মানুষ এখনি এ তালিকায় আছে বলে জানিয়েছে তারা। সব মিলিয়ে চলতি বছরই বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে সাড়ে ২৬ কোটিতে পৌঁছাতে পারে বলে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ডব্লিউএফপি ধারণা দিয়েছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বিবিসি জানায়, বিপর্যয় এড়াতে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ডব্লিউএফপির প্রধান ডেভিড বিসলি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক ভিডিও কনফারেন্সে দেয়া ভাষণে বিসলি বলেছেন, “বিশ্ব সম্প্রদায়কে বিজ্ঞতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। কয়েক মাসের মধ্যেই বাইবেলে বর্ণিত পরিস্থিতির মতো একাধিক দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হতে পারি আমরা। সত্য হচ্ছে আমাদের হাতে আর সময় নেই।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনলাইনে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে ডব্লিউএফপির প্রধান অর্থনীতিবিদ আরিফ হুসেইন বলেছেন, সুতার উপর ঝুলে থাকা কোটি কোটি মানুষের জন্য কোভিড-১৯ ভয়াবহ বিপর্যয় হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। যদি আমরা তা না করি, তাহলে চড়া মূল্য দিতে হবে, ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে বিশ্বকে। অনেকে প্রাণ হারাবে, অসংখ্য মানুষ জীবিকা হারাবে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির গবেষণা, মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ বিষয়ক এ পরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, দিন আনে দিন খায় এমন মানুষদের সুরক্ষায় শিগগির পদক্ষেপ না নিতে পারলে বিপদ মারাত্মক আকার ধারণ করবে।
ডব্লিউএফপিও জানিয়েছে, চলতি বছর তাদের সাহায্য কর্মসূচিগুলো অব্যাহত রাখতে ১০-১২ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন পড়তে পারে। এ অঙ্ক গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। গতবছর তারা রেকর্ড ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার তুলতে সক্ষম হয়েছিল বলে জানান আরিফ।

সামনের মাসগুলোর সম্ভাব্য চাহিদা মেটাতে এবার আগে থেকে খাদ্য মজুদের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। করোনাভাইরাস মহামারীর আগেই যারা তীব্র ক্ষুধার্তের তালিকায় ছিলেন তাদের বেশিরভাগই সিরিয়ার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর বাসিন্দা।

উল্লেখ্য, উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণসংহারি ভাইরাস এখনো বিশ্বব্যাপী তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত করোনাভাইরাসে বিশ্বে এক লাখ ৭৭ হাজার ৬৬১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।এছাড়া আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ লাখ ৫৭ হাজার ১৮১ জন।

মাঠেই নষ্ট কয়েক শ কোটি টাকার ফুল

করোনায় লকডাউনের কারণে সঙ্কটে রয়েছেন দেশের ফুল চাষিরা। ক্রেতা না থাকায় গত এক মাসে উৎপাদিত প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ফুল মাঠেই নষ্ট হয়ে গেছে।চাষিরা জানিয়েছেন, ব্যবসা বন্ধ থাকায় দেশে প্রায় অর্ধ কোটি ফুলচাষি ও এর সাথে সম্পৃক্তরা ভয়াবহ সঙ্কটে পড়েছেন। করোনাভাইরাসের চেয়ে ক্ষুধার তীব্রতা মারাত্মক হওয়ায় এখন তাদের পক্ষে কাজ ছাড়া একটি দিনও ঘরে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এমন সঙ্কটে সরকারি সহযোগিতা ছাড়া ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব হবে না বলে ব্যবসায়ীরা জানান।

বাংলাদেশ ফ্লাওয়ার সোসাইটির সভাপতি আবদুর রহিম জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে সারা দেশে প্রায় অর্ধ কোটি ফুলচাষি, ফুল পরিবহন শ্রমিক, যারা ফুল চাষের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সম্পৃক্ত তারা পড়েছে প্রচণ্ড বিপাকে।তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী, স্বাধীনতা দিবস, চৈত্রসংক্রান্তি ও পয়লা বৈশাখ সামনে রেখে গত এক মাসে ফুলচাষিদের উৎপাদিত প্রায় ২৫০ কোটি টাকার ফুল মাঠেই নষ্ট হয়ে গেছে। এ অপরিসীম ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা ফুলচাষিদের জন্য কঠিন।সম্প্রতি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে ফ্লাওয়ারস সোসাইটির পক্ষ থেকে কৃষিমন্ত্রী বরাবর একটি আবেদন পাঠানো হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেখানে বেশ কিছু দাবি তুলে ধরা হয়েছে। তার মধ্যে ব্যাংকের মাধ্যমে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান, খাদ্য ঘাটতি পূরণ উল্লেখযোগ্য। সরকার যদি এ সঙ্কটে দেশের ফুলচাষিদের পাশে দাঁড়ায়, তাহলে এ সঙ্কট থেকে উত্তরণ সম্ভব হবে। তা না হলে খাত-সংশ্লিষ্টদের এ বিপদ থেকে সহজেই মুক্তি মিলবে না বলে মনে করেন তিনি।বাংলাদেশ ফ্লাওয়ারস সোসাইটির তথ্য অনুযায়ী, দেশের ছয় হাজার হেক্টর জমিতে এখন ১১ ধরনের ফুল চাষ হচ্ছে। এতে করে দেশে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ফুলের বাজার গড়ে উঠেছে। এসব ফুল বিক্রির জন্য দেশজুড়ে ২০ হাজারের বেশি ছোট-বড় দোকান আছে। এর মধ্যে শুধু রাজধানীতেই সাড়ে ৪০০ পাইকারি ও ৩০০র মতো খুচরা ব্যবসায়ী রয়েছেন; যাদের মাধ্যমে বিশ্ব ভালোবাসা দিবস, বিজয় দিবস, স্বাধীনতা দিবস, পয়লা ফালগুন, পয়লা বৈশাখের মতো বিশেষ দিবসে প্রায় ৯০০ কোটি টাকার ফুল বিক্রি হয়।

কাস্টমস হাউস ও স্টেশন খোলা রাখার নির্দেশ

নিরবচ্ছিন্নভাবে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম চালুর সুবিধার্থে দেশের সব কাস্টমস ও হাউস কাস্টমস স্টেশনে দাপ্তরিক কার্যক্রম চালু রাখার নির্দেশ দিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বুধবার এনবিআরের কাস্টমস ও নীতি বিভাগের দ্বিতীয় সচিব মোহাম্মদ মেহেরাজ-উল- আলম সম্রাট এই আদেশ জারি করেন। নির্দেশনায় বলা হয়, দেশের অভ্যন্তরীণ সরবরাহ শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম নিরবিচ্ছিন্ন রাখার সুবিধার্থে দেশের সকল কাস্টম হাউজ ও কাস্টমস স্টেশনে দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা অব্যাহত রাখার জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো। একই সঙ্গে পূর্বে ঘোষিত অফিসিয়াল নির্দেশনা বাতিল করা হলো। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করতে হবে। দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনার সময় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

কৃষকের ধান কাটতে নেতাকর্মীদের নির্দেশ জি এম কাদেরের

বোরো ধান ঘরে তুলতে কৃষকদের সহায়তা করতে জাতীয় কৃষক পার্টিসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীকে নির্দেশ দিয়েছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয় উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ (জি এম) কাদের। মঙ্গলবার এক বিবৃতিতে এই নির্দেশ দেন তিনি।

জি এম কাদের বলেন, বৈশ্বিক মহামারি করোনা সংক্রমণের কারণে কৃষকরা ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছে না। আবার বর্তমান বাস্তবতায় শ্রমিকদের মজুরি দেয়ার যথেষ্ট সামর্থ্য নেই প্রান্তিক কৃষকদের। তাই কৃষকদের এমন দুঃসময়ে জাতীয় কৃষক পার্টির নেতা-কর্মীরা অবশ্যই তাদের সহায়তায় এগিয়ে যাবে।

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, চলমান মৌসুমের বোরা ধান দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই জাতীয় কৃষক পার্টির পাশাপাশি জাতীয় পার্টি, জাতীয় যুব সংহতি, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টি, জাতীয় ছাত্র সমাজ, জাতীয় শ্রমিক পার্টি, জাতীয় সাংস্কৃতিক পার্টি, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা পার্টি, জাতীয় ওলামা পার্টি, জাতীয় মৎস্যজীবী পার্টি, জাতীয় তাঁতী পার্টিসহ সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা কৃষকদের সহায়তায় এগিয়ে আসুন।