All posts by lutfor

শিক্ষার্থীদের ইন্টারনেট ব্যবহারে সুখবর আসছে : মোস্তাফা জব্বার

করোনায় শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহারে শিগগিরই সুখবর আসছে বলে জানিয়েছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার।শনিবার (১১ জুলাই) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুকে এক স্ট্যাটাসে তিনি বিষয়টি জানিয়েছেন।

ডাক ও টেলিযোগাযোগমন্ত্রী তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন, ছাত্র-ছাত্রীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের জন্য কিছু সুখবর আসবে বলে প্রত্যাশা করছি। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রীদের ইন্টারনেট দেবার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে। আমরা আমাদের টেলিকম কোম্পানিগুলোকে সর্বনিম্ন হারে ইন্টারনেট দেবার জন্য অনুরোধ করছি।

তিনি আরও লিখেছেন, একইসঙ্গে অপারেটরদের তাদের বিটিএসগুলোকে ৪জি করারও নির্দেশ দিয়েছি। আমাদের ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার গতি ত্বরান্বিত হোক এই কামনায়।

উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ইন্টারনেট প্রদান অথবা স্বল্পমূল্যে ইন্টারনেট প্যাকেজ দেয়া যায় কিনা সে বিষয়ে মোবাইল অপারেটর কোম্পানিগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে সরকার।

বাংলাদেশিদের ভাইরাস বোমা বলেননি ইতালির প্রধানমন্ত্রী

ইতালির প্রধানমন্ত্রী জুসেপ্পে কোন্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের কখনোই ভাইরাস বোমা বলেননি বলে জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইতালির প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য গণমাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপন হয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।

ইতালি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য ভুলভাবে তুলে ধরে দেশের কয়েকটি পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদের প্রতি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ হয়েছে উল্লেখ করে শনিবার (১১ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কিছু গণমাধ্যম এ বিষয়ে অতিরঞ্জিত সংবাদ প্রকাশ করেছে। ইতালির প্রধানমন্ত্রীকে ভুল উদ্ধৃত করে বলেছে যে বাংলাদেশিরা ভাইরাস বোমা। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোর দিয়ে বলতে চায় ইতালির প্রধানমন্ত্রী কখনোই বাংলাদেশিদের সম্পর্কে এ জাতীয় কোনো কথা বলেননি।

মাদ্রিদ সফরকালে স্প্যানিশ টিভি চ্যানেলে বক্তব্য দেয়ার সময় ইতালির প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ থেকে সে দেশে অবতরণ করা ফ্লাইটের ২০ শতাংশের বেশি বাংলাদেশি নাগরিকের শরীরে করোনা সংক্রমণ পাওয়ার বিষয়ে কথা বলেন। তিনি বলেন, করোনা ভাইরাসের কঠিন পরিস্থিতিতে ইতালি আবারও ফিরে যেতে চায় না। সে কারণে বাংলাদেশ থেকে ফ্লাইট বন্ধ করে দেয়া হয়।

উল্লেখ করা যেতে পারে যে এ তালিকায় বাংলাদেশ একমাত্র দেশ নয়। ইতালি বিশ্বের অন্যান্য ১২টি দেশের সঙ্গে ফ্লাইট বন্ধ করে দিয়েছে এবং সিদ্ধান্তটি আগামী ১৪ জুলাই পর্যালোচনা করা হবে। ইতালিতে দেড় লাখেরও বেশি বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন। তাদের ইতালি ও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে অনেক বড় অবদান রয়েছে।

ইতালির প্রধানমন্ত্রী কখনোই বাংলাদেশিদের ভাইরাস বোমা বলেননি। দু্ই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে এমন খবর প্রকাশ না করার জন্য গণমাধ্যমের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

ধরাছোঁয়ার বাইরে ডা. সাবরিনা

টেস্ট না করেই করোনার রিপোর্ট নিয়ে জেকেজি হেলথ কেয়ারের প্রতারণা প্রকাশ্যে আসার পরও ধরাছোঁয়ার বাইরে আছেন প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী। তার বিরুদ্ধে এখনও কোনো ব্যবস্থা নেয়নি স্বাস্থ্য অধিদফতর।

পুলিশ বলছে, জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের রেজিস্টার চিকিৎসক হিসেবে চাকরিরত থেকেই জেকেজির চেয়ারম্যান পদে ছিলেন ডা. সাবরিনা। কিভাবে, কার মাধ্যমে তিনি এ কাজ হাতিয়েছেন, সে ব্যাপারে চলছে অনুসন্ধান। তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে সাবরিনাকে গ্রেফতার করা হবে। জানা গেছে, স্বামী আরিফ চৌধুরী গ্রেফতার হওয়ার পর সাবরিনা গা ঢাকা দিয়েছেন।

জানা যায়, ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় করোনার নমুনা সংগ্রহ করে তা পরীক্ষা না করেই প্রতিষ্ঠানটি ১৫ হাজার ৪৬০টি টেস্টের ভুয়া রিপোর্ট সরবরাহ করে। এসব টেস্টে জনপ্রতি হাতিয়ে নেয়া হয়েছে ৫ হাজার টাকা। আর বিদেশিদের কাছ থেকে নেয় একশ’ ডলার। এ হিসাবে ভুয়া টেস্ট বাণিজ্য করে জেকেজি হাতিয়ে নিয়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা।

২৪ জুন জেকেজির গুলশান কার্যালয়ে অভিযান চালিয়ে প্রতারক আরিফসহ ছয়জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তাদের ২ দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়। দু’জন আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছে। জেকেজির কার্যালয় থেকে ল্যাপটপসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি জব্দ করে পুলিশ। এ ঘটনায় তেজগাঁও থানায় চারটি মামলা হয়েছে। এসব মামলার কোনোটিতে এখন পর্যন্ত ডা. সাবরিনার নাম সংযুক্ত করা হয়নি। চারটি মামলার তদন্ত করছে তেজগাঁও থানা পুলিশ।

ওই থানার পরিদর্শক আবুল হাসনাত খোন্দকার বলেন, মামলাগুলোর তদন্ত চলছে। আমি নিজেও একটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা। তদন্তে ডা. সাবরিনার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকে মামলায় আসামি দেখানো হবে।জানতে চাইলে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মীর জামাল উদ্দিন শুক্রবার তিনি জানান, সাবরিনার বিষয়টি হাসপাতালের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে তদন্ত করতে বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমি করোনা আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলাম। আজই বাসায় ফিরেছি। তিনি (ডা. সাবরিনা) ঠিকমতো দায়িত্ব পালন করেন কিনা খোঁজ নিতে হাসপাতালের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছি।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জেকেজি ২৭ হাজার রোগীর করোনার টেস্টের রিপোর্ট দেয়। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৪০ জনের করোনার নমুনার আইইডিসিআরের মাধ্যমে সঠিক পরীক্ষা করানো হয়েছিল। বাকি ১৫ হাজার ৪৬০ রিপোর্ট তারা নিজেরা তৈরি করেছে। জেকেজির ৭-৮ জন কর্মী মিলে ভুয়া এসব রিপোর্ট তৈরি করে।

প্রতিষ্ঠানটির মাঠকর্মীরা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে করোনা উপসর্গ দেখা দেয়া লোকজনের নমুনা সংগ্রহ করত। রোগীদের ১০টি প্রশ্ন দেয়া হতো। এর মধ্যে ৫টির বেশি প্রশ্ন যদি করোনা উপসর্গের হতো তবেই তাকে করোনা পজিটিভ রিপোর্ট দেয়া হতো। অন্যদের দেয়া হতো নেগেটিভ রিপোর্ট। এভাবেই চলছিল তাদের করোনা পরীক্ষার প্রতারণা।

নমুনা সংগ্রহের জন্য জেকেজির হটলাইন নম্বর ছিল। ওই নম্বরে কেউ ফোন করলে প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা তার বাসায় গিয়ে নমুনা সংগ্রহ করত। আবার অনেকে জেকেজির বুথে এসে নমুনা দিতেন। বিদেশি নাগরিকদের জন্য নেয়া হতো ১০০ ডলার। আর বাংলাদেশিদের জন্য সর্বোচ্চ ৫ হাজার টাকা। আর কোনো মাঠকর্মী বাসায় যাতায়াত করলে তার জন্য নেয়া হতো ১ হাজার টাকা। যদিও দাতব্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতির ভিত্তিতে বিনামূল্যে তাদের স্যাম্পল কালেকশন করার কথা ছিল।

জেকেজিতে চাকরি করতেন নার্স তানজিনা পাটোয়ারি ও তার স্বামী হুমায়ূন কবির। তানজিনার বেতন ছিল ৩০ হাজার টাকা। ভুয়া করোনা পরীক্ষা করে কোটি কোটি টাকা কামানো দেখে তানজিনা দাবি করেন তার বেতন বাড়িয়ে দিতে হবে। বিষয়টি জেকেজির কর্ণধার আরিফ চৌধুরী জেনে তানজিনা ও তার স্বামীকে চাকরিচ্যুত করেন। পরে তারা দু’জন বাসায় বসে নিজেরাই করোনার ভুয়া টেস্টের বাণিজ্য চালান।

তানজিনা নমুনা সংগ্রহ করতেন আর ঘরে বসে তার স্বামী রিপোর্ট তৈরি করতেন। ২৩ জুন রাতে তানজিনা ও তার স্বামী গ্রেফতার হওয়ার পর বেরিয়ে আসে জেকেজির প্রতারণার রহস্য। এরপর জেকেজির গুলশান অফিসে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয় প্রতারক আরিফ চৌধুরীসহ অন্যদের।

ওইদিনই প্রতিষ্ঠানটির কিছু কর্মী আরিফকে ছাড়িয়ে নিতে তেজগাঁও থানায় জড়ো হন। তারা থানার বাইরে হট্টগোল করতে থাকেন। এ ঘটনায় পৃথক একটি মামলা হয়েছে। ওই মামলায় ১৮ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

তদন্তসংশ্লিষ্টরা জানান, ডা. সাবরিনার হাত ধরেই করোনার স্যাম্পল কালেকশনের কাজটি ভাগিয়ে নেয় জেকেজি। প্রথমে তিতুমীর কলেজে মাঠে স্যাম্পল কালেকশন বুথ স্থাপনের অনুমতি মিললেও প্রভাব খাটিয়ে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় এবং অনেক জেলা থেকেও সংগ্রহ করা হয় নমুনা। সন্দেহভাজন করোনা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে টেস্ট করার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের সঙ্গে জেকেজির যে চুক্তি ছিল তা বাতিল করা হয়েছে।

উন্নয়নশীল দেশগুলোর প্রতি দায়িত্বশীল বাণিজ্যিক আচরণের আহ্বান

আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ উন্নয়নশীল দেশগুলোর দারিদ্র্য বিমোচনে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স খুবই গুরুত্বপূর্ণ উল্লেখ করে কোভিড-১৯ সঙ্কটকালে দায়িত্বশীল বাণিজ্যিক আচরণের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা।

তিনি বলেছেন, দারিদ্র্য বিমোচন এবং নারীর ক্ষমতায়নে আমাদের যে অর্জন তা এখন তীব্র ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এটি অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সংরক্ষণবাদের সময় নয়; এটি বৈশ্বিক সংহতিকে বহুগুণে বাড়ার সময়।

জাতিসংঘে চলমান উচ্চ পর্যায়ের রাজনৈতিক ফোরামের (এইএলপিএফ) একটি সাইড ইভেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব কথা বলেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি।দারিদ্র্য বিমোচনে বৈশ্বিক অগ্রগতি অব্যাহত রাখা ও এগিয়ে নেওয়া: কোভিড-১৯ এর সঙ্কট মোকাবিলা’ শীর্ষক এই ভার্চ্যুয়াল সাইড ইভেন্টির আয়োজন করে কানাডা।শনিবার (১১ জুলাই) জাতিসংঘের স্থায়ী মিশন থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, দারিদ্র্য বিমোচনের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা সরকার যে সাহসী, অটল, জন-কেন্দ্রিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক নীতি গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করেছে তার ফলেই বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষ দারিদ্র্য থেকে বেরিয়ে এসেছে। শেখ হাসিনা সরকার গৃহীত দারিদ্র্য বিমোচন কৌশলসমূহ যেমন ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা বলয় সম্প্রসারণ, আর্থিক প্রণোদনা, নারী ও যুব শিক্ষা, লিঙ্গসমতা, আইসিটি ও ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার, শক্তিশালী দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস কর্মসূচি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়ানোর সক্ষমতা বিনির্মাণ ইত্যাদি সুধিজনদের সামনে তুলে ধরেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি।

ইভেন্টটিতে দারিদ্র্য বিমোচন, কোভিড-১৯ থেকে পুনরুদ্ধার ও নতুন করে যাত্রা শুরু, এসডিজি-১: কোনো দারিদ্র্য নয়-এর অব্যাহত অগ্রগতি এসব পরস্পর সম্পর্কযুক্ত বিষয়গুলো নিয়ে কানাডার জাতীয় দারিদ্র্য উপদেষ্টা কাউন্সিল এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে প্রাণবন্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

এতে যোগ দেন কানাডার শিশু, পরিবার ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ হুসেন। তিনি বৈশ্বিক দারিদ্র্য বিমোচন ও নাজুক উন্নয়নশীল দেশসমূহ যেমন এলডিসি ও ক্ষুদ্র উন্নয়নশীল দ্বীপরাষ্ট্রগুলোর প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য বিনির্মাণ এবং অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র ও মধ্যম সারির ব্যবসা উন্নয়নের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রণালয়সমূহ ও বেসরকারি খাতের উন্নয়নে কানাডা সরকারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।

বাংলাদেশে এসডিজি বাস্তবায়ন ও দারিদ্র্য বিমোচন পদক্ষেপসমূহ এই মহামারিতে ক্ষতির মধ্যে পড়তে পারে মর্মে উল্লেখ করে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, বাংলাদেশের কোভিড-১৯ পরবর্তী পুনরুদ্ধার পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে দারিদ্র্য বিমোচন।

উন্নয়নশীল দেশের উৎপাদনশীলতা বজায় রাখা, প্রতিকূলতা সহনশীল অবকাঠামো উন্নয়ন, অর্থনীতির বৈচিত্র্যকরণ, এবং চাকরির সুযোগ সৃষ্টির মতো বিষয়গুলোতে সহায়তা দিতে উন্নয়ন অংশীদার, বহুপাক্ষিক দাতাগোষ্ঠী, ও বেসরকারিখাতকে এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত ফাতিমা।

বাংলাদেশের মতো এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে থাকা দেশগুলোর দারিদ্র্য বিমোচন সুরক্ষিত রাখতে এবং উত্তরণপূর্ব অবস্থায় ফিরে যাওয়া প্রতিরোধে আলাদা প্রণোদনা প্যাকেজ ও উদ্ভাবনী সহায়তা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।

কোভিড-১৯ মহামারির কারণে অসমতা ব্যাপকতর হচ্ছে মর্মে উদ্বেগের কথা জানান কানাডার সিনিয়র অ্যাসোসিয়েট ডেপুটি মিনিস্টার ক্যাথরিন অ্যাডাম।তিনি এক্ষেত্রে অন্তর্ভুক্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের গুরুত্বের কথা তুলে ধরেন। অনেক বক্তা তাদের বক্তব্যে বাস্তবভিত্তিক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত দারিদ্র বিমোচনে সফলতা অর্জনের জন্য বাংলাদেশের প্রশংসা করেন।

লোকসানের শঙ্কায় খামারিরা, অনলাইনে বিক্রির পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের

খামারিরা কোরবানি উপলক্ষে গরু মোটাতাজাকরণ করে হাটে তোলার জন্য প্রস্তুত থাকলেও করোনা পরিস্থিতির কারণে চিন্তিত তারা। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর ও বিশেষজ্ঞদের ধারণা, গত বছরের চেয়ে এবার অন্তত ১৫ শতাংশ কোরবানি কম হবে। তেমনটি হলে খামারিরা তাদের সারা বছরের বিনিয়োগ আর শ্রম লোকসানে পড়বে বলে শঙ্কায় আছেন।

তবে, বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, হাটের পাশপাশি অনলাইনে পশু বিক্রির দিকে মনোযোগ দিলে খামারীদের লোকসানের শঙ্কা কাটানো যেতে পারে। এ জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোর সঙ্গে প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের সংযোগ ঘটিয়ে দেবে।

গত বছর দেশে ১ কোটি ৬ লাখের মতো গবাদিপশু কোরবানি হয়েছিল। সাধারণত প্রতি বছর চাহিদা বাড়ে পাঁচ শতাংশ। সেই হিসাবে এবার ১ কোটি ১০ লাখের মতো চাহিদার বিপরীতে কোরবানিযোগ্য পশু আছে ১ কোটি ১৯ লাখ।

কিন্তু এবার করোনার সংকটে কোরবানির সংখ্যা কমে যাবে বলে মনে করছেন খামারিসহ এই খাতের সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি মহল। এই আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে কোরবানির পশু অনলাইনে বিক্রি করার জন্য জোর দিয়েছেন অনেকে। সরকারও এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছে।

তবে প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিরা অনলাইনে দক্ষ নন। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর অনলাইন প্লাটফর্মে যারা পশু বিক্রি করবে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করে দিচ্ছে প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের।

ডেইরি ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট ইমরান হোসেন বলেন, করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে মাংসের চাহিদা এমনিতেই অনেক কমে গেছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গরু-ছাগলের চাহিদা থাকতো। এখন অনুষ্ঠান নেই, সে চাহিদাও নেই। এই সময়ে কারও বিয়ের অনুষ্ঠান হলেও, তাতে সীমিত পরিসরে আয়োজন থাকছে। পশু জবাই করে আপ্যায়নের মতো অনুষ্ঠান হচ্ছে না। ফলে খামারিদের হাতে গত বছরের চেয়ে বেশি গরু অবিক্রীত রয়েছে।

এসব গরু বিক্রি নিয়ে শঙ্কায় আছেন জানিয়ে ইমরান হোসেন বলেন, এত শ্রম আর খরচ করে সারা বছর আমরা পশুগুলো লালন-পালন করেছি। বিক্রির প্রধান মৌসুম কোরবানির সময় বিক্রি করতে না পারলে অনেক ক্ষতির মুখে পড়ব।

সাদেক অ্যাগ্রোর মালিক মো. ইমরান হোসেন। তার খামারের গরু অনলাইনে বেশ বিক্রি হয়। সে কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি পেরেছি, কিন্তু প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিরা কিন্তু অনলাইনে তাদের পশু ভালোভাবে তুলে ধরতে পারে না। এ বিষয়ে তারা এখনো দক্ষ হয়ে ওঠেনি। অনলাইনে গরুর বিক্রি করতে হলে তার ওজন জানিয়ে দিতে হয়। ভালো ছবি যুক্ত করতে হয়। আবার ভিডিও দিতে হয়। এগুলো এখনো বুঝে উঠতে পারেনি প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিরা।

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (খামার) ড. এ বি এম খালেদুজ্জামান বলেন, গত বছর কোরবানিযোগ্য পশু অবিক্রীত থেকেছিল ১০-১১ লাখের মতো। এবার ১ কোটি ১০ লাখ গবাদিপশুর চাহিদা থাকার কথা। কিন্তু করোনার কারণে অর্থসংকট ও স্বাস্থ্যগত শঙ্কায় কোরবানির পশুর চাহিদা অত হবে না। ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কোরবানি কমে যেতে পারে।

গতবারের চেয়ে এবার কোরবানি যোগ্য পশুর সংখ্যা বেড়েছে জানিয়ে সহকারী পরিচালক বলেন, গত বছর ছিল এক কোটি ১৭ লাখ ৮৮ হাজার। এবার গরু-মহিষ, ছাগল-ভেড়াসহ অন্যান্য পশু মিলিয়ে ১ কোটি ১৮ লাখ ৯৭ হাজার ৫০০টি কোরবানির পশু রয়েছে। এর মধ্যে হৃষ্টপুষ্টকৃত গরু-মহিষ ৪৫ লাখ ৩৮ হাজার এবং ছাগল-ভেড়া ৭৩ লাখ ৫৫ হাজার ও দুম্বাসহ অন্যান্য পশু আছে ৪ হাজার ৫০০টি।

খমারেদের তাদের পশু অনলাইনে বিক্রিতে উৎসাহিত করা হবে জানান ড. এ বি এম খালেদুজ্জামান। বলেন, যারা অনলাইন প্লাটফর্মে পশু বিক্রি করবে, ডেইরি ফার্ম আছে, ই-ক্যাব আছে, তাদের সঙ্গে খামারিদের সংযোগ ঘটিয়ে দেবেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের রিজনাল অফিসার। অনলাইন প্লাটফর্মে যাতে বিক্রি বেশি হয় সে বিষয়ে আমরা ‍উৎসাহিত করব।’

করোনার এই সংকটের সময়ও ধর্মীয় ও অর্থনৈতিক কারণে কোরবানি ও কোরাবানির পশু বিক্রি বাদ দেয়া যাবে না বলে জানান জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও প্রিভেনটিভ মেডিসিনের চিকিৎসক ডা. লেলিন চৌধুরী। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, হাট বসিয়ে পশু বিক্রির ব্যবস্থা করে স্বাস্থ্যবিধি ও সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা বাস্তবায়ন অসম্ভব।ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের কোভিট-১৯ সংক্রমণের যে সূচক, তা কয়েক দিন ধরে নিম্নমুখী। গরুর হাট শুরু হলে এটা আবার ঊরধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

পশুর হাট এভাবে না বসিয়ে অনলাইনে বিক্রির ব্যবস্থা কিংবা কিছু প্রাইভেট কোম্পানিকে দায়িত্ব দেওয়া যেত বলে মনে করেন ডা. লেলিন চৌধুরী। এর প্রক্রিয়া সম্পর্কে তিনি বলেন, গরুর একটা দাম ফিক্সট করে সবাইকে তা জানিয়ে দেওয়া যায়। এরপর সরকার বিক্রীত পশু ক্রেতার বাড়িতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করবে। এটা খুব কঠিন হতো তা না। খামারিদের সঙ্গে এ বিষয় সমন্বয় করলেই হতো।

এ বছর কোরবানির পশু বিক্রি কম হবে বলে আশঙ্কা বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের (বিআইডিএস) সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. নাজনীন আহমেদের। কোরবানির পশু নিয়ে খামারিরা যেন বিপাকে না পড়ে সেদিকে সরকারের নজর চান তিনি।

ড. নাজনীন বলেন, আবার কোরবানির পশু ঘিরে করোনার সংক্রমণ যেন না ছড়ায় সে বিষয়টিও লক্ষ রাখতে হবে। প্রতি উপজেলায় কোথায় কেমন কোরবানির পশু চাহিদা হয় সেটি সরকার জানে। তাই চাহিদা ও জোগানের বিষয় যেন ঠিক থাকে। প্রয়োজনে খামারিদের সঙ্গে উপজেলাভিত্তিক যোগাযোগ করতে হবে। প্রতি উপজেলায় তিন থেকে চারটার বেশি পশুর হাট যেন না বসে।

গরু কিনতে এক উপজেলার লোক অন্য ‍উপজেলায় যেতে পারবে না এমন নিয়ম করা যেতে পারে। ড. নাজনীন বলেন, গ্রাম থেকে শহরে কত গরু টুকছে তার হিসাব যেন সরকার সঙ্গে সঙ্গেই পায় সে ব্যবস্থা করতে হবে। ঢাকা শহরে কোন এলাকার হাটে কোন এলাকার লোক যাবে এটা ঠিক করে দিতে হবে। যার যার কাছাকাছি হাটে সে যাবে।

ক্রেতাদের উদ্দেশে ড. নাজনীনের পরামর্শ, এবার গরু কেনার জন্য হাটে হাটে না ঘুরাই ভালো হবে। পরিকল্পনা করে কাছাকাছি কোনো একটি হাটে গিয়ে কোরবানির পশুটি কিনে নিন।

করোনা সতর্কতার জন্য হাট কর্তৃপক্ষ হাটে যেন স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা করে। আর শহরে যারা আছে তারা অনলাইন থেকেই কোরবানির পশু কিনে পারেন। ড. নাজনীন বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠান আছে যারা সব প্রিপেয়ার করে বাসায় কোরবানির মাংস দিয়ে যাবে।

সাগরপথে দুইদিনে ইতালি উপকূলে ৩৬২ বাংলাদেশি

সাগরে অবৈধপথে গত দুইদিনে ইতালির মাটিতে পা রেখেছে ৫ শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশী। এর মধ্যে ৩৬২ জন বাংলাদেশের নাগরিক। শুক্রবার (১০ জুলাই) বার্তা সংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।উদ্ধার হওয়া এসব অভিবাসনপ্রত্যাশীকে সিসিলি উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে রাখা হবে সবাইকে।আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানায়, গত বৃহস্পতিবার তিউনিশিয়া থেকে ১১৬ অভিবাসনপ্রত্যাশীকে নিয়ে ইতালির লাম্পেদুসা দ্বীপে পৌঁছেছে নয়টি নৌকা। শুক্রবার তিউনিশিয়া থেকে সাতটি ছোট নৌকা ও লিবিয়া থেকে দু’টি বড় নৌকায় ইতালি পৌঁছেছেন আরো ৪৩৪ জন। লিবিয়া থেকে যাওয়া একটি নৌকায় ৯৫ জন এবং অপর নৌকার ২৬৭ জন, মোট ৩৬২ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী বাংলাদেশের নাগরিক।

এদিকে ইতালিতে পৌঁছানো অভিবাসনপ্রত্যাশীরা কীভাবে দেশটিতে পৌঁছেছে তা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে ইতালীয় কোস্ট গার্ড এর পক্ষ থেকে জানানো হয়নি।২০২০ সালে এ পর্যন্ত আট হাজারের বেশি অভিবাসনপ্রত্যাশী অবৈধপথে ইতালি পৌঁছে। তবে ২০১৮ সালে একই সময়ে ইতালি গিয়েছিলেন প্রায় ১৭ হাজার অভিবাসনপ্রত্যাশী।

করোনা সক্রিয় রোগী : এশিয়ায় দ্বিতীয় বাংলাদেশ

করোনা সক্রিয় আছে এমন রোগীর সংখ্যার দিক থেকে বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। প্রথম অবস্থানে আছে ভারত, আর তৃতীয় অবস্থানে পাকিস্তান। ওয়ার্ল্ডওমিটারের প্রকাশিত পরিসংখ্যান থেকে, এই তথ্য জানা যায়।

শনিবার (১১ জুলাই) বাংলাদেশের তথ্য হালনাগাদ করার পর এই চিত্র দেখা যায়।

ওয়ার্ল্ডওমিটারে তথ্য বলছে, করোনায় মোট সুস্থ এবং মৃত্যুর সংখ্যা যোগ করে তা মোট শনাক্ত থেকে বাদ দিলে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা পাওয়া যায়। সেই হিসাবে ভারত প্রথম অবস্থানে আছে। সেখানে এখন পর্যন্ত করোনা সক্রিয় রোগী ২ লাখ ৮৪ হাজার ২১৪ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে বাংলাদেশ। এখানে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৯০ হাজার ৭৯০ জন। আর পাকিস্তানে সক্রিয় রোগীর সংখ্যা ৮৮ হাজার ৯৪ জন।

করোনায় আক্রান্ত দুই হাজারের বেশি ব্যাংকার

প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসে দুই হাজারেরও বেশি ব্যাংক কর্মকর্তা-কর্মচারী সংক্রমিত হয়েছেন। আর মারা গেছেন ৩৬ জন। এছাড়া উপসর্গ দেখা দিয়েছে হাজারের অধিক কর্মকর্তার।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকগুলোতে স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তবে নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ব্যাংক কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে অনেক সময় স্বাস্থ্যবিধি যথাযথ পরিপালন করা হচ্ছে না। সচেতনতার অভাবে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। এসব কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন ব্যাংকাররা। বাড়ছে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা। তাই দ্রুত কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ব্যাংকগুলোতে প্রাণঘাতী এ ভাইরাসে দুই হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে ৩৬ জনের। এর মধ্যে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর (সোনালী, রূপালী, জনতা এবং অগ্রণী) ৮৭৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যুবরণ করেছেন ২৩ জন কর্মকর্তা।

ব্যাংকগুলোতে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের কর্মকর্তাদের মধ্যে কোভিড-১৯-এ আক্রান্তের হার সবচেয়ে বেশি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী সোনালী ব্যাংকের ৪২৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এর মধ্যে ৩৫ জন প্রধান কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। ব্যাংকটির ছয়জন কর্মকর্তা ইতোমধ্যে মৃত্যুবরণ করেছেন। ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা সূত্রে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

নিয়ন্ত্রণ সংস্থা বাংলাদেশ ব্যাংকেও প্রায় শতাধিক কর্মকর্তা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত। মারা গেছেন দুইজন।

ব্যথানাশক ওষুধ ‘টাপেন্টাডল’কে মাদকদ্রব্য ঘোষণা

ব্যথানাশক হিসেবে ব্যবহৃত ‘টাপেন্টাডল’ জাতীয় ওষুধকে মাদকদ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। মাদকসেবীরা এ জাতীয় ওষুধকে মাদকের বিকল্প হিসেবে ব্যবহার করায় একে ‘খ’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ৮ জুলাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের তফশিলে যুক্ত করে এ গেজেট প্রকাশ করা হয়।এতে বলা হয়েছে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রস্তাবমতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাসি বিভাগের সুপারিশের ভিত্তিতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬৫ ধারা অনুযায়ী টাপেন্টাডলকে ‘খ’ শ্রেণির মাদকদ্রব্য হিসেবে তফসিভুক্ত করা হলো।বাংলাদেশে বিভিন্ন নামে এই ট্যাবলেট উৎপাদন করে গ্লোব ফার্মাসিটিউক্যালস লিমিটেড, এসকেএফ বাংলাদেশ লিমিটেড, অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড এবং স্কয়ার ফার্মাসিটিউক্যালস লিমিটেড। কোম্পানিভেদে প্রতি ট্যাবলেট ১২ টাকা থেকে ১৭ টাকা দরে বিক্রি হয়।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক কর্মকর্তা জানান, মাদকদ্রব্য হিসেবে ঘোষণা করায় এখন টাপেন্টাডল জাতীয় ট্যাবলেট উৎপাদন না করতে কোম্পানিগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে কোনো কোনো কোম্পানি এই ট্যাবলেটের উৎপাদন বন্ধ করে দিয়েছে।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ৬৫ ধারায় বলা হয়েছে, সরকার চাইলে গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করে তফশিল সংশোধন করে কোনো মাদকদ্রব্যের নাম অন্তর্ভুক্ত বা বাদ দিতে পারবে। ধরন ও ব্যাপকতার ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন ধরনের মাদককে ‘ক’, ‘খ’ এবং ‘গ’ শ্রেণিতে ভাগ করে সেগুলোকে সময়ে সময়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের তফসিলভুক্ত করা হয়।মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী, তফসিলে উল্লেখিত কোনো দ্রব্য বা মাদকদ্রব্যের সঙ্গে অন্য যে কোনো দ্রব্য একীভূত, মিশ্রিত বা দ্রবীভূত থাকলে সে-সব দ্রব্যকেও মাদকদ্রব্য হিসেবে গণ্য করা হয়।দাম কম হওয়ায় ও সহজে পাওয়া যায় বলে টাপেন্টাডল জাতীয় ব্যথানাশক ট্যাবলেট নেশার সামগ্রী হিসেবে ব্যবহারের খবর কয়েক বছর ধরেই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়ে আসছিল।

বিক্ষোভে উত্তাল গ্রিসে গ্রেপ্তার অভিযান শুরু

সরকারের প্রস্তাবিত নতুন আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নেমেছে গ্রিসের ১০ হাজার প্রতিবাদকারী। এথেন্সের রাস্তায় একের পর এক পেট্রোল বোমা ফেলেছে বিক্ষোভকারীরা। এই পরিস্থিতিতে পাল্টা পদক্ষেপ নেওয়া শুরু করেছে পুলিশ।

বিক্ষোভকারীদের দিকে ফ্ল্যাশ গ্রেনেড ছুঁড়েছে পুলিশ। একই সঙ্গে শুরু হয়েছে কাঁদানে গ্যাসের শেল ফাটানো। ধোঁয়ায় ছেয়ে গেছে পুরো এথেন্স শহর। পুলিশের কাঁদানে গ্যাসে বিপাকে পড়েছেন নারীরা, যারা বাচ্চাদের সঙ্গে নিয়ে বিক্ষোভে যোগ দিয়েছিলেন। এরপর তারা দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে ছুটতে থাকেন। এ ঘটনায় পুলিশ নয় জনকে গ্রেপ্তার করেছে। এমনকি ১৫ জনকে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিক্ষোভে কড়াকড়ি বিষয়ে প্রস্তাবিত বিল নিয়ে পার্লামেন্টে বিতর্ক শেষ হয়। পরে ভোটাভুটির সময় ৩০০ সদস্যের পার্লামেন্টে ১৮৭ জন বিলের পক্ষে ভোট দেন। সেখানে প্রধানমন্ত্রী কিরিয়াকস মিটসোটাকিস বলেছেন, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করা যাবে তবে শহরের জীবনযাত্রায় কোনো প্রভাব না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। রাস্তায় গাড়ি চলাচল বা বাণিজ্যিক কাজকর্ম বাধা পায় এমন বিক্ষোভ তারা বরদাস্ত করবেন না। দেশের সব শহরের সিটি সেন্টারে প্রায়ই ছোটখাটো বিক্ষোভের ঘটনা ঘটছে।

পার্লামেন্টের রিভিউ কমিটি, এথেন্স বার অ্যাসোসিয়েশন, ট্রেড ইউনিয়নসহ একাধিক সংস্থা আইন পরিবর্তনের বিরুদ্ধে। তাদের যুক্তি, অনুমোদিত নয় এমন বিক্ষোভ বা প্রতিবাদ সভা করা হলে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু তাই নয় ক্ষতিপূরণ দিতে হবে বলেও হুঁশিয়ারি জারি করা হয়েছে।গ্রিসে সরকার জানিয়েছে, তারা ওইসব আইন নিয়ে একাধিকবার তাদের মত জানিয়েছে। এবার তারা নতুন আইন কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর।