All posts by lutfor

বসন্তের কোকিল দুঃসময়ে থাকে না : ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দুঃসময়ে দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতাকর্মীরাই দলকে ধরে রাখে। সুসময়ের বসন্তের কোকিল দুঃসময়ে থাকে না। তাই কোনোভাবেই দলে অনুপ্রবেশকারীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেয়া যাবে না।শুক্রবার আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের স্বাস্থ্য ও জনসংখ্যা বিষয়ক উপ-কমিটির উদ্যোগে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের যুক্ত হয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমি একটা কথা স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, অনুপ্রবেশকারীরাই দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। দুঃসময়ের পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা কখনো দল ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কাজ করে না। সাম্প্রতিককালে দেখা গেছে, দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের জন্য অনুপ্রবেশকারীরাই দায়ী।তিনি আরও বলেন, করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরু থেকেই শেখ হাসিনার সরকার কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে আসছে। তার সুদক্ষ নেতৃত্ব ও নিরলস পর্যবেক্ষণের কারণে সরকার শুরু থেকেই করোনায় সৃষ্ট পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে। এ ভাইরাসের অতীত ইতিহাস না থাকায় চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ একটি নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখা দিয়েছিল। কিন্তু শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ও সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টার ফলে অল্প সময়ে জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি চিকিৎসা সেবা প্রদানে আমাদের এখন সক্ষমতা তৈরি হয়েছে, যা দিন দিন বাড়ছে।ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি পর্যাপ্ত বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি খাতে ও চিকিৎসা সেবার সুযোগ দিন দিন বাড়ছে। দেশে এখন আন্তর্জাতিক মানের চিকিৎসা হচ্ছে। চিকিৎসা ক্ষেত্রে আমাদের বিদেশমুখিতা কমিয়ে আনতেে হবে।তিনি বলেন, তবে একথা সত্য যে, এখনো কোথাও কোথাও স্বাস্থ্যসেবার মান নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। গ্রামাঞ্চলে এখনো স্বাস্থ্যসেবা কাঙ্ক্ষিত মানে পৌঁছায়নি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চিকিৎসকদের গ্রামমুখী হওয়ার যে নির্দেশনা দিয়েছেন তা যথাযথভাবে পালন করলে গ্রামীণ স্বাস্থ্যসেবার মান আরও উন্নত হবে। শুধু রাজধানী কেন্দ্রিক নয়, চিকিৎসা ব্যবস্থাকে তৃণমূলে ছড়িয়ে দেয়ার লক্ষ্যেই কাজ করছে সরকার। এ খাতে ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বাড়াতে এবং অনিয়ম দূর করতে সম্প্রতি বেশকিছু পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এসব কার্যক্রম এগিয়ে নিতে চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সবার আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন।

পুলিশের গুলিতে আবারও এক কৃষ্ণাঙ্গ নিহত,উত্তাল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ ফ্লয়েড এর পর পুলিশের গুলিতে  নিহত আরো এক কৃষ্ণাঙ্গ। নিহত ৩১ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির নাম ট্রেফোর্ড প্লেরিন।লুইসিয়ানা অঙ্গরাজ্যের পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ছুরি নিয়ে একটি দোকানে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরপরই তাকে কাছের একটি হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এদিকে, এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে আমেরিকান সিভিল লিবার্টিস ইউনিয়ন। তারা বলেছে, কৃষ্ণাঙ্গদের বিরুদ্ধে পুলিশি সহিংসতার আরও একটি ভয়ঙ্কর ঘটনা এটি। ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

উল্লেখ্য, এর আগে ২৫শে মে জর্জ ফ্লয়েড নামে এক নিরস্ত্র কৃষ্ণাঙ্গকে হাঁটু দিয়ে গলা চেপে হত্যা করে পুলিশ।  ওই ঘটনায় প্রতিবাদে ক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা যুক্তরাষ্ট্র।

করোনা বিধি ভেঙে পার্টি, পুলিশের ধাওয়ায় পদদলনে নিহত ১৩

করোনাভাইরাস মহামারি বিস্তারের লাগাম টানতে আরোপিত বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরুতে নৈশ ক্লাবে পার্টি করার সময় পুলিশের ধাওয়ায় পদদলিত হয়ে অন্তত ১৩ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।

শনিবার দেশটির কর্মকর্তারা বলেছেন, রাজধানী লিমার কাছে একটি নৈশ ক্লাবে পার্টির খবর পাওয়ার পর পুলিশ অভিযান শুরু করে। এ সময় সেখানে অংশ নেয়া লোকজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পদদলনের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় পুলিশ এবং সরকারি কর্মকর্তারা বলেছেন, শনিবার রাতে লিমার থমাস রেস্টোবার ক্লাবে প্রায় ১২০ জন পার্টিতে অংশ নিয়েছিলেন। ক্লাবের দ্বিতীয় তলার এই পার্টি ভেঙে দিতে পুলিশ অভিযান শুরু করলে লোকজন পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে পদদলিত হয়ে ১৩ জনের প্রাণহানি ও তিন পুলিশসহ অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন।

পেরুর রাজধানীর লোস ওলিভোস জেলার বাসিন্দারা ওই নৈশ ক্লাবের পার্টির ব্যাপারে পুলিশকে খবর দেন। স্থানীয় রেডিও স্টেশন আরপিপিকে পুলিশ কর্মকর্তা ওরল্যান্ডো ভেলাস্কো বলেন, এই পরিস্থিতিতে লোকজন বাইরে বের হওয়ার জন্য নিজেদের মধ্যে মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে। কে আগে বের হবেন, সেটি নিয়ে প্রত্যেকেই পরস্পরের সঙ্গে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হন।

দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আয়োজকরা সেখানকার একটি মাত্র দরজা দিয়ে লোকজনকে বের করে দেয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু দরজা থেকে কিছু দূরত্বে সিঁড়ির অবস্থান হওয়ায় অনেকে আটকা পড়েন।

পার্টিতে অংশ নেয়া অন্তত ২৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে গত মার্চ মাসে দেশটিতে নাইটক্লাব ও বার বন্ধ করে দেয়া হয়। এছাড়া পারিবারিক অনুষ্ঠানেও জনসমাগম ১২ আগস্ট পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হয়।

ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা রয়টার্সের পরিসংখ্যান বলছে, লাতিন আমেরিকায় করোনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংক্রমণের হারের রেকর্ড হয়েছে পেরুতে। দেশটিতে এখনও প্রতি রোববার কারফিউ কার্যকর করা হয়। পেরুতে এখন পর্যন্ত ৫ লাখ ৮৫ হাজার ২৩৬ জনের শরীরে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। দেশটিতে এই ভাইরাসে মারা গেছেন অন্তত ২৭ হাজার ৪৫৩ জন।

কয়েকজন বেঈমান মুনাফিক ছাড়া বাংলার সবাই বঙ্গবন্ধুর জন্য কাঁদে

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, কয়েকজন বেঈমান মুনাফিক ছাড়া এখনও বাংলার জনগণ বঙ্গবন্ধুর জন্য কাঁদে। তিনি বলেন, খুনিরা চেয়েছিল এ দেশের স্বাধীনতা যেন না থাকে, জাতীয় পতাকা যেন না থাকে। ইতিহাস বিকৃতির ন্যক্কারজনক ঘটনা আমরা দেখেছি। কিন্তু সত্যকে চাপা দিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৫তম শাহাদতবার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ (ভার্চুয়াল) করে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে আয়োজন করা হয় এ সভার।অনুষ্ঠানের শুরুতেই শোকাবহ যন্ত্রসঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। সূচনা বক্তব্য রাখেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন জাতীয় বাস্তবায়ন কমিটির সমন্বয়ক ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী। এরপর বঙ্গবন্ধুর কর্মময় ও সংগ্রামী জীবনের ওপর একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি করেন আসাদুজ্জামান নূর এমপি।এছাড়া আলোচনা সভায় অংশগ্রহণ করেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক আমির হোসেন আমু; আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যেদিন থেকে আমাদের বিজয় এসেছে তারপর থেকেই বোঝা যাচ্ছিল যে একটা গভীর চক্রান্ত কাজ করছিল। আমাদের এ বিষয়টা যেন আমরা ধরে রাখতে না পারি সে জন্যই তারা এ ষড়যন্ত্র করে আসছিল। জয়ের পতাকা লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত উড্ডীয়মান হয়েছিল সেই পতাকা যেন না থাকে এটাই ছিল তাদের প্রচেষ্টা। জাতির পিতার নাম তো মুছে ফেলা হয়েছিল। এ নাম নেয়া যাবে না। ৭ মার্চের ভাষণ বাজানো যাবে না। স্বাধীনতার ঘোষক সৃষ্টি হলো। অর্থাৎ ইতিহাস বিকৃতির ন্যক্কারজনক ঘটনা আমরা দেখেছি। কিন্তু সত্যকে কেউ কখনো চাপা দিতে পারে না, মুছে ফেলতে পারে না- এটা প্রমাণিত। স্বাধীনতার জন্য দেয়া ডাক ৭ মার্চের ভাষণ আজ আন্তর্জাতিক প্রামাণ্য দলিলে স্থান পেয়েছে।তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী আমরা পালন করব। এ জন্য বিরাট আয়োজন। জাতিসংঘ আমাদের সঙ্গে যৌথভাবে এটা উদযাপন করবে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদের এই করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী মানুষকে একেবারে স্থবির করে দিয়েছে। আপনাদের সঙ্গে উপস্থিত থেকে হয়তো এ সভা করতে পারতাম। কিন্তু করোনার কারণে আজ ভার্চুয়ালি করতে হচ্ছে। আজ আমরা অনলাইনে আলোচনা সভা করছি। সেটাও বলব যে, ২০০৮ সালে আমরা নির্বাচনী ইশতেহারে ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ে তুলব বলে যে ঘোষণা দিয়েছিলাম তা বাস্তবায়ন করেছি বলেই আজ এ সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। ডিজিটাল বাংলাদেশ যদি না করতাম তাহলে আজ এই সুযোগে হয়তো হতো না।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশকে আমরা এমন একটা পর্যায়ে নিয়ে যাব যে বাংলাদেশের স্বপ্ন জাতির পিতা দেখেছিলেন। আমরা দারিদ্র্যের হার কমিয়ে ২০ ভাগে নামিয়ে এনেছিলাম। প্রবৃদ্ধি আমরা ৮.২ ভাগে উন্নীত করেছিলাম। এপ্রিল মাস পর্যন্ত আমরা প্রবৃদ্ধি ৭.২ ভাগ অর্জন করেছিলাম। কিন্তু করোনার কারণে সবকিছুই থেমে যায়। প্রবৃদ্ধি ৫.৮ ভাগে নেমে আসে। আমাদের প্রচেষ্টা রয়েছে এই অবস্থার মধ্যেও জাতির পিতার জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আমরা মানুষের জন্য কাজ করব। বাংলাদেশের কোনো মানুষ যেন না খেয়ে থাকে, বাংলাদেশের কোনো মানুষ যেন গৃহহারা না থাকে, বাংলাদেশের কোনো মানুষ যেন অভাবে কষ্ট না পায়, শিক্ষার আলোয় মানুষ যেন আলোকিত হয়, সবার জীবন যেন সুন্দর হয়, এটাই তো ছিল জাতির পিতার স্বপ্ন ও লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি।শেখ হাসিনা বলেন, কয়েক দিন আগে ২১ আগস্ট চলে গেল। ২০০৪ সালের এই দিনে আমাদের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা করা হয়েছিল। মানবঢাল তৈরি করে আমাকে রক্ষা করা হয়েছে। সেদিন আল্লাহ নিজে বাঁচিয়েছেন, রক্ষা করেছেন। যেভাবে শত্রুরা তৈরি হয়ে এসেছিল এবং আক্রমণ করেছিল মনে হয়েছে যেন একটা যুদ্ধক্ষেত্রে আক্রমণ হয়েছে। আমরা ছিলাম নিরস্ত্র মানুষ। ব্রিটিশ হাইকমিশনার ছাড়াও বিভিন্ন স্থানে বোমা হামলা, আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের গুম, অত্যাচার নির্যাতন ও দুর্নীতিসহ সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একটা প্রতিবাদ করছিলাম। সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে গিয়ে আমরা নিজেরাই সন্ত্রাসীদের হামলার শিকার হই। এত লোককে মারল কিন্তু সাহায্য করতে কেউ এগিয়ে আসেনি। বরং বোমা হামলায় যারা কাতরাচ্ছিলেন তাদের যারা উদ্ধার করতে গিয়েছিল তাদের ওপর পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে। আক্রমণকারীরা যেন নির্বিঘ্নে ওই স্থান ত্যাগ করে চলে যেতে পারে সেই সুযোগ পুলিশ সৃষ্টি করেছিল।তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান আব্দুল আলিম, আব্দুল মান্নান থেকে শুরু করে রাজাকারদের মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী এবং উপদেষ্টা বানিয়েছিল। খালেদা জিয়া ঠিক একইভাবে সেই নিজামী, মুজাহিদ থেকে শুরু করে যারা বুদ্ধিজীবী হত্যার সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের মন্ত্রী এবং ভোট চুরি করে খুনি রশিদ এবং হুদাকে পুরস্কৃত করেছিল। হুদাকে বিরোধী দলের চেয়ারে বসিয়েছিল। খুনি রশিদকে কেন পার্লামেন্টে বসানো হলো এর জবাব কি বিএনপি দিতে পারবে? বুদ্ধিজীবী হত্যা সন্ত্রাস ও সঙ্গে যারা জড়িত তাদেরই তারা নেতা বানিয়েছে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি শুধু একটা কথা মাথায় রেখে এ জন্য যে আমার পিতা তার সারাটা জীবন উৎসর্গ করেছেন। তার পাশে থেকেছেন আমার মা সবসময়। তিনি যে আদর্শ নিয়ে দেশটাকে স্বাধীন করেছিলেন সেই আদর্শ আমরা বাস্তবায়ন করব। বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমি কৃতজ্ঞ যে তারা আমাদের ভোট দিয়েছেন।তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে মর্যাদার আসনে প্রতিষ্ঠিত করব সেটাই আমাদের স্বপ্ন, যে কাজটা বঙ্গবন্ধু করতে চেয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়ন করে আমরা যেন এদেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন করতে পারি। কয়েকজন বেঈমান মুনাফিক ছাড়া এখনও বাংলার জনগণ বঙ্গবন্ধুর জন্য কাঁদে। ২১ বছর তারা বঙ্গবন্ধুর নাম মুছে ফেলার চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি। আজ শুধু বাংলাদেশ নয় বাংলাদেশ ছেড়ে বিশ্বব্যাপী জাতির পিতার নাম ছড়িয়ে পড়েছে।

তলিয়ে গেছে সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র

ভারী বর্ষণে তলিয়ে গেছে সুন্দরবনের অন্যতম উঁচু পর্যটন স্থান চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্র ও আশপাশের এলাকা। ফলে সুন্দরবনের অভ্যন্তরে থাকা বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল; হরিণ, কুমির ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বাটারগুল বাচকা কচ্ছপ প্রজনন কেন্দ্রের প্রাণী ক্ষতির মুখে পড়েছে।

সুন্দরবনের অভ্যন্তরে পানি এতটাই বৃদ্ধি পেয়েছে; যা থেকে রক্ষা পায়নি কুমিরের ডিম তা দেয়ার জন্য উঁচু মাটির একাধিক কেল্লা। কুমিরের ডিম থেকে বাচ্চা ফোটার আগেই জোয়ারের পানিতে তলিয়ে গেছে করমজল প্রজনন কেন্দ্রের ট্যাংকগুলো। সুন্দরবনের অভ্যন্তরে কুমিরের ডিম পাড়া মাটির কেল্লাগুলো ডুবে যাওয়ায় এবার বাচ্চা বৃদ্ধির বিষয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা।

পাশাপাশি জোয়ারের পানিতে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ, শরণখোলা, কচুয়া, রামপাল ও চিতলমারীর বেশকিছু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। দড়াটানা ও ভৈরব নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাগেরহাট জেলা শহরের প্রাণকেন্দ্র রাহাতের মোড়, কাপড়পট্টি, পুরাতন বাজারসহ বেশ কিছু এলাকার মূল সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে।

বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের করমজল প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা মো. আজাদ কবির বলেন, সুন্দরবনের তুলনামূলক উঁচু স্থান হিসেবে পরিচিত করমজল পর্যটন কেন্দ্র তিন ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। লবণ ও বালুযুক্ত কাদামাটির পানিতে কুমির প্রজনন কেন্দ্রের ট্যাংকগুলো ডুবে গেছে। তবে বেষ্টনী থাকায় এখানকার কুমির ও বিলুপ্তপ্রায় প্রজাতির বাটারগুল বাচকা কচ্ছপগুলো রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তবে সুন্দরবনে অভ্যন্তরে বিভিন্ন এলাকায় বিচরণরত কুমিরগুলোর আবাসস্থল ও ডিম পাড়ার স্থান ডুবে গেছে। ফলে এবার কুমিরের বাচ্চা বৃদ্ধি অনিশ্চিত।তিনি আরও বলেন, করমজল প্রজনন কেন্দ্রের সব প্রাণী ও কুমিরের জন্য দেয়ালের পাশে থাকা উঁচু মাটির কেল্লার ডিম পানি থেকে এখনও সুরক্ষিত রয়েছে। সেখানে পানি উঠেনি।

অবৈধ সম্পদ: স্ত্রীসহ ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে কক্সবাজারের টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার দুদকের চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এই মামলা করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দীন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য মামলার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

প্রণব কুমার জানান, মামলার এজাহারে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে সম্পদ ক্রয় করে ওসি প্রদীপ তার স্ত্রীর নামে রেখেছেন বলে অনুসন্ধানে দুদক তথ্য পেয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে একে অপরের সহযোগিতায় অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১৩ লাখ ১৩ হাজার ১৭৫ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপনপূর্বক মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার সম্পদ জ্ঞাতসারে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর সম্পৃক্ত অপরাধ ‘ঘুষ ও দুর্নীতির’ মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে অর্জনপূর্বক ওই অবৈধ সম্পদ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করে ভোগদখলে রাখে।

এ অপরাধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৬(২) ধারা, ২৭ (১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ,২০১২ এর ৪ ( ২) ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় চট্টগ্রামে মামলাটি দায়ের করা হয়।

মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৪টায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দীনের আদালত এজাহারটি আমলে নিয়ে তা তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইনসাফুর রহামান সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দায়েরকৃত মামলায় হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউর রহমানকে প্রধান আসামি ও ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে ২নং আসামি করা হয়েছে। মোট ২৮ জন আসামির মধ্যে ২৭ জনই পুলিশের সদস্য। অন্যজন হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার নূরুল আমিন।

এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, গত ৪ জুলাই টেকনাফ হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউর রহমানসহ একদল পুলিশ হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকার মৃত সুলতান আহমদ প্রকাশ বাদশার পুত্র সাদ্দাম হোসেন ও তার ভাই জাহেদ হোসেনকে বাড়ির অদূরে রাস্তা থেকে আটক করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। পরে তাদের ছাড়িয়ে আনতে ফাঁড়িতে যান মামলার বাদী (মা) গুল চেহের। কিন্তু তাদের ছেড়ে দিতে সম্মত হলেও ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউর রহমান।

এক পর্যায়ে পাঁচ লাখ টাকায় উভয়ের মধ্যে রফা হয়। পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে ওই দিন তিন লাখ টাকা সরাসরি হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউর রহমানের হাতে দেন বাদী গুলে চেহের। বাকি দুই লাখ পরদিন মশিউর রহমানের কথামতো তার পাঠানো বাহক ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার নুরুল আমিনকে দেন।

বাদী এজাহারে আরও জানান, হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউর রহমান পাঁচ লাখ টাকা গ্রহণ করার পর ৬ জুলাই দুই ভাইয়ের মধ্যে জাহেদ হোসেনকে একটি মামলা দিয়ে আদালতে চালান দেয়। ৭ জুলাই রাত ১০টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে ৩০০ গজ দূরে এনে সাদ্দাম হোসেন ও অন্য একজনকে গুলি করে পুলিশ। এতে গুরুতর আহত হয় সাদ্দাম হোসেন। পরে পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বাদী গুল চেহের এজাহারে দাবি করেন, হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউর রহমান, সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও মামলার ৩নং আসামি আরিফুর রহমানের পরামর্শ ও নির্দেশক্রমে অন্য আসামিরা সবাই যোগসাজশ করে সাদ্দাম হোসেনকে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে। সাদ্দামকে মারার কিছুদিন আগে তাদের বাবা সুলতান আহমদ প্রকাশ বাদশাকেও পুলিশ বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা করেছে বলে বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন।

কিছুদিনের ব্যবধানে স্বামী ও সন্তানকে হারিয়ে মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বাদী গুল চেহের। অন্যদিকে এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি না করতে নিয়মিত হুমকি দিয়েছে পুলিশ। তাই মামলার আবেদন করতে বিলম্ব হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন বাদী গুল চেহের।

উল্লেখ্য, ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি মামলা করে। আর রামু থানায় একটি মামলা করা হয়।

পরে ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

এতে ৯ জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলেন- টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের প্রত্যাহার হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলী, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, এএসআই লিটন মিয়া, পুলিশ কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. মোস্তফা ও এসআই টুটুল। এদের মধ্যে আসামি মোস্তফা ও টুটুল পলাতক।

এ ঘটনায় এ পর্যন্ত সাত পুলিশ সদস্য, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্য ও টেকনাফ থানা পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। বিভিন্ন সময় প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন কক্সবাজারের আদালত।

এর মধ্যে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া পুলিশের চার সদস্য এবং এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষীকে গত শুক্রবার থেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে র‌্যাব।

যাদের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে তারা হলেন- এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশের দায়ের করা মামলার সাক্ষী মো. নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াছ।

সেপ্টেম্বরে প্রাথমিক বিদ্যালয় খোলার পরিবেশ হয়নি : গণশিক্ষা সচিব

আগামী সেপ্টেম্বর মাসে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খোলার মতো পরিবেশ এখনও হয়নি বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. আকরাম আল হোসেন।এছাড়া স্কুলে স্কুলে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তাবনার সার-সংক্ষেপের অনুমোদন এখনও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ফেরত আসেনি বলেও তিনি জানান।রোববার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সচিব এসব কথা বলেন।এর আগে গত ২৭ এপ্রিল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, করোনাভাইরাস মহামারীর প্রাদুর্ভাব অব্যাহত থাকলে আগামী সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। যখন এটা থামবে তখন আমরা খুলব।এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকরা গণশিক্ষা সচিবের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী কিন্তু গতকাল বলেছেন যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার ব্যাপারে এখনও কোনো পরিবেশ তৈরি হয়নি। আপনারা নিজেরাও বোঝেন আসলে পরিবেশ তৈরি হয়েছে কি হয়নি।‘এখন যে অবস্থা, এখনও কিন্তু ২০-২২ শতাংশ আক্রান্ত। সেই হিসাবে আমাদের শিশুদের-শিক্ষকদের স্কুল খুললে অভিভাবকরা চলে আসবে। তাদের আমরা ঝুঁকির মধ্যে ফেলব কেন, সেটা আমাদের চিন্তা করতে হবে। আমরা মনে করছি যে আসলে তো এখনও পরিবেশ তৈরি হয়নি।সচিব আরও বলেন, উন্নত দেশ যারা স্কুল খুলেছিল, তারাও কিন্তু এখন আবার বন্ধ করে দিয়েছে। সেজন্য আমরা মনে করছি যে, আমাদের বাচ্চাদের ঝুঁকির মধ্যে না ফেলাটাই সমীচীন হবে। সেজন্য আমরা সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে দুই মন্ত্রণালয় সিদ্ধান্ত নেব স্কুল কখন খোলা যায়। করোনার কারণে এবছর কেন্দ্রীয়ভাবে প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার বদলে স্কুলে স্কুলে নেয়ার প্রস্তাব করে গত ১৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর কাছে সার-সংক্ষেপ পাঠায় প্রাথমিক মন্ত্রণালয়।এ বিষয়ে সচিব বলেন, আমরা বলেছি যে স্ব স্ব স্কুল পরীক্ষা নেবে যদি খুলতে পারে। কেন্দ্রীয় পরীক্ষা না নেয়ার জন্য প্রস্তাবনা আছে। এর বাইরে হচ্ছে যে স্কুলগুলোর, যদি পরিবেশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয় তাহলে স্ব স্ব স্কুল পরীক্ষা নেবে। তবে সেই অনুমোদন এখনও আসেনি।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণে বাংলাদেশ-ভারত সহযোগিতার আশ্বাস

কৃষি যান্ত্রিকীকরণে বাংলাদেশ-ভারত একসঙ্গে কাজ করবে এবং ভবিষ্যতে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক ও ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাশ।

রোববার (২৩ আগস্ট) সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে রীভা গাঙ্গুলি কৃষিপণ্য যান্ত্রিকীকরণ ও প্রসেসিংয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।কৃষির ক্ষেত্রে লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ওপর জোর দিয়েছেন কৃষিমন্ত্রী রাজ্জাক।

বাংলাদেশের অর্থনীতিতে কৃষির গুরুত্ব অপরিসীম জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভারতেরও গ্রামীণ অর্থনীতিতে কৃষি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা শিল্পায়নের দিকে যাচ্ছি। কিন্তু শিল্পায়ন করতে হলে স্থানীয় বাজারকে বড় করতে হবে। সেটা নির্ভর করবে গ্রামীণ অর্থনীতি কীভাবে আরও বড় হয়, আরও চাঙ্গা হয়।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, আমরা মনে করি ভারতের সঙ্গে আমাদের কৃষি ক্ষেত্রে সহযোগিতা করার অনেক সুযোগ আছে। আগে বাংলাদেশ খাদ্য ঘাটতির দেশ ছিল, দুর্ভিক্ষের দেশ ছিল। সারা পৃথিবী থেকে আমরা খাদ্য সংগ্রহ করতাম, কখনও আমাদের সাহায্য হিসেবে নিতে হতো, কখনও আমদানি করতে হতো। এখন আমাদের সেভাবে বিদেশের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয় না। অনেক ক্ষেত্রেই আমরা স্বাবলম্বী হয়েছি।

আমরা এখন চাচ্ছি বাংলাদেশের কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ করা, আধুনিকীকরণ করা। এক্ষেত্রে ভারত প্রযুক্তির দিক থেকে আমাদের চেয়ে এগিয়ে আছে, আমরা তাদের সহযোগিতা নিতে পারি। আমরাও তাদের অনেক প্রযুক্তি দিয়ে সহযোগিতা দিতে পারি। আমরা আলোচনা করলাম কৃষি ক্ষেত্রে আরও কীভাবে সহযোগিতা বাড়াতে পারি।

আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ভারতে যেসব কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহার করা যায় সেগুলো বাংলাদেশে সহজে আনা যায়। ফলমূল, শাক-সবজি; এগুলো প্রক্রিয়াজাতকরণ, আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানি করা নিয়ে আলোচনা করেছি। তিনিও (রীভা গাঙ্গুলি) আমাদের বলেছেন, তার অবস্থান থেকে আমাদের সহযোগিতা করবেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত দেড় বছরে তার (রীভা গাঙ্গুলি) দায়িত্ব পালনকালে আমাদের সম্পর্ক আরও উন্নত হয়েছে অতীতের চেয়ে। ক্রমান্বয়ে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও গভীর হচ্ছে। শুধু কৃষি নয়, অর্থনীতির সব ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা করার অনেক সুযোগ রয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এসেছিলেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ভারতের ওষুধ কোম্পানিগুলো খুবই বড়। আন্তর্জাতিক বাজারে তাদের শেয়ার অনেক বড়। ওষুধের ক্ষেত্রে শুধু কোভিড-১৯ এর ভ্যাকসিন না, অন্যান্য ব্যাপারেও আমাদের সহযোগিতা করার সুযোগ রয়েছে।

আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি আমাদের এ সম্পর্ক অটুট থাকবে এবং ভবিষ্যতে অর্থনীতি, সামাজিক, সাংষ্কৃতিক সব ক্ষেত্রে আমাদের সহযোগিতা আরও অনেক বেশি বাড়বে।

কৃষি যান্ত্রিকীকরণে ভারতের সহযোগিতা পেতে পারি কিনা প্রশ্নে কৃষিমন্ত্রী বলেন, অবশ্যই। কৃষি যান্ত্রিকীকরণে যেমন ট্রাক্টর, পাওয়ার টিলার, কম্বাইন হারভেস্টার, ট্রান্সপ্লান্টার ভারত নিজেরা তৈরি করে। এগুলোর যন্ত্রাংশ আমাদের এখানে তৈরি করতে পারি। আস্তে আস্তে বগুড়া এবং বিভিন্ন জায়গায় লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং…, এটি নিয়ে তিনি (রীভা গাঙ্গুলি) বলেছেন যে, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়েও আমরা আমাদের সহযোগিতা বাড়াতে পারি এবং ভারত এখানে বিনিয়োগও করতে পারে।

ভারতের যারা অ্যাগ্রো প্রসেসিং, অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজ, অ্যাগ্রো মেশিনারিজের সঙ্গে আছে তাদের একটা সম্মেলন দিল্লীতে অথবা ঢাকাতে করে, কী কী ইনটেনসিভ দিচ্ছি বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য, সেগুলো তাদের দেখানো দরকার। এ প্রস্তাবও আমি করেছি। এটা আমরা দেখবো।

ভারত ও বাংলাদেশের কো-অপারেশনে কৃষি একটি গুরুত্বপূর্ণ সেক্টর উল্লেখ করে বিদায়ী হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলি বলেন, আমরা কোভিডের মধ্যে দেখেছি বোরো খুব ভাল হয়েছে। বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ। আমরাও খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ এবং উদ্বৃত্ত। যারা কোভিডে খুব অ্যাফেকটেড হয়েছে তাদের যাতে খাদ্যাহারে কোনো কষ্ট না হয় সেদিকে বাংলাদেশের প্রচুর অর্জন। বাংলাদেশে কীভাবে এ সফলতা এসেছে সেই বিষয়ে কথা হয়েছে।

রীভা গাঙ্গুলি বলেন, কতো ইনোভেটিভ জিনিস করা হয়েছে কৃষি খাতে, যাতে বাংলাদেশ এ জায়গায় পৌঁছেছে যে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা এসেছে। কৃষি খাত এমন একটি এরিয়া আমাদের মনে হয় যেখানে প্রচুর কো-অপারেশন হতে পারে। কারণ আমাদের একটা লোকেশনের সুবিধা আছে। অনেক কানেকটিভিটি প্রজেক্ট হচ্ছে দু’দেশের মধ্যে। অ্যাগ্রো প্রসেসিং, ডেইরি; এগুলো সহযোগিতার খুব গুরুত্বপূর্ণ খাত।লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মধ্যে অ্যাগ্রিকালচার ইঞ্জিনিয়ারিং এগুলো আমরা চিহ্নিত করেছি ভবিষ্যৎ সহযোগিতার খাত হিসেবে।

বিদায়ী হাই কমিশনার বলেন, আগামী বছর খুবই গুরুত্বপূর্ণ বছর। কারণ মুক্তিযুদ্ধের ৫০ বছর। আর আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেরও ৫০ বছর। আর এ বছর মুজিববর্ষ। বিভিন্নভাবে আমরা কীভাবে সহযোগিতা করতে পারি, আমাদের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের এটা একটা খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়।

আপিল বিভাগেও খালেদার আরও চার মামলার স্থগিতাদেশ বহাল

রাজধানীর দারুস সালামসহ বিভিন্ন থানায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে করা নাশকতার আরও চার মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশ বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে, ওই চার মামলার অভিযোগ আমলে নেয়ার আদেশ বাতিল প্রশ্নে হাইকোর্টের জারি করা রুল নিষ্পত্তি করতে বলেছেন আদালত। তবে রুল নিষ্পত্তির দিন-তারিখ উল্লেখ করেননি আপিল বিভাগ।

আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেন ব্যারিস্টার এহসানুর রহমান।রবিবার (২৩ আগস্ট) রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন শুনানি নিয়ে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন পাঁচ বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত ভার্চুয়াল আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। তার সঙ্গে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিৎ দেবনাথ। খালেদা জিয়ার পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন।

রিমান্ড শেষে কারাগারে সাহেদ

পদ্মা ব্যাংকের (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক) অর্থ আত্মসাতের মামলায় রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম মো. সাহেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।রবিবার (২৩ আগস্ট) সাত দিনের রিমান্ড শেষে সাহেদকে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আসামি সাহেদকে সাত দিনের রিমান্ড শেষ করে আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দেন।এ দিন সাত দিনের রিমান্ডের চারদিন শেষে তাকে আদালতে হাজির করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় বিচারক তাকে সাত দিনের রিমান্ড শেষ করে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন।গত ১০ আগস্ট সাহেদের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। বৃহস্পতিবার তাকে চতুর্থ দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে তাকে হেলিকপ্টারে ঢাকায় আনা হয়।