All posts by lutfor

রমজান এলেই বাড়ে পণ্যের দাম

রমজান মাস এলেই বাড়ে নিত্যপণ্যের দাম। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। রমজানের শুরুতে রাজধানীর কারওয়ান বাজার, কাঁঠালবাগান বাজার ও হাতিরপুল বাজার ঘোরেন এই প্রতিবেদক। এর এক সপ্তাহ পরে আবার সেই বাজারগুলোতে পর্যবেক্ষণ করা হয়। দেখা যায়, এক সপ্তাহ আগে ও পরে দামের পার্থক্য বেশ।

রমজানের ইফতারে সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করা হয় ছোলা। এই ছোলার দাম রোজার শুরুতে ছিল ৮০ টাকা। এক সপ্তাহ পরে এই পণ্যের দাম হয় ৮৫ টাকা। একইভাবে চিনির দাম রোজার শুরুতে ৬৮ থেকে ৭০ টাকা হলেও এখন তা ৭৫ থেকে ৮০ টাকা।
এ বিষয়ে কারওয়ান বাজারের শাহ জালাল জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা মো. হৃদয় বলেন, ‘ছোলা আর চিনির দাম আমরা বাড়াইনি। এটি পাইকারি বাজারে বেড়েছে বলে আমাদের বেশি দামে বেঁচতে হচ্ছে।’
আর পাইকারি ব্যবসায়ীদের কথা, আন্তর্জাতিক বাজারে বেড়েছে বলে তাঁদেরও বাড়াতে হয়েছে। কারওয়ান বাজারে জনতা স্টোরের পাইকারি বিক্রেতা আবুল খায়ের বলেন, ‘প্রতি বস্তা ছোলা ৩ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি করছি। আমার লাভ সামান্য। বস্তাপ্রতি মাত্র ৫০ টাকা লাভ করছি। এ ছাড়া চিনিতেও লাভ কম।’ তাঁর দাবি, আন্তর্জাতিক বাজারে ছোলার দাম বেড়েছে। তাই তাঁদের বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। আর এ জন্যই তিনি বেশি দামে বিক্রি করছেন।
এদিকে রমজান উপলক্ষে সরকারি প্রতিষ্ঠান ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) কম দামে নানা পণ্য বিক্রি করছে। সেখানে ৭০ টাকা কেজি দরে ছোলা আর ৫৫ টাকা দরে দেশি চিনি বিক্রি হচ্ছ।
নিত্যপণ্যের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে ভারত থেকে আমদানি করা রসুনের দাম। রোজার শুরুতে এই রসুন প্রতি কেজি ২৮০ টাকা ছিল। এখন সেই রসুন প্রতি কেজি ৩২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে দেশি রসুনের দাম অপরিবর্তিত। বিক্রি হচ্ছে ১১০ থেকে ১২০ টাকায়।
কারওয়ান বাজারের রসুন বিক্রেতা মো. মামুন বলেন, ‘পাইকারি বাজারে গেলে দোকানের মালিকেরা বলেন রসুনের আমদানি নাই, মাল কম আহে তাই দাম বেশি।’ তিনি বলেন, চার দিন আগে তিনি ১০ কেজি রসুন এনেছেন, বিক্রি করেছেন মাত্র ২ কেজি। বেশি দামের কারণে মানুষ রসুন কম কিনছেন বলে তাঁর মত।
ইফতারে বেগুনির চাহিদা বেশি থাকায় রোজায় যেসব পণ্যের দাম সবচেয়ে বেশি বেড়েছে তার মধ্যে অন্যতম বেগুন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ৬০-৭০ টাকা হয়েছে।
রোজার আগে কাঁচা মরিচ ছিল ৩০ টাকা কেজি, আর এখন তা ৪০ টাকা। শসা ছিল ২০ টাকা, এখন তা ৩০ থেকে ৪০ টাকা কেজি। ধনেপাতা ছিল ১২০, এখন ১৮০ থেকে ২০০ টাকা, লেবু এক হালির দাম ছিল ২০ টাকা। এখন তা ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পণ্যের দাম বাড়ছে কেন জানতে চাইলে হাতিরপুল বাজারের বিক্রেতা আবুল হাসেম বলেন, ‘রোজায় এগুলোর চাহিদা বেশি থাকে। আর মাল কম আসে বইলাই দাম বেশি। এতে আমাগো করার কিছুই নাই।’ তাঁর দাবি, দাম বেশি বলে পণ্য বিক্রি হচ্ছে কম। এতে তাঁরাও বেশি লাভ করতে পারছেন না।
ইফতারের অন্যতম আরেক পণ্য হচ্ছে খেজুর। এই খেজুর রোজার আগে বিক্রি হয় সর্বনিম্ন ১১০ টাকায়। সেই খেজুর এখন ১২০ টাকা।
আজ সকালে কাঁঠালবাগান বাজারে বাজার করতে এসেছিলেন ফ্রি স্কুল স্ট্রিটের বাসিন্দা গৃহিণী আফসানা খান। তিনি বলেন, ‘রমজান শুরু হলেই আমাদের দেশে পণ্যের দাম বাড়ে, এটি নতুন নয়। তবে শুনেছি অন্য দেশে বিভিন্ন উৎসবে দাম কমে। এই দাম বৃদ্ধির সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। এ ক্ষেত্রে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার তদারকি নিয়মিত করতে হবে।’

সূত্র : প্রথম আলো

হোসেনি দালানে বোমা হামলা: জেএমবির ১০ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন

রাজধানীর পুরান ঢাকায় হোসেনি দালানের তাজিয়া মিছিলে বোমা হামলার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জেএমবির ১০ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বুধবার (৩১ মে) দুপুরে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. কামরুল হোসেন মোল্লা এই অভিযোগ গঠন করে আগামী ১৫ জুন সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেন। একই সঙ্গে মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির আদেশ দেন তিনি।

বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ওই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি তাপস কুমার পাল।
তিনি আরও জানান, গ্রেফতারকৃত ১০ আসামির মধ্যে ছয়জনকে আদালতে হাজির করে পুলিশ। এই ছয়জনকে অভিযোগ পড়ে শোনানো হলে তারা নিজেদেরকে নির্দোষ দাবি করে আদালতে ন্যায়বিচারের দাবি জানায়।
মামলার আসামিরা হলো- সাইদ ওরফে হিরন ওরফে কামাল, জাহিদ হাসান ওরফে রানা ওরফে মোশায়েদ, মো. আরমান, রুবেল ইসলাম ওরফে সজীব, কবীর হোসেন ওরফে রাশেদ, মাসুদ রানা, হাফেজ আহসান উল্লাহ মাহমুদ, আবু সাইদ সোলায়মান, শাহ জালাল ওমর ফারুক, শাহাদাত ওরফে আল বানি, আব্দুল ওয়াকিল ওরফে আলাউদ্দিন, সাইদ ওরফে হিরন ও চান মিয়া।

এই ১৬ জনের মধ্যে এ হামলার মূল পরিকল্পনাকারী শাহাদাত ওরফে আল বানি ২০১৫ সালের ২৫ নভেম্বর বন্দুকযুদ্ধে মারা যারা যায়। এছাড়া ২০১৬ সালের ১৩ জানুয়ারি জেএমবির কমান্ডার আব্দুল বাকি ও সাইদ ওরফের হিরন বন্দুকযুদ্ধে মারা যায়। বাকি ১০ জনের মধ্যে ৬ জন কারাগারে রয়েছে। বাকি চারজন পলাতক।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের ২৩ অক্টোবর গভীর রাতে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে তাজিয়া মিছিলের প্রস্তুতির সময় হোসেনি দালানে বোমা হামলা হয়। এতে দুজন নিহত ও শতাধিক লোক আহত হন। শিয়া সম্প্রদায়ের ওপর এই হামলায় সাজ্জাদ হোসেন সানজু নামে এক কিশোর নিহত হয়। আহত হয় অর্ধশতাধিক, পরে মারা যান আরও একজন।

/এসআইটি/এআর/এফএস/

মসজিদ নির্মাণে অনুমতি না দেয়ার জরিমানা ২৬ কোটি

যুক্তরাষ্ট্র বিচার বিভাগের মধ্যস্থতায় অবশেষে নিউ জার্সির বার্নার্ডস টাউনশীপে মসজিদ নির্মাণের অনুমতি মিললো। একইসাথে অনুমতি প্রদানে গড়িমসির খেসারত হিসেবে বার্নার্ডস টাউনশীপকে ৩.২৫ মিলিয়ন ডলার জরিমানা গুণতে হবে। যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২৬ কোটি টাকা।

মসজিদ নির্মাণের ব্যয় মেটানো এবং মামলা-পরিচালনার ব্যয় সমন্বয়ের জন্যে এই জরিমানা করা হয়। পবিত্র রমজান মাসের চতুর্থ রমজানের দিন মঙ্গলবার আমেরিকান মুসলমানদের জন্যে ‘ঐতিহাসিক’ এ সমঝোতা সম্পন্ন হয়।

নগদ অর্থ প্রদানের পাশাপাশি টাউনশীপকে ১৮০ দিনের মধ্যে জোনিং বোর্ডের সকল কর্মকর্তাকে ট্রেনিং দিতে হবে মুসলমানসহ সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের অনুভূতি সম্পর্কে। ভবিষ্যতে অন্য কোন ধর্মের অধিবাসী যাতে এমন বিমাতাসুলভ আচরণের শিকার না হন এবং সকলেই যাতে নিজ নিজ ধর্ম-কর্ম অবাধে চালাতে পারেন-সে ব্যাপারে এলাকার অধিবাসীদেরকেও সজাগ করতে হবে।

প্রসঙ্গত: ইসলামিক সোসাইটি অব বাসকিন রীজ তাদের ক্রয়কৃত স্থানে মসজিদ নির্মাণের জন্যে জোনিং বোর্ডে আবেদনের পর গত চার বছরে ৩৯ বার শুনানি হয়। ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে আবেদনটি নাকচ করে জোনিং বোর্ড। এরপরই আবেদনকারীরা ফেডারেল কোর্টে মামলা করেন। এ মামলার শুনানির সময়ে বিচার বিভাগ ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে। আবেদনকারীগণের পক্ষাবলম্বন করে জোনিং বোর্ডের সাথে সমঝোতার উদ্যোগও নেয়া হয়।

সমঝোতা অনুযায়ী পরিকল্পিত নকশায় মসজিদ নির্মিত হলেও আশপাশে গাড়ি রাখার জন্যে পার্কের সংখ্যা ১০৭ থেকে কমিয়ে মাত্র ৫০টি করা হয়েছে। এছাড়া ভবনে মুসল্লী ধারণের ক্ষমতাও হ্রাস করে ১৫০ জন করতে হবে অর্থাৎ ভবনের আয়তন ছোট করতে হবে। মসজিদে খুৎবা প্রদানের সময় বাইরে কোন মাইক লাগানো যাবে না। এমনকি আজানের ধ্বনিও মসজিদ ভবনের বাইরে প্রচারের কোন সুযোগ থাকবে না। মসজিদের যে দুটি মিনার নির্মাণ করা হবে, সেগুলোতে মাইক লাগানো চলবে না। শুধু ভবনের শোভা বর্দ্ধনে কাজ করবে মিনার দুটি।

বিচার বিভাগের সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছেন প্রস্তাবিত মসজিদ কমিটির প্রেসিডেন্ট আলী চৌধুরী। তিনি এই টাউনশীপের নির্বাচিত মেয়র ছিলেন। তিনি এক বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা খুবই খুশি। আশা করছি খুব স্বল্প সময়ের মধ্যেই মসজিদ ভবনের নির্মাণ শুরু করতে পারবো। আমাদের এই মসজিদে এলাকার সকল ধর্মপ্রাণ মানুষের উপাসনার ক্ষেত্র অবারিত থাকবে। সকলকে আরও দেখিয়ে দিতে চাই যে, ইসলাম হচ্ছে শান্তি আর সম্প্রীতির ধর্ম। ইসলাম অন্য ধর্মের প্রতি বিদ্বেষপোষণ করে না।

সমঝোতা অনুযায়ী দেড় মিলিয়ন ডলার পাবে মসজিদ কমিটির ক্ষতিপূরণ বাবদ এবং অবশিষ্ট ১.৭৫ মিলিয়ন ডলার পাবে মামলা পরিচালনাকারী ল’ ফার্ম প্যাটারসন, ওয়েব এ্যান্ড টাইলার। ফার্মটি সে অর্থ ব্যয় করবে এলাকার ধর্মপ্রাণ মানুষদের সেবামূলক প্রকল্পে।

ফার্মটির প্রধান আইনজীবী আদীল এ মাঙ্গি বলেছেন, সারা আমেরিকার নগর প্রশাসনের বোধোদয় ঘটা উচিত যে, যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানেই সকল ধর্মীয় সম্প্রদায়ের উপাসনার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। সে অনুযায়ী যে কোন স্থানে মসজিদ স্থাপনের অনুমতি পেতে আমেরিকান মুসমানদেরও অধিকার সুসংসহত করা হয়েছে।

কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশন্স তথা কেয়ারের নিউ জার্সি চ্যাপ্টারের নির্বাহী পরিচালক জিম সুয়েজ বলেছেন, জোনিং ইস্যুকে সামনে এনে মসজিদ নির্মাণের অনুমতি প্রদানে যারা গড়িমসি করছে, সে সব সিটির জন্যে এটি একটি অনুকরণীয় বিষয় হয়ে থাকবে। ধর্মীয় কারণে কারও সঙ্গে বিমাতাসুলভ আচরণ করা চলবে না।

প্রসঙ্গত: এই সিটির নিকটবর্তী বিয়োন টাউনশীপের মুসলিম সম্প্রদায়ও গত সপ্তাহে ফেডারেল কোর্টে মামলা করেছেন জোনিং বোর্ডের বিমাতাসুলভ আচরণের প্রতিবাদে।

 

বিডি প্রতিদিন/৩০ মে, ২০১৭/ফারজানা

ভারতের কাছে হার বেশি পাত্তা দিচ্ছেন না হাথুরু

ভারতের বিপক্ষে প্রস্তুতি ম্যাচের ব্যাটিং-ব্যর্থতা খুব বড় করে দেখতে চান না বাংলাদেশের কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহে। এটিকে নেহাতই এক ‘প্রস্তুতি ম্যাচে’র বাইরে কিছু ভাবতে রাজি নন এই লঙ্কান কোচ। ভারতের ৩২৪ রানের জবাবে ৮৪ রানে অলআউট হয়ে যাওয়াটাও চ্যাম্পিয়নস ট্রফির আগে খুব বড় কিছু মনে হচ্ছে না তাঁর।

হাথুরু অবশ্য স্বীকার করেছেন, ‘অবশ্যই এটা আত্মবিশ্বাসে আঘাত করবে, তবে সেটা খুব বেশি নয়।’
হাথুরুসিংহে এখন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়েই ভাবছেন, ‘ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটি আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির প্রথম ম্যাচ, বিরাট বড় এক লড়াই।’
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি বাদ দিলে বাংলাদেশের কোচের আত্মবিশ্বাসের জায়গা আয়ারল্যান্ডের ত্রিদেশীয় সিরিজ। আর সে প্রতিযোগিতায় নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ই, ‘এই ম্যাচ বাদে আমাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো। সে কারণে আমরা আত্মবিশ্বাসীও।’
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ২০১৫ বিশ্বকাপে অ্যাডিলেডের সে ম্যাচটি স্বাভাবিকভাবেই সামনে চলে আসে। ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশ—দুই দলেই অ্যাডিলেডের ম্যাচটিতে মাঠে নামা বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় থাকছেন। তবে সবচেয়ে বেশি মনোযোগটা বোধ হয় থাকবে মাহমুদউল্লাহর ওপরই। তাঁর অনন্য এক সেঞ্চুরিতেই তো সেদিন ইংলিশদের বিপক্ষে জয়ের রসদ পেয়েছিল বাংলাদেশ। আর যে জয় বাংলাদেশকে নিয়ে গিয়েছিল বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে।
বিশ্বকাপের পরেও ঘরের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হয়েছে বাংলাদেশের। বাংলাদেশ সফরে টেস্ট ও ওয়ানডে—দুই সংস্করণেই হারের স্বাদ পেয়েছে ইংলিশরা। যদিও কন্ডিশন সেবার ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ছিল, এবার বিপক্ষে বাংলাদেশের।
হাথুরু বলেছেন, ‘অতীতের যেকোনো ভালো পারফরম্যান্স আপনাকে আত্মবিশ্বাসী করতে পারে, তবে সেটা খুবই সীমিত। প্রতিটা ম্যাচ নতুন করে শুরু করতে হয়। প্রতিটা ম্যাচই ভিন্ন। সুতরাং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটিতে আমাদের একটা ভালো শুরু খুবই প্রয়োজন। আমাদের মনোযোগ এখন সে ম্যাচ ঘিরেই।’ সূত্র: এএফপি

বোমায় রক্তাক্ত কাবুল, নিহত ৮০

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের কূটনৈতিক পাড়ায় আজ বুধবার শক্তিশালী গাড়িবোমা বিস্ফোরণ হয়েছে। ছবি: রয়টার্সএই হামলার ঘটনায় তিন শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে। ছবি: রয়টার্সহামলার পর বহু লোককে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। ছবি: রয়টার্সআহতদের উদ্ধার করে কাবুলের বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। ছবি: রয়টার্সকাবুলের যে স্থানটিতে এই গাড়িবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তার আশপাশে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস। তবে কোনটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা, তা বোঝা যাচ্ছে না। ছবি: রয়টার্সআহতদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যেতে এগিয়ে আসেন বহু মানুষ। ছবি: রয়টার্সএই হামলায় তিন শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছে বলে আফগানিস্তানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন। ছবি: রয়টার্সগাড়ি বোমা হামলায় রক্তাক্ত হলো কাবুল। ছবি: রয়টার্স আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের কূটনৈতিক পাড়ায় আজ বুধবার শক্তিশালী গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৮০ জন নিহত এবং কয়েক শ আহত হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানায়।

তবে এএফপি জানায়, দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখন পর্যন্ত ৬৪ জন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছে।

দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওয়াহিদ মোজরহ অন্য কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে এর আগে জানিয়েছিলেন, হামলায় ৪৯ জন নিহত এবং ৩২০ জন আহত হয়েছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কয়েক শ লোককে আহত অবস্থায় কাবুলের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

কাবুলের যে স্থানটিতে এই গাড়ি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে, তার আশপাশে বিভিন্ন দেশের দূতাবাস। প্রেসিডেন্টের বাসভবনও খুব বেশি দূরে নয়।

কাবুল পুলিশের মুখপাত্র বসির মুজাহিদ বলেন, জার্মান দূতাবাসের প্রবেশ পথের কাছে এ বিস্ফোরণ হয়। এটি গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ। এখানে অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ কার্যালয় আছে। ঠিক কোনটিকে লক্ষ্য করে এই হামলা, তা বোঝা যাচ্ছে না।

হামলায় ফ্রান্স ও জার্মানির দূতাবাস ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে জানিয়েছেন ইউরোপ-বিষয়ক ফরাসি মন্ত্রী মেরিলে দ্যঁ সার্নেজ।

কেউ এখনো এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

সূত্র : প্রথম আলো ।

যে খাবার আপনার দৈহিক শক্তি কমিয়ে দিচ্ছে!

এক গবেষণায় দেখা যায়, খাদ্যাভাস আপনার লিবিডোতে ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যখন বয়স বাড়তে থাকে তখন এই ক্ষতিকর প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই যেসব খাবার আপনার দৈহিক শক্তি কমিয়ে দেয় বা এই ক্ষমতা নষ্ট করে সেগুলো খাবারের তালিকা থেকে বাদ দেওয়াই ভালো।

সম্প্রতি অধিকাংশ পুরুষই মিলনের আকাঙ্ক্ষা কম হওয়ার সমস্যায় ভুগছেন। এই সমস্যার পিছনে খাদ্যাভাস মারাত্মক প্রভাব ফেলে থাকে। জেনে নিন কোন সেই খাবারগুলো-

মদ:
একটু মদ পান আপনার মিলনের আকাঙ্ক্ষা বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে অতিরিক্ত মদ খেলে তার পরিণাম কিন্তু সাংঘাতিক। কারণ অতিরিক্ত অ্যালকোহল দৈহিক শক্তিতে মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। ইরেক্টাইল সমস্যাসহ, ঠিকভাবে অর্গাজম না হওয়া এবং মিলনের শুরুতেই দ্রুত দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণ হতে পারে অতিরিক্ত মদ পান করা। আর তাছাড়া অ্যালকোহল আর রিচ ফুড সবসময় আপনাকে তন্দ্রাচ্ছন্ন করে রাখে, ফলে আপনি মিলনের ব্যাপারে আর উৎসাহ বোধ করেন না।

সয়া:
সয়াবিন থেকে তৈরি বেশিরভাগ পণ্যই সাইটোয়েস্ট্রোজেন নামে একটি রাসায়নিক পদার্থ থাকে। এটি পুরুষ ও নারীর দেহে হরমোনের ভারসাম্যে বিরূপ প্রভাব ফেলে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী যারা সয়া পণ্য ভোগ করে তাদের মধ্যে মিলনের আগ্রহ কম। তাই যেসব পুরুষ সন্তান গ্রহণের কথা ভাবছেন তারা খাদ্য তালিকা থেকে সয়া একদম বাদ দিয়ে দিন। কারণ সয়া শুক্রাণুর পরিমাণও কমিয়ে দেয়।

পুদিনা পাতা:
সুগন্ধির জন্য পুদিনা পাতা অনেক বেশি জনপ্রিয়। কিন্তু এটি মোটেও ভালো নয়। এটি শরীরিক উদ্দীপনা সৃষ্টিকারী হরমোন টেসটোসটের মাত্রা কমিয়ে দেয় যা শরীরকে ঠাণ্ডা করে দেয় এবং আগ্রহ কমিয়ে দেয়। তাই সুগন্ধির জন্য পুদিনা বাদ দিয়ে আদা খাওয়ার অভ্যাস করা যেতে পারে। আদা অনেক ভালো।

কফি :
কফি আপনার শরীরিক সম্পর্কের ইচ্ছা বাড়ানোতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কফিতে যে ক্যাফেইন থাকে তা আপনার মুড কার্যকর রাখে। তবে অতিমাত্রায় কফি খেলে হতে পারে বিপত্তি! এটি মূত্রথলির ক্ষতি করে এবং যৌন ও থাইরয়েড হরমোন ভারসাম্যহীনতা তৈরি করে।

পনির :
গরুর দুধ থেকে তৈরি পনির এখন সুপার মার্কেটে খুবই সহজলভ্য। পনির ছাড়া অনেকের নাশতাই যেন জমে না। পনিরকে হরমোন ও অ্যান্টিবডি তৈরির কৃত্রিম উৎসও মনে করা হয়। তবে বেশি মাত্রায় পনির খেলে শরীরে এস্ট্রোজেন-জাতীয় পদার্থের নিঃসরণ হয়, যা মানুষের যৌন আকর্ষণ কমিয়ে দেয়। এমনকি এর প্রভাবে দৈহিক শক্তি লোপ পেতেও পারে।

সূত্র : প্রথম আলো ।

এটাই কি বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা দল?

অনেক কষ্ট, অনেক অপমান, অনেক লড়াই…এসব পেরিয়ে আজকের সাফল্য। ছবি: প্রথম আলো প্রশ্নটার একটাই উত্তর হওয়ার কথা। ওয়ানডে র‍্যাঙ্কিং চালু হওয়ার পর বেশির ভাগ সময় যে বাংলাদেশ ১০ দলের মধ্যে ১০ নম্বর হয়ে থেকেছে, সেই বাংলাদেশই এখন র‍্যাঙ্কিংয়ের ৬ নম্বরে। একসময় বাংলাদেশের কাছে জিম্বাবুয়েও ছিল অজেয় এক শক্তি। সেখান থেকে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বী। সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মৃত্যু হয়েছে আজ অনেক দিন। জিম্বাবুয়ের সঙ্গে তিন বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজও এখন বাংলাদেশের নিচে। দুই বছর আগেও যা ছিল রীতিমতো অভাবিত। আমরা যারা বাংলাদেশের ক্রিকেটের হাঁটি হাঁটি পা পা যুগের সাক্ষী, তাদের তো গায়ে চিমটি কেটে দেখার মতো অবস্থা! এটা সত্যি তো, নাকি কোনো মায়াবী বিভ্রম! এই দলকে বাংলাদেশের ইতিহাসের সেরা বলতে দুবার ভাবতে হয় নাকি!

তামিম ইকবাল শুধু দুবার না, অনেকবার ভাবছেন। ভেবে যা বলছেন, তা একটু অবাক করার মতোই। ‘সেরা দল’-এর আলোচনাটাই নাকি তাঁর কাছে অকারণ বলে মনে হচ্ছে। ভিন্ন সময়ের ভিন্ন ভিন্ন দলের মধ্যে তুলনা করতেই যে রাজি নন বাংলাদেশের ক্রম–উত্তরণের অন্যতম কুশীলব, ‘আমরাই সেরা দল…এই কথাটাই আমি বলতে চাই না। ২০০৫ সালে যে দলটা ছিল, ২০০৭ সালের যে দল, ওগুলোও তো ওই সময়ের সেরা দল ছিল। একেকটা দলের একেকটা লক্ষ্য ছিল, একেকটা স্বপ্ন ছিল। আমি তাই তুলনাতেই যেতে চাই না।’

ব্যাটিংয়ের মতো তামিমের কথাবার্তাতেও এখন অনেক পরিণত বোধের পরিচয়। কেউ যদি এতে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজার প্রভাব দেখেন, সেটি একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না। ক্রিকেট নিয়ে, জীবন নিয়ে মাশরাফির শিষ্যত্ব তো তামিম প্রকাশ্যেই স্বীকার করেন। তা এখানে মাশরাফি আসছেন কেন? আসছেন, কারণ মাশরাফি তাঁর দলের প্রশংসা শুনলেই মনে করিয়ে দেন, বাংলাদেশের ক্রিকেটের এতটা পথ হেঁটে আসা শুধু তাঁদের নিজেদের কৃতিত্বে নয়, অনেকের শ্রম-ঘাম-কষ্ট মিশে আছে এতে। একটা সময় বালতিতে করে পানি এনে খেয়েছেন ক্রিকেটাররা। আকরাম-আমিনুলদের সময়েও দলে নিয়মিত কোনো ফিজিও ছিলেন না। কোনো ম্যাচ ফি ছিল না। তখন তাঁরা খেলে না গেলে কি বাংলাদেশ আজকের এই অবস্থানে আসতে পারত?

খুবই যৌক্তিক প্রশ্ন। যেটিতে মিশে আছে গভীর উপলব্ধিও। তামিম ইকবালের কথা শুনে এ কারণেই মনে হলো, তিনি মাশরাফি বিন মুর্তজার ভাবশিষ্য। তবে এমনও তো হতেই পারে যে, দুজনের ভাবনাটা কাকতালীয়ভাবে মিলে গেছে। তা কী বলছেন তামিম? মাশরাফির কথাগুলোই। সঙ্গে মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সব কৃতিত্বই বর্তমান কোচিং স্টাফকে দিলে অন্যায় হবে, ‘এটা এক দিনে হয়নি। কেউ যদি বলে শুধু গত দুই বছরে, তাও না। এর আগে যে কোচরা ছিলেন, তাঁদেরও এতে অবদান আছে।’

সাকিব আল হাসান দাবি করছেন, ২০০৭ সালেই তিনি বলেছিলেন, বাংলাদেশ ১০ বছরের মধ্যে ৫/৬ নম্বরে উঠবে। তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমও নাকি একই কথা বলেছিলেন। সাকিব কোথাও বলে থাকতে পারেন। ঠিক মনে পড়ছে না। শুধু এটা মনে আছে, ২০১০ সালে টেস্ট ক্রিকেটে বাংলাদেশের ১০ বছর পূর্তিতে প্রথম আলো থেকে বের হওয়া বিশেষ ম্যাগাজিনের জন্য দেওয়া ‘দশ বছর পর’ শীর্ষক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশকে ৫/৬ নম্বরে দেখার আশা করেছিলেন। তবে সেখানে প্রসঙ্গটা ছিল টেস্ট ক্রিকেট। ওয়ানডে নয়।

২০০৭ সালে তামিম ইকবাল তখন মাত্র আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এসেছেন। সাকিব ও মুশফিকের ওয়ানডে অভিষেক এর আগের বছরে। তখনই যদি তাঁরা এত বড় স্বপ্ন দেখে থাকেন, সেটি অনেক বড় সাহসের পরিচয়। তামিম অবশ্য সেই সময়ে এমন কিছু বলেছেন বলে ঠিক মনে করতে পারলেন না। তিনি বরং বলছেন, ‘ন্যাশনাল টিমে এসেই ৫/৬ নম্বরের কথা ভেবেছিলাম বললে ভুল হবে। তখন দলের আবহটা অন্য ছিল। লক্ষ্যও ছিল ভিন্ন। আমাদের চাওয়া ছিল একটাই—অন্য দলগুলোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারা। তিন–চার বছর যাওয়ার পর আমাদের মধ্যে এই বিশ্বাসটা জন্মায়। কবে ঠিক মনে নেই, একটা টিম মিটিংয়ে আমরা ৫/৬ নম্বরে ওঠা নিয়ে আলাপ করেছিলাম। বলতে পারেন, সেদিন থেকেই আমরা এই স্বপ্নটাকে তাড়া করছি।’

সেই স্বপ্ন তাড়া করে সেটিকে ধরতেও পেরেছে বাংলাদেশ। মুশফিকের কাছে যেটি ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলার পুরস্কার, ‘আমরা যে ৬ নম্বরে উঠেছি, এটা তো একটা–দুইটা সিরিজ ভালো খেলার ব্যাপার নয়। আমরা দুই–তিন বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে ভালো খেলছি বলেই এটি হয়েছে। এ কারণেই এটা বেশি আনন্দের।’ সেই আনন্দটা এমনই যে, ৬ নম্বরে ওঠার দিনটাকে বলছেন তাঁর ক্যারিয়ারের ‘সবচেয়ে আনন্দের মুহূর্ত’।

বাংলাদেশের শুরুর দিনগুলোতে শ্রীলঙ্কার উদাহরণটা খুব দেওয়া হতো। যদিও তখন মিল যত ছিল, অমিল ছিল তার চেয়ে অনেক বেশি। অবশেষে বড় একটা মিল কিন্তু পাওয়া যাচ্ছে। শ্রীলঙ্কার ১৯৯৬ বিশ্বকাপ জয়ে বড় ভূমিকা রেখেছিল বেশ কজন খেলোয়াড়ের অনেক দিন একসঙ্গে খেলার অভিজ্ঞতা। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাতেও মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক ও মাহমুদউল্লাহ—এই অভিজ্ঞ পঞ্চকের বড় ভূমিকা। মুশফিক অবশ্য দলে আসা তরুণদেরও অবদানকেও যথেষ্ট গুরুত্ব দিতে চান, ‘আমাদের দলে এখন ৭–৮ জন নিয়মিত পারফরমার আছে। তরুণেরাও ম্যাচ জেতাচ্ছে। দল এখন আর এক–দুইজনের ওপর নির্ভরশীল নয়। আমরা সিনিয়ররা জানি, আমরা ভুল করলেও ওদের কেউ ঠিকই দাঁড়িয়ে যাবে। এটা আমাদের ওপর চাপটা অনেক কমিয়ে দিয়েছে।’

এই তরুণেরা অন্য মানসিকতায় গড়া এবং সেটিই স্বাভাবিক। সাব্বির-মোস্তাফিজ-সৌম্য-মিরাজরা যখন ক্রিকেট খেলতে শুরু করেছেন, বাংলাদেশের জয় আর আগের মতো ‘ঈদ’ নয়, যে আনন্দ বছরে সর্বোচ্চ দুবার পাওয়া যায়। সেটি প্রায় নিয়মিত ব্যাপারে পরিণত। দলে এসেই তাঁরা তাই ভিন্ন একটা আবহ পেয়েছেন। তামিম ইকবাল দুই যুগের পার্থক্যটা খুব ভালো বললেন, ‘আমরা যখন দলে এসেছিলাম, একটা ম্যাচ জিততে চাইতাম। ওরা এসে দেখেছে, আমরা সিরিজ জিততে চাই। দলের আবহটাই আলাদা। ওরা সবাই জানে, ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সই সব না, আমরা দল হিসেবে সাফল্য চাই। আরেকটা বড় পার্থক্য হলো আমরা এসেছিলাম তরুণ এক দলে। দুই–তিনজন ছিল, যারা ৮০–৯০টা ম্যাচ খেলেছে। আর এই দলে আমি, সাকিব, মুশফিক তিনজনই প্রায় দুই শর মতো ম্যাচ খেলে ফেলেছি। মাশরাফি ভাইও তা-ই। সব কিছু মিলিয়েই পরিবর্তনটা হয়েছে।’

তা হতে কম সময় লাগেনি। একটা সময় ছিল, যখন বাংলাদেশ খেলতে নামার আগেই ম্যাচের ফলটা সবার জানা হয়ে যেত। চাওয়া ছিল একটাই, বাংলাদেশ তো হারবেই, একটু যেন লড়াই করে হারে। কী সময়ই না গেছে! ১৯৯৯ বিশ্বকাপে পাকিস্তানকে হারানোর পর টানা ৪৭টি ম্যাচে জয় কী বস্তু, তা জানা হয়নি বাংলাদেশের। এই ৪৭ ম্যাচের যে দুটিতে পরাজয় এড়ানো গিয়েছিল, তা ছিল বৃষ্টির আশীর্বাদ। প্রায় পাঁচ বছরের সেই ঘোর অমানিশায় প্রথম আলোর রেখা হাবিবুল বাশার-ডেভ হোয়াটমোর জমানায়। ২০০৪ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে জয় দিয়ে শেষ হলো দীর্ঘ জয়খরা। সে বছরের ডিসেম্বরেই ভারতকে হারিয়ে টেস্ট স্ট্যাটাস–উত্তর যুগে প্রথম বড় জয়। মাস ছয়েক পরই অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওই কার্ডিফ মহাকাব্য। ২০০৬ সালে শ্রীলঙ্কা, পরের বছর ওয়েস্ট ইন্ডিজ বিশ্বকাপে দুই বড় শিকার ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা। এর সবই হাবিবুল বাশারের নেতৃত্বে।

সেই হাবিবুল বাশার একটি ভারতীয় টিভি চ্যানেলে বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করতে লন্ডন এসেছেন। ঢাকা-লন্ডন ফ্লাইটে প্রায় সাড়ে ১০ ঘণ্টা তাঁর যাত্রাসঙ্গী। কথায় কথায় বাংলাদেশের র‍্যাঙ্কিংয়ে ৬ নম্বরে ওঠার প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়ে যে জবাবটা পেলাম, তা একটু স্তব্ধই করে দিল। ‘১৯৮৯ সালে বাংলাদেশে এশীয় যুব ক্রিকেট হয়েছিল। আমার এখনো মনে পড়ে, ভারতের বিপক্ষে আমরা যখন ব্যাটিং করছিলাম, ওরা খুব হাসছিল।’ হাবিবুলের যন্ত্রণাকাতর মুখ দেখে মনে হলো, যেন টাইম মেশিনে চড়ে ফিরে গেছেন ২৮ বছর আগের ময়মনসিংহ স্টেডিয়ামে।

না, তামিম ঠিকই বলেছেন। র‍্যাঙ্কিংয়ের ৬ নম্বরে ওঠা এই দলটিকে ‘বাংলাদেশের সর্বকালের সেরা’ বলে দেওয়া খুবই সহজ। কিন্তু তাতে অনেক কিছু বলা হয় না। অনেক কষ্ট, অনেক অপমান, অনেক লড়াই…। অধিনায়ক হিসেবে বাংলাদেশের জয়যাত্রার সূচনা করেও এত বছরে যা ভুলতে পারেননি হাবিবুল বাশার।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তরুণদের প্রশ্নের ঢল

‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে তরুণ নেতৃত্বের ভূমিকা’ শীর্ষক সভায় বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভী। ছবিটি আজ সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে তোলা। ছবি: জাহিদুল করিমতরুণেরা সবকিছু জানতে চায়। কুকুর-বিড়ালের নিরাপত্তা, জাতীয় উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে হিজড়াদের সম্পৃক্ততা বা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর অধিকার সরকার কীভাবে টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) অর্জন কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করছে, এ নিয়ে তাদের হাজারো প্রশ্ন। এই প্রশ্নেরই ঢল নেমেছিল প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে। সময়ের স্বল্পতার কারণে অনেকে প্রশ্ন করার সুযোগই পাননি।

আজ শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে ‘টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে তরুণ নেতৃত্বের ভূমিকা’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তরুণেরা বিশিষ্টজনদের নানা বিষয়ে প্রশ্ন করেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্ন্যান্স উনোভেশন ইউনিট (জিআইইউ) এই সভার আয়োজন করে। রাজধানীর কিছু স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের গোটা পঞ্চাশেক শিক্ষার্থী এতে অংশ নেন।
প্রধানমন্ত্রীর আন্তর্জাতিক সম্পর্কবিষয়ক উপদেষ্টা গওহর রিজভীকে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী প্রশ্ন করলেন, এসডিজিতে হিজড়াদের সরকার কীভাবে সম্পৃক্ত করবে? রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যাকে এক স্কুলছাত্র জিজ্ঞেস করে, রেওয়াজ করার সময় পাশের বাসা থেকে আপত্তি আসে, কী করণীয়। সংগীতশিল্পী মেহরীন মাহমুদের কাছে এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ, ‘আমার ভালো উদ্যোগের বাধা আসে বাসা থেকে। কী করা যায়?’
‘মানসম্মত শিক্ষা’ বিষয়ে মতামত দেন মুহম্মদ জাফর ইকবাল। তিনি তরুণদের প্রশ্ন করারই সুযোগ নেন বেশি। লেখাপড়ায় ভালো—এমন শিক্ষার্থীদের বিদেশে যাওয়া ও থাকার প্রবণতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের ব্যর্থতা যে আমরা তাদের দেশে থাকার ব্যাপারে শেখাতে পারিনি।’
‘উন্নয়ন ও তরুণ নেতৃত্ব’ বিষয়ে বক্তব্য দিয়ে মতামত অনুষ্ঠান শুরু করেছিলেন শিল্পী মেহরীন মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘তোমাদের ভেতরে সুন্দর কিছু না থাকলে তোমার জীবনের কোনো কিছুই টেকসই হবে না।’
আয়োজক সংস্থার পরিচালক (ইনোভেশন) ইসরাত মাহমুদার পরিচালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সিনিয়র সচিব সুরাইয়া বেগম। এতে মূল উপস্থাপনায় জিআইইউর পরিচালক দেবব্রত চক্রবর্তী বলেন, এসডিজি অর্জনে তরুণদের ভূমিকার কথা জাতিসংঘ গুরুত্ব দিয়ে বলেছে। ১৬৯টি লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে ২০ টিতে সরাসরি তরুণদের কথা বলা হয়েছে। দেশে ১৫-২৪ বছর বয়সী জনগোষ্ঠী ১৯ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

 সূত্র: প্রথম আলো

গণভবনের কাছে এসপিবিএন সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত

রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনের কাছে পুলিশের স্পেশাল সিকিউরিটি এ্যান্ড প্রকেটশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) এক সদস্য গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। তাঁর নাম আতিকুর রহমান। শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত আতিক পুলিশের নায়েক। শুক্রবার রাত সোয়া ১২টার দিকে বুকে গুলিবিদ্ধ এবং আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো। পরে রাত ১.৩০ টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে গুলির ঘটনার ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কেউ কিছু জানায়নি।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, রাত সোয়া ১২টার দিকে আতিকুর রহমানকে কয়েকজন সহকর্মী হাসপাতালে নিয়ে যান। তার বুকের ডান পাশে গুলি লেগেছে। তিনি কীভাবে গুলিবিদ্ধ হন, তা তারা বলেননি। পরে স্থানীয় থানায় যোগাযোগ করেও ঘটনার ব্যাপারে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

আতিকুর রহমানের বাহকরা হাসপাতালে জানান, তাঁরা গণভবনের উত্তর গেটের মসজিদের কাছে দায়িত্ব পালন করছিলেন। সেখানেই গুলিবিদ্ধ হন আতিকুর রহমান। তাকে কোনো আততায়ী গুলি করেছে কিনা বা দুর্ঘটনা কিনা সে ব্যাপারে কিছুই জানাননি বাহকরা।

রাতে শেরে বাংলানগর থানার ওসি গোপাল গনেশ বিশ্বাস বলেন, গণভবন থেকে আমাদের জানানো হয়েছে যে নিজের অসাবধানতায় তাঁর নিজের গায়ে গুলি লাগে।

সন্ত-বাবা-গুরু আর স্বামী’তে ভরা ভারত, বাড়ছে যৌন নির্যাতন

ভারতে ধার্মিক নেতাদের সংখ্যা বেড়েই চলেছে, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে যৌন নির্যাতন থেকে শুরু করে হত্যা, সব ধরনের অপরাধের ঘটনা। কিন্তু এর কারণ কী?

গত সপ্তাহে দক্ষিণ ভারতের কেরালা রাজ্যে এক স্বঘোষিত ‘সাধু’ এক ২৩ বছর বয়সী আইনের ছাত্রীকে ধর্ষণ করার প্রচেষ্টা করার পর, নির্যাতিত তরুণীটি ‘সাধুটির’ লিঙ্গকর্তন করে। তথাকথিত সাধুটি গত আট বছর ধরে তরুণীটির যৌন অপব্যবহার করছিল। পলায়নের আর কোনো পথ না দেখে মেয়েটি নাকি এই চরম পন্থা অবলম্বন করতে বাধ্য হয়।

ঘটনাটি ঘটে তিরুবনন্তপুরম শহরে। গঙ্গেশানন্দ তীর্থপদ নামের সাধুটি নাকি প্রায়ই মেয়েটির বাড়িতে আসতেন তার শয্যাশায়ী পিতাকে নিরাময় করার ছলে। তীর্থপদর আরেক নাম হলো শ্রীহরি। কেরালা রাজ্যে তার শত শত ভক্ত পরিবার ছিল। আজ তিনি ধর্ষণের অভিযোগের আসামী।
যৌন কেলেংকারি বাড়ছে
হিন্দু অধ্যুষিত ভারতে সাধু-মহাত্মাদের আধিপত্য চিরকালের। তাদের উপর মানুষজনের অসীম বিশ্বাস। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে তথাকথিত ‘দৈবী মানুষরা’ কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি বানিয়ে ফেলেছেন।
বছর তিনেক আগে উত্তরের হরিয়ানা রাজ্যে রামপাল সিং যতীন নামের এক বিতর্কিত গুরুকে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশকে তার সমর্থকদের সঙ্গে বেশ কয়েক ঘণ্টা যুঝতে হয়। পরের তদন্তে গুরুর যৌনজীবন সম্পর্কে যে সব খুঁটিনাটি বেরিয়েছিল, তা রোমহর্ষক।গুরুজী নাকি ‘সাধিকা’ নাম দিয়ে ‘হোস্টেস’ পুষতেন।
২০০৩ সালে আসারাম বাপু নামের এক স্বঘোষিত ‘গডম্যান’-কে গ্রেপ্তার করা হয়, কেননা তার বিরুদ্ধে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ছিল। ‘বাপু’ নাকি পাপ খণ্ডন করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে কিশোরীটিকে কবলে এনেছিলেন।
২০১৩ সালে মহেন্দ্র গিরি নামের এক ‘সাধু’-কে গ্রেপ্তার করা হয়, কেননা তিনি নাকি এক ২৪ বছর বয়সের মহিলাকে চার মাস ধরে আটকে রেখে বারংবার ধর্ষণ করেছিলেন। মহিলাটির স্বামী ও শ্বাশুড়ি নাকি গিরির সহযোগী ছিলেন। তিনজনেই আজ জেলে।
২০১০ সালে বিতর্কিত হিন্দু গডম্যান স্বামী নিত্যানন্দকে গ্রেপ্তার করা হয়, কেননা একটি ফাঁস করা ভিডিও-য় তাকে দক্ষিণ ভারতের এক অভিনেত্রীর সঙ্গে যৌন কার্যকলাপে লিপ্ত হতে দেখা গিয়েছিল।
বিশেষজ্ঞদের বিশ্বাস যে, গুরুদের উপর তাদের ভক্তবৃন্দের অপরিসীম বিশ্বাস ও আস্থার কারণেই এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। বিজ্ঞানে যাদের আস্থা, তারা বলেন, ভারতীয়রা কোনো দৈব আশ্চর্যের মাধ্যমে তাদের দুঃখ-দুর্দশার সমাধান খোঁজে। সেটাই হলো গুরুদের ক্ষমতার উৎস।
সূত্র: ডয়চে ভেলে