All posts by lutfor

উল্টোপথে গাড়ি চালানোয় প্রতিমন্ত্রী-সচিবকে জরিমানা

রাজধানীতে উল্টোপথে গাড়ি চালানোয় প্রতিমন্ত্রীসহ কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জরিমানা করেছে পুলিশ। যাদের মধ্যে সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তাও রয়েছেন।

রোববার ঢাকার হেয়ার রোডে বিকেল ৪টায় শুরু হওয়া এই অভিযান চলে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত।

ডিএমপি’র দক্ষিণ ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধার সামনে উল্টোপথে গাড়ি চলতে দেখে দাঁড়িয়ে যান দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

এরপরই পুলিশের উদ্যোগে শুরু হয় উল্টোপথে চলা গাড়ি ও মোটরসাইকেল আটকানো অভিযান। দুই ঘণ্টা ধরে চলা এ অভিযানে মামলা ও জরিমানা করা হয়েছে ৫০টি যানবাহনকে। এর মধ্যে ৪০টিই সরকারি গাড়ি।

অভিযানে উল্টোপথে আসা ৫০টি গাড়িকে জরিমানা করা হয় বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) আশরাফ হোসেন জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, হেয়ার রোডে ভিআইপি গাড়ি বেশি আসে এবং অনেকে উল্টোপথে গাড়ি চালান। আজকের আকস্মিক অভিযানে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের গাড়ি উল্টোপথে আসার কারণে আটকে জরিমানা করা হয়। এ সময় উল্টোপথে আসা সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, রাজউক, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ কর্মকর্তা এবং সাংবাদিকের গাড়ি আটকে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়। তিনটি গাড়িকে ডাম্পিংয়ে পাঠানো হয়েছে।

ট্রাফিক পুলিশের মহানগর দক্ষিণের উপ-কশিনার রিফাত রহমান শামীম অভিযানের সময় উপস্থিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা (পিআরও) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য জানান, উল্টোপথে সরকারি কর্মকর্তাদের চলাচল যেমন দুদক চেয়ারম্যানকে অবাক করেছে, তেমনি পুলিশি পদক্ষেপে ভীষণ খুশি হয়েছি।

রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন সুগন্ধার সামনে উল্টোপথে চলা গাড়ি আটকে পুলিশ অভিযান পরিচালনা ও জরিমানা করায় ধন্যবাদ জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ।

তীব্র যানজটের ঢাকা শহরে মন্ত্রী-এমপিসহ প্রভাবশালীদের উল্টোপথে গাড়ি চালানো বন্ধ করতে বিভিন্ন সময় আহ্বান জানিয়ে আসছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকেও বিভিন্ন সময় সতর্ক করা হয়েছে। পরিচয় যাই হোক, কেউ ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে উল্টোপথে গাড়ি নিয়ে গেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে গত মাসে এক সংবাদ সম্মেলনে জানান ডিএমপি কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া।

মুসলিম নারীদের সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ : মিয়ানমার বাহিনীর আরেক অস্ত্র!

রয়টার্স: এক অনুসন্ধানী দল জানিয়েছে, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নারীরা ধারাবাহিকভাবে সে দেশের সেনাবাহিনীর সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের রাখাইন থেকে তাড়ানোর অস্ত্র হিসেবে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণকে ব্যবহার করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
ঘটনা তদন্তে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরে গিয়ে সেইসব ভয়াবহ যৌন নিপীড়নের ঘটনা সম্পর্কে জানতে পেরেছে সহিংসতা ও যৌন নিপীড়ন ঘটনা তদন্তে গঠিত জাতিসঙ্ঘের অনুসন্ধানী দল। জাতিসঙ্ঘের দুই কর্মকর্তা বলেছেন, রোহিঙ্গাদের রাখাইন থেকে তাড়ানোর অস্ত্র হিসেবে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণকে ব্যবহার করছে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী।
মিয়ানমারের সেনা ও নিরাপত্তা বাহিনীর সাম্প্রতিক মানবাধিকার হরণ ও যৌন নিপীড়নের ঘটনা তদন্তে ওই অনুসন্ধানী দল গঠন করেছে জাতিসঙ্ঘ। জাতিসঙ্ঘের মানবাধিকার কমিশনের উদ্যোগে ওই দল তদন্তকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের চলমান তদন্তকে ভিত্তি করে রোহিঙ্গাদের ওপর সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় জাতিসঙ্ঘের ওয়েবসাইটে এক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। সেই রিপোর্টে উঠে এসেছে আয়েশা (ছদ্মনাম) নামের এক নারীর বিপন্নতার কথা।
আরো অনেকের সঙ্গে রাখাইন থেকে বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন আয়েশা। ২০ বছর বয়সী এই নারী এসেই লেডা আশ্রয় শিবিরের চিকিৎসাকেন্দ্রের শরণাপন্ন হন। তার গ্রামে যখন সেনাবাহিনী ঢুকে তখন গ্রামবাসী পালাতে শুরু করে। আয়শা ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, সেনারা এসেই বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিতে থাকে। সবাই পালাচ্ছিল। কিন্তু আমাকে তো আমার সন্তানের কথা ভাবতে হবে।
আয়েশা জানান, সেনা পোশাক পরে পাঁচজন এসেছিল তার বাড়িতে। এদের একজন তাকে ধর্ষণ করে আর বাকিরা তা দেখতে থাকে। যুদ্ধ-সংঘর্ষে যৌন সহিংসতার ব্যবহার সংক্রান্ত জাতিসঙ্ঘের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেন এই সপ্তাহে বলেছেন, রাখাইনের নিরাপত্তা অভিযান নিয়ে তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, যৌন নিপীড়নকে ‘সুনির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর (রোহিঙ্গা) জীবিতদের তাড়িয়ে দেয়ার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছেন।’
সামিলার (ছদ্মনাম) পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ। ‘আমি জানি না, কোথায় আমার স্বামী-সন্তান। আমি মানুষজনের কাছে বারবার জানতে চাইছি। কোনো খবর পাচ্ছি না। দুঃখ ভারাক্রান্ত মনে তিনি বলেন, এরপর তিনি ছোট মেয়েকে কোলে নিয়ে ফিরে যান বাঁশ দিয়ে বানানো আশ্রয়স্থলে। এটাই এখন তাদের বসতবাড়ি। সামিলা বলেন, যখন তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে আসছিলেন তিন দিনের পথ হেঁটে, তখনো তার শরীর থেকে রক্ত ঝরছিল। কান্নাভেজা কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘সঙ্ঘবদ্ধ হয়ে তিন সেনা আমাকে ধর্ষণ করে। তারা চলে যাওয়ার পর আমি দুই সন্তানকে নিয়ে বেরিয়ে পড়ি। জীবনের তাগিদে বাংলাদেশের সীমান্তের দিকে ধেয়ে আসতে থাকা মানুষের কাতারে শামিল হই।’
এবিসি রেডিওর সাংবাদিক লিয়াম কোচরেন। রাখাইনে প্রবেশের সুযোগ হয়েছিল তার। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের তত্ত্বাবধানে সেখানে গিয়েছিলেন তিনি। তা সত্ত্বেও কৌশলে তিনি বের করে এনেছেন সেখানকার ভয়াবহতা। রাখাইন পরিস্থিতি নিয়ে এবিসিতে তিনি রিপোর্ট করেছেন, ‘রাখাইনের ভয়ঙ্কর সব ধর্ষণের গল্প বলছেন নারীরা’ শিরোনামে।
রাখাইনের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর একজন অবস্থাসম্পন্ন মানুষ ছিলেন মোহাম্মদ কাশিম। বাড়ি ছিল, গাড়ি ছিল, ছিল একটা সুখী পরিবার। তবে হঠাৎই একদিন মিয়ানমারের সেনাবাহিনী তার বাড়িতে ঢুকে তছনছ করে দেয় সব। কাশিমের সামনে তার মেয়েকে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণ করে সেনারা। সে সময় বাধা দিতে গেলে বন্দুক আর ছুরির মুখে আটকে রাখা হয় তাদের। কাশিম বলেন, ধর্ষণের পর আমার মেয়েকে মেরে ফেলা হয়। তাকিয়ে তাকিয়ে দেখা ছাড়া আমাদের আর কিছুই করার ছিল না।’
নারীদের স্বামী কিংবা অন্যান্য আত্মীয়স্বজন যখন বাড়িতে থাকেন না তখনই ঢুকে পড়ে মিয়ানমারের সেনারা। সন্তানদের সামনে ধর্ষণ করে তাদের মাকে। জাতিসঙ্ঘের অভিবাসন সংস্থার লেডা আশ্রয় শিবিরের এক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে কর্মরত আছেন নওরিন তাশনুপা। তিনি বলেছেন, প্রায় সব নারীকেই ধর্ষণ করা হয় পেটানোর পর। নওরিন জানান, ধর্ষিতা নারীদের থেঁতলে যাওয়া শরীর আর বুক কিংবা যৌনাঙ্গে কামড়ের চিহ্ন দেখেছেন তিনি। নওরিন বলেন, মানুষ এইসব ঘটনা তাদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেও আলাপ-আলোচনা করত চান না। গত অক্টোবর থেকে এমন ঘটনা ঘটেই চলেছে। তবে আমাদের কাছে একটা অভিযোগ আসতে তিন-চার মাসও লেগে গেছে।’
জাতিসঙ্ঘ অভিবাসন সংস্থার যৌন সহিংসতা থেকে সুরক্ষা সংক্রান্ত কর্মকর্তা ইরিন লরিয়া। তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য এই মুহূর্তে এটি টিকে থাকার লড়াই। তার মতে, ধর্ষণকে অস্ত্র বানানো হয় নানাভাবে। ইরিন জানান, ‘এক সময় ধর্ষণকে ব্যবহার করা হতো নিপীড়নের একটি উপায় হিসেবে।
প্রকাশ্যে নগ্ন করে হাঁটিয়ে নিয়ে বেড়ানো হতো রোহিঙ্গা নারীদের, তাদের ওপর যৌন সহিংসতা চালানো হতো।’ তবে ইরিনের ভাষ্য অনুযায়ী সবশেষ ধাপে জাতিসঙ্ঘ বিশেষজ্ঞরা সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের যে আলামত পেয়েছেন, সেখানে ধর্ষণকে ব্যবহার করা হচ্ছে নারীদের বিরুদ্ধে ভীতি ছড়াতে। সাম্প্রতিক ধর্ষণের ঘটনাগুলো বিচার করে তার মনে হয়েছে, যত দ্রুত সম্ভব রোহিঙ্গাদের তাড়িয়ে দেয়াই এগুলোর উদ্দেশ্য।
জাতিসঙ্ঘের পর্যবেক্ষক দল জানায়, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েও এ বিষয়ে কোনো কথা বলতে চাননি। যুদ্ধে যৌনসহিংসতাবিষয়ক জাতিসঙ্ঘের বিশেষ প্রতিনিধি প্রমিলা প্যাটেন জানিয়েছেন, রাখাইন রাজ্যে সরকারি বাহিনীর সহিংসতা এবং সঙ্ঘবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

১ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র করে দেবে তুরস্ক

১ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করবে তুরস্ক। বাংলাদেশ সরকারের মাধ্যমে এ আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ করতে চায় মুসলিম দেশটি। এজন্য বাংলাদেশকে প্রয়োজনীয় অর্থ সহায়তা দেবে তারা।

রোববার দুপুরে সচিবালয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়ার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা জানান তুরস্কের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও সহযোগিতাবিষয়ক সংস্থার সমন্বয়ক আহমেদ রফিক।

আহমেদ রফিক বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে রয়েছে তুরস্ক। এই সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত পাশে থাকবে। রোহিঙ্গাদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রাখবে। ১ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণে স্থান নির্ধারণ করে দিতে মন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেন তুরস্কের এই প্রতিনিধি।

ত্রাণমন্ত্রী মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যু ছাড়াও বাংলাদেশ ও তুরস্কের দ্বিপাক্ষিক বিষয় নিয়ে তুরস্কের প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। তারা রোহিঙ্গাদের জন্য সার্বিক সহযোগিতার কথা জানিয়েছেন। ১ লাখ রোহিঙ্গার জন্য আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছে। তুরস্ক শিগগিরই ১৩টি আইটেমের সমন্বয়ে প্রস্তুত ১০ হাজার প্যাকেট ত্রাণ সামগ্রী রোহিঙ্গাদের দেবে। এগুলোর হস্তান্তর নিয়েও কথা হয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে শিগগির তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রী রিসেপ আব্বাস বাংলাদেশ সফর করবেন। এ তথ্য তুরস্কের পক্ষে ত্রাণমন্ত্রীকে জানানো হয়। বাংলাদেশও তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাবে বলে মন্ত্রী ওই প্রতিনিধিকে অবহিত করেন। তুরস্কের উপ-প্রধানমন্ত্রীর সফর নিয়ে উভয়ের মধ্যে আলোচনা হয়েছে বৈঠকে।

ত্রাণমন্ত্রী তুরস্কের প্রতিনিধিকে জানান, একান্ত মানবিক কারণে বাংলাদেশ মিয়ানমারের নাগরিক রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় দিয়েছে। রোহিঙ্গা নিয়ে সরকারের মনোভাব ও অবস্থান তুরস্ক প্রতিনিধির কাছে তুলে ধরেন মন্ত্রী। রোহিঙ্গাদের ওপর বর্বর নির্যাতনের বিষয়টিকে অমানবিক হিসেবে উল্লেখ করে দ্রুত এর সমাধানও আশা করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞায় ভেনেজুয়েলাসহ আরও ৩ দেশ

যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে বিতর্কিত নিষেধাজ্ঞা আরও বিস্তৃত করে নতুন করে এতে উত্তর কোরিয়া, ভেনেজুয়েলা ও চাঁদকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। তবে ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে কেবল দেশটির সরকারি কর্মকর্তা ও তাদের পরিবারের সদস্যদের ওপর এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে।

বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিদেশি সরকারগুলোর সরবারহকৃত তথ্য পর্যালোচনা করে এ নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।

গত শনিবার এ বিষয়ে নির্বাহী আদেশ জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ বিষয়ে একটি টুইটও করেছেন ট্রাম্প। তিনি লিখেন, আমেরিকাকে নিরাপদ রাখতে এটি তার প্রথম অগ্রাধিকার।

এরআগে ছয়টি মুসলিম দেশের নাগরিকদের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন ট্রাম্প। তখন তা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা তৈরি হয়।

র‌্যাম্প মডেল থেকে জঙ্গি

নূরে আলম জিকো : সুন্দর শারীরিক গঠন, সুদর্শন। চেহারায় আভিজাত্যের ছাপ। লেখাপড়া করেছেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে।

ছিলেন র‌্যাম্প মডেলিংয়ে। বেশ কয়েকটি মডেলিং প্রতিযোগিতায় অংশও নিয়েছেন। শিক্ষা জীবন শেষে কিছুদিন ব্যবসাও করেছেন। তারপর হঠাৎ জীবনের গতি পরিবর্তন। হয়ে উঠলেন জঙ্গি।

তিনি বুধবার দিবাগত রাতে র‌্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হওয়া জঙ্গি ইমাম মেহেদী হাসান ওরফে আবু জিব্রিল(২৯)।

২০১৫ সালে উগ্র মতাদর্শে বিশ্বাস থেকে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সংস্পর্শে আসেন তিনি। এরপর সংগঠনের জন্য কর্মী সংগ্রহ, অর্থ সংগ্রহ, জঙ্গিবাদে উদ্বুদ্ধকরণসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেন। এক সময় সারোয়ার-তামিম গ্রুপের রিজার্ভ হিসেবে রক্ষিত ব্রিগেড আদ দার-ই কুতনীর কমান্ডার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্ণেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ এসব কথা জানান।

তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, ‘বুধবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে রাজধানীর খিলগাঁও থানা এলাকার দক্ষিণ বনশ্রীতে অভিযান পরিচালনা করে মেহেদীকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ, একটি মোবাইল ফোন, একটি পাসপোর্ট ও উগ্রবাদী বইসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়। তিনি রাজধানীর বনানী ও উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।

মেহেদী পটুয়াখালী জেলার বাউফল থানার রাজাপুর গ্রামের মো. খোরশেদ আলমের ছেলে।

র‌্যাব-৩ এর গোয়েন্দা বিশ্লেষণ ও মেহেদীকে জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্যের বরাত দিয়ে তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, ‘২০১৫ সালে মেহেদী জঙ্গিবাদে জড়িয়ে পড়েন ও সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সংস্পর্শে আসেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অব্যাহত অভিযানে জঙ্গিরা কোণঠাসা হয়ে পড়লে তিনি তাদের রিজার্ভ হিসেবে রক্ষিত ব্রিগেড আদ দার-ই-কুতনীর কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন ও ব্রিগেডের জন্য কর্মী সংগ্রহ শুরু করেন।

ইমাম মেহেদী ঢাকা, টাঙ্গাইল ও রাজশাহীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে জঙ্গি হামলায় উদ্বুদ্ধ সদস্যদের শপথ পাঠ করাতেন। আদ্-দার-ই-কুতনীতে সাহায্যকারীদের মধ্যে মুহাজির যোদ্ধা, সালাফি আলেম বোর্ড এবং অর্থ প্রদানকারী বিভিন্ন ব্যক্তি রয়েছে বলে ইমাম মেহেদী জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। ব্রিগেডের দুজন জঙ্গি ইতিমধ্যে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জঙ্গিবিরোধী অভিযানে নিহত হয়েছে বলে সে জানিয়েছে।’

তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ জানান, ইমাম মেহেদীর কাছ থেকে উদ্ধার করা আলামত পরীক্ষা করে গোয়েন্দারা নিশ্চিত হয়েছেন যে, ব্রিগেড আদ্-দার-ই-কুতনী অপারেশনাল সক্ষমতা অর্জন করেছে। তারা যে কোনো স্থানে নাশকতামূলক তৎপরতা চালাতে সক্ষম।

এর আগে ২০১৬ সালের ৮ অক্টোবর র‌্যাবের অভিযানের সময় পালাতে গিয়ে নিহত হন জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের তৎকালীন আমীর সারোয়ার জাহান ওরফে মানিক ওরফে আবু ইব্রাহিম আল হানিফ। পরে তার বাসা থেকে উদ্ধার নথি বিশ্লেষণ করে তাদের দুটি অপারেশনাল ব্রিগেড প্রতিষ্ঠার তথ্য পায় র‌্যাবের গেয়েন্দারা। এরমধ্যে রয়েছে বদর স্কোয়াড ও ব্রিগেড আদ্-দার-ই কুতনী। সারোয়ার জাহান নিহত হওয়ার কিছুদিন পর র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এই দুই ব্রিগেডের ব্যাপারে সাংবাদিকদের অবহিত করেছিলেন। সেখানে তিনি দাবি করেছিলেন গুলশানের হলি আর্টিজান হামলার নেপথ্যে বদর স্কোয়াড কাজ করেছিল।

‘মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে একযোগে চাপ দিতে হবে’

রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে এবং সহিংসতা বন্ধ করতে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে একযোগে চাপ দিতে হবে বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত বার্নিকাট এ কথা বলেন।

মিয়ানমারের সহিংসতাকে জাতিগত নিধনযোগ্য, হত্যাযজ্ঞ বা গণহত্যা যে যে-নামেই ডাকুক না কেন মার্শা বার্নিকাট মনে করেন, এই পরিস্থিতি মারাত্মক, ভয়াবহ ও দুঃখজনক। এই অবস্থায় আর চুপচাপ বসে থাকার সুযোগ নেই। নিরাপত্তা পরিষদে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের কথায় তারই প্রতিধ্বনী ঘটেছে।

বার্নিকাট বলেন, ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের এ এক চরম বহিপ্রকাশ। কতটা বিপজ্জনক পরিস্থিতি, কতটা ভয়, আতঙ্ক আর হুমকিতে এত বিপুলসংখ্যক মানুষ এত সময়ে ঘর ছেড়েছে, দেশ ছেড়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এর নাম নিয়ে একেকজন একেক কথা বলবে। কিন্তু আমি বলব নিঃসন্দেহে এটা এক ভয়ানক মানবিক বিপর্যয়।’

২৫ আগস্ট থেকে মার্কিন সরকারের নানা পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে বার্নিকাট বলেন, জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে শুরু করা এ সহিংসতার দায় মিয়ানমার সরকারকেই নিতে হবে এবং তা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘সবার এ অঞ্চলের প্রতি নজর আছে, আগ্রহ আছে। চীন, ভারত, রাশিয়া তো বটেই, যুক্তরাষ্ট্র, এমনকি দূর প্রাচ্যের দেশগুলো চায় এখানে অর্থনৈতিক কার্যক্রম হোক। ব্যবসা-বাণিজ্য চলুক। কিন্তু এরকম সহিংসতা চলতে থাকলে, অস্থিতিশীলতা থাকলে সেটা সম্ভব নয়। কাজেই সবাই মিলে এর সমাধান খুঁজতে হবে। মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে একযোগে চাপ দিতে হবে, যাতে সহিংসতা বন্ধ করে এবং রোহিঙ্গাদের ফেরত নেয়।’

ওয়াশিংটন থেকে সদ্য ঘুরে আসা মার্কিন রাষ্ট্রদূত জানান, মিয়ানমারকে বিচ্ছিন্ন করার চেয়ে কূটনৈতিক সমাধানের জন্য তাদের সঙ্গে যুক্ত থাকার নীতি অনুসরণ করছে যুক্তরাষ্ট্র। আর এর মাধ্যমে সু চির প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের সেদেশে ফেরত নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন তারা।

মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন অং সান সু চিকে সরাসরি বলেছেন, এই সংকটে তার বিস্তর দায়-দায়িত্ব রয়েছে। শুধু রোহিঙ্গাদের ফেরত নেওয়া নয়, আনান কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নে ক্ষেত্রেও।’

এর আগে রোহিঙ্গা সংকটে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ব্যাখ্যা করে সাংবাদিকদের করা এক ব্রিফিংয়ে বার্নিকাট আরো বলেন, এই সংকট শুধু রোহিঙ্গাদের কিংবা বাংলাদেশের একার নয়, এটি একটি নিরাপত্তার সংকট, যা আন্তর্জাতিক রূপ নিতে পারে। রোহিঙ্গা পরিস্থিতি আগামী সপ্তাহে একটি প্রতিনিধি দল কক্সবাজার যাচ্ছেন জানিয়ে বার্নিকাট এই সংকটে বাংলাদেশের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

ইএমএমে অংশ নিতে দক্ষিণ কোরিয়ায় বাণিজ্যমন্ত্রী

এশিয়া-ইউরোপ মিটিংয়ের (আসেম) সপ্তম ইকোনমিক মিনিস্টার্স মিটিংয়ে (ইএমএম) অংশ দিতে দক্ষিণ কোরিয়া গেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলে হবে এ সভা।

বুধবার রাতে দক্ষিণ কোরিয়ার উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। দক্ষিণ কোরিয়ার ট্রেড, ইন্ডাস্ট্রি এবং এনার্জি মিনিস্টারের আমন্ত্রণে এ মিটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন তোফায়েল আহমেদ।

এশিয়া-ইউরোপ মিটিংয়ের (আসেম) সপ্তম ইকোনমিক মিনিস্টার্স মিটিংয়ে (ইএমএম) সদস্য দেশগুলোর বাণিজ্যমন্ত্রী এবং জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন। এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের বৈদেশিক বাণিজ্য সম্প্রসারণ বিষয়ে আলোচনা করবেন।

সভায় ফেসিলিটেটিং অ্যান্ড প্রোমোটিং ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট, স্ট্রেনদেনিং ইকোনমিক কানেকটিভিটি এবং সাসটেইনেবল গ্রোথ বিষয়ে আলোচনা হবে। দক্ষিণ কোরিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. জুলফিকার রহমান বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে থাকবেন।

এশিয়া এবং ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন স্থাপনের লক্ষ্যে এ দুই অঞ্চলের ২৬টি দেশের সমন্বয়ে ১৯৯৬ সালে এশিয়া ইউরোপ মিটিং (আসেম) নামক জোট গঠিত হয়। জোটটি এশিয়া এবং ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক এবং সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। বর্তমানে এ জোটের সদস্য সংখ্যা ৫৩। বাংলাদেশ ২০১২ সালে আসেমে যোগ দেয়। বর্তমানে আসেমের দেশগুলো বিশ্ব জিডিপির ৫৭ ভাগ, জনসংখ্যার ৬২ ভাগ এবং বিশ্ববাণিজ্যের ৬৪ ভাগের প্রতিনিধিত্ব করে।

আসেমের সর্বশেষ ইকোনমিক মিনিস্টার্স মিটিং (ইএমএম) হয়েছিল ২০০৫ সালে।

সমৃদ্ধির অংশীদার হতে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

বাসস:বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গতকাল আমেরিকার শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
নিউ ইয়র্কে গ্রান্ড হায়াত হোটেলে বিজনেস কাউন্সিল ফর ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারস্ট্যান্ডিং (বিসিআইইউ) আয়োজিত মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠানে তিনি এ আহ্বান জানান।
ইউটিসি অ্যাসোসিয়েটস’র সিইও আজিজ আহমেদ, ওয়ালমার্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট পল ডাইক, ওআরবিআইএস’র প্রধান উন্নয়ন কর্মকর্তা (সিডিও), গভর্নমেন্ট রিলেশনস এন্ড কমিউনিকেশনস অফিসার টেমার ইউনিস, ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব স্টেট-এর ভারপ্রাপ্ত বিশেষ প্রতিনিধি অ্যালিস জি ওয়েলস, স্কাইপাওয়ারের সিনিয়র পরিচালক মারিয়া বোরোবিয়েভা, পাওয়ারপ্যাকের রন সিকদার, এফইডিএকস-এর ডেভিড শর্ট, স্কট প্রাইস অব ওয়ালমার্ট ইন্টারন্যাশনালের জে প্রেয়র, কোকা কোলা পরিচালক মিসি ওয়েনস, শেভরন ম্যানেজার জে জে অঙ, কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স’র চৌধুরী নাফেজ শরাফত, ডেনহাম ক্যাপিটালের সৌরভ আনন্দ, ম্যালারটি অ্যাসোসিয়েটস’র রবার্ট ও ব্লেক (জেআর), ইল্লিকট ড্রিডগেজ’র পিটার বোওয়ি, মটোরোলা সলিউশনের রিচার্ড ব্রেচার, এপিআর এনার্জির জন চ্যাম্পিয়ন, উবার টেকনোলজির আশহাউনি চানপরা অন্যান্যের মধ্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আবদুল নাসের চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারী আবুল কালাম আজাদ, এফবিসিসিআই সভাপতি শফিউল ইসলাম এবং প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ মধ্যাহ্নভোজে অংশ নেন।
শীর্ষ ব্যবসায়ীদের এ সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, অভিন্ন স্বার্থ ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সময়ের পরীক্ষিত বন্ধু। যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য এবং উন্নয়নের অন্যতম অংশীদার।
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর দল ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আজ পর্যন্ত দুই দেশের সম্পর্ক বিকশিত হয়ে চলেছে। বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্র সর্বোত্তম সম্পর্ক উপভোগ করছে।
তিনি বলেন, ‘সরকার ব্যাপক আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রত্যক্ষ করছে এবং এ বিষয় আপনাদের কাছে তুলে ধরতে চাই।’
এনুয়াল পার্টনারশিপ ডায়ালগ, টিকফা (ট্রেড এন্ড ইনভেস্টমেন্ট কো-অপারেশন ফোরাম এগ্রিমেন্ট) স্বাক্ষর এবং এসব ফোরামে নিয়মিত আলোচনা হচ্ছে। নিরাপত্তা, সামরিক ও কাউন্টার টেররিজম নিয়ে আলোচনা দুই দেশের সম্পর্কের উচ্চতা নির্দেশ করে।
তিনি বলেন, সন্ত্রাসবাদ ও চরমপন্থার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র এখন আমাদের ঘনিষ্ট অংশীদার।
শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য গত বছর মোট ৭ বিলিয়ন ডলার দাঁড়িয়েছে, এতে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্ক প্রতিফলিত হয়। তবে এই সম্পর্ক সম্প্রসারণের পূর্ণ সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে কিছু ক্ষেত্রে হোচট খাওয়ায় এই সম্ভাবনা প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছানো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশী পোশাকের ওপর অত্যন্ত উচ্চ শুল্ক আরোপ।
তিনি বলেন, এলডিসিভুক্ত বেশিরভাগ দেশ বিভিন্ন অগ্রাধিকার স্কিমের আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে শুল্কমুক্ত বাজার সুবিধা পাচ্ছে। উচ্চ শুল্কের কারণে শুল্কমুক্ত সুবিধাপ্রাপ্ত এলডিসি দেশগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশ তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে।
এমনকি কিছু উন্নয়নশীল দেশ এজিওএ’র অধীনে শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে। এই ক্ষেত্রে সকল প্রতিযোগীদের সমতার সুযোগ দিতে হবে।
শেখ হাসিনা বলেন, দোহা রাউন্ডের অঙ্গীকর অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া সকল উন্নত দেশ এমনকি অনেক উন্নয়নশীল দেশ এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর জন্য শুল্কমুক্ত বাণিজ্য সুবিধা দিয়েছে।
তিনি বলেন, দারিদ্র্য নিরসন পুষ্টি, মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য, প্রাথমিক শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক অর্জন প্রশংসিত হচ্ছে। ২০০৯ সালে আমাদের সরকার ক্ষমতায় আসার পরে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ গড়ে ৬ দশমিক ২ শতাংশ হারে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রেখেছে। গত দুই বছরে এই প্রবৃদ্ধি ৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাথাপিছু আয় ৮০ শতাংশ বেড়ে ১৬০০ মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, মুদ্রাস্ফীতি ৫ দশমিক ৭ শতাংশে ধরে রেখেছে, রফতানি আয় দ্বিগুণ বেড়ে ৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে দাঁড়িয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার মজুদ দাঁড়িয়েছে ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার (যা ৮ মাসের আমদানি ব্যয়ের সমতুল্য), খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়েছে।