All posts by lutfor

আবারও হাফিজের বোলিংয়ে নিষেধাজ্ঞা

আবারও বোলিং নিষেধাজ্ঞা পেলেন পাকিস্তানের তারকা অলরাউন্ডার মোহাম্মদ হাফিজ। আইসিসির অনুমোদিত পরীক্ষাগারে পরীক্ষার পর তার বোলিং অ্যাকশনে ত্রুটি ধরা পড়েছে। ফলে এখন থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আর বোলিং করতে পারবেন না এই অফস্পিনার।

গত মাসে আবুধাবিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডের পর হাফিজের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন তুলেন আম্পায়াররা। ১৪ দিনের মধ্যে অ্যাকশন পরীক্ষার বাধ্যবোধকতা থাকায় ১ নভেম্বর ইংল্যান্ডের লাফবোরো ইউনিভার্সিটিতে পরীক্ষায় অংশ নেন পাকিস্তানী অলরাউন্ডার। স্বাধীন পর্যবেক্ষণের পর তার অ্যাকশনে ত্রুটি পাওয়া গেছে।

পরীক্ষার ফলে এসেছে, হাফিজের বেশিরভাগ ডেলিভারিতেই ১৫ ডিগ্রির বেশি কনুই ভাঙে। আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী ১৫ ডিগ্রির বেশি কনুই ভেঙে বোলিং করলে তাকে অবৈধ হিসেবে গণ্য করা হয়।

এ নিয়ে তিন বছরের মধ্যে তৃতীয়বারের মত আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং নিষেধাজ্ঞা পেলেন হাফিজ। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে একবার নিষিদ্ধ হয়েছিলেন। অ্যাকশন শুধরে ২০১৫ সালের এপ্রিলে বোলিংয়ের বৈধতা পান।

মাস কয়েক পরই আবারও হাফিজের অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠে। পরীক্ষায় ত্রুট ধরা পড়লে এক বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বোলিং নিষেধাজ্ঞা পেয়েছিলেন তিনি। এবার পেলেন তৃতীয়বারের মত।

ফেসবুক ব্যবহারে সাবধানতা, আইডি হ্যাক হলে করণীয়

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে বর্তমান ফেসবুক বহুল আলোচিত ও জনপ্রিয়। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে ফেসবুক ব্যবহারে রীতিমতো আসক্ত হয়ে পড়ছেন এর ব্যবহারকারীরা।

তবে নিরাপত্তা বিষয়ক নিয়ম কানুন ভালোভাবে না জানার ফলে ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ায় অনেককেই নানা হয়রানি ও বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন।
ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়া এক ব্যবহারকারী নোমান (ছদ্ম নাম)। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। একদিন রাত সাড়ে ১০টায় অজ্ঞাত এক নম্বর থেকে তার সেল ফোনে কল আসে। ভরাট গলায় বলা হয়, “আপনার ফেসবুক আইডিটি হ্যাক করা হয়েছে’।

এমন কথা শুনে কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থায় দ্রুত তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট সাইন ইন করতে গিয়ে দেখেন পেজ খুলছে না। তার নিজের পাসওয়ার্ডটিকে ভুল বলা হচ্ছে। তার মানে অ্যাকাউন্টটি এখন অন্যের কবজায়।

বিশ মিনিট পর হ্যাকাররা পুনরায় ফোন করে জানায়, নতুন পাসওয়ার্ড পেতে হলে তাদের বিকাশ নম্বরে ৫ হাজার টাকা পাঠাতে হবে।

হ্যাকাররা আরও বলেন, ‘এই নম্বরে বিকাশের মাধ্যমে দাবিকৃত টাকা না পাঠানো হলে ওই অ্যাকাউন্ট থেকে আজে-বাজে স্ট্যাটাস দেয়া হবে। ‘
তবুও নোমান হ্যাকারদের টাকা দাবির বিষয়ে কোনো কর্ণপাত করেননি। এর কিছুদিন পর করিম নামে এক ব্যক্তি থানায় অভিযোগ করেন নোমান নামে এক ফেসবুক আইডি থেকে তার কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। ওই টাকা পাঠানোর জন্য একটি বিকাশ নম্বরও দেয়া হয়েছে। ওই ব্যক্তির অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ ওই আইডির তথ্য ব্যবহার করে নোমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। তখন নোমান পুরো ঘটনা পুলিশকে বলে। পাশাপাশি পুলিশ বিকাশ নম্বর ব্যবহারকারীকেও গ্রেফতার করে।

সুতরাং যে কোনো সময় যে কেউ হতে পারেন নোমান অথবা করিমের মতো এমন বিড়ম্বনার শিকার। তাই ফেসবুক ব্যবহারে সচেতনতা জরুরি। পাঠকদের জন্য নিরাপদ ফেসবুক ব্যবহারে কিছু করণীয় আলোচনা করা হলো :

১। পাসওয়ার্ড রক্ষা করতে হবে : কখনও পাসওয়ার্ড কারো সাথে শেয়ার করা যাবে না। এমন পাসওয়ার্ড নির্বাচন করুন যা অনুমান করা কঠিন। কখনই নিজের নাম বা সাধারণ শব্দ পাসওয়ার্ড এ ব্যবহার করা উচিত না।

ফেসবুক পাসওয়ার্ডটি শুধু মাত্র ফেসবুকের জন্য ব্যবহার করা উচিত। অন্য কোনো সিকিউরিটির ক্ষেত্রে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে তা প্রকাশ পাওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায়।

২। অন্য কেউ যেন আপনার ফেসবুক একাউন্টে লগ ইন করতে না পারে তাই অতিরিক্ত নিরাপত্তা (Login Approvals) ব্যবহার করতে পারেন।

এই জন্য ফেসবুকের Two step verification পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন।

৩। ই-মেইল অ্যাকাউন্ট নিরাপদ রাখতে হবে।

৪। ব্যবহার শেষে ফেসবুক একাউন্ট থেকে অবশ্যই লগ আউট করতে হবে।

৫। নিউজ ফিডে অথবা মেসেঞ্জারে সন্দেহজনক কোনো লিঙ্ক দেখলে সাথে সাথে রিমুভ করে দিতে হবে। নিশ্চিত না হয়ে যেকোনো গেম, অ্যাপ্লিকেশন এবং অন্যদের পাঠানো কোনো লিঙ্কে ক্লিক করা উচিত না।

৬। ফেসবুক অ্যাকাউন্টে বিকল্প ই-মেইল আইডি যুক্ত করুন। যদি আপনার প্রোফাইল কোনো কারণে হ্যাকও হয়ে যায় সেক্ষেত্রে ফেসবুক আপনার দ্বিতীয় ই-মেইলে আপনার অ্যাকাউন্ট পুনরুদ্ধারের জন্য তথ্য পাঠাবে।

৭। অপরিচিত কারোর ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট গ্রহণ করার আগে তার প্রোফাইল চেক করে নিতে হবে।

৮। একেবারে ব্যক্তিগত কোনো ছবি, তথ্য (ফোন নম্বর, ঠিকানা, ই-মেইল এড্রেস ইত্যাদি) ফেসবুকে শেয়ার করা উচিত না।

৯। আপনার পোস্ট কারা দেখতে পারবে তা সতর্কভাবে নির্বাচন করতে হবে।

১০। পাবলিক কম্পিউটারে (সাইবার ক্যাফে, ল্যাব ইত্যাদি) ফেসবুক ব্যবহার না করাই ভাল। তবে ব্যবহার করতে হলে ব্যবহারের পর লগ ইন হিস্টোরি মুছে দিতে হবে।

ভূক্তভোগীর করণীয় :

১। ফেসবুক হ্যাকের মাধ্যমে হয়রানি কিংবা বিড়ম্বনার শিকার হলে কালক্ষেপণ না করে নিকটস্থ থানা পুলিশকে অবহিত করুন এবং জিডি অথবা মামলা করুন।

২। পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইউনিটে অভিযোগ করুন।

৩। `HELLO CT’ এ্যান্ড্রয়েড অ্যাপস ডাউনলোড করে এর মাধ্যমে অভিযোগ করুন।

সূত্র : ডিএমপি নিউজ।

জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম বাড়ছেই

জীবন রক্ষাকারী ওষুধের দাম শুধু বাড়ছেই। ওষুধ কিনতে গেলে সাধারণ মানুষের নাভিশ^াস অবস্থা। দাম বৃদ্ধির লাগাম টেনে ধরার ক্ষমতা ওষুধ প্রশাসনের নেই। অন্য দিকে ওষুধের দাম বেড়েছে এমন অভিযোগ ওষুধ কোম্পানিগুলোর সংগঠন বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতি স্বীকার করে না। তবে ওষুধ উৎপাদন ও বিপণন বিষয়ে ওয়াকিফহাল ব্যক্তিরা বলছেন, সংশোধিত ওষুধ নীতিই ওষুধের দাম বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ১৯৮২ সালের ওষুধ নীতিতে পরিবর্তন না হলে এত ঘন ঘন এবং অযৌক্তিকভাবে ওষুধ কোম্পানিগুলো ওষুধের দাম বাড়াতে পারত না।
ওষুধের দাম বৃদ্ধিতে বাংলাদেশের প্রায় সব কোম্পানির মধ্যে একটি মতৈক্য আছে বলে অভিযোগ রয়েছে। একটি কোম্পানি কোনো ওষুধের দাম বাড়ালে অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই অন্যান্য কোম্পানি দাম বাড়িয়ে নেয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একটি কোম্পানির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, অন্যান্য কোম্পানির ওষুধের দাম বাড়ালে আমার কোম্পানির ওষুধের দামও বাড়াতে হয়। দাম কমিয়ে বিক্রি করলে অন্যদের চাপে থাকতে হয়। আবার ক্রেতারা মনে করেন কম দামি ওষুধ নি¤œমানের (সাবস্ট্যান্ডার্ড)। সে জন্য ক্রেতারা কিনতে চায় না। তিনি বলেন, সব সময় যে দাম বাড়াতে হয় এমন নয়, না বাড়ালেও চলে। এ প্রসঙ্গে তিনি দাম বাড়ানোর আরেকটি যুক্তি তুলে ধরে বলেন, ‘দাম বাড়ালে কিছু বাড়তি মুনাফা হয়ে থাকে। এ ছাড়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি, টাকার তুলনায় ডলারের দাম বৃদ্ধি, প্যাকেজিং ও প্রিন্টিংয়ের দাম বৃদ্ধিজনিত কারণে ওষুধের দাম বাড়াতে হয়। লোকসান দিয়েতো আর ব্যবসায় করা যায় না।’
ওষুধের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ওষুধ প্রশাসন অধিদফতরের পরিচালক মো: রুহুল আমিন জানান, ওষুধের দাম বৃদ্ধির বিষয়ে ওষুধ প্রশাসনের কিছু করার নেই। নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ কোম্পানি দাম প্রস্তাব করে আমরা তাদের কাগজপত্র দেখে শুধু অনুমোদন করে দিই। তবে ১১৭টি ‘অ্যাসেনশিয়াল’ ওষুধের দাম আমরা নির্ধারণ করে দিই, এসবের দাম বাড়েনি।

বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম শফিউজ্জামান জানান, তার জানা মতে কিছু দিনের মধ্যে কোনো ওষুধের দাম বাড়েনি। যেটুকু বেড়েছে এটা খুবই নগণ্য এবং এটা বাড়ানো ছাড়া ওষুধ কোম্পানির কোনো গত্যন্তর ছিল না। ইতোমধ্যে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বেড়েছে। ওষুধ কোম্পানিতে ‘হোয়াইট কালার প্রফেশনালরা’ কাজ করেন। সঙ্গত কারণে তাদের বেতন বাড়াতে হয়েছে। খরচ বাড়লে তা দাম বাড়িয়েই তুলতে হয়, কোম্পানিকে টিকে থাকতে হলে এটা করতেই হবে।

গণস্বাস্থ্য ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ডা: জাফরুল্লাহ চৌধুরী ওষুধের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে বলেন, ১৯৮২ সালে যে ওষুধ নীতি প্রণয়ন করা হয়েছিল সেখানে ওষুধ কোম্পানি ইচ্ছা মতো দাম বৃদ্ধি করতে পারত না। এখনতো ওষুধ কোম্পানিকে কিছু (১১৭টি অ্যাসেনশিয়াল ওষুধ) ছাড়া অন্যান্য ওষুধের দাম নির্ধারণের সুযোগ দেয়া হয়েছে। ফলে তারা ইচ্ছামতো দাম বাড়িয়ে নিচ্ছে। ১৯৮২ সালের ওষুধ নীতিতে সরকার দাম নির্ধারণ করত। সেখানে একটি ওষুধ উৎপাদন করতে যত ধরনের খরচ হতো এর থেকে ১০০ শতাংশ বেশি যোগ করে দাম নির্ধারণ করা হতো। তিনি বলেন, অর্থাৎ ১৯৮২ সালের ওষুধ নীতিতে প্রত্যেকটি ওষুধের মূল্য সব ধরনের খরচ বাদ দিয়ে ১০০ শতাংশ মুনাফা দিয়ে নির্ধারণ করা হতো। সে নিয়মটি এখন নেই, বাদ দেয়া হয়েছে। ফলে এখন ওষুধ কোম্পানি ইচ্ছা মতো ওষুধের দাম ঠিক করে আর ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর তা অনুমোদন করে দেয়। তিনি বলেন, এতে বোঝা যায় এখন প্রতিটি ওষুধে যাবতীয় খরচের পরে ১০০ শতাংশের বেশি মুনাফা করে।

দাম বাড়ার ব্যাপারে একটি ওষুধ কোম্পানির কর্ণধার নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে আমরা বিদেশে ওষুধ রফতানি করি। রফতানির কারণে অনেক ওষুধের দাম বাড়াতে হয়েছে। ধরুন বাংলাদেশে কোনো ওষুধের দাম এক টাকা। এই ওষুধটা বিদেশে বিক্রি করলে আমরা কি ২০ টাকা দাম ধরতে পারব? বরং এ দেশের ১০ টাকার ওষুধটিই বিদেশে ১৫ টাকা অথবা ২০ টাকা দাম ধরে বিক্রি করতে পারব। তিনি জানান, ওষুধ কোম্পানি হয়তো কিছু মুনাফা করছে কিন্তু তারা ওষুধ বিক্রি করে দেশে ডলার আনছে। সামনের দিনগুলোতে বিলিয়ন ডলার রফতানি করবে ওষুধ কোম্পানিগুলো। এটা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখবে।

ঢাকার খুচরা ওষুধের দোকান পর্যবেক্ষণ করে বেশ কিছু ওষুধের দাম বৃদ্ধি হয়েছে বলে জানিয়েছেন ওষুধ বিক্রেতারা। তাদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, দাম বেড়েছে ইনসুলিনের, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধের, থাইরয়েডের ওষুধ, ব্যথা-বেদনা উপসমের ওষুধ, কফ সিরাপ, হাঁপানির ওষুধ ও ইনহেলারের, ক্যালসিয়াম, গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ, ক্যাফেইনযুক্ত প্যারাসিটামল, গোল্ড ভিটামিন, অ্যান্টিবায়োটিক, ব্রেইন স্টিমোলেটিং ওষুধের।

সব কোম্পানির উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধের দাম বেড়েছে কমপক্ষে দুই থেকে তিন টাকা। বর্তমানে উচ্চ রক্তচাপের প্রতিটি ট্যাবলেটের দাম আট টাকা। ৩০ ট্যাবলেটের গোল্ড ভিটামিন বিক্রি হচ্ছে ২১০ টাকায়। এর আগের দাম ছিল ১৮০ টাকা। ডায়বেটিসের মুখে খাওয়ার (টাইপ-২ ডায়াবেটিস ম্যানেজমেন্ট) ওষুধ কিছু দিন আগেও ৩০ থেকে ৬০ টাকায় এক পাতা পাওয়া যেত। এখন এগুলো কিনতে হচ্ছে ৪০ টাকা থেকে ৮০ টাকায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরো বেশি দামে। বিদেশী ইনসুলিন বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকায়। দেশী ইনসুলিন বিক্রি হচ্ছে ৪০০ টাকায়। দেশী ইনসুলিনের অবশ্য দাম বাড়েনি। থাইরয়েডের ট্যাবলেট দুই বছর আগে কেনা যেত প্রতিটি এক টাকায়। এখন কিনতে হয় দুই টাকায়। প্রতিটি ইনহেলার (স্টেরয়েডযুক্ত) ১০০ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয়।

গ্যাস্ট্রিকের ওমিপ্রাজল বা ইসোমিপ্রজাল ইত্যাদি প্রতিটি ট্যাবলেট অথবা ক্যাপস্যুল এক টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হয়। দেড় টাকার রেনিটিডিন এখন কিনতে হয় আড়াই টাকায়। ২৩ টাকার কফ সিরাপ এখন কিনতে হয় ৪৫ টাকায়।

অ্যান্টিসেপটিক ও ডিসইনফেকট্যান্ট মলম কিছু দিন আগে ২৫ টাকায় পাওয়া যেত। এখন কিনতে হচ্ছে ৪০ টাকা অথবা এর চেয়ে বেশি দামে। ৩২ টাকার গ্যাস্ট্রিকের সাসপেনশন এখন ৬০ টাকার বেশি দামে কিনতে হয়। ভিটামিন-ডি যুক্ত চার টাকার ক্যালসিয়াম এখন কিনতে হয় সাত থেকে আট টাকায়। ২৫ টাকা সেফিক্সিম এখন কিনতে হয় ৩৫ টাকায়। ৩০ টাকার এজিথ্রোমাইসিন এখন কিনতে হয় ৩৫ টাকায়। ১২ টাকা সিপ্রোফ্লোক্সাসিন এখন কিনতে হয় ১৫ টাকায়। ক্যাফেইনযুক্ত প্যারাসিটামলের প্রতিটি ট্যাবলেটের দাম এখন আড়াই টাকা। এটা কিছু দিন আগেও পাওয়া যেত দুই টাকায়। এ ছাড়া দাম বেড়েছে খাবার স্যালাইনের, বিভিন্ন ধরনের নাক অথবা চোখের ড্রপের।

ওষুধের দাম বৃদ্ধিতে উদ্বিগ্ন ভোক্তারা। তারা এখন মিডিয়ার কাছে জানতে চান কেন ওষুধের দাম বেড়েছে অথবা বাড়ছে। প্রতিদিনই পাঠক জানতে চাচ্ছেন কেন দাম বাড়ছে? তাদের প্রশ্ন কি এমন হলো যে কয়েক বছর ধরে অস্বাভাবিক হারে দাম বেড়ে চলছে?

নারায়ণগঞ্জে শুল্ক ফাঁকির অভিযোগে গ্রেপ্তার ২

সরকারের শল্ক ফাঁকি দিয়ে বিদেশ থেকে অবৈধভাবে সূতা আমদানি করে বিক্রি করার অভিযোগে নারায়ণগঞ্জে দুই ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দশ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তাররা হলেন- মো. জহিরুল ইসলাম ও মো. তুহিন।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারদের হেফাজত থেকে ১১৩ কার্টুন সুতা জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার গভীর রাতে থানাপুকুর পাড় হারুন কমপ্লেক্সের তৃতীয় তলা থেকে তাদের আটক করা হয়।

বৃহস্পতিবার সদর মডেল থানা পুলিশের এএসআই মো. সামসুজ্জামান বাদী হয়ে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন।

পরে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাদের আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ।

এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন অভিযানের নেতৃত্বে থাকা সদর মডেল থানা পুলিশের এসআই পিন্টু সরকার।

এবার বাণিজ্যিক বিমান তৈরি করবে পাকিস্তান

অভ্যন্তরীণ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিক্রির জন্য শিগগিরই বাণিজ্যিক বিমান তৈরির প্রকল্প হাতে নেবে পাকিস্তান। এই তথ্য দিয়েছেন পাকিস্তান এরিনটিকাল কমপ্লেক্সের (পিএসি) সিনিয়ার একজন কর্মকর্তা। খালিজ টাইমসের সাথে সাক্ষাৎকারে এয়ার মার্শাল আহমার শাহজাদ বলেন, ১০ থেকে ৩০টি আসন বিশিষ্ট বাণিজ্যিক বিমান তৈরির কথা চিন্তা করছে পিএসি।
তিনি বলেন, ‘চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোরের বিষয়টি মাথায় রেখেই আমাদের নিজেদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরো সক্রিয় করতে হবে। এতে করে আমাদের অভ্যন্তরীণ পথে বিমানের চলাচল বাড়াতে হবে। এ চাহিদা পূরণ করতে দ্রুত এ ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি আমরা আন্তর্জাতিক বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও মধ্য এশিয়ার বাজারের এ ধরনের বিমানের চাহিদাও পূরণ করার দিকে দৃষ্টি দেবো।

বিমানবাহিনীর এই কর্মকর্তা বর্তমানে ‘দুবাই এয়ারশো ২০১৭-তে অংশ নেয়ার জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন। ওই শোতে পাকিস্তান নিজস্ব পেভিলিয়নে তাদের তৈরি সুপার মুশকাকা এবং জেএফ-১৭ থান্ডারসহ উন্নত প্রযুক্তির বিভিন্ন বিমান প্রদর্শন করছে। পাকিস্তান দুবাইয়ের বিমান শোতে নিয়মিত অংশ নিয়ে থাকে।

প্রতিযোগিতামূলক বাজারে বাণিজ্যিক বিমান তৈরির কোনো পরিকল্পনা আছে কিনা প্রশ্ন করা হলে শাহজাদ বলেন, তাদের দেশে বাণিজ্যিক বিমান নির্মাণের কাজ শিগগিরই শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা সুপার মুশকাকা তৈরি করেছি এবং এটি বাজারে বেশ প্রতিযোগিতা করে বিক্রি হচ্ছে। যদি আমরা বাণিজ্যিক বিমান বানাই এবং এটা টেকসহ হবে এমন নিশ্চয়তা দিতে পারি, তাহলে এটা অবশ্যই আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হবে।’
পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা
ডন
পাকিস্তানের অর্থমন্ত্রী ইসহাক দারের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন দেশটির একটি দুর্নীতিবিরোধী আদালত। দেশটির বর্ষীয়ান এই রাজনীতিক কয়েক দফায় আদালতে শুনানিতে হাজিরা না দেয়ায় মঙ্গলবার এই পরোয়ানা জারি করা হয়। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে পাকিস্তান যখন বাড়তি এক শ’ কোটি ডলার ঋণ নেয়ার চেষ্টা করছে, তখন এই পরোয়ানা জারি করা হলো। ধারণা করা হচ্ছে, দেশটির সরকারের এই প্রচেষ্টায় অর্থমন্ত্রীর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানার প্রভাব পড়তে পারে।
ইসহাক দারের বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতিবিরোধী সংস্থা ন্যাশনাল অ্যাকাউন্টিবিলিটি ব্যুরোর (ন্যাব) আদালতে শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। আদালতের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ক্রমাগত অনুপস্থিতির কারণে বিচারক মোহাম্মদ বশির এই পরোয়না জারি করেন। টানা তিন সপ্তাহ শুনানিতে আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন দার। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন দার। তিনি এখন চিকিৎসার জন্য লন্ডনে রয়েছেন। পাকিস্তানে ফিরলেই তাকে গ্রেফতার করা হতে পারে। এ দিকে আগামী ২১ নভেম্বর পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। দার পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের ঘনিষ্ঠজন বলে পরিচিত। দারের ছেলের সঙ্গে নওয়াজ শরিফের মেয়ের বিয়ে হয়েছে

আপিলের বিচারপতিদের সঙ্গে বৈঠকে আইনমন্ত্রী

নিম্ন আদালতে বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাবিধি গেজেট আকারে প্রকাশের বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আবদুল ওয়াহহাব মিঞাসহ আপিল বিভাগের বিচারপতিদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

রাজধানী কাকরাইলের জাজেস কমপ্লেক্সে বৃহস্পতিবার রাত সোয়া আটটায় বৈঠকটি শুরু হয়েছে।

গত ৫ নভেম্বরের শুনানিতে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম চাকরির শৃঙ্খলাবিধি গেজেট আকারে প্রকাশে চার সপ্তাহের সময় আবেদন করেন। ওই আবেদনের শুনানি নিয়ে আগামী ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দেয় আপিল বিভাগ। এর আগে গত ৮ অক্টোবর আদালত গেজেট প্রকাশে ৫ নভেম্বর পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেন। তার আগে একই বিষয়ে বহুবার সরকারকে সময় দেয় আদালত। তবে সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিবারই আরও সময় চেয়ে বারবার আবেদন করা হয়।

১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর ২০১৫ সালের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় শৃঙ্খলাসংক্রান্ত একটি খসড়া বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়। কিন্তু গত বছরের ২৮ আগস্ট আপিল বিভাগ খসড়ার বিষয়ে বলেন, শৃঙ্খলা বিধিমালাসংক্রান্ত সরকারের খসড়াটি ছিল ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী বিধিমালার অনুরূপ, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী।

এরপর সুপ্রিম কোর্ট একটি খসড়া বিধিমালা করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। একই সঙ্গে গত বছরের ৬ নভেম্বর মধ্যে খসড়া বিধিমালা প্রণয়ন করে প্রতিবেদন আকারে আদালতকে জানাতে আইন মন্ত্রণালয়কে বলা হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপক্ষ থেকে খসড়া বিধিমালা প্রকাশের জন্য বারবার সময় নেয়া হয়।

আদালত সূত্র জানায়, ১৯৯৯ সালের ২ ডিসেম্বর মাসদার হোসেন মামলায় ১২ দফা নির্দেশনা দিয়ে রায় দেয়া হয়। ওই রায়ের আলোকে নিম্ন আদালতের বিচারকদের চাকরির শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধিমালা প্রণয়নের নির্দেশনা ছিল। আপিল বিভাগের নির্দেশনার পর গত বছরের ৭ মে আইন মন্ত্রণালয় একটি খসড়া শৃঙ্খলাসংক্রান্ত বিধি প্রস্তুত করে সুপ্রিম কোর্টে পাঠায়।

গত বছরের ২৮ আগস্ট এই মামলার শুনানিতে আপিল বিভাগ জানান, শৃঙ্খলা বিধিমালা সংক্রান্ত সরকারের খসড়াটি ছিল ১৯৮৫ সালের সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার হুবহু অনুরূপ, যা মাসদার হোসেন মামলার রায়ের পরিপন্থী। এরপরই সুপ্রিম কোর্ট একটি খসড়া বিধিমালা করে আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। একইসঙ্গে ওই বছরের ৬ নভেম্বরের মধ্যে তা প্রণয়ন করে প্রতিবেদন আকারে আদালতকে অবহিত করতে আইন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়।

বিচার বিভাগের স্বাধীনতার নয় বছর পূর্তি উপলক্ষে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা গত বছরের ৩১ অক্টোবর এক বাণীতে বিচার বিভাগে দ্বৈত শাসন চলছে বরে উল্লেখ করেছেন। বাণীতে তিনি বলেন, সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদে অধঃস্তন সব আদালত ও ট্রাইব্যুনালের ওপর হাইকোর্টের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ থাকবে বলা হয়েছে। কিন্তু ১১৬ অনুচ্ছেদে যে বিধান দেয়া হয়েছে তা বিচার বিভাগের ধীরগতির অন্যতম কারণ।

এই অনুচ্ছেদ অনুসারে অধঃস্তন আদালতের বিচারকদের পদোন্নতি, বদলি এবং শৃঙ্খলামূলক কার্যক্রম সুপ্রিম কোর্টের পক্ষে এককভাবে গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দ্বৈত শাসনের ফলে বহু জেলায় শূন্য পদে সময়মত বিচারক নিয়োগ দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে বিচার কাজে বিঘ্ন ঘটে এবং বিচারপ্রার্থী জনগণের ভোগান্তি বেড়ে যায়। ১১৬ অনুচ্ছেদ পুন:প্রতিষ্ঠার জন্য তিনি বাণীতে উল্লেখ করেন।

দুর্নীতি হয়নি, অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা: খালেদা

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কোনো দুর্নীতি হয়নি বলে দাবি করেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। তাঁর বিরুদ্ধে সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। রাজনীতিতে সক্রিয় থাকার কারণে ক্ষমতাসীনরা তাঁকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে এসব মামলায় জড়িয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

বৃহস্পতিবার জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আত্মপক্ষ সমর্থন করে দেয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বেলা ১১টা ৫০ মিনিটে খালেদা জিয়া পঞ্চম দিনের মতো আত্মপক্ষ সমর্থন করে বক্তব্য শুরু করেন।

২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলাটি করে দুদক। এতিমদের সহায়তা করার উদ্দেশ্যে একটি বিদেশি ব্যাংক থেকে আসা দুই কোটি ১০ লাখ ৭১ হাজার ৬৭১ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ এনে মামলাটি করা হয়।

খালেদা বলেন, ‘জিয়া অরফানেজের অর্থ সংগ্রহে আইনের কোনো ব্যতয় ঘটেনি। ট্রাস্টের কোনো পদে আমি ছিলাম না। অনুদান সংগ্রহ ও বিতরণের সঙ্গেও আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বাগেরহাটে অনুদানের টাকায় ট্রাস্টের মাধ্যমে এতিমখানা সুচারুভাবে পরিচালিত হচ্ছে। কোনো অভিযোগ সত্য নয়।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘মামলার সাক্ষ্য প্রমাণ থেকে জানা গেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট বগুড়ায় জমি কিনে। এই জমি কেনা নিয়ে কোনো রকম অভিযোগ নেই। এই ট্রাস্টের বাকি টাকা ব্যাংকে গচ্ছিত রয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘দেশের ট্রাস্ট আইনে পরিচালিত কেউ সরকারি কর্মকর্তা না, আইনের লঙ্ঘন করা হলে ট্রাস্ট আইনে মামলা হতে পারে। কিন্তু দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা করল। অভিযোগ ভিত্তিহীন। রাজনৈতিক কারণে মামলা চলছে। দায়ের করা মামলাগুলোর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।’

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘রাজনীতিতে সক্রিয় বলেই ক্ষমতাসীনরা আমাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে এসব মামলা দায়ের করা হয়েছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা দুর্নীতি মামলা তুলে নেয়া হয়েছে। অথচ অসত্য কথা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালিয়েও তারা ( সরকার) আমাদের জনগণ থেকে ব্যর্থ হয়ে এসব মামলার আশ্রয় নিয়েছে। জনগণের সামনে হেয় করার জন্যই এসব মামলা করা হয়েছে।’

খালেদা বলেন, ‘তাদের উদ্দেশ্য সফল হয়নি। বরং এসব করে সরকার জনগণের কাছে হেয় হচ্ছে। জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এদেশের মানুষ অনেক সচেতন এবং তারা সত্য ও মিথ্যার ফারাক সহজে বুঝতে পারে। তাই আমাদেরকে যত বেশি মামলায় জর্জরিত করা হচ্ছে তত বেশি দেশবাসীর সহানুভূতি ও সমর্থন পাচ্ছি। জনগণ আরও বেশি করে সঙ্গে সম্পৃক্ত হচ্ছে। সে কারণেই আমরা অসত্য ও যুক্তিহীন অভিযোগে দায়ের করা মামলা মোকাদ্দমায় মোটেই ভীত নই।’

সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের আশঙ্কার কারণ অন্য জায়গায়। সেটা হচ্ছে, অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ও ন্যাক্কারজনকভাবে ন্যায়বিচারের সুযোগ বিলুপ্ত করা হয়েছে। শাসক মহল এসব অসৎ উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য কারসাজির আশ্রয় গ্রহণ করেছে। বিচার বিভাগককে সম্পূর্ণ আতঙ্কগ্রস্ত করা হয়েছে।’

অধস্তন আদালত আইন মন্ত্রণালয়ের প্রভাবমুক্ত হয়নি দাবি করে তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি ন্যাক্কারজনক ঘটনায় আদালতের ওপর শাসক মহলের কর্তৃত্ব আরও বেড়েছে। ন্যায়বিচারের সুযোগ আরও সীমিত হয়েছে। জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার শেষ আশ্রয়স্থল সুপ্রিম কোর্টে ন্যাক্কারজনক ও নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে।’

খালেদা বলেন, ‘সংবাদ মাধ্যমের কোনো স্বাধীনতা নেই। গণমাধ্যম স্বাধীনভাবে সংবাদ প্রচার করতে পারছে না। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করার কারণেই এসকে সিনহা সরকারের রোষানলে পড়েন।’

বিচারকের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনি দেখেছেন প্রধান বিচারপতিকে কী ধরনের পরিণতির শিকার হতে হয়েছে, তা সবাই জানে। এসকে সিনহাকে তার পদ থেকে সরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রায় বাতিল করার পর থেকেই ক্ষমতাসীনদের অপতৎপরতা শুরু হয়। শাসক মহল তাদের ক্ষোভ চেপে রাখতে পারেনি। তারা প্রকাশ্যে প্রধান বিচাপতিকে হুমকি ও আক্রমণাত্মক আচরণ করতে শুরু করে। ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে রায় দেয়ার অপরাধে তাকে চলে যেতে বলা হয়।’

খালেদা বলেন, ‘সিনহা আত্মপক্ষ সমর্থন করে ব্যাখ্যা দিয়েও ক্ষমতাসীনদের ক্ষোভ কমাতে পারেননি। তাকে তার বাসভবনে কয়েক দিন অন্তরীণ ও বিচ্ছিন্ন অবস্থায় কাটাতে হয়। এরপর সরকারের তরফ থেকে ঘোষণা করা হয় এসকে সিনহা অসুস্থ। পরে তাকে বিদেশে পাঠানো হয়।’

মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করেছেন ভাসানী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে বলেছেন, বাঙালি জাতিসত্তা বিকাশে ভাসানীর গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে।

আজ ১৭ নভেম্বর মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর ৪১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী তার স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, মেহনতি মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় মওলানা ভাসানী আজীবন কাজ করেছেন। পাকিস্তানি ঔপনিবেশিক শাসকদের অত্যাচার ও নিপীড়নের বিরুদ্ধে তিনি ছিলেন উচ্চকণ্ঠ।

শোষণ ও বঞ্চনাহীন এবং প্রগতিশীল, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গঠনের জন্য ভাসানী আজীবন সংগ্রাম করে গেছেন উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে তার আদর্শিক ঐক্য ও রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা ছিল। প্রধানমন্ত্রী মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

পিস্তল বের করে যুবককে গুলি, আ. লীগ নেতা আটক

চট্টগ্রামে এক যুবককে গুলি করার ঘটনায় উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য মঞ্জুরুল আলম মঞ্জুকে আটক করেছে পুলিশ।

চট্টগ্রামের এমএ আজিজ স্টেডিয়াম সংলগ্ন অফিসার্স ক্লাবে শনিবার রাতে ওই গুলির ঘটনা ঘটে বলে কোতোয়ালি থানার ওসি জসীম উদ্দিন জানান।

চট্টগ্রাম জেলা সড়ক পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি মঞ্জু ঠিকাদারি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এক সময় তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। যুবলীগের কেন্দ্রীয় সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

গুলিবিদ্ধ যুবক মো. জয়নাল আনোয়ারা উপজেলা থেকে নির্বাচিত চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের সদস্য মো. আলমগীরের ছোট ভাই বলে জানান ওসি।

জয়নাল বলেন, রাতে অফিসার্স ক্লাবে তাদের কথা কাটাকাটি হয়। পরে মঞ্জু পিস্তল বের করে জয়নালের পায়ে গুলি করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে আহত জয়নালকে উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। আর মঞ্জুকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।

ওই পিস্তলের লাইসেন্স রয়েছে বলে মঞ্জু তাদের জানিয়েছেন ওসি।তবে কী নিয়ে জয়নালের সঙ্গে মঞ্জুর বিরোধ তৈরি হয়েছিল, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি এই পুলিশ কর্মকর্তা।

ওসি জানান, গুলির ঘটনায় রোববার বেলা ১২টা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।

‘রাজধানীতে আগামী মৌসুমে জলাবদ্ধতা থাকবে না’

আগামী মৌসুম থেকে রাজধানীতে আর জলাবদ্ধতা থাকবে না বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

রোববার রাজধানীতে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, রাজধানীতে জলাবদ্ধতা নিরসনে দুই সিটি করপোরেশনকে ওয়াসার সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গত কয়েক দিনের প্রবল বর্ষণে জলাবদ্ধতা দেখা দেয় রাজধানীতে। ফলে জলাবদ্ধতা নতুন করে আলোচনার বিষয়বস্তু হয়েছে।