All posts by lutfor

ঐতিহ্যের দেশ উজবেকিস্তান

হাজার বছরের ইতিহাস আর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যসমৃদ্ধ উজবেকিস্তান পর্যটকদের কাছে এক আকর্ষণীয় দেশ। ইতিহাসখ্যাত যোদ্ধা ও শাসক তৈমুর লং, হজরত ইমাম বুখারি, হজরত বাহাউদ্দিন নকশাবন্দীসহ অনেক জ্ঞানী ও গুণিজনের মাজার রয়েছে দেশটিতে। অসংখ্য প্রচীন মসজিদ, মাদ্রাসা, দুর্গ ও বৌদ্ধ ধর্মের নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে দেশজুড়ে। পুরো দেশ ঘুরে বেড়ানোর পর মনে হবে এ যেন এক ঐশ্বর্যমণ্ডিত ঐতিহ্যের দেশ। উদাহরণ টানলেই ব্যাপারটি পরিষ্কার হবে। তাজমহলের কথাই ধরুন। আপনি যদি আগ্রার তাজমহল দেখে থাকেন তবে উজবেকিস্তানের হাজার বছরের পুরনো মিনার, প্রাসাদ ও মসজিদের সঙ্গে এর নির্মাণশৈলীর মিল খুঁজে পাবেন। চোখ জুড়িয়ে যাবে উজবেকিস্তানের হাজার বছরের ইতিহাস আর সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দেখে।

শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বিভিন্ন জাতি গোষ্ঠীর অধীনে থেকে অবশেষে ১৯৯১ সালে স্বধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করে উজবেকিস্তান। এরপর কর্তৃপক্ষ মনোযোগী হন দেশগড়ার কাজে। পর্যটন খাতকে দেয়া হয় অগ্রাধিকার। ধীরে ধীরে সেজে ওঠে পুরো দেশ। উজবেকিস্তানের উষ্ণ মরুভূমির তপ্ত বালির ছোঁয়া আর বরাফাচ্ছাদিত পর্বতের চূড়ায় আরোহণের যেমন সুযোগ রয়েছে, তেমনি এখানে রয়েছে বিশ্বমানের পাঁচতারা হোটেল ও অসংখ্য রিসোর্ট। কয়েক বছর ধরে এশিয়া, ইউরোপ ও আমেরিকার লাখ লাখ পর্যটক ভিড় করছেন উজবেকিস্তানে। চলুন জেনে নেই সেখানের কয়েকটি বিখ্যাত শহর ও নিদর্শনের কথা।  তাসখন্দ : উজবেকিস্তানের রাজধানী তাসখন্দ। প্রখ্যাত ঐতিহাসিক আল বেরুনি এবং মকসুদ কাসগরির মতে, সপ্তম থেকে দ্বাদশ শতাব্দীতে তাসখন্দ হয়ে উঠেছিল  পৃথিবীর অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ শহর। আধুনিক মেট্রোপলিটন শহর তাসখন্দ। প্রাচীন ঐতিহ্য আর আধুনিকতা এবং পূর্ব-পশ্চিমের সেতুবন্ধ হিসেবে তাসখন্দ গুরুত্বপূর্ণ শহর। প্রাচীন সভ্যতার নির্দশন হিসেবে এখানে রয়েছে অসংখ্য মাজার, মসজিদ আর সমাধি। এখানে রয়েছে পৃথিবীর প্রথম দিকের চারটি হাতে লেখা কোরান শরিফের একটি। যা দেখে অবশ্যই আপনি অভিভূত হনে। নগরীজুড়ে রয়েছে অসংখ্য রেস্টুরেন্ট, যেখানে মিলবে এতিহ্যবাহী উজবেক রুটি আর জিভে পানি আনা বিভিন্ন স্বাদের কাবাব। দিনের ভ্রমণ শেষে বসে পড়ুন যে কোনো একটি সরাইখানায়, উপভোগ করুন উজবেক খাবার আর সেইসঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ব্যালে নৃত্য।

বিশ্ব চলচ্চিত্রেও পিছিয়ে ছিল না উজবেকিস্তান। নব্বই দশক পর্যন্ত তাসখন্দ চলচ্চিত্র উৎসব ছিল মর্যাদাপূর্ণ একটি অনুষ্ঠান।
সমরখন্দ : এটি উজবেকিস্তানের দ্বিতীয় বৃহত্তম নগরী। ঐতিহাসিকদের মতে সমরখন্দ রোম, এথেন্স আর ব্যাবিলনের মতোই দুই থেকে আড়াই হাজার বছরের পুরনো সমৃদ্ধ জনপদ। এ নগরীর ইতিহাসের সঙ্গে জড়িত আছে দার্শনিক, কবি, বিজ্ঞানী আর যোদ্ধার নাম। নগরীর সৌন্দর্য আর ঐতিহাসিক নিদর্শন পর্যটকদের সবচেয়ে বেশি আকর্ষণ করে। আলেকজেন্ডার দ্য গ্রেট সমরখন্দে এসে বলেছিলেন, ‘এ নগরী সম্পর্কে আগে যা শুনেছিলাম বাস্তবে এ নগরী তার চেয়েও সুন্দর ও রাজকীয়’।

ইবনে সিনা, আবু রায়হান, ওমর খৈয়াম, আল বেরুনি, আলজামিদের মতো জ্ঞানীগুণি ব্যক্তি এক সময় সমরখন্দকে সমৃদ্ধ করেছে। দুই হাজার বছর আগে বিজ্ঞান, প্রকৌশলী আর নির্মাণশৈলীর যে উন্নতি সমরখন্দে হয়েছিল একুশ শতকের পর্যটকরা এখনও তা অনুধাবনে বিস্মিত হন। এ নগরীর ঐতিহাসিক নিদর্শনগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো শাহী জিন্দা মাজার, সম্রাট তৈমুর লং নির্মিত সমাধি এবং ইমাম বোখারির মাজার। বুখারা :খ্রিস্টপূর্ব ৪ শতকে বুখারার সবচেয়ে প্রাচীন প্রাসাদ ‘গ্রান্ড প্যালেন অফ আর্ক’ প্রতিষ্ঠিত হয়, যা এখনও পর্যটকদের বিস্মিত করে। বিশাল আর উঁচু প্রাচীরগুলো ঘিরে রয়েছে ১১টি গেট। ইতিহাসখ্যাত মুসলিম দার্শনিক ইমাম আল বুখারি এই নগরীতেই জন্মলাভ করেছিলেন। ইতিহাস, মুসলিম আইন, আইনের অনুশাসন নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন গবেষণা পরিচালনা করেন। তিনি রচনা করেন ‘বুখারি শরিফ’। ইমাম বুখারির মাজারের ওপর নির্মিত হয়েছে বিশাল এক কমপ্লেক্স যা পর্যটকের কাছে এখনও এক দর্শনীয় স্থান। এখানকার সুস্বাদু রুটি ও ফল পর্যটকদের রসনা মেটায়।

গর্ভধারিণী মা ৩ ঘণ্টা গাছের সাথে বেঁধে রাখলেন ৫ বছরের এই শিশুপুত্রকে

গরু ক্ষেতের পাকা ধান খেয়ে ফেলার অপরাধে নিজ জননীর হাতে নির্যাতনের শিকার হয়েছে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বাইশারি হলুদিয়াশিয়া গ্রামের ৫ বছরের শিশু জিহাদুল ইসলাম জিহাদ।

মঙ্গলবার ১৪ নভেম্বর দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটি গাছের সঙ্গে গরুর রশি দিয়ে বেঁধে মা তাকে শাস্তি দেয়। বিকেল ৫টায় স্থানীয়রা এসে রশি খুলে দিয়ে তাকে মুক্ত করে।

উত্তর হলুদিশিয়া পাড়া কেন্দ্রের শিক্ষক ও বাইশারি ইউনিয়নের সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত ইউপি সদস্যা সেলিন আকতার বেবী জানান, জিহাদ তার স্কুলের প্রাক প্রাথমিক শাখার ছাত্র।

তাকে রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখার খবর শুনে তিনি তার বড় ভাই মোহাম্মদ ইউনুসকে সেখানে পাঠিয়ে শিশুটিকে বাঁধন খুলে দেয়ার ব্যবস্থা করেন।

ইউনিসেফ সাহায্যপুষ্ট পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সমন্বিত সমাজ উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় পরিচালিত উত্তর হলুদিশিয়া পাড়া কেন্দ্রের ছাত্র জিহাদুল ইসলাম জিহাদকে মঙ্গলবার দুপুরে তার মা গরু পাহারা দেয়ার দায়িত্ব দেয়।

কিন্তু পাহারা ভুলে খেলায় মেতে ওঠার সুযোগে একটি গরু ক্ষেতের পাকা ধান খেয়ে ফেলায় ক্ষিপ্ত হয়ে তার গর্ভধারিণী মা মোমেনা আকতার (২৫) এই বর্বর ঘটনা ঘটায়।

বাইশারি ইউপি চেয়ারম্যান আলম কম্পানিও ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শিশুটির পিতা দিনমজুর আলী আকবর সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে এ ঘটনা জানতে পারেন। তবে শিশু নির্যাতনের এ ঘটনায় পুলিশ বা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।

সুন্দরীদের নজর থেকে ধোনিকে বাঁচাতে যা কাণ্ড করলেন স্ত্রী সাক্ষী

মহেন্দ্র সিংহ ধোনি এবং স্ত্রী সাক্ষী মাঝেমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা মজার ভিডিও পোস্ট করেন। ভিডিওগুলো বেশিরভাগই তাঁদের ছোট্ট মেয়ে জিভার নানা কর্মকাণ্ডের।

কিন্তু সম্প্রতি সম্পূর্ণ অন্য রকমের ছবি ও ভিডিও পোস্ট করলেন সাক্ষী তাঁর ইন্সটাগ্রাম পেজে। ভিডিওটি একটি বিমানের মধ্যে শ্যুট করা হয়েছে।

দুটো ভিডিওর মধ্যে একটিতে একজনের মুখে তোয়ালে চাপা দেওয়া অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। তোয়ালের আড়ালেই লুকিয়ে ছিল আসল রহস্য। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পর সাক্ষী জানিয়ে দেন, লোকের নজর এড়াতে তোয়ালের আড়ালে আর কেউ নন, রয়েছেন মাহি। হয়তো সুন্দরী ভক্তদের নজর থেকে স্বামী আড়ালে রাখার জন্যে এই অভিনব কায়দা নিয়েছেন সাক্ষী নিজেই।

প্রসঙ্গত, এইমুহূর্তে খেলার দুনিয়ায় ধোনি চর্চায় রয়েছেন কারণ, নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ২০-২০তে ভারতের হার। ম্যাচে হারের পরই প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার ভি ভি এস লক্ষ্ণন এবং অজিত আগারকর বলতে শুরু করেন, এবার ধোনির ২০-২০ ফরম্যাট থেকে সরে দাঁড়িয়ে নতুনদের জায়গা করে দেওয়া উচিত। এরপরই শুরু হয় বিতর্ক।

ধোনির পক্ষে ব্যাট করতে মাঠে নামেন ভারতীয় দলের বর্তমান কোচ রবি শাস্ত্রী। তিনি বলেন, ধোনি সম্পর্কে মন্তব্য করার আগে, প্রত্যেকের একবার নিজেদের কেরিয়ারগ্রাফটা ভাল করে চোখ বুলিয়ে নেওয়া উচিত। তবে বাইশ গজে ধোনির পারফরম্যান্স নিয়ে যত সমালোচনাই থাকুক না কেন, ব্যক্তি জীবনে তিনি যে এই বিষয়গুলো নিয়ে একটুও বিচলিত নন, সেকথা স্পষ্ট এই সমস্ত কর্মকাণ্ড থেকে।

খুন আতঙ্কে সহস্রাধিক রিক্রুটিং এজেন্সি

জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার সদস্য ও ‘এস মুন্সী ওভারসিজ’-এর স্বত্বাধিকারী সিদ্দিক হোসেন মুন্সী (৫৫) খুনে জড়িত চিহ্নিত খুনিরা তিন দিনেও ধরা পড়েনি। খুনের ঘটনার সময় ওই অফিসের কর্মকর্তা মোস্তাক হোসেন, মিরাজ পারভেজ ও মোখলেছুর রহমান গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।

এ দিকে খুনিরা গ্রেফতার না হওয়ায় এই পেশার সাথে সংশ্লিষ্ট সহস্রাধিক লাইসেন্সপ্রাপ্ত রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক ও অফিসের সাথে সম্পৃক্ত হাজার হাজার প্রতিনিধি এখন আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে বায়রার সব সদস্য দিনভর কালো ব্যাজ ধারণ করেন।

এর আগে বুধবার ইস্কাটনের বায়রা কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রিক্রুটিং এজেন্সির মালিককে খুনের ঘটনাকে নজিরবিহীন ঘটনা বলে উল্লেখ করেন বায়রা সভাপতি বেনজির আহমেদ। তিনি বলেন, এ ঘটনার পর অনেক ব্যবসায়ীই আমাদের টেলিফোন করে বলছেন, তারা এখন চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে দিন পার করছেন।

গতকাল রাতে জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার যুগ্ম সম্পাদক ও সাদিয়া ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী শামীম আহমেদ চৌধুরী নোমান নয়া দিগন্তকে বলেন, বুধবার বায়রা ভবনে সিদ্দিককে খুনের প্রতিবাদে সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে আমাদের সভাপতি বলেছেন, এটি অত্যন্ত নিন্দনীয়। বায়রা মনে করে, যারা এ কাজ করেছে তারা মূলত ট্রেড ধসের উদ্দেশ্য করতে চাচ্ছে। নোমান চৌধুরী বলেন, আমাদের সবাইকে তো অফিস করতে হয় লোকজন নিয়ে। তার মধ্যে অপরিচিত লোকের সংখ্যা বেশি। যার দরুন সিদ্দিক খুনের ঘটনায় লাইসেন্সপ্রাপ্ত ৯৫৭ জনসহ সহস্রাধিক মালিক আতঙ্কের মধ্যে আছি। তিনি বলেন, এ ঘটনার পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে আমাদের সভাপতি সাক্ষাৎ করেন। তিনি দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনার দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী তাকে বলেছেন, দুই-চার দিনের মধ্যে একটা অগ্রগতি হতে পারে।

গতকাল জনশক্তি রফতানিকারকদের সংগঠন বায়রার কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য ও এভিয়েট ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী নুরুল আমিন নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা সহস্র্রাধিক রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক গ্রামীণ ও জাতীয় অর্থনীতিতে যথেষ্ট অবদান রাখছি। সেই হিসেবে আমরা কিন্তু সরকারের কাছ থেকে তেমন সহযোগিতা পাচ্ছি না। প্রায় সময়ই আমাদের অফিসে ঢুকে আইনশৃঙ্খলাবাহিনী আবার কখনো মাস্তানরা হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। টাকা নিয়ে যাচ্ছে। এসব ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন ও অতিষ্ঠ। যার কারণে আমরা ব্যবসায়ীরা এখন চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। সিদ্দিক খুনের ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি দ্রুত আসল খুনিদের গ্রেফতারের দাবি জানান সরকারের কাছে। এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে রিক্রুটিং এজেন্সির ভেতরে যেন সন্ত্রাসীদের হাতে কোনো ব্যবসায়ী খুন বা আহত হওয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে সে ব্যাপারে সরকারের কাছে তিনি প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানান।

এর আগে বায়রার সেক্রেটারি জেনারেল রুহুল আমিন স্বপন প্রতিবাদ সভায় বলেন, সিদ্দিক হোসেন মুন্সী একজন ভালো রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক ছিলেন। দীর্ঘ ব্যবসায়িক জীবনে তার রিরুদ্ধে কোনো নেতিবাচক কথা শুনিনি। তার ব্যবসায়িক শত্রু আছে বলেও জানা নেই। আমরা সরকারের কাছে অবিলম্বে খুনিদের গ্রেফতারের দাবি করছি।

এ দিকে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত চাঞ্চল্যকর খুনের ঘটনার সাথে জড়িতরা গ্রেফতার না হওয়ায় পরিবার ও তার ব্যবসায়ী বন্ধুরা অনেকটা হতাশ। তারা বলছেন, খুনিদের ছুবিসহ বর্ণনা পাওয়ার পরও এখনো তাদের গ্রেফতার না হওয়াটা হতাশার।

তবে এই মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বনানী থানার এসআই মিল্টন দত্ত গতকাল রাতে নয়া দিগন্তকে বলেন, আমরা এখনো এজাহারভূক্ত একজন আসামিকেও গ্রেফতার করতে পারিনি। তবে আসামিদের ধরতে একাধিক টিম কাজ করছে।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে একদল দুর্বৃত্ত বনানীতে রাত পৌনে ৮টার দিকে বনানী বি ব্লকের ৪ নম্বর রোডের ১১৩ নম্বর বাড়িতে এস মুন্সী ওভারসিসে ঢুকে এলোপাতাড়ি গুলি করে। এ সময় রিক্রুটিং এজেন্সির মালিক সিদ্দিক হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদি হয়ে মামলা করেন। এরপরই পুলিশ ওই বাড়ি ও আশপাশ থেকে সিসি টিভির মাধ্যমে খুনিদের ফুটেজ সংগ্রহ করেন। তবে খুনের পেছনে কী কী কারণ থাকতে পারে সে ব্যাপারে পুলিশ এখনো অন্ধকারেই রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে হচ্ছে দুটি চামড়া শিল্প

চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে দুটি চামড়া শিল্প গড়ে তোলার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এর দ্বারা দেশের চামড়া শিল্পের ব্যাপক উন্নতি হবে বলে মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী।

বৃহস্পতিবার সকালে গণভবনে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় আয়োজিত ‘লেদার প্রোডাক্ট শোর’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বন্দরনগরী চট্টগ্রাম এবং রাজশাহীতে নতুন দুটি চামড়া শিল্পে গড়ে তুলবো। শুধু ঢাকায় করলে হবে না, চামড়া শিল্পকে সারাদেশে ছড়িয়ে দিতে হবে। এজন্যই আমরা এই পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি।’

প্রধানমন্ত্রী জানান, চামড়া শিল্পকে সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে যাচ্ছে। এই শিল্পের উন্নতির জন্য নানা পদক্ষেপ ইতোমধ্যে নেয়া হয়েছে এবং সামনে আরও পদক্ষেপ নেয়ার পরিকল্পনা সরকারের আছে।

শেখ হাসিনা জানান, যারা পশু জবাই এবং চামড়া সংরক্ষণ কাজের সঙ্গে জড়িত তাদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করবে সরকার। চামড়া শিল্পের উন্নতির জন্য আধুনিক প্রযুক্তিও ব্যবহার করা হবে।

চামড়া শিল্পের উন্নতির জন্য যে সচেতনতা দরকার তা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে এখনো গড়ে উঠেনি বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য তিনি এ ব্যাপারে সচেতনা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী জানান, চামড়া শিল্পের উন্নতির জন্য যা যা করার দরকার সবই করবে তার সরকার। ২০২১ সালের মধ্যে চামড়া শিল্পে পাঁচ মিলিয়ন ডলার রপ্তানি বাণিজ্যের পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

রাজধানীকে পরিচ্ছন্ন ও দূষণমুক্ত রাখতে হবে

 রাজধানী অপরিচ্ছন্ন ও দূষিত হওয়ার যত ধরনের কর্মকান্ড রয়েছে, তার সবই নির্বিঘে চলছে। রাজধানীর এই পরিবেশ দেখে বোঝার উপায় নেই, এর কোনো কর্তৃপক্ষ রয়েছে। উন্নয়ন কর্মকান্ডের দীর্ঘসূত্রতার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় বছরের পর বছর ধরে বর্ষায় রাস্তাঘাট কর্দমাক্ত ও পানিতে যেমন তলিয়ে যায়, তেমনি শুষ্ক মৌসুমে তা ধুলো ধূসরিত হয়ে পড়ে। রাস্তা দিয়ে স্বাভাবিক ও স্বস্তিকরভাবে চলাচলের কোনো উপায় থাকে না। রাজধানীর বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ এতটাই সীমাছাড়া হয়েছে যে, মানুষ নানা রোগ-বালাইয়ে আক্রান্ত হচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের শারীরিক নানা সমস্যা সৃষ্টির পাশাপাশি তাদের মানসিক বিকাশও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, অ্যাজমা, অ্যালার্জিসহ নানা ধরনের জটিল রোগ নগরবাসীর শরীরে বাসা বাঁধছে। গত সপ্তাহে ভারতের রাজধানী দিল্লী বিষাক্ত ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় সেখানের স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়। দূষিত ও ঘোলাটে ধোঁয়া শহরটিকে এতটাই আচ্ছন্ন করে রাখে যে, সূর্য পর্যন্ত দেখা যায়নি। নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঢাকায় যেভাবে দূষণ কর্মকান্ড চলছে, তাতে দিল্লীর মতো হতে খুব বেশি দেরি হবে না। রাজধানীর দূষিত পরিবেশের পাশাপাশি এর সৌন্দর্য বিনষ্টের আরেকটি উৎপাত হচ্ছে, যত্রতত্র বিলবোর্ড, ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার, সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা। ভিআইপি সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলি পর্যন্ত এমন কোনো রাস্তা নেই, যেখানে সৌন্দর্য বিনষ্টকারি এসব উপকরণ চোখে পড়ে না। রাজধানীতে এমন বিশৃঙ্খল পরিবেশ ও কর্মকান্ড আর কোনো দেশে ঘটে কিনা, জানা নাই।
বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত নগরী হিসেবে ঢাকা শীর্ষ পর্যায়ে রয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক ইকোনোমিক ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের জরিপে ১৪০টি দেশের মধ্যে ঢাকার অবস্থান ১৩৭তম বা তৃতীয়। দূষণের বাইরে বসবাস অযোগ্য নগরী হিসেবে ঢাকা বেশ কয়েকবার এক নম্বরে ছিল। এতে অবশ্য ঢাকার পরিবেশ ও স্বাস্থ্য ঠিক রাখার জন্য যেসব কর্তৃপক্ষ রয়েছে, তাদের কিছু যায় আসেনি। যেমন চলছে, তেমন চলবে-এমন একরোখা মনোভাবই প্রদর্শিত হচ্ছে। দিন দিন আরও খারাপের দিকে গেলেও তাতে কোনো ভ্রæক্ষেপ নেই। রাস্তার খোঁড়াখুড়ির কথা যদি ধরা হয়, তবে দেখা যাবে, এর কোনো সময়কাল নেই। শীত-বর্ষা থেকে শুরু করে সারাবছরই অবিরাম খোঁড়াখুড়ি চলছে। রাজধানীর সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এসব খোঁড়াখুড়িকে উন্নয়ন কর্মকান্ড বলে আত্মতৃপ্তি লাভ করে। উন্নয়ন চাইলে ভোগান্তি সইতে হবে, এ বার্তাই যেন নগরবাসীকে তারা সবসময় দিয়ে আসছে। উন্নয়ন নিয়ে কারো কোনো আপত্তি থাকার কথা নয়, তবে সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠানগুলো যদি পরিকল্পনা মাফিক কাজ করতো, তবে ভোগান্তি অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব হতো। একটি রাস্তা একবার খোঁড়া হলে তা কবে ঠিক হবে, তার কোনো সময়সীমা থাকে না। এক প্রতিষ্ঠান খুঁড়ে কোনো রকমে মাটিচাপা দিয়ে গেলে আরেক প্রতিষ্ঠান খুঁড়তে শুরু করে। খোঁড়াখুড়িও শুরু হয় বর্ষাকালে। ফলে বৃষ্টি হলে খুঁড়িত স্থানগুলো যেমন তলিয়ে বিপজ্জনক ফাঁদে পরিণত হয়, তেমনি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এখন অবশ্য খোঁড়াখুড়ি সারাবছরই চলে। এই উন্নয়নের খোঁড়াখুঁড়ি কবে শেষ হবে, তা কেউ জানে না। যেহেতু এর শেষ নেই, তাই এ কর্মকান্ডকে অন্তত একটি পরিকল্পনার আওতায় আনা অসম্ভব কিছু নয়। এজন্য প্রয়োজন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় এবং সদিচ্ছা। প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যে এর লেশমাত্র নেই, তা তাদের কর্মকান্ড থেকেই বোঝা যায়। পরিকল্পনা এবং তা বাস্তবায়নে যদি দৃঢ় ইচ্ছা পোষণ করা হয়, তবে নগরীকে যে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর করা যায়, তা ঢাকা উত্তরের মেয়র আনিসুল হকের নেয়া কিছু উদ্যোগ থেকে প্রমাণিত হয়েছে। তার আওতাধীন এলাকায় তিনি দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়ে পরিবেশ, সড়ক ও ফুটপাতের যে উন্নয়ন করেছেন, তার সুফল কিছুটা হলেও ঐ এলাকার মানুষ পাচ্ছে। সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যদি এমন মনোভাব পোষণ করতো, তবে রাজধানীকে বাসযোগ্য করে তোলা অনেকটাই সহজ হয়ে যেত। পরিবেশ দূষণ হ্রাস থেকে শুরু করে রাস্তাঘাট চলাচল উপযোগী হতো। রাজধানীর সৌন্দর্য ও পরিবেশ দূষণের আরেকটি বড় উপদ্রব হচ্ছে যত্রতত্র ডিজিটাল ব্যানার, ফেস্টুন, পোস্টার ঝুলিয়ে রাখা। এগুলোর কারণে নগরীর সৌন্দর্য বিনষ্টের পাশাপাশি দৃষ্টি আটকে যাচ্ছে। এসব কাজে ক্ষমতাসীন দল এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় যে এগিয়ে, তা রাস্তায় বের হলেই দেখা যায়। মাসের পর মাস এসব ব্যানার-ফেস্টুন ঝুলে আছে। সরানোর নামগন্ধ নেই। আবার ক্ষমতাসীন দলের কোনো কোনো নেতা রাজপথ দখল করেই তোরণ নির্মাণ করে রেখেছে। এতে যে যানজট সৃষ্টি ও সৌন্দর্য বিনষ্ট হচ্ছে, তার তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। ক্ষমতার অপব্যবহার কতভাবে হতে পারে, তা এসব কর্মকান্ড দেখলেই বোঝা যায়।
রাজধানীকে অবাসযোগ্য ও অপরিচ্ছন্ন রেখে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হওয়ার আশা করা কতটা যুক্তিযুক্ত তা ভেবে দেখার প্রয়োজন রয়েছে। একটি মধ্যম আয়ের দেশের রাজধানী কেমন হয়, সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তা গুরুত্ব দিয়ে ভাবতে হবে। পানিবদ্ধতা, যানজট, পরিবেশ দূষণের তীব্রতা বজায় রেখে যদি মধ্যম আয়ের দেশ ঘোষণা করা হয়, তবে তা কতটা বিশ্বাসযোগ্য হবে, তা নিয়ে সন্দেহের অবকাশ রয়েছে। এই সন্দেহ ও অবিশ্বাস দূর করতে রাজধানীকে শৃঙ্খলার মধ্যে আনা ছাড়া বিকল্প নেই। অসময়ে রাস্তাঘাট খোঁড়াখুঁড়ি, পানিবদ্ধতা, বায়ুদূষণ, শব্দদূষণ, ধুলিদূষণ বন্ধ এবং যত্রতত্র ব্যানার-ফেস্টুন টানানোর মতো অপকর্ম নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। নগরীর গতিশীল ও সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি করতে সিটি করপোরেশনসহ অন্যান্য সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। যেমন চলছে, তেমন চলবে-এ ধরনের মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড সমন্বয়ের মাধ্যমে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। নগরীকে সভ্য ও বাসযোগ্য করে তুলতে নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে।

২১১৭ সাল, ফিউচারিস্টিক পৃথিবী।

আসগর সাহেব ল্যাবে বসে আছেন। দুদিন ধরে তোলপাড় চলছে আর্থ-২.০ তে। মারস, বলা ভালো আর্থ -২.০ তে মানুষ বসত গড়েছে এই বছর বিশেক হবে। আগের পৃথিবীর সকল হাই আইকিউর মানুষ, ক্রিয়েটিভ ইনডিভিজুয়ালস, সকল প্রকার টেকনোলজি, স্পেস স্টেশন, ইত্যাদি সবই এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। ওই পৃথিবীতে কেবল রয়ে গেছে লোয়ার অরবিটের নিম্নশ্রেণির মানুষেরা, যাদের তুচ্ছজ্ঞান করে এখানকার মডিফাইড মানুষেরা। তবে দুদিন ধরে এখানেও হৈচৈ চলছে। পৃথিবী থেকে কোন এক স্পেস শাটলে করে লোয়ার অরবিটের এক সাধারন মানুষ চলে এসেছে এখানে। কিন্তু তাকে কেউ কিছু করতে পারছে না, ফেরতও পাঠাতে পারছে না কারণ সে দাবি করছে তার কাছে হুমায়ূন আহমেদের ডিএনএ স্যাম্পল আছে। হুমায়ূন আহমেদকে চিনতে হলে আগে বাঙালি জাতিকে চিনতে হবে। ওয়ার্ল্ড ডমিনেশনে যারা এখন টপে আছে তাদের অধিকাংশই এখন বাঙালি, আর এই বাঙালিদের গত শতাব্দীর সবচেয়ে বিখ্যাত লেখক ছিলেন এই হুমায়ূন আহমেদ। সেই হুমায়ূন আহমেদের ডিএনএ স্যাম্পল পাওয়া মানে ক্লোন করে একজন হুমায়ূন আহমেদ সৃষ্টি করে তাঁকে এই পৃথিবীতে রেখে দেয়া। আসগর সাহেব ভাবলেন তিনি দেখা করতে যাবেন সেই ব্যক্তির সাথে, কারণ তার কাছ থেকে ডিএনএ স্যাম্পলটা নিতে পারলে ইতিহাস সৃষ্টি হবে।

– হ্যালো, আমি ডক্টর আসগর। আপনার নাম?
– আমি মিয়া সিরাজউদ্দিন রহমত আশফাক লিপু।
– আপনার নাম তো পৃথিবীর অন্যান্য মানুষদের তুলনায় বেশ বড়।
– আমি অন্যরকম তাই।
– তা শুনলাম, আপনার কাছে নাকি বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ডিএনএ স্যাম্পল আছে। সেটা কী জানতে পারি?
– একটি চুল। আমার দাদার রেখে যাওয়া বইতে পেয়েছি।
– বাহ! কিন্তু আপনার দাদার বইতে লেখক সাহেবের চুল আসল কীভাবে?
– আমার দাদা সে আমলে হুমায়ূন আহমেদের কাছ থেকে অটোগ্রাফ আনতে গিয়েছিলেন একবার, সেসময়ই হয়তো কোনভাবে তাঁর একটু চুল বইয়ের ভাঁজে আটকে যায়।
– গ্রেট। কিন্তু আপনি জানলেন কীভাবে যে এটি হুমায়ূন আহমেদেরই চুল!
– আমি সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে নিয়েই তবে এসেছি।
– আপনার দাবীটা কি তাহলে এখানে?
– আমি আপনাদের এই ডিএনএ স্যাম্পল দিতে রাজি আছি যদি আমাদের পৃথিবীর ওপর থেকে কৃত্রিম শিল্ড সরিয়ে দেয়া হয়। আমরা সূর্যের আলো দেখতে চাই, আমরা এসিড বৃষ্টি হলেও তা দেখতে চাই। কৃত্রিম দীর্ঘ জীবনের চেয়ে বাস্তব ক্ষুদ্র জীবনও অনেক বেশি আকাঙ্ক্ষার এখন আমাদের। আমরা সবাই হুমায়ূন আহমেদের মতোই জোছনাবিলাস করতে চাই একদম কাছে চলে আসা চাঁদটার দিকে তাকিয়ে।
– আমি আপনার এই প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিতে পারি কিন্তু আমি যতটুকু জানি এই শিল্ড আপনাদের প্রোটেকশনের জন্যই দেয়া হয়েছিল।
– হোক, আমরা আমাদের মতো করে নিরাপত্তা তৈরি করে নেবো। তবুও ধাতব আকাশ আর দেখতে চাই না আমরা।
– আপনার কাছে থাকা স্যাম্পলটা অতি মূল্যবান। আমার মনে হয় না আমাদের হর্তাকর্তারা দ্বিমত করবেন আপনার প্রস্তাবে। দেখা যাক…

……………………

আসগর সাহেব অবাক হয়ে আবিষ্কার করলেন তার প্রস্তাব নাকচ হয়ে গেছে। কোনভাবেই এই শিল্ড খুলে দেয়া হবে না। কোন কারণ দর্শানোর প্রয়োজনও মনে করলেন না তারা। আকাশ দেখতে দিতে, বৃষ্টিতে ভিজতে দিতে, জোছনাবিলাস করতে দিতে এতো কীসের আপত্তি আসগর সাহেব বুঝতে পারলেন না। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন তিনিই স্যাবোটাজ করবেন, শিল্ড মেশিন বিকল করে দিয়ে শিল্ড তুলে দেবেন।

– মিয়া সিরাজউদ্দিন রহমত আশফাক লিপু, আপনাকে আমি কথা দিচ্ছি আপনি পৌঁছে গিয়ে দেখবেন পৃথিবীর আকাশ আর ধাতব নেই।
– অনেক ধন্যবাদ আসগর সাহেব। তবে আমি যাই…

আসগর সাহেব তার যাবার পথের দিকে তাকিয়ে রইলেন। শিল্ড মেশিন বিকল হওয়া শুরু হয়েছে। খুব শিঘ্রই হয়তো তাকে পাকড়াও করতে লোকজন চলে আসবে। এই প্রথম তাদের আকাশের চাঁদের দিকে নজর পড়লো আসগর সাহেবের। ডেইমোস আর ফোবোস জুলুজুলু করে জ্বলছে যেন আকাশে। কী অদ্ভুত শুদ্ধ লাগছে তার নিজেকে হঠাৎ। একেই বুঝি জোছনাবিলাস বলে!

………………

পৃথিবীতে পৌঁছেই মিয়া সিরাজউদ্দিন রহমত আশফাক লিপু দেখলেন ঝলমলে এক আকাশ। সূর্যের তাপ অতি সহনীয়, অপর পাশে আপাত নিষ্প্রভ চাঁদটাও দারুণ এক জোছনাবিলাসের আভাস দিচ্ছে। অর্থাৎ তাঁর ধারণা সঠিক, এই পৃথিবীর মানুষকে শোষণ করার জন্য, তাদের পশ্চাৎপদ করে রাখার জন্য এই কাজটা করা হয়েছে। হঠাৎ একটা স্পেস শাটল উড়ে আসতে দেখা গেল, মনে হল তাল হারিয়ে পড়ে যাচ্ছে। ভেতর থেকে একজনকে কোনরকমে বের করে আনলো সবাই মিলে। মিয়া সিরাজউদ্দিন রহমত আশফাক লিপুকে দেখেই সে লোকটি দৌড়ে এসে জাপটে ধরলেন-

আমি চিনি আপনাকে। আমি পড়েছি কিছু বই হলোগ্রাফিক স্ক্রিনে। এখন বলুন আপনি আদতে কে? (মি)য়া (সি)রাজউদ্দিন (র)হমত (আ)শফাক (লি)পু = মিসির আলি নাকি হুমায়ূন আহমেদ?

আসগর সাহেবের কথা শুনে হেসে চোখে থাকা চশমাটা ঠিক করলেন সেই অদ্ভুত মানুষটি।

৬০০ বছরের মধ্যে পৃথিবী আগুনের গোলায় পরিণত হবে : স্টিফেন হকিং

 ৬০০ বছরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে পৃথিবী। ২৬০০ সাল নাগাদ এই দুনিয়া পরিণত হবে বিশাল এক আগুনের গোলায়, যাবতীয় সৃষ্টি পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। ভবিষ্যদ্বাণী করলেন বৈজ্ঞানিক স্টিফেন হকিংয়ের।

বেজিংয়ে এক সমাবেশে এই দাবি করেছেন বিশ্বনন্দিত এ বিজ্ঞানী। তাঁর বক্তব্য, পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শক্তির ব্যবহার। ফলশ্রুতি, বিশ্বের ধ্বংস হয়ে যাওয়া।

হকিংয়ের কথায়, সমাধান একটাই। মানুষকে পৃথিবীর বাইরে তাকাতে হবে। এমন গ্রহে বসতি স্থাপনের কথা ভাবার সাহস করতে হবে, যেখানে আগে মানুষের পায়ের চিহ্ন পড়েনি।
দীর্ঘদিন ধরে হকিংয়ের পরিকল্পনা, এই সৌরজগতের বাইরে নিকটতম গ্রহে সফর করার, দেখার, সেখানে মানুষের জীবনধারণের উপায় আছে কিনা। এ জন্য বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসতে অনুরোধ করেছেন তিনি।

এই সৌরজগতের নিকটতম তারার জগত আলফা সেন্টাউরি। পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব ৪ বিলিয়ন আলোকবর্ষ। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সম্ভবত এই আলফা সেন্টাউরির মধ্যে পৃথিবীর মত গ্রহ রয়েছে যাতে প্রাণীজগতের বসবাস সম্ভব। হকিংয়ের ইচ্ছে, ছোট কোনও মহাকাশযানে করে এখনই আলোর গতিতে ওই আলফা সেন্টাউরিতে পাড়ি দেওয়ার যাতে ২০ বছরের মধ্যে সেখানে পৌঁছনো যায়। তাঁর হিসেব, ওরকম একটি মহাকাশযান মঙ্গলে পৌঁছে যাবে ১ ঘণ্টার কম সময়ে, কয়েকদিনের মধ্যে প্লুটোতে। নাসার ভয়েজারের পাশ দিয়ে যাবে ১ সপ্তাহের মধ্যে, ২০ বছরের মধ্যে ছুঁয়ে ফেলবে আলফা সেন্টাউরি। তারপর পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখা হোক, এখান থেকে মানুষ নিয়ে গিয়ে সত্যিই সেখানে বসতি গড়া সম্ভব কিনা। সূত্র : কলকাতা২৪*৭

ডিএসসিসির ই-ট্রেড লাইসেন্স, ই-রেভিনিউ কার্যক্রমের উদ্বোধন

  ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার ব্যবসায়ীরা যেন সহজে ট্রেড লাইসেন্স সেবা গ্রহণ করতে পারে সেই লক্ষ্যে ই-ট্রেড লাইসেন্স এবং অনলাইনের মাধ্যমে হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদানে রাজস্ব বিভাগের ডিজিটাইলেজশন কার্যক্রম ই-রেভিনিউ অটোমেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন সভাকক্ষে এ দুটি সেবার উদ্বোধন করেন মেয়র সাঈদ খোকন। ই-ট্রেড লাইসেন্স কার্যক্রমের মাধ্যমে ব্যবসায়ীরা যে কোনো জায়গা থেকে অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে পারবেন। অনলাইন এবং যে কোনো পেমেন্ট চ্যানেলের মাধ্যমে ফি প্রদান করতে পারবেন।

অন্যদিকে ই-রেভিনিউ অটোমেশন সেবার মাধ্যমে হোল্ডিং ট্যাক্স দিতে দক্ষিণের বাড়িওয়ালাদের আর নগর ভবন বা আঞ্চলিক কার্যালয়ে যেতে হবে না। এখন থেকে বাসিন্দারা ঘরে বসে সহজেই অনলাইনের মাধ্যমে তাদের হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান করতে পারবেন।

গ্রাহকরা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে ফরম পূরণ করলে হোল্ডিং ট্যাক্স যে পরিমাণ বকেয়া আছে তার তথ্য চলে আসবে। গ্রাহকরা পরিশোধ অপশনে গিয়ে ডেবিট-ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ডিজিটাইলেজশন এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই এ কার্যক্রমগুলো চালু করা হয়েছে। ফলে দক্ষিণের নাগরিকরা ঘরে বসেই এ সেবা নিতে পারবেন। এর আগে দেখা গেছে, কোনো নাগরিক হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান করতে এসে ব্যাংকে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হত এবং ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে এখন থেকে তারা সহজে ই-রেভিনিউ অটোমেশন সেবা ই-ট্রেড লাইসেন্স সেবা নিতে পারবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে একটি হজ্জ এজেন্সি প্রতিষ্ঠানের মালিক আব্দুল মোদাচ্ছের অনলাইনের মাধ্যমে তার প্রতিষ্ঠানের ই-ট্রেড লাইসেন্স সেবা গ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এটুআই প্রোগ্রাম পরিচালক কবির বিন আনোয়ার, আরবান পাবলিক অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল হেলথ সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের প্রকল্প পরিচালক আব্দুল খালেক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা শাহাবুদ্দিন খান প্রমুখ।

যদি কাগজে লেখো নাম…

‘যদি কাগজে লেখো নাম কাগজ ছিড়ে যাবে/পাথরে লেখো নাম পাথর ক্ষয়ে যাবে/হৃদয়ে লেখো নাম সে নাম রয়ে যাবে/হৃদয় আছে যার সেই তো ভালোবাসে/প্রতিটি মানুষেরই জীবনে প্রেম আসে।’

প্রবোধ চন্দ্র দে। ডাক নাম মান্না দে। ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম সেরা সঙ্গীত শিল্পীদের একজন। হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, গুজরাটিসহ অজস্র ভাষায় তিনি ষাট বছরেরও অধিক সময় সঙ্গীত সাধনা করেছেন। বৈচিত্র্যের বিচারে হিন্দি গানের ভুবনেও সবর্কালের সেরা গায়কদের একজন তিনি। ২০১৩ সালের আজকের (২৪ অক্টোবর) এ দিনে উপমহাদেশের বিখ্যাত এই সঙ্গীতজ্ঞ ব্যাঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে মারা যান। মহান শিল্পীকে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

১৯১৯ সালের ১ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন মান্না দে। তার বাবার নাম পূর্ণ চন্দ্র দে ও মায়ের নাম মহামায়া দে। মান্না দে’র সঙ্গীতে যাত্রায় বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা ছিল। তারপর সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা পান চাচা সঙ্গীতে বিশেষভাবে দক্ষ শিক্ষক কৃষ্ণ চন্দ্র দে’র কাছ থেকে। তিনিই তাকে খুব বেশি অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করেছেন। কাকা কৃষ্ণ চন্দ্র দে ও উস্তাদ দাবির খানের কাছ থেকে গানের শিক্ষা লাভ করেন তিনি।মান্না দে তার শিশু পাঠ গ্রহণ করেছেন ‘ইন্দু বাবুর পাঠশালা’ নামে একটি ছোট প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তারপর তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজিয়েট স্কুল এবং স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে স্নাতক করেন। স্কটিশ চার্চ কলেজে পড়ার সময় সহপাঠীদেরকে গান শুনিয়ে তিনি আসর মাতাতেন। ওই সময়ে মান্না দে আন্তঃকলেজ গানের প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে তিন বছর তিনটি আলাদা শ্রেণিবিভাগে প্রথম হয়েছিলেন।

১৯৪২ সালে চাচা কৃষ্ণ চন্দ্র দে’র সঙ্গে তৎকালীন বোম্বে দেখতে আসেন। সেখানে শুরুতে তিনি চাচার সহকারী হিসেবে এবং পরে শচীন দেব বর্মণের অধীনে কাজ করেন। পরবর্তীতে তিনি অন্যান্য স্বনামধন্য গীতিকারের সান্নিধ্যে আসেন। এক সময় স্বাধীনভাবে নিজেই কাজ করতে শুরু করেন। ওই সময় তিনি বিভিন্ন হিন্দি চলচ্চিত্রের জন্য সঙ্গীত পরিচালনার পাশাপাশি উস্তাদ আমান আলি খান ও উস্তাদ আব্দুল রহমান খানের কাছ থেকে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নেন।

১৯৪৩ সালে ‘তামান্না’চলচ্চিত্রে গায়ক হিসেবে মান্না দে’র অভিষেক হয়। এতে সুরাইয়ার সঙ্গে একটি দ্বৈত সংগীতে কণ্ঠ দেন মান্না দে। গানটির সুরকার ছিলেন তার চাচা। ওই সময়ে গানটি ভীষণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। ১৯৫০ সালে ‘মশাল’ ছবিতে শচীন দেব বর্মণের সুরে ‘ওপার গগন বিশাল’ নামে একক গান গেয়েছিলেন। গানটির কথা লিখেছিলেন কবি প্রদীপ। ১৯৫২ সালে মান্না দে বাংলা এবং মারাঠী ছবিতে একই নামে এবং গল্পে ‘আমার ভূপালী’ গানটি গান। আর এর মাধ্যমেই তিনি নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করেন এবং জনপ্রিয় গায়ক হিসেবে সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছ থেকে কদর পেতে থাকেন।

পরে মান্না দে ভীমসেন জোসি’র সঙ্গে একটি জনপ্রিয় দ্বৈত গান ‘কেতকী গুলাব জুহি’ গান। এ ছাড়াও ‘শোলে’ সিনেমায় তিনি কিশোর কুমারের সঙ্গে ‘ইয়ে দোস্তী হাম নেহী তোড়েঙ্গে’ এবং ‘পডোসন’ সিনেমায় ‘এক চতুর নার’ গানটি গান।

মান্না দে শিল্পী ও গীতিকার হেমন্ত মুখোপাধ্যায়সহ আরো বেশকিছু গীতিকারের সঙ্গে বাংলা ছবিতে গান গেয়েছিলেন। দ্বৈত সঙ্গীতে লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে ‘শঙ্খবেলা’ সিনেমায় ‘কে প্রথম কাছে এসেছি’ গান করেছেন। তিনি রবীন্দ্র সঙ্গীতসহ প্রায় ৩৫০০ গান গেয়েছেন। তার জনপ্রিয় বাংলা গানগুলোর মধ্যে রয়েছে-কফি হাউজের সেই আড্ডাটা, আবার হবে তো দেখা, এই কূলে আমি আর ওই কূলে তুমি, তীর ভাঙা ঢেউ আর নীড় ভাঙা ঝড়, যদি কাগজে লেখো নাম, সে আমার ছোট বোন, পৌষের কাছাকাছি রোদ মাখা সেইদিন, কতদিন দেখিনি তোমায়, খুব জানতে ইচ্ছে করে, আমি সারারাত, এ নদী এমন নদী, মাঝরাতে ঘুম, এই আছি বেশ, এই রাত যদি, কি এমন কথা, ক’ফোঁটা চোখের জল, দীপ ছিল শিখা ছিল, যদি হিমালয়-আল্পসের সমস্ত জমাট বরফ ও শাওন রাতে।

১৯৫৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর কেরালার মেয়ে সুলোচনা কুমারনকে বিয়ে করেন মান্না দে।তাদের সংসারে দুই মেয়ে শুরোমা ও সুমিতা। মান্না দে পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় মুম্বাইয়ে কাটানোর পর মৃত্যুর আগে ব্যাঙ্গালুরুর কালিয়ানগর শহরে বাস করেন।এ ছাড়া তিনি কলকাতায়ও বাস করেছেন।

সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য ভারত সরকার ১৯৭১ সালে তাকে ‘পদ্মশ্রী’, ২০০৫ সালে ‘পদ্মবিভূষণ’ এবং ২০০৯ সালে ‘দাদাসাহেব ফালকে’ সম্মাননায় অভিষিক্ত করে। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে রাজ্যের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’ প্রদান করে। এ ছাড়াও তিনি ১৯৬৯ সালে হিন্দী চলচ্চিত্র ‘মেরে হুজুর’ ছবির গানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার; শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতশিল্পী (পুরুষ), ১৯৭১ সালে বাংলা চলচ্চিত্র ‘নিশি পদ্মে’ ছবির গানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতশিল্পী (পুরুষ)ও ১৯৮৮ সালে রেনেসাঁ সাংস্কৃতিক পরিষদ, ঢাকা থেকে মাইকেল সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন।

২০০৫ সালে আনন্দ প্রকাশনী থেকে বাংলাভাষায় তার আত্মজীবনী ‘জীবনের জলসাঘরে’ প্রকাশিত হয়। পরে এটি ইংরেজিতে ‘মেমরীজ কাম এলাইভ’, হিন্দীতে ‘ইয়াদেন জি ওথি’ এবং মারাঠী ভাষায় ‘জীবনের জলসাঘরে’ নামে অনুদিত হয়েছে। ২০০৮ সালে তার জীবন নিয়ে ‘জীবনের জলসাঘরে’ নামে একটি তথ্যচিত্র মুক্তি পায়।