All posts by lutfor

যে কোনো সময় নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ প্রস্তুত : সেতুমন্ত্রী

 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যে কোনো সময় নির্বাচনের জন্য আওয়ামী লীগ প্রস্তুত। তবে আগাম নির্বাচনের কোনো পরিকল্পনা দলের নেই।

এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি যা বলবেন, তাই হবে। কারণ, শেখ হাসিনার সরকারের অনেক অর্জন, অনেক সাফল্য আছে।

আজ শুক্রবার দুপুরে ধানমণ্ডিতে আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সঙ্গে সহযোগী সংগঠনগুলোর শীর্ষস্থানীয় নেতাদের যৌথসভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুরদৃষ্টি এবং বিচক্ষণতার ফলে বিশ্বের পরমাণু শক্তিশালী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ ৩২ নম্বরে স্থান করে নিয়েছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন বুঝতে পেরেছে, উন্নয়নের জন্য আওয়ামী লীগের কোনো বিকল্প নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বিএনপির আন্দোলন করার মতো ক্ষমতা আর নেই। বিগত আট বছরে আট মিনিটও দলটির নেতাকর্মীদের রাজপথে পাওয়া যায়নি। তারপরও যদি তারা কোনো অপচেষ্টা করে, তবে প্রতিহত করা হবে।

এ সময় তিনি বিশ্বের ১৭৩টি দেশের নেতাদের মধ্যে সততা প্রদর্শন এবং কর্মঠ হবার তালিকায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তৃতীয় স্থান অর্জন করায় দলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন জানান।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন- দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপুমনি, জাহাঙ্গীর কবির নানক, দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবাহান গোলাপ প্রমুখ।

বিজয়ের মাস শুরু

শুক্রবার বিজয়ের মাস ডিসেম্বর শুরু হলো। ছেচল্লিশ বছর আগে ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় হয়।

জাতি যথাযোগ্য মর্যাদা ও বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্যদিয়ে বিজয়ের মাস উদযাপনের লক্ষ্যে মাসব্যাপি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ এবং ৩০ লাখ শহীদের জীবনোৎসর্গ ও দুই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানি ও ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত স্বাধীন বাংলাদেশ শুরু করে তার পথচলা।

বাংলাদেশের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক ইতিহাসে শ্রেষ্ঠতম ঘটনা হলো ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধ। সশস্ত্র স্বাধীনতা সংগ্রামের এক ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্যদিয়ে বাঙালি জাতির কয়েক হাজার বছরের সামাজিক রাজনৈতিক স্বপ্ন সাধ পূরণ হয় এ মাসে।

বাঙালি জাতির সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন মুক্তিযুদ্ধের অবিস্মরণীয় গৌরবদীপ্ত চূড়ান্ত বিজয় এ মাসের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয়। স্বাধীন জাতি হিসেবে বিশ্বে আত্মপরিচয় লাভ করে বাঙালিরা। অর্জন করে নিজস্ব ভূখন্ড আর সবুজের বুকে লাল সূর্য খচিত নিজস্ব জাতীয় পতাকা । ভাষার ভিত্তিতে যে জাতীয়তাবাদ গড়ে উঠেছিল, নয় মাসব্যাপি এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ঘোষিত স্বাধীনতা পূর্ণতা পায় এ দিনে।

বাঙালির হাজার বছরের স্বপ্নপূরণ হবার পাশাপাশি বহু তরতাজা প্রাণ বিসর্জন আর মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে এই অর্জন হওয়ায় বেদনাবিঁধূর এক শোকগাঁথার মাসও এই ডিসেম্বর।

এ মাসেই স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি তাদের এদেশীয় দোসর রাজাকার-আলবদর আল শামসদের সহযোগিতায় জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান-বুদ্ধিজীবী হত্যার নৃশংস হত্যাযজ্ঞে মেতে ওঠে। সমগ্র জাতিকে মেধাহীন করে দেয়ার হীন উদ্দেশ্যেএ ধরনের ঘৃণ্য হত্যাযজ্ঞের দ্বিতীয় কোন নজীর বিশ্বে নেই।

১৯৭১ সালের ডিসেম্বর মাসের শুরু থেকেই মুক্তিযোদ্ধাদের গেরিলা আক্রমণ আর ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত যৌথবাহিনীর জল, স্থল আর আকাশপথে সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে বর্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর পরাজয়ের খবর চারদিক থেকে ভেসে আসতে থাকে।

’৭১-এর ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। যেখান থেকে ৭ মার্চ স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম,’ বলে স্বাধীনতার ডাক দেন, সেখানেই পরাজয়ের দলিলে স্বাক্ষর করে পাকিস্তানি জেনারেল নিয়াজী। নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। আর জাতি অর্জন করে হাজার বছরের স্বপ্নের স্বাধীনতা।

বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক এই ভাষণ এ বছর জাতিসংঘে শিক্ষা ও বিজ্ঞান বিষয়ক আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউনেস্কোর স্বীকৃতি লাভ করে। এ উপলক্ষে গত ২৫ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের একই স্থানে আনন্দ শোভাযাত্রাসহ মহাসমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

মহান এ বিজয়ের মাস উদযাপনে জাতীয় কর্মসূচির পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কর্মসূচি নেয়া হয়েছে। বিজয়ের মাসের প্রথম দিনেই বিভিন্ন সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি পালন করবে। এসব কর্মসূচির মধ্যে আছে বিজয়ের মাসকে স্বাগত জানিয়ে সমাবেশ , মানববন্ধন, বিজয় র‌্যালি, মুক্তিযোদ্ধা কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন ইত্যাদি। ১ থেকে ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ কর্মসূচি চলতে থাকবে।

বিজয়ের মাসের প্রথম দিনকে সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম-মুক্তিযুদ্ধ ৭১‘মুক্তিযোদ্ধা দিবস ’ হিসেবে উদযাপন করবে। এ উপলক্ষে সকাল ৯ টায় মিরপুরের শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতি সৌধে অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩ ডিসেম্বর বিজয় র‌্যালি অনুষ্ঠিত হবে। কর্মসূচি অনুযায়ী বিজয়র‌্যালিতে অংশগ্রহণের জন্য এদিন সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে জমায়েত হবে। সেখান থেকে বেলা ১১টায় ‘বিজয় র‌্যালি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে গিয়ে শেষ হবে। মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর বিজয় দিবস উপলক্ষে সাত দিনব্যাপি কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। ১০ ডিসেম্বর থেকে এ কর্মসূচি শুরু হবে।

ছেলের কবরেই শায়িত হবেন আনিসুল হক

লন্ডনের রিজেন্ট পার্ক মসজিদে শুক্রবার বাদ জুমা ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আনিসুল হকের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।

এরপর শনিবার বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে আনিসুল হকের মরদেহ দেশে এসে পৌঁছাবে।

পরে আর্মি স্টেডিয়ামে আরেক দফা জানাজা শেষে আনিসুল হককে বনানী কবরস্থানে দাফন করা হবে। ছোট ছেলে শারাফুল হকের কবরেই শায়িত হবেন তিনি।

২০০২ সালে ৬ বছর বয়সে মারা যান আনিসুল হকের ছোট ছেলে শারাফুল হক।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সময় রাত ১০টা ২৩ মিনিটে (লন্ডনের স্থানীয় সময় ৪টা ২৩ মিনিট) লন্ডনের ওয়েলিংটন হাসপাতালে তিনি ইন্তেকাল করেন। চিকিৎসকরা তার কৃত্রিম শ্বাস-প্রশ্বাসযন্ত্র (ভেন্টিলেশন যন্ত্র) খুলে নেয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

সোমবার রক্তে সংক্রমণের কারণে আনিসুল হকের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে আইসিইউতে (নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র) স্থানান্তর করা হয়।

তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে বৃহস্পতিবার লাইফ সাপোর্ট দেয়া হয়।

এর আগে তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তার কৃত্রিম শ্বাসযন্ত্র খুলে নেয়া হয়।

মঙ্গলবার মেয়রের পরিবারের এক সদস্য বলেন, রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়ায় তাকে আবার আইসিইউতে নেয়া হয়।

নাতির জন্ম উপলক্ষে ২৯ জুলাই সপরিবারে আনিসুল হক যুক্তরাজ্যে যান। সেখানে তিনি হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন।

১৩ আগস্ট তাকে লন্ডনের ন্যাশনাল নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

তার মস্তিষ্কের রক্তনালিতে প্রদাহজনিত সেরিব্রাল ভাসকুলাইটিস ধরা পড়লে তাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে নেয়া হয়।

অবস্থার উন্নতি হলে ৩১ অক্টোবর তাকে আইসিইউ থেকে রিহ্যাবিলিটেশনে স্থানান্তর করা হয়।

১৯৫২ সালের ২৭ অক্টোবর নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন আনিসুল হক। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতকোত্তর করে তিনি ১৯৮৬ সালে মোহাম্মদী গ্রুপ প্রতিষ্ঠা করেন।

২০১৫ সালে মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও তৈরি পোশাক ব্যবসায়ী আনিসুল হক আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নির্বাচিত হন।

বিচারকদের আচরণবিধির খসড়া রাষ্ট্রপতির কাছে যাচ্ছে: আইনমন্ত্রী

নিম্ন আদালতের বিচারকদের আচরণবিধি সংক্রান্ত গেজেটের খসড়া আজকেই রাষ্ট্রপতি কাছে যেতে পারে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক।

আজ বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে নিজ কক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, উচ্চ আদালতের তৈরি করা নিম্ন আদালতের বিচারকদের আচরণবিধি সংক্রান্ত গেজেটের খসড়া আমরা হাতে পেয়েছি। আশা করছি, আজকের মধ্যেই সেটি রাষ্ট্রপতির কাছে যাবে। রাষ্ট্রপতি অনুমোদন দিলেই তা প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে।

‘এই আচরণবিধি নিয়ে উচ্চ আদালতের সঙ্গে অনেক আলাপ-আলোচনা হয়েছে। তারপর উচ্চ আদালত এই খসড়া তৈরি করে দিয়েছেন। এতে নিম্ন আদালতের বিচারকদের সবকিছুই থাকছে।’

বিচারক সংক্রান্ত আচরণবিধিতে কী কী থাকছে- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রজ্ঞাপন প্রকাশিত হলেই তা জানতে পারবেন।

এর আগে মন্ত্রী তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন (আইসিটি) নিয়ে একটি সভায় যোগ দেন। সেখানে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ হোসেন পলকসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক থেকে বেরিয়ে এসে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক সাংবাদিকদের বলেন, এই বৈঠকেই চূড়ান্ত হবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা থাকবে কি থাকবে না। আজকের বৈঠকে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারা এবং ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন নিয়ে আলোচনা হবে। ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরো বলেন, ৫৭ ধারা রাখা হলেও এমনভাবে থাকবে যেন সেটি বাকস্বাধীনতায় কোনো ধরনের ব্যাঘাত তৈরি না করে।

তারল্য সংকট মেটাতে ৩ মাস সময় পেল ফারমার্স ব্যাংক

বেসরকারি খাতের ফারমার্স ব্যাংকের বর্তমান তারল্য সংকট মেটাতে নতুন পরিচালনা পর্ষদকে তিন মাস সময় দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যাংকটির পরিচালক ড. মোহাম্মদ আতাহার উদ্দিন।

বুধবার নতুন পর্ষদের সঙ্গে এক বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে এই সময় দেওয়া হয় বলে সাংবাদিকদের জানান ড. আতাহার উদ্দিন।

বৈঠক শেষে তিনি বলেন: পরিচিত হওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ফারমার্স ব্যাংকের নতুন পরিচালনা পর্ষদকে ডেকেছে। তারা দিক নির্দেশনা দিয়েছেন। আশা করি নতুন পর্ষদ ভালভাবে ব্যাংক পরিচালনা করতে পারবে।

খেলাপি হয়ে যাওয়া ঋণ আদায়ের বিষয়ে তিনি বলেন, সেসব অর্থ উদ্ধার করতে প্রয়োজনে ঋণ গ্রহিতাদের বাড়ি বাড়ি যাওয়া হবে।

বর্তমান তারল্য (নগদ অর্থ) সংকট মেটাতে নতুন পরিচালনা পর্ষদ কত কোটি টাকা যোগান দিবে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, টাকার অঙ্ক এখন বলা যাবে না। তবে নতুন করে দুটি বন্ডের মাধ্যমে এক হাজার কোটি টাকা তোলা হবে।

এছাড়া এমডি একেএম শামীম ফারমার্স ব্যাংকের আগের মতোই দায়িত্ব পালন করুক তা বর্তমান পর্ষদ চায় বলে জানান তিনি। তবে আতাহার উদ্দিন এসব প্রশ্নের জবাব দিলেও সেখানে উপস্থিত থাকা নতুন চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাসুদ সাংবাদিকদের সাথে কোনো কথা বলেননি।

পরে এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র শুভঙ্কর সাহা বলেন: দ্রুত ব্যাংকটির তারল্য ঘাটতি মেটাতে নতুন পরিচালনা পর্ষদকে তাগিদ দেয়া হয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে তারল্য সংকট সমাধান না হওয়া পর্যন্ত প্রয়োজনে কিছু অর্থ ব্যাংকে জমা রাখবেন বলে জানিয়েছেন পর্ষদ।

এই সমস্যা সমাধান না হওয়া পর্যন্ত অপ্রয়োজনীয় ব্যয় না করার জন্য তাদের বলা হয়েছে বলে জানান শুভঙ্কর সাহা। সমস্যা সমাধানে তিন মাস সময় দেয়া হয়েছে কি না জানতে চাইলে শুভঙ্কর সাহা বলেন, এ বিষয়টি জানি না। অামি বৈঠকে ছিলাম না। তবে কিছু সময় দেয়া হয়েছে বলে জানি।

সম্প্রতি ঋণে ব্যাপক অনিয়মের কারণে বড় ধরনের তারল্য সংকটে পড়ে ফারমার্স ব্যাংক। এরপর বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন এ ব্যাংকের সংকট নিরসনে জোরালো উদ্যোগ নেয়।

গত সপ্তাহে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীরসহ তিন পরিচালককে পদত্যাগ করতে বলা হয়। পদত্যাগে রাজি না হওয়ায় তাদের অপসারণ করা হবে জানার পর অবশেষে সরে দাঁড়ান তারা।

মহীউদ্দীন খান আলমগীরের পদত্যাগের পর নতুন পর্ষদকে ডাকে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফারমার্স ব্যাংক টিকিয়ে রাখতে দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য বুধবার বিকেলে পরিচালনা পর্ষদের সব সদস্যের সঙ্গে বৈঠক করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

‘ছাতুরী ছাড়া নির্বাচনে জেতার জন্য বিএনপির আর কোনো পুঁজি নেই’

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, কথামালা আর চাতুরী ছাড়া আগামী নির্বাচনে জেতার জন্য বিএনপি নেতাদের আর কোনো পুঁজি নেই।

আজ বুধবার দুপুরে চাঁপাইনবাবগঞ্জের হরিমোহন সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি এই বছর আন্দোলন আর ওই বছর আন্দোলন এমন কথা বলে সময় পার করেছে।

আওয়ামী লীগকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি সাংগঠনিকভাবে দুর্বল কিন্তু জামায়াত আর বিএনপির ভোট যুক্ত হলে ভোটের শক্তি তাদের রয়েছে। সেই কারণে দলের মধ্যে বিভেদ রাখলে চলবে না। প্রতিপক্ষ সেই দুর্বলতার সুযোগ নেবে। তিনি নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গণসংযোগ করার আহ্বান জানান।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচন চলে এসেছে তাই বিএনপি আর আন্দোলন করতে পারবে না। বিএনপির মরা গাঙ্গে আর জোয়ার আসবে না।
আগামী নির্বাচনে চাঁপাইনবাবগঞ্জবাসীকে দল বিবেচনা না করে যে নেতা উন্নয়ন দেয় সেই নেতাকে আগামী নির্বাচনে ভোট দেয়ার আহ্বান জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

বিতর্কিত ৫৭ ধারা বিলুপ্ত হচ্ছে : তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, ‘প্রস্তাবিত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর ফলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের (আইসিটি) ৫৭ ধারাসহ বিতর্কিত কয়েকটি ধারা বিলুপ্ত করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।’

বুধবার সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় এই সিদ্ধান্ত হয়। সভা শেষে তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

বৈঠকে তথ্যমন্ত্রী ছাড়াও আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমসহ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলার জন্য এই ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হচ্ছে। সুতরাং ডিজিটাল অপরাধ মোকাবিলার বিষয়গুলো এখানে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

এর আগে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, ‘ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করার জন্য বসেছিলাম। সাংবাদিকদের উদ্বেগের বিষয় আইসিটি আইনের ৫৭ ধারা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ৫৭ ধারা সেভাবে থাকবে না। বাকস্বাধীনতা রক্ষা করার জন্য সেসব চেক অ্যান্ড ব্যালেন্স দরকার, সেগুলো ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও সম্প্রচার আইনের মধ্যে থাকবে।’ কবে নাগাদ চূড়ান্ত করা হবে—জানতে চাইল তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘চূড়ান্ত করে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলব। বিষয়টি অনুমোদনের জন্য প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে।’

নিম্ন আদালতের বিচারকদের শৃঙ্খলাবিধি বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এটি সুপ্রিম কোর্টের কাছ থেকে পেয়েছি। সেটা রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেব। আজই পাঠানো হতে পারে।’

ঝগড়া বিয়ের আসরে , থানায় গিয়ে বিয়ে সারলেন বর-কনে

বিয়ের আসরেই ঘোরতর ঝগড়া। বরপক্ষ, কনেপক্ষ কেউই কম যায় না। প্রায় ভেস্তেই যেতে বসেছিল বিয়ে। উপায়ন্তর না দেখে থানায় গিয়ে মালাবদল করলেন পাত্র-পাত্রী। পুলিশের হস্তক্ষেপেই শেষমেশ মধুরেণ সমাপয়েৎ হল ভারতের উত্তরপ্রদেশের কনৌজে।

পাত্র অনুপ, পাত্রী প্রিয়াঙ্কা। বিয়ে ঠিক হয়েছিল, প্ল্যানমাফিক সব এগিয়েওছিল। জমজমাট বিয়ের আসরেই বাধল বিবাদ। সামান্য কথাকাটি থেকে শুরু। শেষমেশ তা বড় গণ্ডগোলে পরিণত হয়। এমন পরিস্থিত দাঁড়িয়েছিল যে, বিয়ে প্রায় কেঁচেই যাচ্ছিল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। প্রথমে বিবাদ মেটানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু ততক্ষণে কনেপক্ষ বিয়ে বন্ধ করে দিতে উদ্যোগী হয়েছে।

সেই সময় পুলিশই বরের বাবাকে থানায় ডাকার সিদ্ধান্ত নেয়। আরও বেশ কিছুক্ষণ আলোচনা চলে। দেখতে দেখতে বিয়ের রাত কেটেই যায়। শেষমেশ সিদ্ধান্ত হয়, থানায় বসেই পাত্রপাত্রীর মালাবদল হবে। হলও তাই। থানার সব পুলিশ অফিসাররা হাজির ছিলেন। আত্মীয়রা প্রথামাফিক ফুল ছুঁড়লেন। মহিলা পুলিশ কর্মীদের মুখেও হাসি। মিডিয়ার উপস্থিতিতে ক্যামেরার সামনেই মালা বদল করলেন পাত্রপাত্রীরা।

এভাবেই বাঁধা পড়া সাত পাকে। বিয়ে শেষে কনে জানালেন, “ঝগড়াঝাটি হচ্ছিল। বিয়ে বন্ধ হচ্ছিল প্রায়। তাই এই ব্যবস্থা।” কড়া সাব ইনস্পেক্টরের মুখেও তখন হাসি। জানালেন, “বাচ্চাদের মধ্যে বিবাদ থেকেই বড় ঝামেলা বাধে। রাতে আর বিয়ে হয়নি। সকালে থানায় দুই পক্ষই উপস্থিত ছিল। ঝামেলা মিটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় দুই পক্ষই। তারপরই এখানে পুলিশ ও মিডিয়ার সামনে মালাবদল করানো হয়। দু’জনেই হাসিখুশিভাবে বিয়ে করেছে।”

স্বামীর থেকে বউ যদি বয়সে বড় হয়, তাহলে………

অসম বয়সের সম্পর্ক আমাদের সমাজে স্বীকৃত। সেক্ষেত্রে পুরুষকে হতে হবে বড়, আর মেয়ে হবে ছোট। উল্টোটা হলে সমাজ ও পরিবার সহজে মেনে নিতে চায় না। এছাড়া নানা সমস্যা রয়েছে। সেটা শারীরিক এবং মানসিক।

লোকনিন্দা : স্ত্রী যখন বয়সে বড় হন, তখন প্রথমেই যে বিষয়টির মুখোমুখি হতে হয় সেটি হল লোকজনের নিন্দা। স্বামী-স্ত্রীর দিকে বাঁকা চোখে তাকান অনেকেই। আওয়াজ খেতে হয় বন্ধুদের থেকেও। স্বামী-স্ত্রীর বয়সের পার্থক্য নিয়ে অনেকে আড়ালে, এমনকি সামনাসামনিও ঠাট্টা করে থাকে।

পারিবারিক অসহযোগিতা : সঙ্গিনীর বেশি বয়স নিয়ে সবচেয়ে বেশি আপত্তি আসে পরিবার থেকে। খুব কম পরিবারই রয়েছে যেখানে এমন বিয়ে সহজেই গ্রহণ করা হয়।

বয়সের ছাপ : স্ত্রী যখন স্বামীর চেয়ে বয়সে বড় হবেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই স্ত্রীর চেহারায় বয়সের ছাপ আগে পড়বে। অনেক পুরুষই তখন স্ত্রীকে অন্যের সঙ্গে পরিচয় করাতে সঙ্কোচবোধ করেন। আবার অনেক স্ত্রী স্বামীর সঙ্গে বের হতে চান না। পরস্পরের মধ্য একটা দূরত্ব তৈরি হয়।

মানসিক চাপ : স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর বয়স বেশি হলে যেসব পারিবারিক ও সামাজিক সমস্যা তৈরি হয়, তা মনের উপরে চাপ সৃষ্টি করে। নারী-মনে তা বেশি প্রভাব ফেলে। এর জেরে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়াও অস্বাভাবিক নয়।

জীবনে সমস্যা : স্বামীর চেয়ে স্ত্রীর বয়স খুব বেশি হলে একটা সময়ে জীবনে সমস্যা তৈরি হয়। কারণ, নারী ও পুরুষের শারীরিক ক্ষমতা ও চাহিদা এক রকম হয় না। নারীর বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে শারীরিক চাহিদা দিন দিন কমে আর পুরুষের শারীরিক চাহিদা অনেক বয়স পর্যন্ত বজায় থাকে।

গর্ভধারণে সমস্যা : সাধারণত ৩৫ বছরের পরেই গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। স্বামীর বয়স খুব কম হলে সে সন্তানের জন্য অপেক্ষা করতেই পারে। কিন্তু বয়স্কা স্ত্রীর পক্ষে সন্তানের জন্য বেশি দিন অপেক্ষা করা নিরাপদ নয়।

বোঝাপড়ার সমস্যা : মনস্তাত্বিকরা বলেন, সমবয়সি দু’জন ছেলে এবং মেয়ের মধ্যে মেয়ের মানসিক বয়স ছেলের তুলনায় দু’বছরের বেশি হয়। স্বামীর তুলনায় স্ত্রীর বয়স বেশি হলে মানসিক বয়সের পার্থক্য আরও বেশি হবে। এই মানসিক বয়সের পার্থক্যের কারণে বোঝাপড়ার অভাব হওয়াটা স্বাভাবিক। অনেক সময়ে স্ত্রী বেশি অভিজ্ঞ হওয়ায় স্বামীর মনে হতে পারে সেই কর্তৃত্ব করছে।

এমন অনেক সমস্যাই রয়েছে। আবার এই সমাজে এমন অনেক উদাহরণও আছে যেখানে বয়সের এই ফারাক কোনও সমস্যাই তৈরি করেনি। পরস্পরের বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে ছোট বর আর বড় বউ দিব্যি সুখে ঘর-সংসার করছেন।

রাতে যা করলে মা হওয়ার ক্ষমতা হারাবেন মেয়েরা

আপনি কি মা হতে চান? তবে, রাত জেগে সিনেমা দেখা বা বই পড়ার অভ্যাস আজই ত্যাগ করুন৷ এক গবেষণায় দেখা গিয়েছে, রাতে বারবার আলো জ্বালানো হলে মেয়েদের ফার্টিলিটি হরমোন বা সন্তান ধারণের ক্ষমতা কমে যায়৷

স্যান অ্যান্টোনিওর স্বাস্থ্য বিজ্ঞান কেন্দ্রের ইউনিভার্সিটি অফ টেক্সাসের সেলুলার বায়োলজির অধ্যাপক রাসেল জে রেইটার জানিয়েছেন, ‘মেয়েদের শরীরের প্রজনন ক্ষমতার অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে, বিশেষ করে ভ্রুণের বৃদ্ধির জন্য অন্ধকার খুবই জরুরি।’ মস্কিষ্কের পিনিয়াল গ্রন্থি মেলাটনিন নামের এক ধরণের হরমোন নিঃসরণ করে৷ আর অন্ধকারেই এই গ্রন্থিটি বেশি কার্যকরী থাকে৷

রেইটার জানান, ‘অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ মেলাটনিন অনেক শক্তিশালী একটি হরমোন। যখন মহিলাদের ডিম্বানু উৎপাদনের সময় হয় তখন এই হরমোন ডিম্বানু নষ্ট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে’৷

গবেষণায় আরও দেখা গিয়েছে, যারা সন্তান ধারণে ইচ্ছুক তাদের কমপক্ষে আটঘণ্টা অন্ধকারে কাটানো প্রয়োজন৷

গবেষকেরা জানিয়েছেন, হরমোন নিঃসরণের জন্য অন্ধকারে থাকা জরুরি৷ তবে এক সঙ্গে ঘুমের কোন সম্পর্ক নেই৷ রেইটার জানিয়েছেন মেলাটানিন তৈরিতে অন্ধকার সবচেয়ে প্রয়োজনীয়৷

সুত্র: বিডি২৪লাইভ