=== console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block.


বুধবার, ১৪ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

জাকাত কাকে দেবেন, কীভাবে দেবেন

সেরাকণ্ঠ ডট কম :
এপ্রিল ১৪, ২০২২
news-image

জাকাত প্রাপ্যদের তালিকা দেওয়া হয়েছে কোরআনে। গরিব, নিঃস্ব ব্যক্তি, জাকাত আদায় ও বণ্টন ব্যবস্থায় নিয়োজিত ব্যক্তি, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথের পথিক এবং অভাবী মুসাফির জাকাতের অর্থ ও সম্পদ গ্রহণ করতে পারে।
নিকট আত্মীয়দের জাকাত দেওয়া উত্তম। তবে নিজের সন্তান বা তার অধস্তনকে কিংবা মা-বাবা বা তাদের ঊর্ধ্বতনকে, স্বামী-স্ত্রীকে জাকাত দেওয়া যায় না। এমনিভাবে রাসুলের বংশের কেউ জাকাত নিতে পারেন না।
জাকাত দেওয়ার সময় মনে মনে জাকাত দেওয়ার নিয়ত বা ইচ্ছা করলেই জাকাত আদায় হয়ে যাবে। জাকাত গ্রহিতাকে ‘এটা জাকাতের সম্পদ’ জানানোর প্রয়োজন নেই। অভাবীদের প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ করে সারা বছরই জাকাত দেওয়া উচিত। বরং অত্যন্ত প্রয়োজনের সময় এগিয়ে আসায় তা রমজানে দানের চেয়ে কম হবে না। এ লক্ষ্যে অগ্রিম জাকাত দেওয়া যায়, বছর শেষে সারা বছর যা জাকাত দেওয়া হয়েছে তা সমন্বয় করে নেওয়া যায় জাকাতের হিসাব থেকে।
অনেক ক্ষেত্রে নগদ অর্থ কম থাকে, কিন্তু স্বর্ণ থাকায় অথবা জাকাতযোগ্য অন্যান্য মাল থাকায় জাকাত দেওয়া ফরজ হয়ে পড়ে। সে ক্ষেত্রে মোট কত টাকা জাকাত ওয়াজিব হয়েছে তা হিসাব করে নিয়ে অল্প অল্প করে সারা বছরই জাকাত দেওয়া যায়। কারও যদি ২০,০০০ টাকা জাকাত আসে তাহলে তা কয়েক মাসেও ভাগ করে দিতে পারে। আবার এক বারেও দিতে পারে। একজনকে দিতে পারে বা একাধিক জনকেও দিতে পারে।
জাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে টাকা বা সম্পদের পূর্ণ মালিকানা জাকাত গ্রহিতাকে দিতে হবে। তাই যেসব ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিমালিকানা হয় না যেমন মসজিদ, রাস্তাঘাট, মাদ্রাসার স্থাপনা, কবরস্থান, এতিমখানার বিল্ডিং ইত্যাদি এসব তৈরির কাজে জাকাতের টাকা ব্যয় করা যাবে না।
মাদ্রাসার গরিব-এতিম ছাত্রদের জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জাকাতের টাকা উঠিয়ে থাকেন। তাই মাদ্রাসার ছাত্রদের প্রতিনিধির কাছে গরিব এতিম ছাত্রদের কাছে জাকাতের টাকা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে জাকাতের টাকা দেওয়া যাবে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এসব টাকা সরাসরি ছাত্রছাত্রীদের মালিকানায় দেবেন। পরবর্তী সময়ে ছাত্ররা তাদের থাকা-খাওয়া, বই-খাতা, চিকিৎসা, বস্ত্র বাবদ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে দিতে পারবে।
জাকাতের টাকায় ব্যক্তি বিশেষকে স্বাবলম্বী করার জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজিও দেওয়া যায়। ব্যক্তিমালিকানায় নলকূপ, কৃষি সরঞ্জামাদি দেওয়া যায়। গৃহনির্মাণ করে অভাবী ব্যক্তিকে মালিকও বানিয়ে দেওয়া যায় জাকাতের টাকায়। বিধবা, এতিমের যত্ন, তাদের চিকিৎসা, গরিব ছেলেমেয়ের বিয়ে, গরিবদের লেখাপড়া এমন যেকোনো জনকল্যাণমূলক কাজ করা যাবে জাকাতের টাকায়, শর্ত একটাই- অভাবীকে মালিক করে দিতে হবে জাকাতের টাকার।