সোমবার, ২৮শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ব্রিটেনে ম্যানচেষ্টার বোমা হামলার বিরুদ্ধে মুসলিমদের শান্তি মিছিল

সেরাকণ্ঠ ডট কম :
মে ২৭, ২০১৭

রাশিদ রিয়াজ: ব্রিটেনের ম্যানচেষ্টারে বোমা হামলায় ২২ জন নিহত ও শতাধিক আহত হবার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মুসলিম নারী পুরুষ ও শিশুরা শান্তি মিছিল করেছে। মুসলিম পরিবারের সদস্যরা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে প্লাকার্ড, নিহতদের স্মরণে তাদের প্রতি একাত্মতা জানিয়ে ফুল হাতে রাস্তায় নেমে আসে। ব্রিটিশ মিডিয়া মিরর অনলাইনে এ খবরটি শীর্ষ সংবাদ হিসেবে পোস্ট করে শান্তি মিছিলের একাধিক ছবি প্রকাশ করা হয়েছে।চিথ্যাম হিল এলাকার নর্থ ম্যানচেষ্টার জামিয়া মসজিদ এ শান্তি মিছিলের আয়োজন করে। আরিয়ানা গ্রান্ডের কনসার্টে বোমা হামলায় নিহতদের স্মরণ ও আহতদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীর সঙ্গে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে মুসলিম পরিবারগুলো তাদের একাত্মতা প্রকাশ করে।
শুক্রবার ম্যানচেষ্টারে আরিয়ানা গ্রান্ডের কনসার্টে হামলার প্রতি নিন্দা ও ক্ষোভ জানিয়ে শত শত মুসলিম নারী, শিশু ও পুরুষরা ম্যানচেষ্টার এ্যারেনা এসে নিহতদের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন। সেখানেই ওই বোমা হামলার ঘটনায় নিহতদের প্রতি সবাই ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানিয়ে আসছেন। একইভাবে মুসলিম পরিবারগুলো নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং ম্যানচেষ্টারের এলাকাবাসির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন। তাদের মধ্যে অন্তত ৫’শ নারী, শিশু ও পুরুষ ছিল। ম্যানচেষ্টারের বিভিন্ন এলাকা থেকে তারা এসে উডল্যান্ড সড়কের একটি মসজিদে জড়ো হন তারপর শান্তি মিছিল করে ম্যানচেষ্টার এ্যারেনায় আসেন। তাদের হাতে ছিল ফুল, বেলুন ও ‘আই লাভ ম্যানচেষ্টার’ লেখা প্ল্যাকার্ড । তারা অমুসলিম সম্প্রদায়ের সঙ্গে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে একাত্মতা প্রকাশ করে।
মইন আজমি যিনি মসজিদটির মুখপাত্র, তিনি বলেন, মুসলিম তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিশৃঙ্খলা রয়েছে এবং তাদের নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি রয়েছে। এটা দেখার মত জিনিস যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সকলের সঙ্গে মুসলিম নারী, শিশু ও পুরুষরা রয়েছেন। আমরা আমাদের এ অভিন্ন পরিচয় তুলে ধরতে চাই। সমাজের অংশ হিসেবে মুসলিমরাও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে তার প্রচার করতে চাই। শিশুরা খুবই মর্মাহত কারণ ম্যানচেষ্টার বোমা হামলায় অনেক শিশু মারা গেছে এবং তারা তা জানতে পেরে খুবই মুষড়ে পড়েছে। শিশুরা কনসার্টে আনন্দ করতে যেয়ে মারা গেছে তারা তা মেনে নিতে পারছে না। এসব মুসলিম শিশুরা সমাজের অভিন্ন অংশ হিসেবেই একাত্মতা দেখাচ্ছে।
মুুসলিম পরিবারের সঙ্গে অনেক পথচারী তাদের শান্তি মিছিলে যোগ দেন। চিথ্যাম হিল সড়ক থেকে তারা ৪০ মিনিট ধরে হেঁটে এসে নিহতদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে। মইন আরো জানান, মুসলিম শিশুদের জন্যে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে এভাবে শান্তি মিছিলে আসা জরুরি। কারণ যারা মারা গেছে তারা তাদের সুন্দর ভবিষ্যত হারিয়েছে, যাদের মধ্যে অনেক তরুণ, তরুণী, শিশুও রয়েছে। মুসলিম শিশুরা উপলব্ধি করার সুযোগ পাচ্ছে যে তারা এখানে এসে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধেই অবস্থান নিয়েছে। যা ঘটছে তার মধ্যে সে সঠিক অবস্থানে আছে।
মসজিদের ইমাম আরশাদ মিসবাহি বলেন, এই শান্তি মিছিল কনসার্টে ঘটে যাওয়া নৃশংসতার বিরুদ্ধে। বোমা হামলা করে মানুষ হত্যা ইসলামের শিক্ষার বিরুদ্ধে। এজন্যে আমরা এখানে একাত্মতা জানাতে এসেছে। নারী ও শিশুদের এখানে নিয়ে এসেছি। শিশুরা স্কুলে এসে এধরনের বর্বর বোমা হামলা কেন হয়েছে তা জানতে চায়, মসজিদে মুসল্লিরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে অনুভব করেছি যে আমাদের সহানুভূতি দেখানো উচিত নিহতদের প্রতি, তাই আমরা এখানে এসেছি। বিভিন্ন মসজিদে ‘আই লাভ ম্যানচেষ্টার’ পোস্টারে ছেয়ে গেছে। মিরর

এ জাতীয় আরও খবর