All posts by lutfor

চুমু আর ঘনিষ্ঠ দৃশ্যের ছড়াছড়ি, হেট স্টোরির নতুন গানে ঝড়! (ভিডিওসহ)

এমন একটা সময় ছিল সিনেমা একটি চুমুর দৃশ্য থাকলে সেটি নিয়ে ব্যাপক হৈ চৈ হতো। দিনে দিনে সয়ে গেছে দর্শক। চুমুর দৃশ্যে অভ্যস্থ হয়ে উঠেছে তারা। আজকাল বলিউডের এক ছবির এক গানেই মিলছে একাধিক চুমুর দৃশ্য।

তবে সবকিছু ছাড়িয়ে গেল মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সেক্স-থ্রিলার ‘হেট স্টোরি ৪’র নতুন গান। ‘তুম মেরে হো’ শিরোনামের এ গানটি ভরপুর চুমু দৃশ্যে। আছে বেশ কিছু রগরগে দৃশ্যও। এটিকে ভালোবাসা দিবসে বিনোদনের সেরা অনুষঙ্গ হিসেবে নিয়েছেন বলিউডপ্রেমীরা। ১২ ফেব্রুয়ারি রাতে প্রকাশ হওয়া গানটি এরই মধ্যে ৮১ লাখেরও বেশি দর্শক দেখেছেন। অনেকে অবশ্য এ গানটিকে সেন্সর ছাড়পত্র দেয়ায় প্রশ্নও তুলেছেন।

বিশাল পান্ডের পরিচালনায় ‘হেট স্টোরি ৪’র নতুন গানটিতে পারফর্ম করেছেন ভিভান ভাথেনা ও ইহানা ডিলন। চমৎকার সব লোকেশনে গানটির মূল উপজীব্য দুই তারকার ঘনিষ্ট দৃশ্যগুলো। এখানে বেশ সাহসী হয়েই নিজেকে হাজির করেছেন খোলামেলা ইহানা। তার কামিনীরুপেই ঝড় উঠেছে ইউটিউবে।

‘তুম মেরে হো’ গানে কণ্ঠ দিয়েছেন জুবিন নাউটিয়াল ও অমৃতা সিং। মনোজ মুনতাসীরের রোমান্টিক কথাগুলোকে সুর-সংগীত করেছেন মিথুন।

এর আগে ‘দিস ইজ নট আ লাভ স্টোরি, ইট ইজ আ হেট স্টোরি’- এমনই বক্তব্য নিয়ে গেল ২৬ জানুয়ারি প্রকাশ পেয়েছে ‘হেট স্টোরি ৪’র অফিসিয়াল ট্রেলার। প্রেম, যৌনতা আর শিহরণের মিশেলে জমজমাট সিনেমা ‘হেট স্টোরি ৪’। বলিউডের ইরোটিক থ্রিলার সিনেমা নির্মাতা ফ্রাঞ্চাইজি হেট স্টোরি। এতে মূল নায়িকা হিসেবে কাজ করেছেন উর্বশী রাওতেলা। আগামী ৯ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে আসছে সিনেমাটি।

সোনারগাঁওয়ে স্ত্রীর কাছে নেশার টাকা না পেয়ে স্বামীর আত্মহত্যা

স্ত্রীর কাছে নেশার টাকা না পেয়ে খলিল মিয়া নামে এক ব্যক্তি আত্মহত্যা করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের ভারগাঁও গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

সোনারগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সেন্টু চন্দ্র সিংহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের ভারগাঁও গ্রামের মৃত আব্দুল বারেকের ছেলে খলিল মিয়া দীর্ঘদিন ধরে নেশা করে আসছিলেন। নেশাগ্রস্ত হয়ে তিনি জামদানি কারিগর স্ত্রী রহিমা বেগমকে মারধর করতেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রহিমার কাছে নেশার টাকা না পেয়ে অভিমান করে দরজা বন্ধ করে ঘরের আড়ার সাথে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেন।

খাদ্য নিরাপত্তার জন্য গবেষণায় মনোনিবেশ করুন : রাষ্ট্রপতি

একবিংশ সালের খাদ্য চাহিদা ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে গবেষণা পরিচালনা করতে কৃষি ও ভেটেরিনারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতি আহবান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

বৃহস্পতিবার বিকেলে সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম সমাবর্তনে নতুন গ্রাজুয়েটদের উদ্দেশে বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা পুনর্গঠনে তোমাদের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়টির চ্যান্সেলর বলেন, মুক্তিযুদ্ধ বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত বাংলাদেশ ভিশন-২০২১ ও ২০৪১-এর আলোকে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে বিপুল অবদান রাখছে— যা এখন বিশ্বব্যাপী উন্নয়ন ও অগ্রগতির উদাহরণে পরিণত হয়েছে।

তিনি দেশের কৃষি খাতের ব্যাপক উন্নয়নের কথা উল্লেখ করে পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তিভিত্তিক কৃষিপণ্য উৎপাদন ও উদ্ভাবনের জন্য বর্তমান সরকার, বিশেষজ্ঞ, গবেষক, কৃষিবিদ ও কৃষকসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রশংসা করেন। তিনি কৃষকদের কৃষিপণ্যে ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বায়ন ও জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির এ যুগে একটি বিশ্ববিদ্যালয়কে অবশ্যই তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হবে এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রাসঙ্গিকতা, গুণগত ও আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বৈচিত্র্যময় সিলেট অঞ্চলে টেকসই কৃষি প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

তিনি বলেন, এখানে রয়েছে অনেক জলাধার, উর্বর জমি ও মাছ। সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এখানে ব্যাপক গবেষণার সুযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রপতি বিশ্ববিদ্যালয়টির অব্যাহত সাফল্য ও অগ্রগতি কামনা করেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর এবং ইস্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ ফরাস উদ্দিন অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তৃতা দেন। এ ছাড়া শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবদুল মান্নান, সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এম গোলাম শাহী আলম অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।

এর আগে দুপুর ২টায় সিলেটে পৌঁছে রাষ্ট্রপতি হযরত শাহজালাল (রহ.) ও হযরত শাহপরান (রহ.)-এর মাজার জেয়ারত করেন। বাসস

রাজধানী ঢাকায় ভিক্ষার নামে বাণিজ্য চলছে?

রাজধানী ঢাকাতে ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ ও ভিক্ষুক পুনর্বাসনে এখন সরকারের কোন প্রকল্প নেই। ফলে একদিকে যেমন ভিক্ষুকের সংখ্যা কমছে না অন্যদিকে ভিক্ষাবৃত্তি ঘিরে তৈরি হচ্ছে একধরণের সিন্ডিকেট।

অভিজাত এলাকাগুলোতে রাস্তার পাশে ভিক্ষুক নিষিদ্ধের সাইনবোর্ড থাকলেও অনেক সময় দেখা যায় ভিন্ন চিত্র।

বারিধারায় এমন একটি সাইনবোর্ডের নিচেই থালা হাতে ভিক্ষায় বসেছেন এক প্রতিবন্ধি ব্যক্তি। তার পাশেই দাঁড়ানো আরেকজন ভিক্ষুক।

প্রতিবন্ধী হলেও এশারত আলী নামে সেই ভিক্ষুক সতর্ক হলেন ক্যামেরা দেখার পর। ফোনে কারো সঙ্গে কথা বললেন তিনি।

এর প্রায় ২০ মিনিট পর সেখানে এশারতকে নিতে এলো একটি রিক্সা। এশারতকে রিক্সায় তুলে নিলেন রিক্সাচালক।

তার কাছে খোঁজ নিয়ে জানা গেলো ৫ হাজার টাকায় এশারত আলী ভাড়া থাকেন রাজধানীর বাড্ডায়।

সেখান থেকে গুলশান-বারিধারায় ভিক্ষার নির্দিষ্ট স্পটে যেতে প্রতিদিন খরচ করেন ১২০ টাকা।

সবমিলিয়ে মাসে তার খরচ হয় কমপক্ষে বিশ হাজার টাকা। এই টাকা তিনি জোগাড় করেন ভিক্ষা করেই।

এদিকে রাজধানীর গুলশান এলাকায় দেখা মিললো যানজটে আটকা পড়া গাড়ি থেকে ভিক্ষা করছেন অনেকেই।

ভিক্ষুক নিষিদ্ধ এলাকাতেই যখন এই দশা, তখন রাজধানীর অন্য এলাকার অবস্থা সহজেই অনুমান করা যায়।

‘মৌসুমী ভিক্ষুক’

রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানের সামনে প্রতি শুক্রবার জুম্মার নামাজের আগে জড়ো হন প্রায় অর্ধশত ভিক্ষুক। যাদের একটা বড় অংশই ভিক্ষা করেন সপ্তাহে একদিন।

এছাড়াও অনেকেই আছেন, যারা সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও কাজ না করে বিভিন্ন অজুহাতে ভিক্ষাকেই অর্থ উপার্জনের উপায় হিসেবে বেছে নিয়েছেন।

আকলিমা নামে একজন ভিক্ষুক বলছিলেন, “আমি তো ভাঙ্গারি দোকানে কাজ করি। শুক্রবার এট্টু আহি ভিক্ষা করতে। এক/দুই ঘণ্টা ভিক্ষা করি। এট্টু হাতখরচ হয়। আমারে ভিক্ষুক কওন যায় না। যারা হারাদিন ভিক্ষা করে, হ্যারাই ভিক্ষুক।”

ভিক্ষুকদের মধ্যে দেখা গেলো, এদের একটা বড় অংশই দেখতে বেশ শক্তপোক্ত। কিন্তু এরপরও কাজে না গিয়ে ভিক্ষার পথে নেমেছেন তারা।

রাজধানীর বাইতুল মোকাররম মসজিদের সামনে গিয়ে দেখা যায়, এরকম অনেকেই নাছোড়বান্দা হয়ে ভিক্ষা চাইছেন মুসল্লীদের কাছে।

এতে মুসল্লীরা বিরক্ত হলেও তারা অনেকটা অসহায়।

একজন মুসল্লী বলছিলেন, “এদের তো অনেকে কম বয়সী। কাজ করতে পারবে, কিন্তু করবে না। অনেকে আবার বাচ্চাদেরও নিয়ে এসেছে। ভিক্ষার জন্য এরা খুবই জবরদস্তি করে। ভিক্ষা না দিলে অনেক সময় গালাগালও করে। কিন্তু এদেরকে ভিক্ষা দেই না। যারা অসহায় তাদের দেই।”

পুনর্বাসনের উদ্যোগ কোথায়?

রাজধানীতে ভিক্ষুকের সংখ্যা কত তার কোন পরিসংখ্যান নেই। সত্যিকারের ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের জন্যও এখন আর কোন উদ্যোগ নেই।

তবে রাজধানীতে ভিক্ষুকদের নিয়ে প্রথম একটি জরিপ করা হয়েছিলো ২০১১ সালে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের সেই জরিপে তথ্য সংগ্রহ করা হয় প্রায় ১০ হাজার ভিক্ষুকের।

এদের মধ্যে বিভিন্ন জেলায় পুনর্বাসনের জন্য নির্বাচিত করা হয় ২ হাজার ভিক্ষুককে। তবে পুনর্বাসিত হয় মাত্র ৬৬ জন। প্রকল্পটিও পরে বন্ধ করে দেয়া হয়।

সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (কার্যক্রম) আবু মোহাম্মদ ইউসুফ বলছেন, ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছেছবির কপিরাইটবিবিসি বাংলা
Image caption
সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (কার্যক্রম) আবু মোহাম্মদ ইউসুফ বলছেন, ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনা হচ্ছে
কেন সেই প্রকল্প ব্যর্থ হলো আর কেনইবা ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের আওতায় আনা গেলো না, সে বিষয়ে সমাজসেবা অধিদপ্তরের পরিচালক (কার্যক্রম) আবু মোহাম্মদ ইউসুফ বলছিলেন, “কাউকে ভ্যান, কাউকে রিক্সা, কাউকে সেলাইমেশিন এরকম বিভিন্নভাবে উদ্যোগ নিয়ে ভিক্ষুকদের পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হয়েছিলো। কিন্তু কিছুদিন পর দেখা গেলো, তারা ঐসব ভ্যান, রিক্সা বিক্রি করে আবারো ভিক্ষায় চলে আসছে। ফলে প্রকল্পটা আর অগ্রসর হয়নি। তবে এখন আমরা উদ্যোগ নিচ্ছি জেলা প্রশাসকদের মাধ্যমে প্রত্যেকটা জেলায় এই প্রকল্প শুরু করার।”

কিন্তু যারা পেশাদার ভিক্ষুক তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে?

সমাজবিজ্ঞানী মাহবুবা নাসরীন মনে করেন, ভিক্ষুক নির্মূলে পুনর্বাসনের সঙ্গে সঙ্গে পেশাদার ও মৌসুমী ভিক্ষুকদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।

তিনি বলছিলেন, “অনেকেই ভিক্ষাবৃত্তিকে পেশা হিসেবে নিয়েছেন। আবার অনেককে বাণিজ্যিকভাবেও ভিক্ষাবৃত্তিতে ব্যবহার করছে একটা সিন্ডিকেট। তাদেরকে চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া দরকার।…পাশাপাশি ভিক্ষার যে মূল কারণ দারিদ্র সেটার দিকে নজর দিতে হবে। তাদের পুনর্বাসনেরআওতায় আনতে হবে।”

সমাজসেবা অধিদপ্তরও মনে করে, ঢাকায় ভিক্ষাবৃত্তি ঘিরে একধরণের ব্যবসা তৈরি হয়েছে। রাজধানীসহ সারাদেশেই ভিক্ষাবৃত্তি নির্মূলে এখন বিশদ প্লান নিয়ে এগুতে চায় সংস্থাটি।

মি: ইউসুফ বলছিলেন, “ভিক্ষুক নির্মূলে কী ধরণের প্রকল্প বা কর্মসূচি নিতে হবে সে বিষয়ে আমরা একটা বিশদ নীতিমালা তৈরি করেছি। এটি চূড়ান্ত অনুমোদন পেলে পুরোদমে একসঙ্গে সারাদেশে ভিক্ষুক পুনর্বাসনের কাজ শুরু হবে। এই নীতিমালায় পেশাদার ভিক্ষুকদের চিহ্নিত করে শাস্তির বিষয়টিও রয়েছে।”– বিবিসি বাংলা

শিশুদের মানসিক সমস্যা তৈরি করছে সোশ্যাল মিডিয়া

শিশু-কিশোরদের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের কুফল নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বেশ কিছু চিকিৎসক ও শিশু কল্যাণ বিশেষজ্ঞ।

ব্রিটেনের একজন চিকিৎসক রঙ্গন চ্যাটার্জী বলছেন, কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে মানসিক সমস্যা এবং তাদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের মধ্যে যে একটা সম্পর্ক আছে তার অনেক প্রমাণ তিনি পেয়েছেন।

সম্প্রতি একদল মার্কিন শিশু কল্যাণ বিশেষজ্ঞ ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জাকারবার্গের কাছে একটি চিঠি লেখেন। এতে তারা ‘মেসেঞ্জার কিডস’ নামে বাচ্চাদের মেসেজিং অ্যাপটি বন্ধ করে দেবার আহ্বান জানান।

তারা বলেন, ১৩ বছরের কম বয়েসীদেরকে এই প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহার করতে উৎসাহিত করারটা দায়িত্বজ্ঞানহীন।

তারা বলেন, তারা তথ্যপ্রমাণ পেয়েছেন যে সামাজিক মাধ্যমের কারণে কিশোর-কিশোরীদের মানসিকতায় অস্বাভাবিক সব পরিবর্তন হচ্ছে, ১০ বছরের মেয়েও তার দৈহিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগছে।

ডাক্তার রঙ্গন চ্যাটার্জী বলছেন, তিনি একবার ১৬ বছরের একটি কিশোরকে রোগী হিসেবে পেয়েছিলেন – যে তার নিজের হাত-পা কাটার পর তাকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে পাঠানো হয়েছিল।

“আমি প্রথমে ভেবেছিলাম তাকে বিষণ্ণতা-রোধী ওষুধ দেবো। কিন্তু আমি তার সাথে কথা বলার পর মনে হলো, সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করায় তার স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।”

২০১৭ সালে রয়াল সোসাইটি অব পাবলিক হেলথ একটি জরিপ চালায় ১১ থেকে ১৫ বছর বয়স্ক দেড় হাজার কিশোর-কিশোরীর ওপর।

এতে দেখা যায় স্ন্যাপচ্যাট এবং ইনস্টাগ্রাম তাদের মনে সবচেয়ে বেশি হীনমন্যতা এবং দুশ্চিন্তা সৃষ্টি করে। ১০ জনের মধ্যে ৭ জন বলেছে ইনস্টাগ্রামের কারণে তাদের নিজেদের দেহ নিয়ে মন খারাপ হয়েছে। ১৪ থেকে ১৪ বছর বয়সের তরুণ-তরুণীদের অর্ধেকই বলেছে ফেসবুকের কারণে তাদের মানসিক দুশ্চিন্তা ও অশান্তি বেড়ে গেছে।

শিশুদের মানসিক সমস্যা তৈরি করছে সোশ্যাল মিডিয়াদু-তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা বলেছে, ফেসবুকের কারণে সাইবার বুলিইং বা অনলাইনে অপমান-হয়রানি করার প্রবণতা আরো গুরুতর আকার নিয়েছে।

ড. চ্যাটার্জী তার কাছে আসা ছেলেটিকে একটা সহজ সমাধান দিয়েছিলেন – তাকে সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করা কমিয়ে আনতে হবে, রাতে ঘুমাতে যাবার আগে এক ঘন্টার বেশি নয়। তবে কয়েক সপ্তাহ পর এ সময় বাড়ানো যেতে পারে।

“ছয় মাস পর তার অবস্থা লক্ষণীয়ভাবে ভালো হতে শুরু করলো। আমি তার মার কাছ থেকে চিঠি পেলাম যে সে স্কুলে গিয়ে অনেক আনন্দ পাচ্ছে, এবং স্থানীয় লোকজনের সাথেও মিশছে।”

তিনি বলছেন, সোশ্যাল মিডিয়া মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এটা একটা বড় সমস্যা এবং এ ক্ষেত্রে কিছু নিয়মকানুন করা দরকার।”

সাইকিয়াট্রিস্ট লুই থিওডোসিও বলছেন, “দু-তিন বছর আগেও তার সাথে এ্যাপয়েন্টমেন্টের মাঝখানে কোন বাচ্চা তাদের ফোন ব্যবহার করছে, বা টেক্সট করছে – এমন ঘটনা ছিল খুবই অস্বাভাবিক। কিন্তু এখন এটা খুব সাধারণ ব্যাপার হয়ে গেছে।”

“বাচ্চারা তাদের ফোন নিয়ে খুব বেশি সময় কাটাচ্ছে। সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে টিনএজাররা বিষণ্ণতা, দুশ্চিন্তা বা অন্য মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছে – এমন কেসের সংখ্যা বেড়ে গেছে। ”

তিনি বলেন, এসব বাচ্চারা এক কল্পনার জগতে বাস করছে, এতে তাদের শারীরিক স্বাস্থ্য খারাপ হচ্ছে।

তিনি আরো বলেন, অভিভাবকদের জন্য পরিস্থিতি খুব কঠিন হয়ে গেছে। তিনি এমন অভিভাবকের কথাও শুনেছেন যারা ওয়াইফাই রুটার নিজেদের সাথে নিয়ে ঘুমান -যাতে বাচ্চারা মাঝরাতে উঠে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে না পারে।

বিশেষজ্ঞরা অভিভাবকদের নানা উপায়ে বাচ্চাদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ওপর নজর রাখতে ও তা সীমিত করতে পরামর্শ দিচ্ছেন।

ভালো কাজ কবুল হওয়ার পূর্ব শর্ত ইখলাস

মানুষের আমল বা কাজ ভালো হলেই সে আমল বা কাজ আল্লাহ তাআলার দরবারে কবুল হয় না। আমল কবুলের জন্য পূর্ব শর্ত হলো ইখলাস। আন্তরিকতা বা একনিষ্ঠতার সঙ্গে আল্লাহর জন্য কোনো কাজ করাই হলো ইখলাস। সুতরাং ইখলাসবিহীন ইবাদত নিষ্ফল।

নেক আমলে বিন্দু বা অনু পরিমাণ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন ব্যতিত অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকলে তা আল্লাহর দরবার কবুল হবে না। নেক আমল কম হোক আর বেশি হোক তা হতে হবে শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। এ অবস্থাটিকে ইসলামের পরিভাষায় বলা হয় ইখলাস।

রণাঙ্গনে মানুষের জীবন উৎসর্গ করা হলেও তা আল্লাহর দরবারে কবুল হবে না; যদি প্রাণ উৎসর্গকারী ব্যক্তির অন্তরে আল্লাহর সন্তুষ্টি ব্যতিত অন্য কোনো উদ্দেশ্য অন্তর্ভূক্ত থাকে।

ইবাদত বা নেক আমলে ইখলাসের গুরুত্ব একটি দৃষ্টান্তের মাধ্যমে উপলব্দি করতে পারি। আর তাহলো-

হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু একবার একজন ইসলাম বিদ্বেষী অবিশ্বাসীর সঙ্গে যুদ্ধে অবর্তীণ হলেন। অনেকক্ষণ পর তিনি সেই ইসলাম বিদ্বেষীকে কাবু করে ফেললেন। তিনি তার বুকের ওপর বসে পড়লেন এবং তার শিরচ্ছেদের ইচ্ছা করলেন। এমন সময় ইসলাম বিদ্বেষী লোকটি হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহুর মুখমণ্ডলে থুথু মারে।

হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু তাকে হত্যা না করে সঙ্গে সঙ্গে ছেড়ে দেন। ইসলাম বিদ্বেষী লোকটি হতবাক হয়ে গেল এবং জিজ্ঞাসা করল, এ পর্যন্ত আপনি আমার সঙ্গে যুদ্ধরত ছিলেন। অবশেষে আমাকে পরাজিত করার পর হত্যা না করে এভাবে ছেড়ে দিলেন কেন?

হজরত আলি রাদিয়াল্লাহু আনহু বললেন, ‘এতক্ষণ পর্যন্ত তোমার সঙ্গে যুদ্ধ করেছি এক আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য। কিন্তু যখনই তুমি আমার মুখে থুথু দিয়েছ তখন তোমার প্রতি আমার ব্যক্তিগত আক্রোশ এসে গেছে। এমন অবস্থায় যদি আমি তোমাকে হত্যা করি তবে তা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হতো না। আমার ব্যক্তিগত ক্রোধের আক্রোশে তোমার মৃত্যু হতো। যা আমি চাইনি।’

মূলত এটাই হলো ইখলাস বা একনিষ্ঠতা। মানুষের জীবনের শুরু থেকে আমৃত্যু প্রতিটি কাজই হবে আল্লাহর জন্য। পড়া-লেখা, সংসার জীবন, কর্ম জীবন, সামাজিক জীবন, রাষ্ট্রীয় জীবন, অর্থনৈতিক জীবনসহ অবসরকালীন সময়ের প্রতিটি কাজই হবে আল্লাহর জন্য। তবেই আসবে দুনিয়ার ও পরকালের চূড়ান্ত সফলতা।

আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে জীবনের প্রতিটি কাজকেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য যথাযথভাবে সম্পন্ন করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

আর্সেনাল ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বড় জয়

উয়েফা ইউরোপা লিগের রাউন্ড অব ৩২ এর প্রথম লেগে জয় পেয়েছে আর্সেনাল ও অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ। বৃহস্পতিবার রাতে অস্টেরসান্ডসকে ৩-০ গোলে হারিয়েছে আর্সেনাল। আরেক ম্যাচে স্প্যানিশ লা লিগার ক্লাব অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ ৪-০ গোলে হারিয়েছে এফসি কোপেনহেগেনকে।

আর্সেনাল যে তিনটি গোল করেছে তার একটি এসেছে আত্মঘাতি খাত থেকে। বাকি দুটি গোলের একটি করেছেন নাচো মনরেয়াল। অপরটি করেছেন মেসুত ওজিল। বৃহস্পতিবার রাতে অস্টেরসান্ডস এর ঘরের মাঠে ম্যাচের ১৩ মিনিটেই এগিয়ে যায় আর্সেনাল। এ সময় নাচো গোল করে এগিয়ে নেন আর্সেন ওয়েঙ্গারের দলকে। ২৪ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ হয় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দলটির। এ সময় অস্টেরসান্ডস এর সোটিরিস নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন। তাতে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় গার্নার্সরা। বিরতির পর ফিরে ৫৮ মিনিটে মেসুত ওজিল গোল করে দলের জয় নিশ্চিত করেন।

এদিকে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের হয়ে গোলের দেখা পেয়েছেন সাউল নিগুয়েজ, কেভিন গামেরিও, অ্যান্তোনিও গ্রিজমান ও ভিতোলো। প্রথমার্ধে দুটি গোলের পর দ্বিতীয়ার্ধে কোপেনহেগেনের জালে আরো দুটি বল জড়ায় অ্যাটলেটিকো।

এদিকে এফসি কোপেনহেগেনের মাঠে ২১ মিনিটে নিগুয়েজের গোলে এগিয়ে যায় মাদ্রিদের ক্লাবটি। ৩৭ মিনিটে গামেরিওর গোলে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় দিয়েগো সিমিওনির শিষ্যরা। বিরতির পর ৭১ মিনিটে গ্রিজমান ও ৭৭ মিনিটে ভিতোলোর গোলে ৪-০ ব্যবধানের বড় জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদ।

প্যারাডাইস পেপারসের নতুন তালিকায় ২০ বাংলাদেশির নাম

প্যারাডাইস পেপারসের নতুন তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। এতে জানানো হয়েছে, কর ফাঁকি দিতে মাস্টার কোম্পানি খুলেছিলেন বিতর্কিত ব্যবসায়ী মুসা বিন শমসেরসহ ২০ বাংলাদেশি।

গত বছর প্যারাডাইস পেপারস কেলেঙ্কারি ফাঁস হলে বিশ্বব্যাপী রাঘববোয়ালদের থলের বেড়াল বের হতে শুরু করে। তাতে বিশ্বের ক্ষমতাধর অনেক ব্যক্তির গোপন তথ্য বেরিয়ে আসে।

বেশিরভাগ তথ্যই বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদদের, যারা কর থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন ট্যাক্স হেভেনে বিনিয়োগ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন।

এর আগে প্যারাডাইস পেপারসে ১০ বাংলাদেশির নাম এসেছিল। বিএনপি নেতা আবদুল আউয়ার মিন্টুসহ তার পরিবারের সদস্যদের নাম তাতে ছিল।

সিরিয়ায় নিজেদের পেতে রাখা বোমায় ১৫ রুশ নিরাপত্তারক্ষীসহ নিহত ২৩

সিরিয়ায় গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি বিদ্রোহীদের হামলাচলাকালে ঘটা এক বিস্ফোরণে রাশিয়ার ১৫ নাগরিক নিহতের খবর পাওয়া গেছে। নিহতরা সিরিয়ায় রাশিয়ার একটি নিরাপত্তারক্ষী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিল। মূলত কুর্দিরা নিরাপত্তারক্ষী প্রতিষ্ঠানটির অস্ত্রাগার দখল নিতে গেলে ওই বিস্ফোরণ ঘটে। এতে রুশ নাগরিক ছাড়াও আসাদ বাহিনীর সমর্থকদেরও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।

ব্যক্তি মালিকানাধীন রাশিয়ার নিরাপত্তারক্ষী প্রতিষ্ঠানটি রাশিয়া-সিরিয়ার কর্তৃত্বে থাকা তেল ও গ্যাসক্ষেত্রেগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিতের জন্য কাজ করে। প্রতিষ্ঠানটি নিজস্ব অস্ত্রাগারের নিরাপত্তা বিধানের জন্য‘বুবি ট্র্যাপ’ স্থাপন করেছিল, যাতে অনুপ্রবেশকারীরা ঢোকার চেষ্টা করলে বাধাপ্রাপ্ত হয়।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক পর্যবেক্ষক সংস্থা ‘অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস’জানিয়েছে, কুর্দি যোদ্ধারা নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানটির অস্ত্রাগারের দখল নিতে গেলে সেখানে প্রতিষ্ঠানটির পেতে রাখা বোমা বিস্ফোরিত হয়। বিস্ফোরণে রাশিয়ার নাগরিক ১৫ নিরাপত্তারক্ষীসহ মোট ২৩ জন নিহত হয়েছে। বাকিরা আসাদ সমর্থিত আল-বাকির ব্রিগেডের সদস্য বলে মনে করা হচ্ছে।

এই দুর্ঘটনা ঘটে নিরাপত্তারক্ষী প্রতিষ্ঠানটির দেইর ইজ্জর প্রদেশের তাবিয়া জাজিরায় অবস্থিত অস্ত্রাগারে। পর্যবেক্ষকসংস্থাঅবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের’ পরিচালক রামি আব্দেল রহমান এপিকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।

রাশিয়া সমর্থিত সিরিয়ার সরকারি বাহিনীবিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় যত বেশি নিজেদের কর্তৃত্ব স্থাপন করছে, সেসব স্থানে তত বেশি রুশ নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে এলাকাগুলোতে থাকা তেল ও গ্যাসক্ষেত্রগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য।

সিরিয়ার সরকারি বাহিনী ও রাশিয়ার সেনাবাহিনী বর্তমানে ইউফ্রেটিস নদীর তীরে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত বিদ্রোহীদের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। এলাকাটি কুর্দি সমর্থিত‘সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস’-এর কর্তৃত্বাধীন।

দেশে সহিংসতার শিকার ৮২ শতাংশ শিশু

সুরক্ষা না করে উন্নয়ন করলে উন্নয়ন সম্পূর্ণ হবে না বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক। তিনি বলেন, আমাদের দেশে উন্নয়ন আছে, কিন্তু শুধু উন্নয়ন থাকলেই হবে না। উন্নয়নের সাথে মানবাধিকার রক্ষা করতে হবে। গতকাল জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে সরকারের বাজেট পর্যালোচনা’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন কাজী রিয়াজুল হক। ওয়ার্ল্ড ভিশনের আয়োজনে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাজেট পর্যালোচনা উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ এবং সেন্টার অন বাজেট এন্ড পলিসি পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: আবু ইউসুফ। বক্তব্য রাখেন ওয়ার্ল্ড ভিশন-এর পরিচালক চন্দন গোমেজ এবং সাবেরা সুলতানা প্রমুখ। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ সম্প্রতি শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধে স্থানীয় এবং জাতীয় পর্যায়ে সরকারের বিগত তিন বছরের বাজেট পর্যালোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছে। অনুষ্ঠানে উক্ত বাজেট পর্যালোচনার উপর প্রস্তুতকৃত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক আরো বলেন, আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে, তাই কাজ করতে হবে। মানবাধিকার কমিশনের ব্যর্থতা আছে। তারপরও সরকারের এখানে একটি জবাবদিহিতার দায়বদ্ধতা জায়গা আছে। এখনও শিশু বাড়িতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মক্ষেত্রে নির্যাতনের শিকার হয় এটা দুঃখজনক। শিশুরা শিশু সুলভ পরিবেশের মধ্যে যেন বড় হয় আমাদের সে বিষয় মনে রাখতে হবে। শিশুরাই আগামী দিন দেশ পরিচালনা করবে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে ১ থেকে ১৪ বছরের শিশুদের মধ্যে ৮২ শতাংশ বিভিন্ন সহিংসতার শিকার হচ্ছে। ১৪ বছর বয়সের পূর্বে ৭৭ দশমিক ১ শতাংশ শিশু বিদ্যালয়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। ৫৭ শতাংশ শিশু কর্মক্ষেত্রে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়। পরিসংখ্যান ব্যুারোর প্রতিবেদন মতে ৫৪ দশমিক ৪ শতাংশ শিশু বাল্য বিয়ের শিকার হয়। ৮৮ শতাংশ শিশু পারিবারিক নির্যাতনের শিকার হয়। তাদের মধ্যে ৪২ থেকে ৬৪ শতাংশ শিশু যৌন ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার। নির্যাতন বন্ধে অবশ্যই নির্দিষ্ট পরিকল্পনা করে বাজেটে বরাদ্দ করতে হবে। তা বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিতে হবে। প্রণয়নকৃত শিশু বাজেট জাতীয় বাজেটের ১৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। যা জিডিপির ২ দশমিক ২ শতাংশ। ৮টি মন্ত্রণালয় দিয়ে শুরু হওয়া শিশু বাজেট এখন ১৩টি মন্ত্রণালয় যুক্ত করা হয়েছে। শিশু অধিকার রক্ষা একটি ক্রস কাটিং ইস্যু। তাই ভবিষ্যতে বাজেটের আকার আরো বড় হবে বলে মন্তব্য করেন তারা। তারা বলেন, ২০১৫ সালে বিশ্ব নেতৃবৃন্দ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) চূড়ান্ত করেছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এসডিজি এর অভীষ্ট ১৬ এর আওতায় শান্তি, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং শিশুর প্রতি সকল প্রকার সহিংসতা বন্ধ করণে উদ্যোগ গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। এজন্য বাজেটে বরাদ্দ ও পরিকল্পনা বাস্তবায়ন এবং পর্যবেক্ষণের সুপারিশ করা হয়। ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী প্রচারাভিযানের অংশ হিসেবে বাংলাদেশে শিশুদের নেতৃত্বে ‘আমি’ই পারি’ শিশুর প্রতি শারীরিক সহিংসতা বন্ধ করতে- প্রচারাভিযান পরিচালনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, সম্প্রতি তিন বছরের বাজেট পর্যালোচনার উদ্যোগ গ্রহণ করে এবং এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে।