All posts by lutfor

আমরা ভয়কে জয় করেছি, নির্বাচনে বিজয় আনুষ্ঠানিকতা মাত্র: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী ও জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নে-অর্জনে জনগণ খুশি, কাজেই আগামী নির্বাচন নিয়ে আমাদের কোনো প্রকার সংকোচ, কোনো প্রকার ভয় নেই। কারণ উন্নয়ন-অর্জন করে আমাদের কর্ম দিয়ে আমরা ভয়কে জয় করে ফেলেছি। নির্বাচনে বিজয় একটা আনুষ্ঠানিকতা মাত্র।

আজ সকালে ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন উপলক্ষে আওয়ামী লীগের ত্রাণ উপকমিটির রিকশা-ভ্যান বিতরণ অনুষ্ঠানে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, বিএনপি এত চেষ্টা করেছে একটা আন্দোলন করার জন্য, মানুষ কিন্তু সাড়া দেয়নি। তার কারণ হচ্ছে, এ দেশের জনগণ বিএনপির নেতিবাচক রাজনীতিকে পছন্দ করে না, প্রত্যাখ্যান করেছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনে জনগণের আস্থা অর্জনের জন্য আমরা তরুণ ভোটার, মহিলা ভোটারদের মন জয় করার জন্য বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করছি। বিএনপি এখন ষড়যন্ত্রের পথে এগোচ্ছে।

দেশি-বিদেশি নানা মহলের সঙ্গে ওঠবস করছে, কীভাবে দেশে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করে নির্বাচনকে ভন্ডুল করা যায়, এ ব্যাপারে গোপন বৈঠক করছে। বিএনপির হাজার হাজার নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার অপেক্ষায় আছে জানিয়ে তিনি বলেন, বিএনপির রাজনীতি এখন তাদের নিজেদের মধ্যে, তাদের গোড়া সমর্থকদের মধ্যে। সাধারণ মানুষ তাদের চায় না। এমনকি আগে যারা বিএনপি সমর্থন করত, কর্মী-সমর্থকেরাও আজকে বিএনপি ছেড়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা এখনো সম্মতি দিচ্ছি না। সারা বাংলায় আমাদের নেতারা, জনপ্রতিনিধিরা জানাচ্ছেন যে, ওমুক জায়গায় বিএনপির নেতা-কর্মীরা যোগ দিতে চায়। আজকে বিএনপির হাজার হাজার কর্মী আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার অপেক্ষায় আছে। নেত্রীর কাছে থেকে আমরা গ্রিন সিগন্যাল পাইনি, সে কারণে আমরা সেই যোগদানে এখনো সম্মত হতে পারছি না। বিএনপির জোয়ারের দিন শেষ, এখন ভাটার টান।

কিম-ট্রাম্প বৈঠক : উ. কোরিয়ার ‘ফাঁদে’ পা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সাথে বৈঠকে বসতে রাজি হওয়ার একদিন পর প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইট করে বলেছেন, সেখানে সমঝোতা হওয়ার ব্যাপারে তিনি আশাবাদী।

কিন্তু এর আগে হোয়াইট হাউজ থেকে বলা হচ্ছিলো, উত্তর কোরিয়া তার পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না নিলে তাদের মধ্যে কোনো বৈঠক হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ মাধ্যমে বলা হচ্ছে, ওয়াশিংটন প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের সাথে আলোচনা না করেই ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতার সাথে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রেসিডেন্টই উত্তর কোরিয়ার নেতার সাথে সাক্ষাৎ করেননি।

দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিনিধি দলের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উনের সাথে বৈঠকের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে সবাইকে চমকে দিয়েছেন।

এর আগে ট্রাম্পের প্রেস সেক্রেটারি স্যারাহ স্যান্ডার্স সাংবাদিকদের বলেছেন, উত্তর কোরিয়া তার পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়ার ব্যাপারে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তার এই মন্তব্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। তিনি আরো বলেন, “সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ না পাওয়া পর্যন্ত এধরনের কোনো বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে না।”

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন এই ঘোষণা দেন তখন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসন আফ্রিকা সফর করছেন। শুক্রবার তিনি সাংবাদিকদের বলেছেন, কিমের সাথে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজে।”

“আমি এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে কথা বলেছি। আমাদের মধ্যে ভালো কথাবার্তা হয়েছে।”

এরপর শনিবার টিলারসন কেনিয়ায় তার পূর্ব নির্ধারিত কিছু কর্মসূচি বাতিল করে দেন। কূটনীতিকরা জানান যে উত্তর কোরিয়ার মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয়ে কয়েকদিন ধরে কাজ করার পর তিনি খুব একটা সুস্থ বোধ করছিলেন না।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধি দলের সদস্যরা যারা সম্প্রতি কিমের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন, তারা বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার লক্ষ্য পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করে দেয়া এবং এ ব্যাপারে তারা অঙ্গীকারও করেছেন। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে দেখা করার আগেই তারা যে এটা শুরু করবেন এরকম কিছু উত্তর কোরিয়ার পক্ষ থেকে বলা হয়নি। বরং আলোচনার স্বার্থে পরমাণু অস্ত্রের পরীক্ষা আপাতত বন্ধ করার বিষয়টি তারা বুঝতে পেরেছে।

ট্রাম্পও টুইট করে বলেছেন, আলোচনার সময় উত্তর কোরিয়া পরমাণু পরীক্ষা না চালানোর কথা দিয়েছে এবং তিনি তাদের এই কথাকে বিশ্বাসও করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার উপর তারা তাদের চাপ অব্যাহত রাখবেন। এ বিষয়ে ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সাথে কথাও বলেছেন। তারা দু’জনেই একমত হয়েছেন উত্তর কোরিয়ার উপর জারি করা নিষেধাজ্ঞা আপাতত বহাল রাখার ব্যাপারে।

চীনা সংবাদ মাধ্যমগুলোতে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে চীনের ভূমিকা যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ সেটা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বীকার করা হয়েছে। তবে উত্তর কোরিয়ার সংবাদ মাধ্যমে কোনো ধরনের বৈঠকের কথাই উল্লেখ করা হয়নি।

তবে যুক্তরাষ্ট্রের পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্ট শুক্রবার নিউ ইয়র্কে জাতিসঙ্ঘে উত্তর কোরিয়ার দূতের একটি বিবৃতি প্রকাশ করেছে যাতে তাদের ‘সর্বোচ্চ নেতার সাহসী সিদ্ধান্তের’ অগ্রগতির কথা স্বীকার করা হয়েছে। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, “কোরীয় উপদ্বীপে শান্তি ও স্থিতি প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।”

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধি দলের প্রাথমিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আগামী মে মাসের মধ্যেই এই বৈঠক হতে পারে। তবে এখনও আলোচনার দিন তারিখ ও স্থান নির্ধারণ করা হয়নি।

তবে সম্ভাব্য স্থান হিসেবে দুটি জায়গার কথা বলা হচ্ছে- দুই কোরিয়ার সীমান্তে সৈন্যমুক্ত এলাকা অথবা চীনের রাজধানী বেইজিং।

দুই কোরিয়ার মধ্যে প্রথমে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার নেতা। পরে উত্তর কোরিয়ার কিম জং আন তার নববর্ষের বার্তায় আকস্মিকভাবে এই আলোচনার প্রস্তাব করেন। এরপর উত্তর কোরিয়া দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিকসে তাদের একটি প্রতিনিধি দল পাঠায় অংশগ্রহণের জন্যে।

অলিম্পিকসের পর দক্ষিণ কোরিয়ার একটি প্রতিনিধি দল পিয়ং ইয়ং-এ গিয়ে কিমের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন। তারপর ওই দলটি ওয়াশিংটনে যান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে তাদের বৈঠকের বিষয়ে অবহিত করার জন্যে।

হোয়াইট হাউজে বৈঠক শেষে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিনিধি দলের একজন সদস্য, দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে বৈঠক করতে কিম প্রস্তুত রয়েছেন এবং পরমাণু কর্মসূচি বন্ধ করার ব্যাপারেও তিনি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, এর আগেও যখন উত্তর কোরিয়ার সাথে শান্তি আলোচনা হয়েছে তখন দেশটি তাদের পরমাণু অস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ রেখেছিল। এবং আলোচনায় তারা যা চেয়েছিল সেসব না পেয়ে হতাশ হওয়ার পরেই তারা আবার পরীক্ষা চালাতে শুরু করে।

অনেকে এই আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রশাসন হয়তো এর মধ্য দিয়ে ‘উত্তর কোরিয়ার পাতা ফাঁদে’ পা দিতে যাচ্ছে।

বিবিসি

ব্যবসায়ীরা ট্যাক্স দিতে চান না : অর্থমন্ত্রী

দেশের ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করবে কিন্তু তারা ট্যাক্স দিতে চান না। তারা বিনা মাসুলে ব্যবসা করতে চান। বিশ্বের কোন দেশের এমন ব্যবস্থা নেই বলে মন্তব্য করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আব্দুল মুহিত।
আজ রোববার সকাল সচিবালয়ে বিসিএস কাস্টমস অ্যান্ড ভ্যাট অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে নতুন ভ্যাট আইন কার্যকর সংক্রান্ত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশে ব্যবসায়ীদের লোভ একটু বেশি। মাশুল দিয়ে তারা ব্যবসা করতে চান না। তারা কোনো ট্যাক্স দিতে রাজি নন। নতুন আইন ঢালাও ভাবে ১৫ শতাংশ ভ্যাট করা হয়েছিল। এছাড়া টেরিপ ভ্যালু বাদ দিয়ে দেযার কখা বলা হয়েছিল। তবে সেটা ঠিকেনি। এখন আগামী যে ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন হবে সেখানে ভ্যাটের হার একের অধিক রাখা হবে।
তিনি বলেন, নতুন ভ্যাট আইন দুই বছরের জন্য স্থগিত করা হয়েছে কিন্তু ব্যবসায়ীরা বলছেন, ভেতরে ভেরতে নতুন ভ্যাট আইন বস্তবায়ন কাজ চলছে এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ভ্যাট আইতো ১৯৯১ সাল থেকে ভ্যাট আইন রয়েছে। সরকার ২০১৯ সালে নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করবে এটা স্বাভাবিক।
মন্ত্রী আরো বলেন, উকে প্রথমে এক রেটে ভ্যাট বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু এখন সেখানে আটটা দশটা রেট রয়েছে। সুতরাং আমি এখন বুঝে ভ্যাটে কিছুটা হাই রেট রাথতে হয়, কিছুট লো রেট রাখতে চায়। সুতরাং আগামীতে যখন নতুন আইন বাস্তবায়ন করা হবে তখন ১৫ শতাংশ একটাতো থাকবেই ১৫ সালের নিচেও একটি রেট থাকবে। অর্থাৎভ্যাটর এক থাকবে না, দুইটি রেট থাকবে।
চলতি বছরের বাজেট বাস্তবায়ন বিষয়ে তিনি বলেন, সবসময় এডিবি বাস্তবায়নে সমস্যা হয়। কিন্তু এবার এডিপির বস্তবায়ন গত ৬ মাসে ৩৫ শতাংশ যা খুব ভালো। অকেকেই বলছে বাজেট বস্তাবয়ন হবে ভালো হবে না। তবে আমার বিশ্বাষ বাজেট বাস্তবায়ন লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী হবে। ৪ লাখ ২৬৬ কোট টাকা থেকে রিভিশন করে ৩ লাখ ৮৫ হাজার করা হয়েছে। কিন্তু আমার মনে হচ্ছে এটা আরো বেড়ে যাবে।
রাজস্ব আদায় বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্যমাত্রা থেকে প্রায় ১১ থেকে ১২ শতাংশ কম হবে। কেনো কমছে এ বিষয়ে বলেন, বিভিন্ন কারণে হয়না। তবে আমরা এসব বিষয় আমরা ওভারকাম করতে পারবো। এবারের রাজস্ব আদায় গত বছরের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি হবে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, ৫০ হাজার ইসিআর মেশিন আমদানি করা হচ্ছে। যেসব ব্যবসায়ীরা এসব মেশিন ব্যবহার করবে তাদের ভ্যাটের উপর ২ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে।
অর্থমন্ত্রী জানান, চলতি বাজেটের বাস্তবায়নের হার ভালো । এডিবি বাস্তবায়নের হারও গতবারের চেয়ে ভালো।আগামী বাজেটে নতুন কাস্টমস আইন উপস্থাপন করা হবে। ভ্যাট দুই রকম হার থাকবে। ভ্যাট হার একটি করা হবে না।

বিশ্বে তৈরি পোশাক কারখানার ব্র্যান্ড এখন বাংলাদেশ

২০১২ সালের নভেম্বরে তাজরীন ও ২০১৩ সালের এপ্রিলে রানা প্লাজা ধসের পর দেশের তৈরি পোশাক খাতের কারখানা সম্পর্কে বিশ্বব্যাপী যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছিল, তা পাল্টে দিয়েছে বাংলাদেশ। তৈরি পোশাক শিল্পে উন্নতমানের সবুজ কারখানা (গ্রিন ফ্যাক্টরি) নির্মাণে সারাবিশ্বে এখন শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংগঠন ইউনাইটেড স্টেটস গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি) হিসেবে, বিশ্বের প্রথম ১০টি উন্নতমানের কারখানার ৭টিরই অবস্থান বাংলাদেশে। সম্প্রতি সংগঠনটি বাংলাদেশের ১৩টি পোশাক কারখানাকে প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে ‘লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন-লিড’ সনদ দিয়েছে। আর গোল্ড সনদ পাওয়া কারখানার সংখ্যা ২০টি এবং সিলভার সনদ পাওয়া কারখানার সংখ্যা ২৭টি। সাধারণভাবে পরিবেশবান্ধব হিসেবে সনদ পাওয়া কারখানার সংখ্যা ৭টি।

পোশাক খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব কারখানাই আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করবে। নেতিবাচক ধারণা দূর করে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে আরও রাখবে শক্তিশালী ভূমিকা। এখন দেশের রফতানি আয়ের ৭৬ শতাংশই আসে তৈরি পোশাক শিল্প খাত থেকে। তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর হিসেবে, এ পর্যন্ত ৬৭টি গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল কারখানা ‘গ্রিন ফ্যাক্টরি’ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ইউএসজিবিসির স্বীকৃতি পেয়েছে। আরও ২২৭টি কারখানা পরিবেশবান্ধব কারখানা হিসেবে গড়ে উঠছে। এগুলো আগামী দুই বছরের মধ্যে এ সনদ পাবে।

অন্যদিকে, প্রতিবেশী ভারতের মাত্র পাঁচটি পোশাক কারখানা লিড সনদ পেয়েছে। সেদেশে এ তালিকায় নাম ওঠানোর জন্য অপেক্ষায় আছে আরও ২০টি কারখানা। তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের প্রতিযোগী পাকিস্তান ও ভিয়েতনাম এ তালিকায় অনেক নিচে অবস্থান করছে।

তৈরি পোশাক শিল্পমালিকদের দাবি, ইউএসজিবিসির তালিকা অনুযায়ী পরিবেশবান্ধব কারখানার মান বিচারে বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় তিনটি কারখানাও বাংলাদেশে। এর মধ্যে দুটি নারায়ণগঞ্জে, অন্যটি পাবনার ঈশ্বরদী ইপিজেডে (রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা) অবস্থিত।

পরিবেশবান্ধব স্থাপনার শর্ত পরিপালন বিবেচনায় প্লাটিনাম, গোল্ড ও সিলভার সনদ দেয় ইউএসজিবিসি। এর বাইরে পরিবেশবান্ধব হিসেবেও সনদ দেওয়া হয়। সব শর্ত পরিপালন করা হলে কারখানাটি প্লাটিনাম হিসেবে বিবেচিত হয়। বাংলাদেশে এরকম কারখানার সংখ্যা ১৩টি। এর পেছনে থাকা কারখানা গোল্ড এবং তারও পেছনে থাকা কারখানা সিলভার হিসেবে সনদ পায়। দেশে গোল্ড ও প্লাটিনাম সনদ পাওয়া কারখানা যথাক্রমে ২০ ও ২৭টি। আর সাধারণভাবে পরিবেশবান্ধব হিসেবে সনদ পাওয়া কারখানা এখন ৭টি।

ইউএসজিবিসির শর্ত অনুযায়ী, পরিবেশবান্ধব কারখানা হিসেবে স্বীকৃতি পেতে যেসব শর্ত পূরণ করতে হয় তা হলো, ১. কারখানা নির্মাণে কী ধরনের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছে; ২. কারখানায় সূর্যের আলোর কী পরিমাণ ব্যবহার হয়; ৩. সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার করা হয় কিনা; ৪. কারখানার নির্দিষ্ট দূরত্বের মধ্যে শ্রমিকদের বাসস্থান আছে কিনা; ৫. স্কুল, বাজার করার ব্যবস্থা বা বাসস্ট্যান্ড রয়েছে কিনা; ৬. সূর্যের আলো ব্যবহার করার পাশাপাশি সৌরবিদ্যুত ব্যবহার এবং বিদ্যুতসাশ্রয়ী বাতি ব্যবহার করা হয় কিনা; ৭. বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করে তা ব্যবহার করা হয় কিনা; ৮. কারখানা নির্মাণে নির্দিষ্ট পরিমাণ খোলা জায়গা রাখা হয়েছে কিনা; ৯. অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা আছে কিনা; ১০. বৈদ্যুতিক ফিটিংস স্থাপন ছাড়াও অগ্নি দুর্ঘটনা এড়াতে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা হয়েছে কিনা।

পৃথিবীর সব দেশ পরিবেশবান্ধব স্থাপনার ক্ষেত্রে ইউএসজিবিসির সনদ পায় না। অনেক দেশই নিজস্ব পরিবেশবান্ধব নীতিমালার আলোকে স্থাপনা তৈরি করে। তবে এজন্য বড় অঙ্কের বিনিয়োগ প্রয়োজন হয়। তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের বিনিয়োগে আসা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। এ জন্য সহজ শর্তে ব্যাংকঋণের বিষয়টি বহুল আলোচিত। বাংলাদেশ ব্যাংকের গ্রিন ফিন্যান্সিংয়ের আওতায় সহজ শর্তে (সিঙ্গেল ডিজিট সুদে) ঋণের ব্যবস্থা রয়েছে।

ইউএসজিবিসির লিডারশিপ ইন এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন (এলইইড বা লিড) সনদ পাওয়া শীর্ষ তালিকায় থাকা কারখানাগুলো হচ্ছে রেমি হোল্ডিংস, প্লামি ফ্যাশন্স, ভিনটেজ ডেনিম স্টুডিও, এসকিউ সেলসিয়াস-২, এসকিউ বিরিকিনা-১, এসকিউ বিরিকিনা-২, জেনেসিস ওয়াশিং ইত্যাদি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘এক্ষেত্রে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তা হলো অনেক টাকা বিনিয়োগ করা এসব কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের কাঙ্ক্ষিত দর পাওয়া। এ ধরনের কারখানা বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাবনা তৈরি করবে নিঃসন্দেহে। এখনই ভালো ক্রয়াদেশ নাও হতে পারে। তবে কারখানা সংস্কারের চলমান গতি অব্যাহত রাখতে হবে এবং অবকাঠামোগত অন্যান্য সুবিধার ক্ষেত্র তৈরি করতে হবে। তখন ধীরে ধীরে এর সুবিধা পাওয়া যাবে। আর এগুলো করতে হলে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ চলমান রাখতে হবে।’

এ প্রসঙ্গে বিজিএমইএর সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘তাজরীন ও রানা প্লাজা দুর্ঘটনার পর সারাবিশ্বে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাত নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা শুরু হয়। গার্মেন্টসের দরাদরিতে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের শক্তি কিছুটা খর্ব হয়। বর্তমানে তৈরি পোশাকের এসব কারখানা গ্রিন কারখানা হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার বিষয়টি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ইতিবাচক ইমেজ গড়ে তুলেছে। এসব কারখানাই আগামীতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে ব্র্যান্ডিং করবে।’

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন,‘ বাংলাদেশের তৈরি পোশাক এখন সারাবিশ্বে পরিচিত। তাজরীন ও রানা প্লাজা ধসের পরের নেতিবাচক অবস্থা কাটিয়ে উঠেছে বাংলাদেশ। গার্মেন্টস পণ্য আগামীতে দেশের রফতানি বাণিজ্যে আরও বেশি অবদান রাখবে।’

বিএনপির পায়ের তলায় মাটি নেই : সেতুমন্ত্রী

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপির পায়ের তলায় আজ মাটি নেই। বিধায় তারা আবোল-তাবোল কথাবার্তা বলছেন।

রবিবার দুপুরে কুমিল্লার দাউদকান্দিতে মেঘনা-গোমতী সেতুর গার্ডার লাঞ্চিং-এর উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ২০১৪ সালের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খালেদা জিয়ার নির্দেশে বিএনপি-জামায়াত যে নৈরাজ্য চালিয়েছে এবং জনগণকে পুড়িয়ে মেরেছে- তা বাংলাদেশের মানুষ ভুলে যায়নি। আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারার কারণে খালেদা জিয়া থেকে জনগণ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। দুর্নীতির মামলায় জেলে যাবার পরেও জনগণ খালেদা জিয়ার জন্য রাস্তায় নামেননি এটাই তার চাক্ষুস প্রমাণ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দাউদকান্দি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মেজর (অব.) মোহাম্মদ আলী সুমন, দাউদকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার আল আমীন, দাউদকান্দি পৌরসভার মেয়র নাইম ইউসূফ সেইন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আমানুল্লাহ এসডু এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।

কক্সবাজারে কোটি টাকার ইয়াবাসহ দু’নারী গ্রেফতার

কক্সবাজার শহরের গোলদিঘীরপাড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইয়বাসহ দু’নারীকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের সদস্যরা। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ২৯ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়।

গ্রেফতাররা হলেন- টেকনাফ উপজেলার শিকদারপাড়ার গুচ্ছগ্রাম এলাকার নির্মল ধরের স্ত্রী বিদ্যাধর (৫০) ও একই এলাকার দুলাল ধরের স্ত্রী কাজল ধর (৩০)।

র‌্যাব-৭ কক্সবাজার ক্যাম্পের ইনচার্জ মেজর মো. রুহুল আমিন জানান, নারী মাদক ব্যবসায়ীরা বিশাল চালানের ইয়াবা লেনদেনের উদ্দেশে কক্সবাজার শহরের গোলদীঘির পাড় এলাকায় অবস্থান করছে এমন খবর পেয়ে অভিযান চালানো হয়। তথ্য অনুসারে নির্ধারিত জায়গায় গিয়ে দু’নারীকে পেয়ে গ্রেফতার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের হাতে থাকা ব্যাগ তল্লাশি করে ২৯ হাজার ৩০০ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবার বাজার মূল্য প্রায় ১ কোটি ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকা।

তিনি আরো জানান, তাদের বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা করে ইয়াবাসহ কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

রফতানির পালে হাওয়া

রফতানির পালে হাওয়া লেগেছে। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৭ দশমিক ৩৮ শতাংশ। চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আট মাসে আয় হয়েছে দুই হাজার ৪৩৯ কোটি ৭০ লাখ মার্কিন ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই আয়ের পরিমাণ ছিল দুই হাজার ২৭১ কোটি ৯২ লাখ ডলার। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, ২০১৭-১৮ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারি মেয়াদে রফতানিতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল দুই হাজার ৪৪০ কোটি ২০ লাখ ডলার, যা শুধু ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল ৩০৩ কোটি ডলার। এর বিপরীতে ফেব্রুয়ারিতে রফতানি হয়েছে ৩০৭ কোটি ২১ লাখ ডলারের পণ্য। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ২৭০ কোটি ৫৯ লাখ ডলার। সেই হিসাবে ফেব্রুয়ারিতে রফতানি বেড়েছে ৩৬ কোটি ৬২ লাখ ডলার বা ১৩ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

২০১৭-১৮ অর্থবছরের আট মাসে দুই হাজার ২৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের তৈরি পোশাক রফতানি হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল এক হাজার ৮৬৩ কোটি ৮৮ লাখ ডলার। এই হিসাবে তৈরি পোশাক রফতানি বেড়েছে আট দশমিক ৬৮ শতাংশ। এর মধ্যে নিটওয়্যার খাতে আয় হয়েছে এক হাজার ১২ কোটি ৫৬ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তিন দশমিক শূন্য পাঁচ শতাংশ বেশি। আর ওভেন খাতের পণ্য রফতানিতে আয় হয়েছে এক হাজার ১৩ কোটি ৩ লাখ ডলার, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে তিন দশমিক ৩৭ শতাংশ বেশি।

২০১৬-১৭ অর্থবছরের জুলাই-ফেব্রুয়ারির চেয়ে চলতি অর্থবছরের আট মাসে হিমায়িত খাদ্য রফতানি আয় সাত দশমিক শূন্য এক শতাংশ বেড়েছে। এছাড়া কৃষিপণ্য রফতানি ১৫ দশমিক ১৯ শতাংশ, পাট ও পাটজাত পণ্য রফতানি ১৪ দশমিক ৬১ শতাংশ এবং হোম টেক্সটাইল পণ্য ১৬ দশমিক ৬০ শতাংশ, প্রস্তুত করা নিত্যপণ্যে সাত দশমিক ২৭ শতাংশ এবং কেমিক্যাল পণ্যে দশমিক ২৭ শতাংশ রফতানি বেড়েছে।

তবে প্লাস্টিক পণ্য রফতানিতে আয় ২১ দশমিক ২০ শতাংশ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি পাঁচ দশমিক ১৫ শতাংশ, ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যে ৩০ দশমিক ৯০ শতাংশ এবং সিরামিক পণ্যে দুই দশমিক১৬ শতাংশ আয় কমেছে।

চাঁদে মোবাইল টাওয়ার বসানোর প্রস্তুতি

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য এবার চাঁদে মোবাইল টাওয়ার বসানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এ কাজটি করছে ভোডাফোন নামে একটি মোবাইল ফোন অপারেটর। এ প্রকল্পে ভোডাফোনের সঙ্গে আছে নোকিয়া এবং গাড়ি প্রস্তুতকারক সংস্থা অডি।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে ২০১৯-এর মধ্যেই চাঁদে বসবে প্রথম মোবাইল টাওয়ার। এতে পৃথিবী থেকে মোবাইল সিগন্যাল পাঠানো হবে, যা আবার চাঁদ থেকে পৃথিবীতে ফেরত আসবে।

নতুন এ টাওয়ার স্থাপনের ফলে চাঁদ থেকে চতুর্থ প্রজন্মের ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভিডিও স্ট্রিমিং পৃথিবীতে পাঠানো সম্ভব হবে। চাঁদের মাটিতেই বসানো হবে সেই টাওয়ার।

ভোডাফোন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, চাঁদে টাওয়ার বসানোর যাবতীয় প্রযুক্তিগত সাহায্য করছে নোকিয়া। ২০১৯ সালে কেপ ক্যানাভেরাল থেকে এলন মাস্কের কোম্পানি ‘স্পেস এক্স’-এর ‘ফ্যালকন ৯’ রকেটে করে চাঁদে পাঠানো হবে ওই টাওয়ার।

বেসরকারি মহাকাশ প্রতিষ্ঠান স্পেস এক্সের উদ্যোগে সেটাই হতে চলেছে বিশ্বের প্রথম বেসরকারি চন্দ্রাভিযান। চাঁদে মানুষের পদার্পণের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এ টাওয়ার স্থাপন করা হবে।

এপ্রিলে মহাকাশে যাচ্ছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

দিনক্ষণ এখনও চূড়ান্ত না হলেও দেশের প্রথম স্যাটেলাইট ‘বঙ্গবন্ধু-১’ এপ্রিলেই মহাকাশে যাচ্ছে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। মার্চের শেষ সপ্তাহের (২৬-৩১ মার্চ) যেকোনও দিন স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হওয়ার কথা থাকলেও উৎক্ষেপণ-সংস্থার কাছ থেকে চূড়ান্ত দিনক্ষণ না পাওয়ার কারণে এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই আসতে পারে সেই মাহেন্দ্রক্ষণটি। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

এ ব্যাপারে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্পের প্রকল্প-পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মেজবাহউজ্জামান জানান, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়ের নেতৃত্বে বাংলাদেশ থেকে ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলের উপস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা থেকে এ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা হবে। সেখানে আরও উপস্থিত থাকবেন তথ্যপ্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির চেয়ারম্যান ড. শাহজাহান মাহমুদসহ এ প্রকল্পের পরিচালক, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদার ও বিটিআরসির কর্মকর্তারা। স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠানটি অনলাইনে সম্প্রচার করা হবে। সেখান থেকে নিয়ে বিটিভি সম্প্রচার করতে পারে।’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়ে দেশে থেকেই স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠান পর্যবেক্ষণ করবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।

প্রকল্প-পরিচালক প্রকৌশলী মোহাম্মদ মেজবাহউজ্জামান আরও বলেন, ‘অফিসিয়ালি এখনও তারিখ জানানো হয়নি। আমরা অপেক্ষা করছি। তবে এপ্রিলেই এটা হবে। তারিখ নির্দিষ্ট করে সংশ্লিষ্টরা (যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস এক্স নামক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রতিষ্ঠান) আমাদের অন্তত ১৫ দিন আগে জানাবেন।’ ১৫ মার্চের পরে তারিখটি জানা যেতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে এ পর্যন্ত কয়েকবার স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের তারিখ বদলানো হয়েছে। প্রথমত, বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট ২০১৭ সালের ১৬ ডিসেম্বরে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়। পরে নতুন তারিখ ঠিক হয় এ বছরের ১ মার্চ। আবারও পরিবর্তন হয় সম্ভাব্য তারিখ। নতুন তারিখ ধরা হয় মার্চের শেষ সপ্তাহ বা ২৬-৩১ মার্চের মধ্যে যে কোনোদিন। কিন্তু এ সময়ের মধ্যেও মহাকাশে উড়ছে না বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট। এখন এপ্রিলের যেকোনও দিন উৎক্ষপণের চূড়ান্ত সময় নির্ধারণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ উপলক্ষে সারাদেশে যেন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করে সেজন্য সেমিনার, সিম্পোজিয়ামসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ অনুষ্ঠান বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচার করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

স্যাটেলাইটটি নির্মাণ করেছে ফ্রান্সের থ্যালাস অ্যালেনিয়া নামের একটি প্রতিষ্ঠান। স্যাটেলাইটের কাঠামো তৈরি, উৎক্ষেপণ, ভূমি ও মহাকাশের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ভূ-স্তরে দু’টি স্টেশন পরিচালনার দায়িত্ব এ প্রতিষ্ঠানটিরি। এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। স্যাটেলাইটে থাকছে ৪০টি ট্রান্সপন্ডার। এগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে ২০টি ব্যবহার করবে বাংলাদেশ। অন্যগুলো ভাড়া দেওয়া হবে। স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ এর গ্রাউন্ড স্টেশন তৈরি করা হয়েছে গাজীপুর ও রাঙ্গামাটিতে।

উল্লেখ্য, ১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রির অরবিটাল স্লটে (নিরক্ষরেখায়) উড়বে বাংলাদেশের নিজস্ব প্রথম স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১। বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের জন্য ইন্টারস্পুটনিকের কাছ থেকে ১৫ বছরের জন্য অরবিটাল স্লট বা নিরক্ষরেখা (১১৯ দশমিক ১ ডিগ্রি) লিজ নিয়েছে বাংলাদেশ। ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার ব্যয়ে এ স্লট বরাদ্দ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) সঙ্গে রাশিয়ার ইন্টারস্পুটনিক ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন অব স্পেস কমিউনিকেশনের মধ্যে একটি চুক্তি সই হয়।

চুক্তি অনুযায়ী বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ হওয়ার কথা ২০১৭ সালের ডিসেম্বরে। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সেসময় উৎক্ষেপণ সম্ভব হয়নি। ইন্টারস্পুটনিকের সঙ্গে ১৫ বছরের চুক্তি হলেও এ চুক্তি তিন ধাপে ৪৫ বছর পর্যন্ত বাড়ানো যাবে। এই প্রকল্পে সরকারের যে টাকা খরচ হবে তা স্যাটেলাইট ভাড়া দিয়ে ৮ বছরে তুলে এনে এই প্রকল্পকে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা

কিমের আমন্ত্রণে ট্রাম্পের সাড়া

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে দেখা করার আমন্ত্রণে সায় জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দুই নেতা ‌’যত তাড়াতাড়ি সম্ভব’ একে অপরের সঙ্গে দেখা করতে আগ্রহও দেখিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দক্ষিণ কোরিয়ার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের একটি প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ট্রাম্পের হাতে কিম জং উনের আমন্ত্রণ তুলে দেন। ট্রাম্প তা সাদরে গ্রহণ করেছেন বলে পরে সাংবাদিকদের জানান প্রতিনিধিরা।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে চলা উত্তেজনা ও কথার লড়াইয়ের পর দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের এ দেখা করার সম্ভাবনাকে ‘ব্রেকথ্রু’ হিসেবে দেখছেন পর্যবেক্ষকরা।

কিম পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছেন এবং ‘পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসার প্রতিশ্রুতি’ দিয়েছেন বলেও দাবি দক্ষিণ কোরীয় প্রতিনিধিদের।

দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়ংচ্যাংয়ে গত মাসে অনুষ্ঠিত শীতকালীন অলিম্পিককে ঘিরে দুই কোরিয়ার সম্পর্কের বরফ গলে; তারই ধারাবাহিকতায় গত সপ্তাহে সিউলের প্রতিনিধিরা পিয়ংইয়ংয়ে উত্তরের শীর্ষ নেতার সঙ্গে এক অভূতপূর্ব বৈঠকে অংশ নেন।

সেখান থেকে তারা যুক্তরাষ্ট্রে এসে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হাতে কিমের আমন্ত্রণ পৌঁছে দেন। ট্রাম্প এর আগে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে আলোচনার ‘কোনো সম্ভাবনা’ নেই বললেও কিমের আমন্ত্রণকে ‘অসাধারণ অগ্রগতি’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

তবে সুনির্দিষ্ট কোনো চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত পিয়ংইয়ংয়ের ওপর দেওয়া নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।