All posts by lutfor

আমাকে গুপ্তহত্যার চেষ্টা চলছে: মমতা

কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাকে হত্যার জন্য ভাড়াটে খুনি ঠিক করেছে দাবি করে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তার অবর্তমানে দলের নেতৃত্ব কার হাতে যাবে তা তিনি ঠিক করে রেখেছেন।

পশ্চিমবঙ্গের বাংলা ভাষার টেলিভিশন চ্যানেল ‘জি টোয়েন্টি ঘটনা’ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মমতা বলেন, “আমার কাছে তথ্য আছে, কয়েকটি রাজনৈতিক দল…. আমি তাদের নাম বলবো না, তারা আমাকে হত্যার চেষ্টা করছে। তারা আমাকে হত্যার জন্য অর্থের বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি ঠিক করেছে। কিন্তু আমি ভয় পাইনি।”

পুলিশ তাকে অধিক নিরাপদ সরকারি বাংলোতে বসবাস শুরু করার পরামর্শ দিয়েছে ইঙ্গিত দিয়ে তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।

মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার আগে থেকেই কলকাতার হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটে নিজের একতলা ভবনে বসবাস করেন মমতা। মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পরও সরকারি বাংলোতে না উঠায় পুলিশকে তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বেগ পোহাতে হয়।

এরই মধ্যে একটি ‘পলিটিক্যাল উইল’ প্রস্তুত করেছেন জানিয়ে মমতা আরও বলেন, তার অবর্তমানে তার দলের টিকে থাকা নিশ্চিত করার কাজ তিনি করে রেখেছেন।

“আমার অবর্তমানে কে দল চালাবে, কে সরকার চালাবে তার সবই আমি লিখে রেখেছি। আমার জরুরি পরিকল্পনা প্রস্তুত আছে।”

মালয়েশিয়ার নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিন: ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি সরকারকে বলবো-মালয়েশিয়ার দিকে তাকিয়ে দেখুন, দুর্নীতি করলে, জনগণের বাইরে গেলে, গণতন্ত্রের বাইরে চলে গেলে সকল শক্তি, প্রশাসন দিয়েও জনমতকে প্রতিহত করা যায় না। মালয়েশিয়ায় সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। অনেক চেষ্টা করেও সেখানকার সরকার ক্ষমতায় থাকতে পারেনি। শেষ চেষ্টাও করেছে শপথ না করানোর জন্য। মাহাথির মোহাম্মদ ৫ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলেন যে, এখান থেকে আমি শপথ না নিয়ে যাবো না। শেষ পর্যন্ত সরকার পরাজিত হয়েছে। আমাদের সরকারকে বলবো-এটা থেকে শিক্ষা নিন। এখনো সময় আছে।

শুক্রবার নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ‘দেশনেত্রীর রাজনীতি, সংগ্রাম ও সফলতার ৩৪ বছর’ শীর্ষক এক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রদর্শনীর আয়োজন করে বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট রিসার্স সেন্টার। দলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুলের পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমানউল্লাহ আমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবেদ রাজা, ফরহাদ হোসেন আজাদ, আমিনুল ইসলাম, ন্যাশনালিস্ট রিসার্চ সেন্টারের সদস্য আলোকচিত্রী বাবুল তালুকদার বক্তব্য রাখেন।

অবিলম্বে খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেবার জন্য তাকে অন্যায়ভাবে সাজা দেয়া হয়েছে, এখন তাকে কারাগারে রাখা হয়েছে। সম্ভবত তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যাকে হাইকোর্টে জামিন দেয়ার পরে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তার জামিনকে স্থগিত করে শুনানি করেছে।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, দেশবাসীর কাছে আমার আহবান থাকবে যে, আসুন আমরা সবাই জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করি। জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করে আমরা এই সরকারকে পরজিত করি। জনগণের একটা শাসন প্রতিষ্ঠা করি- এই হোক আমাদের আজকের শপথ।

বেগম খালেদা জিয়ার আত্মজীবনী লেখা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, তার ওপর বই লেখা হচ্ছে, তার আত্মজীবনী লেখা হচ্ছে। আমি বিশ্বাস করি, সে আত্মজীবনীতে আমরা এমন কিছু জিনিস পাব, যা আমরা অনেকেই জানি না।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, আজকে নির্বাচন নিয়ে তারা নাটক করছে, প্রহসন করছে। গাজীপুর নির্বাচন নিয়ে এমন একটা কাজ করলো যেটা জনগণ বুঝে নিয়েছে যে কারা করছে, কীভাবে করছে। খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিদিন গ্রেপ্তার করা হচ্ছে আমাদের নেতা-কর্মীদেরকে। এমনকি এজেন্ট যারা হবেন তাদেরকে পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। পুলিশকে দিয়ে তারা গোটা নির্বাচনের মাঠকে দখল করে নিচ্ছে। আওয়ামী লীগ তো মাঠে নেই, মাঠে পুলিশ। পুলিশ আজকে আমাদের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এরকম রাষ্ট্র তৈরি করেছেন সরকার। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে শেষ হয়ে গেছে এবং মিডিয়াকে আজকে সরকার নিয়ন্ত্রণ করছে। বিচার বিভাগকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

বিএনপিকেই মালয়েশিয়ার নির্বাচন থেকে শিক্ষা নিতে বললেন ওবায়দুল কাদের

বিএনপিকেই মালয়েশিয়া থেকে শিক্ষা নিতে বলেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, যে দলের চেয়ারপারসন দুর্নীতির দায়ে কারাগারে এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দণ্ড মাথায় নিয়ে বিদেশে পলাতক, তাদেরই মালয়েশিয়ার নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেওয়া উচিত।

আজ শনিবার আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া উপকমিটি আয়োজিত এক সেমিনারে কাদের এসব মন্তব্য করেন।

মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানোর মতো সাফল্যের পরও যারা সরকারকে অভিনন্দন জানাতে কার্পণ্য করে তাদের দেশপ্রেম নিয়ে সন্দেহ আছে বলেও জানান কাদের। আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া উপকমিটি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম সংলগ্ন শেখ রাসেল রোলার স্কেটিং কমপ্লেক্সে মাদক, সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ নিরসন শীর্ষক সেমিনারের আয়োজন করে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ে বিএনপি কোনো কথা বলে না। এমনকি তারা দেশের কোনো সাফল্যও মেনে নিতে চায় না। বিএনপি যেনতেনভাবে শুধু ক্ষমতায় যেতে চায় উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের এ নেতা বলেন, বিএনপি নিজেরা ক্ষমতায় যেতে পারুক বা না পারুক শেখ হাসিনাকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চায়।

মালয়েশিয়ার নির্বাচন থেকে আওয়ামী লীগের শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের জবাবে কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ নয়, বিএনপিরই শিক্ষা নেওয়া উচিত।

মালয়েশিয়ার নির্বাচনে ৯২ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদ বিজয়ী হয়ে আবারও প্রধানমন্ত্রী হন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওই নির্বাচন থেকে শিক্ষা নেওয়ার জন্য ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এ বক্তব্যের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, মালয়েশিয়ার নির্বাচন থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়ার কিছু নেই, প্রয়োজনও নেই। বিএনপি একটি দুর্নীতিবাজ দল। তাদেরই উচিত মালয়েশিয়া থেকে শিক্ষা নেওয়া।

বিএনপির আগামী জাতীয় নির্বাচনে অংশগ্রহণের বিষয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না এলে নির্বাচন বা গণতন্ত্রের কোনো ক্ষতি হবে না।

১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন

আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অনুমোদন দেয়া হয়েছে। আকার হবে ১ লাখ ৭৩ হাজার কোটি টাকা। এর বাইরে স্বায়ত্ব শাসিত সংস্থার নিজস্ব অর্থায়নে ৭ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) বৈঠকে এটি অনুমোদন দেয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভায় সভাপতিত্ব করেন। সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সভার বিস্তারিত তথ্য ব্রিফিং করেন।

মন্ত্রী জানান, অনুমোদিত এডিপিতে ১৪৫২টি প্রকল্প রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বিনিয়োগ প্রকল্পর সংখ্যা ১২২৭টি, কারিগরি প্রকল্প ১১৭টি, জেডিসিএফ দুটি প্রকল্প রয়েছে। এর বাইরে স্বায়ত্বশাসিত প্রকল্পের সংখ্যা ১০৫টি।

পরিকল্পনা সচিব জিয়াউল ইসলাম বলেন, ‘এডিপিতে একটি প্রকল্প বাদ পড়েছিল। সেটা যুক্ত করা হয়েছে।’

কামাল বলেন, ‘২০১৭-১৮ অর্থবছরের অর্জন, বাস্তবতা ও সক্ষমতা বিবেচনা করে এই এডিপির আকার ধরা হয়েছে। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমরা বিশ্বের অন্য দেশের চেয়ে ভালো অবস্থায় আছি।’

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন মাহাথির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ৯২ বছরের মাহাথির মোহাম্মদ মালয়েশিয়ার ১৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। এর মধ্য দিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীন রাষ্ট্রনেতা হলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় রাত ৯টা ৫৭ মিনিটে রাজধানী কুয়ালালামপুরে প্রাক্তন বিরোধী দলীয় জোট পাকাতান হারাপানের নেতা মাহাথিরকে শপথ পড়ান মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান মুহাম্মদ চতুর্থ।

শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মাহাথিরের স্ত্রী ড. সিটি হাসমাসহ জোটের শীর্ষ নেতারা।

বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে মাহাথির জানিয়েছিলেন, তার প্রাক্তন ঘনিষ্ঠ সহযোগী আনোয়ার ইব্রাহিমের স্ত্রী ড. ওয়ান আজিজাহকে উপপ্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন।

১৯৮১ সাল থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত একটানা মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন মাহাথির। বুধবারের জাতীয় নির্বাচনে মাহাথিরের জোট ২২২টি আসনের মধ্যে ১১৩টিতে জয় পায়।

গাজীপুর সিটিতে ২৮ জুনের মধ্যে নির্বাচনের নির্দেশ

গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের ওপর সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের দেয়া স্থগিতাদেশ বাতিল করে আগামী ২৮ জুনের মধ্যে নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছেন আপিল বিভাগ।

বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

গাজীপুরের নির্বাচন স্থগিত করে হাইকোর্টের দেয়া আদেশের বিরুদ্ধে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুই মেয়রপ্রার্থীর আবেদন এবং নির্বাচন কমিশনের আপিলের পরিপ্রেক্ষিতে এ রায় দেন আপিল বিভাগ।

এর আগে সকাল পৌনে ১০টায় তিন পক্ষের আপিল শুনানি শুরু হয়। বেলা ১১টা থেকে সাড়ে ১১টা পর্যন্ত বিরতি দিয়ে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত টানা তিন পক্ষের শুনানি চলে। বক্তব্য দেন রিট আবেদনকারীর পক্ষের আইনজীবীও।

শুনানি শেষে ‘একটু পরেই আদেশ দেয়া হবে’ জানিয়ে এজলাস ছেড়ে খাসকামরায় যান প্রধান বিচারপতিসহ অন্য বিচারপতিরা। পরে দুপুর ১টার দিকে আদালতে এসে আদেশ দেন আপিল বিভাগ।

এতে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশ বাতিল করে আগামী ২৮ জুনের মধ্যে গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেয়া হয়।

শুনানিতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন মাহমুদ, বিএনপির প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের পক্ষে জয়নাল আবেদীন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলমের পক্ষে এম আমিন উদ্দিন এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষে ওবায়দুল রহমান মোস্তফা অংশ নেন।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, ১৫ মে গাজীপুরে ভোট করতে সব প্রস্তুতি এগিয়ে নেয়া হচ্ছিল। সে অনুযায়ী প্রার্থীরাও প্রচারে ব্যস্ত ছিলেন। জমেও উঠেছিল প্রচার।

কিন্তু সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের ছয়টি মৌজা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনে অন্তর্ভুক্তির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ওই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এবিএম আজহারুল ইসলাম সুরুজ একটি রিট আবেদন করলে হাইকোর্ট গত ৬ মে এ সিটির নির্বাচন তিন মাসের জন্য স্থগিত করে দেন।

সেই সঙ্গে শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের ছয়টি মৌজা গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের অন্তর্ভুক্ত করে জারি করা গেজেট এবং সম্প্রতি গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের তফসিল কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।

পর দিন ৭ মে হাইকোর্টের স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে বিএনপি মনোনীত মেয়রপ্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার ও ৮ মে আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়রপ্রার্থী মো. জাহাঙ্গীর আলম আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন। এর পর বুধবার আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আবেদন করা হয়।

বাড়ল অপেক্ষার প্রহর

সবই ঠিক ছিল। শুরু হয়েছিল ক্ষণ গণনা। শেষ মুহূর্তে এসে হলো না। অনেক অপেক্ষা আর উত্তেজনার মধ্যে কোটি মানুষ অপেক্ষা করছিল ইতিহাসের সাক্ষী হওয়ার। তাদের অপেক্ষা আরেকটু দীর্ঘ হলো। বাংলাদেশের প্রথম স্যাটেলাইট (কৃত্রিম উপগ্রহ) বঙ্গবন্ধু-১ ভোররাত ৩টা ৪৭ মিনিটে উৎক্ষেপণের কথা ছিল। কিন্তু উৎক্ষেপণের কয়েক সেকেন্ড আগে তা স্থগিত করা হয়েছে।

ঠিক কী কারণে স্যাটেলাইটটির উৎক্ষেপণ স্থগিত করা হলো তাৎক্ষণিকভাবে তা জানায়নি স্পেসএক্স। তবে শুক্রবার দিবাগত রাত ২টা ১৪ মিনিট থেকে ৪টা ২১ মিনিটের মধ্যে বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণের নতুন সময় ঠিক করা হয়েছিল। স্পেসএক্সের ওয়েবসাইটে এই তথ্য জানানো হয়েছিল।

এদিকে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সামান্য ত্রুটির কারণে ২৪ ঘণ্টা পিছিয়ে গেছে বঙ্গবন্ধু–১ স্যাটেলাইটের উৎক্ষেপণ।

উৎক্ষেপণ দেখতে কেনেডি স্পেস সেন্টারে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তথ্য ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। তথ্য প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিমের নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রায় ৩০ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দলও সেখানে উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক ও বিটিআরসির চেয়ারম্যান শাহজাহান মাহমুদ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

লাইলাতুল বরাত : করণীয় ও বর্জনীয়

শাবান মাসের পঞ্চদশ রজনী তথা শবেবরাত মুসলিম উম্মাহর কাছে একটি মহিমান্বিত, তাৎপর্যমণ্ডিত ও ফজিলতপূর্ণ রাত। রাসূল (সা.) হাদিসে এ মহিমান্বিত রাতকে ‘লাইলাতুন্ নিসফ্ মিন’ শাবান ১৫ শাবানের রাত বলেছেন।

ফার্সি শব্দ ‘শব’ অর্থ রাত/রজনী। আর বারাআত অর্থ মুক্তি, নিষ্কৃতি, অব্যাহতি, পবিত্রতা ইত্যাদি। সুতরাং শবে বরাতের শাব্দিক অর্থ দাঁড়ায়- মুক্তি, নিষ্কৃতি ও অব্যাহতির রজনী। এ রাতে যেহেতু আল্লাহ তা‘আলা পাপী লোকদের ক্ষমা করেন, নিষ্কৃতি দেন ও জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন, সেহেতু এ রাতকে লাইলাতুল বারাআত বা শবে বরাত বলা অযৌক্তিক নয়।

এই রাতের ফজিলত :

** এ প্রসঙ্গে হযরত আয়শা (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত আছে যে, নবী করিম (সা.) হযরত আয়শা (রা.) কে সম্বোধন করে বললেন, হে আয়শা! এ রাতে কি হয় জান? হযরত আয়শা (রা.) বললেন, আল্লাহ ও তাঁর রাসূলই ভালো জানেন। রাসূল (সা.) বললেন, এ রাতে আগামী বছর যত শিশু জন্ম নিবে এবং যত লোক মারা যাবে তাদের নাম লেখা হয়, মানুষের বিগত বছরের সব আমল আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয় এবং মানুষের রিজিক অবতীর্ণ হয়। (মিশকাত শরীফ ১ম খ- পৃ. ১১৫)

*** হযরত উসমান (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন, ১৫ শাবান রাতে এ শবে বরাত থেকে পরবর্তী শবে বরাত পর্যন্ত মানুষের বয়স নির্ধারিত হয়। এমনকি এ সময়ের মধ্যে কেউ তো বিয়ে করে তার সন্তান জন্ম নেয় অথচ দুই শাবানের অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে যারা মারা যাবে তাদের তালিকায় তার নাম রয়েছে।

শবে বরাতের করণীয় :

শবে বরাত মহান বিধাতার পক্ষ থেকে উম্মতে মুসলিমার জন্য এক বিশেষ উপহার, তাই এ রাতে আমাদের করণীয় ইবাদাত সম্পর্কে নিম্নে আলোচনা করা হল :

** রাত জেগে ইবাদাত করা। যেমন- নফল নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির, তওবা-ইস্তিগফার ইত্যাদি। কেননা হাদিসে পাকে এসেছে- এ রাতে সূর্যাস্তের সাথে সাথে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীর আকাশে নেমে আসেন এবং ফজর পর্যন্ত মানুষকে তাঁর কাছে ক্ষমা, রোগ মুক্তি, জাহান্নাম থেকে মুক্তি, রিজিক ইত্যাদি বৈধ প্রয়োজনীয় সবকিছু প্রার্থনা করার জন্য আহ্বান করতে থাকেন।

হযরত আবু বকর (রা.) নবী করিম (সা.) থেকে বর্ণনা করেছেন, নবী করিম (সা.) ইরশাদ করেন- আল্লাহ তায়ালা শবে বরাতে পৃথিবীর আকাশে নেমে আসেন এবং কাফের-মুশরিক ও হিংসুক ছাড়া সবাইকে ক্ষমা করেন।

হাদিসের ব্যাখ্যায় এসেছে এ ধরনের লোকেরাও যদি খালেছভাবে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে এবং ভবিষ্যতে আর কুফরি, শেরেকি ও হিংসা করবে না বলে ওয়াদা করে তবে আল্লাহ এদেরও ক্ষমা করে দেন।

পরদিন রোজা রাখা, কেননা রাসূল (সা.) ইরশাদ করেছেন- ১৫ শাবানের রাত জেগে ইবাদাত কর এবং পরদিন রোজা রাখ।

*** যতদূর সম্ভব অনাড়ম্বরভাবে কবর জিয়ারত করা। যেমন হাদিসে পাকের ইরশাদ : হযরত আয়শা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি এক রাতে রাসূল (সা.) কে হারিয়ে ফেললাম। অতঃপর আমি তাঁকে খুঁজতে বের হলাম। অবশেষে তাকে জান্নাতুল বাকীতে পেলাম। আমাকে দেখে তিনি বললেন, আয়শা তুমি কি আশঙ্কা করছ যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তোমার প্রতি জুলুম করবেন? হযরত আয়শা বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল- আমি ধারণা করেছিলাম, আপনি হয়তো আপনার অন্য কোন স্ত্রীর কাছে গিয়েছেন। অতঃপর রাসূল (সা.) ইরশাদ করেন, ১৫ শাবান আল্লাহ তা‘আলা পৃথিবীর আকাশে অবতরণ করেন এবং বনু-কাল্ব গোত্রের মেষের পশম অপেক্ষা অধিক লোককে ক্ষমা করেন। (তিরমিযী- ১ম খঃ পৃ. ১৫৬) উল্লেখ্য, আরবে বনু কালবের অধিক মেষ ছিল।

শবে বরাতে বর্জনীয় :

রাসূল (সা.) স্বীয় জীবন মোবারকে এ রাত বারবার পেয়েছেন, আমল করেছেন। এ রাতে কি করতে হবে, কি ভাবে করতে হবে তা বলে এবং সাহাবায়ে কেরামের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করে আমাদের শিখিয়ে গেছেন। তারপর সাহাবায়ে কিরাম, তাবেয়ীন, তাবে তাবেয়ীন এবং যুগে যুগে ওলামা ও মাশাইখে কিরাম এ রাতে ইবাদাত করে গেছেন। তাদের রেখে যাওয়া আদর্শই হুবহু আমাদের অনুসরণ/অনুকরণ করতে হবে। নিজের পক্ষ থেকে বাড়ানো-কমানোর কোনই অবকাশ নেই। আমাদের দেশে শবে বরাতে প্রচলিত কিছু বর্জনীয় কার্যকলাপ নিম্নে পেশ করা হলো।

** অনেকেই এ রাতে মহা ধুম-ধামে হালুয়া রুটির ব্যবস্থা করেন, যার সাথে শবে বরাতের নূন্যতম কোন সম্পর্ক নেই। কোরআন, হাদিস, ইজমা ও কিয়াসের কোন ভিত্তি নেই। বরং এ পবিত্র রাতে হালুয়া রুটি ইবাদাতে বিঘ্ন ঘটায়। এর পেছনে পরে মানুষ বঞ্চিত হয় আল্লাহ প্রদত্ত রহমত, মাগফিরাত ও নাজাত থেকে। কাজেই অন্তত এ রাতে এটা বর্জনীয় (ফাতাওয়ায়ে মাহমুদিয়া)।

*** অনেকেই এ রাতে আতশবাজি, আলোকসজ্জা, শোরগোল ও হৈ চৈ করে থাকেন যা চরম বিদআত কুসংস্কার, গুণাহের কাজ ও হারাম। এ রাত তো কোন আনন্দ উৎসবের রজনী নয়। অধিকন্তু এটা অপচয়ও বটে। ইসলামে অপচয় করা কবিরা গুণাহ, মহাপাপ। পবিত্র কোরআনে পাকে আল্লাহ পাকের ঘোষণা তোমরা অপচয় কর না নিশ্চয় অপচয়কারীকে আল্লাহ ভালোবাসেন না। (সূরা আ’রাফ আয়াত. ৩১) পবিত্র কোরআন পাকে অন্য স্থানে অপচয়কারীকে শয়তানের ভাই বলে আখ্যা দেয়া হয়েছে। নিশ্চই অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই (বনী ইসরাইল – ২৭)

আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আমাদের যথাযথভাবে শবেবরাত পালন করার তৌফিক দান করুক। আমীন

অনুমোদন পেয়েছে নতুন ২টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়

আরো দুটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদন দিয়েছে সরকার। অনুমোদন পাওয়া বিশ্ববিদ্যালয় দুইটি হলো- বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয় ও শাহ মাখদুম ম্যানেজমেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়।

এর আগে দেশে অনুমোদিত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ছিল একশ। এ নিয়ে অনুমোদন পাওয়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০২।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, অনুমোদিত বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়টি বান্দরবান শহরে স্থাপন করা হবে। এটির উদ্যোক্তা বান্দরবানের এমপি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং। তবে তার সঙ্গে বান্দরবানের কয়েকজন ব্যবসায়ীও রয়েছেন। অন্যদিকে রাজশাহী শহরে স্থাপন করা হবে শাহ মাখদুম ম্যানেজমেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়। স্থানীয় ব্যবসায়ী এবিএম মুকসুল হক এটির উদ্যোক্তা। তার সঙ্গে এ বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে রাজশাহীর একজন এমপির পৃষ্ঠপোষকতা রয়েছে বলে জানা গেছে।

এর আগে চলতি মাসে আরও দুইটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন দেয় সরকার। সে দুই বিশ্ববিদ্যালয় হলো- খুলনায় ‘খুলনা খান বাহাদুর আহছানউল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয়’ ও রাজশাহীতে ‘আহছানিয়া মিশন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’। দুইটি বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রতিষ্ঠাতা ঢাকা আহছানিয়া মিশনের চেয়ারম্যান কাজী রফিকুল আলম। ‘আহছানউল্লাহ ইউনিভার্সিটি অব সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি’নামের আরও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন রয়েছে তার নামে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন-২০১০ এর ৩৬ ধারা অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিশ্রুতিতে এবং একই আইনের ৭ এর ১ ও ২ ধারা অনুযায়ী ২৩টি শর্তে ২৩টি শর্তে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় দুটি প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্নের পাশাপাশি সেগুলোর বিরুদ্ধে শিক্ষা বাণিজ্যেরও অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে স্থায়ী ক্যাম্পাসে যেতে সরকার ছয় দফা সময় দিলেও এখন পর্যন্ত ৩৩টি বিশ্ববিদ্যালয় সে শর্ত পূরণ পারেনি।

ইউরোপে ১৬ বছরের নিচে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার নিষিদ্ধ

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্তর্ভূক্ত দেশগুলোতে ১৬ বছরের কম বয়সী কেউ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে পারবে না। ইউরোপের বিভিন্ন দেশে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য নিজেদের প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা আনতে চলেছে বার্তা আদান-প্রদানে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় প্রতিষ্ঠানটি।

হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে সর্বনিম্ন বয়সসীমা ১৩ বছর। কিন্তু ইউরোপে তথ্যের গোপনীয়তা বিধানের নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী মে মাস থেকে নিজেদের নীতিমালায় পরিবর্তন আনতে যাচ্ছে হোয়াটসঅ্যাপ।

কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই যে কেউ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করার আগে তাদের বয়স নিশ্চিত করতে হবে। তবে ব্যবহারকারীদের প্রকৃত বয়স কিভাবে যাচাই করা হবে সে বিষয়টি এখনও নিশ্চিত নয়। ২৫ মে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জেনারেল ডেটা প্রটেকশন রেগুলেশন (জিডিপিআর) কার্যকর হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন কোম্পানী কিভাবে তথ্য ব্যবহার করবে সে বিষয়ে জানানো হবে। ব্যবহারকারীদের নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য মুছে ফেলার অধিকার রয়েছে। নিজেদের ব্যক্তিগত তথ্য তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন।

ব্যবসায়িক উদ্দেশে যেন শিশুদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করা না যায় এবং তাদের তথ্য ব্যবহার করে যেন কোনো প্রোফাইল তৈরি করা না যায় সে বিষয়ে শিশুদের সুরক্ষায় নির্দিষ্ট ব্যবস্থা অন্তর্ভূক্ত থাকবে। তবে ইউরোপের বাইরে বিশ্বের অন্যান্য দেশে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারে সর্বনিম্ন বয়সসীমা ১৩ বছর রাখার পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।