All posts by lutfor

ক্যামেরা ট্রায়ালে খালেদার বিচার হচ্ছে না: প্রধানমন্ত্রী

বিএনপির চেয়ারপাসন খালেদা জিয়ার বিচার ক্যামেরা ট্রায়ালে হচ্ছে না দাবি করে প্রাধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এটা ক্যামেরা ট্রায়াল নয়। পুরো দরজা খোলাই ছিল। এটা ক্যামেরা ট্রায়াল হলো কীভাবে?

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ক্যামেরা ট্রায়ালে কোথায় বিচার হচ্ছে? দরজা তো খোলাই ছিল। তার (খালেদা জিয়ার) আইনজীবীরা ভেতরে যায় নাই। তাদের (বিএনপির) কোনও কোনও আইনজীবী গেটে গিয়ে বসেছিল। কিন্তু কোর্টের রুমে ঢুকে নাই। তারা আশপাশে বসেছিল। অবাধে সবাই যাতায়াত করতে পেরেছে। এটা কীভাবে ক্যামেরা ট্রায়াল হয়।’

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী সংসদের সভায় সূচনা বক্তব্যে এ কথা বলেন শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে তার সভাপতিত্বে দলীয় এ সভায় তিনি আরও বলেন, ‘খালেদা জিয়ার মামলা নাকি প্রতিহিংসা পরায়ণ। এখানে প্রতিহিংসার কী আছে? এতিমের টাকা তো আমরা খাইতে চাই না। ভাগ বাটোয়ারা করে যে ভাগে কম দিয়েছে, তাই হিংসা করবো।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বলা হয়েছে টাকা রেখে দেওয়া হয়েছে। ৯১ সালে টাকা এলো, এত বছর রেখে দেওয়া হলো, এতিমরা টাকা পেলো না কেন? ২৫ বছর ব্যাংকে টাকা রেখে খালেদা জিয়া তার সুদ খেলো। আপন মনে করে টাকা রেখে দিলো। এতিমখানার যে ‘জিয়া অরফানেজ’ নাম দিলো এতিমখানা কই, তার ঠিকানা কই? ঠিকানাও দেখাতে পারেনি। এতিমখানাও দেখাতে পারেনি। এতিমখানার নামে টাকা নিজে আত্মসাৎ করে বসে আছে। এতিমের টাকা চুরি করে কেউ জেলে গেলে, তার দায়-দায়িত্ব কার?’ তিনি আরও বলেন, ‘১০ বছর বসে তার আইনজীবীরা প্রমাণ করতে পারলো না তিনি নির্দোষ। এ দোষটাও কী আমাদের সরকারের?’

জেলখানায় আদালত বসানোর প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তার নড়াচড়া করতে অসুবিধা। সে ভেতরে থাকে সেখান থেকে জেলখানায় আসবে। তাই ওখানে কোর্ট বসবে। কোর্ট বসেছে, খালেদা জিয়া হাজির হয়েছে। তার আইনজীবীরা যায়নি। মাত্র একজন আইনজীবী ছিল। তার আইনজীবী প্যানেল যায়নি। এই যে আইনজীবীরা গেলো না, এখানে আমরা কী মনে করবো? যে প্যানেল জানে খালেদা জিয়া দোষী, তাকে ডিফেন্স করে খুব বেশি লাভ হবে না, তাই কোনও ছুঁতো ধরে তারা বোধহয় তাকে আর ডিফেন্স করতে।

তিনি বলেন, ‘সাধারণ মানুষ এটাই ধরে নেবে। না হলে যেখানে কোর্ট বসবে সেখানেই আইনজীবী যাবে। যেখানে জজ সাহেব বসবে, মামলা পরিচালনা করতে হলে আইনজীবীরা সেখানে যাবে— এটাই তাদের কাজ। তারা গেলো না, খালেদা জিয়াকে বয়কট করলো কেন?’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আইনজীবীরা জানে, এই মামলায় তাকে নির্দোষ প্রমাণ করার মতো কোনও তথ্য তাদের কাছে নাই, তারা নির্দোষ প্রমাণ করতে পারবে না। মূলত তিনি এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।’

জেলের ভেতরে আদালত বসানো নিয়ে বিএনপির নেতারা বলেছেন ‘এটা অসাংবিধানিক’। এর সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দুর্ভাগ্য আমাদের, যে দলের জন্ম হয়েছে অসাংবিধানিক উপায়ে। সংবিধান লংঘন করে দল গঠনকারী যারা, তাদের কাছে আমাদের সংবিধান শিখতে হবে। এখানে অসাংবিধানিকটা কী হলো? তার মানে জিয়া অসাংবিধানিকভাবে ক্ষমতায় এসেছিল বলে সে জেলগেটে বিচার করতে পারবে, বাকিরা পারবে না। তারা যদি সেটা বোঝাতে চায় তো বলুক।’

তিনি বলেন, ‘আদালতে জজ সাহেব বসে আছে। আসামি হাজির। তার আইনজীবীরা যায়নি। এটা হতে পারে, তারা বয়কট করেছে বলে যায়নি। কোনটা সত্য এটা এখন বিচার্য বিষয়।’

ইভিএমের সফলতা নিয়ে সন্দিহান এরশাদ

সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারে নির্বাচন কমিশন আইন সংশোধনের সিদ্ধান্ত নিলেও একাদশ সংসদ নির্বাচনে তার সফলতা নিয়ে সন্দিহান জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ।

আওয়ামী লীগ ইভিএমের পক্ষে অবস্থান নিলেও তাদের রাজনৈতিক মিত্র এরশাদ শনিবার এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নে যন্ত্রে ভোটগ্রহণের সফলতা নিয়ে সংশয়ের কথা জানান।

এরশাদ বলেন, “আমাদের মানুষ তো টিপসই দিতে পারে না, ইভিএমে টিপ দেবে কীভাবে? এতগুলো আসনে যদি একসঙ্গে ইভিএম হয়, তবে তার সফলতা নিয়ে আমরা নিশ্চিত নই।”

তিনশটি সংসদীয় আসনের একশটিতে ইভিএম ব্যবহারের একটি ভাবনা ইসির মধ্যে থাকলেও এখনও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলে সিইসি জানিয়েছেন।

বিএনপি সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করে বলছে, এর মাধ্যমে ‘ডিজিটাল জালিয়াতির’ আশঙ্কা রয়েছে তাদের।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত এরশাদ বলেন, “ইভিএমের ব্যাপারে জনমনে অনেক সন্দেহ রয়েছে। তাই এই ভোটিং পদ্ধতি চালুর আগে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা প্রয়োজন। সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ নির্বাচনের স্বার্থে তা না করে ইভিএম জনগণের উপর চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না।”

রাজধানীর বনানীতে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের কার্যালয়ের অনুষ্ঠানে ইভিএম নিয়ে এই মতামত জানিয়ে এরশাদ বলেন, আগামী বুধবার জাতীয় পার্টির এক বর্ধিত সভায় বিষয়টি নিয়ে দলের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে।

কামাল হোসেনের গণফোরামকে সঙ্গে নিয়ে এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর যুক্তফ্রন্টের জাতীয় ঐক্যের উদ্যোগকে কীভাবে দেখছেন- সাংবাদিকদের এ প্রশ্নে জাতীয় পার্টি চেয়ারম্যান বলেন, “আমি আমার জোট নিয়ে আছি।”

২০১৭ সালের মে মাসে এরশাদ ‘ইসলামী মূল্যবোধের’ নতুন জোট সম্মিলিত জাতীয় জোট (ইউনাইটেড ন্যাশনাল অ্যালায়েন্স) গঠনের ঘোষণা দেন। তাতে যোগ দেয় জাতীয় ইসলামী মহাজোট, বাংলাদেশ জাতীয় জোট, ইসলামিক ফ্রন্ট, বাংলাদেশ জাতীয় জোট। পরে খেলাফত মজলিসকে নিয়ে জোটভুক্ত দলের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পাঁচে।

এরশাদ জানান, বিএনপি নির্বাচনে না গেলে তারা আলাদাভাবে নির্বাচনে অংশ নেবেন।

তিনি বলেন, “যদি তারা আসে, তবে অন্যভাবে নির্বাচন করব। চেষ্টা করলে আমরা ক্ষমতায় যেতে পারব। সে অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।”

শনিবারের অনুষ্ঠানে এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে যোগ দেন কুড়িগ্রাম সদরের আওয়ামী লীগ নেতা পনির উদ্দিন আহমেদ। আসন্ন সংসদ নির্বাচনে তিনি কুড়িগ্রাম-২ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী।

অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মো. হাফিজ উদ্দিন, মসিউর রহমান রাঙা, সুনীল শুভ রায়, খালেদ আখতারসহ চেয়ারম্যানের উপদেষ্টারা উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন নাও হতে পারে: ড. কামাল

গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, ‘দেশের পরিস্থিতি এমন হচ্ছে যে নির্বাচন নাও হতে পারে। কিন্তু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন। আর নির্বাচন হলে যেন ভোট চুরি না হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। যারা নির্বাচনকে অন্যদিকে প্রভাবিত করে সুশাসনের পরিবর্তে কুশাসন সৃষ্টি করতে চায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

আজ শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) আয়োজিত ‘গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার : প্রেক্ষিত ও করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

ড. কামাল হোসেন আরও বলেন, ‘যারা দুই নম্বর বা চার নম্বরি করে ক্ষমতায় যেতে চায়, টিকে থাকতে চায় তারা আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে।’

দেশের সব মানুষ নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চায় বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘এমন একটা মানুষ দেখান যে নিরপেক্ষ নির্বাচন চায় না। যারা নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাচ্ছে না তাদের স্থান পাবনায় হতে হবে।’

ছাত্রনেতাদের উদ্দেশে কামাল হোসেন বলেন, ‘তোমরা একবার সংবিধান দেখো। এই দেশের মালিক জনগণ। উত্তরসূরি হিসেবে কেউ না। বাঙালী যখন ন্যায্য দাবি নিয়ে লড়াই করে তখন তারা জয়ী হয়েছে, অপশক্তিরা পরাজিত হয়েছে।’

সংবিধানের এই প্রণেতা বলেন, ‘নির্বাচন সুষ্ঠু হতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। এসবের জন্য নতুন প্রজন্মকে তরুণদের কাজে লাগাতে হবে। এই তরুণ সমাজ দেশকে স্বাধীন করেছিল। তরুণদের এক্ষেত্রে অনেক কিছু করণীয় আছে। তরুণদের ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। ভোট দেওয়া বড় কথা না, ভোটকেন্দ্র পাহারা দেওয়া বড় কথা। যাতে পেছন থেকে ব্যালট ছিঁড়ে বাক্সে ঢুকাতে না পারে।’

ড. কামাল বলেন, ‘আমরা চাই দেশে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হোক। জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। মৌলিক বিষয় নিয়ে জাতীর ঐক্য গড়তে বিতর্ক হবে না। মাঠে নামতে হবে। সমাবেশ করে আমাদের কথাগুলো জনগণকে জানাতে হবে। ইনশাল্লাহ আমাদের জয় হবে।’

আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আইনি প্রক্রিয়া ছাড়া বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়, এক্ষেত্রে হস্তক্ষেপ করবে না সরকার।

একইসঙ্গে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে বিএনপি সরকারের যে পদত্যাগের দাবি করেছে, তা নাকচ করে দিয়ে কাদের বলেন, গত ১০ বছরে কোনো আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে চাপ দিতে পারেনি দলটি; তাঁর ভাষায় স্বাধীনতাত্তোর বাংলাদেশের সবচেয়ে ব্যর্থ বিরোধী দল বিএনপি।

আজ শনিবার বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির কার্যালয়ে এক সভা শেষে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের।

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের সাংগঠনিক সফরের পরিকল্পনা নিয়ে আজ জরুরি সম্পাদকমণ্ডলীর সভা ডাকে আওয়ামী লীগ।

সভা শেষে ওবায়দুল কাদের জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জোট সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া চলছে, আগামী এক মাসের মধ্যেই তা দৃশ্যমান হবে। এক্ষেত্রে শরিক দলগুলোকে ৬৫-৭০টি আসন ছেড়ে দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

পাশাপাশি আজ শনিবার নয়াপল্টনের জনসভায় বিএনপি নেতাদের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়টি আওয়ামী লীগ নয়, নির্ভর করছে আদালতের ওপর।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘লিগ্যাল ব্যাটলে তারা যদি বেগম জিয়াকে মুক্ত করে আনতে পারেন, ওয়েলকাম। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, সরকারের পক্ষে থেকে বেগম জিয়ার মুক্তির ব্যাপারে লিগ্যাল ব্যাটলে কোনো প্রকার বাধা, কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ আমাদের পক্ষ থেকে হবে না।’

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগে সরকারের পদত্যাগের দাবি নাকচ করে দেন কাদের। তিনি বলেন, ‘এই বিষয়টি সংবিধান সম্মত নয়। ১০ বছরে একটা দিনও সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করার মতো কোনো আন্দোলন বিএনপি নামক বিরোধী দল করতে পারেনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে এতো ব্যর্থ অপজিশন, এতো ব্যর্থ বিরোধী দল আর এসেছে বলে কারো জানা নেই। তারপরও কিভাবে দাবি করে? এই ব্যর্থতার জন্য টম টু বটম বিএনপির সকল নেতার পদত্যাগ করা উচিত।’

বিএনপির রাজনীতির কড়া সমালোচনা করে দলটির প্রতি এ সময় তিনটি প্রশ্ন রাখেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বাঁচাতে ইমডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল তৎকালীন জিয়া সরকার, আর ক্ষমতায় থাকাবস্থায় বিনা খরচে সাবমেরিন বসানোর প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছিলো দলটি, সবশেষ খালেদা জিয়ার রায়ের আগে কেন তড়িঘড়ি করে দলের গঠনতন্ত্রের ৭ ধারা বাতিল করেছে বিএনপি? তাও জানতে চান ওবায়দুল কাদের।

কাদের বলেন, ‘এই তিনটি বিষয় বিএনপিকে ভোট পেতে হলে জাতির কাছে ব্যাখ্যা দিতে হবে, ক্লিয়ার করতে হবে। তার আগে এই দলের সঙ্গে রিলেশন সম্ভব না।’

নির্বাচনে যেতে বিএনপির ৬ শর্ত

আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে ৬ টি শর্ত দিয়েছে বিএনপি। দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের সব স্থায়ী কমিটির নেতার বক্তব্যে বারবার এই শর্তগুলো এসেছে। এরমধ্যে নির্বাচনের প্রধান শর্ত হচ্ছে নির্বাচনের আগে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ সব বন্দিদের নিঃশর্ত মুক্তিসহ সব মামলা প্রত্যাহার করা।

শনিবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকালে বিএনপির ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত জনসমাবেশে দলটির সিনিয়র নেতারা এসব শর্ত দেন সরকারকে।

জনসভায় সভাপতির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,খালেদা জিয়ার মুক্তি চাই, তার নামে দেওয়া সব মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। একাদশ সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে। নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করতে হবে। নির্বাচনে আগে সেনাবাহিনীকে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা দিতে হবে, বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে পুনর্গঠন করতে হবে।

উল্লেখ্য, এর আগেও কয়েকবার এই শর্তগুলো বিএনপির নেতাদের বক্তব্যে উচ্চারিত হয়েছে।

এর আগে শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা থেকে রাজধানীসহ আশপাশের জেলাগুলো থেকে দলটির নেতাকর্মীরা দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ডসহ ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নয়াপল্টন সমাবেশ স্থলে আসতে শুরু করেন। দুপুর আড়াইটায় নয়াপল্টন অস্থায়ী মঞ্চে বিএনপির জনসভায় শুরু হয়।

জনসভায় উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, বুকে সাহস,বল নিয়ে আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে। আমরা আর বেগম জিয়াকে কারাগারে দেখতে চাই না। আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করে আনা হবে।

আওয়ামী লীগকে ইতিহাস আর রক্ষা করতে পারবে না উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, তারা জানে জনগণ আর তাদেরকে রক্ষা করবে না। কারণ,এদেশের জনগণ আওয়ামী লীগ থেকে দূরে সরে গেছে। এজন্য তারা এখন যন্ত্রের ওপর ভর করে ক্ষমতায় আসতে চায়। এজন্য ইভিএমের (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) ওপর ভর করছে।

অবিলম্বে খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, অন্যথায় এর সব দায়ভার আপনাদের নিতে হবে।

আওয়ামী লীগের নেতারা সবসময় দুঃস্বপ্ন দেখেন বলে মন্তব্য করে তিনি আরও বলেন, ‘আসলো আসলো বিএনপি আসলো, তারেক রহমান আসলো, খালেদা জিয়া আসলো—এই ভয়ে রাতে তাদের ঘুম হয় না। ২৪টা ঘণ্টা শুধু বিএনপি,খালেদা জিয়া,তারেক রহমান ভীতি।এর থেকে বাঁচার জন্য কতো রকমের কারসাজি যে তারা করছে।’

আওয়ামী লীগ নতুন করে বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে বলেও অভিযোগ করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন,‘সরকারের এক মন্ত্রী আগেই বলে দিচ্ছেন ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার মামলায় তারেক রহমানের সাজা হবে। আপনারা কি বিচারকের দায়িত্ব নিয়েছেন? তদন্ত করেছেন ঠিকমতো?’

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘তারা (আওয়ামী লীগ) ইচ্ছাকৃতভাবে এই তদন্তকে প্রভাবিত করেছে। তিনজন আইও পরিবর্তন করার পর কেয়ারটেকার সরকারের আইও ও তদন্তের পর আওয়ামী লীগ সরকার আসার পর নতুন করে তদন্ত করেছেন। সেই তদন্তে মুফতি হান্নানের মিথ্যা জবানবন্দি নিয়ে তারেক রহমানকে আসামি করেছেন। পরিষ্কার করে বলতে চাই,এই ধরনের ষড়যন্ত্রের রায় বাংলাদেশের মানুষ কখনও মেনে নেবে না।’

দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এ জনসভায় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড.খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ভাইস চেয়ারম্যান সেলিমা রহমান, ডা এ জেড এম জাহিদ হোসেন, শামসুজ্জামান দুদু, আহমেদ আযম খান, বরকত উল্লা বুলু, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আমান উল্লাহ আমান, জয়নাল আবেদীন, মশিউর রহমান, ফজলুল রহমান, আবুল খায়ের ভূইয়া, আব্দুস সালাম, আতাউর রহমান ঢালী, হাবিবুর রহমান হাবিব প্রমুখ।

শহিদুল আলমকে মুক্তি দিন : টিউলিপ

আলোকচিত্রী শহিদুল আলমকে মুক্তি দিতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা টিউলিপ সিদ্দিক। মঙ্গলবার ব্রিটিশ পত্রিকা ‘দ্য টাইমস’–এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

‘দ্য টাইমস’–এর প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, লেবার পার্টির একজন আইনপ্রণেতা টিউলিপ সিদ্দিক। লেবার পার্টির সমর্থনে হাম্পস্টেড ও কিলবার্ন থেকে আইনপ্রণেতা নির্বাচিত হন তিনি। টিউলিপ বলেছেন, শহিদুল আলমকে সরকার কর্তৃক আটকের ঘটনাটি ‘অত্যন্ত পীড়াদায়ক এবং এই অবস্থার দ্রুত অবসান প্রয়োজন’।

টিউলিপ আরও বলেছেন, নিজেদের নাগরিকদের বিচারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে অবশ্যই আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি, আমাদের পররাষ্ট্র দপ্তর এই বার্তাটি তার মিত্র দেশটির কাছে পৌঁছে দেবে।’

এর আগে শহিদুল আলমের সমর্থনে নোয়াম চমস্কি, অরুন্ধতী রায়সহ খ্যাতিমান একাধিক লেখক-বুদ্ধিজীবী বিবৃতি দেন। পেন ইন্টারন্যাশনালসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংগঠনও তাঁর পক্ষে বিবৃতি দিয়েছে। সর্বশেষ বিবৃতি দিয়েছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। তিনি বলেছেন, ফটোসাংবাদিকতাসহ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শহিদুল আলম অনেক বছর ধরে অসাধারণ দক্ষতা ও সাহসিকতার সঙ্গে যে কাজ করে চলছেন, তা প্রশংসা করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে। রূঢ় আচরণের বদলে তাঁর কাজের প্রশংসা করা উচিত।

নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মধ্যে ‘উসকানিমূলক মিথ্যা’ প্রচারের অভিযোগে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের মামলায় ৬ আগস্ট শহিদুল আলমকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। এর আগের দিন রাতে ধানমন্ডির বাসা থেকে তাঁকে তুলে নেয় ডিবি। সাত দিনের রিমান্ড শেষে গত ১২ আগস্ট শহিদুলকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন নিম্ন আদালত।

স্ত্রীকে তালাক, শ্যালিকাকে নিয়ে উধাও

কুড়িগ্রামে স্ত্রীকে তালাক দিয়ে আপন শ্যালিকাকে নিয়ে উধাও রবিউল ইসলাম (৩২) নামে এক যুবক। এ ঘটনায় তার স্ত্রী দুই অবুঝ সন্তান নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, কুড়িগ্রাম পৌর এলাকার ফকিরপাড়া গ্রামের দৃষ্টি প্রতিবন্ধী মোহাম্মদ আলীর ছেলে রবিউল ইসলাম। ২০১০ সালের ১২ আগস্ট সদর উপজেলার মোগলবাসা ইউনিয়নের আজর উদ্দিনের মেয়ে রুজিনা আক্তার আকলিমার সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তাদের জীবনে দু’টি সন্তানও রয়েছে। এদিকে রবিউল ইসলাম চলতি বছরের ২৬ জুন গোপনে কুড়িগ্রাম নোটারি পাবলিক কার্যালয়ে গিয়ে এফিডেভিটের মাধ্যমে স্ত্রী আকলিমাকে তালাক দেয়। তালাকের নোটিশ স্ত্রী ও পৌর মেয়রকে দেওয়ার বিধান থাকলেও সেটি গোপন রেখে স্ত্রীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে সে।

বিষয়টি জানাজানি হলে প্রথমে অস্বীকার করে রবিউল। পরে বেশি চাপ দিলে স্ত্রীর ওপর চালায় নির্যাতন। এরপর সন্দেহ করার অজুহাতে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়ার জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। এ ব্যাপারে রবিউলের চাচা ও চাচি আকলিমাকে মোবাইল ফোনে কথা বলতে দেওয়ার অপরাধে তাদের মোবাইল ভেঙে ফেলে রবিউল। এ সময় চাচি প্রতিবাদ করলে তার হাত মুচড়ে তাকে গুরুতর আহত করে। সবকিছু জানলেও দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শ্বশুর আনোয়ার ও শাশুড়ি বিষয়টি গোপন রাখার চেষ্টা করেন।

এ ব্যাপারে কুড়িগ্রাম পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের কমিশনার মোস্তফা কামাল পাশা জানান, গত প্রায় একমাসে এ ঘটনা ঘটে। বিয়ের পর থেকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল।

শাহজালাল বিমানবন্দরে সৌদি ফেরত নারীকর্মীর আত্মহত্যার চেষ্টা

ঢাকায় শাহজালাল বিমানবন্দরে কীটনাশক পানে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন সৌদি আরব ফেরত এক নারী কর্মী।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বিমানবন্দরের বাথরুমে কীটনাশক পানের পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি শেখ তরিকুল ইসলাম।

ওই নারী বলছেন, সৌদি আরবে প্রতারিত হওয়ায় তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা চালান।

তরিকুল বলেন, “এই নারী বিমান বন্দরের বাথরুমে কীটনাশক পান করেন। বাথরুমে তার অবস্থা দেখে আশেপাশের কয়েকজন চেচাঁমেচি শুরু করলে তাকে উদ্ধার করা হয়।”

এই নারী এখন আশঙ্কামুক্ত বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।

তিনি ২০১৬ সালের ১৭ মার্চ সৌদি আরব গিয়েছিলেন। গত ২৮ জুলাই দেশে ফিরলেও তার লাগেজ আসেনি। লাগেজের খোঁজ নিতে মঙ্গলবার বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন তিনি।

ফিক্সিংয়ের সন্দেহের তালিকায় বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ

ভদ্রলোকের খেলা ক্রিকেটের কলঙ্ক ম্যাচ ফিক্সিং। জুয়াড়িদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে তাদের ইচ্ছেমতো ম্যাচের ফলাফল বা চিত্রনাট্য সাজানোর মতো কাজ প্রায়শই শোনা যায় ক্রিকেট অঙ্গনে। দক্ষিণ আফ্রিকার হানসি ক্রুনিয়ে, ভারতের আজহারউদ্দিন কিংবা পাকিস্তানের সালমান বাট, মোহাম্মদ আমিররাও জড়িয়েছেন ফিক্সিংয়ের কালো দুনিয়ায়।

এমনকি বাংলাদেশ দলের মোহাম্মদ আশরাফুলও ঘরোয়া ক্রিকেট বিপিএলে ম্যাচ পাতালেও বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাথে এতদিন ছিল না ম্যাচ পাতানোর কোন দাগ। কিন্তু বাংলাদেশের সাথে এই সুনাম আর বেশিদিন টিকবে না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের ম্যাচ ফিক্সিংয়ের ঘটনায় জড়াতে যাচ্ছে বাংলাদেশ দলেরও নাম।

তবে এই ঘটনায় মাশরাফি-সাকিবদের নাম খারাপ হওয়ার সুযোগ খুব অল্পই। কেননা আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমে ম্যাচ ফিক্সিং সম্পর্কিত সবশেষ যে খবর তাতে মূল হোতার নামটা অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেট দল। এমনটাই জানাচ্ছে জনপ্রিয় টেলিভিশন আল জাজিরা, জনপ্রিয় ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকইনফোসহ বড় বড় আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যমগুলো।

চলতি বছরের শুরুতে ক্রিকেটে ম্যাচ ফিক্সিং সম্পর্কিত একটি ডকুমেন্টারি প্রকাশ করেছিল আল জাজিরা। যেখানে দেখা গিয়েছিল ম্যাচ পাতানোর সাথে জড়িত আছে অনেক বড় বড় নাম। খুব শিগগিরই এই ডকুমেন্টারির দ্বিতীয় পর্ব প্রকাশ করতে যাচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ান সংবাদ মাধ্যমের খবর এই যে ডকুমেন্টারির দ্বিতীয় পর্বে থাকবে অস্ট্রেলিয়ান খেলোয়াড়দের কুকীর্তির তথ্য।

তবে সেটি শুধুই ২০১১ সালে খেলা ম্যাচগুলোকে ঘিরেই। সে বছর অ্যাশেজ সিরিজ, ওয়ানডে বিশ্বকাপ, বাংলাদেশ, শ্রীলংকা ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফর এবং ঘরের মাঠে ভারত ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ খেলেছে অস্ট্রেলিয়া। এসব সিরিজের উল্লেখযোগ্য ম্যাচে ফিক্সিংয়ের মতো গর্হিত কাজ করেছে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটাররা এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।

আল জাজিরার ডকুমেন্টারির দ্বিতীয় পর্বে যে অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটকে আক্রমণ করা হবে সে ব্যাপারে ধারণা পেয়েছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী জেমস সাদারল্যান্ডও। সংবাদ মাধ্যমে এ তথ্য নিজেই জানিয়েছেন ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী।

সাদারল্যান্ড বলেন, ‘আল জাজিরার নতুন ডকুমেন্টারির ব্যাপারে আমরা ধারণা পেয়েছি। তাদের প্রথম ডকুমেন্টারির পর থেকেই আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিট এ ব্যাপারে সোচ্চার হয়েছে। কিন্তু আল জাজিরার কাছ থেকে যথাযথ সহযোগিতা না পাওয়ায় বারবার কাজ থামাতে হয়েছে আইসিসিকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘যদিও আল জাজিরার ভিডিও ফুটেজের কোনোটাই আমরা পরীক্ষা করে দেখার অনুমতি পাবো না। তবে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের সম্পৃক্ততার অভিযোগ গুরুতর ভাবেই দেখা হবে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তাব্যক্তিরা এরই মধ্যে আল জাজিরার অভিযোগের প্রেক্ষিতে তথ্য সংগ্রহের কাজে নেমে পড়েছে। তবে আল জাজিরা আমাদের অল্প যা তথ্য দিয়েছে তাতে আমাদের দলের বর্তমান বা প্রাক্তন কোন খেলোয়াড়ের ফিক্সিংইয়ে জড়িত থাকার শক্ত প্রমাণ নেই। আমরা এই ব্যাপারটা আইসিসির অ্যান্টি করাপশন ইউনিটের হাতেই ছেড়ে দিচ্ছি। তাদের কাজে পূর্ণ সহযোগিতা করবো আমরা।’

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের বিশ্বকাপের পরপরই বাংলাদেশ সফরে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে তারা জিতেছিল ৩-০ ব্যবধানেই। তবু যেহেতু ম্যাচ ফিক্সিংয়ের সন্দেহের তীর অস্ট্রেলিয়ার ২০১১ সালের ম্যাচগুলোর দিকে, তাই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবেই চলে আসছে বাংলাদেশেরও নাম।

জোট বেঁধে বিশৃঙ্খলা হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে: তোফায়েল

আন্দোলন করার গণতান্ত্রিক অধিকার সবার থাকলেও জোট বেঁধে বিশৃঙ্খলা করা হলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যবস্থা নেবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

মঙ্গলবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় বাংলাদেশ ছাত্রলীগ আয়োজিত ‘বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন শেষে এমন মন্তব্য করেন তিনি। ।

তোফায়েল বলেন, খবরের কাগজে দেখলাম আমাদের বিরুদ্ধে জোট গঠন করা হবে। জোট করে তারা আন্দোলন করবেন। ভালো কথা। কিন্তু আন্দোলনের নামে কেউ যদি বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করে তাহলে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।

তিনি আরো বলেন, পাকিস্তানিরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করতে পারেনি। কিন্তু বাংলার মীর জাফর খন্দকার মোশতাক, জিয়াউর রহমান ও দেশি-বিদেশি দোসররা ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করে। নিষ্পাপ রাসেলকে হত্যা করে। যাতে বঙ্গবন্ধুর রক্তের কেউ এই দেশের নেতৃত্ব দিতে না পারে।

ডাকসুর সাবেক এ ভিপি বলেন, আজকে আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে রূপান্তরিত হতে চলেছি। আওয়ামী লীগ সরকার যখন ক্ষমতায় আসে তখন দেশের উন্নয়ন হয়। আজকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের নেতা নন, তিনি আন্তর্জাতিক বিশ্বে অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতা।

আলোকচিত্র প্রদর্শনী শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক মাকসুদ কামাল, শামসুল হক ফাউন্ডেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আফিয়া বেগম, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন, সাধারণ সম্পাদক গোলাম রাব্বানী প্রমুখ।