All posts by lutfor

নেত্রী গ্রিন সিগনাল দিয়েছেন, তাই নেমে পড়েছি

চিত্রনায়ক শাকিল খান দুদিন ধরে বাগেরহাটের মোংলা-রামপাল (বাগেরহাট-৩) আসনে জনসংযোগ করছেন। তিনি মানুষের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দোয়া চাচ্ছেন এবং আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা মার্কায় ভোট দিতে বলছেন।

আজ মঙ্গলবার বিকেলে মোংলা উপজেলার চটেরহাট এলাকায় প্রচারণা সভায় বক্তব্য দেন শাকিল খান। মোংলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইদ্রিস আলীর বাসায় ওই সভা হয়।

সভায় শাকিল খান বলেন, ‘নেত্রী (আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা) গ্রিন সিগনাল দিয়েছেন, তাই এলাকায় নেমে পড়েছি। জনগণের কাছে যাচ্ছি, দোয়া চাচ্ছি, ভালো সমর্থনও পাচ্ছি।’

এ সময় শাকিল খান আরো বলেন, আমি নির্বাচনী যে আশ্বাস, প্রতিশ্রুতি দিয়ে যাচ্ছি, হয়তো তা অনেকে মনে করতে পারেন এখানকার সাবেক সংসদ সদস্য (বর্তমান খুলনা সিটি মেয়র) আলহাজ তালুকদার আব্দুল খালেকও বিগত দিনে এ ধরনের কথা বলে গেছেন, তাই আমিও বলছি, এটা আপনারা ভাববেন না।

বাস্তবতা হচ্ছে হাতের পাঁচ আঙুল যেমন সমান নয়, সব মানুষের মন তেমন সমান নয়। কাউকে সমানভাবে দেখলে আপনারা ভুল করবেন। দেশের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে থেকে কাজ করে যাচ্ছি, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে পারবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

শাকিল খান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই বিতাড়িত। অনেক নেতা-কর্মী কষ্টে-ক্ষোভের মধ্যে আছেন। এলাকায়ও ঠিকমতো থাকতে পারেন না। এটি শুনলে নিজের কাছেও অনেক খারাপ লাগে। আমি এই কথাগুলো প্রধানমন্ত্রীর কাছেও বলেছি। তবে আমি যদি আপনাদের মাঝে আসতে পারি, তাহলে আপনাদের সবাইকে নিয়ে একসাথে কাজ করব। এমপি নির্বাচিত হলে মোংলা-রামপালের প্রতিটি ঘরে ঘরে যাতে অন্তত একটি করে চাকরি হয় তার ব্যবস্থা করব।

প্রচারণা সভায় উপস্থিত ছিলেন মোংলা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইদ্রিস আলী, মোংলা পোর্ট পৌরসভার কাউন্সিলর হাবিবুর রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদুল ইসলামসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগের কয়েকশ নেতাকর্মী ও সমর্থক।

এর আগে গতকাল সোমবার দিনভর রামপালের বিভিন্ন এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা ও জনসংযোগ করেন শাকিল খান।

ড. কামাল-বি চৌধুরীর নেতৃত্বে জাতীয় ঐক্যে একমত নেতারা

গণফোরাম সভাপতি ডক্টর কামাল হোসেন ও বিকল্পধারার প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ডক্টর বদরুদ্দোজা চৌধুরীর জাতীয় ঐক্য গঠনে একমত হয়েছেন কয়েকটি রাজনৈতিক দলের নেতারা।

মঙ্গলবার (২৮ আগস্ট) ডক্টর কামাল হোসেনের বাসায় বৈঠক শেষে একথা জানান বদরুদ্দোজা চৌধুরী।

এরআগে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় ঐক্য গঠনের লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা। রাত ৮টার দিকে তাদের বৈঠক শুরু হয়।

সন্ধ্যা থেকে ডক্টর কামালের রাজধানীর বেইলি রোডের বাসায় যান ডক্টর বদরুদ্দোজা চৌধুরী, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরীসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

পাবনায় নারী সাংবাদিককে কুপিয়ে হত্যা

আনন্দ টিভির পাবনা প্রতিনিধি সুবর্ণা আক্তার নদীকে (৩২) কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার রাত সোয়া ১০টার দিকে পাবনা শহরের রাধানগরে নিজবাসার সামনে তাকে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওবাইদুল হক হত্যাকাণ্ডের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রাতে কয়েকজন সন্ত্রাসী নিজবাসার সামনে সুবর্ণা নদীর ওপর হামলা চালায়। তারা সুবর্ণাকে হাতে ও মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।

পরে তার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এসে উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক সুবর্ণাকে মৃত ঘোষণা করেন। সুবর্ণা নদী জেলার আটঘরিয়া উপজেলার বাসিন্দা। তিনি স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল ‘দৈনিক জাগ্রত বাংলা’র সম্পাদক ও প্রকাশক।

নির্বাচনের আগে জামায়াত ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছে না বিএনপি!

নানামুখী চাপের পরিপ্রেক্ষিতে ২০ দলীয় জোটের দ্বিতীয় প্রধান শরিক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামিকে নিয়ে নতুন করে ভাবছে জোটের নেতৃত্বদানকারী দল বিএনপি। সিলেটসহ অন্যান্য সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনগুলোতে জামায়াতের রহস্যময় ভূমিকার কারণে দীর্ঘ দিনের এই সঙ্গীর প্রতি আকষর্ণ কমলেও ভোটের রাজনীতির কারণে আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে এ নিয়ে নেতিবাচক ঘোষণা দিতে চাইছে না বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

একাত্তরে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে অবস্থান নেয়া জামায়াতে ইসলামির সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার পর থেকেই দলের ভেতরে-বাইরে এবং দেশে-বিদেশে সমালোচনার মুখে পড়ে বিএনপি। জবাবে দলটি বলছিল এই মিত্রতা আদর্শিক নয় শুধুই নির্বাচনী জোট। তবে সিলেট সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে জামায়াত প্রার্থীর ভরাডুবি এবং সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে তাদের জোটে রাখার যুক্তি নিয়ে প্রশ্ন প্রবল আকার ধারণ করেছে।

সম্প্রতি বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতারা দলটির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করে। সেখানে জামায়াত ইস্যুও গুরুত্ব পায়। বিএনপিতে জামায়াত বিরোধীরা মনে করছেন- ভোটের মাঠে এখন আর জামায়াতের জনপ্রিয়তা নেই, সময় এসেছে জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের।

বিএনপিকে নিয়ে সরকার বিরোধী বৃহত্তর ঐক্য গড়ে তুলতে ইতোমধ্যেই দলটির প্রতি জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগের শর্ত দিয়েছেন গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন।

তবে বিএনপি সূত্র জানায়, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে জাতীয় ঐক্য গঠনের পাশাপাশি নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতের ভোট ব্যাংকের বিষয়টি বিবেচনা করছে বিএনপির হাইকমান্ড। দলটির নেতারা মনে করছেন, নিবন্ধনহীনতার কারণে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করার সুযোগ না থাকায় বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য গঠনে জামায়াতকে নিয়ে তেমন সমস্যা হবে না। সার্বিক পরিস্থিতিতে জামায়াতকে নিয়ে কৌশলগত অবস্থানে থাকাটাই সুবিধাজনক মনে করছেন বিএনপি নেতারা।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, দেশের রাজনীতিতে ইসলামপন্থী দল হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি অতীতে সব সময় সুবিধাবাদী অবস্থানে রয়েছে। স্বাধীনতাবিরোধী এই দলটি অন্যান্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোকে কৌশলে ব্যবহার করে দেশের রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান করে নেয়।

তৎকালীন স্বৈরশাসক হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সঙ্গে সমঝোতা করে ১৯৮৬ সালের নির্বাচনে অংশ নেয় জামায়াত। পরবর্তী সময়ে এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের নির্বাচনেও জামায়াত অংশ নেয়। সেই নির্বাচনে কোনো দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন না করায় জামায়াতের সহযোগিতায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করে।

সরকার গঠনের কিছুদিন পর জামায়াতের তৎকালীন আমীর অধ্যাপক গোলাম আজম তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মূলা দেন। বিএনপি সেই ফর্মুলার বিরোধিতা করলেও আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল তা সমর্থন করে। বিএনপি জামায়াতের সহযোগিতায় সরকার গঠন করলেও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ফর্মূলা না মানায় বিএনপির সঙ্গ ত্যাগ করে আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেয় জামায়াত। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবি আদায়ে জয়ী হলেও ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামির ভরাডুবি হয়। মাত্র ৩টি আসন পেয়ে পরবর্তীতে বিএনপির সঙ্গে আবারও জোট বাধে দলটি। সেই থেকে এখন পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবেই দৃশ্যমান।

জামায়াতের সঙ্গ প্রসঙ্গে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আযম খান বলেন, ‘জোটের রাজনীতি, জোটের নির্বাচন, জোটের আন্দোলন, জোটের আসন বন্টণ এই সামগ্রিক বিষয় নিয়ে আমার মনে হয় নতুন করে চিন্তা করবার সময় এসেছে। নতুন করে পথ চলবার সময় এসেছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সকল রাজনৈতিক দল আলাদা করে করলে নির্বাচনের পর ওই সরকার গঠনে সমমনাদের নিয়ে জোট হতে পারে।’

বিএনপির স্থায়ী কমিটির কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘জামায়াত নিজেদের যেভাবে মাপে, যত বড় করে মাপে, তত বড় নয়, আমাদের জন্য সুবিধা হলো পরবর্তী পর্যায়ে তাদের অযৌক্তিক আবদার নাকচ করার ক্ষেত্রে আমরা আমাদের সাহসী ভূমিকা রাখতে পারবো।’

সাধারণ মানুষ নিজের মতো করে ভোট দিতে পারলে বিএনপি একাই যথেষ্ট মনে বলে দাবি করেন তিনি।

তবে জামায়াতের সঙ্গ নিয়ে এখনই নেতিবাচক ঘোষণা দিলে ভুল বোঝাবুঝির আশঙ্কা করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ।

তিনি বলেন, ‘এটা দিলে তো নানা রকমের ভুল বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে। আমরা তো এটা এখন বলতে চাই না। কারণ আমরা এখনও একটা জোটের মধ্যে আছি। আমরা তো আলাদা চিন্তা করতে পারছি না এখনও।’

বিএনপির সহিংসতার জবাব দেবে আ.লীগ

বিএনপি নির্বাচনে না এসে ২০১৪ সালের মতো সন্ত্রাস ও সহিংসতার আশ্রয় নিলে জনগণকে সাথে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

বুধবার নিজ নির্বাচনী এলাকা কবিরহাটের ওটারহাট ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, এবার ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হয়েছে। ঈদের পর কর্মস্থলে ফেরাও স্বস্তিদায়ক হবে।

এ সময় কবিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নুরুল আমিন রুমি, সাধারণ সম্পাদক ও কবিরহাট পৌরসভার মেয়র জহিরুল হক রায়হানসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং এলাকাবাসী উপস্থিত ছিলেন।-বাসস

নেতা-কর্মীরা ভারাক্রান্ত মনে ঈদ করছে: ফখরুল

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাবন্দী থাকায় দলের নেতা-কর্মীরা ভারাক্রান্ত মন নিয়ে ঈদ উদযাপন করছে বলে মন্তব্য করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বুধবার (২২ আগস্ট) ঈদুল আজহা উপলক্ষে শেরে বাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ কথা বলেন তিনি।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে বন্দী থাকায় অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে ঈদ পালন করতে হচ্ছে। এর আগে কোরবানির ঈদের দিন খালেদা জিয়াকে সঙ্গে নিয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদনের জন্য নেতা কর্মীরা আসতেন। কিন্তু আজকে অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মন নিয়ে উপস্থিত হয়েছি। কারণ আমাদের চেয়ারপারসন আজ এখানে নেই।’

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমানকে জড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্য এই মামলার রায়ে প্রভাব ফেলবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য মূলত মামলার রায়কে প্রভাবিত করারই শামিল। ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য দেওয়ার পর বিচারকেরা সঠিক রায় দিতে পারবেন না। এভাবে তথাকথিত বিচারের নামে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে আবারও সাজা দেয়ার চেষ্টা চলছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, বিচারাধীন মামলা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের পর বিচারকদের নিরপেক্ষ রায় দেওয়া সম্ভব হবে না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, তথাকথিত বিচারের নামে খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে আবারও সাজা দেওয়ার চেষ্টা চলছে। প্রধানমন্ত্রী সবকিছুতেই খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানকে দায়ী করেন। এটা এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা আব্বাস, নজরুল ইসলাম খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা।

শেষ সুযোগ চান এরশাদ

রংপুরের মানুষের কাছে শেষ বারের মতো সেবা করার সুযোগ চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদ। তিনি আগামী নির্বাচনে রংপুর সদর ৩ আসন থেকে অংশ নেবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।

বুধবার (২২ আগস্ট) রংপুর কালেক্টরেট ঈদ গাহ মাঠে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করার আগে সমবেত মুসল্লিদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তৃতাকালে তিনি এ সুযোগ চান।

এরশাদ বলেন, এটাই আমার জীবনের শেষ নির্বাচন, তাই শেষ বারের মতো রংপুরের জনগণের সেবা করে মরতে চাই।

তিনি বলেন, রংপুরের মানুষের ঋণ আমি কোনও দিন শোধ করতে পারবো না। তারা আমাকে ০৫টি আসনে দুবার এবং বার বার রংপুর সদর আসনে বিপুল ভোটে জয়ী করেছে। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে আর একবার জনগণের সেবা করার সুযোগ চাই।

নামাজ আদায় শেষে এরশাদ নগরীর পল্লী নিবাস বাসভবনে দলের নেতাকর্মীদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এরশাদ এবার ৯টি গরু কোরবানি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে ৫টি গরু তার বাসায় এবং ২টি নগরীর সেন্ট্রাল রোডের দলীয় কার্যালয়ে ও ২টি নগরীর এরশাদ নগরে দিয়েছেন। পরে দলের নেতারা এ মাংস দুস্থ মানুষের মাঝে বিতরণ করেন।

সূ চির অভিযোগে বাংলাদেশ ‘হতাশ’

বাংলাদেশের কর্মকর্তারা বলেছেন, নভেম্বরে সই হওয়া প্রত্যাবাসন চুক্তির ১০ মাস পরও প্রধান কোনো শর্তই মিয়ানমার বাস্তাবায়ন করেনি। তারা বলছেন, দু’টি অভ্যর্থনা ক্যাম্প এবং একটি ট্রানজিট ক্যাম্প তৈরি করা ছাড়া কিছুই করেনি মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ।

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সূ চি মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরে এক বক্তৃতায় রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন আটকে থাকার জন্য কার্যত বাংলাদেশকে দায়ী করেছেন। তার ঐ বক্তব্যে বাংলাদেশের একাধিক কর্মকর্তা বিবিসির কাছে ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

কক্সবাজারে আশ্রয় নিয়ে থাকা রোহিঙ্গা শরণার্থীদেরও অনেকে বলেছেন,তারা নিজের দেশে কোনো ক্যাম্পে থাকার জন্য ফিরে যেতে চান না।

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সূ চি সিঙ্গাপুরে এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, মিয়ানমার শরণার্থীদের নিতে প্রস্তুত, তাদের পুনর্বাসনের জন্য জায়গাও ঠিক হয়েছে। কিন্তু তাদের পাঠানোর দায়িত্ব মূলত বাংলাদেশের। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু না হওয়ার জন্য তিনি কার্যত বাংলাদেশকেই দায়ী করেছেন।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া দেয়নি।

তবে বিবিসির সাথে আলাপকালে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেছেন, অং সান সূ চি-র এমন বক্তব্যকে দুর্ভাগ্যজনক বলে তিনি মনে করছেন।

বাংলাদেশ সরকারের রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবাসনবিষয়ক কমিশনার আবুল কালাম বিবিসিকে বলেছেন, মিয়ানমারের নেত্রীর বক্তব্যের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই।

“যেটা আসলে বাস্তব অবস্থা থেকে শত যোজন দূরে, এধরণের মন্তব্য সত্যিই খুব বিস্ময়কর এবং খুবই হতাশাজনক বটে।”

গত বছরের নভেম্বরে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের ব্যাপারে মিয়ানমারের সাথে বাংলাদেশের চুক্তি হয়। এরপর দুই দেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে কয়েক দফা বৈঠক হয়েছে।

কিন্তু চুক্তি সইয়ের পর দশ মাসেও সেই চুক্তির প্রধান কোনো শর্তই মিয়ানমার বাস্তবায়ন করেনি বলে জানিয়েছেন আবুল কালাম।

তিনি বলেছেন, “মুল সমঝোতা চুক্তিতে পরিস্কারভাবে বলা আছে, তারা প্রত্যাবাসিত হবে তাদের নিজেদের গ্রামে। সম্ভব হলে স্বগৃহে। এবং কোনো কারণে যদি সেটি সম্ভব না হয়, তাহলে তাদের এমন স্থানে নিতে হবে, যেটি তাদের গ্রামের নিকটবর্তী। কিন্তু মিয়ানমার মোটা দাগে শুধু দু’টি অভ্যর্থনা ক্যাম্প এবং একটি ট্রানজিট ক্যাম্প তৈরি করেছে।”

আবুল কালাম আরো জানিয়েছেন, সপ্তাহ দেড়েক আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে তিনিসহ বাংলাদেশের যে প্রতিনিধি দল মিয়ানমার গিয়েছিল, সে সময় তাদের ঐ তিনটি ক্যাম্প তারা দেখিয়েছেন।

কক্সবাজারে কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের নেতা মো: নূর বলছেন, জমিজমা বা নিরাপত্তা এবং মর্যাদা নিশ্চিত না করে তারা ফিরে গেলে আবারও নির্যাতনের মুখে পড়তে হবে বলে তারা মনে করেন।

“আমাদের ফেরত নেয়ার বিষয় নিয়া কিছুই করেনি মিয়ানমার সরকার। আমাদের ফেরত নেয়ার ব্যাপারে কোনো পরিকল্পনাই তারা করে নাই। এটা হইলো, দুনিয়াতে নাটক বানাইতেছে মিয়ানমার সরকার।”

স্বামীর হত্যাকান্ডের পর সন্তানদের নিয়ে দু’জন নারী গত বছরের অগাষ্টে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে কুতুপালং ক্যাম্পে আশ্রয় পেয়েছেন।

তাদের একজন হামিদা বলেছেন, মিয়ানমারে বিচ্ছিন্নভাবে তাদের দুই একজন আত্মীয় আছেন, তাদের কাছ থেকে তারা খবর পাচ্ছেন যে, মিয়ানমার সরকার তাদের ফেরত নিলে কোনো অধিকার না দিয়ে ক্যাম্পে রাখবে। তারা এভাবে কখনই যাবেন না বলে তিনি বলেন।

রোহিঙ্গা আরেক নারী বলছিলেন, তারা যেতে চান না।

তারা দু’জনই প্রশ্ন করেছেন, “তারা কীভাবে সেখানে যাবেন? যেখানে তাদের ঘরবাড়ি, নিরাপত্তা এবং মর্যাদাসহ কোনো অধিকারই নেই। তারা বাংলাদেশে ক্যাম্পে আছেন, নিজের দেশ মিয়ানমারে ফেরত গিয়েও তারা ক্যাম্পে থাকতে রাজি নন।”

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য কাজ করে, এমন একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার শিউলী শর্মা মনে করেন, রোহিঙ্গাদের এখন ফেরত পাঠানো হলে তাদের আবারও আগুনের মুখে ঠেলে দেয়া হবে।

“শরণার্থীরাও মিয়ানমারে ফেরত যাওয়ার প্রশ্নে নিরাত্তাহীনতায় ভুগছে। আমরাও যারা তাদের সহায়তায় কাজ করছে, আমরাও এমন একটা পরিবেশে তাদের ফেরত পাঠাতে পারি না।”

রোহিঙ্গারা যাতে সব অধিকার নিয়ে স্বেচ্ছায় নেজের দেশে ফিরতে পারে, সেটা মিয়ানমারকেই নিশ্চিত করতে হবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।

সৌদি আরবে ৬১ বাংলাদেশি হাজির মৃত্যু

সৌদি আরবে এ পর্যন্ত ৬১ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় প্রকাশিত হজ বুলেটিনে দেয়া মঙ্গলবার পর্যন্ত নিহত হাজিদের তথ্য থেকে এই সংখ্যা জানা গেছে।

সরকারি বুলেটিন বলছে, সৌদি আরবে সর্বমোট ইন্তেকাল করেছেন ৬১ জন হজযাত্রী। এর মধ্যে পুরুষ ৫১ এবং মহিলা-১০ জন। এর মধ্যে মক্কাতে ৪৪ জন, মদিনায় ৬ জন, জেদ্দা ২ জন, মিনায় ৪ জন এবং আরাফায় ৫ জনের মৃত্যু হয়।

সবশেষ মারা গেছেন ফেনীর আবদুস সালাম। ৪৮ বছর বয়সী এই হাজি মিনায় তার তাবুতে ইন্তেকাল করেন।

এ বছর সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় মোট ১ লাখ ২৭ হাজার ৭৯৮ জন হজে গিয়েছেন। হজযাত্রীদের ফিরতি ফ্লাট শুরু হবে ২৭ আগস্ট থেকে। চলবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী হলেন ইমরান খান

পাকিস্তানের ২২তম প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন সাবেক ক্রিকেটার ও তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) চেয়ারম্যান ইমরান খান। শুক্রবার পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যের ভোটে তাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচন করা হয়। ভোটে ইমরান পেয়েছেন ১৭৬ ভোট। সংসদে তার বিরোধীদল নওয়াজ শরিফের প্রতিষ্ঠিত দল পিএমএলএন পেয়েছে ৯৬ ভোট। পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন এখবর জানিয়েছে।

এর আগে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত করার সংসদ অধিবেশন শুক্রবার ৪টা ৩০ মিনিটে। ইমরান খান ও শাহবাজ শরিফ দুই জনই নির্ধারিত সময়ে সংসদে পৌঁছেছেন। তবে সোয়া চারটা নাগাদ তারা অধিবেশন কক্ষে হাজির হন। প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে ইমরানের প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন শাহবাজ শরিফ। পিএমএল-এন নেতা নির্বাচনে কারচুপির প্রতিবাদে হাতে কালো কাপড় বেঁধে হাজির হন। পিপিপি’র বিলাওল ভুট্টো ভোটদানে বিরত থাকার ঘোষণা দিলেও সংসদ অধিবেশনে উপস্থিত হয়েছেন। তিন নেতাই পরস্পরের সঙ্গে করমর্দন করেছেন।

নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনে ভোট দেন। তাদের ভোটে নির্বাচিত হন পাকিস্তানের ২২ তম প্রধানমন্ত্রী। এই ভোটাভুটিতে ইমরান খানের জয়ী হয়ে আসাটা নিশ্চিত ছিল।

সংসদ সদস্যের ভোটে ইমরানের নির্বাচিত হওয়ার ঘোষণা দেন নতুন নির্বাচিত স্পিকার আসাদ কায়সার। ফল ঘোষণার সময় ইমরানবিরোধীরা সংসদে ‘মানি না’ বলে স্লোগান দেয়। স্পিকার সংসদের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ বজায় রাখতে চাইলেও পিএমএল-এন সংসদ সদস্যের প্রতিবাদ অব্যাহত থাকে। এসময় ইমরান খান হাসিমুখে নিজের আসনে বসে ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি দলের নেতাদের শুভেচ্ছা গ্রহণ করছিলেন।

ডন জানায়, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইমরানের শপথ অনুষ্ঠান আগামীকাল শনিবার অনুষ্ঠিত হবে।