All posts by lutfor

এমপি মনোনয়ন চান চিত্রনায়ক ফারুক

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে গাজীপুর-৫ আসন থেকে নির্বাচন করতে চান ঢাকাই সিনিমার জনপ্রিয় চিত্রনায়ক ফারুক। এজন্য তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ডাকের অপেক্ষায় আছেন।

একটি জাতীয় দৈনিককে ফারুক বলেন, ৫৭ বছর ধরে একটা দলের সঙ্গে আছি। আমার এলাকার মানুষ আমাকে চায়। আওয়ামী লীগের সঙ্গে আমার আত্মিক সম্পর্ক। সেই আত্মার সম্পর্ক থেকে আমি মনে করি এবার আমাকে নমিনেশন দেয়া হবে।’

তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী কখন ডাকবেন আমি জানি না। এটা তার পলিসির ব্যাপার। এবার আসন দরকার। যে যেখান থেকে পাস করে আসতে পারবে তাকেই দরকার। শতভাগ গ্যারান্টি দিতে পারি আমি জিতব, ইনশাআল্লাহ।

১৯৪৮ সালের ১৮ আগস্ট গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার তুমলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণসোম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন অভিনেতা ফারুক। তার পুরো নাম আকবর হোসেন পাঠান দুলু। কিন্তু বাংলা চলচ্চিত্রে ফারুক নামেই তিনি কিংবদন্তী হয়েছেন। শৈশব-কৈশোর ও যৌবন কেটেছে গ্রামের বাড়ি ও পুরান ঢাকায়। এখন তিনি থাকেন উত্তরায় নিজ বাড়িতে।

বীর মুক্তিযোদ্ধা ফারুক বর্তমানে বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি। ১৯৭১ সালে এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’-তে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রে তার অত্মপ্রকাশ। ১৯৭৫ সালে তার অভিনীত ‘সুজন সখী’ ও ‘লাঠিয়াল’ ছবি দু’টি ব্যাপক ব্যবসা সফল হয়। ওই বছর লাঠিয়াল’র জন্য তিনি সেরা পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান।

ধর্ষণের অভিযোগে পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে বাদ রোনালদো

ধর্ষণের অভিযোগে পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে ছেঁটে ফেলা হল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে৷ লাস ভেগাসের আদালতে ধর্ষণের অভিযোগে সমন পাঠানো হয়েছে এই জুভেন্টাস স্ট্রাইকারকে৷ ধর্ষণের অভিযোগ উঠতেই আগামী পোল্যান্ড ও স্কটল্যান্ডের ম্যাচে জাতীয় দল থেকেই বাদ দেওয়া হয়েছে তাকে৷ রোনালদোর বিরুদ্ধে অভিযোগ, থরিন মেয়রগা নামে এক মার্কিন নারীকে রেপ করেন সিআর সেভেন৷ যদিও রোনালতো তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন৷ তার কথায়, ‘আমি তদন্তে সব সময়ই সাহায্য করতে চাই৷’ ৫ বারের ব্যালন ডি’ওর জয়ী রোনালদো গত জুলাইয়ে জুভেন্টাসে সাইন করেন৷ এই প্রজন্মের সেরা ফুটবলারদের মধ্যে অন্যতম সিআর সেভেন৷ আগামী ১১ অক্টোবর উয়েফা নেশনস লিগ’র ম্যাচে পোল্যান্ড যাবে পর্তুগাল জাতীয় দল৷ এরপর ১৪ অক্টোবর স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে ফ্রেন্ডলি ম্যাচ খেলবে পর্তুগাল৷

মিরসরাইয়ে র‌্যাবের অভিযানে ২ জঙ্গি নিহত

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ এলাকায় সন্দেহভাজন জঙ্গিদের একটি আস্তানা ঘিরে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) অভিযানে ২ জঙ্গি নিহত হয়েছে। এসময় ওই আস্তানা থেকে বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বাড়ির মালিক ও তত্ত্বাবধায়ককে আটক করা হয়।

আজ শুক্রবার সকালে এ অভিযান চালানো হয় বলে নিশ্চিত করেছেন র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৭-এর ফেনী ক্যাম্প অধিনায়ক শাফায়াত জামিল ফাহিম।

এর আগে, জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ২টার দিকে র‌্যাব ওই বাড়ি ঘিরে ফেলার পর ভেতর থেকে গুলি চালানো হয়। তখন র‌্যাব দূরে সরে আসে। তারপর দীর্ঘ সময় গোলাগুলি চলে। পরে ভোরের দিকে ওই বাড়িতে বেশ কয়েকটি বিস্ফেরণ ঘটে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব-এর আইন মিডিয়া উইং-এর পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান জানান, বিস্ফেরণের ঘটনায় ঢাকা থেকে আসা র‌্যাবের বোম্ব ডিসপোজাল টিম (বোমা নিষ্ক্রিয়কারী দল) আজ শুক্রবার সকাল ৯টার দিকে বাড়ির ভেতরে ঢুকে অভিযান শুরু করে। পরে তারা ওই বাড়ির ভেতর থেকে দুই জঙ্গির মরদেহ উদ্ধার করে। এসময় বিপুল সংখ্যক বোমা ও বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওই বাড়ির মালিক ও তত্ত্বাবধায়ককে আটক করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নাগরিকত্ব হারানোদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে না

আসামে নাগরিকত্ব হারানোদের ফেরত পাঠানো হবে না বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম ভারতীয় দৈনিক দ্য হিন্দুকে মোদির কাছে থেকে পাওয়া এই আশ্বস্তের কথা জানিয়েছেন।

এইচ টি ইমাম বলেছেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আশ্বস্ত করে বলেছেন যে, আসামের জাতীয় নাগরিক পঞ্জিকাতে যাদের নাম নেই তাদেরকে আগামীতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে না।

ঢাকায় আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের একদল প্রতিনিধিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রভাবশালী এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেছেন, বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলার কাছ থেকেও ঢাকা একই ধরনের আশ্বাস পেয়েছে।

তবে কখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনাকে এ আশ্বাস দিয়েছেন সেব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন এইচ টি ইমাম। তবে তিনি গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে থেকে এ আশ্বাস পেয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর এই রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেছেন, আসামে এনআরসি ইস্যুতে যা ঘটতে তা ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয়। ১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় বাংলাদেশের উচ্চ পর্যায়ের নেতারাসহ লাখ লাখ মানুষে সেদেশে পাড়ি জমায়। এটা এখন সম্ভব নয়।

চলতি বছরের ৩০ জুলাই ভারতীয় নাগরিকত্বের চূড়ান্ত খসড়া তালিকা থেকে আসামের প্রায় ৪০ লাখ মানুষের নাম বাদ দেয় প্রদেশের সরকার। আসামের ন্যাশনাল রেজিস্ট্রার অব সিটিজেন (এনআরসি) কর্তৃপক্ষের তালিকা থেকে বাদ পড়ে তারা। প্রতিবেশী বাংলাদেশ থেকে আসামে পাড়ি জমানো অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করার লক্ষ্যে ১৯৫১ সালের পর সেই সময় প্রথম নাগরিকত্বের তালিকা হালনাগাদ করে আসাম।

ওই সময় এনআরসির কর্মকর্তারা বলেন, এটি খসড়া তালিকা মাত্র। সুতরাং এখনই কাউকে গ্রেফতার অথবা নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হবে না। তবে সমালোচকরা বলেছেন, নাগরিকত্বের তালিকা থেকে বাদ পড়াদের অধিকাংশই প্রদেশের সংখ্যালঘু মুসিলম জনগোষ্ঠীর সদস্য এবং বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত।

নির্বাচনকালীন সরকারে সংসদের বাইরের কারো থাকার সুযোগ নেই: কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনকালীন সরকারে সংসদের বাইরের কারো থাকার সুযোগ নেই। তবে বিএনপি নির্বাচনী প্রচার চালাতে পারে, তাতে কোনো বাধা নেই।

শুক্রবার সকালে রাজধানীতে দলীয় অনুষ্ঠানে তিনি এ সব কথা বলেন।

এর আগে বহস্পতিবার ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও অর্জন বিএনপির আন্দোলনের ওপর সংকটের কালো ছায়া ফেলেছে।

কাদের বলেন, ‘দেশে কোন সংকট নেই। বিএনপির নিজেদের ঘরের মধ্যে সংকট রয়েছে। কারণ তারা নিজেরা একে অপরকে সরকারের দালাল হিসেবে অভিহিত করে থাকে। ঘরেই যাদের ঐক্য নেই, তারা কিসের জাতীয় ঐক্য করবে।’

কাদের আরো বলেন, সারাদেশে নৌকার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। আগামী বিজয়ের মাসে যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সে নির্বাচনে মুক্তিযুদ্ধের প্রতীক নৌকা ভাসতে ভাসতে বিজয়ের বন্দরে পৌঁছে যাবে।

ওবায়দুল কাদের আজ বিকেলে রাজধানীর ফার্মগেইটের আনন্দ সিনেমা হলের সামনে আগামী জাতীয় নির্বাচন উপলক্ষ্যে সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচীর লিফলেট বিতরণ অনুষ্ঠান পূর্ব এক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের উন্নয়ন ও অর্জন এবং নির্বাচন বানচাল ও সরকার পতনের নামে বিএনপি-জামায়াতের নাশকতার কথা জনগনের সামনে তুলে ধরতে আওয়ামী লীগ এই গণসংযোগ কর্মসূচী গ্রহন করে। এ কর্মসূচীতে আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপি জামায়াতের সহিংসতা ও নাশকতার বিষয়েও জনগনকে সচেতন করা হচ্ছে।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশে হঠাৎ একটি খবর দিলেন। জাতিসংঘের মহাসচিব বিএনপির নেতাদের আমন্ত্রণ জানিয়ে চিঠি দিয়েছে। মির্জা ফখরুল জাতিসংঘে গেলেন। কিন্তু জাতিসংঘ মহাসচিব বিশিষ্ট এক ব্যক্তির অন্তেষ্ট্যিক্রিয়ায় যোগ দিতে ঘানায় অবস্থান করছিলেন।

বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুল অবশেষে অনুনয়-বিনয় করে জাতিসংঘের এক সহকারী সেক্রেটারী জেনারেলের সংঙ্গে সাক্ষাত করে দেশের বিরুদ্ধে নানা নালিশ করেন। যারা জাতিসংঘের মহাসচিবের আমন্ত্রণ পত্র নিয়ে দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারনা করেন তাদের কাছে কখনও দেশ, গণতন্ত্র ও আইনের শাসন নিরাপদ থাকতে পারে না।

কাদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সন্তানের পরিচয়ে বাবার সঙ্গে মায়ের নাম যুক্ত করে নারী সমাজের মর্যাদা ও সম্মান বৃদ্ধি করেছেন। আগামী জাতীয় নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকে বিজয়ী করে নারীদেরও তার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে।

ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এমপি, কৃষি ও সমবায় বিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট মৃনালকান্তি দাস, তথ্য ও গবেষনা বিষয়ক সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন ও ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান।

সমাবেশ শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দলীয় নেতা-কর্মীদের নিয়ে আনন্দ সিনেমা হলের সামনের মার্কেটে ব্যবসায়ীদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করেন।

আওয়ামী লীগের সপ্তাহব্যাপী গণসংযোগ কর্মসূচীর চতুর্থ দিনে আজ সকালে রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফের নেতৃত্বে সরকারের উন্নয়ন ও অর্জন এবং বিএনপি জামায়াতের সন্ত্রাস ও নাশকতার তথ্য নিয়ে তৈরি লিফলেট বিতরণ করা হয়। এ ছাড়াও বিকেল চারটায় দলের সাংগঠনিক সম্পাদক মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের নেতৃত্বে রাজধানীর বংশাল এলাকায় গণসংযোগ কর্মসূচী পরিচালিত হয়।

বিএনপিকে নির্বাচনে অংশ নিতে কমনওয়েলথের চিঠি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কাছে নির্বাচনে অংশ নিতে আহবান করে কমনওয়েলথের মহাসচিব প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড চিঠি পাঠিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার বিকাল ৫ টা ২০ মিনিটে অনুষ্ঠিত বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের কাছে কমনওয়েলথের চিঠির কথা বলেন মির্জা ফখরুল।

রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির বৈঠক হয়েছে। বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আমরা কথা বলেছি।’

কমনওয়েলথের পাঠানো চিঠি প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটা চিঠি ওরা পাঠিয়েছে। সে চিঠির আমরা উত্তর দেব।’

জানা যায়, বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি, সুচিকিৎসা, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন, নিরপেক্ষ সরকারের দাবীতে আন্দোলন প্রসঙ্গে আলাপ করেন বিএনপির শীর্ষ নেতারা।

ইভিএম চাপিয়ে দেওয়া হবে না: সিইসি

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন-ইভিএম চাপিয়ে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কে এম নূরুল হুদা। বলেছেন, ‘আইনগত অনুমোদন পেলে যতটুকু পারা যায় নিখুঁতভাবে নিশ্চিত হয়ে ইভিএম ব্যবহার করা হবে।’

শনিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে একাদশ জাতীয় সংসদ উপলক্ষে নির্বাচনী কর্মকর্তাদের টিওটি প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিইসি এসব কথা বলেন।

সিইসি বলেন, ‘ইভিএম নিয়ে মানু্ষের মনে প্রশ্ন থাকতেই পারে। তবে ইভিএম কি তা ভোটাদের জানাতে হবে। ভোট পবিত্র আমানত। ইভিএম ব্যবহারে যোগ্যতা অর্জন, আাইনগত ভিত্তি ও ব্যবহার উপযোগি হলে আগামী সংসদ নির্বাচনে এটি ব্যবহার হবে।’

নির্বাচনী অংশীজনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘ইভিএম কি, দেখুন, জানুন, তারপর বলুল ইভিএম ব্যবহার করা যাবে কি না। না জেনেই যদি বলেন এটি ব্যবহার করা যাবে না; এটি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। তাহলে সেটা দুঃখজনক।’

‘জানার পর মন্তব্য করলে ভালো হয়। আমাদের অবশ্যই আধুনিক প্রযুক্তির দিকে ধাবিত হতে হবে। নির্বাচনের ম্যানুয়াল পদ্ধতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে।’

সিইসি বলেন, ‘আাগামী সংসদ নির্বাচনের বেশি দিন নেই। দুই থেকে আড়াই মাস। প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে।’

এসময় ২০১৮ সালের শেষে অথবা ২০১৯ সালের শুরুতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলেও উল্লেখ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার।

নির্বাচনী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন গ্রহণযোগ্য করার জন্য এই কর্মশালা। দক্ষতা অর্জন করে নির্বাচনকে সুষ্ঠু করতে হবে।’

নির্বাচনি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক মোস্তফা ফারুকের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিব মুহাম্মদ মোখলেসুর রহমান। কর্মশালায় ৫০ জন কর্মকর্তা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।

জাতীয় ঐক্যের ঘোষণা দিতে এসেছি: কামাল

গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য জাতীয় ঐক্য পয়োজন বলে জানিয়েছেন গণফোরামের সভাপতি ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার চেয়রিম্যান ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেছেন, জাতীয় ঐক্যের সুস্পষ্ট ঘোষণা দেয়ার জন্য তিনি সমাবেশে এসেছেন।

জাতীয় ঐক্য ঘোষণার লক্ষ্যে আজ শনিবার দুপুরের পর ঢাকা মহানগর নাট্যমঞ্চে শুরু হয়েছে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশ।

ড. কামাল বলেন,  ‘আজ বাংলাদেশের সব জনগণের মাঝে উদ্বেগ-উৎকন্ঠা। দেশের মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নেই। মানুষ আজ সুশাসন দেখতে চায়। কার্যকর গণতন্ত্র চায়।’

দেশে হাজার কোটি টাকা দুর্নীতি হচ্ছে অভিযোগ করে ড. কামাল বলেন, ‘এই দুর্নীতি বন্ধ হলে দেশের জাতীয় অর্থনীতি শক্তিশালী হবে। বেকার সমস্যা সমাধান হবে।’

জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বের কথা তুলে ধরে এই প্রবীণ রাজনীতিক ও আইনজ্ঞ বলেন, ‘জনগণ সব ক্ষমতার মালিক। জনগণের মত প্রকাশের স্বাধীনতা নিশ্চিত হলে, জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত হবে। দেশের মানুষ আজ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত। মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ভোট প্রাদানের সু্যোগের জন্য ঐক্যবদ্ধ হওয়া দরকার। এ জন্য জাতীয় ঐক্যের সুস্পষ্ট ঘোষণা দেয়ার জন্য এখানে এসেছি।’

সমাবেশে বিএন‌পির চেয়ারপারসন বেগম খা‌লেদা জিয়ার মু‌ক্তি চাইলেন মাহমুদুর রহমা‌ন মান্না। তি‌নি ব‌লেন, খা‌লেদা জিয়াসহ সব রাজ‌নৈ‌তিক নেতাকর্মী‌দের মু‌ক্তি দি‌তে হ‌বে।

ড. কামাল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল, মওদুদ আহমেদ, খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মঈন খান, ব্যারিস্টার মঈনুল হোসেন, আন্দালিব রহমান পার্থ, নূর হোসেন কাসেমি প্রমুখ উপস্থিত আছেন।

দুর্নীতিমুক্ত একটা মন্ত্রণালয় দেখান, প্রধানমন্ত্রীকে বি চৌধুরী

সারাদেশে দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান বদরুদ্দোজ্জা চৌধুরী। প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি হচ্ছে দাবি করে তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, একটি মন্ত্রণালয় দেখান যেটা ঘুষ-দুর্নীতি ছাড়া চলে।

শনিবার রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। বিএনপিসহ আওয়ামী লীগবিরোধী দলগুলো নিয়ে বৃহত্তর জোট গড়ার লক্ষ্যে ড কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়া এই নাগরিক সমাবেশের আয়োজন করে।

মেধাবীরা দেশ চালাবে জানিয়ে বি চৌধুরী বলেন, ‘নির্বোধ ব্যক্তিরা কেন দেশের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকবে? দায়িত্বে থাকতে হবে মেধাবীদের, বুদ্ধিমানদের। রাষ্ট্র পরিচালনায় (প্রশাসনে) মেধাবীদেরই গুরুত্ব দিতে হবে। আজকের মেধাবী তরুণ আগামীর ভবিষ্যৎ।’

তিনি কোটা আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, ‘তাদের ওপর ছুরি দিয়ে আঘাত করবেন, চাপাতি দিয়ে আঘাত করবেন, গুণ্ডা লেলিয়ে দেবেন; আপনি করেননি, আপনার লোকজন করেছে। এটা লজ্জার বিষয়।’

বিকল্পধারার সভাপতি বলেন, ‘বাংলাদেশ প্রতিবাদী জাতি, বাংলাদেশ স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছে, বাংলাদেশ পাকিস্তানি স্বৈরাচার বরদাশত করেনি, প্রতিবাদ করেছে, এখনও করবে।’

বদরুদ্দোজা চৌধুরী বলেন, ‘শুধু স্বাধীনতার পক্ষের শক্তিকে সঙ্গে নিয়ে ভারসাম্যের ভিত্তিতে জাতীয় ঐক্য বেগবান হতে পারে। আমার পবিত্র স্বাধীনতার বিরুদ্ধে, আমার পবিত্র পতাকার বিরুদ্ধে, লক্ষ, লক্ষ মানুষের রক্তে ভেজা, লক্ষ মানুষের চোখের পানিতে ভেজা এই মাটির বিরুদ্ধে যারা ছিল, যারা আছে তাদের সাথে ঐক্য করবো না। আমরা বিভিন্ন গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি এবং বিএনপির সাথে আলোচনা করছি। সবাই ইতিবাচক স্বপ্নে জেগে উঠতে চাই। স্বপ্নভঙ্গের অধ্যায় রচনা করতে নয়।’

বক্তব্যে বদরুদ্দোজা চৌধুরী সরকারের প্রতি ১০টি প্রশ্নও ছুঁড়ে দেন। বলেন, এই সরকারের কাছে জনগণের প্রশ্ন, যে স্বাধীনতা আনতে লক্ষ লক্ষ মানুষ শহীদ হয়েছে, লক্ষ লক্ষ মা-বোনকে ইজ্জত দিতে হয়েছে, এর মূল্যবোধ কেন পদদলিত?

‘দিন-রাত প্রতিটি ঘণ্টা নিয়ে কেন মা-বোনেরা আতংকে থাকবে? কেনো পুলিশ, র‌্যাব, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অপরাধীদের ছাড় দেবে?’

‘কেন ঘুষ দুর্নীতিকে ‘স্পিড মানি’ বলে সরকারিকরণ করা হলো? সমস্ত জাতির নৈতিকতাবোধকে পদদলিত করা হলো? এই অধিকার কে দিয়েছে আপনাদের?’

‘নিরাপদ সড়কের দাবিতে কচি-কিশোরদের রাস্তায় নামতে হবে কেন?’

‘কোটা সংস্কারের পক্ষে মেধাবী ছাত্রদের কেন আন্দোলন করতে হবে? মেধাবী ছাত্রদের কী অপরাধ? কেন তাদের গুণ্ডা দিয়ে, হাতুড়ি-চাপাতি দিয়ে আক্রমণ করা হবে? এজন্যই কি স্বাধীনতা?’

‘আপনাদের অপরাধের প্রতিবাদে কথা বলার জন্য সভা-সমাবেশ করার জন্য পুলিশের অনুমতি কেন নিতে হবে? অথচ আপনারা যখন-তখন, যত্রতত্র সভা সমাবেশ করতে পারেন।’

‘কেন আমার ভোট আমি দিতে পারবো না? ভোটের অধিকারকে কেনো দলীয়করণ করা হলো? সারা পৃথিবীতে ইভিএম পরিত্যক্ত, ইভিএম কেউ চায় না। কেন আপনাদের সুবিধার জন্য ইভিএম গ্রহণ করতে হবে?’

‘কেনো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দলীয়করণ করা হলো? কেন তাদের সবসময় ভয়-ভীতির মধ্যে রাখা হচ্ছে কেন?’

‘স্বাধীন দেশের মা-বোনদের ও শিশুদের ওপর কেন নির্যাতন হচ্ছে?’

‘আমাদের রাষ্ট্র তুমি কোথায়? আমাদের স্বাধীনতাযুদ্ধের সঙ্গী আমাদের বন্ধু রাষ্ট্র কোথায়? কেন গঙ্গার পানি পাবো না? কেন বন্ধু রাষ্ট্র তিস্তার পানি দেবে না?’

সরকারের প্রতি এই ১০ প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বানও জানান বদরুদ্দোজা। বলেন, ‘একটি স্বেচ্ছাচারী, গণতন্ত্রবিরোধী সরকার গত ১০ বছরে যে উদাহরণ সৃষ্টি করেছে, একই রকম সরকারের ঝুঁকি আমরা নিতে পারি কি?’

‘সংসদ, মন্ত্রিসভা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য সৃষ্টি করতেই হবে। না হলে স্বেচ্ছাচারমুক্ত বাংলাদেশের নতুন অধ্যায় সৃষ্টি করা যাবে না।’

এর আগে শনিবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে বদরুদ্দোজা চৌধুরী গুলিস্তানে  মহানগর নাট্যমঞ্চের সমাবেশে যোগ দেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছেলে মাহী বি চৌধুরী ও বিকল্পধারার মহাসচিব মেজর (অব.) আবদুল মান্নান।

বিকাল তিনটায় শুরু হওয়া সমাবেশে বিএনপি, ২০ দলের শরিক, যুক্তফ্রন্ট ও বাম সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন।

বিএনপির আন্দোলনে জনগণ আর সাড়া দেবে না: ওবায়দুল কাদের

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, যেমন মরা নদীতে কখনো জোয়ার আসে না তেমনি বিএনপির আন্দোলনে জনগণ আর সাড়া দেবে না। তিনি বলেন, দেশ এখন উন্নয়নের জোয়ারে ভাসছে। বিএনপি-জামায়াত দেশের উন্নয়নের ধারাকে নস্যাৎ করতে যতই ষড়যন্ত্র করুন না কেন, জনগণ তাদের ডাকে আর কখনো সাড়া দেবে না।

আজ শনিবার একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনী প্রচারণায় চট্রগ্রাম বিভাগের কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ কর্তৃক আয়োজিত দাউদকান্দি ইলিয়টগঞ্জ রাবি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক পথ সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ঈদের পরে অন্দোলনের হুমকি দিয়ে দশ বছরে বিশটি ঈদ পেরিয়ে গেছে কোনো আন্দোলনই সফল করতে পারেনি তারা। আওয়ামী লীগের দশ বছরের ক্ষমতায় কুমিল্লার ৯০ভাগ গ্রামের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়াও বয়স্ক ভাতা, বিধাব ভাতা এবং দশ টাকা মূল্যে চাল দেওয়া হচ্ছে। আগামীতে নৌকাকে বিপুল ভোটে জয়ী করুন তাহলে কুমিল্লা উত্তরকে আলাদা জেলা এবং কুমিল্লাকে বিভাগ করা হবে।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বিশাল দল তাই নেতাকর্মী অনেক। আজকে নির্বাচনী পথসভা মঞ্চে প্রতিটি আসনে একাধীক প্রার্থী উপস্থিত আছেন তবে প্রত্যেক প্রার্থীর আমলনামা জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে জমা আছে। নেত্রী যাকেই নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দেন তার পক্ষেই কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল আউয়াল সরকারের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল আলম হানিফ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও চট্রগ্রাম বিভাগের দ্বায়িত্বপ্রাপ্ত এনামুল হক শামিম।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য এ্যাডভেকেট আবদুল মতিন খসরু এমপি, কুমিল্লা-১ আসনের সংসদ সদস্য মেজর জেনারেল অব. সুবিদ আলী ভুইয়া, ইউছুফ আবদুল্লাহ হারুন এমপি, কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি সাংবাদিক মো. শাহজাহান, ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত, ড. আবদুল মান্নান জয়, অধ্যক্ষ হুমায়ূন মাহমুদসহ উপজেলা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।