All posts by lutfor

ড. কামাল হোসেনের আসল চেহারা উম্মোচিত হল: জয়

বিএনপির সঙ্গে ড. কামাল হোসেনের জোট করা নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে তিনি জামায়াত-বিএনপির সঙ্গে ঐক্য করা নিয়ে কামাল হোসেনের কঠোর সমালোচনা করেন।

ফেসবুক পোস্টে জয় লেখেন, বিএনপি জামাতের সাথে জোট করার মাধ্যমে কামাল হোসেনের আসল চেহারা সবার সামনে উন্মোচিত হলো। তার এক জোটসঙ্গী বিএনপি ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত নিরীহ মানুষদের জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছে। তার আরেক সঙ্গী জামাত মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণহত্যায় জড়িত ছিল। বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি তারেক রহমান আমার মা ও আওয়ামী লীগের ওপর গ্রেনেড হামলার দণ্ডপ্রাপ্ত অপরাধী; তাদের সভাপতি খালেদা জিয়াও দুর্নীতির মামলায় সাজাপ্রাপ্ত একজন অপরাধী।

তিনি আরও জানান, ১/১১ এর সেনা সমর্থিত সরকার আনার পেছনে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছিল এই কামাল হোসেন। তার জামাতা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানোর জন্য মরিয়া হয়ে লড়াই করে গেছেন অনেক বছর আর এখন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে অনবরত মিথ্যাচার করেই যাচ্ছেন। কামাল হোসেন এর মেয়ে ও জামাতা উভয়ই বিদেশে বাংলাদেশ বিরোধী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন বিদেশীদের বাংলাদেশে হস্তক্ষেপ করানোর উদ্দেশ্যে।

কামাল হোসেনের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, এই ধরণের মানুষদের উপর আমার বিতৃষ্ণা এসে গেছে। তাদের কোনো নৈতিকতা নেই, সততা নেই, নেই বাংলাদেশের জন্য কোনো ভালোবাসা। ক্ষমতার লোভে তারা দুর্নীতিবাজ ও সন্ত্রাসীদের হাত মেলাতে পারে স্বাচ্ছন্দ্যে। তারা দেশপ্রেমিক নয়, তারা বাংলাদেশ বিরোধী।

নির্বাচন কমিশন তো আর নিরাপত্তা পরিষদ না: ওবায়দুল কাদের

নোট অব ডিসেন্ট দিয়ে দেড় মাসের মধ্যে একজন নির্বাচন কমিশনারের দ্বিতীয়বারের মতো কমিশনের বৈঠক বর্জনের পরিপ্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এতে আস্থার সঙ্কট হওয়ার কোন কারণ নেই।

তিনি বলেছেন এটি তার মাহবুব তালুকদারের অধিকার, কোন বিষয়ে একমত না হলে তিনি এটি করতেই পারেন। এতে নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা সঙ্কট তৈরি হওয়ার কোন সুযোগ নেই। তাছাড়া নির্বাচন কমিশন তো জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ নয় যে সকলের একমত হতে হবে।

মঙ্গলবার সকালে বনানীতে বিআরটিএ’র নবনির্মিত ভবনের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শনে গিয়ে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেন।

দেড় মাস আগে ইভিএম ইস্যুতে সভা বর্জনের পর সোমবার নির্বাচন কমিশনের সভায় বেশ কিছু বিষয়ে একমত হতে না পারা এবং কথা বলার স্বাধীনতা না পাওয়ার অভিযোগে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়ে সভা বর্জন করেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদকের কাছে প্রশ্ন ছিলো: নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের এমন বর্জনে কমিশনের ওপর আস্থার সংকট তৈরি হলো কি না? পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে বিএনপির দাবি যৌক্তিক প্রমাণ হলো কিনা?

ওবায়দুল কাদের বলেন: মহামান্য রাষ্ট্রপতি যখন সার্চ কমিশন গঠনের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করেন, তখন মাহবুব তালুকদার বিএনপি’র পছন্দে কমিশন এসেছিলেন। আমি শুধু এটুকু মনে করিয়ে দিতে চাই।

নির্বাচন কমিশনকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ না ভাবার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন: নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের সকলে একমত না হলে কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। একটি নির্বাচন কমিশন নিরাপত্তা পরিষদ নয়। মেজরিটি একমত হলেই যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের সভা বর্জনকে গণতন্ত্র চর্চার অংশ বলেই মানছেন কাদের।

তিনি বলছেন: এটা গণতন্ত্র, একজনের ভিন্নমত প্রকাশ করার অধিকার আছে। কাজেই একজনের ভিন্নমতের কারণে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের দাবির কোন যৌক্তিকতা নেই বলে দাবি করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক।

নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদারের সভা বর্জন নির্বাচন কমিশনের কাজের জন্য কোনো বাধা নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নোট অব ডিসেন্টে কী লিখেছেন মাহবুব তালুকদার
মাহবুব তালুকদার সভা বর্জনের আগে নোট অব ডিসেন্টে লিখেছেন: নির্বাচন কমিশন কোনভাবেই আমার অধিকার খর্ব করতে পারে না, বাক স্বাধীনতা ও ভাব প্রকাশের স্বাধীনতা আমার সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার।

‘এমতাবস্থায় আমি নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে নোট অব ডিসেন্ট প্রদান করছি এবং প্রতিবাদ স্বরূপ কমিশন সভা বর্জন করছি।’

তিনি বলেন: কমিশন সভায় তাকে বক্তব্য উপস্থাপন করতে না দেওয়ার বিষয়ে কমিশনারদের ‘অভিন্ন অবস্থান’ তাকে ‘বিস্মিত ও মর্মাহত’ করেছে।

সেসময় তিনি জাতীয় নির্বাচনে সেনা মোতায়েন, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত সহ পাঁচদফা সুপারিশ করেন।

২৫ লাখ নেতা-কর্মী আসামী :মির্জা ফখরুল

একটা রাজনৈতিক দলের ২৫ লাখ ৭০ হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মামলা! মাত্র ৯ বছরে ৯০ হাজারেরও বেশি মামলা দায়ের করা হয় বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীদের নামে। মামলা থেকে বাদ যাননি স্বয়ং দলের চেয়ারপারসনসহ বর্ষীয়ান নেতারাও। এমনকি মিথ্যা মামলার অপবাদ নিয়ে মারা গেছেন অনেক সিনিয়র নেতারা। মামলায় হাজিরা দিতে গিয়ে মারা যান দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য হান্নান শাহ। কারাগারে মারা যান ছাত্রদলের নিবেদিত বেশ কয়েকজন নেতা।

আজ শনিবার সকালে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আইন বিষয়ক সম্পাদক কায়সার কামাল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত গায়েবী মামলার সংখ্যা ৪ হাজার ১৪৯। এর মধ্যে এজহারের জ্ঞাত আসামীর সংখ্যা ৮৬ হাজার ৬৯২ এবং অজ্ঞাত আসামী হচ্ছে ২ লাখ ৭৬ হাজারর ২৭৭ জন।

মির্জা ফখরুল অভিযোগ করে বলেন, এটা থেকে একটা জিনিসই প্রমাণিত হয় সরকার সম্ভাব্য সব রকমের প্রচেষ্টা চালাচ্ছে যেন বিএনপি নির্বাচনে যেতে না পারে, যেন বিএনপি নির্বাচনে অংশগ্রহন করতে না পারে। দেশনেত্রীকে মিথ্যা মামলা দিয়ে তাকে কারাগারে আটক করে রাখা, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলায় নির্বাসিত করে রাখা এবং আমাদের সিনিয়র নেতাদের মামলাগুলো দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে তাদেরকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখার একটা প্রক্রিয়া তারা(সরকার) বের করতে পারে।

এরকম পরিস্থিতি নির্বাচনের জন্য অনুকুল নয় মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, দেশের জনগন একটা নির্বাচন চায়। কেনো চায়? তারা এই অবস্থার পরিবর্তন চায়। সেই সেই নির্বাচনে যেন বিরোধী দল অংশগ্রহণ করতে না পারে তার জন্য সবরকম অবস্থা তারা তৈরি করে রাখছে। আমরা দৃঢ়তার সাথে বলতে চাই, আমরা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করতে হবে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে। নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা সমস্ত মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। আমরা যে ৭ দফা দিয়েছি তা মেনে নিয়ে একটা পরিবেশ তৈরি করতে হবে।

গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে গায়েবী মামলার পরিসংখ্যান তুলে ধরে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ১ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গায়েবী মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে ৪ হাজার ৬৮৪ জন। রিমান্ডে গেছে ২৪৭ জন। আমাদের দক্ষিনের সভাপতি হাবিব উন নবী খান সোহেল এখনো রিমান্ডে আছেন। একটার পর একটা রিমান্ড তার চলছে। ২০০৯ সাল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আসামীর সংখ্যা অবিশ্বাস্য। কেউ বিশ্বাস করবে না। ২৫ লাখ ৭০ হাজার ৫৪৭ জন, জেল হাজতে আসামী সংখ্যা ৭৫ হাজার ৯২৫ জন, মোট হত্যার সংখ্যার ১ হাজার ৫১২ জন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা বিএনপির নেতা-কর্মী নিহত হওয়ার সংখ্যা ৭৮২ জন। মোট গুমের সংখ্যা ১ হাজার ২০৪ জন। এর মধ্যে পরবর্তিকালে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজত থেকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় ৭৮১ জন এবং গুম হয়ে আছে এখন ৪২৩ জন। ২০০৯ সাল থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গুরুতর জখম ও আহত হয়েছে ১০ হাজার ১২৬ জন। এসব সব আমাদের কাছে রেকর্ডেড। এর বাইরেও আছে যা রেকর্ডেড হয়নি।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বিদেশে দেশে তারা সবাই বক্তৃতা করার সময়ে বলছেন যে, দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে এবং লেভেল প্ল্যায়িং ফিল্ড থাকবে সবাই নির্বাচন করতে পারবে। এই পরিসংখ্যানে একটা জিনিসই প্রমাণিত হয় সরকার সব প্রচেষ্টা চালাচ্ছে যেন বিএনপি নির্বাচনে যেতে না পারে। আমরা মনে করি এটা শুধু বিএনপির জন্য নয়, বিরোধী দলগুলোর জন্য নয় এটা সমগ্র জাতির জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ, বিপদজনক। কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে দেশকে। আবার আগের নাটক শুরু হয়ে গেছে। মীরসরাইতে জঙ্গি আস্তানা। এই আলামত কিসের কোন দিকে নিয়ে যাচ্ছে দেশকে। কোন দিকে কোন উদ্দেশ্যে জাতিকে নিয়ে যেতে চায় এটা আমাদের কাছে বড় আশঙ্কা ও উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, নির্বাচন থেকে বিএনপিকে দূরে রাখার জন্য এইভাবে গায়েবী মামলা দিচ্ছে। উদ্দেশ্যে আবারো ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির মতো একটা একতরফা নির্বাচন করা। পৃথিবীর কোথাও এমন নজির নেই যে, এইভাবে নির্বাচনের আগে সরকার নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে। যেটা বাংলাদেশকে সরকার পরিকল্পিতভাবে এসব কর্মকান্ড করছে। গত ১০ বছরে নিজের অপকর্মের কারণেই তারা আতঙ্কিত হয়ে এসব কাজ করছে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ বলেন, এভাবে কোনো ভিত্তি ছাড়া মামলায় দায়ের করে সরকার দেশে ন্যায় সুবিচার ও সুবিচার বলতে যা বুঝায় তা একেবারেই নিঃশেষ করে দিয়েছে। এর মাধ্যমে দেশের আপামর জনগনকে আপনারা হেয় প্রতিপন্ন করছেন। আপনাদের যে দেশের মানুষের প্রতি কোনো আস্থা নাই যেটাই প্রমাণ করছেন এসব কর্মের মাধ্যমে। সরকারের উদ্দেশ্য হলো নির্বাচনের আগে ওয়ার্ড লেভেল পর্যন্ত নেতা-কর্মীদের কারাগারে বন্দি করে রাখা। তারা চাচ্ছেন ফাঁকা মাঠে গোল দেয়ার।

সব সময় বিবেককে জাগ্রত রাখবে : রাষ্ট্রপতি

জীবনে চলার পথে তোমাদের আদর্শ থাকতে হবে। কখনো ন্যায়ের সাথে অন্যায়ের আপস করবে না। সব সময় তোমার বিবেককে জাগ্রত রাখবে। জীবন-জীবিকার জন্য তোমরা পৃথিবীর যেখানেই থাক না কেন, মাতৃভূমিকে ভুলবে না।’আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ৫১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সমাবর্তন নিতে আসা স্নাতকরা যখন উন্মুখ, তখন শিক্ষার্থীদের এসব নির্দেশনাই দিচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য এবং রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম শেষ হয়েছে । কিন্তু দেশগড়ার সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। শোষণ-বঞ্চনা-ক্ষুধা-অশিক্ষা থেকে দেশ এখনো পুরোপুরি মুক্ত হয়নি। সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার যে প্রত্যয় ছিল তা আজও পরিপূর্ণভাবে অর্জিত হয়নি। এজন্য দেশ গড়ার কাজে যুব সমাজকে বিশেষ করে নবীন স্নাতকদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে।’

১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি অস্ত্র সমর্পণ অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ভাষণের উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘মুক্তির সংগ্রামের চেয়েও দেশ গড়ার সংগ্রাম কঠিন। তাই দেশ গড়ার কাজে আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। আমি মনে করি আজকের তরুণরাই দেশ গড়ার কাজে অবদান রাখবে।

ষাটের দশকের ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে এখনকার ছাত্র রাজনীতির অনেক পার্থক্য রয়েছে বলেও রাষ্ট্রপতি মনে করেন। আবদুল হামিদ বলেন, ‘ষাটের দশকের ছাত্র রাজনীতির সাথে বর্তমান ছাত্র রাজনীতির অনেক পার্থক্য দেখা যায়। তখন ছাত্র আন্দোলন ছিল আদর্শ নির্ভর। সেখানে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থ ছিল না। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে দেশকে মুক্ত করাই ছিল মূল লক্ষ্য। সেই আদর্শকে ধারণ করে ১৯৭১ সালে জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার পরিবেশ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ডিপ্লোমা ও সান্ধ্যকালীন কোর্সের নামে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের পাশাপাশি স্বাভাবিক লেখাপড়ার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে কি না তা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। আমি মনে করি শিক্ষার্থীদের বৃহৎ স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা ভেবে দেখবেন। মনে রাখতে হবে, জনগণের অর্থেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয়। তাই তাদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

আবদুল হামিদ বলেন, ‘উচ্চশিক্ষা ও জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশ, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিসংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অতুলনীয় ও অনন্য। স্বাধীনতার পর দেশ গড়ার দায়িত্বও অনেকাংশে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর অর্পিত হয়। তাই জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে এ বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, নতুন চিন্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে আত্মনিয়োগ এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনেক সফল। ’

স্নাতকদের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকরা দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রেখে চলেছেন অনন্য অবদান। আজ সময়ের বিবর্তনে, বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ও দেশের দ্রুত উন্নয়নে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। দেশের প্রয়োজনে এবং জাতীয় স্বার্থেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিতে হবে।’

এ বছরের ৫১তম সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বাধিক ২১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন। অনুষ্ঠানে ৯৬ জন কৃতি শিক্ষার্থী রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেছেন। সেই সঙ্গে ৮১ জনকে পিএইচডি এবং ২৭ জনকে এমফিল ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের নিবন্ধিত স্নাতকরা ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকা কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজ থেকে সরাসরি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে কথা বলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে সমাবর্তনে ধন্যবাদ জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এবং দুই উপ-উপাচার্য।

হুইল চেয়ারে করে হাসপাতালে প্রবেশ করলেন খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) নেওয়া হয়েছে। সেখনে পৌঁছালে তাকে গাড়ি থেকে নামিয়ে হুইল চেয়ারে করে ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়।

আজ শনিবার বৃষ্টিভেজা বিকেলে অনেকটা আধভেজা হয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ নিরাপত্তায় বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে হাসপাতালে প্রবেশ করেন খালেদা জিয়া। হাসপাতালে যাওয়ার পথে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের দোয়েল চত্বর হয়ে সুপ্রিম কোর্ট, মৎস ভবন মোড়, হেয়ার রোড মিন্টু রোড হয়ে বিএসএমএমইউ পৌঁছায় খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়ি।

এ সময় কঠোর নিরাপত্তায় ১৫টি গাড়ির বহরে বেগম জিয়াকে নিয়ে যাওয়া হয়। বহরে র‌্যাব, চকবাজার থানার ওসি, লালবাগ জোনের ওসি, ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, ফোর্স পুলিশের গাড়ি ছিল।

এদিকে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে চিকিৎসার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) আনা উপলক্ষ্যে সেখানকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। খালেদা জিয়ার কেবিনের আশপাশে নতুন সিসিটিভিও লাগানো হয়েছে।

বিএসএমএমইউ ও কারাকর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, বিএসএমএমইউকে ঘিরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে মোতায়েন করা হয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বাড়তি সদস্য। কেবিন ব্লকের মুখে প্রত্যেককে চেক করে তারপর ভেতরে ঢোকানো হচ্ছে।

সেন্ট মার্টিনকে মিয়ানমারের অংশ দেখানোর চেষ্টায় রাষ্ট্রদূতকে তলব

মিয়ানমারের মানচিত্রে সেইন্ট মার্টিন দ্বীপপুঞ্জকে দেখানোর ঘটনায় দেশটির রাষ্ট্রদূতকে ডেকে তার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ।

শনিবার দুপুরে ঢাকায় মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত লুইন উকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়।

রাষ্ট্রদূত উপস্থিত হলে তাকে প্রতিবাদপত্র ধরিয়ে দেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব অবসরপ্রাপ্ত রিয়ার এডমিরাল খুরশিদ আলম।

রাষ্ট্রদূতকে দুপুর ১টায় মন্ত্রণালয়ে খুরশিদ আলমের কক্ষে ঢুকতে দেখা যায়; তিনি এক ঘণ্টা পর বেরিয়ে আসেন।

বেরিয়ে আসার সময় জিজ্ঞাসায় কিছু বলতে চাননি রাষ্ট্রদূত লুইন। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।

তবে বৈঠকে উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা  বলেন, রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছিল।

একজন কর্মকর্তা  বলেন, “তাতে তলব করে প্রতিবাদপত্র দেওয়া হয়েছে।”

কী কারণে এই তলব- তার ব্যাখ্যায় এক কর্মকর্তা বলেন, মিয়ানমার সরকারের জনসংখ্যা বিষয়ক বিভাগের ওয়েবসাইট সম্প্রতি তাদের দেশের যে মানচিত্র প্রকাশ করেছে, তাতে সেইন্ট মার্টিন দ্বীপপুঞ্জকে তাদের ভূখণ্ডের অংশ দেখানো হয়ে।

ওই মানচিত্রে মিয়ানমারের মূল ভূখণ্ড এবং বঙ্গোসাগরে বাংলাদেশের অন্তর্গত সেইন্ট মার্টিন দ্বীপকে একই রঙে চিহ্নিত করা হয়। অন্যদিকে বাংলাদেশের ভূভাগ চিহ্নিত করা হয় অন্য রঙে।

বাংলাদেশের ভূখণ্ড মিয়ানমারের মানচিত্রে এভাবে প্রদর্শনের ব্যাখ্যা জানতে চাওয়া হয় রাষ্ট্রদূতের কাছে।

“আমরা যখন প্রশ্ন করেছি, তখন তিনি বলেছেন, ভুলক্রমে এটা হতে পারে,” বলেন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই কর্মকর্তা।

কিন্তু রোহিঙ্গা সঙ্কট নিয়ে টানাপড়েনের মধ্যে মিয়ানমারের এই তৎপরতাকে খাটো করে দেখছে না বাংলাদেশ।

“রোহিঙ্গা সঙ্কটকে পাশ কাটাতে এটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কাজ বলে আমরা মনে করছি, তাই তাকে (রাষ্ট্রদূত) বলা হয়েছে, কীভাবে এমনটা হল তা খুঁজে বের করে জানাতে,” বলেন ওই কর্মকর্তা।

কক্সবাজার সংলগ্ন প্রবাল দ্বীপ সেইন্ট মার্টিন সৃষ্টি থেকে বর্তমান বাংদেশের ভূখণ্ডের অন্তর্গত। ব্রিটিশ শাসনাধীনে ১৯৩৭ সালে যখন বার্মা ও ভারত ভাগ হয়, তখন সেইন্ট মার্টিন ভারতে পড়েছিল।

১৯৪৭ সালে ভারতে ভাগের সময় সেইন্ট মার্টিন পাকিস্তানের অন্তর্ভূক্ত হয়। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর থেকে এটি বাংলাদেশে অন্তর্গত। ১৯৭৪ সালে সেইন্ট মার্টিন দ্বীপপুঞ্জকে বাংলাদেশের ধরে নিয়েই মিয়ানমারের সঙ্গে সমুদ্রসীমা চুক্তি হয়।

পছন্দের চিকিৎসক পাবেন খালেদা জিয়া: হাইকোর্ট

জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় কারাদণ্ডপ্রাপ্ত কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় পাঁচ সদস্যের আরো একটি মেডিকেল বোর্ড গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এতে বেগম খালেদা জিয়া তার পছন্দমতো তিনজন চিকিৎসক রাখতে পারবেন। চাইলে বিদেশ থেকেও চিকিৎসক এনে এই বোর্ডে যুক্ত করা যাবে। তবে চিকিৎসা হবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়েই (বিএসএমএমইউ)।

বৃহস্পতিবার বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও রাজিক আল জলিলের দ্বৈত বেঞ্চ খালেদা জিয়াকে দেশের বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়ার নির্দেশনা চেয়ে করা রিট নিষ্পত্তি করে এই আদেশ দেন।

আদালতে খালেদা জিয়ার পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এ জে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন, বদরুদ্দোজা বাদল, এ কে এম এহসানুর রহমান প্রমুখ। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।

এর আগে দেশের বিশেষায়িত কোনো হাসপাতালে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন জানান খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা। গত ৯ সেপ্টেম্বর রিটটি দায়ের করা হয়।

উল্লেখ্য, গত ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতির মামলায় খালেদা জিয়াকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেন ঢাকার ৫ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান। এরপর থেকে পুরান ঢাকার নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি আছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। ঘোষণার পরপরই তাকে নাজিম উদ্দিন রোডের পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি এখন সেখানেই আছেন।

পরকীয়ায় কে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত?

দাম্পত্য জীবনে অশান্তির একটি বড় কারণ হচ্ছে- পরকীয়া। এ কারণে বহু সংসার ভেঙে যায়৷ তবে এ ব্যাপারে নারী বা পুরুষ- কে দায়ী তা বলা মুসকিল৷ একজন পার্টনার পরকীয়ায় জড়িয়ে গেলে, অন্যজন তার প্রতি প্রতিশোধ নেয়ার জন্যও অনেক সময় নিজেকে অন্য আরেকজনের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলেন।তবে পরকীয়ার জন্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সন্তান।

সহকর্মীর সঙ্গে পরকীয়া প্রেম

দিনের বেশিরভাগ সময়ই মানুষ কর্মস্থলে কাটায়। সে কারণে নিজের নানা সমস্যার কথা অনেকেই সহকর্মীদের সঙ্গে শেয়ার করে থাকেন৷ এসবের মধ্য দিয়ে প্রথমে সহানুভূতি এবং পরে পরকীয়ায় জন্ম হতে পারে।

অফিসিয়াল ট্যুর

কোনো কোনো সহকর্মীর মধ্যেই হালকা সম্পর্ক থাকলে অফিসিয়াল ট্যুরে গিয়ে সে সম্পর্ক গাঢ় হওয়ার সম্ভাবনা থাকে৷ এ ধরনের ঘটনা কিন্তু আপাত সুখী দম্পতিদের ক্ষেত্রেও ঘটতে পারে৷ অনেকের ক্ষেত্রে পরে চাইলেও সে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসা বেশ কঠিন হয়ে দাঁড়ায়৷

ক্ষমা করা কি সম্ভব?

১০-১৫ বছর সংসার করার পর যখন কেউ পরকীয়ায় জড়িয়ে যান, তখন স্ত্রী বা স্বামী তা জেনে গেলে তারা ক্ষমা চান এবং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সব কিছু ভুলে গিয়ে আবারও আগের মতো হতে চান।

ক্ষণিকের আনন্দ

বিবাহিত নারী বা পুরুষ হঠাৎ কোনো দুর্বল মুহূর্তে অন্য কারও সঙ্গে রাত কাটানোর সুযোগ নিয়ে থাকেন। এ রকম ঘটনা পুরুষদের ক্ষেত্রেই নাকি বেশি ঘটে। বিশেষ করে স্ত্রীর প্রিয় বান্ধবীর সঙ্গে। শুধু এক রাতের ব্যাপার হলে অনেক স্ত্রীই কিন্তু স্বামীকে ক্ষমা করে দেন।

যাদের ভোগান্তি

মা-বাবার পরকীয়ায় কষ্ট পায় আসলে সন্তানরা। বিশেষ করে তাদের বয়স কম হয়। হঠাৎ করে মা-বাবার মধ্যকার সম্পর্ক বা অন্যরকম আচরণ শিশুদের আতঙ্কিত করে৷ শিশুমনে পড়ে এর নেতিবাচক প্রভাব, যা হয়তো সারাজীবন থেকে যায়।

সোশ্যাল মিডিয়া

আধুনিক বিশ্বে সোশ্যাল মিডিয়া বা সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমও যে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ার একটি কারণ, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

৭৪ বছরের নিরক্ষর বৃদ্ধা যেভাবে কুরআন হেফজ করলেন

নুরা আল-ওয়ারদাত। অনুপ্রেরণা লাভের এক অনন্য নাম। যিনি পড়া-লেখা না জানা সত্ত্বেও ৭৪ বছর বয়সে পবিত্র কুরআনুল কারিম হেফজ করতে সক্ষম হয়েছেন।

৭৪ বছর বয়সে পবিত্র কুরআনুল কারিম হেফজ সম্পন্ন করে বৃদ্ধা নুরা আল-ওয়ারদাত তার শৈশবের ইচ্ছা পূরণ করেছেন। ৬০ বছর ধরে অন্তরে লালিত স্বপ্ন ১৪ বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় পূরণ করেছেন।

জর্ডানের অধিবাসী নুরা আল-ওয়ারদাত ১৬ বছর আগে প্রথমবারের মতো ইরবিদ প্রদেশের ‘আমরাভাত’ নামক একটি কুরআন হেফজ কেন্দ্রে কুরআন হেফজের প্রচেষ্টা শুরু করেন।

‘আমরাভাত কুরআন হেফজ কেন্দ্রে আরবি শেখার বিভিন্ন স্তর পেরিয়ে কুরআন হেফজের অনুমতি পান এবং ৪বার কুরআন খতম করেন।

অতঃপর ১৪ বছরের নিরলস চেষ্টায় ৬০ বছরের লালিত স্বপ্ন পবিত্র কুরআনুল কারিম হেফজ সম্পন্ন করেন।

নুরা আল-ওয়ারদাত কুরআন হেফজ সম্পন্ন করতে নিজের ইচ্ছা শক্তিতে হতাশা বা নিরাশাকে স্থান দেননি। যার ফলে তিনি কুরআন হেফজ করতে সক্ষম হয়েছেন।

নুরা আল-ওয়ারদাত নিরক্ষর তথা লিখতে পড়তে না জানা মানুষের জন্য কুরআনের শিক্ষা গ্রহণের অনুপম দৃষ্টান্ত। ভালো কাজের ইচ্ছা শক্তি থাকলে হতাশা মানুষকে কোনো ভালো কাজে নিবৃত করতে পারে না।

মুসলিম উম্মাহর কুরআন পড়তে না পারা লোকদেরকে কুরআন পড়ার ইচ্ছা শক্তি দান করুন। নুরা আল-ওয়ারদাতকে আনুপ্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করার তাওফিক দান করুন। আমিন।

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার করে ১৩ শতাংশ মানুষ

বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা মাত্র ১৩ শতাংশ। আর বাংলাদেশে ইন্টারনেট ব্যবহার সংখ্যা সম্পর্কে ধারণা রাখেন মাত্র ৩৩ শতাংশ। বাংলাদেশে বর্তমানে ৭৭ শতাংশ মানুষ বেসিক ও ফিচার ফোন ব্যবহার করছেন। স্মার্টফোন ব্যবহার করছেন ২৩ শতাংশ। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার এবং নেপালের চেয়ে ইন্টারনেট ব্যবহারে পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ।

এশিয়ার অন্যতম তথ্য প্রযুক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান লার্ন এশিয়ার গবেষণা প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত সেমিনারে এ গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন লার্ন এশিয়ার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হেলানি গালপায়া। আরো বক্তব্য দেন- বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন- বিটিআরসির মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুস্তাফা কামাল, গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলিও, রবির সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ ও বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার তৈমুর রহমান। আলোচনা অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন লার্ন এশিয়ার সিনিয়র ফেলো আবু সাঈদ খান। মোবাইল ফোন অপারেটরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

গবেষণা অনুযায়ী বাংলাদেশে সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত তথ্য বিশ্বাস করেন না ৬৬ শতাংশ ব্যবহারকারী। একইভাবে স্মার্টফোন ব্যবহার এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারের ক্ষেত্রেও প্রতিবেশীদের চেয়ে পিছিয়ে বাংলাদেশ। হেলানি গালপায়া বলেন, যেসব দেশে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী এবং ডিজিটাল সেবার হার ক্রমবর্ধমান অবস্থায় রয়েছে কেবল সেসব দেশের মধ্যেই এ গবেষণা পরিচালিত হয়েছে।

বিটিআরসির তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বর্তমানে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী প্রায় ৬৫ শতাংশ। কিন্তু লার্ন এশিয়ার গবেষণায় বলা হয়েছে মাত্র ১৩ শতাংশ। অনুষ্ঠানে রবির হেড অব রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্স শাহেদ আলমও জানান, রবির ডাটা সার্ভারের তথ্য অনুযায়ী সক্রিয় ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা মোট গ্রাহকের মাত্র ১৮ শতাংশ।

কেন তথ্যের এই তারতম্য জানতে চাইলে বিটিআরসির মহাপরিচালক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুস্তাফা কামাল বলেন, একজন গ্রাহক ৯০ দিন পর্যন্ত ইন্টারনেট সংযোগে সংযুক্ত থাকলে তাকে ব্যবহারকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এ ছাড়া বিটিআরসি বিভিন্ন অপারেটর প্রদত্ত তথ্য পর্যালোচনা করে ওয়েবসাইটে পরিসংখ্যান প্রকাশ করে।

গ্রামীণফোনের সিইও মাইকেল ফোলিও বলেন, মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানিতে এখন প্রায় ৩৫ শতাংশ কর। এ অবস্থায় স্মার্টফোনের ব্যবহার বৃদ্ধি কঠিন। আবার স্মার্টফোনের ব্যবহার না বাড়লে মোবাইল ইন্টারনেটের ব্যবহারও বাড়ার কথা নয়।

রবির সিইও মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বলেন, মোবাইল অপারেটরদের সেবা দেওয়ার জন্য অন্যান্য সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর উপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু সেবার মান নিয়ে দায় বহন করতে হয় শুধুমাত্র মোবাইল অপারেটরদেরই। এ অবস্থার পরিবর্তন দাবি করেন তিনি।

বাংলালিংকের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড রেগুলেটরি অফিসার তৈমুর রহমান বলেন, লার্ন এশিয়ার মত প্রতিষ্ঠানের এ ধরনের গবেষণা দেশের টেলিযোগাযোগ খাতকে সঠিক পথ দেখাতে সহায়তা করবে।