All posts by lutfor

ভর্তি পরীক্ষা নেবে দেশের শীর্ষ তিন কলেজ

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী গত দুই বছরের মতো এবারও রাজধানীর শীর্ষ তিন কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার জন্যে পরীক্ষা (লিখিত) দিতে হবে।

আগামী ১২ মে থেকে শুরু হতে যাচ্ছে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি আবেদনের কার্যক্রম। ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে ভর্তি কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া কলেজ তিনটি হলো- নটর ডেম কলেজ, হলিক্রস কলেজ ও সেন্ট জোসেফ কলেজ। ইতোমধ্যে নটর ডেম ও হলিক্রস কলেজে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।

উল্লেখ্য, এই তিনটি কলেজে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় পাস করা শিক্ষার্থীরাই কেবলমাত্র এই কলেজগুলোতে ভর্তির জন্য যোগ্য বলে বিবেচিত হবে।

এক ভিসায় ঘুরে আসুন ২৬ দেশ

নিশ্চয়ই ‘সেনজেন’ শব্দটি শুনেছেন। সেনজেন বলতে আমরা ইউরোপ মহাদেশের ৫০টি দেশের মধ্যে ২৬টি দেশকে বুঝি। ২৬টি দেশই স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। তাদের নিজস্ব পৃথক পৃথক ভাষা, মুদ্রা ও রাজধানী আছে। কিন্তু ভিসা পলিসির ক্ষেত্রে তারা অভিন্ন নীতি অবলম্বন করে থাকে। যাকে আমরা সেনজেন ভিসা বলে থাকি।

যদি ২৬টি দেশের কোন একটি দেশের ট্যুরিস্ট বা কনফারেন্স ভিসা পেয়ে যান, তবে সেনজেনের ২৬ দেশেই ভ্রমণ করতে পারবেন। সহজ করে বলতে গেলে, যদি আপনার সেনজেন ভিসা থাকে তবে অন্য বাকি ২৫টি দেশের জন্য কোন ভিসা লাগবে না। তাছাড়া কোনো ইমিগ্রেশন ও ফিঙ্গার প্রিন্টের পদ্ধতি নেই। শুধু তা-ই নয়, একটি দেশে প্রবেশ করে সুবিধামতো অন্য একটি দেশ দিয়ে বাহির হতে পারবেন।

২৬ দেশের নাম হচ্ছে- অস্ট্রিয়া, বেলজিয়াম, চেক রিপাবলিক, ডেনমার্ক, এস্তোনিয়া, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, গ্রিস, হাঙ্গেরি, আইসল্যান্ড, ইতালি, ল্যাটভিয়া, লিয়েসথেন্সটাইন, লিথুনিয়া, লুক্সেমবার্গ, মালটা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, পোল্যান্ড, পর্তুগাল, স্লোভেকিয়া, স্লোভেনিয়া, স্পেন, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড।

তবে বাংলাদেশে সেনজেনভুক্ত ২৬টি দেশের মধ্যে মাত্র ৭টি দেশের অ্যাম্বাসি আছে। ৭টি দেশ হলো- সুইডেন, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, জার্মান, ইতালি, স্পেন ও সুইজারল্যান্ড। আর ১৫টি দেশের অ্যাম্বাসি বাংলাদেশে নেই তবে সুইডেন, ফ্রান্স, ডেনমার্ক, জার্মান, ইতালি অ্যাম্বাসির সাথে যুক্ত হয়ে কাজ করে থাকে। আর হাঙ্গেরি, লিয়েসথেন্সটইন, লিথুনিয়া ও নেদারল্যান্ডসের অ্যাম্বাসি বাংলাদেশে নেই।

যে দেশগুলো অন্য দেশের অ্যাম্বাসির মাধ্যমে কাজ করছে-
সুইডেন অ্যাম্বাসি: বেলজিয়াম, আইসল্যান্ড, লাটভিয়া, লুক্সেমবার্গ, পোল্যান্ড, স্লোভেনিয়া ও ফিনল্যান্ড।
ফ্রান্স অ্যাম্বাসি: পর্তুগাল, অস্ট্রিয়া ও চেক রিপাবলিক।
ডেনমার্ক অ্যাম্বাসি: নরওয়ে।
জার্মান অ্যাম্বাসি: এস্তোনিয়া।
ইতালি অ্যাম্বাসি: গ্রিস, মালটা ও স্লোভাকিয়া।

উপরের তথ্যগুলো বর্তমানের অনুসন্ধান অনুযায়ী দেওয়া হলো, যা পরবর্তীতে বাড়তে পারে।

ভিসা লাগবে না কাতার যেতে

আগামী জুন মাসের ৪ তারিখ থেকে আগস্ট মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত দুই মাসের কিছু বেশি সময়ের জন্য ‘সামার ইন কাতার’ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতার।

এ সময়ে যে কেউ দেশটিতে ভিসা ছাড়া ভ্রমণ করতে পারবেন। বিশেষ করে কাতারে যারা অবস্থান করছেন তারা তাদের আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু বা অন্য কোনো অতিথিকে কোনো ধরনের ফি ও প্রতিবন্ধকতা ছাড়াই দেশটিতে নিতে পারবেন।

গতকাল রোববার কর্মসূচি ঘোষণার সময় কাতার ন্যাশনাল টুরিজম কাউন্সিলের সেক্রেটারি জেনারেল আকব আল বাকের বলেন, এখন যে কেউ কোনো ঝক্কি ছাড়াই এই নির্দিষ্ট সময়ের জন্য কাতারে আসতে পারবেন।তবে একই সাথে তিনি জানিয়েছেন, যে কয়টি দেশ কাতারের ওপর অবরোধ আরোপ করে রেখেছে তাদের নাগরিকদের জন্য এই সুবিধা প্রযোজ্য হবে না।

২০১৭ সালের জুন মাস থেকে সৌদি আরব, আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মিশর কাতারের ওপর অবরোধ আরোপ করে। বর্তমানে ৮০টি দেশের নাগরিকদের ভিসা ছাড়া কাতারে ভ্রমণের সুবিধা রয়েছে। এ তালিকায় বাংলাদেশের নাম না থাকলেও আগামী দুই মাসের বিশেষ এই কর্মসূচিতে বাংলাদেশ অন্তর্ভূক্ত থাকবে।

ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে মা-মেয়েকে কামড়ে জখম

পাথরঘাটা উপজেলায় ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে এক কিশোরী ও তার মাকে কামড়ে জখম করেছে এক বখাটে। ঘটনার পর তাদের পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় গতকাল মেয়েটির বাবা বাদী হয়ে বরগুনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন বিশেষ আদালতে মামলা করেছেন। মামলা সূত্রে জানা যায়, কিশোরী পাথরঘাটার একটি বিদ্যালয়ে দশম শ্রেণিতে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবেশী তানভীর তাকে উত্ত্যক্ত করে আসছে। একপর্যায়ে ছাত্রীর বাবা তানভীরের বাবার কাছে ছেলের এসব ঘটনা জানিয়ে অভিযোগ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত শনিবার বিকালে তানভীর ঘরে ঢুকে ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। এ সময় ছাত্রীর মা পাশের বাড়ি থেকে এসে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে তানভীরকে জুতাপেটা করে।

তখন ছাত্রী ও তার মায়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে কামড়ে জখম করে পালিয়ে যায় তানভীর। পরে ছাত্রীর বাবা এসে তাদের পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

এ বিষয়ে ছাত্রীর বাবা বলেন, চারদিন চিকিৎসা দেয়ার পর গত বুধবার পাথরঘাটা থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ মামলা না নেয়ায় গতকাল আদালতে মামলা করেছেন তিনি। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে পাথরঘাটা উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা পারভীনকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। পাথরঘাটা থানার ওসি মো. হানিফ সিকদার মামলা না নেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এ ব্যাপারে থানায় কেউ অভিযোগ করতে আসেনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হতো। পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান ফাতিমা পারভীন বলেন, আমি এরকম একটি ঘটনার কথা শুনেছি। তবে এখন পর্যন্ত আদালতের নির্দেশ ও মামলার কপি হাতে পাইনি। মামলার কপি হাতে পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেব।

আরো দুদিন গরম, তারপর বৃষ্টি: আবহাওয়া অফিস

সারা দেশ তীব্র গরমে অতিষ্ঠ। আবহাওয়া কার্যালয় জানিয়েছে, আরো দুদিন এই তাপপ্রবাহ অব্যাহত থাকবে। তারপর বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে দেশের বিভিন্ন জায়গায়। বৃষ্টি নামলেই কমবে তাপমাত্রা। আর দেশের মানুষ রয়েছে তারই অপেক্ষায়।

আজ শুক্রবার আবহাওয়া কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আগামী ১৩ মে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। ঢাকায় আজকে দুপুরে তাপমাত্রা ছিল ৩৬ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড।

এদিকে, সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় কয়েক দিনের তীব্র গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন। এর আগে ঘূর্ণিঝড় ‘ফণী’র কারণে সারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টিপাত হয়েছিল। এরপরই ওই সব স্থানে তাপপ্রবাহ কমে যায়। তবে এরপর আবারও বেড়ে যায় গরম। তীব্র গরমে দেশের কয়েকটি জায়গায় তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি ছুঁইছুঁই।

আর এদিকে রাজধানীর মানুষ রয়েছে অন্য ভোগান্তিতে। শহরে রয়েছে খাবার পানির সংকট। মানুষ খাবার পানির চাহিদায় রাস্তার পাশে দূষিত পানি ও শরবত পান করতে বাধ্য হচ্ছেন। এর ফলে পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন অনেকেই। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বাড়ছে। হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসকরা। এ জন্যই সামান্য বৃষ্টির প্রয়োজন রাজধানীবাসীর। আর এই তীব্র গরমের মধ্যেই স্বস্তির খবর দিলো আবহাওয়া অফিস।

যেভাবে ঠান্ডা পানি পানে হতে পারে মারাত্মক বিপদ

কাজের প্রয়োজনে বেশির ভাগ মানুষকে বাইরে বের হতেই হয়। আর বাইরে থেকে গরমে ঘেমে বিদ্ধস্ত হয়ে বাড়ি ফিরে ফ্রিজ খুলে ঠান্ডা পানি খাওয়ার পর তবেই কিছুটা স্বস্তি মেলে।

তবে জানেন কি, প্রচণ্ড গরমে বাইরে থেকে বিদ্ধস্ত হয়ে ঘরে ঢুকেই এই ভাবে ঠান্ডা পানি খাওয়ার অভ্যাস মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে? এর ফলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে শরীরের। আসুন আমাদের আজকের এই প্রতিবেদনে এ বিষয়ে সবিস্তারে জেনে নেওয়া যাক-

১) বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার পরে ঠান্ডা পানি খাওয়ার অভ্যাস অত্যন্ত অস্বাস্থ্যকর। কারণ এর ফলে শ্বাসনালীতে অতিরিক্ত পরিমাণে শ্লেষ্মার আস্তরণ তৈরি হয়, যা থেকে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়।
২) মাত্রাতিরিক্ত ঠান্ডা পানি খাওয়ার ফলে রক্তনালী সঙ্কুচিত হয়ে পড়ে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি খাওয়ার ফলে আমাদের স্বাভাবিক পরিপাক ক্রিয়া বাধাপ্রাপ্ত হয়। ফলে হজমের মারাত্মক সমস্যা হতে পারে।

৩) শরীরচর্চার পর ঠান্ডা পানি একদমই খাবেন না। কারণ ঘণ্টা খানেক ওয়ার্কআউটের পর শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেকটাই বেড়ে যায়। এই সময় ঠান্ডা পানি খেলে শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গে বাইরের পরিবেশের তাপমাত্রার সামঞ্জস্য বিঘ্নিত হয়। ফলে হজমের নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে।

৪) দন্ত চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি খেলে তার ক্ষতিকর প্রভাব পড়ে দাঁতের ভেগাস স্নায়ুর উপর। এই ভেগাস স্নায়ু আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি খেলে ভেগাস স্নায়ু উদ্দীপিত হয়ে ওঠে। ফলে আমাদের হৃদযন্ত্রের গতি অনেকটাই কমে যেতে পারে।

পেটের চর্বি গলিয়ে ওজন কমায় যে শাক

আপনার স্বাস্থ্য সুরক্ষায় প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় শাক থাকা খুব জরুরী। কারণ এটা ছাড়া শুষম খাদ্যের শর্ত পূরণ হয় না। আর পাতে যদি থাকে পালং শাক তাহলে তো ষোল কলাই পূর্ণ।কারণ পুষ্টিতে ভরপুর পালং শাক আপনার বাড়তি ওজন কমাতে সাহায্য করে।

পালংয়ের অ্যান্টি অক্সিডেন্ট ও ক্যনসার প্রতিরোধী গুণের কারণে এটি ‘সুপারফুড’ হিসেবে পরিচিত।সবুজ পাতার এ শাক দ্রুত পেটের চর্বি কমাতে পারে। পালংয়ে ভিটামিন ও মিনারেল আছে, এতে ক্যালরি কম থাকে। তাই ওজন কমাতে খাবারে বেশী করে পালং শাক রাখতে পারেন।

বিশেষজ্ঞের মতে, প্রতি ১০০ গ্রাম পালং শাকে আছে ২৩ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি(food), কার্বোহাইট্রেড ৩.৬ গ্রাম, আঁশ ৪.২ গ্রাম, চিনি ০.৪ গ্রাম, প্রোটিন ২.২ গ্রাম, ভিটামিন ‘এ’ ৪৬৯ মাইক্রোগ্রাম, বিটাকেরোটিন, ৫৬২৬ মাইক্রোগ্রাম লিউটিন, ফোলেট (বি ৯) ১৯৬ মাইক্রোগ্রাম, ভিটামিন সি ২৮ মি. গ্রাম, ভিটামিন কে ৪৬৩ মাইক্রোগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৯৯ মি. গ্রাম, আয়রন ২.৭ মি. গ্রাম।

পালং শাক খাদ্য আঁশের দৈনিক চাহিদার ২০% পূরণ করার সঙ্গে সঙ্গে ভিটামিন এ ও কে-এর দৈনিক চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম।

এতে উচ্চ মাত্রার প্রোটিন, ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ম্যাঙ্গানিজ, জিংক, ফলিক এসিড ও সেলেনিয়াম রয় পালং শাকে পেটের চর্বি গলিয়ে ওজন কমানোর পাশাপাশি আর কী কী রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা রয়েছে তা নিম্নে আলোচনা করা হল:

ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায়: পালং শাকে রয়েছে ১০টিরও বেশি ভিন্ন ধরনের ফ্ল্যাভোনয়েড যা ভয়ানক রোগের বিরুদ্ধে কাজ করে। এই পলিনিউট্রিয়েন্টসগুলো দেহের ফ্রি র‌্যাডিকেলকে নিরপেক্ষ করে

রক্তচাপ কমায়: পালং শাকে রয়েছে উচ্চ মাত্রার ম্যাগনেসিয়াম। এটা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে।চোখের সুরক্ষায় সাধারণত সবুজ শাক সবজিতে লুটেনসহ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ফাইটোকেমিক্যাল থাকে যা দৃষ্টি শক্তির ক্ষতি বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে সাহায্য করে।পালং শাকে রয়েছে উচ্চ মাত্রার বিটা ক্যারোটিন যা চোখের ছানি পড়ার ঝুঁকি কমায়।

ত্বকের সুরক্ষায়: পালং শাকে থাকা ভিটামিন এ ত্বকের বাইরের স্তরের আর্দ্রতা বজায় রাখতে খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটা বিভিন্ন ধরনের ত্বকের সমস্যা যেমন ব্রণ, বলিরেখা পড়া ইত্যাদির দূরীকরণেও বেশ কার্যকর।

ক্লান্তি দূর: পালং শাকে রয়েছে উচ্চ মাত্রার আয়রন যা দেহে অক্সিজেন উৎপাদনের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এছাড়া এতে রয়েছে লিম্ফোবিক এসিড যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যেমন ভিটামিন সি ও ই কে পুনরুজ্জীবিত করতে সাহায্য করে। এটা রক্তের সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

প্রদাহ বিরোধী: যাদের জয়েন্টে ব্যথা আছে তারা অবশ্যই প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় এই শাক রাখলে উপকার পাবেন।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: এই শাকে থাকা ফলিক এসিড সুস্থ কার্ডিওভাসকুলার সিস্টেমের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ । পালং শাকে বেশি মাত্রার ভিটামিন এ, লিম্ফোসাইট বা রক্তের শ্বেত কণিকা আমাদের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে দেয়।

মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বন্ধে কী করবেন

প্রায়ই বিভিন্ন কারণে আমাদের মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে। রক্ত পড়া বন্ধ করতে যা করতে হবে তা নিচে তুলে ধরা হলো।

নিয়মিত শাক-সবজি ও ফলমূল খেতে হবে

সুস্থ মাড়ি পেতে প্রচুর পরিমাণ তাজা শাকসবজি এবং ফল রাখুন আপনার খাদ্য তালিকায়। কারণ এতে আপনার শরীরের ভিটামিনের অভাব দূর হবে। কাঁচা সবজি এবং ফল চিবিয়ে খেলে মাড়ির রক্ত চলাচল বেড়ে যায় ফলে এটি রক্তক্ষরণ কমিয়ে দেয়।

সঙ্গে রাখুন লবঙ্গ

লবঙ্গ মাড়ির প্রদাহ কমিয়ে রক্ত পড়া বন্ধ করতে সহায়তা করে। অল্প পরিমাণ লবঙ্গের তেল অথবা পাউডার নিয়ে মাড়িতে হালকাভাবে ম্যাসাজ করুন অথবা ১-২টি লবঙ্গ চিবিয়ে খেয়ে নিন। এতে হালকা জ্বালা ভাব অনুভব হলেও এটি আপনার মাড়ির প্রদাহ কমিয়ে ফেলবে।

নিয়মিত দুধ পান করুন

দুধে প্রচুর পরিমাণ ক্যালসিয়াম থাকে যা আপনার মাড়িকে শক্ত করে থাকে। এতে চর্বিও থাকে। আপনি যখন দুধ পান করেন তখন এর চর্বি আপনার মাড়িতে লেগে থাকতে পারে এবং এটি মাড়ির জন্য মোটেই ভালো না। তাই দুধ পান করার পর অবশ্যই ব্রাশ করে নিন।

ব্যবহার করুন অ্যালোভেরা

অল্প পরিমাণ অ্যালোভেরা পাল্প নিয়ে মাড়িতে ম্যাসাজ করুন এতে রক্ত পড়া কমে যাবে।

নিয়মিত লবণপানি দিয়ে কুলকুচি করুন

এক গ্লাস কুসুম গরম পানিতে এক চিমটি লবণ নিয়ে দিনে ৩ বার কুলকুচি করুন।

বেকিং সোডার ব্যবহার

আপনার টুথব্রাশটি বেকিং সোডার পাউডারে একবার মেখে নিন এবং ব্রাশ করুন। আপনি চাইলে পেস্টের সঙ্গে মিশিয়ে নিতে পারেন।

ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার খাবেন নিয়মিত

ভিটামিন সি- এর অভাবে মুখে ঘা হয়। তাই প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যুক্ত খাবার খেতে হবে। যেমন কমলা, লেবু, পেয়ারা, আমলকি ইত্যাদি।

৮. মধু ও রসুন মহৌষধ

বহুগুণী মধু খুব শক্তিশালী অ্যান্টিব্যাক্টেরিয়াল টনিক। মধুর সঙ্গে একটি রসুনের কোয়া নিয়ে এর অর্ধেক পরিমাণ নিন এবং এক টেবিল চামচ মধু একসঙ্গে মিশিয়ে মাড়িতে ম্যাসাজ করুন।

৯. আদা খান নিয়মিত

বহুগুণী আদা মুখের সুস্থতায় অনেক উপকারী। আদা চায়ের অনেক স্বাস্থ্যসুবিধা রয়েছে। খালি আদার টুকরোও খেতে পারেন।

স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায় যেসব অভ্যাস

বর্তমান বিশ্বে স্ট্রোক মানুষের মৃত্যুর চতুর্থ কারণ হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে।মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহের ঘাটতি দেখা দিয়ে আক্রান্ত অংশের কোষ নষ্ট হওয়াকে স্ট্রোক বা ব্রেন স্ট্রোক বলে আখ্যায়িত করা হয়।

মস্তিষ্কের অংশ বিশেষ নষ্ট হওয়ায় রোগীর দেহে বেশ কিছু শারীরিক অক্ষমতা দেখা দেয়। যেগুলোকে স্ট্রোকের লক্ষণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। যেমন: প্যারালাইসিস, পা, হাত, মুখ অথবা শরীরের ডান বা বাম অংশ অবস হয়ে যাওয়া। কথা বলতে বা কথা বুঝতে সমস্যা হওয়া, বিভ্রান্তিকর অবস্থায় পতিত হওয়া, কথা জড়িয়ে আসা, একটা চোখে অথবা উভয় চোখে দেখতে সমস্যা হওয়া, অথবা ঝাপসা দেখা, চলাফেরা করতে না পারা, চলাফেরায় ভারসাম্য নষ্ট হওয়া, বিভিন্ন অঙ্গের কার্যক্রমে অসামঞ্জস্য দেখা দেওয়া, হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা দেখা দেওয়া।

প্রাথমিক অবস্থায় কারও স্ট্রোক দেখা দিলে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসা গ্রহণ করা উচিত তা না হলে রোগীর মস্তিষ্কের বেশি অংশ নষ্ট হয়ে জটিল আকার ধারণ করতে পারে অথবা রোগীর দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা বা মৃত্যু ঘটতে পারে। আমাদের প্রতিদিনের কিছু অভ্যাস রয়েছে যা হতে পারে স্ট্রোকের কারণ! জেনে নিন-

ক্ষুধা পেলেই প্যাকেটবন্দি নোনতা কুকিজ বা চিপস খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা বন্ধ করুন। কারণ এতে মিশে থাকা অতিরিক্ত লবণ স্ট্রোক ডেকে আনছে নীরবেই! অতিরিক্ত লবণের প্রভাবে রক্তচাপ বাড়ে এবং তা মস্তিষ্কে রক্ত সংবহনে বাধা দেয়। ফলে আজই রাশ টানুন অতিরিক্ত লবণ মেশানো খাবারে।

২০১৭-য় ‘স্ট্রোক’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা জানাচ্ছে, দিনের পর দিন সকালের প্রথম খাবারে কোনো সিরিয়াল বা প্যানকেক খেয়ে চলেছেন, তারাও দাড়িয়ে রয়েছেন বিপদপথে। এসব সিরিয়াল ও প্যানকেক পেস্ট্রিতে অতিরিক্ত চিনি থাকে।ইস্কিমিক স্ট্রোকের ক্ষেত্রে এগুলোর ভূমিকা রয়েছে।

‘দ্য ল্যানসেট’-এ প্রকাশিত ২০১৯-এর একটি গবেষণা বলছে, মদ্যপান করেন না ও স্বাস্থ্যকর খাবার খান তারা স্ট্রোকের থেকে অনেকটাই নিরাপদে থাকেন। তুলনামূলকভাবে মদ্যপায়ীরা রয়েছেন বিপদে।

শরীরে ভিটামিন সি-এর কোনো অভাব পড়ছে কি না, সে দিকে খেয়াল রাখুন। হেমোরহ্যাজিক স্ট্রোককে ডেকে আনে এই ভিটামিনের ঘাটতি। পাতে রাখুন ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার।

সাধারণ নরম পানীয় ছেড়ে ডায়েট পানীয়কে বেছে নেন অনেকেই। কিন্তু এতে অতিরিক্ত চিনি মেশানো থাকে। যা হার্টের জন্যও ক্ষতিকর। মেদ ও কোলেস্টেরলও বাড়ায়। স্ট্রোক ডেকে আনতেও এর জুড়ি নেই। শীত হোক বা গরম, শরীরকে শুষ্ক করে দেওয়া চলবে না মোটেই। তাই পানি খেতে হবে পর্যাপ্ত। শরীরে পানির অভাব যাতে না হয়, তার খেয়ালও রাখতে হবে।

মানসিক অবসাদও স্ট্রোক ডেকে আনার অন্যতম কারণ। হাতশা ও মানসিক অবসাদ হৃদযন্ত্রে যেমন চাপ ফেলে, তেমনই মস্তিষ্কের কোষে রক্ত সঞ্চালনে বাধা দেয়। ঘন ঘন হতাশায় ভোগেন যারা, তারা দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

একটু আধটু ব্যথা হলেই মুঠো মুঠো ব্যথানাশক ওষুধ খান? এতে থাকা স্টেরয়েড ভাস্কুলার ডেথ, হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের মতো অসুখের আশঙ্কাকে বাড়িয়ে দেয় কয়েক গুণ। কাজেই অতিরিক্ত এ সব খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা পরিত্যাগ করুন আজই।

দিনে সাত-ঘণ্টা একই জায়গায় বসে কাজ করলে তাদের মস্তিষ্কে অক্সিজেনের জোগান কম হয়। তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ, মাঝে মাঝেই সিট ছেড়ে উঠুন, হাঁটাহাঁটি করে আসুন। অতিরিক্ত রেড মিট স্ট্রোকের প্রায় ২৮ শতাংশ আশঙ্কা বাড়িয়ে দেয়। কোলেস্টেরল বাড়ানোতেও এর জুড়ি নেই।

বদ্ধ ঘরে সারাক্ষণ এসি চালিয়ে বসে থাকেন? তা হলেও সাবধান হোন। মাঝে মাঝেই খুলে দিন জানালা। বাইরের হাওয়াবাতাস ঢুকতে দিন ঘরে। ঘরের ভিতরের হাওয়া যাতে দূষিত না থাকে সে দিকেও নজর দিন। বায়ুদূষণ থেকে বাঁচতে যা যা করণীয়, তা করুন। বায়ুদূষণও স্ট্রোকের অন্যতম কারণ।

খাবার পাতে দুগ্ধজাত জিনিস রাখুন। যারা ল্যাকটোজেন সহ্য করতে পারেন না, তারাও এর বিকল্প কোনো খাবার জেনে নিন চিকিৎসকের থেকে। দুধ থেকে তৈরি জিনিস প্রতিদিন পাতে রাখলে তা স্ট্রোকের শঙ্কা ঠেকায় অনেকটাই।

ভিটামিন ডি-এর উৎকৃষ্টতম ও প্রায় একমাত্র উৎস সূর্যালোক । সারাক্ষণ এসিতে না থেকে মাঝে মাঝে সূর্যের আলো লাগান শরীরে। ভিটামিন ডি-এর অভাবও স্ট্রোক ডেকে আনে। ভিটামিন ডি-এর অভাব হাড়ের অসুখেরও অন্যতম কারণ। এর অভাব ঘোচাতে বেশ কিছু ওষুধও মেলে। চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে খেতে পারেন সেসব।

গভীর রাতে যে সূরা পাঠ করলেমনের বাসনা পূর্ণ হয়

পবিত্র কুরআন শরীফে ১১৪ টি সুরা আছে। প্রতিটি সুরার আছে স্পেশাল কিছু বিশিষ্ট। নিচে এমন একটি সুরার বর্ণনা দেওয়া হলো যার ফজিলত অপরিসীম। আবু সোলায়মান দারানী বলেন, যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কোন প্রার্থনা করতে চায়, তার উচিত প্রথম দরূদ পাঠ করা এবং দরূদ দ্বারা দোয়া শেষ করা। কেননা, আল্লাহ উভয় দরূদ কবুল করেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

যখন তোমরা আল্লাহর নিকট চাও তখন আমার প্রতি দরূদ পাঠ কর। আল্লাহর শান এরূপ নয় যে, কেউ তার কাছে দুইটি জিনিস চাইলে একটি পূর্ণ করবেন এবং অপরটি করবেন না। সূরা এখলাছ তিনবার পাঠ করে আল্লাহ্’র দরবারে দোয়া করলে আল্লাহ্ নেক আশা পূর্ন করেন।যে ব্যক্তি দৈনিক এশার নামাজ পর এই পাক নামটি ইয়া জাহিরু ১০০বার পাঠ করে তার মনের সকল নেক বাসনা পূর্ণ হয়। যে ছোট্ট সূরা পাঠ করলে আল্লাহ মনের বাসনা পূরণ করেনআবু সোলায়মান দারানী বলেন,

যে ব্যক্তি আল্লাহর কাছে কোন প্রার্থনা করতে চায়, তার উচিত, প্রথম দরূদ পাঠ করা এবং দরূদ দ্বারা দোয়া শেষ করা কেননা, আল্লাহ উভয় দরূদ কবুল করেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন : যখন তোমরা আল্লাহর নিকট চাও তখন আমার প্রতি দরূদ পাঠ কর। আল্লাহর শান এরূপ নয় যে, কেউ তার কাছে দুইটি জিনিস চাইলে একটি পূর্ণ করবেন এবং অপরটি করবেন না।প্রত্যেক মানুষ আল্লাহ তাআলার নিটক ক্ষমা ও রহমতের প্রত্যাশী।

সুখে-দুঃখে, আনন্দ-বেদনায় সর্বাবস্থায় আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভ মানুষের জন্য অনেক বড় নিয়ামাত। আল্লাহ তাআলা নিজেই বান্দাকে শিখিয়েছেন কিভাবে তার কাছে রহমত ও ক্ষমা লাভের আবেদন করতে হবে। তা তুলে ধরা হলো উচ্চারণ- রাব্বানা আমান্না ফাগফিরলানা ওয়ারহামনা ওয়া আংতা ফাইরুর রাহিমিন। অর্থ : হে আমাদের পালনকর্তা! আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি। তুমি আমাদের ক্ষমা কর এবং আমাদের প্রতি রহম কর। তুমিতো সর্বশেষ্ঠ দয়ালু।

(সুরা মুমিনুন : আয়াত ১০৯) উল্লেখ্য যে, সুরা মুমিনুন এর শেষদিকের আয়াতগুলো খুবই ফজিলতপূর্ণ ও বরকতময়। এ আয়াতগুলো আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক আদিষ্ট ও কাম্য বস্তু অর্জিত হওয়াকে অন্তর্ভূক্ত রেখেছেন। পাশাপাশি মাগফিরাত কামনায় ক্ষতিকর বস্তু দূরা করা শামিল রেখেছেন। অতএব উক্ত দোয়া উম্মাতে মুসলিমার ইহকাল ও পরকালের জন্য খুবই উপকারী। সুতরাং আল্লাহ তাআলা উক্ত দোয়ার মাধ্যমে আল্লাহর রহমত ও ক্ষমা লাভের তাওফিক দান করুন। আমিন।