All posts by lutfor

প্রকৃতিকে সবুজ-শ্যামলে ভরিয়ে দিতে কাজ করছে সরকার : পরিবেশমন্ত্রী

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন এমপি বলেছেন, দেশের প্রকৃতিকে সবুজ-শ্যামলে ভরিয়ে দিতে নিরলসভাবে কাজ করছে সরকার।তিনি বলেন, জনগণের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিতে এ বছরের জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২১-এর প্রতিপাদ্য মুজিববর্ষে অঙ্গীকার করি, সোনার বাংলা সবুজ করি নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের মাধ্যমেই দেশকে আমরা সবুজে-শ্যামলে ভরে দিতে সক্ষম হব।মো. শাহাব উদ্দিন আজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ও পরিবেশ মেলা ২০২১ এবং জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা ২০২১ উদযাপনের প্রাক-প্রস্তুতিমূলক এক আন্ত:মন্ত্রণালয় সভায় সভাপতির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

মো. শাহাব উদ্দিন বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, দারিদ্র্য বিমোচন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নসহ পরিবেশ উন্নয়নে দেশের সর্বত্র ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ করা হচ্ছে।তিনি বলেন, এই বৃক্ষরোপণ অভিযান গতিশীল রাখার জন্য জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালন এবং পরিবেশ মেলা, জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার আয়োজন করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু অ্যাওয়ার্ড ফর ওয়াইল্ডলাইফ কনজারভেশন ২০২০, বৃক্ষরোপণে প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় পুরস্কার ও জাতীয় পরিবেশ পদক ২০১৯ ও ২০২০ প্রদান সহ সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের মধ্যে চেক বিতরণ করা হবে।

সভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, সচিব জিয়াউল হাসান, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মাহমুদ হাসান, অতিরিক্ত সচিব ( উন্নয়ন) আহমদ শামীম আল রাজী, অতিরিক্ত সচিব (পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ) মো. মনিরুজ্জামান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. একেএম রফিক আহাম্মদ, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমির হোসাইন চৌধুরীসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বিশ্বে করোনায় মৃত্যু ২৫ লাখ ১৯ হাজার ছাড়িয়েছে

প্রতিদিনই করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও শনাক্তের সংখ্যা বেড়ে চলেছে। বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত মারা গেছেন ২৫ লাখ ১৯ হাজার ২৫৫ জন। আর শনাক্ত হয়েছেন ১১ কোটি ৩৫ লাখ ৪৪ হাজার ৩০৮ জন। এদিকে এখন পর্যন্ত করোনাভাইরাস থেকে বিশ্বব্যাপী সুস্থ হয়েছেন ৮ কোটি ৯১ লাখ ২৮ হাজার ৯৮৮ জন। আজ শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৯টায় আন্তর্জাতিক পরিসংখ্যানভিত্তিক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার থেকে এ তথ্য জানা যায়।

ওয়ার্ল্ডোমিটারের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় ৫ লাখ ২০ হাজার ৭৮৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশ্বে সর্বোচ্চ শনাক্তের সংখ্যাও এই দেশটিতে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রে ২ কোটি ৯০ লাখ ৫২ হাজার ২৬২ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। দেশটিতে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ১ কোটি ৯৪ লাখ ৩৫ হাজার ৪৫২ জন।

এদিকে করোনা শনাক্তের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। দেশটিতে এ পর্যন্ত করোনায় শনাক্তের সংখ্যা ১ কোটি ১০ লাখ ৬৩ হাজার ৩৮ জন। এদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার ৮৬১ জন। মৃত্যু বিবেচনায় দেশটি বিশ্বে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে।

করোনাভাইরাসে শনাক্তের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ব্রাজিল। ল্যাটিন আমেরিকার এই দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ১ কোটি ৩ লাখ ৯৩ হাজার ৮৮৬ জন। তাদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৬৬১ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৯৩ লাখ ২৩ হাজার ৬৯৬ জন।

করোনাভাইরাসে আক্রান্তের দিক থেকে রাশিয়া চতুর্থ স্থানে রয়েছে। দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ লাখ ১২ হাজার ১০০ জন। মারা গেছেন ৮৪ হাজার ৮৭৬ জন। আর সুস্থ হয়েছেন ৩৭ লাখ ৬৭ হাজার ৬৬৪ জন।

আক্রান্ত বিবেচনায় পঞ্চম স্থানে থাকা যুক্তরাজ্যে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৪১ লাখ ৫৪ হাজার ৫৬২ জন। মারা গেছেন ১ লাখ ২২ হাজার ৭০ জন। আর ২৭ লাখ ২৭ হাজার ৪৬৬ জন সুস্থ হয়েছেন। ফ্রান্স ষষ্ঠ, স্পেন সপ্তম, ইতালি অষ্টম, তুরস্ক নবম ও জার্মানি দশম স্থানে রয়েছে। আর বাংলাদেশের অবস্থান ৩৩তম।

২০১৯ সালের ডিসেম্বরে চীনের উহানে প্রথম করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। দেশটিতে করোনায় প্রথম রোগীর মৃত্যু হয় ২০২০ সালের ৯ জানুয়ারি। ওই বছরের ১৩ জানুয়ারি চীনের বাইরে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় থাইল্যান্ডে। পরে ধীরে ধীরে তা বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে।করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৩০ জানুয়ারি বৈশ্বিক স্বাস্থ্য জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবে ৪১ জনের মৃত্যু

বিপজ্জনক পথে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিতে গিয়ে নৌকাডুবে কমপক্ষে ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার ওই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটেছে বলে সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মাধ্যম নিশ্চিত করেছে। যুদ্ধ-বিধ্বস্ত সিরিয়া থেকে ইউরোপে উন্নত জীবনের আশায় সাগর পাড়ি দিতে গিয়ে এসব শরণার্থী প্রাণ হারিয়েছেন।জাতিসংঘের শরণার্থী ও অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা আইওএম এবং ইউএনএইচসিআর বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে জানিয়েছে, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি অন্তত ১২০ অভিবাসীকে নিয়ে যাত্রা করেছিল নৌকাটি। পরবর্তীতে দুর্ঘটনায় ৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে।নৌকাটি ডুবতে শুরু করার প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর একটি বাণিজ্যিক জাহাজ সহায়তার জন্য এগিয়ে আসে। এর মধ্যেই আটজনের মৃত্যু হয়। এক যৌথ বিবৃতিতে আইওএম এবং ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, প্রায় ১৫ ঘণ্টা ধরে নৌকাতে থাকা যাত্রীরা সম্ভাব্য সব উপায়ে সাহায্য চাইতে থাকেন। এই সময়ের মধ্যেই ছয়জন পানিতে পড়ে মারা যায়। দূরে একটি নৌকা দেখতে পেয়ে সাঁতার কেটে সেখানে যাওয়ার চেষ্টা করে অপর দু’জনের মৃত্যু হয়। এই ঘটনার তিন ঘণ্টা পর ভস ট্রিটন নামের একটি জাহাজ নৌকাটির কাছে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কিন্তু কঠিন এবং জটিল উদ্ধার অভিযানের সময় আরও বেশ কয়েকজন প্রাণ হারায়। দুর্ঘটনায় জীবিত শরণার্থীদের উদ্ধার করে ইতালির সিসিলিয়ান বন্দর শহর পোর্তো এম্পেদোকলেতে নিয়ে যায় ওই জাহাজটি। এখনও তিন শিশু ও চার নারী নিখোঁজ রয়েছে। এদের মধ্যে এক নারী তার সদ্যজাত শিশুকে ল্যাম্পেদুসায় রেখে গেছেন।

উন্নয়ন ও তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে কাজ করছে সরকার : প্রধানমন্ত্রী

উন্নয়ন ও তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ মেরিন একাডেমির ৫৫তম ব্যাচের ক্যাডেটদের মুজিববর্ষ গ্রাজুয়েশন প্যারেড অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন সরকারপ্রধান। কর্মসংস্থান সৃষ্টি করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য এমনটা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিন সরকারে থাকার সুযোগে সব খাতে উন্নয়ন করা সম্ভব হচ্ছে। দেশের উন্নয়ন আর তরুণদের কর্মসংস্থান বাড়াতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। প্রধান অতিথির বক্তব্যে বঙ্গবন্ধুকন্যা বলেন, আমরা দেশকে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে চাই, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করে যাচ্ছি। বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জন ও নদীমাতৃক এ দেশের নদীগুলোর নাব্যতা ফিরিয়ে এনে অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক নৌপথে চলাচল আরও সচল ও সুষ্ঠু করার লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। সে কারণেই আমরা এই মেরিটাইম একাডেমিগুলো প্রতিষ্ঠা করেছি। এর ফলে আমাদের ছেলে-মেয়েদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে। এর ফলে একদিকে যেমন তারা নিজেরা ও পরিবারকে স্বাবলম্বী করতে পারছে, তেমনি দেশে-বিদেশে কাজ করে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিকেও স্বাবলম্বী করছে। মেরিন একাডেমিতে উচ্চমানের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, সমুদ্রপথেই অধিকাংশ পণ্য পরিবহন হয়। সারাবিশ্বের অর্থনীতিতে এ পণ্য পরিবহনের গুরুত্ব অনেক। জাহাজ চলাচলে উচ্চ শিক্ষার জন্য বর্তমান সরকার বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছে। বিশ্বে মর্যাদা নিয়ে চলতে হলে শিক্ষা-প্রশিক্ষণ দরকার। বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে হলে শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ একসঙ্গে অর্জন করতে হবে বলেও উল্লেখ করেন সরকারপ্রধান। বঙ্গবন্ধু বেঁচে থাকলে বহু আগেই উন্নত সমৃদ্ধ হতো বাংলাদেশ এমন মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শ নিয়ে আমরা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছি বলে এবং দীর্ঘদিন সরকারে থাকার সুযোগ পেয়েছি বলে আজকে প্রতিটি ক্ষেত্রে আমরা এগিয়ে গিয়েছি। এমনকি এই করোনাকালীন আমরা আমাদের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে পেরেছি। বিশ্বে অনেক উন্নত দেশের আগে নাগরিকদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য আমরা ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করতে পেরেছি। অনুষ্ঠানে করোনার সংক্রমণ থেকে বাঁচতে টিকা গ্রহণ করলেও সকলকে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান বঙ্গবন্ধুকন্যা।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টির আহ্বান কাদেরের

 রোহিঙ্গা নাগরিকদের প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের উপর চাপ সৃষ্টির কার্যকর কৌশল অবলম্বনের জন্য আন্তর্জাতিক সংস্থাসমূহের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।আজ সোমবার সকালে তার সরকারি বাসভবনে নিয়মিত ব্রিফিংয়ে এই আহ্বান জানান তিনি।

সেতুমন্ত্রী বলেন, প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী টেকনাফ-উখিয়ায় আশ্রয় নেওয়ায় তাদের ভরণপোষণ বাংলাদেশের অর্থনীতিতে প্রবল চাপ সৃষ্টি হচ্ছে, ক্ষতি হচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ। রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকে শেখ হাসিনা সরকার বিষয়টির শান্তিপূর্ণ সমাধানে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা কামনা করে আসছে। কূটনৈতিক তৎপরতাও অব্যাহত রেখেছে।

ধারণক্ষমতার কম জায়গায় অধিক সংখ্যক মানুষ বসবাস করায় সামাজিক পরিবেশ ও ভারসাম্য হুমকির মুখে পড়েছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেখা দিয়েছে মানবিক ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা। বিশ্বের দীর্ঘতম বালুকাময় সৈকত ঘিরে পর্যটন শিল্পের উপরও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।

মিয়ানমারের প্রত্যাবাসন বিলম্বিত হওয়ায় সরকার ভাসানচরে অধিকতর সুযোগ সুবিধা দিয়ে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে এমতাবস্থায় যারা ইতোমধ্যে ভাসানচরে গিয়েছে, তারা স্বস্তি প্রকাশ করলেও কোন কোন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বহুজাতিক গণমাধ্যম রোহিঙ্গাদের ভাসানচরে জোরপূর্বক স্থানান্তরের কথা প্রচার করছে,যা সত্য নয় বলে জানান সড়ক পরিবহনমন্ত্রী।

যারা স্বেচ্ছায় যেতে চেয়েছে কেবলমাত্র তাদেরকেই স্থানান্তর করা হচ্ছে, কোন ধরনের চাপ প্রয়োগ করে নয়।-যোগ করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।করোনার টিকা সংগ্রহে সরকার ইতিমধ্যেই উদ্যোগ নিয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ কিংবা ফেব্রুয়ারিতে টিকা দেশে এসে পৌঁছবে।

টিকা সংগ্রহ এবং ব্যবস্থাপনার বিষয়টি সুচারুভাবে সম্পন্ন করতে নেওয়া হচ্ছে পূর্বপ্রস্তুতি উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে এবং দেশবাসীকে অবহিত করছে।

উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, একটি মহল সরকারের যেকোনো ভালো উদ্যোগের অহেতুক সমালোচনায় সক্রিয়। টিকা এখনো আসেইনি, তার মধ্যেই বিভ্রান্তি শুরু করেছে সেই মতলবি মহল। এ সকল উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচারে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি নেতারা বলেছেন সরকার নাকি ক্ষমতায় টিকিয়ে থাকতে বিদেশি শক্তির কাছে জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিচ্ছে, এর জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, প্রকৃতপক্ষে দেশের মানুষ জানে, কারা ক্ষমতায় যেতে বিদেশি দূতাবাসের দরজায় ফুল আর মিষ্টি নিয়ে অপেক্ষা করে, কারা ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য বিদেশি সংস্থার কাছে প্রকাশ্য দিবালোকে নৈতিক সাহায্য প্রার্থনা করে।

কাদের বলেন, ক্ষমতার জন্য বিএনপিই জাতীয় স্বার্থ বিসর্জন দিতে প্রস্তুত থাকে,আওয়ামী লীগ নয়।আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এদেশের স্বাধীনতা এসেছে, দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটি শেখ হাসিনা সরকারের কাছে নিজ অস্তিত্বের মতো বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

বছরের প্রথম দিন সব শিক্ষককে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ

নতুন বছরের বছরের প্রথম দিন (১ জানুয়ারি ২০২১) প্রধান শিক্ষকসহ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সব শিক্ষককে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। তবে অসুস্থ ও সন্তানসম্ভবা শিক্ষকদের ক্ষেত্রে এ নির্দেশনা বলবৎ হবে না। এ দিন শিক্ষকদের উপস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন বছরের পাঠ্যবই তুলে দেয়া হবে।সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) ডিপিই থেকে এ সংক্রান্ত নির্দেশনাটি প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বিভাগীয় উপ-পরিচালক, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।নির্দেশনায় বলা হয়, বিগত বছরগুলোর মতো ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীর মধ্যে নতুন বই তুলে দেয়ার কর্মসূচি হাতে নেয়া হয়েছে। ওই কর্মসূচি যথাযথভাবে বাস্তবায়নের জন্য বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকসহ সব শিক্ষক ও কর্মচারীকে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকার জন্য অনুরোধ করা হলো।এতে আরো জানানো হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জারি করা সর্বশেষ প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, অসুস্থ ও সন্তানসম্ভবা শিক্ষক-কর্মচারীরা বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকা থেকে বিরত থাকবেন।অন্যদিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের সশরীরে উপস্থিত হয়ে নতুন পাঠ্যপুস্তক নিতে হবে। শ্রেণিভেদে একেক দিন একেক ক্লাসের শিক্ষার্থীরা মাস্ক পরিধান করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বিদ্যালয় থেকে বই গ্রহণ করবে। প্রধান শিক্ষকের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেয়া হবে। সেখানে প্রাথমিকের মাঠ কর্মকর্তাদেরও উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে।

হজ-ওমরাহ ব্যবস্থাপনায় আইন হচ্ছে

নীতিমালার পরিবর্তে হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন করছে সরকার। এজন্য হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনা আইন, ২০২০ এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেয়া হয়। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী ও সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, এতদিন পর্যন্ত হজ ব্যবস্থাপনাটা চলত একটা নীতিমালার মাধ্যমে। নীতিমালার মাধ্যমে চলার কারণে কিছু অসুবিধা হতো, অ্যাকশন নেয়া যেত না। কিছু অ্যাকশন নিলে তারা (হজ ও ওমরাহ এজেন্সি) আবার হাইকোর্টে গিয়ে রিট করে এগুলোর বিরুদ্ধে স্থগিতাদেশ নিয়ে আসত।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব আরও বলেন, ২০১১ সালে সৌদি আরব টোটাল হজ ব্যবস্থাপনাটা পরিবর্তন করে দিয়েছে। পাকিস্তান, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়াও এখন আইন করে ফেলেছে। হজ ব্যবস্থাপনার সঙ্গে তাল মেলাতে হলে আমাদের রাষ্ট্রীয়ভাবে একটি লিগ্যাল কাঠামো প্রয়োজন। ২০১২ সালে মন্ত্রিসভার একটা নির্দেশনাও ছিল যে হজ ব্যবস্থাপনায় নীতিমালার পরিবর্তে একটি আইন নিয়ে আসতে হবে। সেটাই আজকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় নিয়ে এসেছে।

আইনের উদ্দেশ্য পূরণে হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব সরকারের ওপর ন্যস্ত থাকবে জানিয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, সরকার হজ ও ওমরাহ ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে সৌদি সরকারের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি, সমঝোতা ও সম্মতিক্রমে সৌদি আরবের যেকোনো স্থানে হজ অফিস স্থাপন ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারবে। এই আইনের অধীনে নিবন্ধন ছাড়া কেউ কোনো হাজী বা হজের কোনো লোকজনকে হ্যান্ডেল করতে পারবে না।

নিবন্ধন কর্তৃপক্ষ যদি দেখে কেউ অনিয়ম করছে তবে উপযুক্ত তদন্ত ও শুনানি করে হজ ও ওমরাহ এজেন্সির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারবে। সরকার দৈব-দুর্বিপাক, মৃত্যু, দুর্ঘটনা, হজযাত্রীদের আকস্মিক প্রয়োজন পূরণ ও অপ্রত্যাশিত ব্যয় নির্বাহের জন্য একটি আপদকালীন তহবিল গঠন করবে।

তিনি বলেন, হজের চুক্তি এখানে হওয়ার পর কেউ গিয়ে যদি ওই দেশেও (সৌদি আরব) ঠকায় সেই অপরাধ এখানে করা হয়েছে বলে গণ্য হবে। সেক্ষেত্রে তার বিরুদ্ধে ক্রিমিন্যাল বা লিগ্যাল বা অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ অ্যাকশন নেয়া যাবে। এটা এই হজ আইনের একটি গুরুত্বপূর্ণ জিনিস। ওখানে তারা ঠকাচ্ছে, তখন এটা কী হবে, সে জন্য তারা (হজ ও ওমরাহ এজেন্সি) অনেক সময় বেনিফিট নিয়ে নিত। এটা আইনে কাভার করে দিয়েছে।

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, অনিয়মের জন্য হজ এজেন্সির নিবন্ধন বাতিল করা যাবে এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে। ওমরাহ এজেন্সির ক্ষেত্রে নিবন্ধন বাতিল ও ১৫ লাখ টাকা জরিমানা করা যাবে। ক্রিমিন্যাল অফেন্স (ফৌজদারি অপরাধ) করলে পেনাল কোড বা অন্যান্য আইনে তার বিরুদ্ধে অ্যাকশন নেয়া যাবে। আর অপরাধের জন্য কোনো হজ এজেন্সিকে যদি পরপর দুই বছর সতর্ক করা হয় তাহলে লাইসেন্স দুই বছরের জন্য স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল থাকবে।

হজ এজেন্সির অনিয়মের বিষয়ে বলা হয়েছে- হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের সঙ্গে চুক্তি ভঙ্গ করা; হজ ও ওমরাহ যাত্রীদের হয়রানি, ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষতিসাধন; অসত্য তথ্য ও প্রতারণার মাধ্যমে নিবন্ধন; আইন বিধি ও সরকারের জারি করা নির্দেশনা ও নিবন্ধন শর্ত লঙ্ঘন।হজ এজেন্সি যদি তাদের স্বত্ব ও নাম পরিবর্তন করতে চায় তবে খসড়া আইন অনুযায়ী নিবন্ধন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হবে বলেও জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

পুলিশ বক্সও পার পায়নি উচ্ছেদ থেকে!

রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে সাইকেল লেনের ওপরে গড়ে ওঠা পুলিশ বক্সটি অবশেষে ভেঙে দিয়েছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। এ সময় সাইকেল লেন দখল করে গড়ে ওঠা ৭০টির অধিক স্থাপনা ভেঙে দেওয়া হয়।আজ সোমবার (২৮ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা থেকে দ্বিতীয় দিনের মতো মানিক মিয়া এভিনিউতে সাইকেল লেনের ওপর অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করে ডিএনসিসি। এরই ধারাবাহিকতায় ভেঙে দেওয়া হয় পুলিশ বক্সটি।

দুই ঘণ্টা ধরে চলা এই উচ্ছেদ অভিযানের নেতৃত্বে দেন ডিএনসিসির অঞ্চল-৫ এর নির্বাহী কর্মকর্তা ও নিবার্হী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদ হোসেন।তিনি বলেন, আজকের (সোমবার) অভিযানে সাইকেল লেন দখল করে গড়ে ওঠা ৭০টির অধিক দোকান আমরা উচ্ছেদ করেছি। তবে কাউকে জরিমানা করা হয়নি। সেইসঙ্গে লেনের ওপরের পুলিশ বক্সটিও উচ্ছেদ করেছি।

রোববারের অভিযানে কেন বক্সটি উচ্ছেদ করা হয়নি এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ধারণা করা হয়েছিল হয়তো পুলিশ বিভাগ, সিটি কর্পোরেশনের সাথে কথা বলে পুলিশ বক্সটি সরিয়ে নেবে। তাই আমরা তাদের সময় দিয়েছিলাম। কিন্তু যেহেতু আজও তারা সেটি সরায়নি, তাই মেয়র মহোদয়ের সঙ্গে কথা বলে আমরা সেটি ভেঙে দিয়েছি।

আগামীকাল মঙ্গলবারও এই লেনে উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।উল্লেখ্য, রোববার (২৭ ডিসেম্বর) থেকে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে সাইকেল লেনে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা দোকানপাট ও স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করছে ঢাকা উত্তর সিটি। প্রথম দিনের অভিযান শেষে শতাধিক দোকান উচ্ছেদ করা হয়। এ সময় লেনের ওপরে অবৈধ পার্কিংয়ের জন্য একটি মাইক্রোবাস ও একটি প্রাইভেট কারের চালককে দুই হাজার পাঁচশ’ টাকা জরিমানা করা হয়।

অনুমতি ছাড়া মহাসড়কে বিলবোর্ড ও তোরণ নির্মাণে জরিমানা

মহাসড়ক নির্মাণ, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ যান চলাচলের জন্য নতুন আইন করতে যাচ্ছে সরকার।এই আইন পাস হলে অনুমতি ছাড়া মহাসড়কে বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড বা তোরণ নির্মাণে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা গুণতে হবে।

আর মহাসড়কের সংরক্ষণ রেখার মধ্যে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করলে দুই বছরের কারাদণ্ডের সঙ্গে সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হবে।প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার মন্ত্রিসভার ভার্চুয়াল বৈঠকে মহাসড়ক আইন, ২০২০ এর নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে জানান, ১৯২৫ সালের হাইওয়ে অ্যাক্ট রহিত করে মহাসড়ক, নির্মাণ, উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং অবাধ, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ যান চলাচলের জন্য নতুন আইন করা হচ্ছে।তিনি বলেন, মহাসড়কের ক্ষতি কমিয়ে স্থায়িত্ব নিশ্চিত করা এবং যানবাহন চলাচলের গতিশীলতা নিশ্চিত করতে ওভারলোড নিয়ন্ত্রণ করা হবে। মহাসড়কের একটা ইন্টারন্যাশনাল স্টান্ডার্ড আছে যে কত স্পিডে গাড়ি চলতে পারবে।

সেক্ষেত্রে আমরা যদি নিয়ন্ত্রণ না করি এবং ফ্যাসিলিটিজ মানুষকে না দিই, তাহলে এই মহাসড়ক ব্যবস্থা ঠিকভাবে চালানো সম্ভব হবে না। মহাসড়কের মাঝেমাঝে আন্ডারপাস করা হবে, সেখান দিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ সিএনজি, রিকশা চলাচল করতে পারবে। সব জায়গায় আন্ডারপাসের ব্যবস্থা থাকবে না, সেক্ষেত্রে ওভারপাসের ব্যবস্থা রাখতে হবে।যেহেতু মহাসড়কের দুই পাশে সড়ক থাকবে, তাই বৃষ্টির পানি বা যে কোনো পানি যেন দ্রুত নেমে যায়, সেই ব্যবস্থা রাখতে প্রধানমন্ত্রী নির্দেশনা দিয়েছেন।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইন্দিরা মঞ্চ তৈরি করা হবে : মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধ-বিষয়ক মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য বহির্বিশ্বে জনমত গঠন করে ইন্দিরা গান্ধী অনবদ্য অবদান রেখেছেন। মাত্র ৯ মাসে স্বাধীনতা অর্জনে ইন্দিরা গান্ধীর প্রচেষ্টা অনস্বীকার্য। যেই মহিয়সী নারী আমাদের মহান স্বাধীনতায় এত অবদান রাখলেন, তাকে আমরা সেভাবে স্মরণ করতে পারিনি। তার নামে কিছু করতে পারিনি, বানাতে পারিনি। তবে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আমরা ইন্দিরা মঞ্চ তৈরি করব, বঙ্গবন্ধু মঞ্চের পাশেই এই মঞ্চটি তৈরি করা হবে।শনিবার (৩১ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ সচেতন নাগরিক কমিটি আয়োজিত ইন্দিরা গান্ধীর স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মোজাম্মেল হক বলেন, ইন্দিরা গান্ধী যখন স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেন, তখন ভারতের কিছু ব্যক্তি বাধা তৈরি করে। তবে তিনি তাদের বলেছিলেন, আমি ন্যায়ের পক্ষে, জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছি। একইভাবে আমেরিকাতে একদল সাংবাদিক তাকে পাকিস্তান যুদ্ধের উসকানিদাতা হিসেবে প্রশ্ন তোলেন। জবাবে ইন্দিরা গান্ধী বলেছিলেন, আমি জনগণের পক্ষে, তাদের মুক্তির জন্য আমার অবস্থান।

মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় ইন্দিরা গান্ধী ভারতের সব বর্ডার খুলে দিয়েছিলেন আমাদের জন্য, এক কোটি মানুষকে আশ্রয়, খাদ্য সহায়তা দিয়েছিলেন। দুই লাখ মানুষকে প্রশিক্ষণ দিয়ে আমাদের সহযোগিতা করেছিলেন। অথচ এত অবদানের পরও আমরা ইন্দিরা গান্ধীকে সেভাবে সম্মান দিতে পারিনি, তার সম্মানে কিছু করতে পারিনি।স্মরণ সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, বিএসএমএমইউ’র সাবেক ভিসি ডা. কামরুল হাসান, সাবেক রাষ্ট্রদূত ও সংগঠনটির আহ্বায়ক নিম চন্দ ভৌমিক, বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. ফজলে এলাহী প্রমুখ।