All posts by lutfor

লকডাউন দেওয়া হয়েছে জননিরাপত্তার কথা ভেবেই : অর্থমন্ত্রী

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, করোনা থেকে জনগণের সিকিউরিটির কথা মাথায় রেখেই লকডাউন দেওয়া হয়েছে। তবে দেশের মানুষের যেন ক্ষতি না হয় আমরা সব সময় সেদিকে আমরা লক্ষ্য রাখছি।আজ বুধবার দুপুরে ভার্চ্যুয়ালি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।

অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের যে সব কারণে লকডাউন দেওয়া হয়েছে সেটা আপনারা জানেন। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টরা দেখে ব্যবস্থা নেবেন। জনগণের সেফটি-সিকিউরিটির কথা মাথায় রেখে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টা আমার নয়, তাই সে বিষয়ে আমি কথা বলতে চাই না। দেশের মানুষের যেন ক্ষতি না হয় আমরা সব সময় সেদিকে লক্ষ্য রাখছি।তিনি বলেন, করোনার প্রণোদনা প্যাকেজগুলো আমাদের মন্ত্রণালয় থেকেই ঘোষণা করা হয়েছে, কিন্তু সবগুলো প্যাকেজই প্রধানমন্ত্রীর ধারণা ও পরিকল্পনায় হয়েছে। তিনিই সেসব করে দিয়েছে। আমরা শুধু তার হয়ে এগুলো বাস্তবায়ন করেছি বলেও জানান তিনি।

স্কুল কলেজে ড্রেস-জুতার সিন্ডিকেট ব্যবসা!

রাজধানীর স্কুল-কলেজে ড্রেসের একচেটিয়া ব্যবসা করছে একটি সিন্ডিকেট। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের একটি আদালত এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে প্রতিযোগিতা আনার নির্দেশ দিয়েছেন।

এই সিন্ডিকেট ব্যবসার সাথে যুক্ত আছেন স্কুল কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ। বছরের পর পর একই সিন্ডিকেট এই ব্যবসা করছে।প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই সিন্ডিকেটের কারণে ড্রেসের মান খারাপ হচ্ছে, আর অভিভাবকদের কাছ থেকে উল্টো বেশি টাকা নেয়া হচ্ছে। তাই প্রতিবছর টেন্ডার ডেকে কমপক্ষে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে প্রতিযোগিতামূলকভাবে কাজ দেয়ার আদেশ দেয়া হয়েছে।

ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজে চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্কুলের মধ্যেই দোকান ভাড়া নিয়ে এককভাবে গত প্রায় ১৮ বছর ধরে (২০০৩ সাল থেকে) ড্রেস বিক্রি করে আসছে। এটা কমিশনের নজরে এলে তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই প্রতিষ্ঠানকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা এবং প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিবছর কমপক্ষে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে পোশাক সরবরাহের দায়িত্ব দেয়ার আদেশ দেয়া হয়। রায়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে বলা হয়, স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগসাজশে ওই প্রতিষ্ঠানটি এককভাবে পোশাক সরবরাহ আর শিক্ষার্থীদের ওই দোকান থেকেই পোশাক কিনতে বাধ্য করা হয়।

এর আগে রাজধানী উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যাপারেও একই ধরনের রায় দেয়া হয় বলে কমিশন চেয়ারম্যান জানান।চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. ইব্রাহিম মোল্লা তার এই একচেটিয়া ব্যবসার কথা স্বীকার করেন। তবে তার দাবি, আগে যিনি ছিলেন তিনি ২৫ বছর ধরে একচেটিয়াভাবে ছিলেন। ফখরুদ্দিন বাবুর্চি আছেন ৭০ বছর ধরে। তাহলে তার দোষ কোথায়?

তিনি জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে একটি কক্ষ দিয়েছে পোশাক বিক্রির জন্য। বিনিময়ে তাকে মাসে দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। যা অনেক বেশি। এর বাইরে তিনি আর কোনো সুবিধা দেন না বলে দাবি করেন।প্রতি সেট পোশাকের জন্য তিনি নেন এক হাজার ২০০ টাকা। বছরে ১৩ হাজার সেট পোশাক বিক্রি হয়। তিনি জুতা, বেল্ট, ব্যাজও বিক্রি করেন।

ইব্রাহিম মোল্লা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের ড্রেসও সরবরাহ করেন। তিনি জানান, ঢাকার স্কুলগুলোতে পাঁচ-ছয়টি প্রতিষ্ঠান পোশাক সরবরাহ করে। তারাই বছরের পর বছর এই কাজ করছেন। স্কুল-কলেজে বই, স্টেশনারি, ক্যান্টিনও এভাবেই চলে বলে জানান তিনি।

অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু অভিযোগ করেন, ঢাকার স্কুলগুলোর ম্যানেজিং কমিটি ও কিছু শিক্ষকের সাথে যোগসাজশে এই একচেটিয়া ব্যবসা চলে। পোশাক থেকে শুরু করে বই-খাতা সবই স্কুলের দোকান থেকে কিনতে হয়। ওইসব দেকানে পণ্যের মানও খারাপ, দামও বেশি। আর স্কুলের মধ্যেই চলে এসব দোকান। এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। আমরা আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকবার অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার পাইনি।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, স্কুলের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক সামগ্রী সরবরাহের জন্যও একইভাবে চুক্তিবদ্ধ সিন্ডিকেট আছে। তাদের বাইরে কিছু হয়না।

ভিকারুননিসা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুননাহার বলেন, তিনি নতুন এসেছেন তাই জানেন না কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান একচেটিয়াভাবে বছরের পর বছর পোশাক সরবরাহের কাজ পায়। তবে আদালতের নির্দেশের কপি তিনি এখনো পাননি। পেলে ব্যবস্থা নেবেন।

তিনি বলেন, এসব সিদ্ধান্ত ম্যানেজিং কমিটি নেয়, তবে অধ্যক্ষের মতামত থাকে। কিন্তু এসব ব্যাপারে স্বচ্ছতা প্রয়োজন।

প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, সবশেষ রায়টি ভিকানরুননিসা স্কুল ও কলেজের ব্যাপারে হলেও দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই এই ধরনের সিন্ডিকেট ব্যবস্থা ভেঙে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা চালুর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।

প্রতিযোগিতা কমিশনের এই নির্দেশনা এখনো হাতে পাননি বলে জানান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ ফারুক। তবে তিনি মনে করেন, এই ধরনের একচেটিয়া সরবরাহ ব্যবস্থা অনৈতিক। এর অবসান হওয়া প্রয়োজন।

এসএসসি-এইচএসসি পরীক্ষা হচ্ছে না জুন-আগস্টেও

সরকার আগামী জুনে এসএসসি এবং আগস্টে এইচএসির পরীক্ষার প্রস্তুতি গ্রহণ করলেও তা হচ্ছে না। দুটি পরীক্ষায়ই আরও এক থেকে দু’মাস পেছানো হতে পারে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে এসএসসি ও এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু গত বছর মার্চে করোনা সংকট শুরু হওয়ার পর অন্যান্য সেক্টরের মতো শিক্ষা খাত বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষাকার্যক্রম বন্ধ থাকায় এ বছর আগামী জুন-আগস্ট মাসে এসএসসির ৬০ দিন এবং এইচএসসি ৮৪ দিন ক্লাস ধরে পরিমার্জিত সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশ করেছে শিক্ষাবোর্ড। ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে এমনটি ধরেই এ ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি।

বর্তমান ছুটি ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মার্চ মাসেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে কি-না তাও অনিশ্চিত। এরই মধ্যে সরকারি-বেসরকারি সব বিশ্ববিদ্যালয় আগামী ২৪ মের পর খোলা হবে এমন ঘোষণার পর এ দুটি পরীক্ষা জুন-আগস্টে হওয়ায় সম্ভাবনা নেই বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার সংক্ষিপ্ত সিলেবাস প্রকাশের প্রায় এক মাস হতে চললেও শ্রেণিকক্ষে সরাসরি ক্লাস শুরু হয়নি। ২৩ মে পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ রাখার ঘোষণার পর ঈদের আগে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার সম্ভাবনা নেই। ঈদের পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুললে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুযায়ী ক্লাস নিয়ে আগস্টের আগে এসএসসি ও সেপ্টেম্বরের আগে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া সম্ভব হবে না।

সংক্ষিপ্ত সিলেবাস অনুযায়ী, ৬০ কর্ম দিবস ক্লাস নিয়ে এসএসসি, ৮৪ দিন ক্লাস করে এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের পরীক্ষা নেয়া হবে। যখন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা হবে তখন থেকে এ দিন গণনা শুরু হবে। একটি পরীক্ষা শেষ করে আরেকটি পরীক্ষা আয়োজন করতে অন্তত এক মাস সময় দরকার বলেও জানান। গত ২২ ফেব্রুয়ারি শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে এক লাখ ৩০ হাজার আবাসিক শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৫ হাজার ৫২৪ জন শিক্ষককেও ভ্যাকসিনের আওতায় এনেই হল ও ক্যাম্পাস খোলা হবে। আর ১৭ মের মধ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারী ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষা কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও করোনার টিকা নিতে হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকে শিক্ষকের সংখ্যা চার লাখ ছয় হাজার ৪৭৯ জন। আর কর্মচারীর সংখ্যা এক লাখ ৬২ হাজার ৮৬১। মোট শিক্ষক-কর্মচারী পাঁচ লাখ ৬৯ হাজার ৩৩০ জন। এর সঙ্গে মাধ্যমিকের যেসব শিক্ষা কর্মকর্তা রয়েছেন তা যোগ করলে পাঁচ লাখ ৭৫ হাজার ৪৩০ জন।

মন্ত্রীর এমন ঘোষণার পর সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনার টিকা না দেয়া পর্যন্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলছে না এটা বলা যায়। অন্যদিকে এই বিপুল সংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী-কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীদের টিকা নিশ্চিত করা নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়েছে।

জানা গেছে, গত ২৭ জানুয়ারি এনসিটিবিতে কারিকুলাম বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে বৈঠক করে শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি জানান, স্কুল খোলার পর সরাসরি শ্রেণিকক্ষে ৬০ দিন এসএসসি এবং ৮৪ দিন এইচএসসি ক্লাস করানোর পর ওইটুকু সিলেবাসের উপরের প্রশ্ন তৈরি করে এ দুটি পাবলিক পরীক্ষা নেয়া হবে।

মন্ত্রী জানান, যদি ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলা যায় তবেই এটা কার্যকর হবে।

এনসিটিবির ওই বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী জানান, যে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি হবে তাতে ৯ মে এসএসসি এবং ১৫ জুন এইচএসসির সব ক্লাস শেষ করতে হবে এবং জুনে এসএসসি ও জুলাই বা আগস্টে এইচএসসি পরীক্ষা নেয়া হবে। এ সময়ের মধ্যে যতটুকু সিলেবাস পড়ানো যাবে ততটুকু সিলেবাস সংক্ষিপ্ত করা হবে। এ সংক্ষিপ্ত সিলেবাস থেকে পরীক্ষা প্রশ্ন ও উত্তরপত্র মূল্যায়ণ করা হবে।

এইচএসসির সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের বিষয়ে মন্ত্রী জানিয়েছিলেন, এইচএসসি পরীক্ষার্থীদের ৮৪ দিন ক্লাস করানো হবে। মোট ৫০৪টা ক্লাস হবে। গড়ে ৩৮টা ক্লাস পাবে।

এর আগে ২৫ জানুয়ারি গড়ে ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ এসএসসি সিলেবাস কমিয়ে শিক্ষাবোর্ডের ওয়েব সাইটে প্রকাশ করার পরও শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা অভিযোগ করেন, তিন মাসের এ সিলেবাস এক বছরেও শেষ করা সম্ভব নয়। এরপর মন্ত্রী সেই সিলেবাস আরো সংক্ষিপ্ত করে নির্দিষ্ট ক্লাস ও দিন উল্লেখ করে দেন। শিক্ষামন্ত্রীর এমন নির্দেশনার পর এনসিটিবির বিশেষজ্ঞরা এসএসসি-এইচএসসির প্রত্যেকটি শ্রেণিতে দুইদিন করে ওয়াকর্শপ করে সংক্ষিপ্ত সিলেবাস তৈরি করেন। বিষয় প্রতি সর্বোচ্চ ৩০টি কর্মদিবস ক্লাস নেয়া হবে। গত ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় এনসিটিবিতে আয়োজিত এক সভায় সংক্ষিপ্ত সিলেবাস এনসিটিবির পক্ষ থেকে আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক নেহাল আহমেদের কাছে তুলে দেয়া হয়।

আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর নেহাল আহমেদ বলেন, ‘শিক্ষা মন্ত্রণালয় দ্রুত কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় টেকনিক্যাল পরামর্শক কমিটির সঙ্গে সভা করে সিদ্বান্ত নেবেন। কমিটি মতামত দিলেই শ্রেণিকক্ষে পাঠদান শুরু হব।’ ঈদের আগে শুরু হবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্বান্তের অপেক্ষায় আছি।’

রোহিঙ্গা উদ্ধার সাগরে, ভারত পাঠাতে চায় বাংলাদেশে

ইঞ্জিন খারাপ হয়ে সমুদ্রে ভেসে বেড়ানো নৌকা থেকে রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করলো ভারত। তাদের এখন বাংলাদেশে পাঠাতে চায় দিল্লি।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র অনুরাগ শ্রীবাস্তব বলেছেন, আমাদের কাছে খবর আসে গত ১১ ফেব্রুয়ারি। বাংলাদেশের কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গা-ভর্তি একটি নৌকো ছাড়ে। পরে তার ইঞ্জিন খারাপ হয়ে যায়। সেই খবর পেয়ে কোস্ট গার্ডের দুইটি জাহাজ পাঠানো হয়। নৌকায় ৬৪ জন নারী ছিলেন, তার মধ্যে আটজনের বয়স কম। ২৬ জন পুরুষ। যাত্রীদের মধ্যে আটজন মারা গেছেন। একজন নিখোঁজ।

অনুরাগ স্পষ্ট করে দিয়েছেন, ভারত ওই রোহিঙ্গাদের দেশে রাখতে চায় না। বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে চায়।তিনি বলেন, নৌকার ৪৭ জন যাত্রীর কাছে ইউনাইটেড নেশন, হাই কমিশনার ফর রিফিউজিস(ইউএনএইচসিআর)-এর পরিচয়পত্র ছিল। তাতে লেখা, তারা মিয়ানমার থেকে ছিন্নমূল হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন। বাংলাদেশের সঙ্গে এ ব্যাপারে কথা চলছে।

বাংলাদেশ গত সোমবার জানায়, কক্সবাজার থেকে রোহিঙ্গাদের নিয়ে কোনো নৌকা ছেড়েছে, এমন খবর সরকারের কাছে নেই।কয়েকদিন আগেই ইউএনএইচসিআরের তরফে জানানো হয়েছিল, আন্দামান সাগরে রোহিঙ্গা-ভর্তি নৌকা ইঞ্জিন খারাপ হয়ে বিপাকে পড়েছে। নৌকাটি সাগরে ইতস্তত ঘুরছে। যাত্রীদের পানীয় জল ও খাবারও শেষ। তাই দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিকে তারা আবেদন জানিয়েছিল, তারা যেন ওই রোহিঙ্গাদের উদ্ধার করে। তারপরই ভারত তাদের উদ্ধার করেছে।

কারাগারে লেখক মুশতাকের মৃত্যু: যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সরকারবিরোধী পোস্ট দেওয়ায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে গ্রেপ্তার লেখক মুশতাক আহমেদ গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগারে মারা গেছেন।

এবার তার মৃত্যু নিয়ে মুখ খুলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। তিনি বলেছেন, ময়নাতদন্তের পরই লেখক মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর কারণ জানা যাবে।শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নগরীর ২ নম্বর গেটে দুই নম্বর গেটে নবনির্মিত চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের অফিস ভবনের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, লেখক মুশতাক আহমেদ এর আগেও তার লেখনীর মাধ্যমে দুয়েকবার আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর প্রতি এবং অন্যের বিশ্বাসের প্রতি আঘাত করায় অনেকে মামলা করেছিলেন। ২০২০ সাল থেকে লেখক মুশতাক আহমেদ গ্রেপ্তার হয়ে কাশিমপুর কারাগারে বন্দি ছিলেন।তিনি আরও বলেন, ময়নাতদন্তের পরই মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। যেকোনো মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করা হয়। তদন্ত করে বলতে পারবো কী হয়েছিল?

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশে ও দেশের বাইরে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আল জাজিরা থেকে দেশের মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আল জাজিরার নিউজ দেশের মানুষ এখন আর দেখে না।এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সাবেক মন্ত্রী আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এমপি, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এমপি, সিটি মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী, সংসদ সদস্য এবিএম ফজলে করিম চৌধুরী, মোছলেম উদ্দিন আহমদ, মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী, ড. আবু রেজা নদভী, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আনোয়ার হোসেন, সিএমপি কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর, পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়টি জরাজীর্ণ ও পুরাতন হওয়ায় ২০১৭ সালে গণপূর্ত বিভাগ-২ এর অধীনে নতুন ভবন নির্মাণকাজ শুরু হয়। এসময় কিছু দিনের জন্য পুলিশি কার্যক্রম চলে হালিশহর ছোটপুলের জেলা পুলিশ লাইন্সে। এখন থেকে নগরের ২ নম্বর গেটে নতুন এ ভবন উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে আবারও জেলা পুলিশের কার্যক্রম শুরু হচ্ছে।

জামুকার সিদ্ধান্ত নিয়ে যা বললেন ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি আগেও বলেছি জামুকার সিদ্ধান্ত কখনই দেশের মানুষ মেনে নেবে না। দেশের মানুষের কাছে এটা গ্রহণযোগ্য হবে না। জিয়াউর রহমানের অবদানকে কেউ খাটো করে দেখাতে চাইলে; খাটো করে দেখাতে পারবে না।

বৃহস্পতিবার (১৫ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টার্মিনালে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, এই খেতাব তো জিয়াউর রহমান অর্জন করেছেন। এটা কারো দয়ায় পাওয়া নয়। যুদ্ধ করেছেন তিনি এবং সেটা অর্জন করেছেনও তিনি। সুতরাং এটা নিয়ে আমরা মনে করি যে, জিয়াউর রহমানের কোনো রকমের কোনো ক্ষতি তারা করতে পারবে না।

সিঙ্গাপুরে টিকা নিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে ফখরুল বলেন, সেখানে বিদেশিদের টিকা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। আমরা এখানে এসে দেখবো কী অবস্থা। রেজিস্ট্রেশন করে তখন চেষ্টা করবো।

শরীরের অবস্থা কেমন প্রশ্ন করা হলে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভালো না। আমি অসুস্থ, এখনো সুস্থ নই। সিঙ্গাপুরে ১৪ দিন কোয়ারেন্টিনে থেকে তারপরে ডাক্তারদের সঙ্গে দেখা করে সব পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ফিরলাম।

এ সময় সদ্যপ্রয়াত গবেষক ও কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেন মির্জা ফখরুল।

তিনি বলেন, সৈয়দ আবুল মকসুদ সাহেব আমার ব্যক্তিগত বন্ধু ছিলেন। আমি অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছি তার মৃত্যু সংবাদে। খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ সাহেব নিঃসন্দেহে এই দেশের একজন মানুষ যাকে বলা যেতে পারে যে, এ ম্যান অব ইন্ট্রিগ্রেটি, ম্যান অব অনেস্টি অ্যান্ড ডিগনিটি। ব্যাংকিং সেক্টরে তিনি একজন দিকপাল ছিলেন। দুই জনের মৃত্যুতে জাতি দুই জন অত্যন্ত যোগ্য মানুষকে হারালো।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে মির্জা ফখরুল তার স্ত্রী রাহাত আরা বেগমের সঙ্গে দেশে ফেরেন। বিমানবন্দর টার্মিনালের হুইল চেয়ারে করে গাড়ির কাছে আসেন এবং হুইল চেয়ারে বসেই তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

গত ৩০ জানুয়ারি স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে যান বিএনপির মহাসচিব। সেখানে ফারার পার্ক হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।

বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করায় মেয়ের আত্মহত্যা

বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করায় অভিমান করে শরীরে কেরোসিন ঢেলে মরিয়ম বেগম (২৩) নামে এক গৃহবধূ আত্মহত্যা করেছেন।

আজ শুক্রবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পথে মরিয়মের মৃত্যু হয়।স্থানীয়রা জানান, স্ত্রী থাকার পরেও দ্বিতীয় বিয়ে করেন জহুরুল ইসলাম। এ কারণে অভিমান করে প্রথম স্ত্রী বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যান।

পরে বাবার দ্বিতীয় বিয়ের খবরে ক্ষুব্ধ হয়ে বৃহস্পতিবার বাবার বাড়ি চলে আসেন মেয়ে মরিয়ম। দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বাবা-মেয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়।  একপর্যায়ে বাবার সঙ্গে অভিমান করে ঘরে ঢুকে নিজের শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন মরিয়ম।

বুঝতে পেরে মেয়েকে বাঁচাতে গিয়ে দগ্ধ হন বাবা জহুরুল ইসলামও। দগ্ধ বাবা-মেয়েকে উদ্ধার করে প্রতিবেশীরা প্রথমে পাটগ্রাম ও পরে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ (রকেম) হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পরিস্থিতির অবনতি হলে রাতেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় মরিয়মকে ঢামেক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় পাটগ্রাম থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার মহন্ত জানান, বাবা-মেয়ে দু’জনেই দগ্ধ হয়েছেন।মেয়েটির শরীরের অধিকাংশই পুড়েছে। এ ঘটনায় কোনো অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিহত মরিয়ম ওই এলাকার জহুরুল ইসলামের মেয়ে এবং হাতীবান্ধা উপজেলার ভোটমারী গ্রামের শামীম মিয়ার স্ত্রী। গতকাল বৃহস্পতিবার লালমনিরহাটের পাটগ্রাম পৌরসভার বাস টার্মিনাল এলাকায় বাবার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।

রাসুল (সা.) যেভাবে খাবার খেতেন

মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতিটি কর্ম ও পদক্ষেপ মানবতার অনুসরণযোগ্য। সফলতা ও কামিয়াবির মাধ্যম রাসুল (সা.) তার প্রিয় সাহাবিদের ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ—প্রত্যেক বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। তার কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করলে ‍মুমিনের জীবনে বয়ে যাবে প্রশান্তির ফল্গুধারা হবে জীবনপথের পাথেয়।

রাসুল (সা.) কীভাবে খাবার খেতেন, খাবার গ্রহণে তার কী পদ্ধতি ছিল—সে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

খাবার গ্রহণের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা
রাসুল (সা.) খাবার গ্রহণের আগে সব সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলতেন। তার সঙ্গীদেরও বিসমিল্লাহ বলতে উৎসাহিত করতেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর নাম নিয়ে ও ডান হাত দ্বারা খানা খাও। এবং তোমার দিক হতে খাও।’ (বুখারি, হাদিস নং : ৫১৬৭, তিরমিজি, হাদিস নং : ১৯১৩)

বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, “যখন তোমরা খানা খেতে শুরু করো তখন আল্লাহর নাম স্মরণ করো। আর যদি আল্লাহর নাম স্মরণ করতে ভুলে যাও, তাহলে বলো, ‘বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওআখিরাহ।” (আবু দাউদ, হাদিস নং : ৩৭৬৭, তিরমিজি, হাদিস নং: ১৮৫৮)

হাত ধুয়ে শুরু ও শেষ করা
খাবার গ্রহণের আগে হাত ধোয়া আবশ্যক। না হয় বিভিন্ন ধরনের অসুখ দেখা দিতে পারে। রাসুল (সা.) খাওয়ার আগে হাত ধোয়ার আদেশ দিয়েছেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) পানাহারের আগে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে নিতেন। (মুসনাদে আহমাদ)

অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) খাওয়ার পর কুলি করতেন এবং হাত ধৌত করতেন। (মুসনাদে আহমাদ ও ইবনে মাজাহ)

দস্তরখান বিছিয়ে খাওয়া
আনাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) পায়াবিশিষ্ট বড় পাত্রে খাবার খেতেন না। কাতাদা (রা.) কে জিজ্ঞেস করা হলো, তাহলে কীসের ওপর খানা খেতেন? তিনি বললেন, ‘চামড়ার দস্তরখানের ওপর।’ (বোখারি : ৫৩৮৬)

ডান হাত দিয়ে খাওয়া
রাসুল (সা.) আজীবন ডান হাত দিয়ে খাবার খেতেন। বাম হাত দিয়ে খাবার খেতে নিষেধ করেছেন তিনি। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা বাম হাত দ্বারা খাবার খেয়ো না ও পান করো না। কেননা শয়তান বাম হাতে খায় ও পান করে।’ (বুখারি, হাদিস নং: ৫৩৭৬; মুসলিম, হাদিস নং: ২০২২)

হাত চেটে খাওয়া
রাসুল (সা.) খাওয়ার সময় সর্বদা হাত চেটে খেতেন। না চাটা পর্যন্ত কখনো হাত মুছতেন না। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা যখন খাবার গ্রহণ করবে, তখন হাত চাটা নাগাদ তোমরা হাতকে মুছবে (ধোয়া) না।’ (বুখারি, হাদিস নং : ৫২৪৫)

আঙুল চেটে খাওয়া
আঙুল চেটে খাওয়ার ফলে বরকত লাভের অধিক সম্ভাবনা থাকে। কারণ খাবারের বরকত কোথায় রয়েছে মানুষ তা জানে না। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা যখন খাবার গ্রহণ করো তখন আঙুল চেটে খাও। কেননা বরকত কোথায় রয়েছে তা তোমরা জানো না।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ১৯১৪)

পড়ে যাওয়া খাবার তুলে খাওয়া
খাবার গ্রহণের সময় কখনো কখনো থালা-বাসন থেকে এক-দুইটি ভাত, রুটির টুকরো কিংবা অন্য কোনো খাবার পড়ে যায়। সম্ভব হলে এগুলো তুলে পরিচ্ছন্ন করে খাওয়া চাই।

রাসুল (সা.)-এর খাবারকালে যদি কোনো খাবার পড়ে যেত, তাহলে তিনি তুলে খেতেন। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের খাবার আহারকালে যদি লুকমা পড়ে যায়, তাহলে ময়লা ফেলে তা ভক্ষণ করো। শয়তানের জন্য ফেলে রেখো না।’ (তিরমিজি, হাদিস নং : ১৯১৫; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৩৪০৩)

হেলান দিয়ে না খাওয়া
কোনো কিছুর ওপর হেলান দিয়ে খাবার খেতে তিনি নিষেধ করেছেন। হেলান দিয়ে খাবার খেলে পেট বড় হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দাম্ভিকতা প্রকাশ পায়। আবু হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-এর দরবারে ছিলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে বলেন, আমি টেক লাগানো অবস্থায় কোনো কিছু ভক্ষণ করি না। (বুখারি, হাদিস নং: ৫১৯০, তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯৮৬)

খাবারের দোষ-ত্রুটি না ধরা
শত চেষ্টা সত্ত্বেও খাবারে দোষ-ত্রুটি থেকে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করা নিতান্ত বেমানান। রাসুল (সা.) কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) কখনো খাবারের দোষ-ত্রুটি ধরতেন না। তার পছন্দ হলে খেতেন, আর অপছন্দ হলে খেতেন না। (বুখারি, হাদিস নং : ৫১৯৮; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৩৩৮২)

খাবারে ফুঁ না দেওয়া
খাবার ও পানীয়তে ফুঁ দেওয়ার কারণে অনেক ধরনের রোগ হতে পারে। রাসুল (সা.) খাবারে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) কখনো খাবারে ফুঁ দিতেন না। কোনো কিছু পান করার সময়ও তিনি ফুঁ দিতেন না। (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৩৪১৩)

খাবারের শেষে দোয়া পড়া
আল্লাহ তাআলা খাবারের মাধ্যমে আমাদের প্রতি অনেক বড় দয়া ও অনুগ্রহ করেন। এ দয়ার কৃতজ্ঞতা আদায় করা সভ্যতা ও শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত। খাবার গ্রহণ শেষে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করা অপরিহার্য।

খাবার শেষে রাসুল (সা.) আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাতেন ও দোয়া পড়তেন। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) খাবার শেষ করে বলতেন, ‘আলহামদুলিল্লাহি হামদান কাসিরান ত্বয়্যিবান মুবারাকান ফিহি, গায়রা মাকফিইন, ওলা মুয়াদ্দায়িন ওলা মুসতাগনা আনহু রাব্বানা।’ তিনি কখনো এই দোয়া পড়তেন: ‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আতআমানা ওয়াছাকানা ওয়াজাআলানা মিনাল মুসলিমিন।’ (বুখারি, হাদিস নং : ৫৪৫৮)

রাসুল (সা.)-এর সুন্নতগুলো জীবনে বাস্তবায়ন সম্ভব হলে, জীবন সুন্দর ও সার্থক হবে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

বঙ্গবন্ধুর নামে ‘বনবন্ধুর’ মহাপ্রতারণা!

নিজের দেওয়া বনবন্ধু উপাধি যোগ করে নিজেকে পরিচয় দিতেন ‘বনবন্ধু’ জাহিদুর রহমান ইকবাল নামে। নিজের ব্যবহৃত গাড়ির চারপাশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাণী সম্বলিত ছবি।

মুজিববর্ষ উদযাপনের সুযোগ নিয়ে পেতেছেন মহাপ্রতারণার ফাঁদ।মুজিববর্ষের লোগো, প্রধানমন্ত্রীর বাণী ব্যবহার করে প্রায় ৪০ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে অনুদান চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। মুজিবর্ষে গাছ লাগানোর কথা বলে অভিনব পন্থায় বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন এ মহাপ্রতারক।

এর বাইরে নিজেকে একাধিক ভুয়া প্রতিষ্ঠানের প্রধান পরিচয় দিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন তিনি। ব্যাংক লোন পাইয়ে দেওয়া, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদনসহ নানা ধরনের কনসালটেন্সির নামে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।

অবশেষে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের শাহআলী ভবনে নিজের কথিত অফিস থেকে জাহিদুর রহমানকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। এরপর বেরিয়ে আসতে থাকে তার অভিনব পন্থায় নানা প্রতারণার তথ্য।

গ্রেফতারের সময় কাছ থেকে ২৭০টি সীল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডকুমেন্টস প্রসেসিং ফাইল ১৮৪টি, মুজিববর্ষের লােগো ব্যবহার করা ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী সম্বলিত চিঠি ৫০০টি, সিপিইউ দু’টি, প্রিন্টার দু’টি, স্ক্যানার একটি, মনিটর দু’টি, ল্যাপটপ একটি, মােবাইল দু’টি ও একটি টয়োটা করোলা গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদসম্মেলনে এ কথা বলেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুণ-অর-রশীদ।ডিসি হারুণ-অর-রশীদ বলেন, গত ৩০ বছর ধরে কারওয়ান বাজার এলাকায় গ্রেফতার জাহিদুর রহমান ইকবাল ওরফে বনবন্ধু জাহিদুর রহমান ইকবাল প্রতারণা করে আসছে। মুজিববর্ষের লোগো ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী ব্যবহার করে চলছিলো তার বর্তমানে মূল প্রতারণা। সে প্রায় ৪০ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি দিয়েছে। এর মাধমে তিনি ওই সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারক বনবন্ধু জাহিদুর মুজিববর্ষে বিভিন্ন জায়গায় গাছ লাগাবে বলেও অনেকের কাছ থেকে টাকা নিতেন।

জহিদুর রহমানের নানা প্রতারণার বর্ণনায় ডিসি বলেন, জাহিদুর রহমান প্রতারণামূলকভাবে অর্থ আত্মসাৎ করতেন। অবৈধভাবে সীল তৈরি ও সংরক্ষণ করে প্রতারণার উদ্দেশ্যে মুজিববর্ষের লোগো ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির কাছে প্রায় ৪০ হাজার চিঠি পাঠিয়েছে।

কনসালটেন্ট গ্রুপ লিমিটেড, এসএম ই কনসালটেন্ট লিমিটেড, ইইএফ কনসালটেন্ট লিমিটেড নামে তিনটি অবৈধ কোম্পানির চেয়ারম্যান এবং সিইও হিসেবে নিজেকে দাবি করেন। কিন্তু তিনি কোম্পানিগুলোর কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন লোন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কনসালটেন্সির নামে অর্থ আত্মসাৎ করতেন এ প্রতারক।

জাহিদুর রহমান ব্যক্তিগত গাড়িতে জাতির জনকের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড করতেন। যা জাতির জনকের ছবির অবমাননার শামিল। এছাড়া এনবিআর, আয়করের ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ব্যাংক থেকে লোন প্রসেসিং, বাংলাদেশ ট্রি প্ল্যান্টেশন ফাউন্ডেশন নামে নামসর্বস্ব্য অবৈধ প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে বৃক্ষরোপণের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিপর্যায় থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন।

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, তার বিরুদ্ধে আমরা হাজার হাজার অভিযোগ পেয়েছি। আমরা যখন তার কাছে গেলাম সে তখন বলে, আপনাদের যে পুলিশ ব্যাংক সেটা তো আমার কনসালটেন্সি ফার্ম করে দিয়েছে, তাও নাকি বিনা পয়সায় করে দিয়েছে। সে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের সিইও ও চেয়ারম্যান পরিচয় দিলেও তার পড়াশোনার কোনো সার্টিফিকেট নেই।

আমরা তাকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করবো। রিমান্ডে নিলে বোঝা যাবে সে কত লোকের কাছ থেকে কি পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

কি পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে ডিসি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত পাঁচশ লোকের মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করছি। তবে রিমান্ডে না নেওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না সে কত টাকা হাতিয়েছে। শুনেছি ২০০৭ সালে একবার সতন্ত্র পদে মেয়র নির্বাচন করে জামানত হারিয়েছিলেন। এছাড়া অনেক ভুক্তভোগী আমাদের কাছে আসছেন। তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি-না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রতারক ‘বনবন্ধু’ জাহিদুর রহমান ইকবালের অবৈধ প্রতিষ্ঠান কনসালটেন্ট গ্রুপ লিমিটেড, এসএমই কনসালটেন্ট লিমিটেড ও ইইএফ কনসালটেন্ট লিমিটেডের ব্যানারে ফিনান্সিয়াল কনসালটেন্স, কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন, সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন, ট্রাস্ট রেজিস্ট্রেশন, ফাউন্ডেশন রেজিস্ট্রেশন, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার ডকুমেন্টস প্রসেসিং, ব্যাংক বিমা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডকুমেন্টস প্রসেসেসিং, টিন ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন, ফায়ার লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স ডকুমেন্টস প্রসেসিং ইত্যাদির নামে অসংখ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেছে।

ক্যামিও চরিত্রে দীপিকা

পরিচালক রোহিত শেঠি জোরকদমে শুটিং করছেন তার নতুন চলচ্চিত্র ‘সার্কাস’-এর। ‘কমেডি অব এররস’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে রোহিত শেঠি বানাচ্ছেন এই চলচ্চিত্র। দমফাটা হাসির গল্প। এতে অভিনয় করছেন রণবীর সিং, বরুণ শর্মা, জ্যাকুলিন ফার্নান্দেজ এবং পূজা হেগড়ে। এখন শোনা যাচ্ছে সার্কাসের একটি ‘ক্যামিও’ চরিত্রে অভিনয় করছেন দীপিকা পাড়ুকোন। একটি নাচের দৃশ্যে তাকে দেখা যাবে। তবে এই চলচ্চিত্রে দীপিকা কোনোভাবেই ‘আইটেম গার্ল’ নয়। নাচের দৃশ্য ছাড়াও টুকরো টুকরো কয়েকটি দৃশ্যেও তাকে দেখা যাবে। শোনা যাচ্ছে এরই মধ্যে তিনদিন শুটিংও করে ফেলেছেন দীপিকা।বিয়ের পর এ নিয়ে দ্বিতীয় চলচ্চিত্রে একসঙ্গে অভিনয় করলেন দীপিকা-রণবীর। এর আগে কপিল দেবের বায়োপিক ‘৮৩’-তে একসঙ্গে অভিনয় করেছেন স্বামী-স্ত্রী। অবশ্য ‘৮৩’-তেও ‘ক্যামিও’ করেছেন দীপিকা। এই মুহূর্তে দীপিকা পাড়ুকোন শাহরুখ খান ও জন আব্রাহামের সঙ্গে ‘পাঠান’-এর শুটিং করছেন। পাঠানের শুটিংয়ের মধ্যেই তিনি ‘সার্কাস’-এর শুট করলেন। পরিচালক শকুন বাত্রার পরের ছবির শুটিংও দীপিকা শেষ করে ফেলেছেন। এই চলচ্চিত্রের প্রযোজক করণ জোহর। মুম্বাইতে এখন সার্কাসের শুটিং চলছে। শেষ হবে পরের মাসে। ‘কমেডি অব এররস’ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গুলজারও ছবি বানিয়েছিলেন ‘আঙুর’। তবে সার্কাসের রিলিজ নিয়ে এখনো কিছু ভাবেননি রোহিত শেঠি। মুক্তির অপেক্ষায় আছে এ অভিনেত্রীর ‘ফাইটার’।

আজ থেকে ঠিক ১৪ বছর আগে শাহরুখ খানের ওপর ভর করে ‘ওম শান্তি ওম’ সিনেমার মধ্য দিয়ে বলিউডে পথচলা শুরু করেন দীপিকার। বলা যায়, এ মুহূর্তে বলিউডের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক নেওয়া তারকা দীপিকা (তারপরই রয়েছেন আলিয়া ভাট)। বলিউডের বাণিজ্য বিশ্লেষকদের মতে, বলিউডের নারী তারকাদের মধ্যে দীপিকা সবচেয়ে বেশি ‘ব্যাংকেবল’।

দীপিকার এই সাফল্যমণ্ডিত ক্যারিয়ার এখন যতটা সহজ মনে হয়, ততটা সহজ কিন্তু নয়। তিন বছর আগে যেমন তাকে ‘পদ্মাবত’ ছবির জন্য প্রাণনাশের হুমকি, গলা-নাক কাটার হুমকি সহ্য করতে হয়েছে। এ ছাড়া প্রেম-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিতর্ক তো দীপিকার নিত্যসঙ্গীই বলা যায়। দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ার সময় বলিউডে আত্মপ্রকাশ করার কারণে পড়াশোনায় আর এগোতে পারেননি। রান্নাবান্নায় বেশ ঝোঁক আছে দীপিকার। তিনি পাকা রাঁধুনিও।দীপিকা নিজের ক্যারিয়ারের প্রতি যেমন যত্নশীল, সমাজের প্রতিও তেমনটাই। সুযোগ পেলেই বিভিন্ন দাতব্য সংস্থার জন্য নিজের উপার্জিত অর্থ দান করেন। বিয়ের আগে সাত বছর, বিয়ের পরে দুই বছর। বলা যায়, প্রেমের ক্রিজে ছক্কা হাঁকিয়ে চলেছেন দীপবীর।

তবে বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যু বলিউডের রুপালি দেয়ালের আস্তর মুছে দিয়েছিল। বলা হয়েছিল, বলিউড তারকাদের মাদক সেবন এখন ওপেন সিক্রেট। হাতেগোনা কয়েকজন তারকা ছাড়া বাকিরা কমবেশি সবাই নাকি মাদকে আসক্ত। অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাউত জোর গলায় বলেছেন বলিউডের মাদক সেবন নিয়ে। সেই তালিকায় উঠে এসেছিল দীপিকা পাড়ুকোনের নাম।

পরে ভারতের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ ব্যুরো (এনসিবি) কর্তৃক দীপিকাকে জিজ্ঞাসাবাদের সূত্র ধরে ভক্তদের কটাক্ষ, গণমাধ্যমে নানা সমালোচনা হয় এই অভিনেত্রীকে নিয়ে। সবমিলিয়ে রীতিমতো বেশ কোণঠাসা হয়ে পড়েছিলেন দীপিকা পাড়ুকোন। তবে সেসব এখন পুরনো। সম্প্রতি সব ঝেড়ে ফেলে আবার ছন্দে ফিরছেন দীপিকা।