All posts by lutfor

জ্বলন্ত সিগারেট হাতে ভাইরাল পরীমনি

চিত্রনায়িকা পরীমণিকে নিয়ে আলোচনা থামছেই না। একের পর এক আলোচনা থ্যেকে সমালোচনার জন্ম দিচ্ছেন তিনি। এবার হাতে জ্বলন্ত সিগারেট নিয়ে ছবি পোস্ট করেছেন যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মাদক মামলায় মাস খানেক হাজতে থাকার পর পরীমণি যখন জামিনে মুক্ত হয় তখন জেল গেটে এসেই বার্তা দেন ‘ডোন্ড লাভ মি বিচ’।

এরপর আবার আলোচনায় আসেন বুধবার, এদিন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সত্যব্রত শিকদারের আদালতে হাজির হন তিনি। এ সময় গাড়িতে থেকেই তিনি হাত উঁচিয়ে ভক্তদের অভিবাদন জানান। তখনই তার হাতের তালুতে লেখা একটি বার্তা নজরে আসে সবার। যেখানে তিনি লিখেছেন ‘…ক মি মোর’।

এই নিয়ে তোলপাড় শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। আলোচনা-সমালোচনার কেন্দ্রে পরীমনিকে এনেছে এই বার্তা। কেন লিখেছেন, কী অর্থ- এসব নিয়ে মেতেছেন নেটিজেনরা। পরীমনি বলেন, “আমার কষ্ট লাগছে এখন। অনেকেই আমার বার্তাটি ঠিক বুঝতে পারছেন না, ভুল বুঝছেন। সবাই ভাবছেন আমি লিখেছি ‘লাভ মি মোর’। আসলে তো আমি লিখেছি ‘…ক (গালি) মি মোর’।”

কার উদ্দেশে এটি বলেছেন? জবাবে পরীমনি বলেন, যারা আমার জীবন নিয়ে খেলতে চায় বা ঘাঁটাতে আসে, তাদের সবাইকে আমি ওয়েলকাম করছি। আসো। ওয়েলকাম। আমি প্রস্তুত তোমাদের সঙ্গে এই খেলায় অংশ নিতে। দম যত দিন আছে, আমি শেষ অবধি এই খেলায় লড়ে যাব।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় ফেসবুকে আবার উত্তাপ ছড়ালেন ঢাকাই ছবির এ নায়িকা। ফেসবুকে দুটি ছবি প্রকাশ করেছেন তিনি। তার একটি ছবিতে হাতে রয়েছে জলন্ত সিগারেট। ক্যাপশনে লেখা- ‘সিগারেট ইন্জুরিয়াস টু হেল্থ’।

এর আগে গত ১ সেপ্টেম্বর কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন পরীমনি। তখনো তিনি হাতের তালুতে মেহেদি দিয়ে একটি বার্তা লিখেছিলেন। সেটি ছিল ‘ডোন্ট লাভ মি বিচ।’ ওই বার্তা নিয়েও ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা হয়েছিল।

গত ৪ আগস্ট ‘সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে’ অভিযান চালিয়ে পরীমনিকে তার বনানীর বাসা থেকে আটক করে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। ওই দিনই রাত ৮টা ১০ মিনিটে পরীমনিকে একটি সাদা মাইক্রোবাসে র‍্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাত ১২টা পর্যন্ত তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে র‍্যাব। পরদিন ৫ আগস্ট বিকেল ৫টা ১২ মিনিটে পরীমনি, চলচ্চিত্র প্রযোজক রাজ ও তাদের দুই সহযোগীকে কালো একটি মাইক্রোবাসে বনানী থানার উদ্দেশে নিয়ে যাওয়া হয়।

এরপর র‍্যাব বাদী হয়ে রাজধানীর বনানী থানায় পরীমনি ও তার সহযোগী দীপুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে। এরপর তাকে আদালতে হাজির করলে প্রথমে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরে আরো দুই দফায় তিন দিনের রিমান্ডে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

মামলা সূত্রে জানা যায়, পরীমনি ২০১৬ সাল থেকে মাদকসেবন করতেন। এমনকি এলএসডি ও আইসও সেবন করতেন তিনি। এ জন্য বাসায় একটি ‘মিনিবার’ তৈরি করেন। বাসায় নিয়মিত ‘মদের পার্টি’ করতেন। চলচ্চিত্র প্রযোজক নজরুল ইসলাম রাজসহ আরো অনেকে তার বাসায় অ্যালকোহলসহ বিভিন্ন ধরনের মাদকের সরবরাহ করতেন ও পার্টিতে অংশ নিতেন। ২০১৪ সালে সিনেমায় ক্যারিয়ার শুরু করা পরীমনি এ পর্যন্ত ৩০টি সিনেমা ও বেশ কয়েকটি টিভিসিতে অভিনয় করেছেন। পিরোজপুরের মেয়ে পরীমনিকে চলচ্চিত্র জগতে নিয়ে আসেন প্রযোজক রাজ।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে দারুচিনি

দারুচিনি লরেল পরিবারের একটি চিরসবুজ উদ্ভিদ। কাঠের ছাল শুকানোর প্রক্রিয়াতে প্রাপ্ত মশালাকে বোঝাতে একই শব্দ ব্যবহৃত হয়। দারুচিনি গরম মশলার অপরিহার্য পদ। খাবারের সুগন্ধ বাড়াতেও এর জুড়ি মেলা ভার। প্রাচীনকালে বহু ভাইরাস ধ্বংস করে দেওয়ার নজির দেখিয়েছে দারুচিনি। তাই সুগন্ধি এই পদকে শুধু খাবারে ব্যবহার করলেই চলবে না। গবেষকরা বলছেন, করোনার কালবেলাতেও প্রতিষেধক হিসেবে কাজে আসতে পারে দারুচিনি।

সাধারণত দুই ধরনের দারুচিনি পাওয়া যায়। সেইলন দারুচিনি ও চাইনিজ বা ক্যাশিয়া দারুচিনি। সেইলন দারুচিনি চাইনিজ দারুচিনির থেকে অনেক বেশি কার্যকরী। নাম শুনেই বোঝা যায়, সেইলন দারুচিনি শ্রীলঙ্কায় উদ্ভব, আর মূলত দক্ষিণ–পূর্ব এশিয়া অঞ্চলেই পাওয়া যায়।

১ চামচ দারুচিনিতে সাধারণত যা যা পুষ্টিকর উপাদান থাকে সে গুলো হলো- ক্যালরি – ৬.৪২, কার্বোহাইড্রেট – ২.১ গ্রাম, ক্যালসিয়াম – ২৬.১ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম – ১.৫৬ মিলিগ্রাম, ফসফরাস – ১১.২ মিলিগ্রাম, পটাশিয়াম – ১১.২ মিলিগ্রাম।

বিভিন্ন ওষুধসম্বন্ধীয় বৈশিষ্ট্যের জন্যেও দারচিনি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ‘সিনামালডিহাইড’ খাবারের গন্ধ ছাড়াও বিভিন্ন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ক্ষেত্রে কার্যকরী হয়ে ওঠে। ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে দারুচিনি। এছাড়াও অ্যান্টি–অক্সিডেন্ট হিসেবেও দারুচিনি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। রক্তের গ্লুকোজ হ্রাস করতে পারে দারুচিনি। এ কারণেই এটি ডায়াবেটিসের চিকিত্সায় ব্যবহৃত হয়।

ডায়াবেটিস হলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। ফলে অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়। এজন্য ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

শুধুমাত্র ডায়াবেটিস রোগ নয়, বিভিন্ন পেটের সমস্যার ক্ষেত্রেও দারুচিনি গুরুত্বপূর্ণ। ডায়রিয়ার মোকাবিলা করার জন্যেও দারুচিনি নিয়মিত ব্যবহার করা হয়। আয়ুর্বেদে, দারুচিনির ছাল অনেক সময়ে দাঁতের যন্ত্রণায় বা জয়েন্টের ব্যথার ক্ষেত্রে কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।

দারুচিনি শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। আমাদের শারীরিক প্রতিরক্ষার জন্য প্রদাহ গুরুত্বপূর্ণ হলেও প্রয়োজনাতিরিক্ত প্রদাহে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। আর সেটার পরিমাণই মূলত কমিয়ে দিতে পারে দারুচিনি। এই দারুচিনির মধ্যেই রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট পলিফেনল ও প্রোঅ্যান্থোসায়ানাইডিন, যা কোনও ব্যক্তির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পারে। এছাড়াও দারুচিনি মেদ ঝরাতেও কাজে আসে। শ্বাসতন্ত্রের রোগ এবং হার্টের রোগ নির্মূল করতেও খুবই সহায়ক দারুচিনি। দারুচিনির অ্যান্টিভাইরাল, অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিফাঙ্গাল প্রপার্টি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমাতে পারে।

আয়ুর্বেদিক ওষুধপত্র বা চিকিৎসার ক্ষেত্রে দারুচিনি বহুকাল ধরেই রক্তে বাড়তি শর্করার মাত্রা কমানোর জন্য ব্যবহৃত হয়ে এসেছে। সম্প্রতিকালে দেখা গিয়েছে যে ৪০ দিন ধরে প্রতিদিন ৬ গ্রাম দারুচিনি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কম থাকতে পারে। এর সঙ্গে রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমানোর ক্ষেত্রেও দারুচিনি অত্যন্ত কার্যকর।

বেশি মাত্রায় দারুচিনি সেবন লিভারের ক্ষতি করতে পারে। কেউ যদি রক্ত তরল করার ওষুধ নিয়মিত খায়, বা কাউকে যদি ডায়াবেটিস মোকাবিলা করার জন্য নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়, তাহলে তাদের জন্য বেশি মাত্রায় দারুচিনি না খাওয়াই শ্রেয়। বাজারে দারুচিনির নামে অনেক ধরনের গাছের ছাল দারুচিনি বলে বিক্রি হয়ে থাকে। কেনার আগে গন্ধ এবং একটু ভেঙে মুখে দিয়ে দেখুন ঝাঁজালো স্বাদ কি না।

৩০ হাজার টাকা দামের মাস্ক পরেন কারিনা!

ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়তে থাকায় ভক্ত ও অনুরাগীদের গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিয়েছেন বলিউড তারকা কারিনা কাপুর। বেবো। সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় কোভিড সচেতনতামূলক একটি পোস্ট দেন বেবো। সেখানে তাকে লুইস ভুটন ব্র্যান্ডের মাস্ক পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডেলে নিজের মাস্ক পরা সেই ছবি শেয়ার করে ক্যাপশন লিখেছেন, প্রচারের জন্য নয়, মাস্ক পরুন। ছবিতে দেখা যাচ্ছে, কারিনা কালো টি-শার্ট পরা। তার মুখে লুইস ভুটনের মাস্ক। তবে মাস্কটির দাম শুনলে আপনি চমকে উঠবেন। মাস্কটির মূল্য ৩৫৫ মার্কিন ডলার, বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ৩০ হাজার টাকার বেশি।লুইস ভুটনের ওয়েবসাইট থেকে জানা গেছে, মাস্কটি ধুয়ে ব্যবহার করা যায়। শুধু কারিনা নন, বলিউডের রণবীর কাপুর ও দীপিকা পাড়ুকোনকেও একই মাস্ক পরতে দেখা গেছে।

শীতলক্ষ্যায় ত্রুটিপূর্ণ সেতুর কারণে আরও লঞ্চ দুর্ঘটনার আশঙ্কা

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর থাকা ‘ত্রুটিপূর্ণ সেতু’র কারণে আরও লঞ্চ দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।বুধবার (৭ এপ্রিল) সচিবালয়ে নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২১-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মুজিববর্ষের শপথ,নিরাপদ রবে নৌপথ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বুধবার থেকে শুরু হয়েছে নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২১।৭-১৩ এপ্রিল দেশে নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২১ পালিত হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে উপস্থিত থেকে ‘নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ-২০২১’র উদ্বোধন করেন।অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থার সভাপতি মাহবুব উদ্দিন বলেন, আমরা দেখেছি, নদী যেখানে সরু, সেখানেই দুর্ঘটনা ঘটেছে। যে ব্রিজটি সেখানে রয়েছে, সেটি বিজ্ঞানসম্মতভাবে স্থাপন করা হয়নি বলে আমি মনে করি। সেতুর পিলারগুলো চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে। সেই কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এই দুর্ঘটনাটি এড়ানো যেত যদি মাস্টার সরু চ্যানেলের কথা চিন্তা করে আগে থেকেই জাহাজের গতি নিয়ন্ত্রণ করতেন।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় মালবাহী জাহাজের ধাক্কায় লঞ্চ ‘সাবিত আল হাসান’ ডুবে গেছে। আজকে দুর্ঘটনার বিষয়ে মাহবুব উদ্দীন কিছুটা আভাস দিয়েছেন। তবে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। সে তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আমাদের বক্তব্য দিব।’

তিনি বলেন, মাহবুব উদ্দিন বলেছেন- আমার কাছেও মনে হয়েছে, আমি ছবিটি দেখেছি। এর আগে ভিডিও ক্লিপ দেখেছি। কালকে যে সেতুর ছবিটি দেখেছি, আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত নৌ-রুট এটা। নদী এমনিই ছোট হয়ে আসছে বিভিন্ন কারণে। সেখানে আরও বেশি ছোট করে দেয়ার ক্ষেত্রে সেতুর পিলার দুটি স্থাপন করা হয়েছে। আমরা সার্বক্ষণিক বিভিন্ন পর্যায়ের মানুষের সঙ্গে কথা বলেছি

প্রতিমন্ত্রী বলেন, মাহবুব সাহেব বলেছেন, পিলারটা দৃষ্টি সীমানার একটা বাঁধা হয়ে থাকতে পারে, এটা আমি জানি না। তদন্তে বেরিয়ে আসবে।তিনি বলেন, আমার আশঙ্কা ভবিষ্যতে এখানে আরও দুর্ঘটনার মুখোমুখি হওয়া লাগতে পারে শুধু এই নকশার কারণে। আমরা এ বিষয়ে সেতু বিভাগের সঙ্গে কথা বলব-এটার বিকল্প কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায় কি-না।

নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী বলেন, সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও আগের চেয়ে নৌপথ এখন অনেক বেশি নিরাপদ এবং পরিবেশ বান্ধব। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায়, বিশেষ করে নৌযান মালিক ও শ্রমিকদের সর্বাত্মক সহযোগিতা, বিআইডাব্লিউটিএ, নৌপরিবহন অধিদপ্তর, নৌ পুলিশ ও কোস্টগার্ড কর্মকর্তাদের পদক্ষেপ এবং জনসাধারণের সচেতনতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ফলে যাত্রীবাহী নৌযানের দুর্ঘটনা অনেক কমে এসেছে।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার নৌ সেক্টরের উন্নয়নের লক্ষ্যে নৌপথের সংরক্ষণ ও নৌপরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নে বেশ কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। দেশের সকল নদীকে দখলমুক্ত করা এবং নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল নিরাপত্তা, নির্বিঘ্ন ও নিরবিচ্ছিন্ন করাসহ যাত্রীসেবার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন নৌপরিবহন অধিদপ্তর প্রতিবছরের ন্যায় এ বছরও নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করছে।

৬৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপনে নীতিগত অনুমোদন

 তৃতীয় সাবমেরিন ক্যাবলে যুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। এ লক্ষ্যে সবমেরিন ক্যাবল স্থাপনে সংশ্লিষ্ট অংশের ক্রয় কাজের জন্য রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে ৬৯৩ কোটি টাকা ব্যয়ে এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৬ ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (৭ এপ্রিল) অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ভার্চুয়াল বৈঠকে এ প্রস্তাবের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়। বৈঠকে কমিটির সদস্য, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিনিয়র সচিব, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা যুক্ত ছিলেন।

বৈঠক শেষে অনুমোদিত প্রস্তাবগুলো বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. শাহিদা আক্তার। তিনি বলেন, আজকের বৈঠকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের অধীন বাংলাদেশ সাবমেরিন ক্যাবল কোম্পানি লিমিটেড কর্তৃক তৃতীয় সবামেরিন ক্যাবল স্থাপন সংশ্লিষ্ট অংশের ক্রয় কাজ রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে জনস্বার্থে এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৬ কনসোর্টিয়ামের নিজস্ব ক্রয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী ক্রয়ের নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে।

প্রকল্পের মূল কাজ এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৬ কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে নতুন একটি সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন। অন্যান্য কনসোর্টিয়াম ক্যাবলের মতো এসএমডব্লিউ-৬ সাবমেরিন ক্যাবলে প্রধানত দু’টি অংশ রয়েছে। কোর অংশ ও ব্রাঞ্চ অংশ।

কোর অংশ হবে সিঙ্গাপুর থেকে জিবুতি, মিশর হয়ে ফ্রান্স পর্যন্ত বিস্তৃত মূল ক্যাবল এবং ব্রাঞ্চ অংশ (বাংলাদেশ ব্রাঞ্চ) হবে কক্সবাজারের সঙ্গে মূল কোর ক্যাবলের সংযোগস্থল (ব্রাঞ্চিং ইউনিট) পর্যন্ত প্রায় এক হাজার ৮৫০ কিলোমিটার। প্রকল্পের মোট প্রাক্কলন ব্যয় ৬৯৩ কোটি ১৭ লাখ টাকা। এরমধ্যে জিওবি ৩৯২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা এবং বিএসসিসিএল এর নিজস্ব অর্থায়ন তিনশ’ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। অনুমোদিত ডিপিপি-এর ক্রয় পরিকল্পনায় পণ্য সংগ্রহের জন্য চারটি ও পূর্ত কাজের জন্য দু’টি প্যাকেজ রয়েছে। পণ্য সংগ্রহের একটি প্যাকেজ সাবমেরিন ক্যাবল ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম এর ক্ষেত্রে ক্রয় আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে বাস্তবায়িত হচ্ছে।

অনুমোদিত ডিপিপি অনুযায়ী, যার প্রাক্কলিত ব্যয় ৬৫৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা। বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশের সমন্বয়ে গঠিত একটি আন্তর্জাতিক কনসোর্টিয়ামের মাধ্যমে এসডব্লিউ-৬ ক্যাবলটি স্থাপনের কার্যক্রম বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়ায় প্রকল্পের সাবমেরিন ক্যাবল স্থাপন অংশের ক্রয় প্রক্রিয়া স্বাভাবিকভাবে কনসোর্টিয়ামের নিজস্ব ক্রয় পদ্ধতিতেই হবে। সে অনুযায়ী এসইএ-এমই-ডব্লিউই-৬ সাবমেরিন ক্যাবল প্রকল্পের ঠিকাদার নিয়োগের ক্ষেত্রে কনসোর্টিয়ামের সব সদস্যের মতামতের ভিত্তিতে পর্যাপ্ত তথ্য সংগ্রহ করে দরপত্র আহ্বান করা হয়।

জানা গেছে, দরপত্রে চারটি কোম্পানি অংশ নেয়। এক্ষেত্রে কনসোর্টিয়াম নির্ধারিত ক্রয় প্রক্রিয়া অনুযায়ী আর্থিক ও কারিগরি দিক যাচাই-বাছাই করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করে কনসোর্টিয়ামের সঙ্গে নির্বাচিত ঠিকাদারের চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে এবং কনসোর্টিয়ামের সদস্যদের মধ্যে কন্সট্রাকশন এবং মেইনটেইন্যান্স চুক্তি স্বাক্ষর হবে।দেশে বিদ্যমান দু’টি সাবমেরিন ক্যাবলের পূর্বমুখী পূর্ণ ক্ষমতা ২০২২ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে এবং এই পরিস্থিতিতে দেশকে তৃতীয় একটি সাবমেরিন ক্যাবলে সংযুক্ত করা না হলে সাবমেরিন ক্যাবলের পূর্বমুখী (সিঙ্গাপুরমুখী) ব্যান্ডউইথের সংকটের কারণে দেশে ইন্টারনেট সেবার ক্ষেত্রে বিপর্যয় পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আশংকা রয়েছে।

ব্রিটেনে শিশুদের ওপর অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনের ট্রায়াল স্থগিত

যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকার সঙ্গে তারা করোনাভাইরাসের যে ভ্যাকসিন উৎপাদন করেছে, শিশু ও কিশোরদের ওপর সেটির ট্রায়াল স্থগিত করা হয়েছে। এই ভ্যাকসিন নিয়ে প্রাপ্তবয়স্কদের রক্ত জমাট বাঁধার ঘটনা ঘটার পর এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়টি। এ বিষয়ে আরও তথ্যের জন্য অপেক্ষা করছে তারা। খবর রয়টার্সের।

ট্রায়াল স্থগিতের ঘটনা ভ্যাকসিনটির প্রতি সর্বশেষ নেতিবাচক পদক্ষেপ। মহামারির প্রথম দিকে অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন নিয়ে বেশ প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল। কিন্তু বিভিন্ন দেশে এর প্রয়োগ শুরু হওয়ার পর ইউরোপের বেশ কিছু দেশ থেকে খবর আসতে থাকে, ভ্যাকসিনটি নিয়ে কিছু মানুষের রক্ত জমাট বেঁধে যাচ্ছে এমনকি কয়েকজন মারাও গেছেন।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, শিশুদের ওপর ভ্যাকসিনের ট্রায়াল নিয়ে নিরাপত্তাজনিত কোনো শঙ্কা নেই। তারা যুক্তরাজ্যের ওষুধ পর্যবেক্ষক সংস্থার পরামর্শের জন্য অপেক্ষা করছে।গত ফেব্রুয়ারিয়তে অক্সফোর্ড জানায়, গবেষণার অংশ হিসেবে তারা যুক্তরাজ্য থেকে ৬ থেকে ১৭ বছর বয়সী তিনশ স্বেচ্ছাসেবীর ওপর ভ্যাকসিনের ট্রায়াল পরিচালনার পরিকল্পনা করছে।
অ্যাস্ট্রাজেনেকার শট নিয়ে রক্ত জমাট বাঁধার প্রতিবেদন বর্তমানে যাচাই করে দেখছে ইউরোপীয় ওষুধ সংস্থা (ইএমএ)। এই রোগটির নাম সেরেব্রাল ভিনাস সাইনাস থ্রম্বোসিস (সিভিএসটি) এবং যাচাই শেষে মতামত বুধ বা বৃহস্পতিবার জানাতে পারবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

ইএমএ’র এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিনের সঙ্গে রক্ত জমাট বাঁধার পরিষ্কার সংযোগ রয়েছে। তবে রক্ত জমাট বাঁধার প্রকৃত কারণ কী তা এখনও অজানা।অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতো বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও অ্যাস্ট্রাজেনেকার ভ্যাকসিন সম্পর্কিত তথ্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে দেখছে। মঙ্গলবার সংস্থাটি জানায়, তারা প্রত্যাশা করে যে ভ্যাকসিনটির উপকারিতা সম্পর্কে তাদের যে ধারণা তা পরিবর্তন হওয়ার মতো কিছু ঘটবে না।

অতিরিক্ত চাল-গম কেনা হবে না : অর্থমন্ত্রী

 প্রয়োজনের অতিরিক্ত চাল ও গম কেনা হবে না বলে জানিয়েছে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, আমরা বেশি চাল কিনবো না, বেশি কিনলে আমাদের কৃষক সম্প্রদায় ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আবার গমও বাড়তি কিনব না যাতে আমাদের কনজিউমারদের সাফার করতে না হয়।

বুধবার (০৭ এপ্রিল) দুপুরে অর্থমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ভার্চ্যুয়ালি অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত ও সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান মন্ত্রী।

মুস্তফা কামাল বলেন, আজ অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১২তম এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ১৪তম সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য ২টি এবং ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য ৮টি প্রস্তাব উত্থাপন করা হয়।

তিনি বলেন, ক্রয় সংক্রান্ত কমিটিতে উপস্থাপিত প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ৪টি, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের ১টি, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ১টি, গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ১টি এবং সেতু বিভাগের ১টি প্রস্তাব ছিল। এরমধ্যে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের একটি ক্রয় প্রস্তাবের অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন গণপূর্ত অধিদপ্তরের অপর একটি প্রস্তাবে পুনঃদরপত্রের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত ৬টি প্রস্তাবে মোট অর্থের পরিমাণ এক হাজার ৫৬৬ কোটি ৭১ লাখ ৭৯ হাজার ১৬০ টাকা।

অর্থমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক মেসার্স পি কে অ্যাগ্রি লিংক প্রাইভেট লিমিটেডের কাছ থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল আমদানির একটি প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। প্রতি মেট্রিক টন চালের দাম পড়বে ৪১১ দশমিক ৯৩ মার্কিন ডলার। এতে মোট ব্যয় হবে ১৭৪ কোটি ৬৫ লাখ ৮৩ হাজার ২০০ টাকা।

অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর অনেক বেশি চাল আমদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে, সেই চাল ঠিকমতো দেশে ঢুকছে কিনা জানতে চাইলে অর্থমন্ত্রী বলেন, চাল আমাদানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে আমাদের যতটুকু প্রয়োজন সেই পরিমাণ। কিন্তু সেখান থেকে যখন কোনো সাপ্লাইয়ার তা সময়মতো দিতে পারে না তখন আমরা এটাকে পরিবর্তন করে আরেক জায়গায় চলে যাই।

মুস্তফা কামাল বলেন, আমাদের খাদ্য মন্ত্রণালয় কৃষি মন্ত্রণালয়কে সঙ্গে নিয়ে একদম ইন্টিগ্রিটেড ওয়েতে দেখে কী পরিমাণ চাল দরকার। এগুলো নির্ধারণ হয় আমাদের প্রয়োজন এবং আগামীর প্রয়োজন, পরবর্তী ফসল কখন আসবে, সেটিকে মাথায় রেখে আমাদের কাজটি করতে হয়।

অর্থনৈতিক বিষয়ক সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীন খাদ্য অধিদপ্তর কর্তৃক রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে জি টু জি পদ্ধতিতে ভারতের ন্যাশনাল ফেডারেশনের অব ফার্মাস প্রকিউরমেন্ট প্রসেসিং অ্যান্ড রিটেলিং কো- অপারেটিভ লিমিটেড ((এনএসিওএফ) থেকে এক লাখ মেট্রিক টন নন-বাসমতি সিদ্ধ চাল সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে (ডিপিএম) আমদানির নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

ভ্যাকসিন পাসপোর্ট চালু করবে না যুক্তরাষ্ট্র

 করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিনের বাধ্যতামূলক পাসপোর্ট চালু করা হবে না বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস। নাগরিকদের গোপনীয়তা ও অধিকার রক্ষা করা উচিত বলে মন্তব্য করেছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর বিবিসির।যুক্তরাষ্ট্র জানায়, এমন কোনো নিয়ম তারা চালু করেনি বা করবে না যার ফলে আমেরিকানদের একটি সার্টিফিকেট বহন করতে হবে।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, কোনো কেন্দ্রীয় ভ্যাকসিনেশন ডাটাবেজ অথবা কেন্দ্রীয়ভাবে প্রত্যেকের জন্য কোনো ভ্যাকসিন নথি বহনের বাধ্যবাধ্যকতা’ থাকবে না।

তিনি বলেন, সরকার এখন অথবা ভবিষ্যতে এমন কোনো নিয়ম সমর্থন করবে না যেখানে আমেরিকানদের একটি সার্টিফিকেট বহন করতে হবে। তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে আমাদের উদ্দেশ্য খুবই সাধারণ, আর তা হলো আমেরিকানদের গোপনীয়তা ও অধিকার রক্ষা করতে হবে, এজন্য অন্যাভাবে জনগণের ওপর এ ধরণের নিয়ম ব্যবহার করা হবে না।

মহামারির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য অনেক দেশই কথিত ভ্যাকসিন পাসপোর্ট চালুর চিন্তা করছে। তবে সমালোচকরা বলছেন, এ ধরণের কাজ বৈষম্যমূলক হবে।যুক্তরাজ্যে কনসার্ট বা খেলার ম্যাচে ‘কোভিড স্ট্যাটাস সার্টিফিকেশন’ নামে এক বিশেষ নিয়ম চালু করা হচ্ছে। এর আওয়তায় থাকবে কোনো ব্যক্তি ভ্যাকসিন নিয়েছেন কিনা, সম্প্রতি পরীক্ষায় করোনা নেগেটিভ ফলাফল এসেছে কিনা অথবা ইতোম্যধ্যেই করোনায় আক্রান্ত হয়ে সুস্থ হয়েছেন কিনা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নও ভ্যাকসিন সার্টিফিকেটের জন্য কাজ করছে। ইসরায়েলে ইতোমধ্যেই ‘সবুজ পাস’ চালু করা হয়েছে। কেউ দুই ডোজ ভ্যাকসিন নিয়ে থাকলে অথবা করোনা থেকে সুস্থ হয়ে থাকলে তাদেরকে হোটেল, জিম বা থিয়েটারে প্রবেশের সময় এই পাস দেখাতে হবে। এই পাস যাদের নেই তারা এসব জায়গায় প্রবেশ করতে পারবেন না।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মঙ্গলবার জানিয়েছে, ভ্যাকসিন নিলে সংক্রমণ কমে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ও বৈষম্যে তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকায় তারা এ মুহূর্তে ভ্যাকসিন পাসপোর্ট বাধ্যতামূলক করার বিষয়টি সমর্থন করছে না।

মসজিদে সভা-সমাবেশ নয়, স্বাস্থ্যবিধি মেনে তারাবি

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশের সব জুমা ও পাঁচ ওয়াক্তের নামাজ এবং অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থনার আগে ও পরে কতিপয় বিষয়ে নিরুৎসাহিত করতে শর্ত বেঁধে দিয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়। জুমা ও অন্যান্য ওয়াক্তের নামাজ এবং প্রার্থনার আগে এবং পরে মসজিদ ও উপাসনালয়ে কোনো প্রকার সভা-সমাবেশ করা যাবে না। মসজিদে সামাজিক দূরত্ব ও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে আসন্ন রমজানে তারাবির নামাজ আদায় করতে হবে।

এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গত ২৯ মার্চের প্রজ্ঞাপন ও ৪ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ থেকে জারি করা নির্দেশনা মেনে চলতে অনুরোধ জানানো হয়। বুধবার (৭ এপ্রিল) ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, উল্লিখিত নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী কর্তৃপক্ষ দায়িত্বশীলদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকারী বাহিনী, ইসলামিক ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং মসজিদ ও অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ের পরিচালনা কমিটিকে নির্দেশনা বাস্তবায়ন করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

সীমা ছাড়ালে পরিণতি হবে ভয়াবহ : কাদের

সন্ত্রাস, নৈরাজ্য সৃষ্টিকারী ও সাম্প্রদায়িক অপশক্তির উস্কানিদাতাদের তালিকা প্রস্তুত করে এদের রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করার নির্দেশ দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের তিনি বলেন, যারা দেশব্যাপী তাণ্ডব চালিয়েছে বা এখনও চালিয়ে যাচ্ছে, তাদের সতর্ক করছি। দেশের জনগণের ধৈর্য ও সহনশীলতার একটা সীমা আছে। সীমা অতিক্রম করলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ।

বুধবার (৭ এপ্রিল) নিজ বাসভবন থেকে ভিডিওবার্তায় আওয়ামী লীগসহ সকল সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের এই নির্দেশ দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।ওবায়দুল কাদের বলেন, হেফাজতে ইসলাম নামে একটি উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তি দেশের বিদ্যমান স্বস্তি এবং শান্তি বিনষ্টে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে অব্যাহত তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে, তা সহনশীলতার সব মাত্রা অতিক্রম করেছে। জনগণের জানমালের সুরক্ষা দিতে শেখ হাসিনা সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

ওবায়দুল কাদের বলেন, পঁচাত্তরে জাতির পিতাকে সপরিবারে হত্যার পর বাংলাদেশের মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হারানো গণতন্ত্রকে পুনরুদ্ধার করেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করছেন, বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের মধ্য দিয়ে জাতিকে কলংকমুক্ত এবং বাংলাদেশকে উন্নয়নশীল দেশের কাতারে দাঁড় করিয়েছেন। দেশের অর্থনীতিকে দাঁড় করিয়েছেন শক্তভিতের উপর।

তিনি আরও বলেন, সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছে বলেই প্রতিক্রিয়াশীল চক্রের ধ্বংসাত্মক রাজনীতির বিপরীতে আওয়ামী লীগ এখনও দায়িত্বশীল আচরণ করছে, সহনশীলতা দেখাচ্ছে।বাংলাদেশের মানুষ ধর্মপ্রাণ হলেও কোনো ধর্মান্ধতাকে সমর্থন দেয় না জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আগুন নিয়ে খেলবেন না। আগুন নিয়ে খেলতে গেলে সে আগুনে আপনাদের হাত পুড়ে যাবে।

দেশের বিভিন্ন জায়গায় সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় হামলা, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে, ভূমি অফিসে আগুন দিয়ে জমি-জমার গুরুত্বপূর্ণ দলিল, খতিয়ান, নামজারি রেকর্ড পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। যারা এসবের সঙ্গে জড়িত তাদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং কাউকে ছাড় দেয়া হবে না বলেও হুঁশিয়ার করে দেন ওবায়দুল কাদের।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আঘাত আসলে প্রতিঘাত করতে জানে এবং আক্রমণ করলে পাল্টা আক্রমণও করতে জানে।’কঠোর হুঁশিয়ার করে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে দেবেন না, মুক্তিযুদ্ধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং বঙ্গবন্ধুর অবমাননা জাতি আর সহ্য করবে না। বঙ্গবন্ধুর ছবি ও ভাস্কর্যের ওপর যারা হামলা করেছে, আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাদের এ ধৃষ্টতার জবাব দিবে।

ওবায়দুল কাদের সারা বাংলাদেশে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সকল দেশপ্রেমিক জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, আগুন সন্ত্রাস ও অশুভ শক্তিকে প্রতিহত ও পরাজিত করতে হবে।

ঢাকাসহ দেশের সবকটি সিটি করপোরেশনে জনস্বার্থে গণপরিবহন চালুর যে সিদ্ধান্ত সরকার নিয়েছে, সে ব্যাপারে কেউ কেউ বিরুপ মন্তব্য করছে যা অত্যন্ত দুঃখজনক উল্লেখ করে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, পরিবহন মালিক শ্রমিকদের কাছে নতি স্বীকার করে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে কেউ কেউ যে অভিযোগ করছেন, তা সঠিক নয়। জনগণের দাবির মুখে জনস্বার্থে দুর্ভোগ কমাতে সরকার এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ নিয়ে কোনো বিভ্রান্তির অবকাশ নেই।দু-একদিনের মধ্যে দূরপাল্লার বাস সার্ভিস চালুর ব্যাপারে কেউ কেউ অপপ্রচার চালাচ্ছে এবং বিভ্রান্তিকর মন্তব্য করেছেন যা মোটেও সত্য নয় বলেও স্পষ্ট জানিয়ে দেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।