All posts by lutfor

তরুণ অভিবাসীদের কঠিন অবস্থায় ফেলে দিলেন ট্রাম্প:বিবিসি

ক্সিকোর মার্কিন দূতাবাসের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভকারীরা।ক্সিকোর মার্কিন দূতাবাসের সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভকারীরা।
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময়ে করা অনিবন্ধিত তরুণ অভিবাসীদের সুরক্ষা সংক্রান্ত কর্মসূচি বাতিল করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
‘ডাকা’ বা ‘ড্রিমার’ নামে পরিচিত এই প্রকল্প বাতিল করার নির্বাচনী অঙ্গীকারও ছিল ট্রাম্পের।
অ্যাটর্নি জেনারেল জেফ সেশনস মঙ্গলবার এ প্রকল্পের অবসান ঘোষণা করেন। এর ফলে বারাক ওবামার সময়ে নেয়া ‘ডেফারড অ্যাকশান ফর চিলড্রেন অ্যারাইভাল’ বা ‘ডাকা’ নামের প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটলো।
ফলে দুই বছর ছাড়ের মেয়াদ শেষ হবার পর কাজ বা পড়ালেখার সুযোগ হারাবে অন্তত আট লাখ অভিবাসী তরুণ।
পাঁচ বছর আগে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ওবামার চালু করা এই প্রকল্পের আওতায় সুরক্ষা পেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে আসা প্রায় আট লাখ অনিবন্ধিত তরুণ অভিবাসী। যাদের বেশিরভাগই এসেছিল ল্যাটিন আমেরিকার দেশগুলো থেকে।
আইনের ফাঁক গলে আসা তরুণদের বিতারণের হাত থেকে রেহাই দিয়ে সেদেশে বসবাস, পড়াশোনা ও ভবিষ্যত কর্মসংস্থানের সুযোগ করে দিয়েছিলো ওবামা প্রশাসন। এরাই ‘ড্রিমার’ নামে পরিচিত।
অবশ্য সমালোচকরা এই প্রকল্পকে অবৈধ অভিবাসীদের ক্ষমা করার নামান্তর বলে এসছেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আশা করেন যে, তার ভাষায় এসব তথাকথিত ড্রিমার-দের বিষয়ে একটির দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজে পাবে মার্কিন কংগ্রেস।
কংগ্রেস নেতাদের সাথে একটি বৈঠকে মিস্টার ট্রাম্প বলেছেন যে, ‘মানুষ তাদের শিশু মনে করলেও আসলে তারা যথেষ্টই বড়। তাদের জন্যে আমার ভালোবাসাও রয়েছে, আর আমি আশাবাদী যে কংগ্রেস তাদের যথাযথই সহায়তার ব্যবস্থা করতে পারবে।’
‘আমি কংগ্রেসের সদস্যদের সাথে কথা বলে এ নিয়ে সঠিক কাজটি করতেও বলেছি। আর সত্যিই আমাদের কোনো উপায় ছিল না। আমি মনে করি এখন এটি একটি দীর্ঘমেয়াদী সঠিক সমাধানের দিকেই যাচ্ছে।’
অবশ্য এ প্রকল্পের আওতায় থাকা তরুণদের আগামী ছয় মাস কোনো সমস্যা হচ্ছে না।
আর, ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তকে ‘নিষ্ঠুর’ এবং ‘ভুল’ বলে এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।
‘ডাকা’ প্রকল্প বাতিলের প্রতিবাদে বিক্ষোভ হয়েছে কয়েকটি শহরে। নিউইয়র্কের ট্রাম্প টাওয়ারের সামনে থেকে বেশ কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে আটক করে পুলিশ। তবে কোথাও কোনো সংঘর্ষের খবর পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে মেক্সিকো ও এল-সালভেদরের সরকার তাদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছে।
প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভকারীদের দেখা গেছে মেক্সিকোর মার্কিন দূতাবাসের সামনেও।

রোহিঙ্গাদের জন্য ১ হাজার টন সাহায্য পাঠাবেন এরদোয়ান

মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির চলমান সংকটকে কেন্দ্র করে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান রোহিঙ্গাদের জন্য এক হাজার টন মানবিক সাহায্য পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার দেশটির সবচেয়ে ক্ষমতাবান স্টেট কাউন্সিলর অং সান সুচি’র সঙ্গে ফোনে আলোচনার পর এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।

মানবিক সাহায্য ছাড়াও এ সংকট সমাধানের বিকল্প বিষয় নিয়েও আলোচনা করেছেন তিনি। মানবিক এ সাহায্যের মধ্যে রয়েছে খাদ্য, পোশাক এবং ওষুধ।

মিয়ানমার ইস্যু নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন তুর্কি প্রেসিডেন্ট। রোহিঙ্গা মুসলমানদের দুর্দশার কথা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে তুলে ধরবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
এরদোয়ান বলেন, মিয়ানমারের গণহত্যায় মানবিকতা আজ নীরব রয়েছে।

তিনি বলেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যে হত্যাযজ্ঞ চলছে তা আসছে ১৯ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে বিস্তারিত তুলে ধরব। সেখানে উপস্থিত বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে ইস্যুটি নিয়ে আলোচনা করব।

ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) বর্তমান প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান জানান, রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি এ পর্যন্ত বিশ্বের ২০টি দেশের নেতাদের সঙ্গে কথা বলেছেন।

তুর্কি রেড ক্রিসেন্ট এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা মুসলমানদের জন্য মানবিক সাহায্য পাঠানো অব্যাহত রাখবে বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রীর লেখা বই ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ তিন ভাষায় হচ্ছে

প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার লেখা ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ বইটি একইসঙ্গে তিনটি ভাষায় প্রকাশিত হচ্ছে।

ইংরেজি, হিন্দি ও জার্মান এই তিন ভাষায় বইটি প্রকাশের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে বলে বইটির প্রকাশক ও আগামী প্রকাশনের স্বত্তাধিকারী ওসমান গণি জানান। তিনি জানান, বইটির ইংরেজি সংস্করণ আগামী প্রকাশনী প্রকাশ করবে। হিন্দি সংস্করণ কলকাতার একটি প্রকাশনা সংস্থা এবং জার্মানের একটি প্রকাশনা সংস্থা জার্মানি ভাষায় বইটি প্রকাশ করবে। তিনি জানান, ইংরেজি সংস্করণ আগামী বইমেলায় প্রকাশ করা হবে। ইংরেজি অনুবাদের কাজ চলছে বলে তিনি জানান। হিন্দি ও জার্মান ভাষায় অনুবাদ কাজের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

শেখ হাসিনার ‘শেখ মুজিব আমার পিতা’ বইটি প্রথম বাংলা ভাষায় প্রকাশিত হয় ১৯৯৯ সালে কলকাতা বইমেলায়। সে বার কলকাতার বইমেলা উদ্বোধন করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কলকাতার প্রকাশনা সংস্থা ‘সাহিত্যম প্রকাশনালয়’ মেলায় বইটি প্রকাশ করে। আগামী প্রকাশনী থেকে শেখ হাসিনার এই বই বাংলাদেশ সংস্করণ প্রথম প্রকাশিত হয় ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অমর একুশের বইমেলায়। সেই থেকে বইটির ব্যাপক চাহিদার প্রেক্ষিতে সাতটি সংস্করণ হয়। সর্বশেষ সংস্করণ হয় ২০১৭ সালের বইমেলায়। ১১৪ পৃষ্ঠার বইটির প্রচ্ছদ এঁকেছেন খ্যাতিমান চিত্রশিল্পী শাহাবুদ্দিন আহমেদ। বইটিতে পাঁচটি অধ্যায় রয়েছে। প্রথম অধ্যায়ে ভূমিকা লিখেছেন ড. রফিকুল ইসলাম ও প্রস্তাবনা লিখেছেন পার্থ ঘোষ। দ্বিতীয় অধ্যায়ে রয়েছে, শেখ মুজিব আমার পিতা, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর সেনাবাহিনী, ইতিহাসের জঘন্যতম হত্যাকাণ্ড। তৃতীয় অধ্যায়ে রয়েছে, স্মৃতির দখিণ দুয়ার-এক, স্মৃতির দখিণ দুয়ার –দুই ও স্মৃতি বড় মধুর বড় বেদনার। তৃতীয় অধ্যায়ে ড. আব্দুল মতিন চৌধুরী, বেগম জাহানারা ইমাম ও নূর হোসেনের তিনটি লেখা রয়েছে। শেষ অধ্যায়টির শিরোনাম হচ্ছে ‘একানব্বইয়ের ডায়েরি।

ড. রফিকুল ইসলাম বইটির ভূমিকায় লিখেছেন, ‘শেখ হাসিনা রচিত বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে প্রকাশিত নির্বাচিত দশটি প্রবন্ধের বই ‘শেখ মুজিব আমার পিতা।’ দেশে ও দেশের বাইরে বাংলা ভাষাভাষি মানুষ বইটি পড়ে ইতিহাসের নানা দিক জানতে পারবেন। একজন গভীর সংবেদনশীল লেখিকার অন্তর্দৃষ্টি ও সচেতন মন-মানসিকতার পরিচয় মেলে বইতে। যা গতানুগতিক রাজনৈতিক সাহিত্যে সচরাচর পাওয়া যায় না। জটিল ও কুটিল এবং সংঘাতময় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করেও ১৯৮৩ থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত প্রতিকূল পরিবেশেও লেখায় বিরতি দেননি, তাতে বোঝা যায় তিনি একজন জাত লেখক এবং যে কোন পরিবেশেই তাঁর না লিখে উপায় নেই।’
পার্থ ঘোষ প্রস্তাবনায় লিখেছেন ‘এশিয়ার রাজনীতিবিদদের অন্যতম চারিত্রিক বৈশিষ্ট যদি হয় আবেগপ্রবণতা ও সংবেদনশীলতা-শস্য-শ্যামল-নদীমাতৃক, বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করা শেখ হাসিনার মধ্যেও এসব গুণ আছে অতিরিক্ত মাত্রায়। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাই তো তিনি হয়ে ওঠেন প্রতিবাদী। দুঃখী মানুষের জন্য তাঁর প্রাণ কাঁদে সেটাই বোধহয় স্বাভাবিক। রাজনৈতিক জীবনের হাজারও ব্যস্ততার মাঝেও তিনি লিখছেন।’

বইয়ের প্রকাশক ওসমান গণি ‘প্রকাশকের কথা’য় লিখেছেন ‘গ্রন্থটি মূলত শেখ হাসিনা লিখিত স্মৃতিকথামূলক সংক্ষিপ্ত আত্মজৈবনিক রচনা। যাতে স্থান পেয়েছে বঙ্গবন্ধুর জীবনের অনেক অনুল্লিখিত দিক এবং জননেত্রী শেখ হাসিনার লড়াই-সংগ্রামের ইতিহাস। ’ বাসস।

মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা সহজ নয় : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, ‘ভৌগোলিক কারণে মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা সহজ নয়।’

আজ বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তোফায়েল আহমেদ। এ সময় তিনি আরো বলেন, ‘বিশ্ববাসীর উচিত রোহিঙ্গাদের পাশে দাঁড়ানো।

এর আগে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

মালদ্বীপ এরই মধ্যে মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। বাংলাদেশ এ রকম কিছু করবে কি না জানতে চাইলে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘মালদ্বীপ ও মিয়ানমারের মধ্যে ভৌগোলিকভাবে যথেষ্ট দূরত্ব আছে। কিন্তু আমরা নিকট প্রতিবেশী।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘সু চির শান্তির নমুনা বিশ্ববাসী দেখেছে। মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর অমানবিক নির্যাতন হচ্ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘মানবিক দিক বিবেচনায় এ দুর্যোগ, দুর্ভোগ ভাগাভাগি করে নেওয়া উচিত। আমাদের সামর্থ্য সীমিত। মানবিক দিক বিবেচনায় যতটুকু সম্ভব, ততটুকু করেছি।’

তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘আমার মায়ের বয়সী বৃদ্ধাকেও মিয়ানমারের নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য কোলে করে সীমান্ত পার করে এখানে নিয়ে আসা হচ্ছে।

কোমলমতি শিশুরা বাঁচার জন্য কাঁটাতারের বেড়া পার হয়ে দলে দলে আসছে। দৃশ্যগুলো সত্যিকার অর্থে মর্মান্তিক। আমরা যেভাবে আশ্রয় দিচ্ছি, মানবিক সাহায্য দিচ্ছি এভাবে যদি বিশ্বের অন্য দেশগুলো দুর্যোগকে ভাগাভাগি করে নিত, তবে তাদের দুর্ভোগ অনেক কমে যেত।’

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির নোবেল পদক প্রসঙ্গে তোফায়েল আহমেদ বলেন, ‘এটা কি শান্তির নমুনা? তিনি কোন গুণাবলির কারণে শান্তিতে নোবেল পেয়েছেন? নির্বিচারে রোহিঙ্গাদের হত্যা করা হচ্ছে। ঘরবাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তাঁর মধ্যে মানবিক গুণাবলি দেখছি না।’

অস্ট্রেলিয়া দলের টিম বাসে ঢিল:বিসিবির তদন্ত কমিটি

সোমবার অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল হোটেলে ফেরার পথে অজ্ঞাত ব্যক্তি সফরকারী দলের টিম বাসে ঢিল ছোড়ে। এই ঘটনায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অজিদের জন্য নিরাপত্তা আরো জোরদার করা হয়। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার বিষয়টি স্বীকার করেছে। একইসঙ্গে ঘটনা তদন্তে উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি।
সোমবার চট্টগ্রাম টেস্টের প্রথম দিনের খেলা শেষে টিম অস্ট্রেলিয়া হোটেলে ফেরার পথে এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) বরাত দিয়ে ক্রিকইনফো এটি নিশ্চিত করেছে। তবে সিএ জানিয়েছে, ঢিলের আঘাতে জানালার একটি কাচ ভেঙে গেলেও কোনো খেলোয়াড় কিংবা কর্মকর্তা আঘাত পাননি।
ঢিল ছোড়ার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠনের উদ্যোগের কথা জানিয়ে বিসিবি এক বিবৃতিতে বলে, ‘অস্ট্রেলিয়ার টিম বাসের কাচ ভেঙে যাওয়ার ঘটনা সম্পর্কে বিসিবি পুরোপুরি অবগত ও সচেতন। আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি এবং ঘটনার উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করে বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্তের উদ্যোগ ও নিয়েছি।’
অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দলের সঙ্গে থাকা সিএ’র নিরাপত্তা প্রধান সিন ক্যারলও জানিয়েছেন, ঢিল ছোড়ার ঘটনা বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয়া হয়েছে। যেমনটা বলছিলেন তিনি, ‘বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ বিষয়টি বেশ গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং যাতায়াতের পথে নিরাপত্তা আরো জোরদার করেছে। আমাদেরকে দেয়া বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আমরা সন্তুষ্ট এবং স্বস্তি অনুভব করছি।’

রোহিঙ্গা-বিরোধী অভিযান বন্ধ করুন : মিয়ানমারকে চার মুসলিম দেশ: বিবিসি

বাংলাদেশসহ এশিয়ার কয়েকটি মুসলিম দেশ মিয়ানমারের সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান বন্ধ করতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানিয়ে এই সংকটের দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানানো হয়।
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার মিয়ানমারের নেতৃবৃন্দের সাথে সাক্ষাত করবেন।
জাতিসঙ্ঘ বিশেষ র‍্যাপোটিয়ার ইয়াংগি লি এবং নোবেল বিজয়ী মালালা ইউসুফজাই উভয়েই মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সু চির প্রতি এ সহিংসতার নিন্দা জানানোর আহবান জানিয়েছেন।
গত ১০ দিনে মিয়ানমারের রাখাইন প্রদেশে সহিংসতার কারণে প্রায় ৯০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। প্রতি দিনই আরো হাজার হাজার শরণার্থী আসছে।
এ সংকটের ব্যাপারে ইতিমধ্যেই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে, ‘রোহিঙ্গা মুসলিমদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর সংখ্যা এবং ব্যাপক ঘরবাড়ি ছেড়ে পালানোর খবরে’ উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নজিব রাজ্জাক এক টুইট বার্তায় ‘ মিয়ানমার এবং এ অঞ্চলের কল্যাণের স্বার্থে রোহিঙ্গা ভাই-বোনদের এই গুরুতর দুর্দশার অবসানের’ আহ্বান জানান।
দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার মুসলিম দেশগুলো থেকে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের জন্য উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে।
ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেটনো মারসুডি মিয়ানমার সফর করছেন, এবং তিনি সেদেশের সামরিক বাহিনীর প্রধানের সাথে দেখা করে এ সংকট সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। মি. রেটনো আজই পরে কোন এক সময় অং সান সুচির সাথে দেখা করবেন। কয়েকটি দেশে বিক্ষোভ-প্রতিবাদের খবর পাওয়া গেছে।
রোববার ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার মিয়ানমার দূতাবাস লক্ষ্য করে একটি ছোট পেট্রল বোমা ছোঁড়া হয়।
মালদ্বীপ বলছে, তারা মিয়ানমারের সাথে সবরকম অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করতে যাচ্ছে।
মধ্য এশিয়ার কিরগিস্তানে মিয়ানমার ফুটবল দলের সাথে একটি আন্তর্জাতিক ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে। কারণ কিছু সামাজিক মাধ্যমেই ম্যাচের সময় প্রতিবাদ-বিক্ষোভ করার আহ্বান জানানো হয়েছিল।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীর শয্যাপাশে ওবায়দুল কাদের এমপি

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে গিয়ে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে দেখে এসেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। হাসপাতালে ভিআইপি ডিলাক্স ৬১২ নম্বর কেবিনে চিকিৎসাধীন বঙ্গবীর।

মঙ্গলবার সকালে কাদের সিদ্দিকীকে দেখতে হাসপাতালে গিয়ছিলেন ওবায়দুল কাদের।

মন্ত্রী কাদের সিদ্দিকীর শয্যাপাশে কিছুক্ষণ অবস্থান করেন ও তার চিকিৎসার খোঁজ-খবর নেন।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (গবেষণা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. মো. শহীদুল্লাহ সিকদার, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. শারফুদ্দিন আহমেদ, কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ আলী আসগর মোড়ল, মেডিসিন অনুষদের ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ, কার্ডিওলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জী, অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার ও ট্রান্সফিউশন মেডিসিন বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. মো. আসাদুল ইসলাম, পরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) অধ্যাপক ডা. আবু নাসার রিজভী, অতিরিক্ত পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. নাজমুল করিম মানিক, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. পবিত্র কুমার দেবনাথ, সহকারী পরিচালক (হাসপাতাল) বেলাল এইচ সরকার প্রমুখও এসময় উপস্থিত ছিলেন।

নির্বাচন নিয়ে বিএনপির শোরগোল রহস্যজনক: তথ্যমন্ত্রী

তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু বলেছেন, কোনো প্রস্তাব ছাড়া, কোনো রূপরেখা ছাড়া, খালেদা জিয়া এবং বিএনপি যেভাবে নির্বাচন নিয়ে শোরগোল করছে সেটাই চক্রান্তমূলক, রহস্যজনক এবং বিভ্রান্তিমূলক।

সোমবার কুষ্টিয়ার ভেড়ামারার বাহাদুরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ঈদ পূর্ণমিলনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, নির্বাচন বিএনপির কোনো এজেন্ডা নয়, বিএনপির এজেন্ডা হলো যে কোনো পন্থায় শেখ হাসিনার বৈধ সাংবিধানিক সরকারকে উচ্ছেদ করে, ক্ষমতাচ্যুত করে গায়ের জোরে শেখ হাসিনার সরকারে সাগরে ভাসিয়ে দেয়ার একটা চক্রান্ত আছে। এ চক্রান্ত সফল হবে না, বাংলাদেশ সাংবিধানিক পদ্ধতিতেই চলবে এবং যথাসময়ে সাংবিধানিকভাবে নির্বাচন হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাসদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপন, কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ভেড়ামারা সার্কেল) কামরুল হাসানসহ জাসদের দলীয় নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রয়োজনে সংবিধান সংশোধন করা যেতে পারে : ফখরুল

দেশের সংবিধানে যেহেতু বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর আশা-আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলন ঘটে, তাই প্রয়োজনে তা পরিবর্তন করা যেতে পারে বলে মনে করেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ সোমবার ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রাজধানীর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকীকে দেখতে যান বিএনপি মহাসচিব। পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি কথা বলেন চলমান রাজনীতির প্রসঙ্গে।

সরকারের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘তারা কোনোরকমে এই নির্বাচনে একদলীয় একটা শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায় একতরফা একটা নির্বাচন করে। কিন্তু এবার সেটা সম্ভব হবে না। এবার দেশের মানুষও গ্রহণ করবে না। সহায়ক সরকার বলতে আমরা যেটা বুঝিয়েছি, তারা চাইছে না এটা। বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর যে আশা-আকাঙ্ক্ষা, তার প্রতিফলনই তো সংবিধান। তো প্রয়োজনে সেটা পরিবর্তনও করা যেতে পারে।’

তবে সরকারের লোকেরা যা-ই বলুক, এবার আর দেশের মানুষ ৫ জানুয়ারির মতো একতরফা গায়ের জোরে নির্বাচন করতে দেবে না বলেও মন্তব্য করেন বিএনপির এই নেতা। তিনি বলেন, সরকার নির্বাচনের বিষয়ে আন্তরিক নয় বলেই নিজেদের মনগড়া কথা বলছে।

এ সময় রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে মিয়ানমার সরকারকে আন্তর্জাতিক চাপ প্রয়োগ করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘মানবতাবিরোধী একটা অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। এবং সরকারের উচিত যারা আপনার এভাবে বিতাড়িত হয়ে আসছে, তাদের সাময়িকভাবে আশ্রয় দেওয়া এবং মিয়ানমার সরকারের সঙ্গে যেহেতু আমাদের বর্ডারের সঙ্গে সমস্যাটা, অতিদ্রুত আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে তাদের সসম্মানে ফেরত নেওয়ার ব্যবস্থা করা।’

অবিলম্বে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনের ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান মির্জা ফখরুল।

আগামী বছরের অক্টোবরে নির্বাচন হতে পারে: অর্থমন্ত্রী

২০১৮ সালের অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে দেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হতে পারে বলে আভাস দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বলেছেন, ‘এখন নির্বাচন কমিশনের হাতে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার কাজ ছাড়া আর কোনো কাজ নেই। তারা এখন নির্বাচনের কাজ করবে।’ আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে এমন আশা প্রকাশ করে দলটিকে এখনই নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানান মুহিত।

সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। ঈদুল আজহার পর প্রথম কার্যদিবসে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন খুবই কাছে। তবে গ্রামে নির্বাচনী আমেজের তেমন কোনো চিত্র চোখে পড়েনি। মানুষের মধ্যে এখন মিয়ানমারের রোহিঙ্গা ইস্যুতে উদ্বেগ আছে। এ বিষয়ে আমরাও উদ্বিগ্ন, একইসঙ্গে ক্ষুব্ধও।’

এ সময় মুহিত মিয়ানমারের নোবেল বিজয়ী নেত্রী অং সান সুচির সমালোচনা করে বলেন, ‘তিনি রোহিঙ্গা নির্যাতনকে কীভাবে সমর্থন করে যাচ্ছেন, বিষয়টি আমার বোধগম্য নয়। এ নিয়ে তিনি যে পদক্ষেপ নিয়েছেন, তা ঘৃণিত।’
মুহিত বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে আমরা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইছি। আবার মিয়ানমারের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করছি।’
‘আগামী নির্বাচনে কোনো ছাড় দেয়া হবে না’ বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তার এই বক্তব্য অর্থহীন। আমরা কি তাদের কাছে কোনো ছাড় চেয়েছিলাম; না তারা আমাদের কোনো ছাড় দিয়েছিলেন? বরং নির্বাচনে আনার জন্য আমরা তাদের অনেক ছাড় দিয়েছিলাম, তারা তা গ্রহণ করেননি।’

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে আবুল মাল আবদুল মুহিত জানান, এবার গ্রামের মানুষ স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পেরেছে। কোথাও কোনো সমস্যা হয়নি। এবারের ঈদযাত্রাও নির্বিঘ্ন হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী।