সোমবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

লক্ষ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আক্রমণ থামাবেন না পুতিন

সেরাকণ্ঠ ডট কম :
এপ্রিল ১৪, ২০২২
news-image

রাশিয়ার লক্ষ্যগুলো পূরণ না হওয়া পর্যন্ত ইউক্রেনে অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে অঙ্গীকার করেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। মঙ্গলবার (১২ এপ্রিল) তিনি বলেছেন, ইউক্রেনীয় বিরোধিতা এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নিষেধাজ্ঞা সত্যেও তাদের অভিযান পরিকল্পনা অনুযায়ী চলছে।

এদিন পুতিন বলেন, রুশ সেনারা ইউক্রেনের রাজধানীর দখল ভালোভাবেই নিতে পেরেছে। এখন তারা ডনবাস অঞ্চলের দিকে মনোযোগ দেবে। মঙ্গলবার ইউক্রেন বলেছে, সেনাদের (ইউক্রেনীয়) ওপর বিষাক্ত পদার্থ নিক্ষেপ করা হয়েছে। পদার্থটি কী হতে পারে তা তারা স্পষ্ট নয়।

তবে পশ্চিমা কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, রাশিয়ার রাসায়নিক অস্ত্রের কোনো ধরনের ব্যবহার করলে এই ধ্বংসাত্মক যুদ্ধ আরও গুরুতর হয়ে উঠবে। পশ্চিমা কর্মকর্তাদের মতে, রাজধানী কিয়েভ দখল, সরকার পতন এবং একটি মস্কো-বান্ধব শাসন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে রাশিয়া ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন আক্রমণ করেছিল।

ছয় সপ্তাহ পর পুতিন মঙ্গলবার জোর দিয়ে বলেন, তার আক্রমণের লক্ষ্য ছিল মস্কো-সমর্থিতদের নিয়ন্ত্রিত পূর্ব ইউক্রেনের কিছু অংশের জনগণকে রক্ষা করা এবং ‘রাশিয়ার নিজস্ব নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, রাশিয়ার কাছে বিশেষ সামরিক অভিযান শুরু করা ছাড়া অন্য কোনো বিকল্প ছিল না এবং অঙ্গীকার করে বলেন, এর সম্পূর্ণ সমাপ্তি এবং নির্ধারিত কাজগুলি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এটি অব্যাহত থাকবে। আপাতত পুতিনের বাহিনী ডনবাসে একটি বড় আক্রমণের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। যেখানে ২০১৪ সাল থেকে রাশিয়ান-মিত্র বিচ্ছিন্নতাবাদী এবং ইউক্রেনীয় বাহিনীর মধ্যে লড়াই চলছে এবং রাশিয়া এই অঞ্চলের স্বাধীনতার দাবিকে স্বীকৃতি দিয়েছে।

ডনবাসের একটি কৌশলগত বন্দর শহর মারিউপোল। এখানকার একটি ইউক্রেনীয় রেজিমেন্ট দাবি করেছে, একটি ড্রোন শহরের ওপর বিষাক্ত পদার্থ ছিটিয়েছে। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, বিশেষজ্ঞরা জানার চেষ্টা করছেন এই বিশেষ পদার্থটি কী হতে পারে। তিনি বলেন, বিশ্ববাসীর এখনই প্রতিক্রিয়া জানানো উচিত।

তিনি বলেন, কিয়েভের অন্যান্য শহরতলিতে নারী ও শিশুদের প্রতি ‘ধর্ষণ’ ও অন্যান্য অমানবিক নিষ্ঠুরতার’ প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। ইউক্রেনের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী হান্না মালিয়ার বলেছেন, কর্মকর্তারা ধারণা করছেন মারিউপোলে রাশিয়া সম্ভবত ফসফরাস অস্ত্র ব্যবহার করেছে। যা ভয়াবহ দগ্ধ করে, কিন্তু এটি রাসায়নিক অস্ত্র হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ নয়।

মারিউপোল শহরের মেয়র ভাদিম বয়চেঙ্কো সোমবার বলেন, রুশ সেনাদের অবরোধের ফলে ১০ হাজারেরও বেশি বেসামরিক লোক মারা গেছে। শুধুমাত্র মারিউপোলে মৃতের সংখ্যা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে।

জেলেনস্কির উপদেষ্টা মাইখাইলো পোডোলিয়াক মারিউপোলে ইউক্রেনীয় সেনারা যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হচ্ছে তা স্বীকার করেছেন। তিনি এক টুইটে বলেছেন, তারা (সেনারা) অবরুদ্ধ হয়ে আছে, এবং রসদ সরবরাহ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে।

পোডোলিয়াক টুইটে জানান, দেড় মাসেরও বেশি সময় ধরে আমাদের রক্ষকরা (রাশিয়ান) সেনাদের থেকে শহরটিকে রক্ষা করেছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রথমবারের মতো রাশিয়ার আক্রমণকে “গণহত্যা” বলে উল্লেখ করেছেন।

একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা বলেছেন, বাইডেন প্রশাসন ইউক্রেনের জন্য ৭৫০ মার্কিন ডলারের সামরিক সহায়তার আরেকটি প্যাকেজ প্রস্তুত করছে, যেটি শিগগিরই ঘোষণা করা হবে।

রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার বলেছে, তারা পশ্চিম খমেলনিটস্কি অঞ্চলের স্টারোকোস্টিয়ানটিনিভ এবং কিয়েভের কাছে একটি গোলাবারুদ ডিপো এবং বিমানের হ্যাঙ্গার ধ্বংস করতে ব্যবহৃত বায়ু- এবং সমুদ্র-চালিত ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে।