রবিবার, ১০ই ডিসেম্বর, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

করোনা ভাইরাসের কারণে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে বিশ্ব -জাতিসংঘ

সেরাকণ্ঠ ডট কম :
এপ্রিল ২২, ২০২০
news-image

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রাণঘাতী করোনাভাইরাসের কারণে সারাবিশ্ব ব্যাপক দুর্ভিক্ষের ঝুঁকির মুখে রয়েছে। অদৃশ্য এই ভাইরাসটির কারণে সবকিছু স্থবির হওয়ায় অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছে বিশ্ব। এই সংকট শেষ পর্যন্ত আঘাত হানবে মানুষের পেটে। কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্বের ৩৬টি দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি) সতর্ক করে বলেছে, কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক সংকট বিশ্বজুড়ে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় ভোগা মানুষের সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করতে পারে।

করোনার কারণে পর্যটন থেকে আয় বন্ধ হয়ে যাওয়া, রেমিটেন্সে ধস, ভ্রমণ এবং অন্যান্য কার্যক্রমে নানামাত্রিক নিষেধাজ্ঞার ফলে সৃষ্ট অভিঘাত চলতি বছর নতুন করে আরও ১৩ কোটি মানুষকে তীব্র ক্ষুধার্তের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারে, বলেছে তারা। বিশ্বের প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি মানুষ এখনি এ তালিকায় আছে বলে জানিয়েছে তারা। সব মিলিয়ে চলতি বছরই বিশ্বজুড়ে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে সাড়ে ২৬ কোটিতে পৌঁছাতে পারে বলে মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) ডব্লিউএফপি ধারণা দিয়েছে, জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বিবিসি জানায়, বিপর্যয় এড়াতে জরুরিভিত্তিতে পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ডব্লিউএফপির প্রধান ডেভিড বিসলি। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের এক ভিডিও কনফারেন্সে দেয়া ভাষণে বিসলি বলেছেন, “বিশ্ব সম্প্রদায়কে বিজ্ঞতার সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে। কয়েক মাসের মধ্যেই বাইবেলে বর্ণিত পরিস্থিতির মতো একাধিক দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি হতে পারি আমরা। সত্য হচ্ছে আমাদের হাতে আর সময় নেই।

সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় অনলাইনে দেওয়া এক ব্রিফিংয়ে ডব্লিউএফপির প্রধান অর্থনীতিবিদ আরিফ হুসেইন বলেছেন, সুতার উপর ঝুলে থাকা কোটি কোটি মানুষের জন্য কোভিড-১৯ ভয়াবহ বিপর্যয় হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় আমাদের সবাইকে একসঙ্গে এগিয়ে আসতে হবে। যদি আমরা তা না করি, তাহলে চড়া মূল্য দিতে হবে, ভয়াবহ মূল্য দিতে হবে বিশ্বকে। অনেকে প্রাণ হারাবে, অসংখ্য মানুষ জীবিকা হারাবে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির গবেষণা, মূল্যায়ন ও পর্যবেক্ষণ বিষয়ক এ পরিচালক সাংবাদিকদের বলেন, দিন আনে দিন খায় এমন মানুষদের সুরক্ষায় শিগগির পদক্ষেপ না নিতে পারলে বিপদ মারাত্মক আকার ধারণ করবে।
ডব্লিউএফপিও জানিয়েছে, চলতি বছর তাদের সাহায্য কর্মসূচিগুলো অব্যাহত রাখতে ১০-১২ বিলিয়ন ডলারের প্রয়োজন পড়তে পারে। এ অঙ্ক গত বছরের তুলনায় অনেক বেশি। গতবছর তারা রেকর্ড ৮ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার তুলতে সক্ষম হয়েছিল বলে জানান আরিফ।

সামনের মাসগুলোর সম্ভাব্য চাহিদা মেটাতে এবার আগে থেকে খাদ্য মজুদের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। করোনাভাইরাস মহামারীর আগেই যারা তীব্র ক্ষুধার্তের তালিকায় ছিলেন তাদের বেশিরভাগই সিরিয়ার মতো যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর বাসিন্দা।

উল্লেখ্য, উহান থেকে ছড়িয়ে পড়া প্রাণসংহারি ভাইরাস এখনো বিশ্বব্যাপী তাণ্ডব চালিয়ে যাচ্ছে। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার তথ্য অনুযায়ী, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত করোনাভাইরাসে বিশ্বে এক লাখ ৭৭ হাজার ৬৬১ জন প্রাণ হারিয়েছেন।এছাড়া আক্রান্ত হয়েছেন ২৫ লাখ ৫৭ হাজার ১৮১ জন।