শনিবার, ২৪শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ খ্রিস্টাব্দ

নূর হোসেনের মায়ের কাছে ক্ষমা চাইলেন রাঙ্গা

সেরাকণ্ঠ ডট কম :
নভেম্বর ১২, ২০১৯
news-image

শহীদ নূর হোসেন সম্পর্কে বিরূপ মন্তব্য করায় তার (নূর হোসেন) মায়ের কাছে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী মসিউর রহমান রাঙ্গা এমপি। মঙ্গলবার এক লিখিত প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নূর হোসেনের পরিবারসহ সবার কাছে ক্ষমা চান তিনি।

মসিউর রহমান রাঙ্গা চিঠিতে উল্লেখ করেন, ১০ নভেম্বর জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানীর কার্যালয়ের মিলনায়তনে ঘূর্ণিঝড়ের কারণে ঘরোয়াভাবে আয়োজিত গণতন্ত্র দিবসের আলোচনা সভায় আমার কিছু বক্তব্য নিয়ে কোনো কোনো মহল এবং বিশেষ করে নূর হোসেনের পরিবারের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

প্রতি বছর নূর হোসেনের মৃত্যুবার্ষিকীর দিনে কয়েকটি সংগঠনের আলোচনা, বক্তব্য ও বিবৃতিতে জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদকে হেয় প্রতিপন্ন করা হয়। এমনকি তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালাগালও করা হয়। এর ফলে জাতীয় পার্টির কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম ঘটেনি। পরিপ্রেক্ষিতে কর্মীদের উত্তেজনার মধ্যে বক্তব্য দেয়ার সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে আমার মুখ থেকে নূর হোসেন সম্পর্কে কিছু অযাচিত কথা বেরিয়ে গেছে। যা নূর হোসেনের পরিবারের সদস্যদের মনে আঘাত করেছে। এর জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখিত ও অনুতপ্ত।

নূর হোসেনের পরিবারের প্রতি আমাদের প্রয়াত চেয়ারম্যান এরশাদও সমব্যথী ছিলেন। অতএব, অসতর্কভাবে বলে ফেলা আমার বক্তব্যে যে আঘাত লেগেছে তার জন্য আমি নূর হোসেনের মায়ের কাছে আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি। একই সঙ্গে আমার যে বক্তব্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে সেসব বক্তব্য প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।

আমি আশা করি এই বিষয়ে আর কোনো ভুল বোঝাবুঝির অবকাশ থাকবে না।

প্রসঙ্গত, রোববার গণতন্ত্র দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় নূর হোসেনকে ‘ইয়াবাখোর’ ও ‘ফেনসিডিলখোর’ বলে আখ্যায়িত করেন জাতীয় পার্টির মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গা।

এ নিয়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ায় সোমবার রাতে যমুনা টিভির ‘টকশো’তে অংশ নিয়ে দু:খ প্রকাশ করেন তিনি।

মসিউর রহমান রাঙ্গা যমুনা টিভিকে বলেন, যেহেতু সে সময় ইয়াবা, ফেনসিডিল ছিল না, সেহেতু আমার এ ধরনের বক্তব্য দেয়া ঠিক হয়নি।

কিন্তু, বিষয়টি ছিল এমন যে, ওই দিনের কর্মসূচি ছিল আমাদের দলের একান্ত কর্মসূচি এবং সেটা বাইরে কোথাও নয়। আর পরিস্থিতিটা ছিল এমন যে, ওইদিন (রোববার) নূর হোসেন চত্বরে আওয়ামী লীগ সমবেত হয়েছিল।

সেখানে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়েছিল- এরশাদের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে। আর নেতারাও এরশাদকে স্বৈরাচার বলে সমালোচনা করেছেন।

আমাদের নেতাকর্মীরা সেসব দেখে এসে আমাকে জানানোর পর বক্তৃতায় অনেকটা আবেগতাড়িত হয়ে এমন কথা বলেছি। এখানে নূর হোসেন সম্পর্কে ইয়াবা বা ফেনসিডিলখোর ছাড়া অন্য কোনো কথার কেউ ভুল ধরছে না। আর এ কথাটি আমার বলাও উচিত হয়নি- এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।

রোববার জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের বনানী কার্যালয়ে জাতীয় পার্টি মহানগর উত্তরের আয়োজনে ‘গণতন্ত্র দিবস’ উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় নূর হোসেনকে ইয়াবাখোর, ফেনসিডিলখোর উল্লেখ করে মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেছেন, তাকে নিয়ে নাচানাচি করছে আওয়ামী লীগ-বিএনপি।

তাদের কাছে ইয়াবা-ফেনসিডিলখোর ও ক্যাসিনো ব্যবসায়ীদের গুরুত্ব বেশি। তিনি আরও বলেন, গণতন্ত্র আজ নির্বাসনে সুন্দরবনে, যদি বিশ্বজিৎ ও আবরারকে হত্যা করা না হতো তাহলে বলতাম গণতন্ত্র রয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে এমপি পদ থেকে পদত্যাগের দাবি উঠেছে- যমুনা টিভির এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমাকে এমপি নির্বাচিত করেছেন আমার এলাকার জনগণ।

তারা যদি চান; তাহলে আমি পদত্যাগ করব। তারা আমার ওপর আস্থা রেখেছেন, আমি তাদের জন্য কাজ করছি; বাইরের কারও কথায়তো আমি পদত্যাগ করতে পারি না।