=== console.log('header!'); // Easy to add and display post grid on your website with or without categoryies filter. Also work with Gutenberg shortcode block.


শুক্রবার, ১৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বন্দিদের খাবার ৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা বরাদ্দ

সেরাকণ্ঠ ডট কম :
জুলাই ১৩, ২০১৯
news-image

সকালের নাস্তা খাওয়ানোর পর যেসব বন্দিকে মামলার শুনানির জন্য আদালতে নেওয়া হয়, তাদের দুপুরের খাবারের জন্য বরাদ্দ মাত্র ৩ টাকা ৬০ পয়সা। নির্ধারিত এই টাকায় ৪৬ দশমিক ৪২ গ্রাম চিড়া ও ১৪ দশমিক ৫৮ গ্রাম গুড় পান বন্দিরা। চিড়া-গুড় খেয়ে আদালত থেকে কারাগারে পৌঁছাতে দেরি হলে হাতছাড়া হয় রাতের খাবারও। যেসব স্বজন আদালতে বন্দির জন্য খাবার দেন না, সেসব বন্দিকে না খেয়ে থাকতে হয় পরের দিন সকালের খাবার পাওয়ার আগ পর্যন্ত।

হাজতি বন্দিদের এই দুর্দশা কমাতে মামলার হাজিরার দিন দুপুরের খাবারের জন্য হাজতিপ্রতি বরাদ্দ ৩ টাকা ৬০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৩০ টাকা বরাদ্দ দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

এ বিষয়ে সেবা সুরক্ষা বিভাগের সচিব মো. শহীদুজ্জামান বলেন, ইতোমধ্যে কারাবন্দিদের সকালের নাশতা, রমজানের ইফতার ও খোরাকি ভাতা বাড়ানো হয়েছে। বন্দিদের আদালতে হাজিরার দিন দুপুরের খাবার বাবদ বরাদ্দ রয়েছে মাথাপিছু ৩ টাকা ৬০ পয়সা। এটি বাড়িয়ে ৩০ টাকা নির্ধারণে বিদায়ী অর্থবছরে অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। আশা করছি এটাও হয়ে যাবে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো প্রস্তাবে বলা হয়েছে, কারাগারে অবস্থানরত হাজতি বন্দিদের তাদের মামলার হাজিরার জন্য আদালতে পাঠাতে হয়। তাদের দুপুরের খাবার হিসেবে ৩ টাকা ৬০ পয়সার মধ্যে শুকনা খাবার হিসেবে চিড়া ও গুড় দেওয়া হয়। এসব বন্দিকে অনেক সময় আদালত থেকে কারাগারে ফেরত যেতে রাত ৯ থেকে ১০টা বেজে যায়। কারাগারের রাতের খাবার সাধারণত বিকেল ৪টা থেকে ৫টার মধ্যেই সরবরাহ করা হয়। ফলে এসব বন্দি আদালত থেকে কারাগারে ফেরার পর আর রাতের খাবার পান না। এ অবস্থা হতে পরিত্রাণের জন্য আদালতে যাওয়া বন্দিরা তাদের আত্মীয়স্বজনের মাধ্যমে খাবার সংগ্রহের চেষ্টা করে থাকেন, যা আদালতে গমনকারী বন্দিদের শৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতার শামিল।

আদালতে স্বজনদের দেওয়া খাবারের কিছু অংশ রাতের জন্য কারাগারে আসার সময় বন্দিরা সঙ্গে নিয়ে আসেন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় ওইসব খাবারের সঙ্গে মাদকসহ অনেক অবৈধ দ্রব্য কারাগারে নিয়ে ঢোকার চেষ্টা করেন হাজতিরা, যা সুষ্ঠু কারা প্রশাসনের অন্তরায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা-২ শাখার একজন কর্মকর্তা বলেন, কারাবন্দিদের বিভিন্ন সময়কার খাবারের বরাদ্দ বাড়াতে আমরা অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছি। এর মধ্যে কিছু প্রস্তাব অনুমোদন করে অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারি করা হয়েছে।

ওই কর্মকর্তা জানান, বিশেষ দিবসে কয়েদি ও হাজতিদের উন্নতমানের খাবার সরবরাহ করা হয়। এজন্য জনপ্রতি ৩০ টাকা করে বরাদ্দ ছিল। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তা বাড়িয়ে ২৫০ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব অর্থ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। গত মঙ্গলবার অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জনপ্রতি ১৫০ টাকা করে বরাদ্দ দিয়ে আমাদের জানানো হয়েছে।