বৃহস্পতিবার, ৯ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৩ খ্রিস্টাব্দ

সব সময় বিবেককে জাগ্রত রাখবে : রাষ্ট্রপতি

সেরাকণ্ঠ ডট কম :
অক্টোবর ৬, ২০১৮
news-image

জীবনে চলার পথে তোমাদের আদর্শ থাকতে হবে। কখনো ন্যায়ের সাথে অন্যায়ের আপস করবে না। সব সময় তোমার বিবেককে জাগ্রত রাখবে। জীবন-জীবিকার জন্য তোমরা পৃথিবীর যেখানেই থাক না কেন, মাতৃভূমিকে ভুলবে না।’আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ৫১তম সমাবর্তন অনুষ্ঠিত হয়। সমাবর্তন নিতে আসা স্নাতকরা যখন উন্মুখ, তখন শিক্ষার্থীদের এসব নির্দেশনাই দিচ্ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য এবং রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বলেন, ‘স্বাধীনতা সংগ্রাম শেষ হয়েছে । কিন্তু দেশগড়ার সংগ্রাম এখনো শেষ হয়নি। শোষণ-বঞ্চনা-ক্ষুধা-অশিক্ষা থেকে দেশ এখনো পুরোপুরি মুক্ত হয়নি। সাম্য ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ার যে প্রত্যয় ছিল তা আজও পরিপূর্ণভাবে অর্জিত হয়নি। এজন্য দেশ গড়ার কাজে যুব সমাজকে বিশেষ করে নবীন স্নাতকদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হবে।’

১৯৭২ সালের ৩০ জানুয়ারি অস্ত্র সমর্পণ অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ভাষণের উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, ‘মুক্তির সংগ্রামের চেয়েও দেশ গড়ার সংগ্রাম কঠিন। তাই দেশ গড়ার কাজে আমাদের সর্বশক্তি নিয়োগ করতে হবে। আমি মনে করি আজকের তরুণরাই দেশ গড়ার কাজে অবদান রাখবে।

ষাটের দশকের ছাত্র রাজনীতির সঙ্গে এখনকার ছাত্র রাজনীতির অনেক পার্থক্য রয়েছে বলেও রাষ্ট্রপতি মনে করেন। আবদুল হামিদ বলেন, ‘ষাটের দশকের ছাত্র রাজনীতির সাথে বর্তমান ছাত্র রাজনীতির অনেক পার্থক্য দেখা যায়। তখন ছাত্র আন্দোলন ছিল আদর্শ নির্ভর। সেখানে ব্যক্তি বা গোষ্ঠী স্বার্থ ছিল না। পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে দেশকে মুক্ত করাই ছিল মূল লক্ষ্য। সেই আদর্শকে ধারণ করে ১৯৭১ সালে জাতির পিতার নেতৃত্বে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি।’

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনার পরিবেশ বিষয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘ডিপ্লোমা ও সান্ধ্যকালীন কোর্সের নামে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে এখন অপরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন বিষয়ে ডিগ্রি দেওয়া হচ্ছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যের পাশাপাশি স্বাভাবিক লেখাপড়ার পরিবেশ বিঘ্নিত হচ্ছে কি না তা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। আমি মনে করি শিক্ষার্থীদের বৃহৎ স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তা ভেবে দেখবেন। মনে রাখতে হবে, জনগণের অর্থেই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হয়। তাই তাদের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

আবদুল হামিদ বলেন, ‘উচ্চশিক্ষা ও জ্ঞান চর্চার পাশাপাশি বাঙালি জাতিসত্তার বিকাশ, ভাষা আন্দোলন, মুক্তিসংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবদান অতুলনীয় ও অনন্য। স্বাধীনতার পর দেশ গড়ার দায়িত্বও অনেকাংশে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ওপর অর্পিত হয়। তাই জাতির আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে এ বিশ্ববিদ্যালয় সবসময় কাণ্ডারির ভূমিকা পালন করেছে। বিশ্বমানের দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি, নতুন চিন্তা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে আত্মনিয়োগ এখন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য চ্যালেঞ্জ। নানা প্রতিকূলতার মাঝেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় অনেক সফল। ’

স্নাতকদের প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতকরা দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নেতৃত্ব দিচ্ছেন এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও রেখে চলেছেন অনন্য অবদান। আজ সময়ের বিবর্তনে, বিশ্বায়নের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ও দেশের দ্রুত উন্নয়নে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক। দেশের প্রয়োজনে এবং জাতীয় স্বার্থেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নিতে হবে।’

এ বছরের ৫১তম সমাবর্তনে অংশ নেওয়ার জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাসে সর্বাধিক ২১ হাজার ১১১ জন শিক্ষার্থী নিবন্ধন করেন। অনুষ্ঠানে ৯৬ জন কৃতি শিক্ষার্থী রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে স্বর্ণপদক গ্রহণ করেছেন। সেই সঙ্গে ৮১ জনকে পিএইচডি এবং ২৭ জনকে এমফিল ডিগ্রি দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত সাত কলেজের নিবন্ধিত স্নাতকরা ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে ঢাকা কলেজ ও ইডেন মহিলা কলেজ থেকে সরাসরি সমাবর্তন অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সমাবর্তন বক্তা হিসেবে কথা বলেন জাতীয় অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান। বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য ও রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদের সভাপতিত্বে সমাবর্তনে ধন্যবাদ জানান উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান এবং দুই উপ-উপাচার্য।