শুক্রবার, ২৫শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ভারতে খ্রিষ্টান অধ্যুষিত রাজ্যে গরুর গোশতে নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে না বিজেপি

সেরাকণ্ঠ ডট কম :
অক্টোবর ২২, ২০১৭
news-image

ভারতে খ্রিস্টান অধ্যুষিত মেঘালয়ে গরুর গোশতে কোনো নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে না। হিন্দুত্ববাদী বিজেপি’র মেঘালয় রাজ্য সভাপতি শিবুন লিংডো বলেছেন, কেন্দ্রীয় সরকার মেঘালয়ে গরুর গোশত নিষিদ্ধ করেনি।

শিবুন লিংডোর অভিযোগ, আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের আগে কংগ্রেস রাজনৈতিক ফায়দা তোলার জন্যই মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে।

তার দাবি, কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে গত ২৩ মে জারি করা নির্দেশিকায় পশু বাজার চালানোর নিয়ম এবং বাজারে নিয়ে আসা প্রাণীদের সঙ্গে কী ধরনের আচরণ করতে হবে সেটা বলা হয়েছিল।

বিজেপি মুখপাত্র জে এ লিংডোও এক বিবৃতিতে বলেছেন, দলের পক্ষ থেকে ইতোমধ্যেই বলা হয়েছে, উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলোতে গরুর গোশতের উপরে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হচ্ছে না। এটি রাজ্যের বিষয়, রাজ্য সরকারই এই বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, ‘রাজ্যে গরুর গোশত নিষিদ্ধ হবে না। গরুর গোশতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা ভালো অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নয় এবং তা সংবিধান সম্মতও নয়।’

হিন্দুত্ববাদী বিজেপি গোটা দেশে গরু জবাই বন্ধের জন্য সোচ্চার হলেও খ্রিস্টান অধ্যুষিত রাজ্যগুলোতে তা কার্যকর করতে রাজি নয়। মেঘালয়ে ৩৪ লাখ জনসংখ্যার অধিকাংশই খ্রিস্টান। সেখানে ৮৩ শতাংশের বেশি খ্রিস্টান বাসিন্দা রয়েছেন। সেখানকার সমস্ত সামাজিক উৎসবে গরুর গোশত খাওয়ার আয়োজন করা হয়। এখানকার খাসি ও গারো উপজাতিদের প্রধান খাদ্যই হল গরুর গোশত। রাজ্যটিতে মুসলিম ও অন্য সংখ্যালঘুরা বাস করেন।

গরুর গোশত নিয়ে বিতর্কের জেরে চলতি বছরেই মেঘালয়ের কয়েকজন বিজেপি নেতা দল থেকে পদত্যাগ করেছেন।

গরুর গোশতে দ্বিচারিতা দেখে বিজেপি’র বিরুদ্ধে কটাক্ষ করে মজলিশ ই ইত্তেহাদুল মুসলেমিন প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি গত এপ্রিলে কটাক্ষ করে বলেন, ‘বিজেপি’র ভন্ডামি হল, উত্তর প্রদেশে গরু মাম্মি (মা) এবং উত্তর-পূর্বে তা ইয়াম্মি (মুখরোচক)।’

ভারতের বিজেপিশাসিত রাজস্থান প্রদেশের আলওয়ারে কিছু হিন্দু অ্যাক্টিভিস্টের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ এক মুসলিম পরিবার থেকে ৫১টি গরু ছিনিয়ে নিয়ে গোশালায় হস্তান্তর করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত ১০ দিন ধরে ওই মুসলিম পরিবারের কর্তা সুব্বা খান (৪৫) তার গরু ফিরে পাওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তবে, পুলিশ বলছে ওই ঘটনায় তাদের কোনো হাত নেই।

রাজস্থানে গত এপ্রিল মাসে স্বঘোষিত গো-রক্ষকদের গণপিটুনিতে নিহত হন দুধ ব্যবসায়ী পহেলু খান। সেই ঘটনার জের না মিটতেই এবার মুসলিম সম্প্রদায়ের অন্য সদস্যদেরকে হিন্দু সংগঠন টার্গেট করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

গণমাধ্যমে দেয়া সাক্ষাৎকারে সুব্বা খান বলেন, গো-রক্ষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ জোর করে ৫১টি গরু ছিনিয়ে নিয়ে গোশালায় পাঠিয়ে দিয়েছে। তিনি এখন এসডিএম দফতর ও থানায় ঘুরে বেড়াচ্ছেন কিন্তু এ পর্যন্ত কোনো ফায়দা হয়নি।

অন্যদিকে, পুলিশের দাবি, ওই ঘটনায় তাদের কোনো হাত নেই। স্থানীয় লোকেরাই গরুগুলো গোশালায় নিয়ে গিয়েছিল।

সুব্বা খানের বাসায় বর্তমানে ১৭টি বাছুর থাকায় তাদের এখন বাধ্য হয়ে বোতলে করে দুধ খাওয়াতে হচ্ছে। তিনি এসডিএম দফতর এবং থানায় হলফনামা দিয়ে বলেছেন, সমস্ত গরুই দুধেলা এবং তাদের বাছুর তার বাসায় রয়েছে।

স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান শের মুহাম্মদ বলেন, পুলিশের দাবি সুব্বা খান গরু জবাইতে জড়িত ছিলেন। শের মুহাম্মদ বলেন, যদি এরকম হয় তাহলে পুলিশ তার বিরুদ্ধে মামলা করেনি কেন?

আলওয়ারের পুলিশ সুপার রাহুল প্রকাশ বলেন, এ ধরণের ঘটনা তার জানা নেই।

কিশানগড়ের পুলিশ কর্মকর্তা রাঠোর সুব্বা খানের বাসা থেকে গরু ছিনিয়ে যাওয়ার কথা অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, গ্রামবাসীরাই সুব্বা খানের গরু গোশালায় নিয়ে গিয়েছিল।

এবার গ্রামবাসীরা এসডিএমকে চিঠি লিখে বলেছেন, সুব্বা খান গরু পাচারের সঙ্গে জড়িত নন। দুধ বিক্রি করে তার সংসারের জীবিকা নির্বাহ হয়।

মুহাম্মদ বলে, যদি মুসলিমদের এভাবে টার্গেট করা হয় তাহলে রাজ্য সরকারের উচিত আইন তৈরি করে মুসলিম সম্প্রদায়কে গরু পালন এবং পালিত পশু রাখায় নিষেধাজ্ঞ জারি করা।