শুক্রবার, ২৫শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ধানের দামে কৃষক খুশি, চালের দামে ভোক্তা

সেরাকণ্ঠ ডট কম :
জুলাই ১, ২০১৭
news-image

ধানের ভালো দাম পেয়ে খুশি প্রান্তিক কৃষকরা। রাজধানীর পাশের জেলা মানিকগঞ্জ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। কিন্তু ঈদের আগে জেলা শহরটির দুধবাজারে চাল কিনতে আসা ভোক্তাদের ভ্রু কুচকে তাকানোই বলে দেয় তারা পড়েছেন বিড়ম্বনায়। রাজধানীতেও ক্রেতাদের মধ্যে দেখা গেছে প্রায় একইরকম প্রতিক্রিয়া।

কারণ আগের তুলনায় কেজি প্রতি ৮-১০ টাকা বেশি দিয়ে চাল কিনতে হচ্ছে তাদের।

তবে কৃষকরা জানিয়েছেন, বাজারে চালের দাম নিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে অসন্তুষ্টির জন্য তারা দায়ী নন। তাদের (কৃষক) এবং ভোক্তার মধ্যে ব্যাপারী, মিল মালিকদের মতো অতি মুনাফা প্রত্যাশি একটি শ্রেণী রয়েছে।

কৃষকরা মনে করেন এজন্যই বাজারে বেড়েছে চালের দাম। তারা সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করলে চালের সর্বনিম্ন দাম ৩৫-৩৮ টাকার বেশি হতো না।

 

ধানের দাম পেয়ে খুশি চরমকিমপুরের কৃষকরা
মানিকগঞ্জের চরমকিমপুর গ্রামের কৃষক মো.আব্দুল্লাহ জানান, এবারের বৃষ্টিপাত তাদের সেচ এবং বালাইনাশকের খরচ কমিয়েছে। ৫-৬ হাজার টাকা খরচে প্রতি বিঘা থেকে ২২-২৪ মণ ধান উঠেছে গোলায়।মধ্যস্বত্তভোগীদের দৌরাত্ম্যও গত মৌসুমের তুলনায় সহনীয় মাত্রায় ছিলো। কারণ গতবার বেঁধে দেয়া দরে কেউ ধান বিক্রি করতে পারেনি। গত মৌসুমে ১ মণ ধান বিক্রি করে কৃষক বড়জোর ৭’শ থেকে সাড়ে ৭’শ টাকা পেয়েছিলো। কিন্তু এবার ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা পেয়েছে তারা।

 

মকিমপুর থেকে যে বাজারে যেতে মাত্র আধ ঘণ্টা লাগে সেই বাজারে (দুধবাজার) চাল কিনতে আসা নিম্নবিত্তের ভোক্তারা আছেন বিপাকে।

 

রাজশাহী-২৮ জাতের চাল কিনে দোকান থেকে বের হওয়া গোবিন্দ ঘোষ বলেন,‘ আগে যে চাল খেতাম ৪০-৪২টাকায় এখন সেটা ৫৬ টাকায় কিনতে হচ্ছে।’

ঈদের আগে প্রতিবারই বাজার দর মাত্রা ছাড়িয়ে যায় অভিযোগ করেন চাল কিনতে আসা আব্দুল মান্নান।

অবসরপ্রাপ্ত এই সরকারি কর্মকর্তা বলেন,‘ গতবছরের চেয়ে এবার একই চাল ১০-১২ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে।’

ইরি-বোরো ২৮ ও ২৯ সহ অন্যান্য চালের দাম যে হঠাৎ মাত্রা ছাড়িয়েছে সেটা স্বীকার করে নিলেন দুধবাজারের চাল বিক্রেতা মিজানুর রহমান ও বজলু মিয়া।

তারা জানান, খুচরা আড়তে চালের দাম ক্রেতাদের নাগালে রাখতে হলে মিল মালিকদের দিকে সরকারের কঠোর নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ দরকার। কারণ তাদের জন্য বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পায় অথচ ভোক্তার সামনে বিড়ম্বনাময় পরিস্থিতিতে পড়তে হয় তাদের।

 

খুচরা বিক্রেতারাও অস্বস্তিতে
চাল বিক্রেতা মিজানুর বলেন,‘কয়েক মাস আগেও যে চাল ৩০-৩২ টাকায় বিক্রি করতে পারতাম, সেই চাল এখন ৪৬-৪৮ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। মিল মালিকদেরকে ট্রাক প্রতি লাখ টাকার বেশি দিয়ে চাল কিনতে হচ্ছে আমাদের।’

মানিকগঞ্জসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে খুচরা বাজারে মোটা চাল প্রতি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৪৮টাকা। পাইজাম বিক্রি হচ্ছে ৫০টাকায়। বিরি-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৫৬ টাকায়। তবে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মিনিকেট। প্রতি কেজি মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৫৬-৬০ টাকায়। কোথাও কোথাও চালের মান ভেদে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের দামের এই উচ্চগতিতে আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই।

এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার চালের আমদানির ওপর ট্যারিফ ২৮ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, প্রতি কেজিতে চাল ৬ টাকা কমে যাবে। প্রতি কেজিতে চাল যদি ৬ টাকা কমে যায় তাহলে মোটা চাল প্রতি কেজিতে বিক্রি হবে ৪২ টাকায়। পাইজাম বিক্রি হবে ৪৪ টাকায়। বিরি-২৮ ৫৪ পরিবর্তে বিক্রি হবে ৪৮ টাকায়। বাজারে সবচেয়ে বেশি দামের চাল মিনিকেট বিক্রি হবে আনুমানিক ৫৪ টাকায়।