বৃহস্পতিবার, ২৪শে নভেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

বিএনপিকে নিয়ে কানাডার আদালতের মন্তব্যের প্রভাব কী?

সেরাকণ্ঠ ডট কম :
মে ২৭, ২০১৭

কানাডার একটি আদালতের দুটি রায়ে বিএনপিকে বলা হয়েছে সন্ত্রাসী সংগঠন। জামায়াতসহ ধর্মভিত্তিক সংগঠনের সঙ্গে জোট নিয়ে গত কয়েক বছর ধরেই যখন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে তখন এই রায় দলটির জন্য নতুন কোনো সমস্যা তৈরি করবে কি না।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের এক নেতার রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন নাকচ করে কানাডার ফেডারেল কোর্টের এক রায় প্রকাশ হয়েছে গত ১২ মে। এতে বিএনপি নেতার আবেদন নাকচ করে বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলা হয়।
এর আগেও বিএনপির সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক দলের একজন কর্মীর রাজনৈতিক আশ্রয় সংক্রান্ত জুডিশিয়াল রিভিউর আবেদনে ফেডারেল কোর্টের বিচারক জাস্টিস ব্রাউন বিএনপিকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে অভিহিত করেছিলেন।
২০১২ ও ২০১৩ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে এবং ২০১৫ সালে সরকার পতনের আন্দোলনে বাংলাদেশে ব্যাপক সহিংসতা হয়। বিএনপি এসব সহিংসতার জন্য সরকারের এজেন্টদের দায়ী করলেও সরকার বিএনপিকেই দায়ী করেছে। আর কানাডার আদালতের রায়ে এসব সহিংসতার কথাই বলা হয়েছে।
বিদেশি কোনো আদালতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় এর আগে কোনো দলের বিষয়ে এমন মন্তব্য করা হয়নি। দুইবারই বিএনপি নেতাদের বক্তব্য ছিল রক্ষণাত্মক।
বুধবার বিএনপিকে দ্বিতীয়বারের মত সন্ত্রাসী সংগঠন বলার সংবাদ প্রকাশ পায় বাংলাদেশে। এ সময় অন্য একটি বিষয়ে সংবাদ সম্মেলন করছিলেন দলের নেতা রুহুল কবির রিজভী। এ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘একটি দেশের আদালত কিছু বলে দিলে তাতে সবকিছু প্রমাণ হয়ে যায় না। আর একজন ব্যক্তির বক্তব্যের ভিত্তিতে ‍চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা যায় না।’
কানাডার আদালতে রায় বিএনপির জন্য নতুন কোনো সমস্যা তৈরি করবে কি না-জানতে চাইলে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেন, ‘আমি এ বিষয়ে কিছু বলব না। কারণ আমরা তো রায়ের কপি এখনো পাইনি। কী রায় দিল, কীসের ভিত্তিতে তারা রায় দিল সেটা তো আমাদের আগে বুঝতে হবে। এরপর আমরা এ বিষয়ে কথা বলব।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাশেম মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন মনে করেন এমনিতে বিপাকে থাকা বিএনপির জন্য এই রায় আন্তর্জাতিক অঙ্গণে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নতুন সমস্যা তৈরি করতে পারে। সরকার এই সুযোগ কোনোভাবেই ছাড়বে না। তারা এখন বিদেশিদের সঙ্গে আলোচনায় এই বিষয়টি বারবার তুলে ধরবে।
এই জামালউদ্দিন বলেন, ‘কানাডার আদালত যখন কোনো রায় দেয় তখন সেটাকে কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় গুরুত্বের সঙ্গে দেখে। কারণ তাদের গ্রহণযোগ্যতা অন্য উচ্চতায়। এ কারণে সেদেশের আদালত যখন বিএনপিকে সন্ত্রাসী দল বলেছে, সেটি বিএনপিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাকফুটে নিয়ে যাবে।’
অবশ্য একই বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক শান্তনু মজুমদার মনে করেন, কানাডার আদালতের রায়ের রাজনৈতিক তেমন প্রভাব পড়ার কথা না। তিনি বলেন, ‘রায় এসেছে কানাডায়, কিন্তু বিএনপি তো আর সে দেশে রাজনীতি করে না। যারা বিশ্ব মোড়ল আছে তারা তাদের স্বার্থ নিয়ে কথা বলবে। তারা কোন আদালতের রায়ে কী বলল সেটা নিয়ে ভাববে না। বিশ্ব মোড়লরা মূলত জঙ্গি এবং যুদ্ধাপরাধ নিয়ে বেশি কনসার্ন। তারা এসব নিয়ে মাথা ঘামাবে না।’
শান্তনু মজুমদার বলেন, ‘শ্রীলঙ্কায় মাহেন্দ্র রাজাপাক্ষের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিকভাবে যুদ্ধাপরাধ মামলার তদন্ত হয়েছে। এর ছয়মাসের মাথায় তিনি দ্বিতীয় বারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন। তার উপর তো আন্তর্জাতিক প্রেসার কাজ করেনি। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এসব নিয়ে আসলে কোনো প্রেসার থাকে না।’
জানতে চাইলে সুপ্রিম কোর্টে বিএনপিপন্থি আইনজীবী নেতা বদরুদ্দোজা বাদল বলেন, কানাডার আদালতের রায় এক তরফা হয়েছে। সেখানে বিএনপির কোনো আইনজীবী ছিল না। এ জন্য এই রায় আন্তর্জাতিক পরিম-লে প্রভাব ফেলবে না।

এ জাতীয় আরও খবর