All posts by lutfor

উন্নয়নের কথা বলে নদী দখল করা যাবে না : নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী

পাওয়ার প্ল্যান্ট, ইকোনমিক জোন বা অন্য কোন উন্নয়নের কথা বলে নদী দখল করা যাবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকা-বরিশাল নৌপথের চাঁদপুর লক্ষ্মীরচর-আলুরবাজার-ঈশানবালা-হিজলা-উলানিয়া-মিয়ারচর নৌপথ পরিদর্শনকালে তিনি এই কথা জানান।তুরাগ নদীর তীরভূমি  দখল করে আরিশা পাওয়ার প্ল্যান্টের স্থাপনা নির্মাণে হাইকোর্টের নির্দেশনা সম্পর্কে জানতে চাইলে নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাওয়ার প্ল্যান্ট, ইকোনমিক জোন বা অন্য কোন উন্নয়নের কথা বলে নদী দখল করা যাবে না। এখানে আমরা নদীর অবৈধ দখলদারকে উচ্ছেদ করছি। এক্ষেত্রে পাওয়ার প্ল্যান্টের কোনও সম্পর্ক নাই।তিনি বলেন, ব্যবসায়িক স্থাপনাকে ঘিরে কেউ যদি নদী দখল করতে চায়, তা কখনোই গ্রহণযোগ্য হবে না। পাওয়ার প্ল্যান্ট পাওয়ার প্ল্যান্টের জায়গায়, ইকোনমিক জোন ইকোনমিক জোনের জায়গায় আছে। কিন্তু যখন এটা নদীর জায়গায় আসবে তখনই সমস্যা।এই বিষয়ে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) চেয়ারম্যান কমডোর গোলাম সাদেক বলেন, হাইকোর্ট এটা নিষ্পত্তি করতে বলেছিলেন। তার যে আবেদন ছিল, ক্ষতিপূরণ দেওয়া, আমরা যেন উচ্ছেদ না করি। আমরা তো এখানে পুরো পাওয়ার প্ল্যান্ট উচ্ছেদ করছি না। আমরা শুধু উনি যতটুকু নদীর জায়গা ভরাট করেছেন তা সরিয়ে নিতে বলেছি। আবার আমরা হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে বুঝিয়ে দিয়েছি কোনও জায়গাটুকু তাকে সরাতে হবে। এটা আমরা তাকে চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছি। আরিশা ইকোনমিক জোনের বিষয়ে বেজা একটি চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়েছে যতটুকু নদীর জায়গা আছে তা ছেড়ে দিয়ে ইকোনমিক জোন করতে হবে।নৌ প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী রুটে ফেরি আট দিন বন্ধ ছিল।  কারণ অতিরিক্ত স্রোত ও পলি জমে যাওয়ার কারণে নদী ভরাট হয়ে যাচ্ছে এবং পথগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। একইভাবে আমাদের বরিশালে রুটের মিয়ার চরেও নৌ পথও বন্ধ হয়ে গিয়েছিলে। এখন আমাদের ইলিশা দিয়ে ঘুরে যেতে হচ্ছে।  সেই অবস্থায় আলু বাজার থেকে হিজলা হয়ে নৌপথ হয় কিনা সেটা নিয়ে আমাদের মন্ত্রণালয়ের পক্ষে দুটি সভা করেছি। সেখানে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের হাইড্রোগ্রাফার ও প্রধান প্রকৌশলী ছিলেন। আমাদের বিআইডব্লিউটিএর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ছিলেন।তিনি বলেন, সভায় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি কীভাবে ড্রেজিং করলে নৌ চলাচল করতে পারবে। আজ সরেজমিনে পরিদর্শনে আসলাম। আমরা সর্বশেষ সার্ভে রিপোর্টে আশ্বস্ত হয়েছি, আগে যে সব ছোট ছোট লিঙ্ক নৌপথ আছে সেগুলো সচল করতে পারি।মিয়ারচর, কালীগঞ্জ ও আলু বাজার এই তিন চ্যানেলের মধ্যে আপনারা কোন রুটটি বাছাই করবেন এমন প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কোনও নৌ রুটই বাদ দিচ্ছি না। মিয়ার চরে যে পথটা আছে তা আমরা ড্রেজিং করে চালু করবো। পাশাপাশি  আলুবাজার চ্যানেলটিও চালু রাখতে চাই। আমরা বরিশালের বহুমাত্রিক পথ রাখতে চাই। কারণ কোনও কারণে যদি প্রতিবন্ধকতা তৈরি তাহলে আমরা যেন বিকল্প পথ ব্যবহার করতে পারি। সেই জন্য সব পথ চালু করতে চাই।শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ফেরিঘাট সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, গতকাল আমরা রো রো ফেরি চালিয়েছিলাম। কিন্তু তা ঠিকমতো চালাতে পারি নাই।  সেখানে কে টাইপ ফেরি চলছে। এই পথটা বন্ধ হওয়ার কারণ হচ্ছে পদ্মাসেতুর পিলারগুলো, এগুলো এক বছর আগেও ছিল না। এটা হয়ে যাওয়ার কারণে অতিরিক্ত পলি জমছে। সেখানে একদিনের মধ্যে আমাদের নৌপথ বন্ধ হয়েছে। এটা যেহেতু পদ্মাসেতুর কাছাকাছি, তাই বিআইডব্লিউটিএর পক্ষে ড্রেজিং করার সুযোগ নাই।  এটা পদ্মাসেতু কর্তৃপক্ষ সিনো হাইড্রোকে দায়িত্ব দিয়েছে, তারা করেছে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। এখন পদ্মাসেতু কর্তৃপক্ষ ড্রেজিং বসিয়েছে এবং ড্রেজিং করছে। আমাদের ১০টি ড্রেজার কাজ করছে, আজকেও একটি ড্রেজার যুক্ত হচ্ছে।তিনি বলেন, আমরা যখন নৌপথ তৈরি করছিলাম, তখন শিমুলিয়ায় আবারও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এটাও আমাদের জন্য একটা চ্যালেঞ্জ। কাজেই এখানে বিআইডব্লিউটিএর সঙ্গে বিআইডব্লিউটিসির কোনও সমন্বয়হীনতা নেই। যখনই পথ তৈরি হবে তখনই ফেরি চালু হবে।প্রতিমন্ত্রী বলেন, এখানে আমাদের নৌপথের থেকেও প্রথম গুরুত্ব দিতে হবে স্বপ্নের পদ্মাসেতুর বিষয়ে। পদ্মাসেতুর কার্যক্রম বিঘ্নিত করে, পদ্মাসেতুকে ঝুঁকিতে ফেলে আমরা কোন পথ তৈরি করতে চাই না।এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য পঙ্কজ দেবনাথ, বিআইডব্লিউটিএ ‘র সদস্য পরিচালনা ও পরিকল্পনা মো. দেলোয়ার হোসেন, পরিচালক বন্দর ও পরিবহন কাজী ওয়াকিল নেওয়াজ, প্রধান প্রকৌশলী (ড্রেজিং) আবদুল মতিন, পরিচালক নৌ নিরাপত্তা মো. রফিকুল ইসলাম প্রমুখ।

চি‌কিৎসার জন্য কার্গো বিমানে সিঙ্গাপুর যাচ্ছেন ফারুক

রাজধানীর এক‌টি বেসরকা‌রি হাসপাতালে কয়েক‌দিন ধ‌রে চি‌কিৎসাধীন ‌ঢাকাই ছবির মিয়াভাই খ্যাত অভিনেতা ও সংসদ সদস্য আকবর হো‌সেন পাঠান ফারুক।রক্তে সংক্রমনের কারণে ফারুকের শা‌রীরিক অবস্থা ক্রমান্বয়ে অবন‌তির দিকে যাচ্ছে বলে জা‌নিয়েছেন তার স্ত্রী ফারহানা ফারুক। তাই তাকে উন্নত চি‌কিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর নিতে চাইছিলেন।

অব‌শে‌ষে ডাক্তারদের পরাম‌র্শে তা‌কে আগামীকাল জরুরিভা‌বে সিঙ্গাপুর নেয়া হ‌চ্ছে। ‌বে বি‌শেষ কো‌নো ফ্লাইট বা এয়ার অ্যাম্বু‌লে‌ন্সে নয়।পণ্যবাহী কার্গো বিমানে করেই তি‌নি আগামীকাল সকালের এক‌টি ফ্লাইটে দেশ‌টিতে যাবেন বলে নি‌শ্চিত করেছেন ফারুকের স্ত্রী ও তার ব্যক্তিগত সহকারী।

রোববার সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কার্গো বিমানের একটি ফ্লাইটে করে এ অভিনেতাকে দেশটির মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে নেয়া হবে। তার সঙ্গে স্ত্রীও যাবেন।এ প্রস‌ঙ্গে ফারহানা ফারুক বলেন, করোনাভাইরা‌সের কারণে এখনও যাত্রীবাহী বিমানের ফ্লাইট নিয়মিত নয়। এদিকে অপেক্ষা করার মতো সময়ও আমা‌দের হাতে নেই।

উনার শরীর বেশ অসুস্থ। তাই কার্গো বিমানে করেই সিঙ্গাপুর যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। কয়েক‌দিন ধরেই মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি, তারা অনুমতি দেয়ার পরই রওয়ানা দি‌চ্ছি।

ত‌বে কা‌র্গো বিমা‌নে ক‌রেই কেন সিঙ্গাপুর যে‌তে হ‌চ্ছে, এয়ার এম্বু‌লেন্স নয় কেন? এমন প্রশ্নের জবা‌বে ফারুক ব‌লেন, আমি তো বি‌শেষ কেউ নই। সারাজীবন অভিনয় করে‌ছি। রাজনী‌তি ক‌রে‌ছি দেশ‌কে ভা‌লো‌বে‌সে, বঙ্গবন্ধু‌কে ভা‌লো‌বে‌সে।

আমার সামর্থ অনুযায়ী আমি চলা‌ফেরা করার চেষ্টা ক‌রে‌ছি। তাছাড়া এয়ার অ্যাম্বু‌লে‌ন্সের খরচের বিষয়‌টিও দেখ‌তে হ‌বে। সিঙ্গাপুর গি‌য়ে কী প‌রিমান অর্থ লাগ‌বে সেটার বিষ‌য়েও সতর্ক থাক‌তে হ‌বে।তাই আগে থে‌কেই সব চিন্তার ম‌ধ্যে রাখ‌ছি। তাই কা‌র্গো আর অন্য বিমা‌নের স‌ঙ্গে তফাৎ খুঁজ‌ছি না এখন। আমার যাওয়াটা জরুরি, তাই যেভা‌বে পার‌ছি দ্রুত যা‌চ্ছি।

সংসদ সদস্য হি‌সে‌বে সরকারের পক্ষ থে‌কে কী কো‌নো সহায়তা করা হ‌চ্ছে না? জান‌তে চাই‌লে তি‌নি ব‌লেন, সরকারী পর্যায় থে‌কে আমার চিকিৎসার জন্য সর্বোচ্চ সচেতন র‌য়ে‌ছেন সবাই। সকাল-বিকাল খোঁজ নিচ্ছেন, শা‌রীরিক অবস্থা জান‌তে চাইছেন।

এমনটাও আমা‌কে বলা হ‌য়ে‌ছে, আমার কিছু লাগবে কী না? কিন্ত যতক্ষণ আমার সামর্থ্য আছে ততক্ষণ কিছু নি‌তে চাই না। আমি সবার কাছে শুধু দোয়া চাই।যেন সুস্থ হয়ে আবারও যা‌তে মানু‌ষের সেবায় ফিরতে পারি। য‌দি কখনও বিপ‌দে প‌ড়ে যাই তাহ‌লে সেটা তখনই জান‌তে পার‌বেন। এখনই আমি হতাশ হ‌তে চাই না।

প্রসঙ্গত, গত ১৮ আগস্ট শরী‌রে জ্বর নি‌য়ে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন ফারুক। সেখা‌নে তখন ক‌’রো’নাসহ নানাবিধ পরীক্ষা করা হ‌য়ে‌ছিল। পরীক্ষায় ক‌রোনা নে‌গে‌টিভ এসেছিল।ত‌বে শা‌রীরিক সমস্যার কারণ কী সেটা নির্ধারণ করা সম্ভব হয়‌নি। এরপর কিছুটা সুস্থ হ‌য়ে ২৬ আগস্ট বাসায় ফি‌রে যান। বাসায় গি‌য়ে আবার জ্বরে আক্রান্ত হন। ফের ৩১ আগস্ট আবারও একই হাসপাতালে ভর্তি হন।

এ সময় আবারও তার ক‌রোনা পরীক্ষা করা হয় এবং সেটাও নে‌গে‌টিভ আসে। একই সময় টাইফয়েড, ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়ার নমুনাও পরীক্ষা করা হয়। এগু‌লোর ফলাফলও ছিল নেগেটিভ। কিন্তু জ্বর কিছু‌তেই কম‌ছিল না।এরপর পা‌রিবা‌রিক সিদ্ধা‌ন্তে তা‌কে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এ হাসপাতা‌লেও পরীক্ষা নী‌রিক্ষা ক‌রে রোগ নিরুপণ এবং শা‌রিরীর অবস্থার উন্ন‌তি না হওয়ায় সেখান থে‌কেই ডাক্তাররা তা‌কে সিঙ্গাপুর নেয়ার পরামর্শ দেন ব‌লে জানা গে‌ছে। সেই প্রে‌ক্ষি‌তে আগামীকাল উন্নত চি‌কিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর যা‌চ্ছেন এই অভিনেতা ও সংসদ সদস্য।

করোনা থেকে সুস্থ দুই কোটি ৫ লাখের বেশি মানুষ

বৈশ্বিক মহামারি নভেল করোনাভাইরাসে সারা বিশ্বে আজ শনিবার পর্যন্ত আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছে দুই কোটি ৮৬ লাখের বেশি মানুষ। তাদের মধ্যে বর্তমানে ৭১ লাখ ৫৪ হাজার ৮৫৮ চিকিৎসাধীন এবং ৬০ হাজার ৮৯৫ জন (১ শতাংশ) আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছে। তবে ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার পর সুস্থ হয়ে উঠেছে অনেক মানুষ। এ পর্যন্ত করোনাভাইরাস আক্রান্তদের মধ্যে দুই কোটি পাঁচ লাখ ৮২ হাজার ১৮৪ জন সুস্থ হয়ে উঠেছে।

বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান জানার অন্যতম ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটারের তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাসজনিত কোভিড-১৯ রোগ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে সেরে উঠেছে ৩৯ লাখ ১৭ হাজার ৯৬২ জন, ভারতে ৩৬ লাখ ২১ হাজার ৪৩৮, ব্রাজিলে ৩৫ লাখ ৩০ হাজার ৬৫৫, রাশিয়ায় আট লাখ ৬৮ হাজার ১০৭, দক্ষিণ আফ্রিকায় পাঁচ লাখ ৭৪ হাজার ৫৮৭, পেরুতে পাঁচ লাখ ৫২ হাজার ২১৪, কলম্বিয়ায় পাঁচ লাখ ৮২ হাজার ৬৯৪, মেক্সিকোতে চার লাখ ৬৩ হাজার ৬৬৪,

চিলিতে চার লাখ তিন হাজার ৬৪, ইরানে তিন লাখ ৪২ হাজার ৫৩৯, সৌদি আরবে তিন লাখ ৯৯৩ হাজার, পাকিস্তানে দুই লাখ ৮৮ হাজার ৫৩৬, তুরস্কে দুই লাখ ৫৬ হাজার ৫২৪, জার্মানিতে দুই লাখ ৩৪ হাজার ৮৫০, বাংলাদেশে দুই লাখ ৩৬ হাজার ২৪, ইতালিতে দুই লাখ ১২ হাজার ৪৩২, স্পেনে এক লাখ ৯৭ হাজার ৪৩১ জন, কাতারে এক লাখ ১৮ হাজার ১৯৯, কানাডায় এক লাখ ১৯ হাজার ৬৭৪, ফ্রান্সে ৮৯ হাজার ৫৯ জন, ওমানে ৮৩ হাজার ৩২৫ এবং চীনের মূল ভূখণ্ডে ৮০ হাজার ৩৮৬ জন সুস্থ হয়ে উঠেছে।

এ ছাড়া কুয়েতে ৮৩ হাজার ৬৬০ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ৬৮ হাজার ৪৬২, সিঙ্গাপুরে ৫৬ হাজার ৬০৭, সুইজারল্যান্ডে ৩৮ হাজার ১০০, দক্ষিণ কোরিয়ায় ১৮ হাজার ২৯, অস্ট্রেলিয়ায় ২৩ হাজার ২১৭ ও মালয়েশিয়ায় ৯ হাজার ১৮১ জন সুস্থ হয়ে উঠেছে।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম দেখা দেওয়া প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৩টি দেশ, অঞ্চল এবং দুটি আন্তর্জাতিক প্রমোদতরীতে ছড়িয়েছে। করোনাভাইরাসে সারা বিশ্বে এখন পর্যন্ত ৯ লাখ ১৯ হাজার ৭০৬ জন রোগী মারা গেছে। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

নলকূপ থেকে একাই উঠছে পানি, গোপন রোগসহ ব্যাধি সারাতে মানুষের ভিড়

নলকূপের পানি পান করলেই মিলবে রোগমুক্তি! সারবে দুরারোগ্য ব্যাধি ক্যান্সারসহ নানা ধরনের জটিল ও গোপন রোগ। এমন গুজব ছড়িয়ে পড়ার পরই দূর-দূরান্ত থেকে পানি নিতে শত শত মানুষ ভিড় করছে মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের আনারুলের বাড়িতে।

চারদিন ধরে ওই বাড়ির টিউবওয়েলে কোনো বৈদুতিক মোটর বা হাতের চাপ ছাড়াই পানি উঠছে। এ পানি পান করে কারো রোগমুক্তি হয়েছে কিনা কেউ বলতে পারেনি।এটিকে পুঁজি করে ব্যবসার ফন্দিও আটছে একটি চক্র। প্রশাসন বলছে, যদি কেউ প্রতারণা করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জানা গেছে, ভবানীপুর গ্রামের আনারুল ফকিরের বাড়ির টিউবওয়েল দিয়ে হঠাৎ পানি উঠতে থাকে। এলাকার লোকজন এটিকে আল্লাহর নিয়ামত মনে করে এর পানি পান করলে রোগমুক্তি হবে ভেবে পানি নেয়া শুরু করেন। অনেকেই রোগমুক্তির প্রচারণা চালানোর পর ভবানীপুর ও আশপাশের এলাকার লোকজন পানি নিতে ভিড় জমাচ্ছেন ওই বাড়িতে।

কেউ আসছেন গোপন রোগ ভালো করতে। আবার অনেকেই আসছেন ক্যান্সারসহ দূরারোগ্য রোগ থেকে মুক্তি পেতে। বিশেষ করে শুক্রবার বিকেল থেকে পানি নেয়ার জন্য ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।শুক্রবার বিকেলে সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষের ভিড়। কেউ পানি নিয়ে যাচ্ছেন। আবার কেউ ওখানেই নিয়ত করে পানি পান করছেন।

পানি নিতে আসা কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের গরুড়া গ্রামের মহিদুল জানান, তার ও তার ছোট ভাইয়ের গোপন রোগ মুক্তির জন্য পানি নিতে এসেছেন। ডাক্তার কবিরাজের কাছে চিকিৎসা নিয়েও তা ভালো হয়নি।

ভবানীপুরের হাবিবুর জানান, চোখে কম দেখেন তিনি। ওই পানি দিয়ে চোখ পরিষ্কার করলে ভালো হবে মনে করে খাস নিয়তে তিনি পানি নিয়ে যাচ্ছেন। কাউকে কোনো টাকা দিতে হচ্ছে না।গোয়াল গ্রামের বৃদ্ধা চম্পা এসেছেন তার মেয়ের বন্ধ্যাত্ব দূর করতে। বিয়ের ১০ বছর পার হলেও তার মেয়ের কোনো সন্তান নেই।

এদিকে একটি চক্র ওই টিউবওয়েলটিকে ঘিরে ব্যবসার ফন্দি আটছে। অনেকেই এটিকে অলৌকিক বলে দাবি করে মানুষকে উদ্বুদ্ধ করছেন। তাদের দাবি, পানি পান করলে রোগ ভালো হবে। পানির অপর নাম জীবন। অনেকের রোগ ভালো হয়েছে বলে দাবি করলেও কোনো লোককে দেখাতে পারেননি তারা।

মেহেরপুর হোটেল বাজার জামে মসজিদের ইমাম সিদ্দিকুর রহমান জানান, এসব কুসংস্কার। রোগব্যাধি ভালো করার জন্য মানুষ ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নেবে। পানি পান করলে কোনো রোগ ভালো হয় কিনা সেটি তার অজানা।

মেহেরপুর সিভিল সার্জন ডা. নাসির উদ্দিন জানান, আমরা ঘটনাটি জেনেছি। এটির সঙ্গে বৈজ্ঞানিক কোনো ভিত্তি নেই। নলকূপের পানিতে রোগমুক্তি হয় এমন তথ্য চিকিৎসা বিজ্ঞানে নেই। যারা পানি নিচ্ছে বা পান করছে তারা গুজবে কান দিয়ে সেখানে ভিড় করছে বলেই আমরা মনে করি।

গাংনী থানার ওসি ওবাইদুর রহমান জানান, ওই স্থানে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য নজরদারিতে রাখা হয়েছে। পুলিশ ক্যাম্পে জানানো হয়েছে ও সতর্ক করা হয়েছে।গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেলিম শাহনেওয়াজ জানান, ওই টিউবওয়েলের পানিতে রোগ সারবে কীভাবে তা বোধগম্য নয়। এটি প্রতারণার ফাঁদ মাত্র। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে জানানো হবে এবং টিউবওয়েলটি বন্ধ করে দেয়া হবে।

দেশে অনেক কমেছে করোনায় শনাক্ত, মৃত্যু ৩৪

নভেল করোনাভাইরাস জনিত কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে চার হাজার ৭০২ জনের মৃত্যু হলো।এ ছাড়া দেশে নতুন করে আরো এক হাজার ২৮২ জনের করোনাভাই’রাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে মোট তিন লাখ ৩৬ হাজার ৪৪ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় করোনা থেকে সুস্থ হয়েছে দুই হাজার ২৪৭ জন। দেশে মোট সুস্থ হয়েছে দুই লাখ ৩৮ হাজার ২৭১ জন।

আজ শনিবার দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৯৪টি ল্যাবে নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষা করা হয়েছে। সংগৃহীত নমুনার সংখ্যা ছিল ১০ হাজার ৯৮টি। পরীক্ষা হয়েছে ১০ হাজার ৭২৩টি। এর মধ্যে আগের কিছু নমুনা ছিল।গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৩৪ জনের মধ্যে পুরুষ ২৩ ও নারী ১১ জন। এ পর্যন্ত করোনায় তিন হাজার ৬৬১ জন পুরুষের মৃত্যু হয়েছে এবং নারী মারা গেছে এক হাজার ৪১ জন।

বয়স বিবেচনায় মৃতদের মধ্যে ১০ বছরের মধ্যে একজন, ১১ থেকে ২০ বছরের মধ্যে একজন, ৩১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে একজন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে পাঁচজন, ৫১ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে সাতজন ও ষাটোর্ধ্ব ১৯ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃতদের মধ্যে ঢাকা বিভাগে ১৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে সাতজন, রাজশাহী বিভাগে পাঁচজন, খুলনা বিভাগে চারজন ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন। মৃতদের মধ্যে হাসপাতালে ৩৩ জন ও বাড়িতে একজন মারা গেছে।

দেশে গত ৮ মার্চ প্রথম করোনাভাই’রাসে আক্রান্ত রোগী পাওয়ার কথা জানানো হয় এবং প্রথম মৃত্যু ঘটে গত ১৮ মার্চ। এরপর গত ১৪ এপ্রিল ৩৮তম দিনে কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা এক হাজারে দাঁড়ায়।

গত বছরের ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের উহান শহরে প্রথম দেখা দেওয়া প্রা’ণঘা’তী করোনাভাইরাস বাংলাদেশসহ বিশ্বের ২১৩টি দেশ, অঞ্চল এবং দুটি আন্তর্জাতিক প্রমোদতরীতে ছড়িয়েছে। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)।

শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে ইউএনও ওয়াহিদার

দুর্বৃত্তদের হামলায় গুরুতর আহত চিকিৎসাধীন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ওয়াহিদা খানমের শরীরের অবশ অংশের উন্নতি হচ্ছে। তিনি অবশ ডান হাতের কনুই পর্যন্ত তুলতে ও নাড়তে পারছেন। পা নাড়াতে পারছেন না। তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি ধারা অব্যাহত আছে। তাকে অনেকটা শঙ্কামুক্ত বলা যায়।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় ইউএনও ওয়াহিদার শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসা সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য জানান ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্স হাসপাতালের নিউরো ট্রমা বিভাগের প্রধান নিউরো সার্জন ও গঠিত মেডিকেল বোর্ডের প্রধান মোহাম্মদ জাহেদ হোসেন।

মেডিকেল বোর্ডের প্রধান বলেন, ইউএনও ওয়াহিদার মাথায় যে অপারেশন করা হয়েছিল সেখানকার সেলাইগুলো আজকে আমরা কেটেছি। অপারেশনের জায়গাগুলো ভালো আছে। যেসব জায়গায় সেলাই কেটেছি সেসব স্থানও ভালো আছে।

তিনি বলেন, আমরা এখনো তার সব ধরনের খাবার অ্যালাউ করিনি। তিনি সলিড খাবার খাচ্ছেন। তার ব্লাড প্রেসার, সেন্স স্বাভাবিক রয়েছে।

ইউএনও ওয়াহিদাকে এখনো বেডে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে ডা. জাহেদ হোসেন বলেন, ‘আরও দু-একদিন অবজারভেশনে রাখা হবে। আপাতত কেবিনে স্থানান্তর করছি না। কারণ তাকে কেবিনে স্থানান্তর করলে অনেক বেশি ভিজিটর এখানে ভিড় করবেন। সেক্ষেত্রে তার ইনফেকশনের শঙ্কা বেড়ে যায়। সেজন্য আমরা তার শারীরিক অবস্থা বুঝে আরও দু-একদিন পরে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।’

তিনি বলেন, এটা বলা যায়, যেখানে তার চিকিৎসা চলছে সেটাও কেবিনের মতোই এইচডিইউ। এখানে তার উন্নত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।তার অবশ ডান হাতের কনুই পর্যন্ত অংশের উন্নতি হয়েছে। আরও উন্নতির জন্য এখানে দিনে তিন-চারবার তার ফিজিওথেরাপি চলছে বলেও জানান মেডিকেল বোর্ডের প্রধান।

ইউএনও ওয়াহিদাকে শঙ্কামুক্ত বলা যায় কি-না জানতে চাইলে ডা. জাহেদ হোসেন বলেন, তাকে অনেকটা আশঙ্কামুক্ত বলা যায়। তবে তিনি যেহেতু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, সে কারণে যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো জটিলতা তৈরি হতে পারে। সেজন্য আমরা তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছি। এটা বলতে পারি, তার স্বাস্থ্যগত আর কোনো জটিলতা নেই। তার শুধু উন্নতির অবশিষ্ট শুধু ডান হাত ও পা। মোটামুটি তিনি শঙ্কামুক্ত।

করোনায় মৃত্যুর কোটা শূন্যে নামাল কানাডা

 সীমান্তের ওপারেই করোনাভাইরাসে বিশ্বের সর্বোচ্চ আক্রান্ত দেশ যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে এ বৈশ্বিক মহামারিতে প্রাণ হারিয়েছেন প্রায় দুই লাখ মানুষ। প্রতিবেশী দেশটিতে এখনও তাণ্ডব চালাচ্ছে এ ভাইরাস, এর মধ্যেই দৈনিক মৃত্যু পুরোপুরি শূন্যের কোটায় নামিয়ে এনেছে কানাডা। ১৫ মার্চের পর থেকে গত শুক্রবার দেশটিতে প্রথমবারের মতো করোনায় কারও প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।

কানাডার সরকারি স্বাস্থ্য সংস্থার দেয়া তথ্যমতে, গত বৃহস্পতিবারের মতো শুক্রবারও দেশটিতে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৯ হাজার ১৬৩ জন। তবে এদিন সেখানে নতুন করে ৭০২ জন করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়েছেন। এ নিয়ে কানাডায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬২৬ জন।

বলা হচ্ছে, সার্স (সিভিয়ার অ্যাকিউট রেসপিরেটরি সিন্ড্রোম) মহামারি নিয়ন্ত্রণের অভিজ্ঞতা তাদের করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সাহায্য করেছে। ২০০২-০৩ সালের ওই মহামারিতে এশিয়ার বাইরে একমাত্র দেশ হিসেবে কানাডায় প্রাণ হারিয়েছিলেন ৪৪ জন।

গত ২৫ জানুয়ারি কানাডার প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছিলেন টরোন্টোতে। এরপর দ্রুতই মহামারির হটস্পটে পরিণত হয় দেশটির সবচেয়ে জনবহুল দুই প্রদেশ ওন্টারিও এবং কুইবেক। গত ৯ মার্চ প্রথমবারের মতো কোনও কোভিড-১৯ রোগীর মৃত্যু দেখে কানাডা।

মার্চের মাঝামাঝি সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ায় সীমান্ত বন্ধসহ সব আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ করে দেয় দেশটি। শুরু হয় গণহারে নমুনা পরীক্ষা, দ্রুত আলাদা করা হয় আক্রান্তদের। এছাড়াও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে স্কুলবন্ধসহ নানা ধরনের ব্যবস্থা নেয় কানাডা সরকার।

সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আসায় ইতোমধ্যেই শিক্ষার্থীদের স্বশরীরে স্কুলে হাজির হওয়ার অনুমতি দিয়েছে দেশটি। যদিও স্কুল খোলার পর গত কয়েকদিনে কিছুটা বেড়েছে করোনা সংক্রমণের হার। এ নিয়ে কড়া সতর্কতা অবলম্বন করেছে কানাডার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

সূত্র: রয়টার্স

ট্রেনের টিকিট পাওয়া যাচ্ছে কাউন্টারে

করোনা পরিস্থিতির কারণে সাড়ে পাঁচ মাস বন্ধ থাকার পর আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) থেকে কাউন্টারে পাওয়া যাচ্ছে ট্রেনের টিকিট। কমিউটার-মেইল-লোকাল ট্রেনের পাশাপাশি আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিটও পাওয়া যাচ্ছে কাউন্টারে।

জানা গেছে, প্রতিটি ট্রেনে মোট আসন সংখ্যার ৫০ শতাংশ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হচ্ছিল। আজ থেকে এই ৫০ শতাংশ টিকিটের অর্ধেক অর্থাৎ মোট আসন সংখ্যা ২৫ শতাংশ আসন কাউন্টারের মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। বাকি অর্ধেক ২৫ শতাংশ মোবাইল অ্যাপ, অনলাইন ও মোবাইলে ইস্যু করা যাবে।এর আগে গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ রেলওয়ে উপ-পরিচালক (টিসি) মো. নাসির হাসান খাঁন স্বাক্ষরিত এ সম্পর্কিত বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কোনো স্টেশনের অনুকূলে কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণিতে বর্তমান নিয়মে বিক্রিকৃত মোট আসনের ৫০ শতাংশ টিকিটের সংখ্যা যদি ছয়টির ঊর্ধ্বে হয় কেবল সে ক্ষেত্রে কাউন্টার, মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইনের মাধ্যমে ইস্যু করা হবে। টিকিটের সংখ্যা অনধিক ছয়টি হলে তা শুধুমাত্র মোবাইল অ্যাপ ও অনলাইনের মাধ্যমে ইস্যু করা, এক্ষেত্রে প্রতিটি ট্রেনে মোট আসন সংখ্যার ৫০ শতাংশ টিকিট সংখ্যা হতে বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের অনুকূলে ২ শতাংশ আসন সংরক্ষিত থাকে সে সব আসন বাদ দিয়ে হিসাব করতে হবে।টিকিট বিক্রির এই নতুন নিয়ম আজ থেকে কার্যকর। এক্ষেত্রে টিকিট ইস্যু করার অন্যান্য নিয়মগুলি অপরিবর্তিত থাকবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

১ অক্টোবর থেকে ঝুলন্ত তার কাটা শুরু: আতিক

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে আগামী ১ অক্টোবরের আগেই ঝুলে থাকা তার সরানোর নির্দেশ দিয়েছেন মেয়র আতিকুল ইসলাম। তিনি বলেছেন,পয়লা অক্টোবর থেকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে কোন ঝুলন্ত তারের জঞ্জাল থাকবে না। ওইদিন থেকেই ঝুলে থাকা তার কাটা শুরু হবে।আজ শনিবার দুপুরে গুলশানে বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদ পার্কের উদ্বোধনকালে তিনি এ কথা জানান। অনুষ্ঠানে ৯ একর জমির উপর নির্মিত পার্কটি রাজধানীর অন্যতম আধুনিক পার্ক হবে বলে জানান মেয়র।আতিকুল ইসলাম বলেন, আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে রাজধানীর অবৈধ বিলবোর্ড, ফেস্টুন ও ব্যানার উচ্ছেদ অভিযান চলবে। যত বড় ক্ষমতাধারী আসুক না কেন, এ কাজে কেউ বাঁধা দিতে পারবে না।বিচারপতি শাহাবুদ্দিন আহমদ পার্ক উদ্বোধনকালে মার্কিন রাষ্ট্রদূত রবার্ট মিলার ও ভারতীয় দূতাবাসের হাই কমিশনার রিভা গাঙ্গুলি উপস্থিত ছিলেন।

ভারতকে ৩ গুণ বেশি ইলিশ দেবে বাংলাদেশ

মহামারি করোনা ভাইরাসের কারণে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত পেরিয়ে আসা-যাওয়া কার্যত বন্ধ। এদিকে গত বারের মতো এবারও পূজার মৌসুমে ইলিশ রফতানির দরজা খুলছে বাংলাদেশ। এমনটাই জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার।

তারা জানাচ্ছে, বৃহস্পতিবার রাতেই বাংলাদেশ বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ইলিশ রফতানি-সংক্রান্ত অনুমতিপত্র সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর হাতে এসেছে। দিল্লি থেকে ‘স্যানিটারি ইমপোর্ট পারমিট’ আদায় করে মাছ দ্রুত এ দেশে আমদানির তোড়জোড় চলছে।

নির্দেশিকা অনুযায়ী, পূজা উপহার হিসেবে ১০ অক্টোবরের মধ্যে ১৪৫০ মেট্রিক টন ইলিশ পাঠানো যাবে। ২২ অক্টোবর, দুর্গাপূজার সপ্তমী। গতবার ৫০০ মেট্রিক টন ইলিশ পাঠানোর ছাড়পত্র মিলেছিল। এবার মোট নয়টি সংস্থাকে কম করে ১৫০ মেট্রিক টন করে ইলিশ রফতানির অনুমতি দিয়েছে ঢাকা।

পশ্চিমবঙ্গের মৎস্যমন্ত্রী চন্দ্রনাথ সিংহ শুক্রবার বলেন, নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া মেনে ইলিশ আনতে সব রকম সহযোগিতা করছে রাজ্য।

হাওড়ার পাইকারি মাছ কারবারি সংগঠনের কর্তা সৈয়দ আনোয়ার মাকসুদ আনন্দবাজারকে জানিয়েছেন, মাঝে শুক্রবার বাংলাদেশে এবং রোববার ভারতে ছুটি। বাধা কাটিয়ে আগামী সপ্তাহেই ইলিশ আমদানির চেষ্টা চলছে।

তিনি জানান, পেট্রাপোল সীমান্ত দিয়েই ইলিশ ঢুকে কলকাতা, হাওড়া ও শিলিগুড়ি যাবে। এখন এক কেজি-১২০০ গ্রামের বড় ইলিশের দাম কমবেশি ১৩০০ টাকা। পদ্মার ইলিশের দাম তার আশপাশেই থাকবে বলে ধারণা পশ্চিমবঙ্গের ইলিশ ব্যবসায়ীদের।

সূত্র: আনন্দবাজার