All posts by lutfor

চরম ব্যর্থতাই বিএনপির একমাত্র প্রাপ্তি: ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, নির্বাচনে জনগণ থেকে প্রত্যাখ্যান আর আন্দোলনে চরম ব্যর্থতাই বিএনপির একমাত্র প্রাপ্তি।শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে তার বাসভবনে ব্রিফিংকালে তিনি একথা বলেন।

সরকারকে পদত্যাগে বাধ্য করতে ওয়ার্ম আপ চলছে, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ওবায়দুল কাদের বলেন, কোনো ওয়ার্ম আপেই কাজ হবে না, নেতিবাচক এবং হঠকারী রাজনীতির কারণে জনগণ বিএনপিকে চিনে ফেলেছে।যাদের পায়ের নিচে থেকে মাটি সরে যাচ্ছে, তারা আবার সরকার পতনের দিবাস্বপ্ন দেখছে উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, তারা ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নেয়নি বলেই ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে।

ওবায়দুল কাদের বিএনপি নেতাদের উদ্দেশে বলেন, সরকার পতন, আন্দোলন- এসব মুখরোচক শব্দের বৃষ্টি বর্ষণ করে কোনো লাভ নেই। গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে ব্যালটের মাধ্যমে নির্বাচন ছাড়া সরকার পরিবর্তনের কোনো বিকল্প নেই, তাই অলি-গলি পথে না হেঁটে নির্বাচনমুখী হওয়ার জন্য বিএনপি নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।সরকার স্বাধীনতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে, মানুষের অধিকার হরণ করেছে- বিএনপি নেতাদের এমন অভিযোগের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নেতারা যখন এসব কথা বলেন তখনও স্বাধীনতা বিরোধী উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী তাদের বগলদাবায়।

তিনি বলেন, দেশবিরোধী সকল অপশক্তির অভিন্ন প্লাটফর্ম হচ্ছে বিএনপি। যারা নিজেরাই স্বাধীনতার চেতনা নস্যাতে জন্মলগ্ন থেকেই অপতৎপরতা চালাচ্ছে।আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে দেশের স্বাধীনতা এসেছে, জনগণকে সাথে নিয়ে আওয়ামী লীগই এর সুরক্ষা দিতে পারে বলে দাবি করেন ওবায়দুল কাদের।

বিএনপি এদেশে ভোটারবিহীন নির্বাচন করে মানুষের ভোটাধিকার হরণ করেছিল, হরণ করেছিল কৃষক-শ্রমিকের অধিকার এ কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ভোট না দেওয়ার অভিযোগে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর নির্যাতন চালিয়েছিল, আগুন সন্ত্রাসের মাধ্যমে মানুষের স্বাধীন চলাচলের অধিকার হরণ করেছিল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিয়েছেন, দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে এগিয়ে নিয়েছেন এ কথা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরো বলেন, এজন্যই সরকারের উন্নয়নের রাজনীতিতে বিএনপি ঈর্ষাকাতর।ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি নিজেদের অন্ধকার ভবিষ্যত দেখে হতাশায় কাতর, জনগণের সামনে দাঁড়ানোর সাহস এবং বলার মতো কিছুই নেই বিএনপির।তিনি বলেন, তাই তো বিএনপি মিথ্যাচারের সঙ্গী ও অপপ্রচারের বন্ধু হয়েছেন এবং জোট বেঁধেছে অপরাজনীতির সাথে।

আমাদের লড়াই আরো বেগবান হচ্ছে : মির্জা ফখরুল

বিএনপির লড়াই আরো বেগবান হচ্ছে জানিয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা বিশ্বাস করি এই লড়াই অতি অল্প সময়ের মধ্য দিয়ে এক দুর্বার গণ আন্দোলনে পরিণত হবে।শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) দলের আয়োজনে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তৃতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ভোটাধিকার হরণের কালো দিবসের ৩য় বর্ষপূর্তি শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসর পর থেকে যে ষড়যন্ত্র শুরু করে এদেশ থেকে রাজনীতিকে বিতাড়িত করার চেষ্টা করছে, তার বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করে যাচ্ছি। আমরা এখনো লড়াই করছি, আমাদের লড়াই আরো বেগবান হচ্ছে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্যে দিয়ে।তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি এই লড়াই অতি অল্প সময়ের মধ্য দিয়ে এক দুর্বার গণ আন্দোলনে পরিণত হবে। এবং গণ আন্দোলনের মধ্য দিয়ে আমাদের দেশনেত্রীকে মুক্তি করতে সক্ষম হবো। আমরা আমাদের গণতন্ত্রকে মুক্ত করতে সক্ষম হবো।খালেদা জিয়ার মুক্তিই একমাত্র কথা উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্ত চাই। এটা আমাদের এক নাম্বার কথা। কারণ তিনি হচ্ছেন বাংলাদেশের একমাত্র নেত্রী যিনি গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য ৯ বছর সংগ্রাম করেছেন। উড়ে এসে প্রধানমন্ত্রী হন নাই, মানুষকে সাথে নিয়ে হয়েছেন।বিএনপির সহ-দফতর সম্পাদক তাইফুল ইসলাম টিপুর সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় অন্যদের মধ্যে আরো উপস্থিত ছিলেন, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, বেগম সেলিমা রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান শাহজাহান ওমর, নিতাই রায় চৌধুরী, স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল প্রমুখ।

দেশবাসীকে ইংরেজি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী

মহাকালের আবর্তে আরও একটি বছরকে পেছনে ফেলে শুরু হলো নতুন ইংরেজি বছর।সময়ের পার্থক্যভেদে রাত ১২টা ১ মিনিটে ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টে সারাবিশ্বের মানুষ উৎসব আর আনন্দে বরণ করে নিল ২০২০ সালকে। গত বছরের সকল দুঃখ-বেদনা ভুলে বিশ্বের সঙ্গে বাংলাদেশও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে নতুন ইংরেজি বছর।এরই মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ইংরেজি বছরকে বরণ করে নেয়া শুরু হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন। বাণীতে তারা ইংরেজি নতুন বছর উপলক্ষে দেশবাসী, প্রবাসী বাঙালিসহ বিশ্ববাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।রাষ্ট্রপতি তার বাণীতে ২০২০ সালকে জাতীয় জীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ বছর উল্লেখ করে বলেন, এবছর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী সাড়ম্বরে উদযাপিত হবে। এ জন্য গোটা দেশবাসী উন্মুখ হয়ে আছে।

তিনি বলেন, নববর্ষ সকলের মাঝে জাগায় প্রাণের নতুন স্পন্দন, নতুন আশা, নতুন সম্ভাবনা। বিগত বছরের সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা পেছনে ফেলে নতুন বছরে অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ-খ্রিস্টীয় নববর্ষে এ প্রত্যাশা করি।নতুন স্বপ্ন আর সম্ভাবনা নিয়ে যাত্রা শুরু হচ্ছে নতুন বছরের উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে নতুন বছর সবার জীবনে অনাবিল সুখ, শান্তি ও সমৃদ্ধি বয়ে আনার জন্য মহান আল্লাহতায়ালার কাছে প্রার্থনা করেন।

বোনকে নিয়ে স্বপ্নের পদ্মাসেতুতে হাঁটলেন প্রধানমন্ত্রী

স্বপ্নের পদ্মাসেতুতে হেঁটেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) সকালে সড়কপথে গণভবন থেকে সরাসরি পদ্মাপাড়ে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন ছোট বোন শেখ রেহানা।

পদ্মাসেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল কাদের জানান, শুক্রবার (৩১ ডিসেম্বর) সকাল ৭টা ২৩ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী গাড়িবহর নিয়ে পদ্মা সেতুতে পৌঁছান। ৭ থেকে ১৮ নম্বর পিলার পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার পথ তিনি ছোট বোনসহ অন্যান্যদের নিয়ে হাঁটেন। এরপর গাড়িতে চড়ে তিনি সেতু পার হয়ে জাজিরা প্রান্তে সার্ভিস এরিয়া-২ এ নাস্তা করেন। পদ্মা সেতু প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা নাস্তার আয়োজন করেন।

এরপর সকাল দশটায় তিনি সেখান থেকে গণভবনের উদ্দেশ্যে রওনা হন। পদ্মা সেতু পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রীকে উৎফুল্ল দেখাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে থাকা পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল কাদের।

চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি গোপালগঞ্জের টুঙ্গীপাড়া থেকে ঢাকায় ফেরার সময় আকাশ পথে পদ্মাসেতু দেখেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তখন হেলিকপ্টার থেকে বঙ্গবন্ধু কন্যার সেতু দর্শনের ভিডিও ধারণ হয়েছিল মোবাইল ক্যামেরায়।

৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ

আগামী ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ভারতে নিয়মিত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে করোনাভাইরাসের নতুন রূপান্তরিত ধরন ওমিক্রন ছড়িয়ে পড়ায় এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংস্থাটি। বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে ডিজিসিএ।

ডিজিসিএ বিজ্ঞপ্তিতে আরো জানিয়েছে, যেসব দেশের সঙ্গে এয়ার বাবল চুক্তি রয়েছে ভারতের, সেসব দেশে ফ্লাইট চলাচলে কোনো বাধা নেই। ৩১ জানুয়ারির পর আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চালু হলেও সব রুটে নাও চলতে পারে ভারতীয় যাত্রীবাহী উড়োজাহাজগুলো। করোনা সংক্রমণ এড়াতে বাছাই করা কিছু রুটে চলতে পারে ভারতের বিমান। এছাড়া, জানুয়ারির ৩১ তারিখ পর্যন্ত যাত্রীবাহী বিমানের ফ্লাইট বন্ধ থাকলেও বরাবরের মতো চালু থাকবে পণ্যবাহী আন্তর্জাতিক কার্গো ফ্লাইটগুলো।

বিশ্বজুড়ে করোনা মহামারি শুরু হওয়ার পর ২০২০ সালে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেয় ভারতের সরকার। অবশ্য তার কিছুদিন পর এয়ার বাবল চুক্তির অধীনে শর্তসাপেক্ষে কয়েকটি দেশের সঙ্গে ফ্লাইট যোগাযোগ চালু করে দেশটি।

মহামারির কারণে প্রায় দুবছর স্থগিত রাখার পর গত ২৬ নভেম্বর এক বিজ্ঞপ্তিতে ডিজিসিএ জানিয়েছিল, আগামী ১৫ ডিসেম্বর থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ফের শুরু করছে ভারতের সরকার।

এর মধ্যেই গত ২৪ নভেম্বর দক্ষিণ আফ্রিকায় শনাক্ত হয় ওমিক্রন। তার দু’দিন পর এই ধরনটিকে উদ্বেগজনক ধরন হিসেবে তালিকভুক্ত করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ইতোমধ্যে বিশ্বের ৫৭ টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ওমিক্রন।

ডিজিসিএর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দিল্লি বিমানবন্দর সব দেশের প্রধান সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে করোনা টেস্টে বুথ স্থাপন করা হবে এবং বাইরের দেশ থেকে ভারতে এসে পৌঁছানো সব বিদেশি যাত্রীকে বিমানবন্দর ত্যাগের আগেই বাধ্যতামূলকভাবে কোভিড টেস্ট করতে হবে।

গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে বিদায়ী টুর্নামেন্ট খেলবেন আফ্রিদি

আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন কয়েকবছর আগেই। তবে এখনও শহীদ আফ্রিদি মাতিয়ে যাচ্ছেন ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট লিগে। তবে তাকে আর মাঠের ক্রিকেটে বেশিদিন দেখা যাবে না। আসন্ন পাকিস্তান সুপার লিগই আফ্রিদির ক্যারিয়ারের শেষ টুর্নামেন্ট।

পিএসএলে এবার মুলতানস সুলতান থেকে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সে যোগ দিয়েছেন আফ্রিদি। দলটিতে নাম লিখিয়েই আফ্রিদি জানালেন, শেষটাও রাঙাতে চান ট্রফি দিয়েই।গত বছর মুলতান সুলতানের হয়ে পিএসএল মাতান শহীদ আফ্রিদি। সেই টুর্নামেন্ট শেষে তিনি নিজের শেষ আসরে কোয়েট্টা গ্ল্যাডিয়েটর্সের হয়ে মাঠে নামার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। এবং তা-ই হলো। বিদায়ী পাকিস্তান সুপার লিগে কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সের প্রতিনিধিত্ব করবেন শহীদ আফ্রিদি।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ২৭ জানুয়ারি মাঠে গড়াবে পিএসএলের নতুন আসর। তার অনেক আগেই কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্স দল গোছানো শুরু করে দিয়েছে। আফ্রিদিকে তো ভিড়িয়েছেই দলে, আফ্রিদির সঙ্গে মুলতান থেকে কোয়েটায় যোগ দিয়েছেন জেমস ভিন্সও। দু’জন ছাড়াও দলে ভিড়িয়েছে ইফতিখার আহমেদ ও ইংলিশ ক্রিকেটার জেমস ভিন্সকে।

গ্ল্যাডিয়েটর্সে যোগ দিয়ে উচ্ছ্বসিত  আফ্রিদি, ‘আমি কোয়েটা গ্ল্যাডিয়েটর্সে যোগ দিতে পেরে আনন্দিত, এমন একটি দল যারা ২০১৯ সালে শিরোপা জেতা সত্ত্বেও শেষ কয়েকটি আসরে উত্থান পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। এটিই আমার শেষ পিএসএল আসর। আমার স্বপ্ন ২০১৭ সালে পেশোয়ার জালমির হয়ে যেমনটা করেছিলাম, সেই শিরোপা জয় দিয়েই বিদায় নিতে পারব।’

পিএসএলের আসন্ন আসরের প্লেয়ার্স ড্রাফট আগামী ১২ই ডিসেম্বর লাহোরের হাই পারফরম্যান্স সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে প্রতিটি দলই সর্বোচ্চ আটজন খেলোয়াড় ধরে রাখতে পারবে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের শান্তির সংস্কৃতি রেজুলেশন গৃহীত

বাংলাদেশের উত্থাপিত শান্তির সংস্কৃতি রেজুলেশন জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত রাবাব ফাতিমা রেজুলেশনটি উত্থাপন করেন। এ সময় বিশ্বব্যাপী শান্তির সংস্কৃতিকে এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

জাতিসংঘের স্থায়ী মিশন জানিয়েছে, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের সময় ১৯৯৯ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে রেজুলেশনটি প্রথমবারের মতো গৃহীত হয়েছিল। এরপর থেকে প্রতিবছর বাংলাদেশ শান্তির সংস্কৃতি রেজুলেশনটি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন এবং এ বিষয়ে উচ্চ পর্যায়ের একটি ফোরামের আয়োজন করে আসছে।

এ বছরও ৭ সেপ্টেম্বর উচ্চ পর্যায়ের এই ফোরাম অনুষ্ঠিত হয়। কোভিড পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমগুলোতে সবার অন্তর্ভুক্তি এবং প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়ানোর সামর্থ্য অর্জনের বিষয়টি আরও এগিয়ে নিতে শান্তির সংস্কৃতি যে রূপান্তরধর্মী ভূমিকা পালন করতে পারে তা তুলে ধরা হয় ফোরামটিতে। এ বছর ১০৯টি দেশ বাংলাদেশের এই রেজুলেশনটিকে কো-স্পন্সর করেছে। যা শান্তির সংস্কৃতি ধারণা এগিয়ে নিতে একটি ব্যাপক সমর্থন।রেজুলেশনটির প্রতি অব্যাহত এই সমর্থন এবং প্রতিবছর সর্বসম্মতভাবে এটি গ্রহণ, শান্তির প্রবক্তা হিসেবে বাংলাদেশের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিশাল আস্থারই সাক্ষ্য বহন করে।

রেজুলেশনটি উত্থাপনকালে রাষ্ট্রদূত ফাতিমা বলেন, এ বছর রেজুলেশনটি আরও প্রাসঙ্গিক ও জরুরি। কারণ বিশ্বব্যাপী আমরা কোভিড-১৯ মহামারির নজিরবিহীন ও বহুমুখী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে চলেছি। এর ফলে জাতিসংঘের প্রধান প্রধান কার্যাবলীতে “শান্তির সংস্কৃতি” ধারণাটি বৃহত্তর পদচিহ্ন রাখতে পেরেছে এবং একটি প্রভাব সৃষ্টিকারী রেজুলেশনে পরিণত হতে পেরেছে।

রেজুলেশনটিতে করোনাভাইরাসকালীন বাস্তবতাগুলো তুলে ধরা হয়েছে। এতে উঠে এসেছে আয়, সুযোগ, তথ্য-প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য সুরক্ষা, স্বাস্থ্য পরিষেবা ও টিকার নতুন চ্যালেঞ্জগুলোর ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান বৈষম্যগুলো। এছাড়া যে সব বিষয় শান্তিকে বিপন্ন করে তুলে তা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে মর্মে উল্লেখ করা হয়েছে রেজুলেশনটিতে।

এতে সহনশীলতা, বৈষম্য বিলোপ, বহুত্ববাদ, মত প্রকাশ ও কথা বলার স্বাধীনতাসহ ঘৃণাত্বক বক্তব্য মোকাবিলা করার মতো বিষয়গুলো আরও এগিয়ে নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিকূলতা মোকাবিলা করে ঘুরে দাঁড়াতে সক্ষম,অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই কোভিড পুনরুদ্ধার পরিকল্পনায় রাষ্ট্রগুলো যাতে শান্তির সংস্কৃতি ধারণাটি কাজে লাগায় সে আহ্বানও জানানো হয়েছে।

নতুন সিনেমা হল তৈরিতে ১০ কোটি টাকা দেবে ব্যাংক

নতুন সিনেমা হল তৈরিতে পুনঃঅর্থায়ন স্কিম থেকে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা দেবে ব্যাংক। বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) এ সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে,  নতুন সিনেমা হল নির্মাণ এবং বিদ্যমান সিনেমা হল সংস্কার ও আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা ঋণ সুবিধা পাওয়া যাবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, চলচ্চিত্র শিল্পের হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে বিদ্যমান সিনেমা হলগুলো সংস্কার ও আধুনিকায়ন এবং নতুন সিনেমা হল নির্মাণের উদ্দেশ্যে স্বল্প সুদে দীর্ঘ মেয়াদী ঋণ দেবে দেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, একই ভবনে একটি কোম্পানি/ব্যক্তি মালিকানাধীন (একক বা যৌথভাবে) সিনেপ্লেক্স যত সংখ্যক স্ক্রিন বিশিষ্ট হোক না কেন, তা আলোচ্য পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ঋণ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একটি ইউনিট হিসেবে বিবেচিত হবে। এরূপ নতুন একটি ইউনিট স্থাপনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা এবং বিদ্যমান একটি ইউনিট সংস্কারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকা ঋণ সুবিধা প্রাপ্য হবে। তবে ঋণ প্রদানের পূর্বে যাচিত ঋণ চাহিদার বিষয় সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক পর্যালোচনান্তে নিশ্চিত হতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আরও বলছে, পুনঃঅর্থায়ন স্কিমের আওতায় ঋণ সুবিধা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে একটি সিনেমা হল/সিনেপ্লেক্স এর আসন সংখ্যা ন্যূনতম ১০০ হতে হবে। এছাড়া ভাড়াকৃত/ইজারাকৃত স্থাপনায় বিদ্যমান/নির্মিতব্য সিনেমা হল/সিনেপ্লেক্স এর মালিকপক্ষের সঙ্গে ভবন মালিকের ভাড়া/ইজারা চুক্তির মেয়াদ প্রদেয় ঋণ পরিশোধের জন্য নির্ধারিত মেয়াদের চেয়ে কমপক্ষে ৫ বছর বেশি হতে হবে।

সার্কুলারে বাংলাদেশ ব্যাংক জানায়, বাংলাদেশের আবহমান সংস্কৃতি, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রেখে দর্শকদেরকে সুস্থধারার বিনোদনে আকৃষ্ট করার লক্ষ্যে দেশব্যাপী বিদ্যমান সিনেমা হল/সিনেপ্লেক্স সংস্কার ও নতনু নতুন সিনেমা হল/সিনেপ্লেক্স নির্মাণের উদ্দেশ্যে গঠিত পুনঃঅর্থায়ন তহবিলের আওতায় স্বল্প সুদে বিতরণযোগ্য ঋণের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর মানবিকতা থেকে বিএনপির শিক্ষা নেওয়া উচিত

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর পরিবার, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার প্রতি বিএনপি এত অমানবিক হওয়ার পরেও আমাদের প্রধানমন্ত্রী তাদের প্রতি যে মানবিকতা ও উদারতা দেখিয়েছেন, এর থেকে তাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত।তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর পরিবার, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগের প্রতি বিএনপি ও খালেদা জিয়া সবচেয়ে বেশি অমানবিকতা দেখিয়েছে। এই অমানবিকতা প্রতিষ্ঠা করেছেন জিয়াউর রহমান।

হাছান মাহমুদ বলেন, আজকে বিএনপি মানবাধিকারের কথা বলে। যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হয়, তখন তার কন্যা শেখ হাসিনা ৩২ নম্বর বাড়িতে গিয়ে বিলাপ করতে চেয়েছিলেন, তাকে বিলাপ পর্যন্ত করতে দেওয়া হয়নি। এতে কি মানবাধিকার লংঘন হয় না।

যখন ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলা করে আওয়ামী লীগের সভানেত্রীকে হত্যার চেষ্টা করা হলো, ২৪ জনকে হত্যা করা হলো, তখন সংসদে শোক প্রস্তাব আনার জন্য আমরা উদ্যোগ নিলাম, তখন বিএনপি নেতারা হাস্যরস করে বলছিলেন, শেখ হাসিনাই এ ঘটনায় দায়ী, তখন খালেদা জিয়া মুচকি হাসছিলেন। তখন মানবাধিকার লংঘন হয়নি?। যখন খালেদা জিয়া শোক দিবসে জন্মদিন পালন করেন, তখন মানবাধিকার লংঘন হয় না?।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি শরণার্থী দেখতে পাচ্ছি ২০২১ সালে। এর পেছনের কারণ বিশ্বব্যাপী সংঘাত, অস্ত্রের প্রতিযোগিতা নিয়ে সংঘাত। মানবাধিকার রক্ষায় বিশ্ব নেতাদের যে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ছিল, তারা তা নিচ্ছে না। তবে কোনো কোনো প্রতিষ্ঠান এখনও মানবাধিকার রক্ষা হোক এটা চায়।

মন্ত্রী বলেন, ফিলিস্তিনের জমি দখল করে সারাবিশ্ব থেকে মানুষদের এনে জায়গা দেওয়া হয়েছে। সেখানে ফিলিস্তিনি শিশুরা তাদের অধিকার রক্ষায় ঢিল ছুড়লেও তাকে মানবাধিকার লংঘন বলা হয়। জাতিসংঘে এ নিয়ে আপত্তিও তোলা হয়।

রোহিঙ্গা ইসুতে মন্ত্রী বলেন, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে নির্যাতিত রোহিঙ্গারা আশ্রয় নিয়েছে। মিয়ানমার থেকে তাদের তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা মানবাধিকার লংঘন। আমাদের দেশ ঘনবসতির দেশ। এমনিতেই আমাদের যে পরিমাণ খাদ্য উৎপাদন হয়, আরও প্রয়োজন। কিন্তু এই মুহূর্তেও আমাদের দেশ তাদের আশ্রয় দিয়েছে।

রোহিঙ্গা ইস্যুর ৬ মাসের মধ্যে ওআইসি কোনো ধরনের মিটিং ডাকতে ব্যর্থ হয়েছিল। আমাদের প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে মিটিংয়ের আয়োজন করা হয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান তাদের সহযোগিতা দিচ্ছে। কিন্তু তাদের নিজ দেশে ফেরাতে কোনো উদ্যোগই নিচ্ছে না। রোহিঙ্গারাই তো চায় নিজেদের ঘরে ফেরত যেতে।আমরা মানবাধিকার রক্ষায় সভা সেমিনার করবো, কিন্তু নিজের ঘরের মানবাধিকার রক্ষা করবো না। এটা তো হতে পারে না। তাই মানবাধিকার রক্ষা নিজের ঘর থেকে আগে শুরু করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের মহাসচিব অধ্যাপক মাওলানা মোহাম্মদ আবেদ আলী, সার্ক মানবাধিকার ফাউন্ডেশন উপদেষ্টা পরিষদ চেয়ারম্যান র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী, ঢাকাস্থ ভুটানের রাষ্ট্রদূত রিনচেন কুয়েন্টসিল, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক, জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) আব্দুর রশীদ প্রমুখ। সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি বিচারপতি ছিদ্দিকুর রহমান মিয়া

মাদকের ভয়াবহতা থেকে তরুণ প্রজন্মকে দূরে রাখতে হবে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ বলেছেন, মানবপাচার ও মাদকের ভয়াবহতা সমাজে নানা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। মাদকের ছোবলে অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে এসব থেকে দূরে রাখতে হবে।

শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) মানবাধিকার দিবস- ২০২১ উপলক্ষে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ-অডিটোরিয়ামে মানবাধিকার কমিশন আয়োজিত আলোচনায় বঙ্গভবন থেকে পূর্বে ধারণ করা বক্তৃতায় রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মানবপাচার ও মাদকের ভয়াবহতা সমাজে নানা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। মাদকের ছোবলে অনেক পরিবার ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। আমাদের তরুণ প্রজন্মকে এসব থেকে দূরে রাখতে হবে। সমাজে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, মাদক, মানবপাচার ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণে আরও ব্যাপক জনসচেতনতা দরকার। সচেতনতা, দৃঢ় পারিবারিক বন্ধন, সামাজিক প্রতিরোধ ও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি এ অপরাধ প্রবণতা ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যেন কিশোর গ্যাংয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকে, সে ব্যাপারে অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ।তিনি বলেছেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীরা যেন টিকটক, লাইকির লোভনীয় ফাঁদে পা দিয়ে মানবপাচারের শিকারে পরিণত না হয়, এ বিষয়েও সতর্ক থাকতে হবে।

বাংলাদেশে নারীর অগ্রযাত্রার কথা উল্লেখ করে আবদুল হামিদ বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে নারীর পাশাপাশি পুরুষেরও সমান ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে।শিক্ষার সাথে মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পরিবার, সমাজ ও প্রাতিষ্ঠানিক সব ক্ষেত্রে মানবিক মূল্যবোধ বিকাশে আমরা যেন বিশেষভাবে সচেতন থাকি।

আবদুল হামিদ বলেন, মিয়ানমার, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন ও সিরিয়াসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে মানবিক সংকট চলছে। এসব সংকট বা মানবাধিকার লঙ্ঘন ঠেকাতে বিশ্বের সব দেশকে একযোগে কাজ করতে হবে।দায়িত্ব পালনকালে মানবাধিকার কর্মীদের যেন মানবাধিকারের লঙ্ঘন না হয়, সেদিকেও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার তাগিদ দেন তিনি।উন্নত বিশ্ব মানবিকতার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর পাশে দাঁড়াবে বলেও আশা প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি।

রোহিঙ্গা ইস্যুতে তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার। নিজের দেশে ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার প্রায় ১১ লক্ষ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন দেশের মানুষের মানবাধিকারের উন্নয়ন ও সুরক্ষায় একটি প্রধান সংস্থা উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, এ কমিশন জনগণের অধিকার সুরক্ষায় আরও দৃশ্যমান অবদান রাখবে। জনসাধারণ যেন তাদের অধিকার সম্পর্কে আরও বেশি সচেতন হতে পারে এবং মানবাধিকার কমিশনের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারে সে লক্ষ্যে কমিশনকে তৃণমূল পর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত সামগ্রিক কার্যক্রম আরও জোরদার করতে হবে।

রাষ্ট্রপতি বক্তব্যের শুরুতে স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, মুক্তিযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদ, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক-সমর্থক, বিদেশি বন্ধু, যুদ্ধাহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যসহ সর্বস্তরের জনগণ এবং অসীম সাহস ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজকের এই স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ যারা অর্জন করেছেন- তাদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন।

কমিশন চেয়ারম্যান নাসিমা বেগমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন, আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক, লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগের সচিব মো. মইনুল কবীর, জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির আবাসিক প্রতিনিধি সুদীপ্ত মুখার্জী ও কমিশনের সার্বক্ষণিক সদস্য ড. কামাল উদ্দিন আহমেদ।