ধর্ম – Sherakantha-সেরা কণ্ঠ https://sherakantha.com Just another WordPress site Sun, 16 Jul 2023 13:38:42 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.4 ইসলামে সৌন্দর্য ও রুচিবোধ https://sherakantha.com/2023/07/16/%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a7%8c%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a6%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%93-%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%9a%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%8b-2/ Sun, 16 Jul 2023 11:04:48 +0000 https://sherakantha.com/?p=131509 Continue reading ইসলামে সৌন্দর্য ও রুচিবোধ →]]> মানুষের আচার-আচরণ, জীবনধারণের বৈচিত্র্য, অভ্যাসের ভিন্নতা ও খাবার-দাবারসহ সবকিছুকে সামনে রেখে ইসলাম ব্যক্তিজীবনের বাহ্যিক, অভ্যন্তরীণ সব ধরনের সৌন্দর্য ও রুচিবোধের বৈশিষ্ট্যাবলি অর্জনের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করে। কারণ মানুষের অন্তর ও দৃষ্টিভঙ্গি যদি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও রুচিশীল না হয় তাহলে তার বাহ্যিক সৌন্দর্য মূল্যহীন। সুন্দর দেহাবয়বের অধিকারী নিচু মানসিকতা, কর্কশ কথাবার্তা, মন্দ আচরণ, নোংরা পোশাক-পরিচ্ছদ ও খাবার গ্রহণে অভদ্রতা ইত্যাদির কারণে সমাজে চলাচলের অনুপযুক্ত হতে পারেন। আবার দেখতে কদাকার হলেও সুন্দর-শালীন ব্যবহার, চমৎকার চলন-বলন ও উত্তম আচরণের দরুন তিনি রুচিশীল সামাজিক মানুষ হিসেবে পরিগণিত হতে পারেন।

ইসলাম ব্যক্তির বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ জীবনে সৌন্দর্য অর্জন, সুরুচির অনুশীলন ও সর্বাবস্থায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর অটল থাকার ব্যাপারে জোর তাগিদ দেয়। পবিত্র কোরআন-হাদিসে এ সম্পর্কে অত্যন্ত হৃদয়গ্রাহী ও সময়োপযোগী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে কোরআনে কারিমে ইরশাদ হচ্ছে, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীকে ভালোবাসেন এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরও ভালোবাসেন।’ সুরা বাকারা : ২২২

ইসলাম তার অনুসারীদের বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণভাবে সৌন্দর্যম-িত করে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন জীবনে অভ্যস্ত করতে চায়। বর্ণিত আয়াত দ্বারা এটা স্পষ্ট যে, তওবা মানুষের অভ্যন্তরীণ সৌন্দর্য বাড়ায়, যেমন পবিত্রতা বাহ্যিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে। পবিত্র কোরআনে আরও ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমার পোশাক-পরিচ্ছদ পবিত্র রাখো।’ সুরা মুদ্দাসসির : ৪

আল্লাহতায়ালা আরও বলেন, ‘হে মানবজাতি! আমি তোমাদের জন্য পোশাকের ব্যবস্থা করেছি, তোমাদের দেহের যে অংশ প্রকাশ করা দোষণীয় তা ঢাকার জন্য এবং তা সৌন্দর্যেরও উপকরণ। বস্তুত তাকওয়ার যে পোশাক সেটাই সর্বোত্তম। এসব আল্লাহর নিদর্শনাবলির অন্যতম, যাতে মানুষ উপদেশ গ্রহণ করে।’ সুরা আরাফ : ২৬

হাদিস শরিফে এসেছে, ‘আল্লাহ সুন্দর। তিনি সৌন্দর্য পছন্দ করেন।’ মুসলিম শরিফ : ৯১ইসলামি শরিয়তে নারী-পুরুষের পোশাক-পরিচ্ছদের সুনির্দিষ্ট বিধিবিধান রয়েছে। তবে পোশাক-পরিচ্ছদের মাধ্যমে আভিজাত্য প্রকাশের নামে অশ্লীলতা, অপচয় ও অহংকারকে ইসলাম হারাম তথা শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে গণ্য করে।

পোশাক-পরিচ্ছদ ছাড়াও কোনো মানুষের একান্ত ব্যক্তিগত বিষয়েও ইসলামের নির্দেশনাগুলো প্রমাণ করে, ইসলাম তার অনুসারীকে কতটা সৌন্দর্যবান ও রুচিশীল হিসেবে দেখতে চায়। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘স্বভাবজাত বিষয় ৫টি। খতনা করা, নাভির নিচের লোম পরিষ্কার করা, গোঁফ খাটো করা, নখ কাটা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা।’ সহিহ্ বোখারি : ৫৮৯১

উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ১০টি বিষয় স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। গোঁফ খাটো করা, দাঁড়ি লম্বা করা, মিসওয়াক করা, নাকে পানি দেওয়া, নখ কাটা, অঙ্গের গিরাসমূহ ঘষে-মেজে ধৌত করা, বগলের পশম উপড়ে ফেলা, নাভির নিচের পশম পরিষ্কার করা, মলমূত্র ত্যাগের পর পানি ব্যবহার করা। বর্ণনাকারী জাকারিয়া বলেন, (আরেক বর্ণনাকারী) মাসআব বলেছেন, আমি দশ নম্বরটি ভুলে গেছি। সম্ভবত : তা হলো কুলি করা।’ সহিহ্ মুসলিম : ২৬১

বর্ণিত হাদিস দুটি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, যে দশটি বিষয় উল্লেখ রয়েছে তা ব্যক্তির জন্য সৌন্দর্য ও রুচিবোধের অন্যতম নিয়ামক। উপরোক্ত বিষয়াবলি ছাড়াও মানুষের চালচলন এবং কথাবার্তায় তার সৌন্দর্য ও রুচিবোধ ফুটে ওঠে। তাই দ্রুতবেগে হাঁটা, ইচ্ছা করে খুব হেলেদুলে কিংবা খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটা সুরুচিকর কোনো বিষয় নয় বরং দৃষ্টিকটু আচরণ। তদ্রƒপ অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত জামাকাপড় নাড়াচাড়া, চলাফেরার সময় এদিক-ওদিক তাকানো, অপ্রয়োজনে কথা বলা, নিজেকে জ্ঞানী হিসেবে বোঝাতে সব বিষয়ে মতামত দেওয়া, ভাষার অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার, যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগ, ধূমপান, পানের পিক, থুথু ও কফ যেখানে-সেখানে ফেলা, কথায় কথায় রাগ করা, অযথা ভর্ৎসনা করা, মানুষের সঙ্গে মারমুখী আচরণ করা, অশ্লীল গালমন্দ ইত্যাদি মন্দ কাজ পরিহার করা। অন্যভাবে বললে, যাবতীয় দৃষ্টিকটু, শ্রুতিকটু, অসুন্দর ও অরুচিকর কাজের বিষয়ে ইসলাম সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়েছে।

হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) বলেন, ‘যার জিহ্বা ও হাত থেকে অন্য মুসলিমরা নিরাপদ, সেই প্রকৃত মুসলিম। আর যে আল্লাহর নিষিদ্ধ বিষয়গুলো পরিত্যাগ করে, সেই প্রকৃত হিজরতকারী।’ সহিহ্ বোখারি ও মুসলিমঅন্য হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যার জিহ্বা ও হাত থেকে মুসলিমরা নিরাপদ থাকে সে ব্যক্তিই প্রকৃত মুসলিম। আর যাকে মানুষ তাদের জান ও মালের জন্য নিরাপদ মনে করে সেই প্রকৃত মুমিন।’ মিশকাতুল মাসাবিহ : ৩৩

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহ ও পরকালে বিশ্বাস স্থাপন করে, সে যেন তার প্রতিবেশীকে কষ্ট না দেয়, মেহমান সম্মান করে এবং কথা বলার সময় উত্তম কথা বলে অথবা চুপ করে থাকে।’ সহিহ্ বোখারি : ৬০১৮

অশ্লীল ও কটুবাক্য, মিথ্যা অপ্রয়োজনীয় ও অতিরিক্ত কথা যারা বলে তাদের অধিকাংশের মধ্যে মুনাফেকির আলামত বিদ্যমান। এ সম্পর্কে হাদিসে এসেছে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, আল্লাহর রাসুল (সা.) ইরশাদ করেছেন, মুনাফিক চেনার লক্ষণ হলো চারটি। সেগুলো হলো ক. যে কথায় কথায় মিথ্যা কথা বলে, খ. ওয়াদা করলে ভঙ্গ করে, গ. তার কাছে কোনো জিনিস আমানত রাখলে খেয়ানত করে এবং ঘ. ঝগড়া-বিবাদে অশ্লীল গালিগালাজপূর্ণ শব্দ বলে।’ সহিহ্ বোখারি : ৩৪

]]>
জাকাত কাকে দেবেন, কীভাবে দেবেন https://sherakantha.com/2022/04/14/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%a4-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%a8-%e0%a6%95%e0%a7%80%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%a6/ Thu, 14 Apr 2022 09:14:15 +0000 https://sherakantha.com/?p=131481 Continue reading জাকাত কাকে দেবেন, কীভাবে দেবেন →]]> জাকাত প্রাপ্যদের তালিকা দেওয়া হয়েছে কোরআনে। গরিব, নিঃস্ব ব্যক্তি, জাকাত আদায় ও বণ্টন ব্যবস্থায় নিয়োজিত ব্যক্তি, ঋণগ্রস্ত ব্যক্তি, আল্লাহর পথের পথিক এবং অভাবী মুসাফির জাকাতের অর্থ ও সম্পদ গ্রহণ করতে পারে।
নিকট আত্মীয়দের জাকাত দেওয়া উত্তম। তবে নিজের সন্তান বা তার অধস্তনকে কিংবা মা-বাবা বা তাদের ঊর্ধ্বতনকে, স্বামী-স্ত্রীকে জাকাত দেওয়া যায় না। এমনিভাবে রাসুলের বংশের কেউ জাকাত নিতে পারেন না।
জাকাত দেওয়ার সময় মনে মনে জাকাত দেওয়ার নিয়ত বা ইচ্ছা করলেই জাকাত আদায় হয়ে যাবে। জাকাত গ্রহিতাকে ‘এটা জাকাতের সম্পদ’ জানানোর প্রয়োজন নেই। অভাবীদের প্রয়োজনের প্রতি লক্ষ করে সারা বছরই জাকাত দেওয়া উচিত। বরং অত্যন্ত প্রয়োজনের সময় এগিয়ে আসায় তা রমজানে দানের চেয়ে কম হবে না। এ লক্ষ্যে অগ্রিম জাকাত দেওয়া যায়, বছর শেষে সারা বছর যা জাকাত দেওয়া হয়েছে তা সমন্বয় করে নেওয়া যায় জাকাতের হিসাব থেকে।
অনেক ক্ষেত্রে নগদ অর্থ কম থাকে, কিন্তু স্বর্ণ থাকায় অথবা জাকাতযোগ্য অন্যান্য মাল থাকায় জাকাত দেওয়া ফরজ হয়ে পড়ে। সে ক্ষেত্রে মোট কত টাকা জাকাত ওয়াজিব হয়েছে তা হিসাব করে নিয়ে অল্প অল্প করে সারা বছরই জাকাত দেওয়া যায়। কারও যদি ২০,০০০ টাকা জাকাত আসে তাহলে তা কয়েক মাসেও ভাগ করে দিতে পারে। আবার এক বারেও দিতে পারে। একজনকে দিতে পারে বা একাধিক জনকেও দিতে পারে।
জাকাত আদায়ের ক্ষেত্রে টাকা বা সম্পদের পূর্ণ মালিকানা জাকাত গ্রহিতাকে দিতে হবে। তাই যেসব ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তিমালিকানা হয় না যেমন মসজিদ, রাস্তাঘাট, মাদ্রাসার স্থাপনা, কবরস্থান, এতিমখানার বিল্ডিং ইত্যাদি এসব তৈরির কাজে জাকাতের টাকা ব্যয় করা যাবে না।
মাদ্রাসার গরিব-এতিম ছাত্রদের জন্য মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জাকাতের টাকা উঠিয়ে থাকেন। তাই মাদ্রাসার ছাত্রদের প্রতিনিধির কাছে গরিব এতিম ছাত্রদের কাছে জাকাতের টাকা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে জাকাতের টাকা দেওয়া যাবে। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ এসব টাকা সরাসরি ছাত্রছাত্রীদের মালিকানায় দেবেন। পরবর্তী সময়ে ছাত্ররা তাদের থাকা-খাওয়া, বই-খাতা, চিকিৎসা, বস্ত্র বাবদ মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে দিতে পারবে।
জাকাতের টাকায় ব্যক্তি বিশেষকে স্বাবলম্বী করার জন্য ক্ষুদ্র ব্যবসার পুঁজিও দেওয়া যায়। ব্যক্তিমালিকানায় নলকূপ, কৃষি সরঞ্জামাদি দেওয়া যায়। গৃহনির্মাণ করে অভাবী ব্যক্তিকে মালিকও বানিয়ে দেওয়া যায় জাকাতের টাকায়। বিধবা, এতিমের যত্ন, তাদের চিকিৎসা, গরিব ছেলেমেয়ের বিয়ে, গরিবদের লেখাপড়া এমন যেকোনো জনকল্যাণমূলক কাজ করা যাবে জাকাতের টাকায়, শর্ত একটাই- অভাবীকে মালিক করে দিতে হবে জাকাতের টাকার।

]]>
রাসুল (সা.) যেভাবে খাবার খেতেন https://sherakantha.com/2021/02/26/%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%b8%e0%a6%be-%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%96%e0%a7%87%e0%a6%a4/ Fri, 26 Feb 2021 10:31:58 +0000 https://sherakantha.com/?p=131174 Continue reading রাসুল (সা.) যেভাবে খাবার খেতেন →]]> মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর প্রতিটি কর্ম ও পদক্ষেপ মানবতার অনুসরণযোগ্য। সফলতা ও কামিয়াবির মাধ্যম রাসুল (সা.) তার প্রিয় সাহাবিদের ক্ষুদ্র থেকে বৃহৎ—প্রত্যেক বিষয়ে শিক্ষা দিয়েছেন। তার কর্মপদ্ধতি অনুসরণ করলে ‍মুমিনের জীবনে বয়ে যাবে প্রশান্তির ফল্গুধারা হবে জীবনপথের পাথেয়।

রাসুল (সা.) কীভাবে খাবার খেতেন, খাবার গ্রহণে তার কী পদ্ধতি ছিল—সে সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা।

খাবার গ্রহণের শুরুতে বিসমিল্লাহ বলা
রাসুল (সা.) খাবার গ্রহণের আগে সব সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলতেন। তার সঙ্গীদেরও বিসমিল্লাহ বলতে উৎসাহিত করতেন। রাসুল (সা.) বলেন, ‘আল্লাহর নাম নিয়ে ও ডান হাত দ্বারা খানা খাও। এবং তোমার দিক হতে খাও।’ (বুখারি, হাদিস নং : ৫১৬৭, তিরমিজি, হাদিস নং : ১৯১৩)

বিসমিল্লাহ বলতে ভুলে গেলে
আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, “যখন তোমরা খানা খেতে শুরু করো তখন আল্লাহর নাম স্মরণ করো। আর যদি আল্লাহর নাম স্মরণ করতে ভুলে যাও, তাহলে বলো, ‘বিসমিল্লাহি আওয়ালাহু ওআখিরাহ।” (আবু দাউদ, হাদিস নং : ৩৭৬৭, তিরমিজি, হাদিস নং: ১৮৫৮)

হাত ধুয়ে শুরু ও শেষ করা
খাবার গ্রহণের আগে হাত ধোয়া আবশ্যক। না হয় বিভিন্ন ধরনের অসুখ দেখা দিতে পারে। রাসুল (সা.) খাওয়ার আগে হাত ধোয়ার আদেশ দিয়েছেন। আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) পানাহারের আগে উভয় হাত কব্জি পর্যন্ত ধুয়ে নিতেন। (মুসনাদে আহমাদ)

অন্য হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুল (সা.) খাওয়ার পর কুলি করতেন এবং হাত ধৌত করতেন। (মুসনাদে আহমাদ ও ইবনে মাজাহ)

দস্তরখান বিছিয়ে খাওয়া
আনাস (রা.) বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) পায়াবিশিষ্ট বড় পাত্রে খাবার খেতেন না। কাতাদা (রা.) কে জিজ্ঞেস করা হলো, তাহলে কীসের ওপর খানা খেতেন? তিনি বললেন, ‘চামড়ার দস্তরখানের ওপর।’ (বোখারি : ৫৩৮৬)

ডান হাত দিয়ে খাওয়া
রাসুল (সা.) আজীবন ডান হাত দিয়ে খাবার খেতেন। বাম হাত দিয়ে খাবার খেতে নিষেধ করেছেন তিনি। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা বাম হাত দ্বারা খাবার খেয়ো না ও পান করো না। কেননা শয়তান বাম হাতে খায় ও পান করে।’ (বুখারি, হাদিস নং: ৫৩৭৬; মুসলিম, হাদিস নং: ২০২২)

হাত চেটে খাওয়া
রাসুল (সা.) খাওয়ার সময় সর্বদা হাত চেটে খেতেন। না চাটা পর্যন্ত কখনো হাত মুছতেন না। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা যখন খাবার গ্রহণ করবে, তখন হাত চাটা নাগাদ তোমরা হাতকে মুছবে (ধোয়া) না।’ (বুখারি, হাদিস নং : ৫২৪৫)

আঙুল চেটে খাওয়া
আঙুল চেটে খাওয়ার ফলে বরকত লাভের অধিক সম্ভাবনা থাকে। কারণ খাবারের বরকত কোথায় রয়েছে মানুষ তা জানে না। রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমরা যখন খাবার গ্রহণ করো তখন আঙুল চেটে খাও। কেননা বরকত কোথায় রয়েছে তা তোমরা জানো না।’ (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ১৯১৪)

পড়ে যাওয়া খাবার তুলে খাওয়া
খাবার গ্রহণের সময় কখনো কখনো থালা-বাসন থেকে এক-দুইটি ভাত, রুটির টুকরো কিংবা অন্য কোনো খাবার পড়ে যায়। সম্ভব হলে এগুলো তুলে পরিচ্ছন্ন করে খাওয়া চাই।

রাসুল (সা.)-এর খাবারকালে যদি কোনো খাবার পড়ে যেত, তাহলে তিনি তুলে খেতেন। জাবের (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) বলেন, ‘তোমাদের খাবার আহারকালে যদি লুকমা পড়ে যায়, তাহলে ময়লা ফেলে তা ভক্ষণ করো। শয়তানের জন্য ফেলে রেখো না।’ (তিরমিজি, হাদিস নং : ১৯১৫; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৩৪০৩)

হেলান দিয়ে না খাওয়া
কোনো কিছুর ওপর হেলান দিয়ে খাবার খেতে তিনি নিষেধ করেছেন। হেলান দিয়ে খাবার খেলে পেট বড় হয়ে যায়। অনেক ক্ষেত্রে দাম্ভিকতা প্রকাশ পায়। আবু হুজাইফা (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসুল (সা.)-এর দরবারে ছিলাম। তিনি এক ব্যক্তিকে বলেন, আমি টেক লাগানো অবস্থায় কোনো কিছু ভক্ষণ করি না। (বুখারি, হাদিস নং: ৫১৯০, তিরমিজি, হাদিস নং: ১৯৮৬)

খাবারের দোষ-ত্রুটি না ধরা
শত চেষ্টা সত্ত্বেও খাবারে দোষ-ত্রুটি থেকে যাওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু এ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে ঝগড়াঝাটি করা নিতান্ত বেমানান। রাসুল (সা.) কখনো খাবারের দোষ ধরতেন না। আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) কখনো খাবারের দোষ-ত্রুটি ধরতেন না। তার পছন্দ হলে খেতেন, আর অপছন্দ হলে খেতেন না। (বুখারি, হাদিস নং : ৫১৯৮; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৩৩৮২)

খাবারে ফুঁ না দেওয়া
খাবার ও পানীয়তে ফুঁ দেওয়ার কারণে অনেক ধরনের রোগ হতে পারে। রাসুল (সা.) খাবারে ফুঁ দিতে নিষেধ করেছেন। ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) কখনো খাবারে ফুঁ দিতেন না। কোনো কিছু পান করার সময়ও তিনি ফুঁ দিতেন না। (ইবনে মাজাহ, হাদিস নং : ৩৪১৩)

খাবারের শেষে দোয়া পড়া
আল্লাহ তাআলা খাবারের মাধ্যমে আমাদের প্রতি অনেক বড় দয়া ও অনুগ্রহ করেন। এ দয়ার কৃতজ্ঞতা আদায় করা সভ্যতা ও শিষ্টাচারের অন্তর্ভুক্ত। খাবার গ্রহণ শেষে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করা অপরিহার্য।

খাবার শেষে রাসুল (সা.) আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া জানাতেন ও দোয়া পড়তেন। আবু উমামা (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) খাবার শেষ করে বলতেন, ‘আলহামদুলিল্লাহি হামদান কাসিরান ত্বয়্যিবান মুবারাকান ফিহি, গায়রা মাকফিইন, ওলা মুয়াদ্দায়িন ওলা মুসতাগনা আনহু রাব্বানা।’ তিনি কখনো এই দোয়া পড়তেন: ‘আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আতআমানা ওয়াছাকানা ওয়াজাআলানা মিনাল মুসলিমিন।’ (বুখারি, হাদিস নং : ৫৪৫৮)

রাসুল (সা.)-এর সুন্নতগুলো জীবনে বাস্তবায়ন সম্ভব হলে, জীবন সুন্দর ও সার্থক হবে। আল্লাহ আমাদের তাওফিক দান করুন।

]]>
তিন ধাপে বাড়ল হজ নিবন্ধনের সময় https://sherakantha.com/2020/04/16/%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%aa%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a7%9c%e0%a6%b2-%e0%a6%b9%e0%a6%9c-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%a8%e0%a7%87/ Thu, 16 Apr 2020 16:19:15 +0000 http://sherakantha.com/?p=130212 Continue reading তিন ধাপে বাড়ল হজ নিবন্ধনের সময় →]]> বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের কারণে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে চলতি বছর হজ গমনেচ্ছুদের জন্য নিবন্ধন কার্যক্রমের সময়সীমা আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ নিয়ে তিন ধাপে বাড়ানো হলো হজ নিবন্ধনের সময়।বৃহস্পতিবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব আবুল কাশেম মুহাম্মদ শাহীন স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০২০ সালের সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে আগ্রহী প্রাক- নিবন্ধিত ব্যক্তিবর্গের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে, হজ পালনে ইচ্ছুক, নিবন্ধনের জন্য পাসপোর্ট জমা প্রদানকারী অনেকে সরকারি ছুটির কারণে ব্যাংক থেকে নিবন্ধন ভাউচার গ্রহণ করতে পারেননি। ইতিমধ্যে নিবন্ধন ভাউচার গ্রহণকারী অনেকে টাকা জমা প্রদান করতে না পারায় নিবন্ধন করতে পারেননি। এমতাবস্থায় ২০২০ সালে সরকারি এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে ইচ্ছুক ব্যক্তিদের নিবন্ধনের সুবিধার্থে হজযাত্রী নিবন্ধনের সময়সীমা শেষবারের মতো আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত করা হলো।

সেখানে বলা হয়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় এ পর্যন্ত সকল প্রাক-নিবন্ধিত ব্যক্তিসহ হজগমনেচ্ছু যেকোনো ব্যক্তি নতুনভাবে একইসঙ্গে প্রাক-নিবন্ধন ও নিবন্ধন করতে পারবেন। অন্যদিকে, বেসরকারি ব্যবস্থাপনার প্রাক-নিবন্ধনের সর্বশেষ ক্রমিক ৬ লাখ ৭২ হাজার ১৯৯ পর্যন্ত ব্যক্তিদের মধ্যে আগে আসলে আগে নিবন্ধন করা হবে ভিত্তিতে নিবন্ধন করতে পারবেন। পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের সুবিধার্থে আগামী ২৯ এপ্রিলের মধ্যে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধন কেন্দ্রে পাসপোর্ট দাখিল করতে হবে। বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ পালনে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা শুধুমাত্র ১ লাখ ৫১ হাজার ৯৯০ টাকা জমা প্রদান করে নিবন্ধন করবেন। আপাতত কোন অবস্থাতেই এর অতিরিক্ত টাকা জমা প্রদান করবেন না। কোনো হজযাত্রী এ পর্যায়ে ১ লাখ ৫১ হাজার ৯৯০ টাকার বেশি টাকা জমা প্রদান করলে এর জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে না।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো এজেন্সি নিবন্ধনের জন্য এর অতিরিক্ত টাকা দাবি করলে তাৎক্ষণিকভাবে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে। হজযাত্রী নিবন্ধনের সময় গৃহীত অর্থ কোনো অবস্থাতেই এ পর্যায়ে হজ কার্যক্রম বাবদ বাংলাদেশে ব্যয় করা যাবে না এবং সৌদি আরবেও প্রেরণ করা যাবে না । ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অনুমতি ব্যতীত কোনো এজেন্সি ব্যাংক থেকে এ টাকা উত্তোলন করতে পারবে না। সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের ব্যবস্থাপকগণকে এ বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখার জন্য অনুরোধ করা হলো।

গত ১ মার্চ থেকে হজযাত্রী নিবন্ধন শুরু হয়। প্রাথমিকভাবে হজ নিবন্ধনের সময়সীমা ১৫ মার্চ পর্যন্ত বেধে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে অনিশ্চয়তার সৃষ্টি হয়েছে। নিবন্ধনে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না মানুষ। এরপর ১২ মার্চ তা ২৫ মার্চ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়। পরে পর্যায়ক্রমে ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়।চলতি বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১০ হাজার ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন সহ সর্বমোট ১ লাখ ৩৭ হাজার ১৯৮ জনের হজে যাওয়া কথা রয়েছে।

১৬ এপ্রিল পর্যন্ত সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৪০৫ জন ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫১ হাজার ১৬ জন নিবন্ধন করেছেন।বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে এবারের হজ অনুষ্ঠিত হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সৌদি সরকার বর্তমানে ওমরা হজ কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে। মক্কা ও মদিনার প্রধান মসজিদে নামাজে বন্ধ রাখা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত হজ হবে কি হবে না এ নিয়ে সরকারিভাবে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

]]>
জ্বীন যেসব রুপ ধারণ করতে পারে https://sherakantha.com/2019/11/12/%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%a8-%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%b8%e0%a6%ac-%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%aa-%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a3-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%aa/ Tue, 12 Nov 2019 15:25:26 +0000 http://sherakantha.com/?p=129776 Continue reading জ্বীন যেসব রুপ ধারণ করতে পারে →]]> মহান আল্লাহ তা’আলা পৃথিবীতে শুধু মানব জাতিকেই সৃষ্টি করেননি, মানব জাতির সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টি করেছেন জ্বীন জাতিকেও। ইসলাম ধর্মের মহাপবিত্র ধর্মগ্রন্থ আল-কোরআনে জ্বীন জাতি সম্পর্কে একাধিকবার উল্লেখ করা হয়েছে, এমনকি এ নিয়ে একটি সম্পূর্ণ সূরাও নাযিল হয়েছে।

ইসলাম ধর্ম অনুযায়ী জ্বীন আগুনের তৈরি। তাদের বেশ কিছু বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে যা আল্লাহ সৃষ্টির শ্রেষ্ঠজীব মানুষকেও দেননি।

জ্বীনরা মানুষদের দেখতে পায়, তবে মানুষ জ্বীনদের দেখতে পায়না যতক্ষণ না তারা নিজে থেকে দেখা দেয়। তারা মানুষের মতোই জীবন-যাপণ করে। তাদেরও সংসার ও সন্তান রয়েছে।

জ্বীনদের বিভিন্ন ধরণ রয়েছে। এই ধরণ অনুযায়ী তারা বিভিন্ন রকমের কাজ ও রুপ ধারণ পারে। নিম্নে ইসলাম ধর্মে উল্লেখিত ১০ ধরনের জ্বীনের বর্ণনা দেয়া হলোঃ

১. হিন
হিন হচ্ছে এমন এক প্রজাতির জ্বীন যারা দেখতে অনেকটা পশুর মতো হয়ে থাকে। এরা সাধারণত কুকুরের বেশে চলাফেরা করে। মুসলিম দার্শনিক জাকারিয়া ইবনে মুহাম্মাদ আল-কাজওয়ানি তার ‘দ্য বুক অব জ্বীন’ –এ দাবি করেছেন যে, তিনি সৌদি আরব, পারস্য ও ভারতে অনেকবার হিন দেখেছেন।

২. গৌল
গৌল হচ্ছে বিশেষ প্রজাতির এক জ্বীন। এরা নিজেদের রুপ পরিবর্তন করতে পারা ছাড়াও মানুষের মাংস ভোক্ষণ ও রক্ত পান করে থাকে। এরা মূলত ভ্রমণকারী ও শিশুদেরকে তাদের লক্ষ্যবস্তু করে থাকে। এছাড়া এরা কবর থেকেও মানুষের লাশ চুরি করে।

বিভিন্ন বই-পুস্তকে বলা হয়েছে, গৌলরা হলো জ্বীন জাতির মধ্যে সবচেয়ে মারাত্মক প্রজাতির। এদের মধ্যে নারী গৌলরা মানুষের রুপ ধারণ করতে পারে। তারা সাধারন নারীর রুপ ধারণ করে পুরুষদের শিকার করে থাকে।

ফারসি বিভিন্ন বইয়ে বলা হয়েছে যে, গৌলদের বাস্তব রুপে গাধার মতো পা ও ছাগলের মতো শিং থাকে।

৩. জ্যান
জ্যানরা মূলত মরুভূমি অঞ্চলে বসবাস করে থাকে। এরা সাধারণত ঘূর্ণিবায়ু বা সাদা উটের বেশ ধারণ করে চলাফেরা করে।

জ্যানদের সঙ্গে গৌলদের চরম শত্রুতা রয়েছে। তারা মানুষের প্রতি বন্ধুত্যপূর্ণ আচরন করে থাকে। এছাড়া বলা হয়ে থাকে, জ্যানরা হলো জ্বীন জাতির মধ্যে সর্বপ্রথম যারা মানবজাতীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলো।

৪. মারিদ
মারিদ হলো জ্বীনদের মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রজাতি। ইসলাম পূর্ববর্তী সময়কাল থেকেই আরবের বিভিন্ন লোককথায় এর অস্তিত্বের কথা জানা যায়।

আরবি ভাষায় ‘মারিদ’ শব্দের অর্থ হলো –দানব। সুবিশাল আকৃতি ও শক্তিমত্তার জন্য তাদেরকে এই নামে ডাকা হয়। তারা নিজেদের খেয়াল-খুশী মতো সবকিছু করে থাকে। তবে এরা প্রচন্ড শক্তিশালী ও বিশাল আকৃতির হওয়া স্বত্তেও এদেরকে বশ করার মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ করিয়ে নেয়া যায়।

৫. ইফ্রিত
ইফ্রিতরা নিজেদের ক্ষমতা ও চতুরতার জন্য সুপরিচিত। এদের বিশাল ডানা থাকে ও এরা আগুন ছুঁড়তে সক্ষম। এরা সাধারণত স্বভাবে হিংস্র ও দুষ্ট হয়ে থাকে।

ইফ্রিতরা ভূগর্ভে বসবাস করে বলে বলা হয়। এরা সাধারণত অন্যান্য জ্বীনদের বিয়ে করলেও কখনো কখনো মানুষদেরও বিয়ে করে থাকে।

এরা জাদুর ব্যবহার করতে পারে। সাধারণ কোনো অস্ত্র তাদের ক্ষতি করতে পারেনা। তবে মানুষ চেষ্টা করলে তাদের বশে আনতে পারে, এমনকি হত্যাও করতে পারে।

৬. শিক
জ্বীন জাতির মধ্যে অন্যতম একটি প্রজাতি হলো শিক। এরা কিছুটা দানবীয় আকৃতির হলেও তুলনামূলক ভাবে দূর্বল হয়ে থাকে। এ কারণে শিকদের নিম্ন প্রজাতির জ্বীন বলে গণ্য হয়।

৭. নাসনাস
জ্বীনদের মধ্যে দূর্বল আরেকটি প্রজাতি হলো নাসনাস। শিক ও মানুষের মিলনের ফলে এদের সৃষ্টি বলে বলা হয়ে থাকে। এরা দেখতে অর্ধেক মানুষের মত ও বাকি অর্ধেক পশুর মতো।

‘এক হাজার এক রাত’ বইয়ে বলা হয়েছে যে, নাসনাসদের মুখমণ্ডলের একাংশ, এক হাত ও এক পা মানুষের মত হয়ে থাকে। বাকিটা হয়ে থাকে পশুর মতো।

৮. পালিস
পালিসরা সাধারণত মরুভূমিতে বসবাস করে। এরা মানুষকে ঘুমের মধ্যে আক্রমণ ও পায়ের পাতা চাটার মাধ্যমে রক্ত শোষণ করে থাকে বলে বলা হয়। এদের বুদ্ধিমত্তা খুবই কম থাকায় খুব সহজেই এদের বোকা বানানো যায়।

৯. সি’লাত
সি’লাত প্রজাতির জ্বীনেরা খুবই বুদ্ধিমান হয়ে থাকে। এরা খুব সহজেই মানুষের রুপ ধারণ করতে পারায় মানুষের অনেক ক্ষতি করে থাকে। পারস্য লোককথায় এ প্রজাতির জ্বীন নিয়ে অনেক গল্প রয়েছে।

১০. শয়তান
শয়তান হচ্ছে জ্বীন জাতির মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর ও ক্ষতিকর প্রজাতি। ইসলাম ধর্মে এই জ্বীনের কথা বিশেষ ভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। মহান আল্লাহর নির্দেশ মেনে হযরত আদম (আঃ)’কে সেজদা করতে রাজি না হওয়া ও তাকে এবং বিবি হাওয়া’কে বিভ্রান্ত করে গন্দম খেতে উৎসাহিত করা ইবলিস এই শয়তান প্রজাতিরই।

জ্বীন প্রজাতির মধ্যে এরা বিশেষ ক্ষমতা প্রাপ্ত। মানুষকে ধোঁকা দিয়ে ভুলপথে নিয়ে যাওয়া এদের প্রধান উদ্দেশ্য।

সূত্র: লাইফ ইন সৌদি এরাবিয়া ডটনেট

]]>
পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী রোববার https://sherakantha.com/2019/11/09/%e0%a6%aa%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%88%e0%a6%a6%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a7%80-%e0%a6%b0/ Sat, 09 Nov 2019 17:08:22 +0000 http://sherakantha.com/?p=129751 Continue reading পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী রোববার →]]> মানবতার মুক্তির বার্তা নিয়ে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব ও শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ৫৭০ খ্রিস্টাব্দে রবিউল আউয়াল মাসের ১২ তারিখ সোমবার সৌদি আরবের মক্কায় জন্মগ্রহণ করেন। আবার ৬৩ বছর বয়সে একই দিনে তিনি পরলোকগমন করেন।

দিনটি সরকারি ছুটির দিন। দেশের মুসলিমরা এ দিন বিশেষ ইবাদত করবেন।

দিনটি উপলক্ষে মিলাদ মাহফিল, আলোচনা ও কোরআন খতমসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করবে ইসলামিক ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান, রাজনৈতিক দল, মসজিদ ও মাদ্রাসা।

এদিকে, রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দিয়ে দেশের জনগণ ও বিশ্বের মুসলমানদের ঈদে মিলাদুন্নবীর শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। সূত্র : ইউএনবি।

]]>
যে বিশেষ ২ গুণের কারণে সুনিশ্চিত জান্নাত পাবেন নারীরা https://sherakantha.com/2019/11/03/%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7-%e0%a7%a8-%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%a3%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%a8/ Sun, 03 Nov 2019 16:26:32 +0000 http://sherakantha.com/?p=129725 Continue reading যে বিশেষ ২ গুণের কারণে সুনিশ্চিত জান্নাত পাবেন নারীরা →]]> বিবাহিত ঈমানদার নারীরা বিশেষ ২টি গুণের কারণে লাভ করবে চিরস্থায়ী জান্নাত। তাদের জন্য জান্নাতের মধ্যে নির্মাণ করা হবে আলাদা ঘর। যেখান থেকে তারা আল্লাহর দিদার লাভ করবে। নারীদের সে গুণ দুটি হলো-

স্বামীর দোষ প্রচার না করা তার প্রশংসা ও সহযোগিতা করা। অর্থাৎ অন্য মানুষের কাছে স্বামী দোষ বা কুৎসা বলে বেড়ানো থেকে বিরত থাকা।
স্বামীকে অভিশাপ না দিয়ে তাদের জন্য কল্যাণে দোয়া করা। অর্থাৎ স্বামীর জন্য বদদোয়া বা তাদের কথা ও কাজের অকল্যাণ কামনা না করা।

আর স্ত্রীরা কারণে-অকারণে স্বামীদের সঙ্গে এ দুটি কাজই বেশি করে থাকে। সামান্য কারণেই স্বামীকে দোষারোপ করে কিংবা কথায় কথায় অভিশাপ দিয়ে থাকে। যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

কেননা এ দুইটি কারণই একজন ঈমানদার নারীকে নিশ্চিত জাহান্নামের দিকে ঠেলে দেয়। আল্লাহ তাআলা কুরআনে পাকে পয়গাম্বর নূহ ও লূত আলাইহিস সালামের স্ত্রীদের কথা উল্লেখ করে বলেন-

‘আল্লাহ অবিশ্বাসীদের জন্য নূহ ও লূতের স্ত্রীদের দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন; তারা আমার দুই নেককার বান্দার স্ত্রী ছিল। কিন্তু তারা তাদের স্বামী সঙ্গে খেয়ানত করেছিল। তারা (নূহ ও লূত আলাইহিস সালাম) আল্লাহর মোকাবেলায় তাদের (স্ত্রীদের) কোনো কাজেই আসতে পারেনি। দুই জনকে বলে দেয়া হয়েছে যাও, জাহান্নামে প্রবেশকারীদের সঙ্গে তোমরাও প্রবেশ কর।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ১০)

এ আয়াতে খেয়ানত বলতে নবীদের স্ত্রীরা ব্যভিচারে লিপ্ত হয়েছিল এটি বুঝানো হয়নি বরং তারা নবিদের সঙ্গে ঈমানের পথে হাটেনি বরং তারা নবিদের বিরুদ্ধে ইসলামের শত্রুদের সহযোগিতা করেছিল।

নবিদের কাছে যারা ঈমান নিতে আসতো তাদের তথ্য অন্যের কাছে দিয়ে দিতো। নবিদের ব্যাপারে লোকদের বলে বেড়াতো- এ লোক একজন পাগল। তারা তাদের স্বামী নামে চোগলখুরী করতো। তাদের নামে কুৎসা রটনা বা বদনাম বলে বেড়াতো। যার ফলে নবীদের সঙ্গে সংসার করা সত্বেও তারা জাহান্নামী।

পক্ষান্তরে আল্লাহ তাআলা বিশ্বাসীদের (নারীদের) উদ্দেশ্যে ফেরাউনের স্ত্রী হজরত আসিয়ার দৃষ্টান্ত তুলে ধরেছেন। যিনি ফেরাউন ও তার বাহিনীর অত্যাচারে আল্লাহর সাহায্য চেয়েছেন ঠিকই ফেরাউনের ব্যাপারে কোনো অভিযোগ বা বদদোয়া করেনি। আবার তার কোনো দোষও বলে বেড়াননি। আল্লাহ বলেন-

‘আল্লাহ তাআলা বিশ্বাসীদের জন্য ফেরাউনের স্ত্রীর (আসিয়া) দৃষ্টান্ত উপস্থাপন করেছেন। যখন সে দোয়া করলো- হে আমার রব! আমার জন্য তোমার কাছে জান্নাতে একটি ঘর বানিয়ে দাও। আমাকে ফেরাউন ও তার খারাপ কাজ-কর্ম থেকে রক্ষা করো এবং আমাকে অত্যাচারি সম্প্রদায় থেকে রক্ষা করো।’ (সুরা তাহরিম : আয়াত ১১)

এ আয়াতের আলোকে বুঝা যায় যে, ফেরাউনের স্ত্রী আসিয়া স্বামী অবিশ্বাসী হওয়া সত্ত্বেও তার ব্যাপারে বদদোয়া করেনি এবং তার কোনো দোষও বর্ণনা করেনি বরং তার অত্যাচার ও দুষ্কর্ম থেকে উদ্ধার হওয়ার আবেদন করেছেন। আল্লাহ তাআলা স্বামীদের অধিকারের ব্যাপারে বিশ্বাসী নারীদের জন্য এ আয়াত তুলে ধরেছেন।

এ আয়াতের তাফসিরে এসেছে- ফেরাউনের স্ত্রীর নাম ছিল আসিয়া। তিনি হজরত মুসা আলাইহিস সালামের আহ্বানে ঈমান এনেছিলেন। ফেরাউন তার হাত ও পায়ে পেরেক দিয়ে আটকিয়ে মাথার ওপ গরম তেল ঢেলে দিয়েছিলেন। যার ফলে তার মাথার চুল ও চামড়াগুলো ওঠে গিয়েছিল। সে সময় ফেরেশতারা তার সামনে জান্নাতের দৃশ্য তুলে ধরেছিলেন। ফলে ফেরাউনের শাস্তি তার কাছে সহজ হয়েগিয়েছিল। আর তখন তিনি আল্লাহর কাছে উল্লেখিত দোয়া করেছিলেন।

সুতরাং প্রত্যেক ঈমানদার নারীর উচিত যে, স্বামীর ব্যাপারে চোগলখুরী না করা। স্বামীদের দোষ বলে বেড়ানো থেকে বিরত থাকা। স্বামীর জন্য বদদোয়া বা অভিশাপ না দেয়া। বরং স্বামীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞপনের পাশাপাশি তাদের জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করা। তাদের প্রতি সন্তুষ্ট থাকা। ফলে তারা পাবে সুনিশ্চিত জান্নাত।

]]>
যে কারনে পবিত্র কোরআনে মদ-জুয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে https://sherakantha.com/2019/09/27/%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%b0%e0%a6%86%e0%a6%a8%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%a6/ Fri, 27 Sep 2019 06:35:07 +0000 http://sherakantha.com/?p=129707 Continue reading যে কারনে পবিত্র কোরআনে মদ-জুয়া নিষিদ্ধ করা হয়েছে →]]> কিছুটা উপকার না থাকলে মদের প্রতি মানুষের এতটা আকর্ষণ থাকত না। কিছুটা লাভ না হলে মানুষ জুয়ার প্রতি আসক্ত হতো না। এই চরম বাস্তবতা উপস্থাপনের অতুলনীয় দর্পণ মহাগ্রন্থ আল-কোরআন এদিকে ইঙ্গিত করেছে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন, লোকেরা আপনাকে মদ-জুয়া সম্পর্কে প্রশ্ন করে, আপনি বলে দিন, এতে মহাপাপ। যদিও কিছুটা উপকার আছে। কিন্তু উপকারের তুলনায় অপকারই বেশি। (বাক্বারাহ ২১৯)

কিছু সময়ের জন্য হৃদয় আনন্দানুভূতি, নিজেকে মনে মনে রাজার আসেন আসীন করা, ডান-বাম বাহুর দিকে তাকিয়ে নিজেকে বীরবল, শক্তিধর মনে করা, চেহারায় আভিজাত্যের ছাপ ফুটে ওঠা, কৃত্রিম উন্মত্ততায় উগ্র নারী সংশ্রবকে পরম পাওয়া মনে করা মদের উপকারিতার আওতায় পড়ে।

বিনা পরিশ্রমে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে হাজার থেকে লাখপতি, লাখপতি থেকে কোটিপতি হয়ে যাওয়া কার না পছন্দ? কোরআনের এই স্বীকারোক্তিতে আপনি খুশিতে আটখানা হবেন না, কারণ, বাহ্যিক উপকারটুকু উপস্থাপনের পর তার অপকারটা যে চরম তাও কিন্তু কোরআন সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে।

মাদক মানুষের শারীরিক, পারিবারিক এবং সামাজিক সব অপকারের মূলমন্ত্র হিসেবে কাজ করে।

শারীরিক অপকার

১) মদ পানকারীর খাদ্যের চাহিদা কমে যায় ভীষণভাবে।

২) হজম শক্তি কমে যায় আস্তে আস্তে।

৩) চেহারায় বিকৃতি আসে একটা সময়।

৪) সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করে দেহের স্নায়ুগুলোর। প্রাথমিকভাবে স্নায়ুগুলো উত্তেজিত করে দেহে শক্তি বর্ধন করে দেয়। উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ার পর এই শক্তি আর স্থায়ী থাকে না। অনেকটা বেলুনের মতো এর উপকার। দেখবেন, বেলুন ফুলানোর আগে কত মসৃণ থাকে, ফোলানোর পর বাতাস ছেড়ে দিয়ে বেলুনের দিকে তাকাবেন, খসখসে হয়ে যায়।

প্রায় একই রকম হয় মদ্যপের অবস্থা। মদ পান করার আগে দেহটা যে সার্ভিস দিত, মদ পানে অভ্যস্ত হওয়ার পর মদ ছাড়া আর এই সার্ভিসটা দেয় না, তখন মদখোড় মদের কাছে অসহায় হয়ে যায়। এই অসহায়ত্বকে আমরা বলি নেশা।

৫) ৪০ বছর বয়সে নিজেকে অকর্মণ্য হিসেবে আবিষ্কার করতে পারে, যেমনটা হয়ে থাকে ষাটোর্ধ্ব বয়স্কদের বেলায়।

৬) বড় রকমের আঘাত পড়ে লিভারে।

৭) কিডনি অকেজো হওয়া নৈমত্তিক ব্যাপার।

৮) যক্ষ্মা রোগ নাকি মদ্যপের অনিবার্য পরিণতি। ইউরোপজুড়ে যক্ষ্মার আক্রমণ নাকি মদপান থেকেই শুরু হয়েছে।

৯) মদপান অবস্থায় জ্ঞান-বুদ্ধি লোপ পায়। এই প্রভাবটা মদপান করার পর দীর্ঘক্ষণ, এমনকি জীবনভর চলতে থাকে।

১০) মদ্যপরা স্বাভাবিক জীবনে আসতে পারে না। কেউ কেউ তো পাগল হয়ে যায়।

১১) মদ রক্তের সঙ্গে মিশে না। আলাদা থেকে যায়। পয়জন হিসেবে জমা হতে থাকে। এক সময় এই জীবাণু রোগ সৃষ্টি করতে এগিয়ে আসে।

১২) মদের প্রথম আক্রমণটা হয় গলা-শ্বাসনালীতে। শ্বাসনালীতে ক্ষতের সৃষ্টি করে।

১৩) ওদের গলার স্বর মোটা হয়ে যায়। অধিকাংশ মদ্যপ চিহ্নিত হয় এই মোটা কণ্ঠস্বরের মাধ্যমে।

১৪) এই অভিশাপ শুধু মদ্যপ নয়, তার সন্তানের ওপর প্রভাব সৃষ্টি করে। মধ্যবিত্তের সন্তানরাও মদ্যপানের প্রতি আগ্রহী হয়।

১৫) এমনকি সন্তান দুর্বলদেহী হয়ে জন্ম নেয়।

১৬) কোনো সন্তান নির্বংশ হয়ে জন্ম নেবে। ওর কোনো সন্তান জন্মাবে না।

১৭) মদ্যপদেরকেই সমাজে পুতুলের সতো উপহাসের পাত্র হিসেবে দেখা হয়।

পারিবারিক অপকার

মদ্যপদের মানবিক মূল্যবোধ হারিয়ে যায়। মানবতা, উদারতা, সামাজিকতা রক্ষা করে চলা তাদের পক্ষে সম্ভব হয় না। এর শুরুটা হয় পরিবার থেকে। স্ত্রীদের সঙ্গে তাদের রুঢ় আচরণ, মাতা-পিতার সঙ্গে দুর্ব্যবহার, পাড়া-প্রতিবেশীদের হুমকি-ধমকি তাদের নৈমত্তিক ব্যাপার।

নেশা করতে যেখান থেকে বাধা আসে তাকেই প্রতিহত করতে তারা দ্বিধাবোধ করে না। সাধারণত এই বাধাটা আসে পরিবার থেকে। এ জন্য মাতা-পিতাকে খুন করা, স্ত্রী-সন্তানকে আঘাত করা তাদের জন্য স্বাভাবিক ব্যাপার।

ড্রাগ এডিক্টেড কন্যা ঐশী কর্তৃক ডিবি অফিসার মাহফুজুর রহমানের হত্যাকাণ্ড এর সুস্পষ্ট উদাহরণ।

এ দেশে স্বল্প আয়ে পরিবার চালান যারা তাদের আমরা হুজুর বলে চিনি। দাম্পত্য কলহের বড় কারণ অভাব। কিন্তু অভাব থাকা সত্ত্বেও হুজুরদের পরিবারে এই কলহ থাকে না। কারণ সেখানে মাদকের উপস্থিতি নেই।

সামাজিক সমস্যা

১) মদপানকারীরা সমাজে মারামারি, হানাহানি, খুনাখুনিতে মজা পায়।

২) যিনা-ব্যাভিচার তাদের প্রথম পছন্দ।

৩) একটা পরিবারের ব্যয় নির্বাহ যে পরিমাণ হয়, একটা মদ্যপের পকেট খরচ এর চেয়ে বেশি প্রয়োজন হয়। এ জন্য নবীজি মদকে সব অশ্লীলতা ও কদর্যতার মূলমন্ত্র বলেছেন।

এক জার্মান ডাক্তার বলেছেন আপনি আমাকে দেশের চলমান সরাবখানার অর্ধেকটা বন্ধ করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিন, আমি আপনাকে অর্ধেক হাসপাতাল ও জেল অপ্রয়োজনীয় হওয়ার প্রতিশ্রুতি দেব।

জুয়ার নেশা মানুষকে চুরি-ডাকাতি, রাহাজানি এমনকি খুনাখুনিতে লিপ্ত করে। এক দিয়ে বহু গুণ পাওয়ার আশায় ওরা হারাতে থাকে সঞ্চিত সব সম্পদ। বিক্রি করতে থাকে স্ত্রীদের গহনাঘাটি। এমনকি জুয়ায় হেরে স্ত্রীকে জুয়ার দানে ধরার উদাহরণ পত্রিকায় আমরা দেখছি।

বর্তমান ক্যাসিনো সংস্কৃতি মদ-জুয়াকে দিয়েছে দুর্ধর্ষ গতি। জুয়ার আধুনিক সংস্করণ ক্যাসিনোর মাধ্যমে গোটা জাতির অর্থ জমা হচ্ছে গুটিকয়েক জুয়াড়ি লকারে। শত শত কোটি টাকা অচল হয়ে পড়ে আছে ওদের গুদামঘরে। এই টাকাগুলো কুক্ষিগত না হলে সচল হয়ে জাতীয় জীবনে অনেক সমৃদ্ধি নিয়ে আসত।

ক্যাসিনো সংস্কৃতির কবলে পড়ে আজ জাতীয় অর্থনীতি হুমকির মুখে। সরকারের বহুবিধ উন্নয়ন ম্লান করে দিয়েছে জুয়াড়িদের এই ক্যাসিনো সংস্কৃতি।

তবে আশার কথা যে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করছেন। মদ ও জুয়ার আসর ধ্বংসে নামিয়েছেন রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন বাহিনী। দেশকে উন্নতির চরম শিখরে পৌঁছাতে এর বিকল্প ছিল না। কোনো প্রকার হুমকি-ধমকি যেন এই অভিযান ব্যাহত না হয়।

 

]]>
অজুর কারণে কিয়ামতের দিন বিভিন্ন অঙ্গ উজ্জ্বল দেখাবে https://sherakantha.com/2019/07/13/%e0%a6%85%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%a3%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%a4%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf%e0%a6%a8-%e0%a6%ac-2/ Sat, 13 Jul 2019 10:15:40 +0000 http://sherakantha.com/?p=129332 Continue reading অজুর কারণে কিয়ামতের দিন বিভিন্ন অঙ্গ উজ্জ্বল দেখাবে →]]> ইবাদতের উদ্দেশ্যে শরিয়তের বিধান অনুযায়ী পবিত্র পানি দ্বারা নির্দিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ধোয়ার নাম অজু। ঈমানের পরে ইসলামের সমচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত নামাজ। নামাজ আদায় করতে হলে সর্বপ্রথম অজু করতে হয়। অজু ব্যতীত নামাজ শুদ্ধ হয় না। অজু নামাজের চাবিস্বরূপ।

পবিত্র কোরআনে অজু সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, ‘হে মুমিনগণ! যখন তোমরা নামাজের জন্য প্রস্তুত হবে তখন তোমরা মুখমণ্ডল ও হাত কনুই পর্যন্ত ধোবে, মাথা মাসেহ করবে ও পা টাখনু পর্যন্ত ধৌত করবে।’ -সূরা মায়িদা: ৬

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) কে বলতে শুনেছি, আমার উম্মতকে কিয়ামতের দিন অজুর চিহ্নের কারণে ‘শুভ্র-উজ্জল হস্তপদ বিশিষ্ট উম্মত’ উপাধিতে সম্বোধন করা হবে। কাজেই তোমরা যারা সক্ষম হও নিজ নিজ উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে নাও। -সহিহ বোখারি: ১৩৬

অজু নামাজের অপরিহার্য বিষয় বা পূর্ব শর্ত। হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, বেহেশতের চাবি হলো নামাজ, আর নামাজের চাবি হলো- অজু। -মুসনাদে আহমাদ ও তিরমিজি

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, হজরত রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তির অজু নেই সে অজু করে না নিলে (ও বিনা অজুতে নামাজ পড়লে) তার নামাজ কবুল হবে না। -সহিহ বোখারি: ১৩৫, সহিহ মুসলিম: ২২৫

যে সব ইবাদতের অজু ফরজ: ১. ফরজ, ওয়াজিব, সুন্নত এবং নফল সব ধরনের নামাজের জন্য অজু করা ফরজ। ২. জানাজার নামাজের জন্যে অজু ফরজ এবং ৩. কোরআন শরিফে অবস্থিত সেজদার আয়াত তেলাওয়াতের ওই সেজদা প্রদানের জন্য অজু করা ফরজ। যে সব ইবাদতের জন্য অজু ওয়াজিব: ১. হজ বা ওমরার সময় পবিত্র কাবা ঘর তওয়াফের জন্যে ও ২. পবিত্র কোরআন স্পর্শ করার জন্যে।

যখন অজু সুন্নত: ১. ঘুমানোর পূর্বে এবং ২. গোসলের পূর্বে। অজু যখন মুস্তাহাব: ১. আজান

]]>
কোন দোয়া পড়লে এক হাজার বছরের কাজা নামাজ আদায় হবে https://sherakantha.com/2019/06/17/%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%a8-%e0%a6%a6%e0%a7%8b%e0%a7%9f%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a7%9c%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%8f%e0%a6%95-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0/ Mon, 17 Jun 2019 07:49:45 +0000 http://sherakantha.com/?p=129189 Continue reading কোন দোয়া পড়লে এক হাজার বছরের কাজা নামাজ আদায় হবে →]]> আলহামদু লিল্লাহি আ’লা কুল্লি নি’মাতিহী, আলহামদু লিল্লাহি আ’লা কুল্লি আ-লা-ইহী, আলহামদু লিল্লাহি ক্বাবলা কুল্লি হালিন, ওয়া ছাল্লাল্লাহু আ’লা খাইরি খালক্বিহী মুহাম্মাদিওঁ ওয়া আলিহী ওয়া আছহাবিহী আজমাঈ’ন, বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামার রাহিমীন।

দোয়ার ফযীলতঃ এ দোয়াটির ফযীলত ও মর্তবা সম্বন্ধে ছাহাবীদের মধ্যে পরস্পর এখতেলাফ রয়েছে। আমিরুল মু’মিনীন হযরত ওমর (রা) বলেন যে, এ দোয়া যে ব্যক্তি শ্রদ্ধাসহকারে পাঠ করবে তার ছয়শত বৎসরের আদায় করা নামাজ এর বরকতে আল্লাহর দরবারে কবুল হয়ে যাবে। অনুরুপ হযরত ওসমান (রা) বলেছেন, সাতশত বৎসরর এবং হযরত আলী কাররাল্লাহু ওয়াজহু বলেছেন, যদি এ দোয়া পাঠকারীর এক হাজার বৎরের নামাজ কাজা হয়ে থাকে তাও এ দোয়ার বরকতে আল্লাহ্ তা’আলার দরবারে কবুল হয়ে যাবে।

যা হোক হযরত রাসূলে করীম (স) এর মহিমায় এ পবিত্র দোয়ার ফযীলত বর্ণনাকালে ছাহাবীগন প্রশ্ন করলেন, হে আল্লাহর রাসূল! মানুষের এ রুপ ছয়, সাতশত ও হাজার বৎসর (হায়াত) বয়স কোথায়? যে এর নামাজ কবুল হবে? তখন রাসূলুল্লাহ (স) বললেন যে, এ দোয়া পাঠকারীর বাপ, দাদা, পরদাদা ও আত্মীয়স্বজন, পাড়া-প্রতিবেশীদের নাম কবুল হয়ে বৎসর পূরন করা হবে। সুবাহানাল্লাহ্। (সূত্র : ছহীহ্ নূরাণী অজিফা শরীফ)

]]>