ফিচার – Sherakantha-সেরা কণ্ঠ https://sherakantha.com Just another WordPress site Sun, 16 Jul 2023 13:40:44 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.4 বয়স্করা বেশি সময় টিভি দেখলে কমে স্মৃতিশক্তি! https://sherakantha.com/2023/07/16/%e0%a6%ac%e0%a7%9f%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%9f-%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%96-2/ Sun, 16 Jul 2023 11:12:12 +0000 https://sherakantha.com/?p=131519 Continue reading বয়স্করা বেশি সময় টিভি দেখলে কমে স্মৃতিশক্তি! →]]> অবসর জীবনে অনেকেরই সময় কাটানোর প্রধান মাধ্যম হয়ে ওঠে টেলিভিশন। টিভি দেখেই এদের সময় কাটে। তবে সম্প্রতি ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের গবেষণায় বলা হয়েছে, প্রতিদিন অন্তত সাড়ে তিন ঘন্টার বেশি টেলিভিশন দেখলে বয়স্কদের স্মৃতিশক্তি কমে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এই গবেষণার জন্য সাড়ে তিন হাজারের বেশি বয়স্ক মানুষের ওপর জরিপ করা হয়, যাদের প্রত্যেকের বয়স ৫০ বছরের বেশি ছিল। ছয় বছর ধরে চলা এই গবেষণায় দেখা গেছে, যারা টেলিভিশন কম দেখে তাদের তুলনায় যারা বেশি সময় টেলিভিশন দেখে তাদের অন্তত দ্বিগুণ ভার্বাল মেমরি বা স্মৃতির যে অংশটি ভাষার সাথে জড়িত তা হ্রাস পেয়েছে। এছাড়া এমনিতেই বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের স্মৃতিশক্তি দুর্বল হতে থাকে। কিন্তু বয়স্করা যখন বেশি টেলিভিশন দেখে তখন স্মৃতি ক্ষয়ের বিষয়টি তরান্বিত হয়।

তবে গবেষকরা নিশ্চিত হতে পারেননি যে, টেলিভিশনই অধিক হারে স্মৃতি লোপ পাওয়ার প্রধান কারণ। তারা বলছেন, অনেক বেশি সময় টেলিভিশন দেখাটা মস্তিষ্কের জন্য আরো উত্তেজনাকর কাজ যেমন: পড়া বা শরীরচর্চা থেকে মানুষকে বিরত রাখে।

বৈজ্ঞানিক রিপোর্টে দেখা যায়, যারা দৈনিক সাড়ে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে টেলিভিশন দেখেছেন, তাদের ক্ষেত্রে ৮% থেকে ১০% পর্যন্ত ভার্বাল মেমোরি হ্রাস পেয়েছে। আর যারা তুলনামূলকভাবে কম সময় টেলিভিশন দেখে তাদের স্মৃতি ক্ষয়ের হার ৪% থেকে ৫%। তবে সাবলীলভাবে ভাষা ব্যবহারে টেলিভিশন দেখার প্রভাবের কোনো প্রমাণ মেলেনি।

ইউসিএল ইন্সটিটিউট অব এপিডেমিওলজি এন্ড হেলথ কেয়ার -এর ড. ডেইজি ফ্যানকোর্ট বলছেন, টেলিভিশন দেখার সময়ে শিক্ষা এবং বিনোদনের ব্যবস্থা থাকতে পারে। তার বক্তব্য, ‘সামগ্রিকভাবে পঞ্চাশোর্ধ মানুষজনের টেলিভিশন দেখার পাশাপাশি অন্যান্য বিপরীতধর্মী কার্যকলাপের সামঞ্জস্য রাখা উচিত।’

ইউসিএল এর প্রফেসর অ্যান্ড্রু স্টেপটো বলেন, বয়স্ক ব্যক্তিরা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে পছন্দ করেন ধারাবাহিক নাটক ধর্মীয় অনুষ্ঠান, যা কিনা এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করে। কেননা তারা ঐসব অনুষ্ঠানের চরিত্রের সাথে খুব বেশি একাত্মতাবোধ করেন। এ ধরনের পরিস্থিতি মস্তিষ্কের স্মৃতিধারণ ক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করে, যার কারণে স্মৃতিলোপ পেতে পারে।

লন্ডন কিংস কলেজের ক্লিনিক্যাল সাইকোলজির প্রফেসর ডেম টিল উইকসের মতে, এই গবেষণাটি আমাদের স্ক্রিন টাইম বা বেশি সময় ধরে টিভি দেখার প্রতি সতর্ক করে দেয়। তবে আতঙ্কিত হওয়ার পরিবর্তে বিষয়টি নিয়ে অধিকতর গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করা উচিত। সেই সাথে টিভি দেখার সময়সীমাও আরো ভালোভাবে পরিমাপ করার তাগিদ দেন তিনি। -বিবিসি

]]>
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ নিবন্ধ https://sherakantha.com/2020/06/22/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%81-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%96/ Mon, 22 Jun 2020 13:36:10 +0000 http://sherakantha.com/?p=130465 Continue reading জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিশেষ নিবন্ধ →]]> আজ দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী। এই
দিনে স্মরণ করছি প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ অন্যদের,
যাঁদের অসাধারণ দূরদর্শিতার ফলে এই দিনে ১৯৪৯ সালে ঢাকার রোজ গার্ডেনে দেশ ভাগের পর প্রথম
রাজনৈতিক দল পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম আওয়ামী লীগ, পরে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ এবং সব
শেষে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জন্ম হয়েছিল। আর আওয়ামী লীগ হচ্ছে এই উপমহাদেশের একমাত্র
রাজনৈতিক দল, যেটির নেতৃত্বে একটি রক্তাক্ত মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাঙালিদের একটি স্বাধীন
রাষ্ট্রের জন্ম হয়েছিল। এই স্বাধীনতার জন্য যাঁরা রক্ত দিয়েছেন সেই ৩০ লাখ শহীদের প্রতি গভীর
শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।
দেশের একটি কঠিন সময়ের মধ্যে এই বছর ঐতিহাসিক দলটি তার প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
করছে। হয়তো চিরাচরিত কোনো অনুষ্ঠান হবে না। সাধারণত এদিন প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা
শেখ হাসিনা দলের নেতাদের নিয়ে ধানমণ্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে
সম্মান জানান। এবার হয়ত হবে না কোনো সভা-সমাবেশ। হতে পারে তিনি কিছু কাজ ভিডিওর মাধ্যমে
করবেন। এমন কঠিন সময় শুধু বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বে এর আগে কখনো আসেনি। আওয়ামী লীগের
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী শুধু মুক্তিযুদ্ধের সময় পালন করা হয়নি, কারণ তখন তা করার পরিবেশ ছিল না।
বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়া যখন আওয়ামী লীগের নাম নেওয়াকে
অলিখিতভাবে নিষিদ্ধ করেছিলেন, তখনো দলের কিছু নিবেদিত প্রাণ নেতা ও কর্মী দিনটিকে
ঘরোয়াভাবে পালন করেছেন।
আওয়ামী লীগ একবারেই এ দেশেই শুধু নয়, সারা ভারতবর্ষে একমাত্র জাতীয় দল, যার জন্ম
এই মাটিতেই এবং তার একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস গঠিত হয় এক
ইংরেজ বেসামরিক আমলা অ্যালেন অক্টোবিয়াস হিউম দ্বারা ১৮৮৫ সালে। উদ্দেশ্য ভারতীয়দের
সঙ্গে শাসক গোষ্ঠীর সম্পর্কোন্নয়ন। ১৯০৬ সালে ঢাকার নবাব আর বনেদি বিত্তশালীরা গঠন
করেন মুসলিম লীগ তাঁদের ব্যক্তি ও গোষ্ঠীগত স্বার্থ রক্ষা করার জন্য। রাশিয়ার বলসেভিক
বিপ্লবের পর ভারতে গঠিত হয় কমিউনিস্ট পার্টি ১৯২০ (মতান্তরে ১৯২৫ সালে) সালে মার্ক্সবাদ-
লেনিনবাদের চিন্তধারার মতবাদ প্রতিষ্ঠা করার জন্য। ১৭৫৭ সালে পলাশীর যুদ্ধের পর ইস্ট ইন্ডিয়া
কম্পানি ভারত দখলপ্রক্রিয়া শুরু করে। পরবর্তী ১০০ বছরে তারা নানা ছলচাতুরি ও বিশ্বাসঘাতকতা
করে বস্তুতপক্ষে সারা ভারতবর্ষ দখল করে নেয়। ১৮৫৭ সালে ভারতের প্রথম স্বাধীনতাযুদ্ধের পর
(ইংরেজ ঐতিহাসিকরা বলেন সিপাহি বিদ্রোহ) ভারতের শাসনভার কম্পানি থেকে ব্রিটিশ
রাজপরিবারের কাছে চলে যায়। ১৮৫৭ সালের পর ইংরেজরা বুঝতে পারে দীর্ঘ ১০০ বছর ধরে
ভারতীয়রা তাদেও কারণে যে বঞ্চনা ও বৈষম্যের শিকার হয়েছে, তাতে সাধারণ জনগণের মাঝে
ইংরেজদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের এই ক্ষোভ প্রশমিত করার জন্য তারা
বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলে। ধীরে ধীরে ভারতীয়রা শিক্ষাদীক্ষায়
একটু উন্নতি লাভ করলে তারা বুঝতে পারে ইংরেজ শাসকরা কিভাবে এবং কত উপায়ে তাদের শোষণ
করছে। তখন প্রথমে কংগ্রেস এই শোষণ ও শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ শুরু করে। পাকিস্তানের
প্রতিষ্ঠাতা জিন্নাহ বিলাত থেকে পড়া লেখা শেষ করে এসে প্রথমে কংগ্রেসে যোগ দেন; কিন্তু তাদের
সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত মুসলিম লীগের মতো একটি অরাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানকে
অনেকটা ছিনতাই করে তাকে একটি রাজনৈতিক প্লাটফরমে রূপান্তর করেন।
জিন্নাহ অত্যন্ত চালাক ও ধূর্ত ছিলেন। আর ছিলেন চরম ক্ষমতালোভী। ভারত ভেঙে
পাকিস্তান সৃষ্টি হলে তিনি একাধারে পাকিস্তানের বড়লাট ও সংসদের প্রেসিডেন্ট (স্পিকার)
হয়েছিলেন। খুব করুণ অবস্থায় জিন্নাহর মৃত্যু হয়েছিল। তাঁর শেষ দিনগুলো জানতে হলে পড়তে হবে

তাঁর বোন ফাতেমা জিন্নাহর লেখা জিন্নাহর জীবনী ‘মাই ব্রাদার’। পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী
লিয়াকত আলী খানের মুসলমানদের জন্য পৃথক আবাস ভূমি চাওয়ার অন্যতম কারণ ছিল তাঁদের বিশাল
পারিবারিক জমিদারি রক্ষা করা। এই জমিদারি পাঞ্জাব পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল।
বাংলার মুসলমানরা এই পাকিস্তান আন্দোলনে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন এটি চিন্ত করে, নিজেদের
জন্য একটি পৃথক আবাস ভূমি হলে তাঁদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হবে। পলাশীর
যুদ্ধের পর বাঙালি মুসলমানরা শিক্ষাদীক্ষাসহ সব কিছুতেই পিছিয়ে পড়েছিল। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে
কৃষি ভূমির মালিক ছিল হিন্দু জোতদার জমিদার, মহাজনরা। বেশির ভাগ মুসলমান তাদের জমিতে
বর্গাচাষ করত। নিজেদের জন্য একটি স্বাধীন আবাস ভূমির স্বপ্ন দেখে তারা নিজেদের
ভাগ্যোন্নয়নের স্বপ্ন দেখেছিল।
১৯৪৭ সালে ভারত ভাগ হয়ে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তান সৃষ্টি হলে তারা দেখেছিল তাদের সেই
স্বপ্ন ছিল ভ্রান্ত আর অনেকটা কল্পনা বিলাস। মুসলমানদের জন্য যখন পৃথক আবাস ভূমি নিয়ে
ইংরেজ শাসকদের সঙ্গে জিন্নাহ দেনদরবার করছেন, তখন ১৯৪০ সালের লাহোর মুসলিম লীগের
সম্মেলনে প্রস্তাব উত্থাপিত হয় যে উপমহাদেশে যেসব প্রদেশে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল,
প্রতিটি পৃথক রাষ্ট্র হবে এবং পরবর্তীকালে প্রয়োজনে কনফেডারেশনও করতে পারে। বর্তমান
পাকিস্তানের কোনো প্রদেশই তখন মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশ ছিল না একমাত্র অবিভক্ত বাংলা
ছাড়া। জিন্নাহর এক প্রতারণার মাধ্যমে ১৯৪৬ সালে দিল্লিতে মুসলিম লীগের এক বিশেষ কাউন্সিল
সভায় লাহোর প্রস্তাবকে পরিবর্তন করে মুসলমানদের জন্য একাধিক নয়, একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার
প্রস্তাব করে, যার

ফলে পূর্ববঙ্গ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয় । অথচ কলকাতায় যেসব মুসলমান
বাঙালি একাধিক পৃথক আবাস ভূমির জন্য আন্দোলন করছিলেন (তরুণ শেখ মুজিব তখন রাজপথের
একজন কর্মী) তাঁদের ধারণা ছিল অবিভক্ত বঙ্গ পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র হবে, কারণ তখন সমগ্র
ভারতবর্ষে এই বঙ্গই একমাত্র মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ প্রদেশ ছিল। বাংলার মুসলিম লীগ নেতারা
মেনে নিলেন, কারণ তাঁদের ধারণা, স্বাধীন হলে বদলে যাবে তাঁদের ভাগ্য। তখন বঙ্গের প্রধানমন্ত্রী
(মুখ্যমন্ত্রী) ছিলেন হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, যিনি পরবর্তীকালে আওয়ামী লীগের সভাপতি
হয়েছিলেন (ভারপ্রাপ্ত)। কিছুদিনের জন্য পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীও।
পাকিস্তানের বাঙালি মুসলমানদের মোহ ভাঙতে বেশিদিন সময় লাগেনি। ১৯৪৮ সালের মার্চ
মাসে জিন্নাহ ঢাকা এসে রমনা রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় ইংরেজিতে ঘোষণা করলেন,
পাকিস্তানের ৬ শতাংশ মানুষের ভাষা, যারা মূলত উত্তর প্রদেশ ও বিহার থেকে পাকিস্তানে মোহাজের
হিসেবে এসেছে তাদের ভাষা উর্দুই হবে পাকিস্তানের একমাত্র রাষ্ট্রভাষা, যার অর্থ হচ্ছে রাতারাতি
বাকি ৯৪ শতাংশ মানুষ সরকারি সব কাজকর্ম থেকে বঞ্চিত হয়ে গেল। এর প্রথম প্রতিবাদ সেই
জনসভায়ই হয়। একই দিন সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কার্জন হলে জিন্নাহর সংবর্ধনা সভায় তিনি
আবারও একই কথা বলেন। এবার উপস্থিত ছাত্ররাই, যাঁর মধ্যে তরুণ শেখ মুজিবও ছিলেন জিন্নাহর
এই বক্তব্যে প্রতিবাদ করেন। বস্তুতপক্ষে ১৯৪৮ সালেই শুরু হয় বাঙালির জাতীয় মুক্তির
আন্দোলনের সূত্রপাত। আন্দোলন করতে চাই সংগঠন। শেখ মুজিব অন্য ছাত্রনেতাদের নিয়ে গঠন
করলেন পূর্ব পাকিস্তান মুসলিম ছাত্রলীগ। ছাত্রদের সংগঠন নিয়ে কোনো রাষ্ট্রীয় আন্দোলন বেশি
দূর নিয়ে যাওয়া কঠিন মনে হয়েছিল তরুণ ছাত্রনেতাদের। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন জন্ম হয় পূর্ব
পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ। এর পেছনে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল শেখ মুজিবের। সভাপতি
মওলানা ভাসানী, আর সাধারণ সম্পাদক শামসুল হক। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শেখ মুজিব। শুরু থেকেই
আওয়ামী লীগের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য ছিল পূর্ব বাংলার মানুষের অধিকার আদায় ও সেই লক্ষ্যে
পাকিস্তানের এই অংশসহ প্রতিটি প্রদেশের স্বায়ত্তশাসন।

১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই দলটি এ বছর ৭১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করবে এক ভিন্ন
পরিস্থিতিতে। এ বছর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্ম শতবর্ষ। অনেক বড় ধরনের বছরব্যাপী
অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল। সব কিছু এখন অনেকটা তোলা আছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী তো
আর তোলা থাকতে পারে না। এই ৭১ বছরে এই দলটি হাজারো প্রতিকূলতার মাঝেও যা অর্জন করেছে
তা এই উপমহাদেশের অন্য কোনো রাজনৈতিক দল অর্জন করতে পারেনি। ভেঙেছেও একাধিকবার।
নিষিদ্ধ হয়েছে অন্তত ছয়বার। ১৯৫৪, ১৯৫৬ বা ১৯৭০ নির্বাচনের প্রদেশ কিংবা কেন্দ্রে জয়লাভ
করেও পাকিস্তানের সামরিক-বেসামরিক আমলাদের ষড়যন্ত্রের কারণে ক্ষমতায় যেতে পারেনি।
১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনে অনেকের সঙ্গে ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা
রাজপথে বুকের রক্ত দিয়েছেন। ১৯৭১ সালে এই দলটির নেতৃত্বে বাঙালি নিজের মাতৃভূমি স্বাধীন
করার জন্য যুদ্ধে গিয়েছিল। এই দলই জাতিকে উপহার দিয়েছিল হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির
পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বঙ্গবন্ধুর অন্যতম বড় কীর্তি ১৯৬৬ সালে বাঙালির মুক্তির
সনদ ছয় দফা ঘোষণা, যার ভিত্তিতে ১৯৭০-এর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
আওয়ামী লীগ যখনই নির্বাচনে বিজয় লাভ করেছে তখনই মানুষ কিছু পেয়েছে। ১৯৭০-এর
নির্বাচনের পর বাঙালি একটি স্বাধীন দেশ পেয়েছে। কিন্তু সেই স্বাধীন দেশে বঙ্গবন্ধু বেঁচে ছিলেন
সাড়ে তিন বছর। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট পাকিস্তানের প্রেতাত্মারা বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পুরো
পরিবারকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে হত্যা করে। বেঁচে যান বিদেশে থাকা তাঁর দুই কন্যা আজকের
ক্রান্তিকালের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ছোট বোন শেখ রেহানা। দীর্ঘ ২১ বছর পর বঙ্গবন্ধুর
জ্যেষ্ঠ কন্যা শেখ হাসিনা একটি নির্বাচনের মাধ্যমে দলটিকে আবার ক্ষমতায় ফিরিয়ে এনেছিলেন।
প্রতিষ্ঠার পর থেকে আওয়ামী লীগের অর্জন আছে অজস্র। কিন্তু অনেক সময় কাছের মানুষরাই
অনেক কিছু পণ্ড করে দিয়েছেন। আশা করব ৭১তম জন্ম বার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুকন্যা সব প্রতিকূল
পরিস্থিতি মোকাবেলা করে দেশকে আরো উন্নত শিখরে নিয়ে যাবেন। এই দিনে জাতির জনক
বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতাকর্মীদের প্রতি অভিবাদন।
বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানার প্রতি রইল ভালোবাসা। বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসে
বাংলাদেশ, বঙ্গবন্ধু ও তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা এক বিস্ময়কর স্থানে নিজেদের জন্য জায়গা করে
নিয়েছেন। সেই স্থানটুকু তাঁদের জন্য নির্ধারিত যেমন ভাবে অনিবার্য ছিল আওয়ামী লীগের জন্ম।
জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু।
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

লেখক : আবদুল মান্নান, সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন
২১.০৬.২০২০
পিআইডি নিবন্ধ

]]>
সচেতনতাই হলো যক্ষ্মা প্রতিরোধের একমাত্র উপায় https://sherakantha.com/2020/04/02/%e0%a6%b8%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a6%a4%e0%a6%a8%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%87-%e0%a6%b9%e0%a6%b2%e0%a7%8b-%e0%a6%af%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%be-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0/ Thu, 02 Apr 2020 09:20:39 +0000 http://sherakantha.com/?p=129970 Continue reading সচেতনতাই হলো যক্ষ্মা প্রতিরোধের একমাত্র উপায় →]]> গত বছর মিসেস সালেহা চৌধুরীর গলার কাছে একটি ফোড়ার মতো হয়। শুরুতে বিষয়টিকে তেমন
একটা আমলে না নিলেও পরে এতে ব্যথা শুরু হলে তিনি চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। ডাক্তারি পরীক্ষায় জানতে পারেন যে তার গলায় যক্ষ্মা হয়েছে। তিনি শুরুতেই ভেবেছিলেন এটি ব্রণের মতোই হয়তো সাধারণ কোনো ফোঁড়া যেটা দুই একটা ওষুধেই সেরে যাবে। কিন্তু গলার এই ফোঁড়ার কারণে যে যক্ষ্মা হতে পারে তিনি ভাবতেও পারেননি। পরে তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে নয় মাসের ঔষধ খেয়ে পুরোপুরি সুস্থ আছেন। মিসেস সালেহা চৌধুরী তার আশেপাশের মানুষকে সচেতন করেছেন যে যক্ষ্মা কেবল ফুসফুসের রোগ নয়। সুদীর্ঘকাল ধরে যক্ষ্মা বিশ্বব্যাপী অন্যতম প্রধান সংক্রামক রোগের স্থান দখল করে রেখেছে।

এ রোগে বিশ্বে প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। বিশেষ করে দারিদ্র এবং ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোতে এর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি। যক্ষ্মা রোগের ক্ষতিকর দিক বিশেষ করে স্বাস্থ্য, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিণতি
সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছর ২৪ মার্চ বিশ্ব যক্ষ্মা দিবস পালিত হয়ে থাকে। ১৮৮২ সালের এ দিনে ড. রর্বাট কোচ যক্ষ্মার জীবাণু আবিষ্কার, রোগ নির্ণয় ও নিরাময়ের পথ উন্মোচন করেন। তাকে স্মরণ করেই এই দিনটিতে যক্ষ্মা দিবস পালিত হয়ে থাকে। দিবসটির এবারের প্রতিপাদ্য “It’s Time”।

একটা সময় বলা হতো ‘যার হয় যক্ষ্মা, তার নাই রক্ষা’ তবে এখন ধারণাটি অনেক বদলেছে।
এরপরও যক্ষ্মা হচ্ছে। কারণ টিবি বা যক্ষ্মা একটি মারাত্মক সংক্রামক ছোঁযাচে রোগ। যা প্রধানত
ফুসফুসকে আক্রান্ত করে। যক্ষ্মা বলতে সাধারণভাবে আমরা ফুসফুসের যক্ষ্মাকেই বুঝি। এই রোগ
Mycobacterium tuberculosis (MTB) এর মাধ্যমে প্রাথমিকভাবে ফুসফুসকে আক্রান্ত করে মানব
শরীরে ছাড়ায়। তবে ফুসফুস ছাড়াও শরীরের বিভিন্ন স্থানে যক্ষ্মা হতে পারে। যেমন- লসিকাগন্থি,
হাড় ও গিট, অন্ত্র, হৃদপিণ্ডের আবরণ ও মস্তিষ্কের আবরণ, লিভারে এমনকি পাকস্থলিতেও হতে
পারে।

বিশ্বে টিবি সংক্রমণে মানুষের মৃত্যুর হার দ্বিতীয় স্থানে। যক্ষ্মা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় প্রচলিত রোগ। এর মধ্যে যক্ষ্মা রোগের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ দেশের তালিকায় রয়েছে ২২টি দেশ। যক্ষ্মা এমন একটি রোগ যেটা হাঁচি, কাশি ইত্যাদির মাধ্যমে ছড়ায়। আমাদের দৈনন্দিন জীবনে প্রতিটি পরিবারে অনেক লোক একসঙ্গে বসবাস করে। একজন আক্রান্ত হলে পরিবারের অন্যান্য লোকও আক্রান্ত হতে পারে, আর সেই জন্যই প্রতি বছর যক্ষ্মা বা টিবির নতুন নতুন রোগী তৈরি হচ্ছে।

সাধারণভাবে বলা যায় যক্ষ্মা বা টিবি রোগের প্রধান লক্ষণগুলো হলো- সাধারণত তিন
সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কাশি ও জ্বর; কাশির সঙ্গে কফ এবং রক্ত আসা; বুকব্যাথা অথবা শ্বাস
নেয়ার সময় অথবা কাশির সময় ব্যথা হওয়া; ওজন কমে যাওয়া; শারীরিক দুর্বলতা ক্ষুধামান্দা বা
খাদ্যে অরুচি, অবসাদ অনুভব করা ইত্যাদি। শরীরের যে অংশে যক্ষ্মার জীবাণু সংক্রমিত হবে সেই
অংশটি ফুলে উঠবে। যেমন- গলার গ্রান্ড আক্রান্ত হলে গলা ফুলবে, মেরুদণ্ড আক্রান্ত হলে পুরো
মেরুদণ্ড ফুলে উঠবে। ফোলা অংশটি খুব শক্ত বা একদম পানি পানি হবে না, সেমি সলিড হবে। ফোলার
আকার বেশি হলে ব্যথাও হতে পারে। লিভারে যক্ষ্মা হলে পেটে পানি চলে আসে। তাই পেট ও অস্বাভাবিক ফুলে যায়। মাস্তিষ্কে সংক্রমিত হলে সেখানেও পানির মাত্রা বেড়ে যায়।

এছাড়াও চামড়ায় বা অন্য যেখানেই হোক না কেন সেই অংশটা ফুলে ওঠে। দেশের মোট জনসংখ্যার একটি অংশ জন্মগতভাবেই যক্ষ্মা রোগের জীবাণু বহন করে থাকে। তবে শরীরে জীবাণু থাকা মানেই এই নয় যে ব্যক্তি রোগে আক্রান্ত। তবে জীবাণুর ধারক নিজে আক্রান্ত না হলেও তার মাধ্যমে অন্যের শরীরে যক্ষ্মা ছড়াতে পারে। আর সেটা যেকোনো অঙ্গেই হতে পারে।

আর এই জীবাণু থেকে তাদেরই রোগ হওয়ার আশঙ্কা বেশি থাকে যাদের রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা দুর্বল। ডায়াবেটিসে আক্রান্ত রোগী এবং এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের এই জীবাণুতে
সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক বেশি থাকে। দেখা গেছে, আফ্রিকা বিশেষ করে পশ্চিম আফ্রিকা,
আফগানিস্তান, চীন, রাশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, উত্তর আমেরিকা, পাকিস্তান ভারত ও বাংলাদেশের
মানুষের যক্ষা হওয়ার প্রকোপ বেশি।
সাধারণত যক্ষ্মা বা টিবি দুই ধরনের হয়ে থাকে, ফুসফুসে যক্ষ্মা ও ফুসফুসবহির্ভূত যক্ষ্মা।
এর মধ্যে ৮৫ শতাংশ হলো ফুসফুসের যক্ষ্মা আর ১৫ শতাংশ অন্যান্য যক্ষ্মা। সাধারণত ১৫ থেকে
৪০ বয়সের লোকেরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে। সারা বিশ্বের দশটি মৃত্যুজনিত কারণের মধ্যে
যক্ষ্মা অন্যতম। আর বিশ্বের এক চতুর্থাংশ মানুষের দেহে এই রোগ সুপ্ত অবস্থায় আছে, যা
সাধারণত সংক্রমণ ঘটায় না, তবে এদের মধ্যে পাঁচ থেকে পনেরো ভাগ মানুষের জীবনে যক্ষ্মার
সংক্রমণ হতে পারে।

তবে এই রোগ নিয়মিত চিকিৎসায় সম্পূর্ণ নির্মূল করা সম্ভব। যক্ষা রোগীর প্লেট, গ্লাস,
বিছানা আলাদা করে দেওয়ার দরকার নেই। কারণ বাতাসের মাধ্যমে যক্ষা রোগের জীবানু ছাড়ায়। এ
রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি বা কাশির মাধ্যমে ছড়ায়, তাই যার এ রোগ রয়েছে তাকে কিছু বিষয়ে
সর্তক হতে হবে। হাঁচি বা কাশির সময় মুখে রুমাল দেওয়া, হাত দিয়ে মুখ ঢাকা অথবা এক দিকে সরে
কাশি দিতে হবে। যেখানে সেখানে কফ বা থুতু ফেলা যাবে না। আক্রান্ত ব্যক্তির মুখের কাছাকাছি গিয়ে
কথা বললে এ রোগের জীবাণু ছড়াতে পারে। রোগীর কফ বা থুতু নির্দিষ্ট পাত্রে ফেলে তা মাটিতে পুঁতে
ফেলতে হবে।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে যক্ষার জীবাণু ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। রোগ প্রতিরোধ
ক্ষমতা দুর্বল হলে যক্ষার জীবাণু ফুসফুসে এবং শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে যেতে পারে এবং তা
রোগ প্রতিরোধী কোষগুলো ধ্বংস করে দিতে পারে। বছরের পর বছর ধরে যক্ষার জীবাণু শরীরে থাকলে
পরবর্তীতে এটি সক্রিয় যক্ষায় রোগ নিতে পারে। সাধারণত বয়স, ঔষধ সেবন, অপুষ্টি, কেমোথেরাপী,
মদপান ইত্যাদির জন্য রোগ প্রতিরোধ কমে গেলে সক্রিয় যক্ষা হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।
যক্ষা শনাক্ত হওয়ার পর নিয়ম মেনে পূর্ণাঙ্গ ডোজ ঔষুধ সেবন করতে হয় যক্ষা রোগীকে।
কিন্তু কিছুদিন ঔষুধ সেবনের পর কিছুটা ভালো মনে হলেই ঔষধ বন্ধ করে দেন রোগীরা। অনেক রোগী
পূর্ণাঙ্গ ডোজ আর শেষ করেন না। এতে করে ঐ রোগীর নরমাল যক্ষা থেকে ঔষুধ প্রতিরোধী যক্ষার
আক্রান্তের আশঙ্কা দেখা দেয়। অর্থাৎ আগের নরমাল ঔষধগুলো ঐ রোগীর শরীরে আর কাজ
করেনা । যার কারণে আরো দামি ঔষুধের পাশাপাশি উচ্চ দামের ইনজেকশন দিতে হয় ডিআর যক্ষা
রোগীকে।
বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মতে প্রতি বছর বাংলাদেশে প্রায় ছয় হাজার যক্ষা রোগী মারা যাচ্ছে।
ডব্লিউএইচও’র সম্প্রতি প্রকাশিত গ্লোবালটি উবায়কিজ লাসিস রির্পোট ২০১৯ শীর্ষক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে যক্ষা রোগীর সংখ্যা ৩লাখ ৫৭ হাজার । সে হিসেবে প্রতি লাখে ২২১জন এ রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। গত বছর এ রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৪৭ হাজারের । এর মধ্যে ১৯০ জনই ছিলেন এইডসে আক্রান্ত । এ ছাড়া ঔষুধ প্রতিরোধী যক্ষায় আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৫ হাজার ৯০০।

তবে যক্ষা নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ এগিয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। এতে বলা হয় যক্ষা চিকিৎসার আওতায় বাড়ানোর ক্ষেত্রে আগের তুলনায় এগিয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৮ সালে দেশে যক্ষা চিকিৎসার আওতাভুক্ত রোগীর হার ছিল ৭৫ শতাংশ । ২০২২ সাল নাগাদ এটিকে ৯০শতাংশে উর্ত্তীণ করার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া দেশে ৯৪শতাংশ ক্ষেত্রেই যক্ষার চিকিৎসার সাফল্য মিলেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশের সকল- উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর হাসপাতাল বক্ষব্যাধি ক্লিনিক
হাসপাতাল, নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্র, এনজিও ক্লিনিক ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসমূহ বিনামূল্যে
কফ পরীক্ষা, রোগ নির্ণয়সহ যক্ষার চিকিৎসা করা হয় ও ঔষধ দেওয়া হয়। যক্ষা হলে ত্বকের
পরীক্ষা, রক্তের পরীক্ষা, কফ পরীক্ষা, বুকের এক্স-রে পরীক্ষা অথবা সিটি স্ক্যান এবং কালাচার
টেস্টও করানো হয়ে থাকে।
যক্ষা নিরাময়ে নিয়মিত ওষুধ সেবনের পাশাপাশি রোগীর খাদ্যাভ্যাসের দিকটিও খুব
গুরুত্বপূর্ণ। যক্ষারোগীর খাদ্য তালিকায় অবশ্যই পর্যাপ্ত পরিমাণ শর্করা বা কার্বোহাইড্রেট
থাকতে হবে। কোনোভাবেই লো-কার্ব ডায়েট দেওয়া ঠিক হবে না। প্রধান খাবার হতে পারে লাল চালের
ভাত, রুটি, খিচুড়ি, হালুয়া প্রভুতি। এছাড়াও আমিষ বা প্রোটি, ভিটামিন, মিনারেলস আয়রন ও জিংক
সমৃদ্ধ খাবার খেতে হবে।
সরকার প্রতিটি নাগরিকের স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে বদ্ধ পরিকর। স্বাস্থ্য খাতে সমতা
আনতে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। সরকার বিনামূল্যে যক্ষা রোগীদের ওষুধ দিচ্ছেন। এ ছাড়াও
মারণব্যাধি যক্ষা নির্ণয়ে নামনো হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তির যন্ত্রপাতি সংযোজিত ভ্রাম্যমান গাড়ি।
সরকার বাংলাদেশে ওষুধ তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সর্বোপরি একটা কথা বলা যায় অতীতে মানুষের যক্ষা ধরা পড়লে হতাশ হয়ে জীবন যাপন
করতে হতো। কারণ তখন যক্ষার কোনো ঔষধ ছিলনা। ফলে মানুষ খুবই ভয় পেত। আজ আর সেই দিন
নেই। যক্ষার ওষুধ নিয়মিত সেবন করলে এবং সঠিক নিয়মে খাদ্যবিধি মেনে চললে যক্ষা সম্পূর্ণরূপে
নির্মূল করা সম্ভব।

ডা. সাঈদ আনোয়ার

]]>
ইসলামের দৃষ্টিতে যেসব মহিলাকে বিবাহ করা হারাম https://sherakantha.com/2019/07/13/%e0%a6%87%e0%a6%b8%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a7%87%e0%a6%b8%e0%a6%ac-%e0%a6%ae%e0%a6%b9-2/ Sat, 13 Jul 2019 14:06:45 +0000 http://sherakantha.com/?p=129369 Continue reading ইসলামের দৃষ্টিতে যেসব মহিলাকে বিবাহ করা হারাম →]]> মানব জাতির জন্য ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবন ব্যবস্থা। ইসলামের পবিত্র ধর্ম গ্রন্থ কুরআনে দৈনন্দিন জীবন-যাপনের সঠিক ও সহজ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। মানুষের জন্য কোনটি হারাম এবং কোনটি হালাল সেটাও মহান করুণাময় আল্লাহ তাআলা নির্দিষ্ট করেছে দিয়েছেন।

কুরআন ও হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী, একজন ব্যক্তি তখনই পরিপূর্ণ মুমিন হয় যখন সে বিবাহ করার মাধ্যমে জীবন যাপন করেন। বিবাহের ক্ষেত্রে কিছু বিধান রয়েছে ইসলামে। যে কাউকে বিবাহ করার ক্ষেত্রে ইসলামে কোঠর নিষেধ রয়েছে।

ইসলামের দৃষ্টিতে যাদের বিবাহ করা হারাম:

মহান দয়াময় ও করুণাময় আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেন- মাতা, দুধ মা, বোন, দুধ বোন, কন্যা,খালা, ফুফু, ভ্রাতৃকন্যা, ভগিণীকণ্যা, স্ত্রীদের মাতা, ঔরসজাত পুত্রদের স্ত্রী, দুই বোনকে একত্রে বিবাহ করা হারাম, অন্যের বৈধ স্ত্রীকে বিবাহ করা হারাম, তোমরা যাদের সঙ্গে সহবাস করেছ সে স্ত্রীদের কন্যা যারা তোমাদের লালন-পালনে আছে। যদি তাদের সাথে সহবাস না করে থাক, তবে এ বিবাহে তোমাদের কোন গোনাহ নেই।

তবে খালাতো, মামাতো, চাচাতো বা ফুফাতো বোনকে বিবাহ করা বৈধ। চাচা মারা গেলে কিংবা তালাক দিয়ে দিলে চাচীকে বিবাহ করার বৈধতা দিয়েছে ইসলাম।

]]>
৬০০ বছরের মধ্যে পৃথিবী আগুনের গোলায় পরিণত হবে : স্টিফেন হকিং https://sherakantha.com/2017/11/17/%e0%a7%ac%e0%a7%a6%e0%a7%a6-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%a7%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%aa%e0%a7%83%e0%a6%a5%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%80-%e0%a6%86%e0%a6%97/ Fri, 17 Nov 2017 04:35:11 +0000 http://sherakantha.com/?p=126747 Continue reading ৬০০ বছরের মধ্যে পৃথিবী আগুনের গোলায় পরিণত হবে : স্টিফেন হকিং →]]>  ৬০০ বছরের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে পৃথিবী। ২৬০০ সাল নাগাদ এই দুনিয়া পরিণত হবে বিশাল এক আগুনের গোলায়, যাবতীয় সৃষ্টি পুড়ে ছারখার হয়ে যাবে। ভবিষ্যদ্বাণী করলেন বৈজ্ঞানিক স্টিফেন হকিংয়ের।

বেজিংয়ে এক সমাবেশে এই দাবি করেছেন বিশ্বনন্দিত এ বিজ্ঞানী। তাঁর বক্তব্য, পৃথিবীর জনসংখ্যা বাড়ছে। তার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে শক্তির ব্যবহার। ফলশ্রুতি, বিশ্বের ধ্বংস হয়ে যাওয়া।

হকিংয়ের কথায়, সমাধান একটাই। মানুষকে পৃথিবীর বাইরে তাকাতে হবে। এমন গ্রহে বসতি স্থাপনের কথা ভাবার সাহস করতে হবে, যেখানে আগে মানুষের পায়ের চিহ্ন পড়েনি।
দীর্ঘদিন ধরে হকিংয়ের পরিকল্পনা, এই সৌরজগতের বাইরে নিকটতম গ্রহে সফর করার, দেখার, সেখানে মানুষের জীবনধারণের উপায় আছে কিনা। এ জন্য বিনিয়োগকারীদের এগিয়ে আসতে অনুরোধ করেছেন তিনি।

এই সৌরজগতের নিকটতম তারার জগত আলফা সেন্টাউরি। পৃথিবী থেকে তার দূরত্ব ৪ বিলিয়ন আলোকবর্ষ। বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, সম্ভবত এই আলফা সেন্টাউরির মধ্যে পৃথিবীর মত গ্রহ রয়েছে যাতে প্রাণীজগতের বসবাস সম্ভব। হকিংয়ের ইচ্ছে, ছোট কোনও মহাকাশযানে করে এখনই আলোর গতিতে ওই আলফা সেন্টাউরিতে পাড়ি দেওয়ার যাতে ২০ বছরের মধ্যে সেখানে পৌঁছনো যায়। তাঁর হিসেব, ওরকম একটি মহাকাশযান মঙ্গলে পৌঁছে যাবে ১ ঘণ্টার কম সময়ে, কয়েকদিনের মধ্যে প্লুটোতে। নাসার ভয়েজারের পাশ দিয়ে যাবে ১ সপ্তাহের মধ্যে, ২০ বছরের মধ্যে ছুঁয়ে ফেলবে আলফা সেন্টাউরি। তারপর পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখা হোক, এখান থেকে মানুষ নিয়ে গিয়ে সত্যিই সেখানে বসতি গড়া সম্ভব কিনা। সূত্র : কলকাতা২৪*৭

]]>
যদি কাগজে লেখো নাম… https://sherakantha.com/2017/11/17/%e0%a6%af%e0%a6%a6%e0%a6%bf-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%96%e0%a7%8b-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae/ Fri, 17 Nov 2017 04:26:05 +0000 http://sherakantha.com/?p=126743 Continue reading যদি কাগজে লেখো নাম… →]]> ‘যদি কাগজে লেখো নাম কাগজ ছিড়ে যাবে/পাথরে লেখো নাম পাথর ক্ষয়ে যাবে/হৃদয়ে লেখো নাম সে নাম রয়ে যাবে/হৃদয় আছে যার সেই তো ভালোবাসে/প্রতিটি মানুষেরই জীবনে প্রেম আসে।’

প্রবোধ চন্দ্র দে। ডাক নাম মান্না দে। ভারতীয় উপমহাদেশের অন্যতম সেরা সঙ্গীত শিল্পীদের একজন। হিন্দি, বাংলা, মারাঠি, গুজরাটিসহ অজস্র ভাষায় তিনি ষাট বছরেরও অধিক সময় সঙ্গীত সাধনা করেছেন। বৈচিত্র্যের বিচারে হিন্দি গানের ভুবনেও সবর্কালের সেরা গায়কদের একজন তিনি। ২০১৩ সালের আজকের (২৪ অক্টোবর) এ দিনে উপমহাদেশের বিখ্যাত এই সঙ্গীতজ্ঞ ব্যাঙ্গালুরুর একটি হাসপাতালে মারা যান। মহান শিল্পীকে গভীর শ্রদ্ধাঞ্জলি।

১৯১৯ সালের ১ মে কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন মান্না দে। তার বাবার নাম পূর্ণ চন্দ্র দে ও মায়ের নাম মহামায়া দে। মান্না দে’র সঙ্গীতে যাত্রায় বাবা-মায়ের অনুপ্রেরণা ছিল। তারপর সবচেয়ে বেশি অনুপ্রেরণা পান চাচা সঙ্গীতে বিশেষভাবে দক্ষ শিক্ষক কৃষ্ণ চন্দ্র দে’র কাছ থেকে। তিনিই তাকে খুব বেশি অনুপ্রাণিত ও উৎসাহিত করেছেন। কাকা কৃষ্ণ চন্দ্র দে ও উস্তাদ দাবির খানের কাছ থেকে গানের শিক্ষা লাভ করেন তিনি।মান্না দে তার শিশু পাঠ গ্রহণ করেছেন ‘ইন্দু বাবুর পাঠশালা’ নামে একটি ছোট প্রাক-প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। তারপর তিনি স্কটিশ চার্চ কলেজিয়েট স্কুল এবং স্কটিশ চার্চ কলেজ থেকে স্নাতক করেন। স্কটিশ চার্চ কলেজে পড়ার সময় সহপাঠীদেরকে গান শুনিয়ে তিনি আসর মাতাতেন। ওই সময়ে মান্না দে আন্তঃকলেজ গানের প্রতিযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে তিন বছর তিনটি আলাদা শ্রেণিবিভাগে প্রথম হয়েছিলেন।

১৯৪২ সালে চাচা কৃষ্ণ চন্দ্র দে’র সঙ্গে তৎকালীন বোম্বে দেখতে আসেন। সেখানে শুরুতে তিনি চাচার সহকারী হিসেবে এবং পরে শচীন দেব বর্মণের অধীনে কাজ করেন। পরবর্তীতে তিনি অন্যান্য স্বনামধন্য গীতিকারের সান্নিধ্যে আসেন। এক সময় স্বাধীনভাবে নিজেই কাজ করতে শুরু করেন। ওই সময় তিনি বিভিন্ন হিন্দি চলচ্চিত্রের জন্য সঙ্গীত পরিচালনার পাশাপাশি উস্তাদ আমান আলি খান ও উস্তাদ আব্দুল রহমান খানের কাছ থেকে হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের তালিম নেন।

১৯৪৩ সালে ‘তামান্না’চলচ্চিত্রে গায়ক হিসেবে মান্না দে’র অভিষেক হয়। এতে সুরাইয়ার সঙ্গে একটি দ্বৈত সংগীতে কণ্ঠ দেন মান্না দে। গানটির সুরকার ছিলেন তার চাচা। ওই সময়ে গানটি ভীষণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিল। ১৯৫০ সালে ‘মশাল’ ছবিতে শচীন দেব বর্মণের সুরে ‘ওপার গগন বিশাল’ নামে একক গান গেয়েছিলেন। গানটির কথা লিখেছিলেন কবি প্রদীপ। ১৯৫২ সালে মান্না দে বাংলা এবং মারাঠী ছবিতে একই নামে এবং গল্পে ‘আমার ভূপালী’ গানটি গান। আর এর মাধ্যমেই তিনি নিজের অবস্থানকে শক্তিশালী করেন এবং জনপ্রিয় গায়ক হিসেবে সঙ্গীতপ্রেমীদের কাছ থেকে কদর পেতে থাকেন।

পরে মান্না দে ভীমসেন জোসি’র সঙ্গে একটি জনপ্রিয় দ্বৈত গান ‘কেতকী গুলাব জুহি’ গান। এ ছাড়াও ‘শোলে’ সিনেমায় তিনি কিশোর কুমারের সঙ্গে ‘ইয়ে দোস্তী হাম নেহী তোড়েঙ্গে’ এবং ‘পডোসন’ সিনেমায় ‘এক চতুর নার’ গানটি গান।

মান্না দে শিল্পী ও গীতিকার হেমন্ত মুখোপাধ্যায়সহ আরো বেশকিছু গীতিকারের সঙ্গে বাংলা ছবিতে গান গেয়েছিলেন। দ্বৈত সঙ্গীতে লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে ‘শঙ্খবেলা’ সিনেমায় ‘কে প্রথম কাছে এসেছি’ গান করেছেন। তিনি রবীন্দ্র সঙ্গীতসহ প্রায় ৩৫০০ গান গেয়েছেন। তার জনপ্রিয় বাংলা গানগুলোর মধ্যে রয়েছে-কফি হাউজের সেই আড্ডাটা, আবার হবে তো দেখা, এই কূলে আমি আর ওই কূলে তুমি, তীর ভাঙা ঢেউ আর নীড় ভাঙা ঝড়, যদি কাগজে লেখো নাম, সে আমার ছোট বোন, পৌষের কাছাকাছি রোদ মাখা সেইদিন, কতদিন দেখিনি তোমায়, খুব জানতে ইচ্ছে করে, আমি সারারাত, এ নদী এমন নদী, মাঝরাতে ঘুম, এই আছি বেশ, এই রাত যদি, কি এমন কথা, ক’ফোঁটা চোখের জল, দীপ ছিল শিখা ছিল, যদি হিমালয়-আল্পসের সমস্ত জমাট বরফ ও শাওন রাতে।

১৯৫৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর কেরালার মেয়ে সুলোচনা কুমারনকে বিয়ে করেন মান্না দে।তাদের সংসারে দুই মেয়ে শুরোমা ও সুমিতা। মান্না দে পঞ্চাশ বছরেরও বেশি সময় মুম্বাইয়ে কাটানোর পর মৃত্যুর আগে ব্যাঙ্গালুরুর কালিয়ানগর শহরে বাস করেন।এ ছাড়া তিনি কলকাতায়ও বাস করেছেন।

সঙ্গীতে অসামান্য অবদানের জন্য ভারত সরকার ১৯৭১ সালে তাকে ‘পদ্মশ্রী’, ২০০৫ সালে ‘পদ্মবিভূষণ’ এবং ২০০৯ সালে ‘দাদাসাহেব ফালকে’ সম্মাননায় অভিষিক্ত করে। ২০১১ সালে পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাকে রাজ্যের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান ‘বঙ্গবিভূষণ’ প্রদান করে। এ ছাড়াও তিনি ১৯৬৯ সালে হিন্দী চলচ্চিত্র ‘মেরে হুজুর’ ছবির গানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার; শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতশিল্পী (পুরুষ), ১৯৭১ সালে বাংলা চলচ্চিত্র ‘নিশি পদ্মে’ ছবির গানের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার: শ্রেষ্ঠ সঙ্গীতশিল্পী (পুরুষ)ও ১৯৮৮ সালে রেনেসাঁ সাংস্কৃতিক পরিষদ, ঢাকা থেকে মাইকেল সাহিত্য পুরস্কারসহ অসংখ্য পুরস্কার পেয়েছেন।

২০০৫ সালে আনন্দ প্রকাশনী থেকে বাংলাভাষায় তার আত্মজীবনী ‘জীবনের জলসাঘরে’ প্রকাশিত হয়। পরে এটি ইংরেজিতে ‘মেমরীজ কাম এলাইভ’, হিন্দীতে ‘ইয়াদেন জি ওথি’ এবং মারাঠী ভাষায় ‘জীবনের জলসাঘরে’ নামে অনুদিত হয়েছে। ২০০৮ সালে তার জীবন নিয়ে ‘জীবনের জলসাঘরে’ নামে একটি তথ্যচিত্র মুক্তি পায়।

]]>
চ্যালেঞ্জ নিয়ে ১শ’ মরিচ খেয়ে যা হল যুবকের! https://sherakantha.com/2017/08/24/%e0%a6%9a%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%9e%e0%a7%8d%e0%a6%9c-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a7%a7%e0%a6%b6-%e0%a6%ae%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%9a-%e0%a6%96/ Thu, 24 Aug 2017 16:19:30 +0000 http://sherakantha.com/?p=123213 Continue reading চ্যালেঞ্জ নিয়ে ১শ’ মরিচ খেয়ে যা হল যুবকের! →]]> ইন্ডিয়ান, মোগলাই, চাইনিজ থেকে ইটালিয়ান, জাপানিজ– খাবার যাই হোক না কেন যেখানে ঝাল সেখানেই স্বাদ। যারা ঝাল খেতে ভালবাসেন, তারাই এর কদর জানেন।

কিন্তু অতিরিক্ত কোনো কিছুই ভাল নয়। ঝাল তো একদমই নয়। এই শিক্ষা হাতেনাতে পেলেন ইন্দোনেশিয়ার এক ভিডিও ব্লগার ওরফে ভ্লগার। তিনি ঝাল খাওয়ার ফল পেলেন হাতেনাতে।
ভিডিও ব্লগার হওয়ার সুবাদে অনেক বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়েছে ইন্দোনেশিয়ার বেন সুমাদিভিরিয়ার। কিন্তু এবারের অভিজ্ঞতা তাঁর সারা জীবন মনে থাকবে। কী করেছিলেন এই ভ্লগার? চ্যালেঞ্জ নিয়ে ১০০টি ঝাল বার্ড’স আই চিলি সম্বলিত নুডলস খেয়ে ফেলেছিলেন তিনি। আর ঝালের চোটে হয়ে গিয়েছিলেন বধির। টানা দু’মিনিট এমন অবস্থা ছিল তাঁর। কানে কিছু শুনতে পাচ্ছিলেন না ইন্দোনেশিয়ার ওই যুবক। ঝাল সইতে না পেরে শেষে পুরো মাথাই ঠাণ্ডা পানিতে চুবিয়ে দেন। তখন কিছুটা রেহাই মেলে। তারও কিছুক্ষণ পরে সব ঠিক হয়।

কিন্তু কেন এমনটা হল বেনের? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের মুখগহ্বরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত কান ও নাক। ঝালের চোটে যেমন নাক দিয়ে পানি গড়িয়ে পড়ে, তেমনই কানও বন্ধ হয়ে যেতে পারে সাময়িকভাবে। ঠিক ঠাণ্ডা লাগলে যেমনটা হয়। আর বেন খেয়েছিলেন ১০০টি বার্ড’স আই চিলি সম্বলিত নুডলস। যা বিশ্বের অন্যতম ঝাল লঙ্কা হিসেবে বিবেচিত হয়।

হালাপিনোর থেকেও ৪৫ গুণ বেশি ঝাল। সে কারণেই তাঁর এমন অবস্থা হয়েছে। আর অতিরিক্ত ঝাল খেয়ে মুখগহ্বরের পাশাপাশি খাদ্যনালী ঝলসে যাওয়ারও প্রবল সম্ভাবনা থাকে। তাই ঝালপ্রিয় খাদ্যরসিকদের একটু সাবধানে চলার পরামর্শই দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আর কেউ মানুন আর না মানুন, বেন তো এবার থেকে এই পরমর্শ নিশ্চয়ই মেনে চলবেন!

]]>
ঢাকার মুঘল দুর্গ-প্রাসাদ টাকশাল-সরাইখানা https://sherakantha.com/2017/07/02/%e0%a6%a2%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%98%e0%a6%b2-%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%97-%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%a6/ Sun, 02 Jul 2017 07:45:58 +0000 http://sherakantha.com/?p=122559 Continue reading ঢাকার মুঘল দুর্গ-প্রাসাদ টাকশাল-সরাইখানা →]]> ঢাকায় মুঘল আমলের কীর্তির অভাব নেই। ঢাকা শহরে পুরাকীর্তি হিসেবে যেসব স্থাপনাকে শনাক্ত করা যায়, তার মধ্যে মুঘল আমলের কীর্তি অনেক। ঢাকায় রাজধানী থাকার সময় (১৬০৮-১৭১৭) তো বটেই, তার পরেও কোম্পানি শাসন চালু হওয়া পর্যন্ত সময়কালের কীর্তিগুলো মুঘল আমলের কীর্তি মনে করা হয়।

ঢাকায় মুঘল আমলে রাজধানী ছিল ১০০ বছরের মতো; এরপরও ১৭১৭ থেকে ১৭৫৭ পর্যন্ত নবাবি আমলের ঢাকায় দালানকোঠা, রাস্তাঘাট এসব নির্মিত হয়েছিল। ১৭৬৫-তে কোম্পানি শাসন চালু হয়। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর সরাসরি ব্রিটিশ শাসন প্রবর্তিত হয়। ১৯৪৭ পর্যন্ত সেই শাসন চলে। মুঘল, কোম্পানি ও ইংরেজ আমলে ঢাকার গুরুত্ব কখনো বেড়েছে কখনো কমেছে। পুরোটা সময়ের নির্মাণ নিদর্শন ছড়িয়ে আছে শহর ঢাকার অলিগলিতে। তবে সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ টিকে থাকা নিদর্শনগুলো মুঘল আমলের।

 

‘বাহারিস্তান-ই-গায়বি’র বর্ণনা থেকে জানা যায়, রাজমহল, গৌড় ও ঘোড়াঘাটসহ কয়েকটি মাত্র জায়গায় ঢাকার দুর্গের মতো দুর্গ ছিল। এ দুর্গ রাজধানী হওয়ার আগে থেকেই ঢাকায় ছিল। আনুমানিক ১৬০২-১৬০৩ সালের দিকে মানসিংহের সময়ে এটি নির্মিত হয়েছিল বলে মনে করা হয়। এ দুর্গের ভেতরে প্রথম সুবাদার ইসলাম খান (১৬১০ থেকে ১৬১৩ সাল পর্যন্ত) অবস্থান করেছিলেন বলে জানা যায়। পুরোনো সেই দুর্গকে সংস্কার করে নেওয়া হয়েছিল মাত্র। নলিনীকান্ত ভট্টশালীর মতে, দুর্গটি সংস্কার করতে দুই সপ্তাহ সময় লেগেছিল। দুর্গটির ভেতরে ঢোকা ও বের হওয়ার পথ দুটো ছিল পূর্ব ও পশ্চিম দিকে। অনেক সুবাদারের বাসভবন ও অফিস, টাকশাল, মসজিদ প্রভৃতি ছিল এ দুর্গের ভেতরে।
বখশিবাজার, দেওয়ান বাজার প্রভৃতি জায়গায় ছিল মন্ত্রী ও আমলাদের আবাসিক এলাকা। চকবাজারে ছিল বাদশাহী বাজার। পিলখানায় হাতিশাল, মাহুতটুলীতে মাহুতদের আবাসস্থান ছিল। উর্দু রোড, আতিশখানা, নবাবগঞ্জ, সুজাতপুর, মহল্লা চিশতিয়া প্রভৃতি ছিল মুঘল ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। বর্তমান হাইকোর্ট এলাকায় অবস্থিত ছিল বাদশাহি বাগান ‘বাগ-ই-বাদশাহি’। আজাদ আল হোসায়নির ‘নওবাহার-ই-মুর্শিদকুলি খানি’, ডক্টর আহমদ হাসান দানির ‘ঢাকা : এ রেকর্ড অব চেঞ্জিং ফরচুনস’, যতীন্দ্র মোহন রায়ের ‘ঢাকার ইতিহাস’ প্রভৃতি গ্রন্থে মুঘল যুগের ঢাকার এসব এলাকার একটি চিত্র পাওয়া যায়।

 

ঢাকার ইতিহাসে প্রথমবারের মতো টাকশাল স্থাপিত হয়েছিল মুঘল আমলে। এর পরে অবশ্য আর কখনোই ঢাকায় নতুন করে টাকশাল স্থাপিত হয়নি। স¤্রাট জাহাঙ্গীরের নামানুসারে সুবাদার ইসলাম খানের আমলে ঢাকার নামকরণ হয়েছিল জাহাঙ্গীরনগর। ঢাকার প্রথম এবং শেষ টাকশালটিরও নাম ছিল জাহাঙ্গীরনগর টাকশাল। জাহাঙ্গীরের আমল থেকেই এখানে মুদ্রা তৈরি শুরু হয়েছিল। যেসব স¤্রাটের আমলের মুদ্রা এ টাকশালে তৈরি হওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে তাঁদের নাম- জাহাঙ্গীর, শাহজাহান, আওরঙ্গজেব, আলমগীর-২, আহমদ শাহ, মোহাম্মদ শাহ, জাহান্দার শাহ ও শাহ আলম।

এ সম্রাটদের আমলে জাহাঙ্গীরনগর টাকশালে তৈরি রুপার গোলাকার মুদ্রা পাওয়া গেছে। মুদ্রাগুলোর ওজন সাধারণভাবে ১১.৬০ গ্রাম ছিল বলে মনে করা হয়। অবশ্য বর্তমানে আর সেই ওজন নেই। ক্ষয় হয়ে এগুলোর ওজন বর্তমানে মোটামুটিভাবে ১১.০০ গ্রাম হয়েছে। আকবরের আমলে প্রবর্তিত ইলাহি সাল ও মাসের নাম তাঁর পরবর্তীকালের জাহাঙ্গীর ও শাহজাহানের আমলের মুদ্রাতেও পাওয়া যায়। এসব মুদ্রায় কখনও কখনও তির, মিহির, খুরদাদ, আমারদাদ-এর মতো ইলাহি মাসের নাম যেমন পাওয়া যায়, আবার ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ’ উৎকীর্ণ মুদ্রাও পাওয়া যায়।

 

এ নামের দুটি দুর্গের বর্ণনা ও দুর্গটির অবস্থান চিহ্নিতকারী মানচিত্র সন্নিবেশিত আছে অধ্যাপক আহমদ হাসান দানির ‘ঢাকা : এ রেকর্ড অব চেঞ্জিং ফরচুনস’ গ্রন্থে। মানচিত্রটি মুঘলপূর্ব ও মুঘল যুগকে নির্দেশ করেছে। মির্জা নাথানের ‘বাহারিস্তান-ই-গায়েবি’তে বুড়িগঙ্গা নামের কোনো নদীর নাম নেই। বরং আছে দুলাই নদীর নাম। অধ্যাপক আহমদ হাসান দানি তাঁর উপরোক্ত গ্রন্থে (অনুবাদ : ২০০৫, পৃষ্ঠা : ১৪) উল্লেখ করেছেন যে, বুড়িগঙ্গার পুরোনো নাম দুলাই। সেই দুলাই নদীর একটি শাখা বা খাল ডেমরার দিকে প্রবাহিত ছিল। এ খালটির দু’ধারে নদীসংলগ্ন উৎসমুখের কাছে বেগ মুরাদের দুর্গ নামের দুটি দুর্গ ছিল। সুবাদার ইসলাম খান এ দুটি দুর্গের একটির তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দিয়েছিলেন ইহতিমাম খানের ওপর, অন্যটির দায়িত্ব ছিল মির্জা নাথানের ওপর। ঢাকার যোগাযোগ, অর্থনীতি, বাণিজ্য ও সামরিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ছিল ধোলাইখাল। এটির পশ্চিম প্রান্ত বাবুবাজারের কাছে এবং পূর্ব প্রান্ত লোহারপুলের নিচ দিয়ে মিশেছিল বুড়িগঙ্গায়।

 

বাদশাহী দুর্গ যেখানে অবস্থিত ছিল সেখানে কোম্পানি আমলের শুরুর দিকে কোতোয়ালি থানা স্থাপিত হয়েছিল। পরে কোম্পানি আমলেই ১৮৩৬ সালে এখানে জেলখানা স্থাপিত হয়েছিল। সেই জেলখানায় দক্ষিণ ও পূর্ব দিক দিয়ে চলে যাওয়া সড়কের নাম হয়েছিল জেল রোড।
কোতোয়াল সাহেব থাকতেন জেলখানার পূর্ব দিকের একটি বাড়িতে। সেই বাড়িটি কোতোয়াল সাহেবের বাড়ি নামে পরিচিতি পেয়েছিল।

ধানমন্ডি ঈদগাহ

ঢাকা শহরের ধানমন্ডি এলাকায় ৬/এ এবং ৭/এ সড়ক দুটির মাঝখানে মুঘল আমলের একটি ঈদগা রয়েছে। এখন সাধারণ্যে সেটি ধানমন্ডি ঈদগা নামে পরিচিতি পেলেও প্রকৃত নাম সেটি ছিল না। ঈদগাকে ঘিরে রাখা নির্মাণ কাঠামো আধুনিক হলেও তা মুঘলশৈলীর আদলেই করা হয়েছে। তবে সংস্কারের আগেও মেহরাবসহ দেয়ালের কিছু অংশ কোনো রকমে টিকে ছিল। ঈদগাটির নির্মাণের তারিখ পাওয়া যায় মেহরাবের ওপরের শিলালেখ থেকে। সেই শিলালেখ থেকে জানা গেছে যে, ১০৫০ হিজরি মোতাবেক ১৬৪০ সালে সুবাদার শাহ শুজার দেওয়ান মির আবুল কাসেম এ ঈদগাটি নির্মাণ করেছিলেন।

 

মুঘল নৌবাহিনীর তত্ত্বাবধায়ক মির্র্জা মুকিম মতিঝিল-দিলকুশা এলাকায় এক বিশাল সরাইখানা স্থাপন করেছিলেন মিরজুমলার (১৬৬০-১৬৬৩) আমলে। হাকিম হাবিবুর রহমান বিখ্যাত গ্রন্থ ‘আসুদগানে ঢাকা’-তে উল্লেখ করেছেন যে, সেই সরাইখানা এলাকার পুকুরের নাম ছিল মতিঝিল। মালিকানা বদল হয়ে নবাব আবদুল গণির হাতে জায়গাটা আসার পর উনবিংশ শতকের শেষের দিকে একটি বাগানবাড়ি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। সেই বাগান বাড়ি ব্রিটিশ সরকার ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের পর প্রাদেশিক শাসকের বাসভবনের জন্য অধিগ্রহণ করে। সাতচল্লিশের দেশবিভাগের পর এখানে গভর্নর হাউস এবং স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রপতির বাসভবন প্রতিষ্ঠিত হয়, যা বঙ্গভবন নামে পরিচিত।

 

অনেকেই অনুমান করেন যে, পুরান ঢাকার শিয়া সম্প্রদায়ের ইমামবাড়া হোসেনি দালানের স্থানে মুঘল আমলে একটি ইমামবাড়া ছিল। জেমস টেলরের বর্ণনা থেকে উনবিংশ শতকের ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ উপাসনা কেন্দ্র হিসেবে হোসেনি দালানের নাম জানা যায়। এও মনে করা হয় যে নায়েব নাজিম জেসারত খাঁর সময়ে অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি দিকে যে ইমামবাড়া নির্মিত হয়েছিল, সেটির বহু সংস্কারের পর হোসেনি দালানের বর্তমান আদলটি দাঁড়িয়েছে।

পাগলার পুল

মির জুমলার আমলে ১৬৬০ সালে ঢাকার মূল শহরের বাইরে পাগলায় ইটের তৈরি একটি পাকা পুল নির্মিত হয়েছিল। যদিও প্রথম আরাকান যুদ্ধের সময় ইংরেজরা পুলটি ভেঙে ফেলেছিল, কিন্তু এখনও এ পুলের ভাঙা অংশ এ সড়কের পাশে দেখা যায়।

 

মুঘল আমলের বাদশাহী বাগানে বাংলার সুবাদার ইসলাম খাঁ চিশতিকে সমাহিত করা হয়েছিল বলে ‘বাহারিস্তান-ই-গায়বি’তে মির্জা নাথান উল্লেখ করেছেন। অসুস্থ সুবাদার ভাওয়াল এলাকায় প্রাণত্যাগ করেছিলেন। পরবর্তীতে তার দেহ সেখান থেকে ফতেপুর সিক্রিতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জাহাঙ্গীরের আমলে সমাধিসৌধ তৈরি করা হয়। এই বাগে বাদশাহী বা বাদশাহী উদ্যানের সামধিটির জৌলুস পরে বেড়ে যায়। কিন্তু সেখানে যে ইসলাম খাঁর সমাধি নেই তা নিশ্চিত। এখানে অনেক পরে হাইকোর্ট ভবন নির্মিত হয়েছে।

১৬৬১ সালে মির জুমলার আমলে ঢাকার উপকণ্ঠের টঙ্গীতে ইটের সাহায্যে একটি পাকা পুল নির্মিত হয়েছিল। পাগলার পুলের মতো এ পুলটিও প্রথম আরকান যুদ্ধের সময় ইংরেজরা ভেঙে ফেলেছিল। মুঘল আমলে ঢাকার সড়ক যোগাযোগের ক্ষেত্রে পুলটির বিশেষ গুরুত্ব ছিল।

 

মুঘল ঢাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পুল ছিল এটি। এ সেতুটির নিচ দিয়ে পা-ু নদীর ধারা প্রবাহিত হতো। এটির অবস্থান ছিল বর্তমান হাইকোর্ট এলাকার পাশের ঢাকা গেট বা মির জুমলার তোরণের খানিকটা উত্তরে। পুলটির এখন অস্তিত্ব নেই।

 

পুরান ঢাকার নারিন্দায় ধোলাই খালের ওপরে ১৬৬৪ সালে খিলানের সাহায্যে এ পাকা সেতুটি নির্মিত হয়েছিল। হায়াত ব্যাপারী এটির নির্মাতা ছিলেন বলে জানা যায়। ‘তাওয়ারিখে ঢাকা’ গ্রন্থে মুনশি রহমান আলি তায়েশ (১৮২৩-১৯০৮) এ পুলের নির্মাণ সম্পর্কে বিবরণ দিয়েছেন। সংস্কারের মাধ্যমে উনবিংশ শতকেও এটি ভালোভাবে টিকে ছিল। তবে বিংশ শতকে ক্রমে খাল ভরাট হয় এবং পুলটি নিশ্চিহ্ন হয়।

 

চকবাজারের দক্ষিণ দিকে বুড়িগঙ্গা নদীর খুব কাছে বড় কাটরা নামের মুঘল আমলের এ বিশাল প্রাসাদটি অবস্থিত। ঢাকায় টিকে থাকা হাতে গোনা মুঘল আমলের প্রাসাদের মধ্যে এটি একটি। ইট ও চুন-সুরকি ব্যবহার করে খিলানের সাহায্যে এ প্রাসাদটি নির্মিত হয়েছিল। প্রাসাদটি তিন তলাবিশিষ্ট। এর ফটকও খুব জঁাঁকজমকপূর্ণ ছিল। সুবাদার শাহ মোহাম্মদ সুজার আমলে (১৬৩৯-১৬৬০) তাঁর আদেশে ১৬৪৪ খ্রিস্টাব্দে দিওয়ান মির কাশিম এ প্রাসাদ নির্মাণ করেছিলেন। শিলালেখ সূত্রে এবং মুনশী রহমান আলী তায়েশের ‘তাওয়ারিখে ঢাকা’র বিবরণ থেকে এসব তথ্য জানা যায়। প্রাসাদটি নির্মাণকালে দিল্লির স¤্রাট ছিলেন শাহজাহান।

ছোট কাটরা

মুঘল ঢাকার প্রাসাদগুলোর মধ্যে এটি দ্বিতীয় বৃহত্তম। শুধু বড় কাটরাই এর চেয়ে বড়। ইমামগঞ্জের কাছে, বুড়িগঙ্গার, বড় কাটরা ধারের প্রায় ২০০ মিটার পুবে প্রাসাদটি অবস্থিত। এ প্রাসাদ ১৬৬৩ সালে শায়েস্তা খান নির্মাণ করেছিলেন। প্রাসাদ প্রাঙ্গণের চম্পাবিবির মাজারটি আসলে কার তা নিয়ে মতভেদ আছে। কেউ বলেন এটি শায়েস্তা খানের স্ত্রীর এবং কেউ বলেন এটি তাঁর কন্যার। তবে জনশ্রুতি আছে যে, মাজারটির নির্মাতা শায়েস্তা খান। এ ছোট কাটরায় উনবিংশ শতকে একটি ইংরেজি বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার তথ্য জানা যায়।

 

মুঘল আমলের এ দুর্গটির প্রকৃত নাম কিল্লা আওরঙ্গাবাদ। অসম্পূর্ণ এ দুর্গটির প্রকৃত নির্মাতার নাম নিয়ে মতভেদ আছে। সুবাদার শায়েস্তা খান এটি নির্মাণ করেছিলেন বলে ধারণা করা হয়। তবে সাধারণভাবে এ ধারণা প্রচলিত আছে যে, ১৬৭৮-১৬৭৯ সালের দিকে শাহজাদা আজম এটির নির্মাণ শুরু করেছিলেন। এটি একটি অনন্য মুঘল কীর্তি। দুর্গের প্রায় পেছনেই ছিল বুড়িগঙ্গা নদী। উঁচু দেয়াল ঘেরা এ দুর্গের উত্তর তোরণের চেয়ে দক্ষিণ তোরণটির বড় ও জাঁকজমকপূর্ণ। তিন তলা বিশিষ্ট এ তোরণটিতে সংস্কার হয়েছে। দুর্গটিতে একটি সুড়ঙ্গ ছিল, সেটির শুরুর অংশ এখনও দেখা যায়। সিপাহি বিদ্রোহের সময় (১৮৫৭ খ্রি.) লালবাগের কেল্লার দেশীয় সিপাহিদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল। এ বিদ্রোহের মাত্র দুই দশক পরেই এখানে এসেছিলেন ভারতীয় উপমহাদেশে প্রতœতত্ত্বের জনক স্যার আলেকজান্ডার কানিংহাম। তিনি লিখেছেন যে, এ দুর্গ পূর্ব-পশ্চিমে প্রায় ৬০৯ মিটার লম্বা ও উত্তর দক্ষিণে প্রায় ২৪৩ মিটার চওড়া। এ দুর্গের ভেতরে আছে দোতলা হাম্মামখানা (¯œানাগার), পরি বিবির মাজার, লালবাগ কেল্লা মসজিদ, জলাশয় প্রভৃতি। পরিবিবির মাজার একটি অপূর্ব সমাধিসৌধ। বর্গাকার এ সৌধের ভিত্তি নির্মিত হয়েছে রাজমহলের কালো পাথর দিয়ে। জয়পুরের শ্বেত মর্মর ও চুনারের বেলে পাথর ব্যবহার করে নির্মিত এ সৌধের ওপরে আছে একটি দৃষ্টিনন্দন গম্বুজ। ভারতীয় ও পারস্যরীতির অপূর্ব সংমিশ্রণ দেখা যায় এ ইমারতে। মূল দালানের চার কোনার চারটি আট কোনাকার মিনার আছে। ভেতরে ব্যবহৃত হয়েছে মুঘল আমলের টাইলস। পরিবিবির মাজার থেকে ৪০ মিটারের মতো পশ্চিম দিকে লালবাগ কেল্লা মসজিদ অবস্থিত। ধারণা করা হয় যে, ১৬৬৪ সালে সুবাদার শায়েস্তা খান এ মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। তিন গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদের পূর্ব দেয়ালে আছে তিনটি প্রবেশপথ, আর পশ্চিম দেয়ালে আছে তিনটি মেহরাব। চার কোনায় আছে চারটি আট কোনাকার মিনার।

]]>
সারা বছর খান পাকা আমের জেলি https://sherakantha.com/2017/07/02/%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%9b%e0%a6%b0-%e0%a6%96%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%86%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%9c%e0%a7%87%e0%a6%b2/ Sun, 02 Jul 2017 07:42:33 +0000 http://sherakantha.com/?p=122556 Continue reading সারা বছর খান পাকা আমের জেলি →]]> আমার ভরা মৌসুম এখন। বাজারে মিলছে বিভিন্ন প্রজাতির রসালো আম। পাকা এই আম দিয়ে ঘরেই তৈরি করে নিতে পারেন জেলি। যা সংরক্ষণ করে সারা বছরই খেতে পারেন। জেনে নিন পাকা আম দিয়ে কীভাবে জেলি তৈরি করবেন।

উপকরণ
পাকা আম ১ কেজি
চিনি ১ কাপ
চায়না গ্রাস অল্প পরিমানে
লবণ পরিমান মত
ফুড কালার জাফরান সামান্য
ম্যাঙ্গো এসেন্স

প্রণালি
আম খোসা ছাড়িয়ে ভালো ভাবে চটকে নিন। এবার আমের এই জুসের সঙ্গে চিনি মেশান। চুলায় গরম করুন। সঙ্গে দিন চায়না গ্রাস, লবণ, ফুড কালার এবং ম্যাঙ্গো এসেন্স। ভালো ভাবে জ্বাল দিন। ঘন না হওয়া পর্যন্ত জ্বাল দিতে থাকুন। মিষ্টি চেখে নিন। জেলি চুলা থেকে নামিয়ে কাঁচের শিশি বা বোতলে একটা চামচ দিয়ে ঢেলে দিন। বোতলের মুখটা খোলা রাখুন ঠান্ডা হবার জন্য। এরপর মাঝে মধ্যে এই জেলি ভালো রাখার জন্য বোতলটি রোদে দিন। সারা বছর এই জেলি খেতে পারবেন।

]]>
পুরাকীর্তির আলোয় ঢাকার ইতিহাস-১ https://sherakantha.com/2017/07/02/%e0%a6%aa%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a7%80%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%86%e0%a6%b2%e0%a7%8b%e0%a7%9f-%e0%a6%a2%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%87/ Sun, 02 Jul 2017 07:41:25 +0000 http://sherakantha.com/?p=122553 Continue reading পুরাকীর্তির আলোয় ঢাকার ইতিহাস-১ →]]> এ কথা ঠিক যে, মুঘল আমলে ঢাকা ছিল বাংলার রাজধানী, তবে ঢাকা শহরের পত্তন মুঘল আমলে হয়নি। তখন পুরনো একটি দুর্গকে সংস্কার করে সেনানিবাস গড়ে উঠেছিল। সেই সেনানিবাসকেন্দ্র্রিক শহর হিসেবে নতুন রাজধানীর সৃষ্টি হয়েছিল।

দিল্লির সম্রাট জাহাঙ্গীর ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দের মে মাসের দিকে ইসলাম খানকে যখন বাংলার সুবাদার অর্থাৎ গভর্নর নিয়োগ করেন, তখন বাংলার রাজধানী ছিল রাজমহলে। কিন্তু জাহাঙ্গীরের আদেশেই রাজমহল থেকে রাজধানী সরিয়ে আনা হয়েছিল ঢাকায়। এর পেছনে অবশ্য কারণও ছিল।

যদিও রাজধানী ছিল রাজমহলে, কিন্তু পুরো বাংলায় মুঘল রাজত্ব তখনও প্রতিষ্ঠিত হয়নি। দিল্লির স¤্রাটরা গোটা বাংলাকে তাদের রাজত্বের মধ্যে আনার চেষ্টা চালিয়েই যাচ্ছিলেন, কিন্তু সফল হচ্ছিলেন না কিছুতেই। এর পেছনে প্রধান একটি কারণ ছিল বার ভূঁইয়াদের অব্যাহত বিদ্রোহ। প্রতাপাদিত্য ও ঈশা খাঁর মতো স্বাধীন শাসকরা বাংলায় মুঘল শাসন প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে বারবার ব্যর্থ করে দিচ্ছিলেন। বাংলার বিস্তীর্ণ প্রত্যন্ত এলাকায় এসব স্বাধীন শাসকের প্রভাব এত বেশি ছিল যে সুদূর রাজমহল থেকে তা ক্ষুণ্ন করা কিছুতেই সম্ভব হচ্ছিল না। তাছাড়া আরাকানি মগ ও পর্তুগিজ জলদস্যুদের অব্যাহত উৎপাতকে ব্যর্থ করে দেওয়াও সম্ভব হচ্ছিল না। সেসব কারণেই ঢাকাকে রাজধানী করার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

সেকালের বাংলায় প্রধান যাতায়াতব্যবস্থা ছিল নৌপথনির্ভর। জঙ্গলাকীর্ণ ও খাল-নদীতে ভরা দুর্গম বাংলায় এর চেয়ে ভালো যোগাযোগব্যবস্থার কথা তখন কল্পনাও করা যেত না। ঢাকা ছিল এমন একটি জায়গা যেখান থেকে নৌপথে বাংলার সিংহভাগ এলাকার সাথে যোগাযোগ রক্ষা করা সম্ভব ছিল। দিল্লি থেকে প্রত্যন্ত বাংলায় যেতে হলেও বিকল্প ছিল না নৌপথের। ঢাকা ছিল নদীর পাশের শহর। সেই নদীতে ক্রিয়াশীল ছিল জোয়ার-ভাটা। সেই জোয়ার-ভাটাকে কাজে লাগানোরও গুরুত্ব ছিল। ঢাকার ভেতরে যোগাযোগের উপযোগী অনেক খাল ছিল। তাছাড়া নদী-তীরবর্তী সেকালের ঢাকা ছিল লালমাটিতে গড়া উঁচু জায়গা। ফলে বন্যা হতো না ঢাকায়। এসব কারণে ঢাকা রাজধানী হওয়ার যোগ্য জায়গা বলে মুঘলদের কাছে মনে হয়েছিল। আর সুলতানি যুগে বাংলার অন্যতম রাজধানী সোনারগাঁ ছিল ঢাকার বেশ কাছেই।

তো যাই হোক, ঢাকায় রাজধানী স্থাপনের পর ইসলাম খান হলেন বাংলার সুবাদার। এর আগে তিনি ছিলেন বিহারের সুবাদার। তাই ১৬০৮ খ্রিস্টাব্দে নিযুক্তির পর ঢাকা যাত্রার জন্য ভালো একটা প্রস্তুতি নিলেন তিনি। ঢাকায় আসার সময় সৈন্য-সামন্ত শুধু নয় প্রশাসনিক কাজের জন্য কর্মকর্র্তা-কর্মচারী, এমনকি চিত্তবিনোদনের জন্য সংগীত ও নৃত্যশিল্পী পর্যন্ত সাথে নিয়েছিলেন। ১৬০৮ সালের বর্ষার পর রওনা দিয়ে গৌড় হয়ে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের কাছে তিনি পৌঁছোন এবং ১৬০৯ খ্রিস্টাব্দের বর্ষা কাটিয়ে ১৬১০ খ্রিস্টাব্দের জুলাই নাগাদ তিনি ঢাকায় পৌঁছোন। ঢাকায় পেঁৗঁছানোর পরই তিনি এখানে রাজধানী স্থাপন করেন এবং দিল্লির স¤্রাটের নামানুসারে ঢাকার নামকরণ করেন জাহাঙ্গীরনগর। তবে ইসলাম খানের নিযুক্তির সাল ১৬০৭ ও ঢাকায় আগমন সাল ১৬০৮ বলেও একটি ধারণা প্রচলিত ছিল, যা ‘ঢাকা দ্যা মুঘল ক্যাপিটাল’ গ্রন্থে (অনু : ড. মুহম্মদ মুহিব উল্যাহ ছিদ্দিকী, বাংলা একাডেমি, ১৯৯৪, পৃ. ৭, ৮, ৯) ড. আবদুল করিম যুক্তির সাহায্যে খ-ন করেছেন। ইসলাম খানের সাথে যেসব সেনাপতি ঢাকায় এসেছিলেন তার মধ্যে একজন ছিলেন মির্জা নাথান, যিনি ছিলেন সেই ইতিহাসের প্রত্যক্ষদর্শী। তাঁর লেখা ‘বাহারিস্তান-ই গায়বি’ থেকে তখনকার ঢাকা সম্পর্কে বহু কিছু জানা যায়। এতে দেখা যায় যে ঢাকা নামটা মুঘল রাজধানী হওয়ার আগে থেকেই চালু ছিল। সেখানে সেনাচৌকি ছিল এবং সেখানে সেনানায়কও ছিল।

এত গেল ঢাকায় রাজধানী স্থাপনের কথা। তবে মুঘল যুগেরও বহু পূর্বেকার এমন কিছু প্রত্নকীর্তি খোদ ঢাকা শহর এলাকা থেকে পাওয়া গেছে যেগুলোর সময়কাল খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের বলে প্রমাণিত হয়েছে।

 

ঢাকা থেকে এ পর্যন্ত প্রাপ্ত সবচেয়ে প্রাচীন প্রতœনিদর্শনগুলো হলো গুপ্ত অনুকৃত মুদ্রা, যা খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের বলে ধারণা করা হয়। মুদ্রাগুলো বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী খড়গ রাজাদের ছিল বলে জানা গেছে। ১৯১০ সালে ‘জার্নাল অব দি এশিয়াটিক সোসাইটি অব বেঙ্গল’-এর ষষ্ঠ খ-ের ১৪১-১৪৩ পৃষ্ঠায় মুদ্রাগুলোর বিবরণ আছে। ‘ঢাকা : এ রেকর্ড অব চেঞ্জিং ফরচুনস’ গ্রন্থে অধ্যাপক দাণিও প্রসঙ্গটির উল্লেখ করেছেন। যেখানে মুদ্রাগুলো পাওয়া গিয়েছিল সেই জায়গাটা তখন নবাব রশিদ খানের বাগান নামে পরিচিত ছিল। সেটা ছিল বর্তমান ঢাকার পিলখানার সামান্য পশ্চিমে। এই পিলখানায় ছিল মুঘল-কোম্পানি-ইংরেজ আমলের হাতিশাল। দেশ বিভাগ-পরবর্তীকাল থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত এখানে রয়েছে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সদর দফতর। কাজেই নবাব রশিদ খানের বাগানের এখন আর কোনো অস্তিত্ব নেই। কিন্তু ঐ মুদ্রাগুলো ঢাকার ইতিহাস জানার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা জানি না যে ওগুলো ব্যবসা-বাণিজ্যের কাজে নাকি কোনো ধনী লোকের ব্যক্তিগত সঞ্চয় হিসেবে ছিল।

ঠিক এরকম গুপ্ত অনুকৃত মুদ্রা ঢাকার কাছাকাছি সাভার থেকে পাওয়া গেছে। আরও পাওয়া গেছে বৌদ্ধবিহার, স্তূপ প্রভৃতির ধ্বংসাবশেষ। এগুলো খ্রিস্টীয় সপ্তম শতকের বৌদ্ধধর্মাবলম্বী খড়গ বংশীয় রাজাদের কীর্তি বলে মনে করা হয়। ঢাকার উল্টোপাশে নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলার আশরাফপুরে পাওয়া গেছে খড়গ বংশীয় রাজা দেব খড়গ-এর দুটো তা¤্রলেখ। যেহেতু ঢাকা থেকে প্রাপ্ত মুদ্রাগুলো খড়গ যুগীয় এবং ঢাকা শহর হলো সাভার ও আশরাফপুরের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থিত, তাই ঢাকায় খড়গ বংশীয় বৌদ্ধ রাজাদের শাসন প্রতিষ্ঠিত ছিল বলে ধারণা করা যায়।

 

ঢাকায় সেন বংশের রাজাদের শাসন যে প্রতিষ্ঠিত ছিল, তাতে কোনো সন্দেহ নেই এবং এর পক্ষে প্রত্ন প্রমাণ রয়েছে। তবে পাল যুগেও ঢাকায় স্থাপনা থাকার কথা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। এককথায় বলা যায়, বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার আগেই ঢাকায় নগর জনপদের অস্তিত্ব ছিল। হোক না সেটা ছোট শহর কিন্তু সে শহরে পাকা মন্দির ছিল, যে মন্দিরে স্থাপিত ছিল পাথরে তৈরি প্রতিমা। ১৯০৬ সালে পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টা মসজিদের প্রাঙ্গণে পাথরে তৈরি একটি বাসুদেব মূর্তি পাওয়া গিয়েছিল, যা প্রথম ঢাকা ট্রেজারিতে ও পরবর্তীকালে কলকাতার জাদুঘরে সংরক্ষিত হয়েছিল। এ মূর্তিটি ছাড়াও ঢাকা শহর থেকে আরও অন্তত তিনটি পাথরে তৈরি মূর্তি আবিষ্কার হয়েছে। বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার পর পাথরের তৈরি অমন দেব-দেবীর মূর্তি প্রতিষ্ঠার প্রমাণ পাওয়া যায় না। এই মোট চারটি মূর্তি হলো-

তেজগাঁও এলাকায় পুরনো জলাশয়ে প্রায় ত্রিশ ইঞ্চি উঁচু কালো ক্লোরাইট পাথরে তৈরি ‘হরিশঙ্করা’ মূর্তি। যেই জলাশয় থেকে মূর্তিটা পাওয়া গিয়েছিল সেটি তেঁজগাও রেলস্টেশনের উত্তর দিকে রেললাইনের ওপরকার ওভারব্রিজের কাছে।

চুড়িহাট্টার বাসুদেব মূর্তি

মহাখালী থেকে প্রাপ্ত মূর্তি। আর ডালবাজারের মন্দিরে রক্ষিত চণ্ডীমূর্তি। এ মূর্তিটি আদতে ঢাকার নিকটবর্তী বিক্রমপুর এলাকায় পাওয়া গিয়েছিল বলে জানা যায়। এটি লক্ষ্মণ সেনের তৃতীয় রাজ্যাঙ্কে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

‘ঢাকা: এ রেকর্ড অব চেঞ্জিং ফরচুনস’ গ্রন্থে আহমদ হাসান দানি, ‘আকনোগ্রাফি অব বুদ্ধিস্ট অ্যান্ড ব্রাহমানিক্যাল ইমেজেস অব ঢাকা মিউজিয়াম’ গ্রন্থে ড. নলিনীকান্ত ভট্টশালী, ‘বিক্রমপুরের ইতিহাস গ্রন্থে শ্রীযোগেন্দ্রনাথ গুপ্ত প্রমুখের আলোচনা থেকে এসব তথ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। কাজেই নিঃসন্দেহে বলা যায় যে, বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠারও আগে ঢাকায় পাকা ইমারত ছিল, মন্দির ছিল এবং প্রতিমাও ছিল। এ সবই প্রমাণ করে যে, ঢাকায় অন্তত সেন যুগেও একটি নগর জনপদ ছিল। তবে সেই জনপদের দালানকোঠা টিকে নেই।

 

বাংলায় মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠার প্রথম পর্বেই ছিল সুলতানি শাসন। সেই সময়ে বাংলায় রাজত্ব করতেন স্বাধীন সুলতানরা। বলাই বাহুল্য, এই শাসকদের পদবি ছিল সুলতান। বাংলায় স্বাধীন সুলতানি যুগ টানা চলেছিল ২০০ বছর। ১৩৩৮ সালে তা শুরু হয়েছিল এবং শেষ হয়েছিল ১৫৩৮ সালে। তবে এর আগে-পরেও স্বাধীন রাজাদের অস্তিত্ব ছিল। সুলতানি যুগের প্রথম সুলতান ছিলেন ফখরুদ্দীন মুবারক শাহ। তাঁর রাজধানী ছিল ঢাকার নিকটবর্তী সোনারগাঁয়। ঢাকায় সুলতানি যুগের যে ইমারতগুলোর কথা জানা যাচ্ছে, সেগুলো ইসলাম ধর্মসংশ্লিষ্ট এবং ধর্মকেন্দ্র। ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ সুলতানি ইমারতের মধ্যে রয়েছে-

নসওয়াল গলি মসজিদ

ঢাকা শহরের নসওয়াল গলি মহল্লায় একটি মসজিদ ছিল। সেটিকে নসওয়াল গলি মসজিদ বলা হচ্ছে। এখানকার আদি ইমারতটি নেই। সেটি ধ্বংসের পর পুনর্নির্মিত মসজিদটিও ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এখান থেকে গুরুত্বপূর্ণ শিলালেখ পাওয়া গেছে (ইংরেজি অনুবাদ : অধ্যাপক দানি, ঢাকা : এ রেকর্ড অব চেঞ্জিং ফরচুনস’, বাংলা : আবু জাফর, ২০০৫, পৃ. ১২)। সুলতান নাসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহ্-এর আমলে ১৪৫৯ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জুন তারিখে (২০ শাবান, ৮৬৩ হিজরি) একটি মসজিদে তোরণ নির্মাণ ও মসজিদ সুদৃঢ় করার কথা শিলালেখতে আছে। মসজিদটি রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতায় তখন সংস্কার করা হয়েছিল বলে শিলালিপির বর্ণনা থেকে জানা যায়। অনুমান করা হয় যে, মূল মসজিদটি অন্তত আরও পঞ্চাশ বছর আগে নির্মিত হয়েছিল। জীর্ণ হয়ে পড়ার পরই তা সংস্কারের প্রয়োজন হয়েছিল। সেই হিসেবে ১৪৫৯ সালের পঞ্চাশ বছর আগে অর্থাৎ ১৪০৯ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি কোন সময়ে মসজিদটি তৈরি হয়েছিল বলে ধারণা করা চলে। এ শিলালেখতে মুবারকাবাদ নামটি পাওয়া যায়। এই নাম ফখরুদ্দীন মুবারক শাহের নাম থেকে এসেছে বলেও ধারণা করা যায়।

 

ঢাকার মাণ্ডায় একটি পুরনো মসজিদ ছিল। ডক্টর নলিনীকান্ত ভট্টশালী মসজিদের ধ্বংসস্তূপ থেকে শিলালেখটি আবিষ্কার করে ঢাকা জাদুঘরে সংরক্ষণ করেছিলেন। এই শিলালেখটি প্রকৃতপক্ষে একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত মন্দির থেকে সংগ্রহ করা প্রতিমার পেছন পিঠে খোদাই করা হয়েছিল। প্রতিমাটি খুবই ক্ষতিগ্রস্ত, তবে তা বিষ্ণুর বলে অনুমান করা যায়। ‘করপাস অব অ্যারাবিক অ্যান্ড পারসিয়ান ইনস্ক্রিপশন্স অব বেঙ্গল’, (১৯৯১, পৃ. ১০৫-১০৯) গ্রন্থে আরবি ভাসার শ্লথ রীতির শিলালেখটির অনুবাদ ও ব্যাখ্যা দিয়েছেন ড. আবদুল করিম। চার লাইনে এই শিলালেখ থেকে দেখা যায় যে, ১৪৩৩ খ্রিস্টাব্দের ৩ জানুয়ারিতে জালালউদ্দিন মুহম্মদ শাহ্-এর আমলে এই মসজিদ নির্মিত হয়েছিল। জালালউদ্দিন মুহম্মদ শাহের রাজত্বকাল ছিল ১৪১৫ থেকে ১৪৩৩ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত।

 

ঢাকায় সুলতানি যুগের টিকে থাকা ইমারতের মধ্যে প্রকৃতপক্ষে এটিই সবচেয়ে পুরনো। যদিও এটির বহু সংস্কার হয়েছে এবং ধ্বংস করে ফেলার চেষ্টা হয়েছে। কোনোরকমে এটির অংশবিশেষ টিকে আছে। এটি এখন ধর্মীয় কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে না এবং এর গা ঘেঁষে একটি বহুতল মসজিদ নির্মিত হয়েছে। শিলালিপি থেকে প্রাপ্ত তথ্য (অনুবাদ: অধ্যাপক দানি, ঢাকা: এ রেকর্ড অব চেঞ্জিং ফরচুনস) অনুযায়ী ১৪৫০ খ্রিস্টাব্দের দিকে নাসিরউদ্দীন মাহমুদ শাহের আমলে মারহামাতের কন্যা মোসাম্মৎ বখ্ত বিনত এটি নির্মাণ করেছিলেন। মূল মসজিদটি এক গম্বুজবিশিষ্ট ছিল। পরে মসজিদটির আয়তন বৃদ্ধিকালে আরও একটি গম্বুজ সংযোজন করা হয়েছিল।

 

এখন যেটি শাহ্ আলী বোগদাদির মাজার, সেটি প্রকৃতপক্ষে একটি মসজিদ ছিল। মৃত্যুর পর শাহ্ আলী বোগদাদিকে মসজিদের ভেতরে সমাহিত করা হয় এবং মসজিদটি সমাধিসৌধের মর্যাদা পায়। এখানে যে শিলালেখ পাওয়া গেছে তাতে দেখা গেছে যে, বাংলার সুলতান ইউসুফ শাহের আমলে ১৪৮০ খ্রিস্টাব্দে খাকান-ই মোয়াজ্জেম এ মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। মসজিদটি বহু সংস্কার হয়েছে। তবে এর ২.৪২ মিটার পুরু দেয়াল বুঝিয়ে দেয় যে, এটি একটি বহু পুরাতন স্থাপনা।

ঢাকায় সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলের (১৪৯৩-১৫১৯) একটি মসজিদের শিলালেখ পাওয়া গেছে। এটি এ আমলের প্রথম ও একমাত্র শিলালেখ। পুরান ঢাকার বাবুবাজার মসজিদে কালো পাথরের তৈরি এ শিলালেখটি সংরক্ষিত থাকলেও সে মসজিদের অবস্থানস্থল সম্পর্কে তেমন কিছু জানা যায় না। (চলবে)

]]>