অপরাধ ও দূর্নীতি – Sherakantha-সেরা কণ্ঠ https://sherakantha.com Just another WordPress site Mon, 31 Jul 2023 07:44:41 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.4 ছাঁদে ডেকে নিয়ে শিশুর দিকে কু-নজর https://sherakantha.com/2023/07/31/%e0%a6%9b%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a6%a6%e0%a7%87-%e0%a6%a1%e0%a7%87%e0%a6%95%e0%a7%87-%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%af%e0%a6%bc%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%bf/ Mon, 31 Jul 2023 07:44:41 +0000 https://sherakantha.com/?p=131778 Continue reading ছাঁদে ডেকে নিয়ে শিশুর দিকে কু-নজর →]]> সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ৭ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টায় ৫ লাখ টাকা জরিমানায় বিচার শেষ হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সলঙ্গা থানার নলকা ইউনিয়নের চকমনোহরপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়রা জানান, গত শনিবার (২৯ জুলাই) বিকালে ৭ বছরের এক শিশুকে নিজ বাড়ির ছাঁদে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ চেষ্টা করে একই গ্রামের আকতার হোসেনের ছেলে তপু সেখ (১৩)। পরে ভুক্তভোগী শিশুটি কাঁদতে কাঁদতে তার পরিবারের কাছে গিয়ে ঘটনা খুলে বলে।

এরপর স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য আবুল কালাম আজাদকে ঘটনার বিস্তারিত খুলে বলেন ও বিচার চান শিশুটির বাবা। ঐ দিন রাতেই ছেলের বাড়ীতে সালিশ বসে। গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ও বিএনপি নেতা আবুল কালাম আজাদ, আকবর আলী, শহিদুল ইসলাম, আলিমু উদ্দিন, আবু সাইদ শেখ, নুরুল আলম যোগসাজশ করে অভিযুক্ত তপুকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করেন। এবং রাতেই পাঁচ লাখ টাকার চেক নিয়ে নেয়। এরপর সালিশদাররা শিশুটির পরিবারকে মামলা বা থানায় অভিযোগ দিতে নিষেধ করেন। এ বিষয়ে কথা বলতে অভিযুক্ত তপুর বাবা আকতারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যা হবার হয়েছে সেটা আমরা গ্রামবাসী রাতে বসেই সমাধান করে নিয়েছি।

ধর্ষণের চেষ্টার বিচার পাঁচ লাখ টাকায় সমাধান করা সেই ইউপি সদস্য আবুল কালামের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি কি সালিস করে অন্যায় করে ফেলেছি। আমি সিএনজির মধ্যে আছি এখন কিচ্ছু বলতে পারবো না। পরবর্তীকালে তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। সালিশে উপস্থিত আলিমুদ্দিনের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন বিচারটিতে গ্রামের সবাই উপস্থিত ছিল। আমরা গোপনে কোন কিছু করিনি। সবার সামনেই সব করেছি।

এ বিষয়ে নলকা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আবু বক্কার সিদ্দিকের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই। তবে একজন ফোন করে ছিল এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। সলঙ্গা থানার ওসি এনামুল হক বলেন, এমন কোনো বিষয় শুনিনি। যদি লিখিত অভিযোগ পাই, অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

]]>
মানি লন্ডারিং মামলায় জি কে শামীমের ১০ বছরের কারাদণ্ড https://sherakantha.com/2023/07/17/%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf-%e0%a6%b2%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%82-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%af%e0%a6%bc-%e0%a6%9c%e0%a6%bf/ Mon, 17 Jul 2023 06:10:58 +0000 https://sherakantha.com/?p=131686 Continue reading মানি লন্ডারিং মামলায় জি কে শামীমের ১০ বছরের কারাদণ্ড →]]> মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় যুবলীগের কথিত নেতা ও আলোচিত ঠিকাদার এস এম গোলাম কিবরিয়া শামীম ওরফে জি কে শামীমের ১০ বছরের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বাকি ৭ আসামির প্রত্যেকে চার বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন।

সোমবার (১৭ জুলাই) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন। ৪ বছর করে সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন মো. দেলোয়ার হোসেন, মো. মোরাদ হোসেন, মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. শহীদুল ইসলাম, মো. কামাল হোসেন, মো. সামসাদ হোসেন ও মো. আনিছুল ইসলাম।

এর আগে ১৫ জুন ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায় ঘোষণার জন্য ২৫ জুন দিন ধার্য করেন। গত ২৫ জুন মামলার রায় ঘোষণা ও অধিকতর যুক্তি উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য ছিল। এদিন আসামি পক্ষের আইনজীবী অধিকতর যুক্তি উপস্থাপন করেন। এরপর ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-১০ এর বিচারক মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম মামলার রায় ঘোষণা ১৭ জুলাই নতুন দিন ধার্য করেন।

২০১৯ সালের ২০ সেপ্টেম্বর সাত সশস্ত্র দেহরক্ষীসহ জি কে শামীমকে তার কার্যালয় থেকে আটক করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। নিকেতন এ-ব্লকের ৫ নম্বর রোডের ১৪৪ নম্বর বাড়িতে তার অফিসে র্যাব দীর্ঘ ১১ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করে। তার কার্যালয় থেকে এক কোটি ৮০ লাখ টাকা, ৯ হাজার ইউএস ডলার, ৭৫২ সিঙ্গাপুরের ডলার, ১৬৫ কোটি টাকার এফডিআর, অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ বিদেশি মদ জব্দ করা হয়।

এরপর জি কে শামীমের বিরুদ্ধে র্যাব বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। অস্ত্র আইনের মামলা নম্বর ২৮(০৯)১৯, মানি লন্ডারিং আইনের মামলা নম্বর ২৯(৯)১৯ ও মাদক আইনের মামলা নম্বর ৩০(৯)১৯। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু সাঈদ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ৪ আগস্ট আদালতে জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীর বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং আইনের মামলায় চার্জশিট দাখিল করেন। ২০২০ সালের ১০ নভেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন আদালত। মামলাটিতে চার্জশিটভুক্ত ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, শামীম তার দেহরক্ষীদের সহযোগিতায় দীর্ঘদিন ধরে নিজ নামে লাইসেন্স করা অস্ত্র প্রকাশ্যে বহন, প্রদর্শন ও ব্যবহার করে লোকজনের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি করে আসছিলেন। বিভিন্ন ধরনের টেন্ডারবাজি, মাদক ও জুয়ার ব্যবসাসহ স্থানীয় টার্মিনাল, গরুর হাট-বাজারে চাঁদাবাজি করে নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থের মালিক হয়েছেন।

মামলা তদন্ত সূত্রে জানা যায়, জি কে শামীম ও তার পরিবার বাংলাদেশ থেকে অবৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থ পাচারের উদ্দেশ্যে মজুত রেখেছে। এছাড়া আসামি যেকোনো সময় মজুত করা অর্থ হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার প্রক্রিয়া নিতে পারে। মামলার সুষ্ঠু-তদন্তের স্বার্থে অপরাধলব্ধ আয় সংক্রান্ত ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন। আসামির অপরাধলব্ধ আয় অবরুদ্ধ না হলে ব্যাংক হিসাবে জমা করা অর্থ হস্তান্তর বা স্থানান্তর হয়ে গেলে আইনের উদ্দেশ্যে ব্যাহত হতে পারে। ওই হিসাবগুলোতে কয়েকশ’ কোটি টাকা রয়েছে বলে জানা যায়।

]]>
দুর্নীতিগ্রস্ত ১৮০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ১২তম https://sherakantha.com/2023/01/31/%e0%a6%a6%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a6%bf%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4-%e0%a7%a7%e0%a7%ae%e0%a7%a6%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6/ Tue, 31 Jan 2023 12:24:14 +0000 https://sherakantha.com/?p=131568 Continue reading দুর্নীতিগ্রস্ত ১৮০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশ ১২তম →]]> ২০২২ সালের ব্যাপক দুর্নীতিগ্রস্ত ১৮০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১২তম বলে জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই)। এ তালিকায় এক ধাপ এগিয়েছে বাংলাদেশ। ২০২১ সালে বাংলাদেশ এই তালিকার ১৩তম অবস্থানে ছিলো।

মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) বার্লিনভিত্তিক সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) করাপশন পারসেপশন ইনডেক্স (সিপিআই) প্রকাশ করে। ঢাকায় ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশের স্কোর ১ পয়েন্ট কমে ২৬ থেকে ২৫ হয়েছে। দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে এক ধাপ অবনমন হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সিপিআই অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান হতাশাজনক। এ বছর সূচকে নিচের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান ১২ এবং ওপরের দিক থেকে ১৪৭। অবশ্য দুর্নীতির এই সূচকে বা স্কোরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কোনো অগ্রগতি হয়নি৷ এর আগের বছরের মতো একই স্কোর ছিল৷ চার বছর ধরেই একই স্কোর রয়েছে। এভাবে চলতে থাকলে বাংলাদেশ আফগানিস্তানের থেকে নিচে চলে যাওয়া ঝুঁকিতে আছে। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে সরকররকে কার্যকরী ভূমিকা নেয়ার তাগিদ দেয় টিআইবি।

এবার বাংলাদেশ ১০০ স্কোরের মধ্যে ২৫ অর্জন করেছে। দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশের মধ্যে এবারও বাংলাদেশের অবস্থান ও স্কোর যথারীতি বিব্রতকরভাবে আফগানিস্তানের পর দ্বিতীয় সর্বনিম্ন। এবার আফগানিস্তানের স্কোর ১৬ থেকে বেড়ে ২৪ হয়েছে। অথচ বাংলাদেশের স্কোর ঘুরেফিরে ২৫ থেকে ২৮ এর মধ্যে রয়েছে। ১৯৯৫ সাল থেকে বেসরকারি সংস্থা ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল দ্বারা প্রতি বছর এই সূচক প্রকাশ করা হয়।

]]>
ইভ্যালির গ্রাহকরা কি টাকা ফেরত পাবেন https://sherakantha.com/2021/09/18/%e0%a6%87%e0%a6%ad%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%b9%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%be-%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%95/ Sat, 18 Sep 2021 09:45:21 +0000 https://sherakantha.com/?p=131293 Continue reading ইভ্যালির গ্রাহকরা কি টাকা ফেরত পাবেন →]]>

বৃহস্পতিবার ইভ্যালির সিইও মোহাম্মদ রাসেল ও তাঁর স্ত্রী প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তানভির এহসান বলেন, ‘১০ দিনের মধ্যে ডেলিভারির কথা থাকলেও দুই মাসেও পণ্য কিংবা টাকা ফেরত পাইনি। আমার মতো অসংখ্য নতুন গ্রাহকের সঙ্গেও প্রতারণা করেছে ইভ্যালি। আমি এর প্রতিকার চাই।’

শুধু তানভিরের মতো সাধারণ গ্রাহকই নন, ইভ্যালিকাণ্ডে প্রতারিত হয়েছে অনেক প্রতিষ্ঠানও। এদের একটি পেপারফ্লাই। দেশজুড়ে পণ্য ডেলিভারি দেওয়ার মাসুল হিসেবে সাত কোটি টাকা বকেয়া হলেও গত জানুয়ারি থেকে ইভ্যালি কোনো বিল পরিশোধ করেনি। সম্প্রতি পেপারফ্লাইয়ের পক্ষ থেকে ইভ্যালির ঠিকানায় উকিল নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

জানতে চাইলে পণ্য বিলিকরণ প্রতিষ্ঠান পেপারফ্লাইয়ের চিফ মার্কেটিং অফিসার রাহাত আহমেদ গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সব চেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পরই একটি কম্পানি আইনগত পথ বেছে নেয়। আমরা আইনি নোটিশ পাঠিয়েছিলাম। আগামী সপ্তাহে আমরা মামলা করব। এর পর থেকে আদালত যা বলবেন আমরা তা-ই করব।’

২০১৮ সালে যাত্রা শুরুর পর সাধারণ মানুষকে বাজারের চেয়ে কম দামে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে টাকা নেওয়ার উদ্যোগ হিসেবে সাইক্লোন (পরবর্তী সময়ে টি-টেন নামকরণ) অফার দিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচারের অভিযোগ ওঠে ইভ্যালির বিরুদ্ধে। সাত থেকে ৪৫ দিনের মধ্যে পণ্য ডেলিভারির প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে আগাম টাকা নিলেও তাদের পণ্য সরবরাহ করেনি ইভ্যালি। গত বছরের ডিসেম্বর মাসে আগাম মূল্য পরিশোধ করা অনেক গ্রাহক এখনো পণ্য পায়নি। ইভ্যালি যেসব গ্রাহককে রিফান্ড চেক দিয়েছে, ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় সেগুলোও বাউন্স হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শুধু ব্যবসায়ীদের কাছে ইভ্যালির বকেয়া ২০৫ কোটি টাকার ওপরে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ইভ্যালির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ জুলাই পর্যন্ত তাদের কাছে বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহকদের পাওনা রয়েছে ৫৪৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে দুই লাখ সাত হাজার ক্রেতা পাবে ৩১১ কোটি টাকা। আর পণ্য সরবরাহকারী মার্চেন্টরা পায় ২০৬ কোটি টাকা। এ ছাড়া বাকি ২৬ কোটি টাকা পায় অন্য খাতের গ্রাহক। ইভ্যালির হিসাব অনুযায়ী, দায়ের বিপরীতে এর চলতি সম্পদ রয়েছে ৯০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। আর সম্পত্তি, স্থাপনা ও যন্ত্রপাতি মিলিয়ে রয়েছে ১৪ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।

টাকা নিয়ে পণ্য না দেওয়ার চর্চা ই-কমার্স খাতে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ তৈরি করেছে বলেও মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁরা বলছেন, ইভ্যালির গ্রাহকদের টাকা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা আপাতত ক্ষীণ। কারণে দেনা পরিশোধের মতো সম্পদ প্রতিষ্ঠানটির নেই। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে ছয় মাসের মধ্যে দেনা শোধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েও তা পূরণ করতে পারেননি প্রতিষ্ঠানের এমডি। গ্রেপ্তার হওয়া ইভ্যালির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের বিষয়ে এখন আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন অথবা জনস্বার্থে এ কম্পানিতে ডেসটিনি, যুবকের মতো কাস্টডিয়ান দিতে পারেন।

ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আজকের ডিলের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহিম মাশরুর গতকাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমার ধারণা ইভ্যালির প্রধান নির্বাহী গ্রেপ্তার না হলেও গ্রাহকরা টাকা পেত না, গ্রেপ্তার হয়েও গ্রাহকরা টাকা পাবে কি না যথেষ্ট সন্দেহ আছে। টাকা পাবে কোথা থেকে, টাকা তো টাকা খরচ হয়ে গেছে কিংবা অন্যত্র চলে গেছে। যদি দিতে পারত তাহলে গত চার-পাঁচ মাস তিনি যে সময় নিয়েছেন সেই সময়ে টাকা ফেরত দিতে পারতেন। গত এক বছরে বিভিন্ন জায়গায় ব্যাপকভাবে টাকা ঢেলেছে ইভ্যালি। স্পন্সরশিপ, বিজ্ঞাপন, প্রডাক্ট ডিসকাউন্ট, সেলিব্রেটিদের পকেটেও টাকা গেছে। দেশের বাইরে পাচার হয়ে গেছে কি না তাও তদন্ত করে দেখা উচিত। প্রাইভেট লিমিটেড কম্পানির এমন ঘটনা ঘটলে নিয়ম হচ্ছে সম্পদ বিক্রি করে দেনা শোধ করা। ইভ্যালির যদি দেনার পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকা হয়, তাদের সম্পদ বিক্রি করে ২০ কোটি টাকাও হবে না।’

তিনি বলেন, ‘এটা নতুন ঘটনা নয়, আরো এক বছর আগে থেকে ঘটছিল। আমরা বিভিন্ন মহলে বলে আসছিলাম। আরো আগে পদক্ষেপ নেওয়া গেলে ক্ষতির পরিমাণ আরো কম হতো। গ্রাহক ও মার্চেন্টদের টাকা যা যাওয়ার চলেই গেছে। সরকার এই টাকার দায়িত্ব নিতে আইনগতভাবে বাধ্যও নয়। পি কে হালদারের প্রতিষ্ঠান, ডেসটিনির মতো প্রতিষ্ঠান থেকে গ্রাহকরা টাকা ফেরত পায়নি। ইভ্যালির গ্রাহক ও মার্চেন্টদের খুব আশাবাদী হওয়ার মতো কিছু দেখি না। যদি অনেক সম্পদ থাকত, ব্যাংকে টাকা থাকত তাহলে আইনগতভাবে কিছু পাওয়ার সুযোগ ছিল।’

ইভ্যালির গ্রাহক ও মার্চেন্টদের টাকা ফিরে পেতে ভোক্তা অধিকারে যাওয়া উচিত বলে মনে করেন দেশের ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল। গতকাল তিনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘ইভ্যালি নিয়ে ভোক্তা স্বার্থ দেখার দায়িত্ব ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের। যেগুলো সেটেলমেন্ট পেমেন্টের মাধ্যমে লেনদেন হয়েছে সেটা বাংলাদেশ ব্যাংক দেখতে পারে। আদালতও কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দিতে পারেন। আমরা সরকারি সংস্থাগুলোকে সঙ্গে নিয়ে একটি সেন্ট্রাল কমপ্লেইন ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম দাঁড় করাচ্ছি। এখানেও গ্রাহকরা অভিযোগ জানাতে পারবেন।’ তিনি বলেন, ‘যে কম্পানি বন্ধ হয়ে গেছে কিংবা যেগুলো বন্ধের পথে সেগুলোর অভিযোগ কিভাবে নিষ্পত্তি হবে সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত আসবে বলে আমরা আশা করি। সরকার যদি চায় যেসব ক্ষুদ্র মার্চেন্ট ইভ্যালির সঙ্গে জড়িত ছিল তাদের বিনা সুদে ঋণ দিয়ে বাঁচিয়ে রাখতে পারে। যে টাকা রয়ে গেছে, সেটা আগের অর্ডারের ভিত্তিতে সেটেলমেন্ট করা উচিত। জমি ও অন্যান্য সম্পদ বেচেও এত টাকা পাওয়া যাবে বলে মনে হয় না। এই মডেলটি কোনো যৌক্তিক মডেল না। তারা তো ব্যাংক না যে মানুষের টাকা নেবে।’

ইভ্যালির ব্যাপারে ই-ক্যাব আগে থেকে কোনো পদক্ষেপ নিয়েছে কি না জানতে চাইলে আব্দুল ওয়াহেদ তমাল বলেন, ‘ই-ক্যাব থেকে ২০২০ সালে একটি তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছিলাম। তাতে বলেছিলাম, এভাবে ব্যবসা করতে দেওয়া যায় না। এসওপি (স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর) করতে হবে। আমাদের উদ্যোগে পরবর্তী সময়ে এসওপি চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে আরো বড় ভূমিকা নিতে হতো। এখানে যে লেনদেনগুলো হচ্ছে তা ট্র্যাক করে আরো আগে ব্যবস্থা নিতে হতো। সরকার শক্ত পদক্ষেপ না নিলে আরো ছয় মাসে অন্তত ১০ হাজার কোটি টাকা ঘাটতি হতো। যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।’

এখনো ইভ্যালির সদস্য পদ বাতিল করা হয়নি কেন জানতে চাইলে ই-ক্যাবের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘আমরা তাদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছিলাম। তারা সময় চেয়েছিল। আগামী মাসে ওই সময় শেষ হচ্ছে। আমরা দু-এক দিনের মধ্যে তাদের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেব।’

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ডিজিটাল কমার্স সেলের প্রধান হাফিজুর রহমান গতকাল শুক্রবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘যেহেতু মামলা হয়েছে, তাই এখন এটি আদালত দেখবেন। গ্রাহকদের আমরা অনেক আগে থেকেই অনুরোধ করে আসছি, তারা যেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ দায়ের করে। এখনো সময় আছে, তাদের এটা করা উচিত বলে আমি মনে করি। তাহলে একটি লিগ্যাল ডকুমেন্ট থাকে। পরে যে সমাধানই আসুক না কেন তখন এটি লিগ্যাল ডকুমেন্ট হিসেবে কাজে লাগবে।’

এদিকে ইভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রাসেল জানেন না তিনি কবে গ্রাহকদের টাকা ফেরত দিতে পারবেন। রাজধানীর গুলশান থানায় প্রতারণা মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে র‌্যাবকে এ কথা জানিয়েছেন তিনি। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল জানিয়েছেন, ইভ্যালির দেনা প্রায় এক হাজার কোটি টাকা। গ্রাহকসংখ্যা ৪৪ লাখ বলে দাবি তাঁর।

]]>
স্কুল কলেজে ড্রেস-জুতার সিন্ডিকেট ব্যবসা! https://sherakantha.com/2021/02/26/%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%81%e0%a6%b2-%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%9c%e0%a7%87-%e0%a6%a1%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%87%e0%a6%b8-%e0%a6%9c%e0%a7%81%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8/ Fri, 26 Feb 2021 11:10:49 +0000 https://sherakantha.com/?p=131196 Continue reading স্কুল কলেজে ড্রেস-জুতার সিন্ডিকেট ব্যবসা! →]]> রাজধানীর স্কুল-কলেজে ড্রেসের একচেটিয়া ব্যবসা করছে একটি সিন্ডিকেট। বাংলাদেশ প্রতিযোগিতা কমিশনের একটি আদালত এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রায় দিয়ে প্রতিযোগিতা আনার নির্দেশ দিয়েছেন।

এই সিন্ডিকেট ব্যবসার সাথে যুক্ত আছেন স্কুল কর্তৃপক্ষের কেউ কেউ। বছরের পর পর একই সিন্ডিকেট এই ব্যবসা করছে।প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান মো. মফিজুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই সিন্ডিকেটের কারণে ড্রেসের মান খারাপ হচ্ছে, আর অভিভাবকদের কাছ থেকে উল্টো বেশি টাকা নেয়া হচ্ছে। তাই প্রতিবছর টেন্ডার ডেকে কমপক্ষে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে প্রতিযোগিতামূলকভাবে কাজ দেয়ার আদেশ দেয়া হয়েছে।

ঢাকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল ও কলেজে চৌধুরী এন্টারপ্রাইজ নামে একটি প্রতিষ্ঠান স্কুলের মধ্যেই দোকান ভাড়া নিয়ে এককভাবে গত প্রায় ১৮ বছর ধরে (২০০৩ সাল থেকে) ড্রেস বিক্রি করে আসছে। এটা কমিশনের নজরে এলে তারা স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় ওই প্রতিষ্ঠানকে ৮০ হাজার টাকা জরিমানা এবং প্রতিযোগিতার ভিত্তিতে প্রতিবছর কমপক্ষে তিনটি প্রতিষ্ঠানকে পোশাক সরবরাহের দায়িত্ব দেয়ার আদেশ দেয়া হয়। রায়ে স্কুল কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে বলা হয়, স্কুল কর্তৃপক্ষের সাথে যোগসাজশে ওই প্রতিষ্ঠানটি এককভাবে পোশাক সরবরাহ আর শিক্ষার্থীদের ওই দোকান থেকেই পোশাক কিনতে বাধ্য করা হয়।

এর আগে রাজধানী উচ্চবিদ্যালয়ের ব্যাপারেও একই ধরনের রায় দেয়া হয় বলে কমিশন চেয়ারম্যান জানান।চৌধুরী এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. ইব্রাহিম মোল্লা তার এই একচেটিয়া ব্যবসার কথা স্বীকার করেন। তবে তার দাবি, আগে যিনি ছিলেন তিনি ২৫ বছর ধরে একচেটিয়াভাবে ছিলেন। ফখরুদ্দিন বাবুর্চি আছেন ৭০ বছর ধরে। তাহলে তার দোষ কোথায়?

তিনি জানান, স্কুল কর্তৃপক্ষ তাকে একটি কক্ষ দিয়েছে পোশাক বিক্রির জন্য। বিনিময়ে তাকে মাসে দুই লাখ ৮০ হাজার টাকা ভাড়া দিতে হয়। যা অনেক বেশি। এর বাইরে তিনি আর কোনো সুবিধা দেন না বলে দাবি করেন।প্রতি সেট পোশাকের জন্য তিনি নেন এক হাজার ২০০ টাকা। বছরে ১৩ হাজার সেট পোশাক বিক্রি হয়। তিনি জুতা, বেল্ট, ব্যাজও বিক্রি করেন।

ইব্রাহিম মোল্লা মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের ড্রেসও সরবরাহ করেন। তিনি জানান, ঢাকার স্কুলগুলোতে পাঁচ-ছয়টি প্রতিষ্ঠান পোশাক সরবরাহ করে। তারাই বছরের পর বছর এই কাজ করছেন। স্কুল-কলেজে বই, স্টেশনারি, ক্যান্টিনও এভাবেই চলে বলে জানান তিনি।

অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু অভিযোগ করেন, ঢাকার স্কুলগুলোর ম্যানেজিং কমিটি ও কিছু শিক্ষকের সাথে যোগসাজশে এই একচেটিয়া ব্যবসা চলে। পোশাক থেকে শুরু করে বই-খাতা সবই স্কুলের দোকান থেকে কিনতে হয়। ওইসব দেকানে পণ্যের মানও খারাপ, দামও বেশি। আর স্কুলের মধ্যেই চলে এসব দোকান। এর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া হচ্ছে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে। আমরা আগে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে বেশ কয়েকবার অভিযোগ জানিয়েও প্রতিকার পাইনি।

তিনি আরো অভিযোগ করেন, স্কুলের আসবাবপত্র থেকে শুরু করে ইলেকট্রিক সামগ্রী সরবরাহের জন্যও একইভাবে চুক্তিবদ্ধ সিন্ডিকেট আছে। তাদের বাইরে কিছু হয়না।

ভিকারুননিসা স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যক্ষ কামরুননাহার বলেন, তিনি নতুন এসেছেন তাই জানেন না কীভাবে একটি প্রতিষ্ঠান একচেটিয়াভাবে বছরের পর বছর পোশাক সরবরাহের কাজ পায়। তবে আদালতের নির্দেশের কপি তিনি এখনো পাননি। পেলে ব্যবস্থা নেবেন।

তিনি বলেন, এসব সিদ্ধান্ত ম্যানেজিং কমিটি নেয়, তবে অধ্যক্ষের মতামত থাকে। কিন্তু এসব ব্যাপারে স্বচ্ছতা প্রয়োজন।

প্রতিযোগিতা কমিশনের চেয়ারম্যান জানান, সবশেষ রায়টি ভিকানরুননিসা স্কুল ও কলেজের ব্যাপারে হলেও দেশের সব ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেই এই ধরনের সিন্ডিকেট ব্যবস্থা ভেঙে প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা চালুর জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে বলা হয়েছে।

প্রতিযোগিতা কমিশনের এই নির্দেশনা এখনো হাতে পাননি বলে জানান মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম মোহাম্মদ ফারুক। তবে তিনি মনে করেন, এই ধরনের একচেটিয়া সরবরাহ ব্যবস্থা অনৈতিক। এর অবসান হওয়া প্রয়োজন।

]]>
বঙ্গবন্ধুর নামে ‘বনবন্ধুর’ মহাপ্রতারণা! https://sherakantha.com/2021/02/26/%e0%a6%ac%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%81%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a6%ac%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a7%81/ Fri, 26 Feb 2021 10:23:08 +0000 https://sherakantha.com/?p=131168 Continue reading বঙ্গবন্ধুর নামে ‘বনবন্ধুর’ মহাপ্রতারণা! →]]> নিজের দেওয়া বনবন্ধু উপাধি যোগ করে নিজেকে পরিচয় দিতেন ‘বনবন্ধু’ জাহিদুর রহমান ইকবাল নামে। নিজের ব্যবহৃত গাড়ির চারপাশে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বাণী সম্বলিত ছবি।

মুজিববর্ষ উদযাপনের সুযোগ নিয়ে পেতেছেন মহাপ্রতারণার ফাঁদ।মুজিববর্ষের লোগো, প্রধানমন্ত্রীর বাণী ব্যবহার করে প্রায় ৪০ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছে অনুদান চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। মুজিবর্ষে গাছ লাগানোর কথা বলে অভিনব পন্থায় বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন এ মহাপ্রতারক।

এর বাইরে নিজেকে একাধিক ভুয়া প্রতিষ্ঠানের প্রধান পরিচয় দিয়ে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন তিনি। ব্যাংক লোন পাইয়ে দেওয়া, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজের অনুমোদনসহ নানা ধরনের কনসালটেন্সির নামে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।

অবশেষে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর কারওয়ান বাজারের শাহআলী ভবনে নিজের কথিত অফিস থেকে জাহিদুর রহমানকে গ্রেফতার করে তেজগাঁও থানা পুলিশ। এরপর বেরিয়ে আসতে থাকে তার অভিনব পন্থায় নানা প্রতারণার তথ্য।

গ্রেফতারের সময় কাছ থেকে ২৭০টি সীল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ডকুমেন্টস প্রসেসিং ফাইল ১৮৪টি, মুজিববর্ষের লােগো ব্যবহার করা ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী সম্বলিত চিঠি ৫০০টি, সিপিইউ দু’টি, প্রিন্টার দু’টি, স্ক্যানার একটি, মনিটর দু’টি, ল্যাপটপ একটি, মােবাইল দু’টি ও একটি টয়োটা করোলা গাড়ি জব্দ করা হয়েছে।

বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে নিজ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদসম্মেলনে এ কথা বলেন তেজগাঁও বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) হারুণ-অর-রশীদ।ডিসি হারুণ-অর-রশীদ বলেন, গত ৩০ বছর ধরে কারওয়ান বাজার এলাকায় গ্রেফতার জাহিদুর রহমান ইকবাল ওরফে বনবন্ধু জাহিদুর রহমান ইকবাল প্রতারণা করে আসছে। মুজিববর্ষের লোগো ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী ব্যবহার করে চলছিলো তার বর্তমানে মূল প্রতারণা। সে প্রায় ৪০ হাজার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি দিয়েছে। এর মাধমে তিনি ওই সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে অবৈধভাবে টাকাও হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতারক বনবন্ধু জাহিদুর মুজিববর্ষে বিভিন্ন জায়গায় গাছ লাগাবে বলেও অনেকের কাছ থেকে টাকা নিতেন।

জহিদুর রহমানের নানা প্রতারণার বর্ণনায় ডিসি বলেন, জাহিদুর রহমান প্রতারণামূলকভাবে অর্থ আত্মসাৎ করতেন। অবৈধভাবে সীল তৈরি ও সংরক্ষণ করে প্রতারণার উদ্দেশ্যে মুজিববর্ষের লোগো ও প্রধানমন্ত্রীর বাণী ব্যবহার করে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তির কাছে প্রায় ৪০ হাজার চিঠি পাঠিয়েছে।

কনসালটেন্ট গ্রুপ লিমিটেড, এসএম ই কনসালটেন্ট লিমিটেড, ইইএফ কনসালটেন্ট লিমিটেড নামে তিনটি অবৈধ কোম্পানির চেয়ারম্যান এবং সিইও হিসেবে নিজেকে দাবি করেন। কিন্তু তিনি কোম্পানিগুলোর কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। বাংলাদেশ ব্যাংকের নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন লোন পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে কনসালটেন্সির নামে অর্থ আত্মসাৎ করতেন এ প্রতারক।

জাহিদুর রহমান ব্যক্তিগত গাড়িতে জাতির জনকের ছবি ব্যবহার করে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড করতেন। যা জাতির জনকের ছবির অবমাননার শামিল। এছাড়া এনবিআর, আয়করের ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ব্যাংক থেকে লোন প্রসেসিং, বাংলাদেশ ট্রি প্ল্যান্টেশন ফাউন্ডেশন নামে নামসর্বস্ব্য অবৈধ প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে বৃক্ষরোপণের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান এবং ব্যক্তিপর্যায় থেকে অর্থ আত্মসাৎ করে আসছিলেন।

পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, তার বিরুদ্ধে আমরা হাজার হাজার অভিযোগ পেয়েছি। আমরা যখন তার কাছে গেলাম সে তখন বলে, আপনাদের যে পুলিশ ব্যাংক সেটা তো আমার কনসালটেন্সি ফার্ম করে দিয়েছে, তাও নাকি বিনা পয়সায় করে দিয়েছে। সে অনেকগুলো প্রতিষ্ঠানের সিইও ও চেয়ারম্যান পরিচয় দিলেও তার পড়াশোনার কোনো সার্টিফিকেট নেই।

আমরা তাকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন করবো। রিমান্ডে নিলে বোঝা যাবে সে কত লোকের কাছ থেকে কি পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।

কি পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে এমন প্রশ্নের উত্তরে ডিসি বলেন, আমরা এখন পর্যন্ত পাঁচশ লোকের মৌখিক অভিযোগ পেয়েছি। কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে ধারণা করছি। তবে রিমান্ডে না নেওয়া পর্যন্ত বলা যাচ্ছে না সে কত টাকা হাতিয়েছে। শুনেছি ২০০৭ সালে একবার সতন্ত্র পদে মেয়র নির্বাচন করে জামানত হারিয়েছিলেন। এছাড়া অনেক ভুক্তভোগী আমাদের কাছে আসছেন। তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কি-না সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

প্রতারক ‘বনবন্ধু’ জাহিদুর রহমান ইকবালের অবৈধ প্রতিষ্ঠান কনসালটেন্ট গ্রুপ লিমিটেড, এসএমই কনসালটেন্ট লিমিটেড ও ইইএফ কনসালটেন্ট লিমিটেডের ব্যানারে ফিনান্সিয়াল কনসালটেন্স, কোম্পানির রেজিস্ট্রেশন, সোসাইটি রেজিস্ট্রেশন, ট্রাস্ট রেজিস্ট্রেশন, ফাউন্ডেশন রেজিস্ট্রেশন, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠার ডকুমেন্টস প্রসেসিং, ব্যাংক বিমা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ডকুমেন্টস প্রসেসেসিং, টিন ভ্যাট রেজিস্ট্রেশন, ফায়ার লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স ডকুমেন্টস প্রসেসিং ইত্যাদির নামে অসংখ্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল অংকের অর্থ আত্মসাৎ করেছে।

]]>
বোনের কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করেছেন ওসি প্রদীপ https://sherakantha.com/2020/09/12/%e0%a6%ac%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%a4/ Sat, 12 Sep 2020 14:19:52 +0000 http://sherakantha.com/?p=130944 Continue reading বোনের কোটি টাকার সম্পত্তি দখল করেছেন ওসি প্রদীপ →]]> অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা হত্যা মামলার আসামি টেকনাফ থানার বরখাস্ত ওসি প্রদীপ দাশের বিরুদ্ধে এবার বোনের কোটি টাকার সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।এরমধ্যে দুদক চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগে করেছেন প্রদীপের সৎবোন রত্নাবালা।শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুদক কর্মকর্তারা জানান, অভিযোগ অনুসন্ধানের অনুমতি চেয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে আবেদন করা হয়েছে।

আরও জানা গেছে, প্রদীপ দাশের সৎবোন রত্নাবালা চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় তার ১২ শতক জমি ও একটি চারতলা ভবন দখল করে নেয়ার অভিযোগ জানান দুদক জেলা কার্যালয়ে। এসব সম্পত্তি প্রদীপ দাশ এক কোটি ৩০ লাখ টাকায় তার স্ত্রী চুমকির নামে বায়না করেছেন বলে অভিযোগ করা হয়।

তবে বায়না বাবদ রত্নাবালাকে প্রদীপ কোনো টাকা দেননি; বরং প্রতিবাদ করায় রত্নবালার ছেলে বিবেক রঞ্জন চৌধুরীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা দিয়েছেন প্রদীপ দাশ। এতে রঞ্জন চৌধুরীকে জেলখানায়ও থাকতে হয়েছে।এই ঘটনায় টেকনাফের নিলুফা নামের এক নারীকে মামলার বাদী সাজানো হয়েছে। রঞ্জনের মেয়ে বেবী চৌধুরীকেও লাঞ্ছিত করা হয়েছে।

রত্নাবালা জানান, তার বাবা প্রেম লাল প্রজাপতি ও মা যুগল রানী প্রজাপতি। দুই মেয়েকে রেখে রত্নাবালার বাবা মারা যান। এরপর রত্নাবালার মা হরেন্দ্র লাল দাশ নামে এক ব্যক্তিকে বিয়ে করেন। সেই ঘরে প্রদীপ দাশসহ রত্নাবালার তিন ভাইয়ের জন্ম। রত্নাবালার আপন বোন অল্প বয়সে মারা যান। এরপর থেকে বাবার সম্পত্তি হিসেবে শহরের ১২ শতক জমি ও ভবনের মালিক রত্নাবালা।

এ ব্যাপারে দুদকের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দীন জানান, প্রদীপ দাশের বিরুদ্ধে সম্পত্তি আত্মসাতের অভিযোগ প্রধান কার্যালয়ের অনুমতির জন্য পাঠানো হয়েছে। অনুমতির পর অনুসন্ধান শুরু করা হবে।

]]>
রাজধানীতে ৫ কোটি টাকা মূল্যের জাল স্ট্যাম্প-ডলার-টাকাসহ গ্রেফতার ২ https://sherakantha.com/2020/08/28/%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%9c%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a7%ab-%e0%a6%95%e0%a7%8b%e0%a6%9f%e0%a6%bf-%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%ae%e0%a7%82%e0%a6%b2/ Fri, 28 Aug 2020 15:03:00 +0000 http://sherakantha.com/?p=130757 Continue reading রাজধানীতে ৫ কোটি টাকা মূল্যের জাল স্ট্যাম্প-ডলার-টাকাসহ গ্রেফতার ২ →]]> রাজধানীর সেগুনবাগিচা ও যাত্রাবাড়িতে অভিযান চালিয়ে ৪ কোটি ৭৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা মূল্যের জাল স্ট্যাম্প, ডলার ও টাকাসহ দুই জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এরা হলেন- মো. আলফাজ উদ্দিন (৬০) ও মো. মাসুদ (৫০)।শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরে তাদের গ্রেফতার করা হয়ে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির রমনা জোনের সিনিয়র সহকারী কমিশনার (এসি) এস এম শামীম।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যা থেকে ভোররাত পর্যন্ত রাজধানীর সেগুনবাগিচা ও যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- মো. আলফাজ উদ্দিন (৬১) ও মো. মাসুদ (৪০)।গ্রেফতারকৃতের মধ্যে আলফাজ উদ্দিন ঢাকা টেক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সহকারী হিসাব রক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং মাসুদ জাল স্ট্যাম্প, জাল ডলার ও জাল টাকা তৈরির মূল হোতা।

রমনা জোনের এসি এস. এম. শামীম বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সেগুনবাগিচায় এনবিআর ভবনের নিচ তলায় টেক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সামনে থেকে ঢাকা টেক্সেস বার অ্যাসোসিয়েশনের সহকারী হিসাব রক্ষক আলফাজ উদ্দিনকে তিন লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের জাল স্ট্যাম্পসহ হাতেনাতে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার আলফাজ উদ্দিনের বরাত দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা জানান, অধিক মুনাফার আশায় আনোয়ার নামে এক লোকের কাছ থেকে জাল স্ট্যাম্প ক্রয় করে বিক্রি করছিলেন। করোনা শুরুর আগে আনোয়ার আলফাজের কাছে এসে জানায় অধিক মুনাফা করতে চাইলে জাল স্ট্যাম্প বিক্রি করতে হবে। জাল স্ট্যাম্প ব্যবসার সঙ্গে জড়িত আনোয়ার তার ছেলে সবুজের সঙ্গেও গ্রেফতার আলফাজ উদ্দিনের পরিচয় করিয়ে দেয়।

গ্রেফতার আলফাজ উদ্দিনের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাতভর যাত্রাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। অভিযানে জাল স্ট্যাম্প বিক্রির হোতা মো. মাসুদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এসময় তার কাছ থেকে চার কোটি ৭১ লাখ ৪০ হাজার টাকা মূল্যের জাল স্ট্যাম্প, জাল ডলার, জাল টাকা ও জাল স্ট্যাম্প বানানোর সরঞ্জাম উদ্ধার করে পুলিশ। জানা যায়, এর আগেও জাল-জালিয়াতির অভিযোগে ডিবি পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন মাসুদ। মাসুদ দীর্ঘ আট বছর এই জাল জালিয়াতি ব্যবসার সঙ্গে জড়িত এবং তিনিই এই ব্যবসার মূল হোতা।

রমনা জোনের এসি আরও বলেন, জাল স্ট্যাম্প, জাল ডলার, জাল টাকা ও জাল স্ট্যাম্প তৈরির সরঞ্জামসহ গ্রেফতার দুজনের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। জাল স্ট্যাম্প বিক্রির সঙ্গে জড়িত আরও দুজনকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ব্যবসায়ের সঙ্গে যারা জড়িত তারা কেউ পার পাবে না৷ সরকারের কোটি কোটি টাকার রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার সুযোগ কাউকে দেয়া হবে না।

]]>
অবৈধ সম্পদ: স্ত্রীসহ ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা https://sherakantha.com/2020/08/23/%e0%a6%85%e0%a6%ac%e0%a7%88%e0%a6%a7-%e0%a6%b8%e0%a6%ae%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%a6-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%80%e0%a6%b8%e0%a6%b9-%e0%a6%93%e0%a6%b8%e0%a6%bf-%e0%a6%aa/ Sun, 23 Aug 2020 11:34:55 +0000 http://sherakantha.com/?p=130708 Continue reading অবৈধ সম্পদ: স্ত্রীসহ ওসি প্রদীপের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা →]]> অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনে কক্সবাজারের টেকনাফ থানার বরখাস্তকৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও তার স্ত্রী চুমকীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

রোববার দুদকের চট্টগ্রামের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এই মামলা করা হয়। দুদকের সহকারী পরিচালক রিয়াজ উদ্দীন বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন।দুদকের পরিচালক (জনসংযোগ) কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য মামলার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

প্রণব কুমার জানান, মামলার এজাহারে ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগ আনা হয়েছে। ঘুষ ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে সম্পদ ক্রয় করে ওসি প্রদীপ তার স্ত্রীর নামে রেখেছেন বলে অনুসন্ধানে দুদক তথ্য পেয়েছে।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিরা অসৎ উদ্দেশ্যে একে অপরের সহযোগিতায় অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে দুর্নীতি দমন কমিশনে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে ১৩ লাখ ১৩ হাজার ১৭৫ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপনপূর্বক মিথ্যা তথ্য প্রদান এবং ৩ কোটি ৯৫ লাখ ৫ হাজার ৬৩৫ টাকার সম্পদ জ্ঞাতসারে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন-২০১২ এর সম্পৃক্ত অপরাধ ‘ঘুষ ও দুর্নীতির’ মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণভাবে অর্জনপূর্বক ওই অবৈধ সম্পদ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তর করে ভোগদখলে রাখে।

এ অপরাধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৬(২) ধারা, ২৭ (১) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ,২০১২ এর ৪ ( ২) ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারাসহ দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় চট্টগ্রামে মামলাটি দায়ের করা হয়।

মঙ্গলবার বিকাল পৌনে ৪টায় সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হেলাল উদ্দীনের আদালত এজাহারটি আমলে নিয়ে তা তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ প্রদান করেছেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইনসাফুর রহামান সাংবাদিকদের এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দায়েরকৃত মামলায় হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউর রহমানকে প্রধান আসামি ও ওসি প্রদীপ কুমার দাশকে ২নং আসামি করা হয়েছে। মোট ২৮ জন আসামির মধ্যে ২৭ জনই পুলিশের সদস্য। অন্যজন হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার নূরুল আমিন।

এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, গত ৪ জুলাই টেকনাফ হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউর রহমানসহ একদল পুলিশ হ্নীলা ইউনিয়নের মৌলভীবাজার এলাকার মৃত সুলতান আহমদ প্রকাশ বাদশার পুত্র সাদ্দাম হোসেন ও তার ভাই জাহেদ হোসেনকে বাড়ির অদূরে রাস্তা থেকে আটক করে পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যায়। পরে তাদের ছাড়িয়ে আনতে ফাঁড়িতে যান মামলার বাদী (মা) গুল চেহের। কিন্তু তাদের ছেড়ে দিতে সম্মত হলেও ১০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউর রহমান।

এক পর্যায়ে পাঁচ লাখ টাকায় উভয়ের মধ্যে রফা হয়। পাঁচ লাখ টাকার মধ্যে ওই দিন তিন লাখ টাকা সরাসরি হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউর রহমানের হাতে দেন বাদী গুলে চেহের। বাকি দুই লাখ পরদিন মশিউর রহমানের কথামতো তার পাঠানো বাহক ইউনিয়ন পরিষদের দফাদার নুরুল আমিনকে দেন।

বাদী এজাহারে আরও জানান, হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউর রহমান পাঁচ লাখ টাকা গ্রহণ করার পর ৬ জুলাই দুই ভাইয়ের মধ্যে জাহেদ হোসেনকে একটি মামলা দিয়ে আদালতে চালান দেয়। ৭ জুলাই রাত ১০টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে ৩০০ গজ দূরে এনে সাদ্দাম হোসেন ও অন্য একজনকে গুলি করে পুলিশ। এতে গুরুতর আহত হয় সাদ্দাম হোসেন। পরে পুলিশ তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

বাদী গুল চেহের এজাহারে দাবি করেন, হোয়াইক্যং পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মশিউর রহমান, সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশ ও মামলার ৩নং আসামি আরিফুর রহমানের পরামর্শ ও নির্দেশক্রমে অন্য আসামিরা সবাই যোগসাজশ করে সাদ্দাম হোসেনকে ঠাণ্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করেছে। সাদ্দামকে মারার কিছুদিন আগে তাদের বাবা সুলতান আহমদ প্রকাশ বাদশাকেও পুলিশ বন্দুকযুদ্ধের নামে হত্যা করেছে বলে বাদী এজাহারে উল্লেখ করেছেন।

কিছুদিনের ব্যবধানে স্বামী ও সন্তানকে হারিয়ে মানসিকভাবে চরম বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন বাদী গুল চেহের। অন্যদিকে এ বিষয়ে বাড়াবাড়ি না করতে নিয়মিত হুমকি দিয়েছে পুলিশ। তাই মামলার আবেদন করতে বিলম্ব হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করেন বাদী গুল চেহের।

উল্লেখ্য, ৩১ জুলাই ঈদুল আজহার আগের রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভের বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান।

ঘটনার পর পুলিশ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় দুটি মামলা করে। আর রামু থানায় একটি মামলা করা হয়।

পরে ৫ আগস্ট কক্সবাজার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা করেন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানের বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস।

এতে ৯ জনকে আসামি করা হয়। আসামিরা হলেন- টেকনাফ থানার বরখাস্ত হওয়া ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, টেকনাফের বাহারছড়া শামলাপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের প্রত্যাহার হওয়া পরিদর্শক লিয়াকত আলী, এসআই নন্দদুলাল রক্ষিত, এএসআই লিটন মিয়া, পুলিশ কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, মো. মোস্তফা ও এসআই টুটুল। এদের মধ্যে আসামি মোস্তফা ও টুটুল পলাতক।

এ ঘটনায় এ পর্যন্ত সাত পুলিশ সদস্য, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্য ও টেকনাফ থানা পুলিশের করা মামলার তিন সাক্ষীসহ ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। বিভিন্ন সময় প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন কক্সবাজারের আদালত।

এর মধ্যে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া পুলিশের চার সদস্য এবং এ ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার তিন সাক্ষীকে গত শুক্রবার থেকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে র‌্যাব।

যাদের রিমান্ডে নেয়া হয়েছে তারা হলেন- এএসআই লিটন মিয়া, কনস্টেবল সাফানুর রহমান, কামাল হোসেন, আবদুল্লাহ আল মামুন, পুলিশের দায়ের করা মামলার সাক্ষী মো. নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও মোহাম্মদ আয়াছ।

]]>
রিমান্ড শেষে কারাগারে সাহেদ https://sherakantha.com/2020/08/23/%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%b6%e0%a7%87%e0%a6%b7%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%be/ Sun, 23 Aug 2020 11:11:49 +0000 http://sherakantha.com/?p=130694 Continue reading রিমান্ড শেষে কারাগারে সাহেদ →]]> পদ্মা ব্যাংকের (সাবেক ফারমার্স ব্যাংক) অর্থ আত্মসাতের মামলায় রিজেন্ট গ্রুপ ও রিজেন্ট হাসপাতালের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম মো. সাহেদকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।রবিবার (২৩ আগস্ট) সাত দিনের রিমান্ড শেষে সাহেদকে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।এর আগে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ কে এম ইমরুল কায়েশ আসামি সাহেদকে সাত দিনের রিমান্ড শেষ করে আদালতে হাজির করতে নির্দেশ দেন।এ দিন সাত দিনের রিমান্ডের চারদিন শেষে তাকে আদালতে হাজির করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ সময় বিচারক তাকে সাত দিনের রিমান্ড শেষ করে আদালতে হাজিরের নির্দেশ দেন।গত ১০ আগস্ট সাহেদের ৭ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। বৃহস্পতিবার তাকে চতুর্থ দিনের মতো জিজ্ঞাসাবাদ করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজসহ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। উল্লেখ্য, গত ১৫ জুলাই সাতক্ষীরার সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে সাহেদকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। পরে তাকে হেলিকপ্টারে ঢাকায় আনা হয়।

]]>