শিল্প সাহিত্য – Sherakantha-সেরা কণ্ঠ https://sherakantha.com Just another WordPress site Sun, 16 Jul 2023 13:45:35 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.4 যে দ্বীপ বিজ্ঞানীদের বিস্ময়! https://sherakantha.com/2023/07/16/%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%aa-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%9c%e0%a7%8d%e0%a6%9e%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%80%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b8-2/ Sun, 16 Jul 2023 11:37:52 +0000 https://sherakantha.com/?p=131555 Continue reading যে দ্বীপ বিজ্ঞানীদের বিস্ময়! →]]> অস্ট্রেলিয়ার পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপ রাষ্ট্র টোঙ্গার কাছেই হঠাৎ জেগে ওঠে একটি ছোট্ট দ্বীপ। এর নামটা বেশ অদ্ভুত। হুঙ্গা টোঙ্গা-হুঙ্গা হা’আপেই।

দ্বীপটি নিয়ে সমুদ্র বিজ্ঞানীদের কৌতূহলের সীমা নেই। ৫শ’ মিটার লম্বা ও আড়াইশ’ মিটার উঁচু এই দ্বীপের বয়স মাত্র চার বছর।

এই চার বছরেই ফুলের সমারোহ আর পাখির কিচিমিচিতে মুখরিত হয়ে গেছে দ্বীপটি।

২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সাগরতলের হুঙ্গা টোঙ্গা আগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত থেকে উদগীরিত ছাই, লাভা জমে এই এ দ্বীপ সৃষ্টি হয়।

সেসময় স্যাটেলাইটে ধরা পরে দীপটি। এরপর স্যাটেলাইট থেকে তোলা ছবি দিয়েই এ দ্বীপ পর্যবেক্ষণ করছিলেন তারা।

বিজ্ঞানীদের মতে খুব কম সময়েই আবার হারিয়ে যাবে এটি।

ইতিমধ্যে প্রবল বৃষ্টিপাত ও সমুদ্র ঢেউয়ে ক্ষয় ধরেছে এটির।

গেল বছরের অক্টোবরে ‘সি এডুকেশন এসোসিয়েসন’ এবং নাসা’র বিজ্ঞানীরা দ্বীপটিতে পা রাখেন।

হুঙ্গা – টোঙ্গা ঘুরে এসে নাসার গবেষক ড্যান স্লেব্যাক জানান, সেখানে গোলাপি রঙের ফুল ও বিভিন্ন ধরনের পাখি দেখেছেন তারা। এমনকি পেঁচারাও আবাস গেড়েছে ওই দ্বীপে।

আশেপাশের দ্বীপ থেকে পাখিরা এসে ওই দ্বীপে বাসা বেঁধেছে এবং সঙ্গে করে নিয়ে এসেছে বীজ। ওসব বীজ থেকেই চার বছরে লাভার মাটি সবুজে পরিণত হয়েছে বলে ধারণা বিজ্ঞানীদের।

এর চটচটে কাদামাটি পরীক্ষা করে বেশ উর্বর বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।

হুঙ্গা-টোঙ্গাকে আশ্চর্য দ্বীপ বলে অভিমত বিজ্ঞানীদের।

কারণ, আগ্নেয়গিরির ম্যাগমা জমে সৃষ্ট দ্বীপ সাধারণত তিন-চার মাস পরেই তলিয়ে যায় সমুদ্রে।

অথচ হুঙ্গা-টোঙ্গা দ্বীপটি টিকে আছে চার বছর ধরে!

যা কিনা গত দেড়’শ বছরের রেকর্ড ভেঙ্গে ইতিহাস গড়েছে।

হুঙ্গা-টোঙ্গার এমন স্থায়ীত্ব নিয়ে গবেষণা করছেন তারা।

আগ্নেয়গিরির ছাইয়ের সঙ্গে সমুদ্রের পানির রাসায়নিক বিক্রিয়া হয়ে দ্বীপটি আরও দৃঢ় হয়েছে বলে জানান তারা।

১৯৬০ সালে আইসল্যান্ডে একইভাবে জেগে ওঠা একটি দ্বীপও সমুদ্রে জেগেছিল কয়েক বছর।

নাসা বলছে, ৬ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত টিকতে পারে দ্বীপটি।

নাসার গবেষক স্লেব্যাকের মতে, দ্রুত ক্ষয়ে যাচ্ছে দ্বীপটি। ক্রমাগত বৃষ্টিপাত হতে থাকলে দ্বীপটি হয়ত আর মাত্র এক দশক টিকতে পারে বলে ধারণা তার।

]]>
রূপার হাতে বিয়ার… https://sherakantha.com/2020/04/02/%e0%a6%b0%e0%a7%82%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0-2/ Thu, 02 Apr 2020 13:31:47 +0000 http://sherakantha.com/?p=130059 Continue reading রূপার হাতে বিয়ার… →]]> পৃথিবীর সবচেয়ে পিচ্ছিল জিনিসটা বোধহয় মানুষের বমি। সেদিন রাতে প্রচণ্ড বমি করলো রূপা। কেন এমন হচ্ছে হঠাৎ করে-কোনো কিছুতেই হিসেব মিলাতে পারছে না সে। নিজের বমির ওপর পা পিছলে অবস্থা আরো ভয়ানক। রাত বেড়ে ২ টা গড়িয়েছে। এ মুহূর্তে কার সাহায্য চাইবে-সেটাও মাথায় আসছে না।

রূপার বন্ধু মিহির যেহেতু ভোরের আলো না দেখে ঘুমাতে যায় না, তাই ফোনটা মিহিরকেই করলো সে। এত রাতে রূপা সাধারণত কোনোদিন মিহিরকে ফোন করে না। রূপার কণ্ঠস্বর শুনেই বুঝতে পারলো অবস্থা ভালো নয়। পকেটে টাকা নেই মিহিরের যে যাত্রাবাড়ী থেকে সিএনজি ভাড়া করে রূপার কাঁঠালবাগান আসবে সে। পাশের রুমমেটও ঘুমে। বাধ্য হয়ে রুমমেট আরিফের পকেট থেকে ২০৭ টাকা নিয়ে একটা চিরকুট লিখে বাসা থেকে বের হওয়া।

 

গুলিস্তান ফ্লাইওভার পার হতে না হতেই মিহিরেরও বমি শুরু হলো। রূপাকে ফোন করে জানাবে-কিন্তু রূপা তখন ফোন ধরছে না। বাথরুমে বমি করতে করতে অজ্ঞান হয়ে পড়েছে। সেই রাতে কেউ কারো কাছে পৌঁছাতে পারলো না, এই আফসোস নিয়ে খারাপ শরীরেই দুপুরে রূপার বাসায় আসলো মিহির।

৫ তলার সিঁড়ি ভেঙে উঠতে উঠতে জীবনটা বেরিয়ে যাচ্ছিল মিহিরের। তারপরও উঠে যা দেখলো তাতে পিলে চমকে উঠলো তার। বিয়ার হাতে বসে আছে তার প্রিয়তমা বন্ধু রূপা। একা একাই গিলছে, বেশ আরাম করেই গিলছে। সামনে আরো ৩ টা বিয়ারের ক্যান দেখে মুচকি হেসে বললো- এই তাহলে অবস্থা। রাতে আমাকে অযথা প্যারা দিলি কেন? উত্তরে রূপাও হো হো করে হেসে বললো- তুই আমার বন্ধু তো। তাই তোকে জ্বালালাম। আমার কিছুই হয়নি। রাতে বমিও করি নাই।

মিহিরের অসাধারণ অলৌকিক গুণের মধ্যে একটা হলো কেউ মিথ্যা বললে ধরে ফেলতে পারার ক্ষমতা। সেই ক্ষমতাবলে বুঝলো রূপা মিথ্যা বলছে। তারপরও সে কথা বাড়ালো না। একটা বিয়ারের ক্যান ভেঙে চুমুক দিতেই রূপা বললো- আয় চুমু খাই। এভাবে সময় আরো গড়িয়ে যায়। এক সময় এলিয়ে শরীর এলিয়ে পড়ে রূপার। মুখ লুকাতে ইচ্ছে করে মিহিরের লোমশ বুকে। এভাবেই সন্ধ্যা নেমে এলো।

দুজনই স্নান সেরে শাহবাগে যাবে আড্ডা দিতে। রাত ১১ টা পর্যন্ত চলো প্রাণবন্ত আড্ডা। মিহির প্রচুর সিগারেট খায় বলে মাঝে মাঝে দূরত্ব বজায় রেখে গল্প চালাচ্ছিল রূপা। সাথে আরো কয়েকজন বন্ধু যোগ দিয়েছে আড্ডাতে। যখন আড্ডা ভাঙলো-রূপার নেশাও কেটে গেল। আবারো রাস্তার মধ্যেই বমি করতে শুরু করলো সে। এবার মিহির কিছু না বলে পিজি হাসপাতালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দিয়ে মোটামুটি সুস্থ করে তুললো রূপাকে। তথন রাত দেড়টা বেজে গেছে। এই সময়ের মধ্যে রূপার দুইটা টেস্টও করানো হয়েছে। রিপোর্ট কাল দেয়া হবে। সকালেই ফিরতে হবে আবার রিপোর্ট নিতে। এদিকে, রূপার বাসায় ফেরার উপায় নেই, নেই মিহিরেরও। এমনি সময় ফকিরাপুলের একটি আবাসিক হোটেলে রাত কাটালো স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে। সেই রাতে ক্লান্ত রূপাকে দেখে আনমনে মিহিরের অনেক প্রশ্ন জেগেছিল। নিজেই প্রশ্ন তৈরি করে আবার সেই প্রশ্নের সমাধান খোঁজার বৃথা চেষ্টাও করে গেল রাতভর। একই বিছানায় পাশাপশি শুয়ে রূপাকে তার বড় বেশি অচেনা মনে হচ্ছে।

মিহির রূপাকে চেনে ৬ মাস হলো মাত্র। এরই মাঝে ঘনিষ্ঠতা, বিশ্বস্ততার জায়গাটা দুজনের কাছেই পোক্ত হয়েছে। শীতের রাতে একটু ভেজা উষ্ণতা পাওয়ার আসায় দুজনই কাছাকাছি এসেছে কয়েকবার গত দু’মাস ধরে। এমন নয় যে, তারা কেউ কারো প্রতি কমিটেড। মিহির কখনো প্রটেকশন ছাড়া রূপার সঙ্গে বিছানায় যায়নি। রূপার প্রতিনিয়ত বমি নিয়ে অনেক প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে মিহিরের মনে। যাক অনেক কথা ভেবে ভেবে রাত ভোর হলো। এবার মিহিরের প্রচণ্ড ঘুম পাচ্ছে। রূপাকে জড়িয়ে ধরে সকাল সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত ঘুমালো মিহির।

এরপর সকালের নাস্তা সেরে হাসপাতালে রিপোর্ট নিতে যাবে দুজন। রিপোর্ট নেয়ার সময় রূপা কোনোভাবেই মিহিরকে সাথে নিতে রাজি নয়। এ নিয়ে কথাকাটি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে মিহির চলে গেলো নিজের কাজে। রূপা হাসপাতাল থেকে রিপোর্ট নিয়ে বাসায় ফিরেছে। তার মন বিষণ্ন, ভয়াবহ খারাপ…রূপা আবারো বিয়ারের ক্যান খুলে বসেছে। আজ সে একা একা গিলবে, কাউকে ডাকবে না…

]]>
২১১৭ সাল, ফিউচারিস্টিক পৃথিবী। https://sherakantha.com/2017/11/17/%e0%a7%a8%e0%a7%a7%e0%a7%a7%e0%a7%ad-%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2-%e0%a6%ab%e0%a6%bf%e0%a6%89%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%95-%e0%a6%aa%e0%a7%83/ Fri, 17 Nov 2017 04:56:10 +0000 http://sherakantha.com/?p=126753 Continue reading ২১১৭ সাল, ফিউচারিস্টিক পৃথিবী। →]]>

আসগর সাহেব ল্যাবে বসে আছেন। দুদিন ধরে তোলপাড় চলছে আর্থ-২.০ তে। মারস, বলা ভালো আর্থ -২.০ তে মানুষ বসত গড়েছে এই বছর বিশেক হবে। আগের পৃথিবীর সকল হাই আইকিউর মানুষ, ক্রিয়েটিভ ইনডিভিজুয়ালস, সকল প্রকার টেকনোলজি, স্পেস স্টেশন, ইত্যাদি সবই এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। ওই পৃথিবীতে কেবল রয়ে গেছে লোয়ার অরবিটের নিম্নশ্রেণির মানুষেরা, যাদের তুচ্ছজ্ঞান করে এখানকার মডিফাইড মানুষেরা। তবে দুদিন ধরে এখানেও হৈচৈ চলছে। পৃথিবী থেকে কোন এক স্পেস শাটলে করে লোয়ার অরবিটের এক সাধারন মানুষ চলে এসেছে এখানে। কিন্তু তাকে কেউ কিছু করতে পারছে না, ফেরতও পাঠাতে পারছে না কারণ সে দাবি করছে তার কাছে হুমায়ূন আহমেদের ডিএনএ স্যাম্পল আছে। হুমায়ূন আহমেদকে চিনতে হলে আগে বাঙালি জাতিকে চিনতে হবে। ওয়ার্ল্ড ডমিনেশনে যারা এখন টপে আছে তাদের অধিকাংশই এখন বাঙালি, আর এই বাঙালিদের গত শতাব্দীর সবচেয়ে বিখ্যাত লেখক ছিলেন এই হুমায়ূন আহমেদ। সেই হুমায়ূন আহমেদের ডিএনএ স্যাম্পল পাওয়া মানে ক্লোন করে একজন হুমায়ূন আহমেদ সৃষ্টি করে তাঁকে এই পৃথিবীতে রেখে দেয়া। আসগর সাহেব ভাবলেন তিনি দেখা করতে যাবেন সেই ব্যক্তির সাথে, কারণ তার কাছ থেকে ডিএনএ স্যাম্পলটা নিতে পারলে ইতিহাস সৃষ্টি হবে।

– হ্যালো, আমি ডক্টর আসগর। আপনার নাম?
– আমি মিয়া সিরাজউদ্দিন রহমত আশফাক লিপু।
– আপনার নাম তো পৃথিবীর অন্যান্য মানুষদের তুলনায় বেশ বড়।
– আমি অন্যরকম তাই।
– তা শুনলাম, আপনার কাছে নাকি বরেণ্য কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ডিএনএ স্যাম্পল আছে। সেটা কী জানতে পারি?
– একটি চুল। আমার দাদার রেখে যাওয়া বইতে পেয়েছি।
– বাহ! কিন্তু আপনার দাদার বইতে লেখক সাহেবের চুল আসল কীভাবে?
– আমার দাদা সে আমলে হুমায়ূন আহমেদের কাছ থেকে অটোগ্রাফ আনতে গিয়েছিলেন একবার, সেসময়ই হয়তো কোনভাবে তাঁর একটু চুল বইয়ের ভাঁজে আটকে যায়।
– গ্রেট। কিন্তু আপনি জানলেন কীভাবে যে এটি হুমায়ূন আহমেদেরই চুল!
– আমি সকল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে নিয়েই তবে এসেছি।
– আপনার দাবীটা কি তাহলে এখানে?
– আমি আপনাদের এই ডিএনএ স্যাম্পল দিতে রাজি আছি যদি আমাদের পৃথিবীর ওপর থেকে কৃত্রিম শিল্ড সরিয়ে দেয়া হয়। আমরা সূর্যের আলো দেখতে চাই, আমরা এসিড বৃষ্টি হলেও তা দেখতে চাই। কৃত্রিম দীর্ঘ জীবনের চেয়ে বাস্তব ক্ষুদ্র জীবনও অনেক বেশি আকাঙ্ক্ষার এখন আমাদের। আমরা সবাই হুমায়ূন আহমেদের মতোই জোছনাবিলাস করতে চাই একদম কাছে চলে আসা চাঁদটার দিকে তাকিয়ে।
– আমি আপনার এই প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছে দিতে পারি কিন্তু আমি যতটুকু জানি এই শিল্ড আপনাদের প্রোটেকশনের জন্যই দেয়া হয়েছিল।
– হোক, আমরা আমাদের মতো করে নিরাপত্তা তৈরি করে নেবো। তবুও ধাতব আকাশ আর দেখতে চাই না আমরা।
– আপনার কাছে থাকা স্যাম্পলটা অতি মূল্যবান। আমার মনে হয় না আমাদের হর্তাকর্তারা দ্বিমত করবেন আপনার প্রস্তাবে। দেখা যাক…

……………………

আসগর সাহেব অবাক হয়ে আবিষ্কার করলেন তার প্রস্তাব নাকচ হয়ে গেছে। কোনভাবেই এই শিল্ড খুলে দেয়া হবে না। কোন কারণ দর্শানোর প্রয়োজনও মনে করলেন না তারা। আকাশ দেখতে দিতে, বৃষ্টিতে ভিজতে দিতে, জোছনাবিলাস করতে দিতে এতো কীসের আপত্তি আসগর সাহেব বুঝতে পারলেন না। তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন তিনিই স্যাবোটাজ করবেন, শিল্ড মেশিন বিকল করে দিয়ে শিল্ড তুলে দেবেন।

– মিয়া সিরাজউদ্দিন রহমত আশফাক লিপু, আপনাকে আমি কথা দিচ্ছি আপনি পৌঁছে গিয়ে দেখবেন পৃথিবীর আকাশ আর ধাতব নেই।
– অনেক ধন্যবাদ আসগর সাহেব। তবে আমি যাই…

আসগর সাহেব তার যাবার পথের দিকে তাকিয়ে রইলেন। শিল্ড মেশিন বিকল হওয়া শুরু হয়েছে। খুব শিঘ্রই হয়তো তাকে পাকড়াও করতে লোকজন চলে আসবে। এই প্রথম তাদের আকাশের চাঁদের দিকে নজর পড়লো আসগর সাহেবের। ডেইমোস আর ফোবোস জুলুজুলু করে জ্বলছে যেন আকাশে। কী অদ্ভুত শুদ্ধ লাগছে তার নিজেকে হঠাৎ। একেই বুঝি জোছনাবিলাস বলে!

………………

পৃথিবীতে পৌঁছেই মিয়া সিরাজউদ্দিন রহমত আশফাক লিপু দেখলেন ঝলমলে এক আকাশ। সূর্যের তাপ অতি সহনীয়, অপর পাশে আপাত নিষ্প্রভ চাঁদটাও দারুণ এক জোছনাবিলাসের আভাস দিচ্ছে। অর্থাৎ তাঁর ধারণা সঠিক, এই পৃথিবীর মানুষকে শোষণ করার জন্য, তাদের পশ্চাৎপদ করে রাখার জন্য এই কাজটা করা হয়েছে। হঠাৎ একটা স্পেস শাটল উড়ে আসতে দেখা গেল, মনে হল তাল হারিয়ে পড়ে যাচ্ছে। ভেতর থেকে একজনকে কোনরকমে বের করে আনলো সবাই মিলে। মিয়া সিরাজউদ্দিন রহমত আশফাক লিপুকে দেখেই সে লোকটি দৌড়ে এসে জাপটে ধরলেন-

আমি চিনি আপনাকে। আমি পড়েছি কিছু বই হলোগ্রাফিক স্ক্রিনে। এখন বলুন আপনি আদতে কে? (মি)য়া (সি)রাজউদ্দিন (র)হমত (আ)শফাক (লি)পু = মিসির আলি নাকি হুমায়ূন আহমেদ?

আসগর সাহেবের কথা শুনে হেসে চোখে থাকা চশমাটা ঠিক করলেন সেই অদ্ভুত মানুষটি।

]]>
উপমহাদেশে শিল্পকলার উন্নয়ন : মুঘল সম্রাটদের ভূমিকা https://sherakantha.com/2017/08/24/%e0%a6%89%e0%a6%aa%e0%a6%ae%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%aa%e0%a6%95%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%89%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%a8/ Thu, 24 Aug 2017 16:09:05 +0000 http://sherakantha.com/?p=123210 Continue reading উপমহাদেশে শিল্পকলার উন্নয়ন : মুঘল সম্রাটদের ভূমিকা →]]> বিশ্ব শিল্পের ইতিহাসে মুঘল শিল্পের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখিত আছে। মুঘল মিনিয়েচার বা ক্ষুদ্র চিত্র বিশ্বের বিস্ময়। ক্যালিগ্রাফি চিত্রের ক্ষেত্রেও সুখ্যাতি পৃথিবীজুড়্ আের এসবের মূলে রয়েছে মুঘল সম্রাটদের ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং সহযোগিতা। মুঘল সাম্রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ বাবর স্বল্প সময় রাজত্ব করলেও এবং মুঘল সাম্রাজ্যের ভিত ততটা পাকাপোক্ত করতে না পারলেও শিল্পকলার উন্নয়ন যে তখন থেকেই শুরু হয়েছে তা বিভিন্ন চিত্রে স্পষ্ট। ভোজসভা বা ভোজ উৎসবে সম্রাট বাবর নামক চিত্র এর উৎকৃষ্ট প্রমাণ। মূলত মুঘল সম্রাটগণ তাদের এবং তাদের পরিবারের সদস্য এবং সভাসদদের কর্মকাণ্ডের চিত্র আঁকিয়ে নিতেন শিল্পীদের দিয়ে। এ জন্য শিল্পী নিয়োগ দেয়া হতো এবং তাদেরকে সর্বতোভাবে সাহায্য-সহযোগিতা করা হতো রাষ্ট্রীয়ভাবে। মুঘল সাম্রাজ্যের বিখ্যাত পণ্ডিত বা ঐতিহাসিক আবুল ফজল তার গ্রন্থ আইন-ই-আকবরিতে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরিবেশন করেছেন। তিনি লিখেছেন- সম্রাট আকবর শিল্পকর্ম নির্মাণের জন্য এক শ’ চিত্রশিল্পীকে তার দরবারে নিয়োগ দিয়েছিলেন, যারা পারস্যের দু’জন শিল্পী মীর সৈয়দ আলী এবং আব্দুস সামাদের অধীনে কাজ করতেন। ফলে সম্রাট আকবরের সময়কালে এসব শিল্পীর মাধ্যমে ভারতীয় এবং ইসলামিক ধারার সংমিশ্রণে বিশেষ ধরনের এক নবধারার শিল্পের সৃষ্টি হয়। যাকে মুঘল ধারা বা মুঘল ঐতিহ্যের শিল্প হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। নতুনভাবে সৃষ্ট এই মুঘল ঐতিহ্যের চিত্রকর্মে ঐশ্বরিক বা আধ্যাত্মিকতার অনুভূতি যেমন স্পষ্ট, তেমনি বুদ্ধিমত্তার পরিচয় পাওয়া যায়। সম্রাট আকবর চেয়েছেন শিল্পী অঙ্কিত চিত্রে একজন দর্শক যেন পবিত্রতা, আধ্যাত্মিকতা এবং ইসলামের নীতি আদর্শের সন্ধান লাভ করতে সক্ষম হন। সম্রাট আকবরের এই ইচ্ছার প্রতিফলন যাতে চিত্রের সর্বত্র প্রকাশিত হয় সে চেষ্টাই করতেন দরবারের শিল্পীরা।
সম্রাট আকবরের মুক্তমনা বৈপ্লবিক চিন্তাচেতনা এবং নীতি আদর্শ গোড়া ধর্মীয় ধ্যান ধারণার পরিবর্তে উদারতার শিক্ষার প্রবর্তন করে জীবনের সব ক্ষেত্রে। ঐতিহাসিক আবুল ফজল তার গ্রন্থ আইন-ই-আকবরিতে উল্লেখ করেছেন যে, সম্রাট আকবর একদিন এক জনসমাবেশে যারা চিত্রাঙ্কনকে নিরুৎসাহিত করেন, অনুমোদনহীন বলেন তাদের এ বক্তব্যকে যথাযথ নয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি বরং বলেন যে, শিল্পীরা চিত্রকর্ম করতে গিয়ে নিজ ক্ষমতা এবং বুদ্ধির সীমাবদ্ধতার কথা স্মরণ করে লজ্জিত হন এবং মহান সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর অসীম ক্ষমতার কথা স্মরণ করেন। আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের কথা অনুভব করেন। এভাবেই শিল্পীরা আল্লাহর প্রতি অনুগত হন। সম্রাট আকবর আরো বলেন, শিল্পী যখন চিত্র চর্চা করেন তখন তিনি কোনো কিছুর আকার, আকৃতি, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কিংবা কর্ম নিয়ে ভাবেন, সেভাবেই কাজ করেন, কিন্তু তার পরেও তারা মহান সৃষ্টিকর্তার মতো রূপারোপ করতে না পারার বিষয়টি মর্মে উপলব্ধি করেন এবং সেই সাথে সেগুলোতে জীবন দান করার অক্ষমতার কথাও ভাবেন। এভাবেই শিল্পীরা তাদের চিত্রকর্মের মাধ্যমে আল্লাহ এবং তার অসীম ক্ষমতার কথা বারবার স্মরণ করেন।

সম্রাট আকবার চিত্রকর্মকে ভাষা হিসেবে গণ্য করতেন। তাই তিনি চিত্রের মাধ্যমে বিষয় উপস্থাপনের প্রতি গুরুত্ব দিয়েছেন। ফলে বিশাল গ্রন্থে অসংখ্য কাহিনী ও বক্তব্য প্রধান চিত্তাকর্ষক চিত্রের সমাহার ঘটেছে। যেমন দাস্তান-ই-আমির হামজা, আকবরনামা প্রভৃতি। বছরের পর বছর ধরে অসংখ্য শিল্পী এসব হস্তলিখিত গ্রন্থ (ম্যানস্ক্রিপ্ট) অলঙ্করণের কাজ করতেন। দাস্তান-ই-আমির হামজার চিত্রাঙ্কনের কাজ সম্পন্ন করতে একদল শিল্পীর সময় লেগেছে ১৫ বছর। হস্তলিখিত এ গ্রন্থে ১৪০০ চিত্রের সমাবেশ ঘটেছে। এসব চিত্রে নানা ধরনের কাহিনী বিধৃত হয়েছে। যেসব চিত্র দর্শনেই স্পষ্ট হয়ে ওঠে কাহিনী বা গল্পের বক্তব্য। আকবরনামার একটি চিত্রের নাম ‘সম্রাট আকবরের হরিণ শিকার’। কোনো এক পাহাড়ি জঙ্গলে সম্রাট আকবর তার পরিবারের সদস্য ও অসংখ্য অনুচরদের নিয়ে হরিণ শিকারে ব্যস্ত। সম্রাটসহ কয়েকজন উচ্চপদস্থ ব্যক্তি ঘোড়ার পিঠে উপবিষ্ট। অনেকেই বন্দুক-বল্লম হাতে হরিণকে তাড়া করছেন। ভীত সন্ত্রস্ত হরিণ সম্মুখ পানে ছুটে চলেছে। কোথাও বা সিংহ হরিণ ভক্ষণে ব্যস্ত। সম্রাট আকবর একটি হরিণকে লক্ষ করে ঘোড়া ছুটিয়ে চলেছেন। হরিণের সঙ্গে জঙ্গলের অন্যান্য ছোট বড় জীবজন্তুও ছুটছে প্রাণ বাঁচাতে। সব মিলে অপূর্ব শিকার দৃশ্যের চিত্র। এ চিত্রে কে কোথায় কী ভূমিকা পালন করছেন তা স্পষ্ট। এ চিত্রের বিষয় অনুধাবন করতে গ্রন্থে লেখা কোনো কাহিনী পড়ার প্রয়োজন পড়ে না। চিত্র দেখেই বোঝা যায়, চিত্র দেখেই অনুধাবন করা যায় ঘটনার পরম্পরা। কারণ প্রতিটি চিত্রে ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র এবং গুরুত্বহীন বিষয়কেও এতটাই গুরুত্ব দিয়ে তুরে ধরা হয়েছে যে, যেকোনো অক্ষর জ্ঞানহীন দর্শকও চিত্রে কী ঘটছে তা স্পষ্টরূপে অনুধাবন করতে সক্ষম হবেন। শিল্পীরা কখনো কোনোরূপ সমস্যা অনুভব না করার কারণেই এতটা সূক্ষ্মভাবে প্রতিটি চিত্র অঙ্কন করতে সক্ষম হয়েছেন। সক্ষম হয়েছেন সম্রাটদের অকৃপণ উদারতার কারণে।

সম্রাট আকবর যে, শুধু ইসলামি চিত্রকলা নিয়েই ভেবেছেন তা নয়, তিনি হিন্দু ধর্ম নিয়েও ভেবেছেন এবং সে বিষয়েও চিত্রাঙ্কনের ব্যবস্থা করেছেন। তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় গ্রন্থ ‘রজম-নামা’ অর্থাৎ মহাভারতের চিত্রাঙ্কনেরও ব্যবস্থা করেছেন। রজম-নামাতে ১৬৯টি দৃষ্টিনন্দন চিত্রের সমাবেশ ঘটেছে। এই গ্রন্থের কাজ সম্পন্ন হয় ১৫৮৯ সালে। শিল্পী দাসোয়ন্তের নেতৃত্বে একদল শিল্পী এ কাজ সম্পন্ন করেন। কাজটি যথাযথভাবে সম্পন্ন করতে সম্রাট আকবর চার লাখ রুপি শিল্পীদের প্রদান করেছিলেন বলে উল্লেখ রয়েছে।

সম্রাট আকবরের আর এক স্মরণীয় কীর্তির নাম ‘আকবর-নামা’। আকবর-নামা মূলত আকবরকে নিয়ে রচিত হস্তলিখিত (ম্যানস্ক্রিপ্ট) গ্রন্থ। গ্রন্থে সম্রাট আকবরের প্রশাস্তি গাওয়া হয়েছে। সম্রাট আকবরের কর্মকাণ্ডের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। বলা যায় সম্রাট আকবরের শাসনকালের পুরো ঘটনা এ গ্রন্থে স্থান পেয়েছে। আর এসব ঘটনার বর্ণনা করতে অসংখ্য শিল্পী অপূর্ব সুন্দর চিত্র এঁকেছেন। এ গ্রন্থে মুঘল সাম্রাজ্যের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করার জন্য সম্রাট আকবর ১৫৭৪ এ এক রেকর্ড অফিস স্থাপন করেন এবং তার দরবারের অভিজ্ঞ প্রবীণ কর্মকর্তাদের তথ্য সংগ্রহের কাজে নিয়োজিত করেন। ঐতিহাসিক পণ্ডিত আবুল ফজল এ গ্রন্থ রচনার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করেন। তিনি এ গ্রন্থের প্রথম অংশ সম্পন্ন করে ১৫৯৬ সালে সম্রাট আকবরের হাতে অর্পণ করেন। সম্রাট আকবর এ গ্রন্থ রচনার সময় নিজেও খোঁজখবর রাখতেন। গ্রন্থের চিত্রগুলো কতটা সম্পন্ন হলো, চিত্রগুলো কেমন হলো, কী হওয়া উচিত, ইত্যাকার বিষয়ে শিল্পীদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দিতেন। পণ্ডিত আবুল ফজল সম্রাট আকবরের পরামর্শ কিংবা দিকনির্দেশনার কতটা বাস্তবায়ন হলো সে বিষয়ে প্রতি সপ্তাহে সম্রাট আকবরকে জানাতেন এবং গ্রন্থের অংশগুলো উপস্থাপন করতেন। এসব তথ্য লাভের পর সম্রাট নিজে এসব বিষয় খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখতেন এবং চিত্রের নান্দনিক বিষয়ে এবং রঙ প্রয়োগের যৌক্তিকতা বিষয়ে পরামর্শ দিতেন। ফলে কাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শিল্পীসহ সবাই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে সব কাজ সম্পন্ন করতেন। সম্রাট আকবর তার সময়কালে ২৪ হাজার ম্যানস্ক্রিপ্ট সংগ্রহ করে একটি গুরুত্বপূর্ণ লাইব্রেরি গড়ে তুলেছিলেন। এসব ম্যানস্ক্রিপ্টের প্রতিটি সুন্দরভাবে লিখিত এবং অলঙ্কৃত ছিল। এসব ম্যানস্ক্রিপ্টের মধ্যে ছিল সম্রাটের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়স্বজন এবং সভাসদদের বিষয়ে বর্ণনামূলক অ্যালবাম। অ্যালবামের চিত্রগুলো চির বাস্তবধর্মী এবং জীবন্ত। চিত্রগুলোতে যৌবনদীপ্ত অভিব্যক্তি এবং নান্দনিক বিষয়কে প্রাধান্য দেয়া হতো। চিত্রের ব্যক্তির শরীরী সৌন্দর্য, উচ্চতা এবং অনুপাতকে গুরুত্ব দিয়ে অঙ্কন করা হতো। মাথার চুল এবং দাড়িও পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে চিত্রিত হতো। যাতে কোনোরূপ অস্বাভাবিকতার কারণে ব্যক্তিবিশেষের চেহারার বিকৃতি না ঘটে। ফলে চিত্রগুলো জীবন্ত ও প্রাণবন্ত। হয়েছে যথাযথ এবং রসসিক্ত।

সম্রাট আকবর স্বর্ণ মুদ্রা প্রবর্তন এবং মুদ্রায় ক্যালিগ্রাফি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও খ্যাতি অর্জন করেছেন। সম্রাট আকবর চিত্রকর্মের ক্ষেত্রে যেমন গুরুত্ব দিয়েছেন, তেমনি গুরুত্ব দিয়েছেন স্বর্ণমুদ্রার ক্ষেত্রেও। এসব মুদ্রা বিভিন্ন আকৃতির হতো। গোলাকার, বর্গাকার, আয়তাকার। এ ছাড়াও এক ধরনের মুদ্রা হতো যাকে মেহরাবি মুদ্রা বলা হয়। মুদ্রা প্রচলনের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল সম্রাটদের নাম অমর করে রাখা। এ জন্য মুদ্রায় সম্রাটদের নাম খোদাই করা থাকত। এ ছাড়া চার খলিফা আবু বকর, ওমর, ওসমান এবং আলীর নামসংবলিত মুদ্রার প্রচলনও ছিল সে সময়। পবিত্র কুরআনের আয়াত অর্থাৎ কালেমার সাহায্যেও সুন্দর ক্যালিগ্রাফি সৃষ্টি করা হতো। কোনো রাজ্য কিংবা দেশ, শহর কিংবা দুর্গ দখল করলেও সেই বিজয় উপলক্ষেও নতুন নতুন মুদ্রার প্রচলন করা হতো। যাতে লতাপাতা-ফুল এবং পাখির চিত্র থাকত। এর অপর প্রান্তে থাকত সন, তারিখ এবং টাঁকশালের নাম। অপূর্ব সুন্দর হতো এসব মুদ্রা।

মাত্র ১৪ বছর বয়সে সিংহাসনে আরোহণকারী সম্রাট আকবর সর্বক্ষেত্রে মুঘল সাম্রাজ্যকে সুদৃঢ় ভিতের ওপর প্রতিষ্ঠা করার কারণে তার পুত্র সম্রাট জাহাঙ্গীরকে মুঘল সাম্রাজ্য পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনোরূপ বেগ পেতে হয়নি। ফলে তিনি শিল্প সংস্কৃতির উন্নয়নে মনোনিবেশ করার যথেষ্ট সময় এবং সুযোগ পেয়েছিলেন। বাবার মতো তিনিও অত্যন্ত শিল্পানুরাগী সম্রাট ছিলেন। ফলে চিত্রকলার উন্নয়নে শিল্পীদের সার্বিক সহযোগিতা দিয়েছেন। সম্রাট জাহাঙ্গীরের সময় তার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় চিত্রকর্ম ইরানের প্রভাবমুক্ত হয়ে পুরোমাত্রায় মুঘল ধারায় রূপান্তরিত হয়। সম্রাট জাহাঙ্গীর ক্যালিগ্রাফি চিত্রের ব্যাপক প্রচলন করেন এবং ইসলামি শিল্পকলারও উন্নয়ন ঘটান।

ম্যানস্ক্রিপ্ট এবং প্রতিকৃতি চিত্রের যেমন উন্নয়ন সাধন করেন, তেমনি দেয়াল চিত্রেরও প্রচলন করেন সম্রাট জাহাঙ্গীর। সম্রাট জাহাঙ্গীর তার প্রাসাদের দেয়ালে শিল্পীদের দ্বারা চিত্রাঙ্কন করিয়েছিলেন। রাজপুত্র হিসেবে জাহাঙ্গীর তার বাবা সম্রাট আকবরের শিল্পীদের ওয়ার্কশপের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ছিলেন বলে বাবার আদর্শে যেমন নিজেকে গড়ে তুলেছেন, তেমনি শিল্পীদের প্রতিও অধিক শ্রদ্ধাশীল হতে পেরেছিলেন। শ্রদ্ধার সঙ্গে তিনি শিল্পীদের মূল্যায়নও করেছেন। তিনি তার ব্যক্তিগত শিল্পী হিসেবে ইরানের শিল্পী আগা রেজাকে নিয়োগ দিয়েছিলেন। তিনি দক্ষ শিল্পীদের পুরস্কৃত বা সম্মানিত করতেন। তুজুক-ই-জাহাঙ্গিরি স্বার্থকভাবে অলঙ্কৃত করার জন্য তিনি শিল্পী আবুল হাসানকে সম্মানিত করেছেন।

বাজপাখি মুঘল সম্রাটদের অতি প্রিয় পাখি। সম্রাট জাহাঙ্গীর এই পাখি খুব পছন্দ করতেন। সম্রাট জাহাঙ্গীর পারস্য দেশ থেকে একটি বাজপাখি সংগ্রহ করেছিলেন। এই বাজপাখির সৌন্দর্যে তিনি মুগ্ধ হয়েছিলেন। তিনি বলেছেন, এই পাখির রঙ এতই মনোমুগ্ধকর, এতই সুন্দর যে, ভাষায় তা প্রকাশ করা যায় না। বাজপাখির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সম্রাট জাহাঙ্গীর তার প্রিয় শিল্পী মনসুরকে সেই বাজপাখির চিত্র আঁকতে বলেন। সম্রাটের নির্দেশ পেয়ে তিনি অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে বাজপাখির চিত্র এঁকেছিলেন। অপূর্ব সুন্দর হয়েছিল। পাখির চিত্রটি ব্রিটিশ মিউজিয়ামে রক্ষিত আছে। শিল্পী মনসুর অসংখ্য পাখির চিত্র এঁকেছেন। কারণ সম্রাট জাহাঙ্গীর পশুপাখি খুব পছন্দ করতেন। তিনি পছন্দ করতেন বলেই শিল্পী মনসুরকে দিয়ে সেগুলোর চিত্র আঁকিয়ে নিতেন। সাদা বক, তুর্কি মোরগ, হরিণসহ বহু চিত্র এঁকেছেন মনসুর এবং এসব চিত্র এঁকে খ্যাতি অর্জন করেছেন।
সম্রাট জাহাঙ্গীরের আমলে তার প্রচেষ্টায় মুঘল শিল্পকলার ব্যাপক উন্নয়ন ঘটে। পৃথিবীময় ছড়িয়ে পড়ে মুঘল শিল্পের সুখ্যাতি। মুঘল সম্রাটদের প্রায় সবাই শিল্পকলার উন্নয়নে কমবেশি সহযোগিতা করেছেন।

]]>
রূপার হাতে বিয়ার… https://sherakantha.com/2017/07/01/%e0%a6%b0%e0%a7%82%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b9%e0%a6%be%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%b0/ Sat, 01 Jul 2017 15:10:25 +0000 http://sherakantha.com/?p=122373 Continue reading রূপার হাতে বিয়ার… →]]> পৃথিবীর সবচেয়ে পিচ্ছিল জিনিসটা বোধহয় মানুষের বমি। সেদিন রাতে প্রচণ্ড বমি করলো রূপা। কেন এমন হচ্ছে হঠাৎ করে-কোনো কিছুতেই হিসেব মিলাতে পারছে না সে। নিজের বমির ওপর পা পিছলে অবস্থা আরো ভয়ানক। রাত বেড়ে ২ টা গড়িয়েছে। এ মুহূর্তে কার সাহায্য চাইবে-সেটাও মাথায় আসছে না।

রূপার বন্ধু মিহির যেহেতু ভোরের আলো না দেখে ঘুমাতে যায় না, তাই ফোনটা মিহিরকেই করলো সে। এত রাতে রূপা সাধারণত কোনোদিন মিহিরকে ফোন করে না। রূপার কণ্ঠস্বর শুনেই বুঝতে পারলো অবস্থা ভালো নয়। পকেটে টাকা নেই মিহিরের যে যাত্রাবাড়ী থেকে সিএনজি ভাড়া করে রূপার কাঁঠালবাগান আসবে সে। পাশের রুমমেটও ঘুমে। বাধ্য হয়ে রুমমেট আরিফের পকেট থেকে ২০৭ টাকা নিয়ে একটা চিরকুট লিখে বাসা থেকে বের হওয়া।

 

গুলিস্তান ফ্লাইওভার পার হতে না হতেই মিহিরেরও বমি শুরু হলো। রূপাকে ফোন করে জানাবে-কিন্তু রূপা তখন ফোন ধরছে না। বাথরুমে বমি করতে করতে অজ্ঞান হয়ে পড়েছে। সেই রাতে কেউ কারো কাছে পৌঁছাতে পারলো না, এই আফসোস নিয়ে খারাপ শরীরেই দুপুরে রূপার বাসায় আসলো মিহির।

৫ তলার সিঁড়ি ভেঙে উঠতে উঠতে জীবনটা বেরিয়ে যাচ্ছিল মিহিরের। তারপরও উঠে যা দেখলো তাতে পিলে চমকে উঠলো তার। বিয়ার হাতে বসে আছে তার প্রিয়তমা বন্ধু রূপা। একা একাই গিলছে, বেশ আরাম করেই গিলছে। সামনে আরো ৩ টা বিয়ারের ক্যান দেখে মুচকি হেসে বললো- এই তাহলে অবস্থা। রাতে আমাকে অযথা প্যারা দিলি কেন? উত্তরে রূপাও হো হো করে হেসে বললো- তুই আমার বন্ধু তো। তাই তোকে জ্বালালাম। আমার কিছুই হয়নি। রাতে বমিও করি নাই।

মিহিরের অসাধারণ অলৌকিক গুণের মধ্যে একটা হলো কেউ মিথ্যা বললে ধরে ফেলতে পারার ক্ষমতা। সেই ক্ষমতাবলে বুঝলো রূপা মিথ্যা বলছে। তারপরও সে কথা বাড়ালো না। একটা বিয়ারের ক্যান ভেঙে চুমুক দিতেই রূপা বললো- আয় চুমু খাই। এভাবে সময় আরো গড়িয়ে যায়। এক সময় এলিয়ে শরীর এলিয়ে পড়ে রূপার। মুখ লুকাতে ইচ্ছে করে মিহিরের লোমশ বুকে। এভাবেই সন্ধ্যা নেমে এলো।

দুজনই স্নান সেরে শাহবাগে যাবে আড্ডা দিতে। রাত ১১ টা পর্যন্ত চলো প্রাণবন্ত আড্ডা। মিহির প্রচুর সিগারেট খায় বলে মাঝে মাঝে দূরত্ব বজায় রেখে গল্প চালাচ্ছিল রূপা। সাথে আরো কয়েকজন বন্ধু যোগ দিয়েছে আড্ডাতে। যখন আড্ডা ভাঙলো-রূপার নেশাও কেটে গেল। আবারো রাস্তার মধ্যেই বমি করতে শুরু করলো সে। এবার মিহির কিছু না বলে পিজি হাসপাতালে নিয়ে যায়।
চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে দিয়ে মোটামুটি সুস্থ করে তুললো রূপাকে। তথন রাত দেড়টা বেজে গেছে। এই সময়ের মধ্যে রূপার দুইটা টেস্টও করানো হয়েছে। রিপোর্ট কাল দেয়া হবে। সকালেই ফিরতে হবে আবার রিপোর্ট নিতে। এদিকে, রূপার বাসায় ফেরার উপায় নেই, নেই মিহিরেরও। এমনি সময় ফকিরাপুলের একটি আবাসিক হোটেলে রাত কাটালো স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে। সেই রাতে ক্লান্ত রূপাকে দেখে আনমনে মিহিরের অনেক প্রশ্ন জেগেছিল। নিজেই প্রশ্ন তৈরি করে আবার সেই প্রশ্নের সমাধান খোঁজার বৃথা চেষ্টাও করে গেল রাতভর। একই বিছানায় পাশাপশি শুয়ে রূপাকে তার বড় বেশি অচেনা মনে হচ্ছে।

মিহির রূপাকে চেনে ৬ মাস হলো মাত্র। এরই মাঝে ঘনিষ্ঠতা, বিশ্বস্ততার জায়গাটা দুজনের কাছেই পোক্ত হয়েছে। শীতের রাতে একটু ভেজা উষ্ণতা পাওয়ার আসায় দুজনই কাছাকাছি এসেছে কয়েকবার গত দু’মাস ধরে। এমন নয় যে, তারা কেউ কারো প্রতি কমিটেড। মিহির কখনো প্রটেকশন ছাড়া রূপার সঙ্গে বিছানায় যায়নি। রূপার প্রতিনিয়ত বমি নিয়ে অনেক প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে মিহিরের মনে। যাক অনেক কথা ভেবে ভেবে রাত ভোর হলো। এবার মিহিরের প্রচণ্ড ঘুম পাচ্ছে। রূপাকে জড়িয়ে ধরে সকাল সাড়ে ১০ টা পর্যন্ত ঘুমালো মিহির।

এরপর সকালের নাস্তা সেরে হাসপাতালে রিপোর্ট নিতে যাবে দুজন। রিপোর্ট নেয়ার সময় রূপা কোনোভাবেই মিহিরকে সাথে নিতে রাজি নয়। এ নিয়ে কথাকাটি যখন চূড়ান্ত পর্যায়ে মিহির চলে গেলো নিজের কাজে। রূপা হাসপাতাল থেকে রিপোর্ট নিয়ে বাসায় ফিরেছে। তার মন বিষণ্ন, ভয়াবহ খারাপ…রূপা আবারো বিয়ারের ক্যান খুলে বসেছে। আজ সে একা একা গিলবে, কাউকে ডাকবে না…
উৎসঃ purboposhchimbd

]]>
শিলার সঙ্গে শাওনের কি আসলেই বন্ধুত্ব ছিল! https://sherakantha.com/2017/07/01/%e0%a6%b6%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%93%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%86%e0%a6%b8%e0%a6%b2/ Sat, 01 Jul 2017 15:08:42 +0000 http://sherakantha.com/?p=122370 Continue reading শিলার সঙ্গে শাওনের কি আসলেই বন্ধুত্ব ছিল! →]]> সংগীতশিল্পী, অভিনেত্রী ও পরিচালক মেহের আফরোজ শাওন-এর আর একটা পরিচয় তিনি নন্দিত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ-এর স্ত্রী। হুমায়ূনকন্যা শিলার সাথে শাওনের বন্ধুত্ব নিয়ে অনেকেই অনেক কথা বলে থাকেন। কিন্তু শাওন বন্ধুত্বের বিষয়টি পুরো গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে মেহের আফরোজ শাওন বলেন, ‘অনেক দিন ধরেই একটি গুজব সচেতনভাবে ছড়ানো হয়েছে আমাদের লোকচক্ষে খাটো করার জন্য। এই ছবিটিও সে ভাবেই সাজানো হয়েছে। দেখানো হয়েছে, হুমায়ূন আহমেদের মেয়ের এক বান্ধবী তাদের বাড়ি আসত। সেখান থেকেই নাকি প্রেম। কি ডাহা মিথ্যা কথা এটা।’

শাওন আরো বলেন, কোন কালেও হুমায়ূনের কন্যার সঙ্গে বন্ধুত্ব দূরস্থান, কোনও পরিচিতিও ছিল না। ‘থাকবেই বা কী করে! আমাদের স্কুল-কলেজ সবই তো আলাদা। পরিচয়ের সূত্রটা তো ছিল গান।’
হুমায়ূন আহমেদ সম্পর্কে শাওন বলেন, রবীন্দ্রসঙ্গীতের অত্যন্ত ভক্ত ছিলেন হুমায়ূন। দিনভর প্রবল পরিশ্রমের মধ্যে সেটাই ছিল তার বড় আশ্রয়ের জায়গা। সেই ক্লাস সিক্স-এ পড়ার সময় থেকেই তো ওনার নাটকে অভিনয়, গান করি। ইউনিটের কেউ যদি গান জানতেন, উনি রিহার্সালের পর তার কাছে শুনতে চাইতেন। সেই ভাবে আমার কাছেও অনেক বার শুনতে চেয়েছেন। আমি খুব চটপট গান তুলে নিতে পারতাম বলে আমার নাম দিয়েছিলেন টেপ রেকর্ডার!’
মানবকণ্ঠ/

]]>
পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে হ্যাপীর বই ‘হ্যাপী থেকে আমাতুল্লাহ’ https://sherakantha.com/2017/07/01/%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%a0%e0%a6%95%e0%a6%aa%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a7%9f%e0%a6%a4%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a7%80%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%b7%e0%a7%87-%e0%a6%b9%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be/ Sat, 01 Jul 2017 15:06:13 +0000 http://sherakantha.com/?p=122367 Continue reading পাঠকপ্রিয়তার শীর্ষে হ্যাপীর বই ‘হ্যাপী থেকে আমাতুল্লাহ’ →]]> এটি হ্যাপীর কোন মিউজিক ভিডিও নয়, নয় কোন চলচ্চিত্রও। তবুও জনপ্রিয়তার শীর্ষে চলে এসেছে হ্যাপির জীবনধর্মী বই ‘হ্যাপী থেকে আমাতুল্লাহ’। গতকাল শনিবার বইটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই একদিনেই পাঠক চাহিদা হাজার ছাড়িয়ে গেছে এমনটাই জানালেন বইটির প্রকাশক মাওলানা উবায়েদুল্লাহ।

একসময়ের আলোচিত চিত্র নায়িকা নাজনীন আক্তার হ্যাপীর বর্তমান সংস্করণ নাম আমাতুল্লাহ। সংস্কার হয়েছে তার জীবনবাঁকেও। জীবনের এমন সংস্কারের গল্পই বলে গেছেন নাজনীন আক্তার হ্যাপী। জীবনের কালো অধ্যায় থেকে কীভাবে আলোর পথে ফিরে এলেন এমন গল্পই বলে গেছেন তিনি। সাক্ষাৎকারধর্মী বইটির লেখক সাদিকা সুলতানা সাকী।
কী আছে ‘হ্যাপি থেকে আমাতুল্লাহ’ বইটিতে? এমন প্রশ্নের উত্তর পেতে বইটির ‘সম্পাদকের কথায়’ বলা হয়েছে, ‘নাজনীন আক্তার হ্যাপি। এই তো কিছু দিন আগেও তিনি ছিলেন সময়ের জনপ্রিয় নায়িকা। অর্থ, গ্ল্যামার, জনপ্রিয়তা, শোবিজ জগতে অবস্থান- সবই ছিলো তাঁর। কিন্তু সে-সব ছেড়ে এখন তিনি আপদমস্তক পর্দাবৃত দ্বীনদার মুসলিম নারী। সিনেমার কৃত্রিম নিয়ন আলোর জগত ছেড়ে চলে এসেছেন হিদায়াতের আলোকিত ভুবনে। পড়াশুনা করছেন মাদরাসায়। যাচ্ছেন দাওয়াত ও তাবলীগের মেহনতে। নিজে যেমন দ্বীনের ওপর উঠে এসেছেন, তেমনই অন্যকেও দ্বীনের পথে ডেকে যাচ্ছেন নিরন্তর। এমনকি এতোদিনের সুপরিচিত নাম ‘হ্যাপি’ ছেড়ে এখন তিনি নিজের পরিচয় দিচ্ছেন ‘আমাতুল্লাহ’। কীভাবে হলো এতো বড় পরিবর্তন? তাঁর জীবনে আলোর এমন উদ্ভাসিত ঝলক কোত্থেকে এলো? কীভাবে তিনি ‘হ্যাপি’ থেকে ‘আমাতুল্লাহ’ হলেন? সেলুলয়েডের তীব্র আকর্ষণ উপেক্ষা করে কীভাবে তিনি চলে এলেন মাদরাসার অন্দরমহলে? তাঁর হিদায়াতের রাজপথে উঠে আসার সরু পথ কি ফুলের মতো কোমল ছিলো? না-কি তাকে মাড়াতে হয়েছে অবর্ণনীয় কষ্ট, উপেক্ষা ও নির্যাতনের কণ্টকাকীর্ণ পথ। জীবনের এই আকস্মিক পটপরিবর্তনের ক্ষেত্রে তাকে কি শুধু নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করতে হয়েছে? না-কি লড়তে হয়েছে এতোদিনের চেনা মুখ আর সুপরিচিত স্বজনদের সঙ্গেও? এমন কিছু প্রশ্ন নিয়ে আমরা মুখোমুখি হয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে। তিনি আমাদের কাছে বলেছেন তাঁর জীবনের আদ্যোপান্ত। শৈশব, তারুণ্য, দাম্পত্য জীবন থেকে শুরু করে জীবনের সুখ-দুখের কথাগুলো তিনি অকপটে আলোচনা করেছেন। তিনি যেমন তাঁর স্বপ্নের কথা বলেছেন, তেমনই বলেছেন স্বপ্নভঙ্গের ব্যথাভরা অনুভূতির কথাও। সত্যি বলছি, আমাদের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় যখন তিনি তাঁর জীবনের সেই বেদনাবিধুর উপাখ্যান বলছিলেন, আমরা আমাদের চোখের অশ্রু ধরে রাখতে পারিনি। হিদায়াতের পথে তাঁর পা পিছলে পড়া, আবার উঠে দাঁড়ানোর সংগ্রামের অশ্রুভেজা কথাগুলো শুনে আমাদের চোখ থেকেও টপটপ অশ্রু ঝরেছে। খুব কষ্টে নিজেদেরকে সামলে নিয়ে সাক্ষাৎকার সম্পন্ন করতে হয়েছে।’
নাজনীন আক্তার হ্যাপীকে নিয়ে বই লেখার প্রয়োজন কেন মনে করলেন এমন প্রশ্নের উত্তরে সাক্ষাৎকারধর্মী বইটির লেখক সাদিকা সুলতানা সাকী এ প্রতিবেদককে জানান, ‘আমি অনেক দিন ধরে আমাতুল্লাহ (নাজনীন আক্তার হ্যাপী) কে পর্যবেক্ষণ করে আসছি। তাঁর জীবনের দু-দিক লক্ষ্য করছি। দীর্ঘ দিনের পর্যবেক্ষণে মনে হলো, এটি কোনো কাল্পনিক চরিত্র নয়। আমাদের সমাজেরই একটি শক্তিশালী চরিত্র। একজন হ্যাপীর মাঝে আমি আমার আশপাশেরঅনেক বোনের জীবনের প্রতিচ্ছবি দেখেছি।
আমার কাছে মনে হয়েছে, এ সমাজে ‘হ্যাপী’ হওয়াটা খুব সহজ। কিন্তু ‘আমাতুল্লাহ’ হওয়াটা অনেক কঠিন। এই কঠিন কাজটাই আমার বোন ‘আমাতুল্লাহ’ করেছেন। তখন আগ্রহ জন্মালো, কীভাবে তিনি ‘হ্যাপী’ থেকে ‘আমাতুল্লাহ’ হলেন, তা যেমন আমার জানা দরকার, তেমনই অন্যদের জানানো প্রয়োজন। সে প্রয়োজনীয়তা সামনে রেখেই আমি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করতে উদ্বুদ্ধ হই।
বইটির প্রকাশক মাওলানা ওবায়দুল্লাহ জানান, অনেক ভাল মানের বই ইতোপূর্বে আমরা প্রকাশ করেছি। তবে এ বইটি প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এতটা পাঠকপ্রিয়তা পাবে আমাদের ভাবনার বাইরে ছিল। মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া থেকেও অর্ডার এসেছে। প্রথমদিনেই ছাপানো সব বই শেষ হয়ে গেছে। যারা ইসলামিক বই পড়তে অভ্যস্ত নয়, তারাও আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন, বইটির ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
যধঢ়ঢ়ু (২)এ ছাড়া দেশের শীর্ষ কয়েকজন আলেমদের কাছেও তিনি বইটি উপহার হিসাবে পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

]]>
ঈদ বানান তো ঈদ-ই আছে : শামসুজ্জামান খান https://sherakantha.com/2017/07/01/%e0%a6%88%e0%a6%a6-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%a8-%e0%a6%a4%e0%a7%8b-%e0%a6%88%e0%a6%a6-%e0%a6%87-%e0%a6%86%e0%a6%9b%e0%a7%87-%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a6%b8%e0%a7%81%e0%a6%9c/ Sat, 01 Jul 2017 15:04:48 +0000 http://sherakantha.com/?p=122364 Continue reading ঈদ বানান তো ঈদ-ই আছে : শামসুজ্জামান খান →]]> ঈদ বানান ‘ঈ’ দিয়ে হবে নাকি ‘ই’ দিয়ে হবে তা নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। দেশের গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঝড় বইছে বিষয়টি নিয়ে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ‘ঈদ’ বানান বিতর্ক নিয়ে কথা হয় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানের সঙ্গে। তিনি বললেন ‘বানান তো ঠিকই আছে।’ পরিবর্তন ডটকমকে শামসুজ্জামান খান বলেন,‘আমাদের অভিধান দেখেন এখানে ঈদের বানান কি কি আছে? আধুনিক বাংলা অভিধান দেখেন সেখানে ঈদের বানান ‘ঈ’ দিয়েই লেখা আছে। আর বিকল্প বানান ‘ই’ দিয়ে আছে। এখানে দুটো বানানই আছে এবং প্রথম বানান ঈদ আছে।’
তিনি আরও বলেন,‘কিছু লোক চায় খামোখা বিতর্ক হোক। নানা লোক নানা মত দিয়ে যন্ত্রণা তৈরি করে। হঠাৎ করেই কেন বিতর্ক তৈরি করে তারা। তাদের উদ্দেশ্য কি আমি জানি না, না দেখে কথা না বলে ডিকশনারি দেখেন বানান ঠিকই আছে।’

গত কয়েকদিন ধরে কবি, সাহিত্যিক, শিল্পীসহ অনেকেই সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনা করছেন ‘ঈদ’ নিয়ে। কবি আবু হাসান শাহরিয়ার তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘বাংলা একাডেমি বানানরীতির বিস্তর সংস্কার এনেছে অভিধানে। তারই একটি– ‘ঈদ’ নয়, ‘ইদ’। সব ফেলে শুধু ইদ নিয়ে মাতামাতি কেন? ধর্মের গন্ধ আছে বলে? যোগ্যতা থাকলে পুরো বানান সংস্কার নিয়ে কথা বলুন, নইলে পণ্ডপাণ্ডিত্য প্রদর্শন না করে চুপ থাকুন। মোল্লার দৌড় মসজিদ পর্যন্ত।’
প্রখ্যাত সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুল লিখেছেন ‘(সবাই লিখছে, আমিও লিখলাম) (ঈ) অক্ষরটি এমন কি অপরাধ করেছে যে তাকে সরিয়ে দিয়ে (ই) অক্ষরটিকে (ঈদ) শব্দে বসানো হয়েছে! তার মানে কি আমাদের শত শত বছরের লেখা পড়ায় ভুল ছিল? কিছু তো একটা কারণ নিশ্চয় আছে। কি কারণ, জানতে পারি কি, বাংলা + Academy? বাহ, এই নামটিও দেখছি অর্ধেক ইংরেজি অর্ধেক বাংলা!’
বাংলা একাডেমির ‘আধুনিক বাংলা অভিধানে’ ‘ঈদ’ শব্দটির ভুক্তি রয়েছে দুটি। এর মধ্যে একটি লেখা হয়েছে ‘ঈ’ ব্যবহার করে, অন্যটি ‘ই’ব্যবহার করে। তবে বাংলা একাডেমি থেকে প্রকাশিত জামিল চৌধুরী সম্পাদিত ‘আধুনিক বাংলা অভিধানে’ ঈদের বিকল্প বানান ‘ইদ’ প্রস্তাব করা হয়েছে। এ নিয়ে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
উৎসঃ পরিবর্তন

]]>
টাকার ওপর কাকা’র নজর, কাকা আমার ‘মাল’ https://sherakantha.com/2017/07/01/%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%93%e0%a6%aa%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%a8%e0%a6%9c%e0%a6%b0-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%95%e0%a6%be/ Sat, 01 Jul 2017 15:02:48 +0000 http://sherakantha.com/?p=122360 Continue reading টাকার ওপর কাকা’র নজর, কাকা আমার ‘মাল’ →]]> সালেম সুলেরী

০১. টাকার ওপর কাকা’র নজর

টাকার ওপর কাকা’র নজর, কাকা আমার ‘মাল’,
জনগণের কষ্ট-পুঁজির ওপর ঝাড়েন ঝাল।
একশ টাকায় আটটি টাকা,
ব্যাংকে থেকেই হবে ফাঁকা-
কাকা আমার অর্থ-উজির, ব্যর্থ বেসামাল!
টাকার ওপর কাকা’র নজর’, কাকা আমার ‘মাল’!
০২. করের টোপর
খুঁজছি কেনো বালিশ-তোষক, গাল-পাড়ি দেয় নিন্দুকে,
মাটির গড়া ব্যাংকে এবং আগ্রহ আজ সিন্ধুকে।
ব্যাংকে রাখা টাকার ওপর,
বসিয়ে দিলে করের টোপর-
সবাই রেগে তুললে টাকা- ব্যাংক কাটাবে দিন দুখে!
খুঁজছি কেনো বালিশ-তোষক, গাল-পাড়ি দেয় নিন্দুকে!
০৩. বিত্তে বিপদ
ব্যাংকে আমার বৈধ টাকা রাখবো নিজের দরকারে,
ঐ টাকা-ধন ধরবি কেনো ‘হাওয়া পাওয়া’ সরকারে?
টাকাতো নয় হাওয়ায় পাওয়া,
ছিনতাই বা ঘুষের খাওয়া!
জমিয়ে রাখা বিত্তে বিপদ, মারবো ক্ষোভের চড় কারে?
ব্যাংকে আমার বৈধ টাকা রাখবো নিজের দরকারে।
০৪. ঈদে-পুজোয়
ব্যাংকে কেনো রাখিস টাকা, দে ‘তাহাদের’ চাঁদা দে,
কালো টাকা অনেক পেলো, এবার তাদের ‘সাদা’ দে।
ঢালবি টাকা বাজারে,
যা দিতে হয় যা যারে,
ঈদে-পুজো’য় নেতাজী’কে দে উপহার ‘গাধা- দে?’
ব্যাংকে কেনো রাখিস টাকা, দে ‘তাহাদের’ চাঁদা দে।
০৫. সূচক এখন
এতিম নাকি ফকির হলো অর্থনীতি খাত?
করের নামে ‘যাকাত’ তোলা সারনী-সম্পাত।
ভ্যাট-ভরসায় স্বপ্নবিলাস,
সাধারণের যত্ন-বিনাশ,
অর্থনীতির স্বপ্ন-সূচক ধরা’য় ধুলিস্মাৎ।
এতিম নাকি ফকির হলো অর্থনীতির খাত?
উৎসঃ পূর্বপশ্চিম

]]>