কৃষি – Sherakantha-সেরা কণ্ঠ https://sherakantha.com Just another WordPress site Sun, 16 Jul 2023 13:45:13 +0000 en-US hourly 1 https://wordpress.org/?v=6.9.4 দেশী মুরগির দ্রুত বর্ধনশীল নতুন জাত https://sherakantha.com/2023/07/16/%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b6%e0%a7%80-%e0%a6%ae%e0%a7%81%e0%a6%b0%e0%a6%97%e0%a6%bf%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a7%81%e0%a6%a4-%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a7%e0%a6%a8%e0%a6%b6-2/ Sun, 16 Jul 2023 11:33:49 +0000 https://sherakantha.com/?p=131549 Continue reading দেশী মুরগির দ্রুত বর্ধনশীল নতুন জাত →]]>

বাংলাদেশে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট একটি নতুন দেশীয় জাতের মুরগি উদ্ভাবন করে এখন পরীক্ষামূলকভাবে বাজারজাত করার কাজ শুরু করেছে।গবেষণাগারে উদ্ভাবিত এই মুরগির পালক বহুবর্ণ হওয়ার কারণে এর নাম দেয়া হয়েছে ‘মাল্টি কালার টেবিল চিকেন’প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের পোল্ট্রি উৎপাদন বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা শাকিলা ফারুক বিবিসিকে বলেছেন, নতুন এই জাত মূলত গোশতের জাত। এটি দ্রুত পরিপূর্ণ আকার ধারণ করে, অর্থাৎ খাওয়ার উপযোগী হয়।তিনি বলেছেন, ‘উদ্ভাবিত হয়েছে দেশে মুরগির গোশতের চাহিদাকে মাথায় রেখে। এই মুরগি আট সপ্তাহ মানে ৫৬ দিনের মধ্যে খাওয়ার উপযোগী হবে।’

মাল্টি কালার টেবিল চিকেনের বৈশিষ্ট্য
প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউটের শাকিলা ফারুক বলেছেন, এ মুরগি মূলত দেশে গোশতের চাহিদা পূরণের উদ্দেশ্য নিয়ে উদ্ভাবন করা হয়েছে।‘মাল্টি কালার টেবিল চিকেন খুব দ্রুত বাড়ে। এটি গোশত খাওয়ার জন্য উৎপাদন করা হবে, ডিমের জন্য ব্যবহার করা হবে না। আট সপ্তাহের মধ্যে এর ওজন ৯৫০ গ্রাম থেকে এক কেজির মতো ওজন হয়।’

কিন্তু এর স্বাদ এবং গোশতের গুণাগুণ দেশী মুরগির মতোই।মুরগির শারীরিক গঠন, ঠোট ও ঝুঁটি দেশী মুরগির মতো, এর পালকও অনেক রঙের হয়।এই মুরগি দেখতে দেশীয় জাতের মুরগির মতো। এই মুরগিকে দেশীয় ব্রয়লার বলে থাকেন কেউ কেউ।প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট ২০১৪ সালে প্রথম নতুন মুরগির এ জাত নিয়ে গবেষণা শুরু করে।২০১৮ সালে গবেষণাগারে সাফল্যের পর মাঠ পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন শুরু করা হয়।প্রাথমিক অবস্থায় খুলনা, বরিশাল এবং পাবনায় পরীক্ষামূলকভাবে উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়েছে।এখন খুব অল্প পরিসরে মাল্টি কালার টেবিল চিকেন উৎপাদন করা হচ্ছে।শাকিলা ফারুক জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে চারটি সরকারি এবং দুইটি বেসরকারি খামারে নতুন জাতের মুরগি উৎপাদন করা হচ্ছে।এর মধ্যে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে পরীক্ষামূলকভাবে বাজারজাত করার জন্য আফতাব বহুমুখী ফার্মসের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট।এই প্রতিষ্ঠানটির সাথে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট এখনো যৌথ গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছে।নতুন জাত উদ্ভাবনে বিদেশী জাত এবং দেশীয় কয়েক জাতের মুরগির জার্মপ্লাজম মিলিয়ে করা হয়েছে।মাল্টি কালার টেবিল চিকেন বাংলাদেশের আবহাওয়ার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।এ মুরগির মৃত্যু হার অনেক কম।শাকিলা ফারুক বলেছেন, এখনো পর্যন্ত গবেষণায় দেখা গেছে আট সপ্তাহ বয়স পর্যন্ত মাল্টি কালার টেবিল চিকেনের মৃত্যুহার ২ শতাংশের নিচে।

ব্রয়লার ও অন্যান্য মুরগির সাথে ফারাক
বাংলাদেশে গত এক দশকে মুরগির চাহিদা এবং ব্যবহার অনেকগুন বেড়েছে। এর মধ্যে ব্রয়লার মুরগি যেমন রয়েছে, তেমনি দেশী মুরগি, সোনালী মুরগি, যা পাকিস্তানি মুরগি নামেও পরিচিত এগুলো বেশ জনপ্রিয়।এই মুরগিগুলোর মাঝে বেশ কিছু পার্থক্য রয়েছে।ব্রয়লার মুরগি ২৮-৩২ দিনে খাওয়ার উপযোগী হয়, অর্থাৎ ওই সময়ের মধ্যে ব্রয়লার মুরগির ওজন এক থেকে দেড় কেজি হয়।সোনালি মুরগির এক কেজি ওজনে পৌঁছাতে সময় লাগে ৭০-৮০ দিন।

কিন্তু মাল্টি কালার টেবিল চিকেন বাজারজাত করতে অন্তত আট সপ্তাহ সময় প্রয়োজন হবে।ব্রয়লার মুরগির গোশত ও হাড় নরম হয়, কিন্তু মাল্টি কালার টেবিল চিকেনের গোশত ও হাড় দেশী মুরগির মতো শক্ত।

ব্রয়লার মুরগি পালনে বড় জায়গা, নিয়ন্ত্রিত তাপমাত্রা এবং আলো-বাতাসের দরকার হয়, কিন্তু এ মুরগি পালনের ক্ষেত্রে দেশী জাতের মুরগির মতো খোলা জায়গায় পালন করা যায়।প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট বলছে, এই মুরগি লালনপালন সহজ, ফলে প্রান্তিক খামারীদের জন্য এটি পালন সহজ হবে এবং ফলে আর্থিকভাবে লাভবান হবার সুযোগ বেশি থাকবে।

প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট বাংলাদেশে মুরগির বেশ কয়েকটি জাত উদ্ভাবন নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে।এর মধ্যে ডিম পাড়া দুটি নতুন জাতের মুরগি- স্বর্ণা এবং শুভ্রা, উদ্ভাবন করেছে প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইন্সটিটিউট।এই মুহূর্তে কমন দেশী, গলা ছিলা এবং হিলি বা পাহাড়ি জাতের তিনটি মুরগির জাত উন্নয়নের কাজ চলছে।

সূত্র : বিবিসি

]]>
ঝিনাইদহে গমের পরিবর্তে ভুট্টা চাষ https://sherakantha.com/2020/04/02/%e0%a6%9d%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%a6%e0%a6%b9%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%ad-2/ Thu, 02 Apr 2020 13:35:10 +0000 http://sherakantha.com/?p=130065 Continue reading ঝিনাইদহে গমের পরিবর্তে ভুট্টা চাষ →]]> এ বছর গমের পরিবর্তে ভুট্টা চাষ করেছেন ঝিনাইদহের কৃষক। গত কয়েক বছর ধরে গম ক্ষেতে হুইট ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়ায় এ বছর আর গম চাষ করেন নি তারা । কৃষকের দাবি ভুট্টার ন্যায্য দাম।

এখন চলছে ভুট্টার মৌসুম। ঝিনাইদহ জেলার কৃষক রাত দিন ব্যস্ত ভুট্টা কাটা, মাড়াই, শুকানো ও ঘরে তোলার কাজে । অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখের পর থেকেই ভুট্টার বীজ বপন শুরু করেন কৃষক। আর মে মাসের মাঝামাঝি শুরু হয় ভুট্টা কাটা।

এ অঞ্চলে সুপার সাইন, এলিট, উত্তরোণসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের ভুট্টা চাষ হয়েছে বেশি। এ পর্যন্ত বিঘায় ফলন পাওয়া গেছে ৫০ থেকে ৬০ মণ। প্রকারভেদে প্রতি মণ ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে ছয়শ’ ৫০ থেকে সাতশ’ টাকায়।

ইতোমধ্যে ৮০ ভাগ জমির ভুট্টা কাটা শেষ হয়েছে। এবার হেক্টর প্রতি ১০ টনেরও বেশি ফলনের আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

এবার জেলায় ১২ হাজার ছয়শ’ ৪০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছে ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগ।

]]>
বারো মাসে চায়না লেবু চাষ করে বেকার যুবক আর্থিক ভাবে সাবলম্বী https://sherakantha.com/2017/08/25/%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8b-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b8%e0%a7%87-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a7%9f%e0%a6%a8%e0%a6%be-%e0%a6%b2%e0%a7%87%e0%a6%ac%e0%a7%81-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b7-%e0%a6%95/ Fri, 25 Aug 2017 05:55:58 +0000 http://sherakantha.com/?p=123251 Continue reading বারো মাসে চায়না লেবু চাষ করে বেকার যুবক আর্থিক ভাবে সাবলম্বী →]]> কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে” এই স্লোগানকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার আন্দুলবাড়ীয়া ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের কুলতলা গ্রামের মাঝের পাড়ার প্রান্তিক চাষী মোঃ গোলাম বিশ্বাসের সু-যোগ্য পুত্র তরুন বেকার যুবক আব্দুল আলীম প্রাকৃতিক ভাবে অত্যাধুনিক পদ্ধতিতে চায়না লেবুর চাষ করে আর্থিক ভাবে সাবলম্বী হয়েছেন ।

জানা গেছে ,তিনি গত বছর বাড়ীর পার্শ্ববতী কুলতলা মাঠে নিজেস্ব ১ বিঘা’ জমিতে চায়না লেবু চাষ করেন। ৮ হাত দূরত্বে ৮ হাত। ১ শত ১ টি লেবু গাছ আছে। প্রতিটি লেবু গাছ থেকে সর্বোচ্চ ১ হাজার পিচ লেবু পাওয়া যায়। যার ১ হাজার লেবুর আনুমানিক মূল্য মূল্য ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা । ১বিঘা জমিতে ১ বছরে খরচ হয়েছে মাত্র ৮ হাজার টাকা। এ বাগান থেকে ১ বছরে সর্বমোট ৬ লাখ টাকা আয় করে। ১ বিঘা জমিতের অল্প খরচে বেশি বা অধিক লাভ হওয়ার এ খবর শুনে বিভিন্ন এলাকার চাষীরা লেবু বাগান সরেজমিন পরিদর্শন বা ক্ষেত দেখতে ছুটে আসেন । এলাকায় লেবু চাষ দিন-দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। চায়না লেবুর চাষে বাম্পার ফলন হওয়ায় চাষী আব্দুল আলীমের চোখে মুখে আনন্দের হাসি ফুটে উঠেছে।সরকারী সহযোগীতা পেলে জীবননগর উপজেলায় ব্যাপক ভাবে লেবু চাষে আগ্রহী হবে।

]]>
সংগ্রহের পর শাক-সবজি সংরক্ষণে করণীয় : ড. মো: বাশারত আলী সরকার https://sherakantha.com/2017/07/02/%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%97%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0-%e0%a6%b6%e0%a6%be%e0%a6%95-%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%9c%e0%a6%bf-%e0%a6%b8%e0%a6%82%e0%a6%b0%e0%a6%95/ Sun, 02 Jul 2017 05:41:15 +0000 http://sherakantha.com/?p=122469 Continue reading সংগ্রহের পর শাক-সবজি সংরক্ষণে করণীয় : ড. মো: বাশারত আলী সরকার →]]> সুস্বাদু খাবার পছন্দ করে না এমন মানুষ খু্ঁজে পাওয়া ভার। স্বাদে গন্ধে পুষ্টিতে দৃষ্টিতে আকর্ষণীয় যদি হয় সে খাদ্য সম্ভার। সামর্থ অনুযায়ী ভোজন বিলাসী সব মানুষই। নির্ভেজাল পুষ্টিকর পরিমিত খাদ্য খেয়ে সুস্থ থাকতে চাই সবাই। তবে, পুষ্টি সমৃদ্ধ সতেজ নির্ভেজাল শাক-সবজি, ফলমূল বাজারে মেলেই না আজকাল। আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে গেছে সে সব দিনকাল যখন, সতেজ পুষ্টিকর শাক-সবজি ফলমূল সবই ছিল একদম নির্ভেজাল।

আজকাল এসব কাঁচা দ্রব্যাদির জন্য অধিকাংশ মানুষকেই হতে হচ্ছে বাজারের উপর নির্ভরশীল। কোথায় পাবো আগের মতো জমি থেকে সদ্য উঠানো সবজি-ফলমূল? ত্রুটিপূর্ণ উপায়ে সংরক্ষণ করার কারণে পুষ্টিমান ও গুণাগুণ হারিয়ে এসব মূল্যবান শাক-সবজি ও ফল, খাদ্য হিসেবে হয়ে যেতে পারে পুরোটাই বিফল।

আমাদের জনসংখ্যা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে বেশ কয়েক গুণ। চাষের জমি কমেছে। খাদ্য চাহিদা বেড়েছে। তারপরও আল্লাহর রহমতে উন্নত কৃষি বিজ্ঞানের বাস্তব প্রয়োগে অল্প জমিতেই ফসলের ফলন বৃদ্ধি পেয়েছে বহুগুণ। তবে সব ফসলের ফলন আমরা সমানভানে বাড়াতে পারিনি। বিশেষ করে ফলমূল শাক-সবজির উৎপাদন আমাদের চাহিদা-ঘোড়ার সঙ্গে তাল মিলিয়ে বৃদ্ধি পায়নি। একদিকে জনসংখ্যা বৃদ্ধি অপরদিকে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে ঘরবাড়ি, রাস্তাঘাট, বিদ্যালয়, কারখানা ইত্যাদি তৈরির ফলে চাষাবাদের জমি কমে যাচ্ছে। অবস্থার প্রেক্ষিতেই মানুষের পেশাও পরিবর্তিত হচ্ছে। গ্রাম ছেড়ে অনেক মানুষ শহরের পানে ছুটছে। শহরে বসবাসকারী এবং ভূমিহীন গ্রামবাসী তাদের শাক-সবজি, ফলমূলের জন্য কাঁচা বাজারের উপর নির্ভরশীল। পচনশীল এসব খাদ্যদ্রব্য গ্রাম থেকে শহরে পৌঁছতে নানান ধকল সামলাতে হয়। ইদানিং যে বিষয়টি স্বাস্থ্যের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে তা হলো শাক-সবজি ফলমূল, রোগ পোকা মাকড় মূক্ত রাখার জন্য কোন কোন চাষী বা ব্যবসায়ী নির্বিচারে বিষাক্ত কীটনাশক বা রোগনাশকের ব্যবহার এবং পচনশীল শাক-সবজি, ফলমূল দীর্ঘদিন গ্রাহকের দৃষ্টিতে সতেজ দেখানোর প্রয়াসে নানান ধরনের রাসায়নিক দ্রব্যাদির ব্যবহার। আমাদেরকে অবশ্যই এসব বিষয়ে সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।

জমি থেকে তথা গাছ থেকে শাক-সবজি, ফলমূল সংগ্রহ করার পর এসব পচনশীল খাদ্য দ্রব্যের পুষ্টিমান ও গুণাগুণ ক্রমান্বয়ে হ্রাস পেতে থাকে। সদ্য সংগৃহীত এসব পচনশীল দ্রব্যের গুনাগুণের ক্রম অবনতি রোধ কল্পে আমাদের করণীয় কি সে বিষয়ে এখানে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো।

সতেজ শাক-সবজি, ফলমূল সংগ্রহের পর তার অভ্যন্তরে কি ঘটে?
আমরা জানি শাক-সবজি ফলমূল ইত্যাদি সংগ্রহের পর পরই গাছ থেকে এদের খাদ্য বা পুষ্টি উপাদান গ্রহণ বন্ধ হয়ে য়ায়। অর্থাৎ সংগ্রহের সময় ফলমূল শাক-সবজিতে যে পরিমাণ পুষ্টি উপাদান থাকে সেটিই সর্বোচ্চ। ফসল সংগ্রহের পর এ পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ আর বৃদ্ধি পায় না। উপরন্তু ক্রমেই তা কমতে থাকে। কি হারে পুষ্টি উপাদানের পরিমাণ ও খাদ্যোপযোগী গুণাগুণ কমবে তা বিভিন্ন ফ্যাক্টরের উপর নির্ভরশীল। আমাদের মনে রাখতে হবে, গাছ থেকে ফলমূল শাক-সবজি সংগ্রহের পরও ওদের কোষগুলো জীবন্ত থাকে। অর্থাৎ এসব সতেজ দ্রব্যের শ্বাস-প্রশ্বাসের কাজ তখনও চলতে থাকে। আমরা জানি শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জীবকোষ তার খাদ্য উপাদান তথা কার্বোহাইড্রেড ভেঙে কার্বোনডাই-অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প তৈরি করে এবং এনার্জি পেয়ে থাকে। এই এনার্জি কাজে লাগিয়ে জীবকোষগুলো বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে। লক্ষণীয় যে, শ্বাস- প্রশ্বাসের ফলে আমাদের সতেজ খাদ্য দ্রব্যগুলো তার অভ্যন্তরীণ উপাদান হারিয়ে ফেলে, ফলে ওজন ও গুণাগুণ হ্রাস পায়।

মাঠ থেকে তথা গাছ থেকে সংগ্রহের পর পচনশীল এসব সামগ্রী নানান ভাবে গুণাগুণ হারাতে থাকে। যেমন: কার্বোন ডাই- অক্সাইড সৃষ্টির ফলে কার্বোহাইড্রেড হ্রাস পাওয়া, জলীয় পদার্থের হ্রাস, তাপের কারণে ক্ষত হওয়া, ফসল সংগ্রহ ও স্থানান্তরের সময় আঘাৎজনিত ক্ষত হওয়া, দাগ পড়া, পোকায় খাওয়া, রোগ-জীবাণুর আক্রমণের ফলে পঁচে যাওয়া ইত্যাদি। বাতাসের আর্দ্রতা, গ্যাসীয় উপাদান, তাপমাত্রা ইত্যাদি এসব ক্ষয় ক্ষতির প্রভাবক হিসেবে কাজ করে।
উপযুক্ত পরিপক্ক অবস্থায় অনুকূল পরিবেশে ফসল সংগ্রহ করলে তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় সে ফসল ঘরে সংরক্ষণ করা যায়। অতি কচি বা অধিক পরিপক্ক অবস্থায় এসব ফসল সংগ্রহ করলে সংরক্ষণের গুণাগুণ লোপ পায় ফলে সংরক্ষণকাল দীর্ঘায়িত করা সম্ভব হয় না।

শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া ও ইথাইলিন গ্যাসের প্রভাব
শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া : ফসল সংগ্রহের পরও শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়া চলতে থাকে। শুষ্ক ফসল যেমন ধান, গম ইত্যাদির তুলনায় শাক-সবজি, ফলমূল জাতীয় সতেজ ফসলের শাস প্রশ্বাসের হার অনেক বেশি। আগেই উল্লেখ করা হয়েছে যে, শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়ায় আমাদের সতেজ শাক-সবজি, ফলমূল বাতাস থেকে অক্সিজেন গ্রহণ করে এবং কার্বোহাইড্রেড ভেঙে কার্বন ডাই-অক্সাইড ও জলীয় বাষ্প নির্গত হয়। ফলে এসব দ্রব্যের সতেজতা হারিয়ে শুকিয়ে যায়, ওজন কমে, মিষ্টতা কমে, মচমচে ভাব হ্রাস পায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে এবং গ্রাহক চাহিদা প্রায় থাকেই না। শ্বাস-প্রশ্বাস হারের সঙ্গে সমান্তরাল হারে এসব দ্রব্যের গুণাগুণ হ্রাস পেতে থাকে। গাছ থেকে সংগ্রহের পর, নন-ক্লাইম্যাক্ট্রিক ফল এবং গাছের Storage organ (গাছের যেসব অঙ্গ খাদ্য মজুদ করে রাখে যেমন- গোল আলু, মিষ্টি আলু ইত্যাদি) এর শ্বাস-প্রশ্বাসের হার ধীর গতিতে কমতে থাকে। অপরপক্ষে কাঁচা ফল ও সতেজ শাক-সবজি’র শ্বাস-প্রশ্বাসের হার (গাছ থেকে সংগ্রহের পর) দ্রুত গতিতে কমতে থাকে। কারণ, এসব দ্রব্যে শ্বাস-প্রশ্বাস ক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার মতো উপাদান (কার্বোহাইড্রেড)-এর মজুদ কম থাকে, যা দ্রুত নি:শেষ হয়ে যায়। অতএব, এসব দ্রব্যের Shelf life বা সংরক্ষণ কাল দীর্ঘ করার একটি প্রধান উপায় হলো সংগ্রহের পর এদের শ্বাস-প্রশ্বাস প্রক্রিয়ার হার কমানোর ব্যবস্থা করা।
শ্বাস-প্রশ্বাসের হার পারিপার্শিক কতকগুলো ফ্যাক্টরের উপর নির্ভরশীল। সাধারণ পারিপার্শিক অবস্থায় এসব দ্রব্যের শ্বাস-প্রশ্বাসের হারও স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু যে কোন ধরনের Stress বা চাপ অর্থাৎ অস্বাভাবিক কষ্টকর পরিস্থিতিতে শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বেড়ে যায়। সাধারণ আলো, রেডিয়েশন বা বিভিন্ন বিশেষ আলোক রশ্মি, গ্যাসীয় পদার্থ (যেমন- ইথাইলিন গ্যাস শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বাড়িয়ে দেয়), রাসায়নিক পদার্থ, তাপমাত্রা, বাতাসের আর্দ্রতা, শারীরিক আঘাৎ, গ্রোথ রেগুলেট এর ব্যবহার, জলীয় পদার্থের ঘাটতি, রোগ জীবাণুর আক্রমণ ইত্যাদি শ্বাস-প্রশ্বাস হারের উপর প্রভাব ফেলে।

শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর তাপমাত্রার প্রভাব : শ্বাস-প্রশ্বাসের উপর তাপমাত্রার প্রভাব এতই বেশি যে, পরীক্ষায় দেখা গেছে একটি নির্দিষ্ট রেঞ্জের মধ্যে প্রতি ১০০ সে: তাপমাত্রা বাড়ার কারণে শ্বাস-প্রশ্বাসের হার দ্বিগুণ এমন কি ক্ষেত্র বিশেষে তিন গুণ হতে পারে। ফলে, উচ্চ তাপমাত্রায় এসব দ্রব্যের সংরক্ষণকাল কমে যায় এবং নিম্ন তাপমাত্রায় সংরক্ষণকাল দীর্ঘায়িত হয়। কিন্তু তাই বলে ইচ্ছে মতো তাপমাত্রা কমিয়ে ডিপ ফ্রিজে নির্বিচারে আমাদের সব ফলমূল শাক-সবজি সংরক্ষণ করবো এমনটি কিন্তু সম্ভব নয়! সংরক্ষণের তাপমাত্রা খুব বেশি পরিমাণ কমে গেলে Chilling injury and Cold injury হবে অর্থাৎ ঠাণ্ডায় ক্ষত সৃষ্টি হবে। জৈব কোষ গুলোর অভ্যন্তরীণ জলীয় পদার্থ জমে Crystal form করবে অর্থাৎ বরফ হয়ে যাবে এবং কোষের আবরণ ফেটে কোষের অভ্যন্তরীণ পদার্থ বেরিয়ে আসবে। ফলমূল শাক-সবজির আসল গড়ন আর থাকবে না- মচমচে গুণ হারাবে এবং থেল থেলে হয়ে লেতিয়ে পড়বে। স্বাদ, গন্ধ ও তরতাজা আকর্ষণীয় গুণও থাকবে না। গবেষণায় দেখা গেছে, এমন অবস্থায় ইথাইলিন তৈরির পরিমাণ বেড়ে যায়, শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বাড়ে, সালোক সংশ্লেষণের হার কমে, এনার্জি তৈরি কম হয়, জীব কোষ অভ্যন্তরে বিষাক্ত পদার্থ জমে (যেমন- ইথানল, এ্যাসেটালডিহাইড) এবং কোষের গঠন নষ্ট হয়। বিভিন্ন দ্রব্যের জন্য চিলিং ইনজুরি ঘটার তাপ মাত্রার পরিমাণ এক নয়। তবে, স্বাধারণত: ১০০-১৩০ সে: এর নীচের তাপমাত্রায় উদ্যান ফসল (শাক-সবজি, ফলমূল) সংরক্ষণ করলে চিলিং ইনজুরি হয়ে থাকে।

ইথাইলিন গ্যাস ও তার প্রভাব : ইথাইলিন একটি বর্ণহীন গ্যাস যা উদ্ভিদ প্রাকৃতিক উপায়ে তৈরি করে থাকে। এটি একপ্রকার উদ্ভিদ হরমোন যা Plant growth regulator বা উদ্ভিদের বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করে। বিশেষত: ফল পাকার ক্ষেত্রে ইথাইলিনের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রাকৃতিক উপায়ে উদ্ভিদ কর্তৃক সৃষ্ট ইথাইলিন গাছে এবং সংগ্রহ-উত্তর কালে ফল পাকতে সাহায্য করে। ফল পাকার সময় ইথাইলিন উৎপাদনের পরিমাণও বেড়ে যায়। একারণে দেখা যায় যখন দু-একটি ফল (যেমন: আম, কলা) পাকা শুরু করে তখন তা ঢেকে রাখলে তার সাথের অন্যান্য ফলগুলোও দ্রুত পেকে যায়। আর পাকা ফলগুলো বেছে আলাদা করে রাখলে কাঁচা ফলগুলো পাকতে বিলম্ব হয়। আবার ইথাইলিন গ্যাস জীব কোষের Senescence বা বার্ধক্য ত্বরান্বিত করে। ইথাইলিন ফল পাকতে যেমন সাহায্য করে তেমনি সবজির জীব কোষে বার্ধক্য এনে সেগুলোর সতেজতা বিনষ্ট করে পুষ্টি গুণাগুণ নষ্ট করে। ইথাইলিন গ্যাস গাছের পাতায় Senescence ঘটায় ফলে পাতা ঝরে পড়ে। এখানে একটি বিষয় লক্ষ্যনীয় যে, প্রাকৃতিক উপায়ে উদ্ভিদ যে পরিমাণ ইথাইলিন তৈরি করে ফল পাকাতে সাহায্য করে তা আমাদের শরীরের জীব কোষের জন্য ক্ষতিকর নয়। কিন্তু কৃত্রিম উপায়ে ইথাইলিন গ্যাস সৃষ্টি করে দ্রুত যে ফল পাকানো হয় তা আমাদের শরীরের জীব কোষগুলোকে দ্রুত বার্ধক্যে পৌঁছতে সাহায্য করার সম্ভাবনা রয়েছে। বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে গবেষণা করে দেখা খুবই প্রয়োজন।
ক্লাইম্যাক্ট্রিক (Climactric) ও নন-ক্লাইম্যাক্ট্রিক (Non-climactric) ফল : শ্বাস-প্রশ্বাসের হার ও ইথাইলিন গ্যাস উৎপাদনের হার বিবেচনা করে ফলকে সাধারণত: দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যেমন: ক্লাইম্যাক্ট্রিক ফল (Climactric fruits) এবং নন-ক্লাইম্যাক্ট্রিক ফল (Non-climactric fruits) ।

ক্লাইম্যাক্ট্রিক ফল : কতকগুলো ফল পাকার সময় তাদের শ্বাস-প্রশ্বাস বৃদ্ধির হার সুনির্দিষ্টভাবে চারটি স্তরে বিভক্ত হতে দেখা যায়। রেখাচিত্র অংকন করলে দেখা যাবে- এসব ফল পাকার শুরুতে খুব কম সময়ের জন্য শ্বাস-প্রশ্বাসের হার কমে যায় (Pre-climactric minimum)। এরপর দ্রুত শ্বাস-প্রশ্বাসের হার বেড়ে যায় (Climactric rise) এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের হার সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছায় (Climactric peak), এরপর শ্বাস-প্রশ্বাসের হার দ্রুত কমে যায় (Post climactric decline)। ক্লাইম্যাক্ট্রিক ফল পাকার সময় ইথাইলিন গ্যাস তৈরি করে যা ফল পাকতে সাহায্য করে। এসব ফল গাছ থেকে সংগ্রহের পরও স্বাভাবিকভাবে পাকার প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং মিষ্টতা বাড়তে থাকে তবে, ফল নরম হতে থাকে। উদাহরণ স্বরুপ বলা যায়- আম, কাঁঠাল, কলা, আপেল, পেয়ারা, পেপে, টমেটো, নাসপাতি, প্লাম, চেরি, এভোকাডো, পীচ, ডুমুর (ফিগ), ডুরিয়ান, ইত্যাদি ক্লাইম্যাক্ট্রিক ফল।
নন-ক্লাইম্যাক্ট্রিক ফল : নন-ক্লাইম্যাক্ট্রিক ফল, গাছ থেকে সংগ্রহের পর শ্বাস-প্রশ্বাসের হার ক্রমেই কমতে থাকে, কখনই তা বৃদ্ধি পায় না এবং ইথাইলিন গ্যাসও তৈরির পরিমাণও নগণ্য। এসব ফল গাছ থেকে সংগ্রহের পর আর পাকে না, মিষ্টতাও বৃদ্ধি পায় না, বরং মিষ্টতা কমতে থাকে; অভ্যন্তরীণ জলীয় পদার্থ বাষ্পাকারে হারিয়ে যায় এবং ফল শুকিয়ে যায়। নন-ক্লাইম্যাক্ট্রিক ফলের উদাহরণ- আনারস, লিচু, তরমুজ, বাংগী, লেবু, কমলা লেবু, ডালিম, কামরাঙ্গা, রামবুটান, স্ট্রবেরি ইত্যাদি।

সংগ্রহের পর বিভিন্ন ফলমূল, শাক-সবজি’র সংরক্ষণ উপযোগী তাপমাত্রা, বাতাসের আপেক্ষিক আর্দ্রতা ও কাংক্ষীত সংরক্ষণ কাল নিম্নে উল্লেখ করা হলো- টেবিল নং১
সতেজ ফলমূল,
শাক-সবজি’র নাম সংরক্ষণ উপযোগী
তাপমাত্রা (০ সে:) আপেক্ষিক আর্দ্রতা (%) কাঙ্খিত সংরক্ষণ কাল (দিন/সপ্তাহ/মাস)
গাজর ০ ৯০-৯৫ ২-৫ মাস
ফুল কপি ০ ৯০-৯৫ ২-৪ সপ্তাহ
বাঁধা কপি ০ ৯০-৯৫ ৩-৬ সপ্তাহ
পেঁয়াজ (শুকনা) ০ ৬৫-৭০ ১-৮ মাস
বাংগী ০-৪.৪ ৮৫-৯০ ৫-১৪ দিন
আপেল ১-৪.৪ ৯০ ৩-৮ মাস
সীম (সতেজ) ৫-৭ ৯০-৯৫ ৭-১ দিন
শশা ৭-১০ ৯০-৯৫ ১০-১৪ দিন
কাঁচা মরিচ, ক্যাপসিকাম ৭-১০ ৯০-৯৫ ২-৩ সপ্তাহ
বেগুন ৭-১০ ৯০ ১ সপ্তাহ
ঢেঁড়শ ৭-১০ ৯০-৯৫ ৭-১০ দিন
গোল আলু (সাদা) ৫-১০ ৯৩ ২-৫ মাস
মিষ্টি আলু ১২-১৬ ৮৫-৯০ ৪-৬ মাস
টমেটো (পাকা) ৭-১০ ৮৫-৯ ৪-৭ দিন
টমেটো (কাঁচা) ১২-২০ ৮৫-৯০ ১-৩ সপ্তাহ
এভোকাডো ৪.৪-১২.৫ ৮৫-৯০ ২-৪ সপ্তাহ
আম ১২ ৮৫-৯০ ২-৩ সপ্তাহ
আনারস ৭-১২.৫ ৮৫-৯০ ২-৪ সপ্তাহ
পেঁপে ৭ ৮৫-৯০ ১-৩ সপ্তাহ
সংগ্রহের পর সতেজ শাক-সবজি, ফলমূলের সংরক্ষণকাল বৃদ্ধি করার উপায়ঃ
১। মাঠ থেকে শাক-সবজি, ফলমূল সংগ্রহের সঠিক পরিপক্কতা : উপযুক্ত পরিপক্ক অবস্থায় অনুকূল পরিবেশে ফসল সংগ্রহ করলে তুলনামূলকভাবে দীর্ঘ সময় সে ফসল ঘরে সংরক্ষণ করা যায়। অতি কচি বা অধিক পরিপক্ক অবস্থায় এসব ফসল সংগ্রহ করলে সংরক্ষণের গুণাগুণ লোপ পায় ফলে সংরক্ষণকাল দীর্ঘায়িত করা সম্ভব হয় না।
২। সকালের দিকে, অর্থাৎ তুলনামূলকভাবে দিনের যে সময় তাপমাত্রা কম থাকে, সে সময়ই ফলমূল, শাক-সবজি সংগ্রহের উপযুক্ত সময়।
৩। ফসল সংগ্রহের পরই সঠিকভাবে বাছাই করে নিতে হবে। পোকা মাকড়, রোগ বালাই মূক্ত অক্ষত ও একই পরিপক্কতা বিশিষ্ট্য দ্রব্য বাছাই করে নিতে হবে।
৪। ফসল সংগ্রহের পর দ্রুত তাপমাত্রা কমানোর ব্যবস্থা করতে হবে। রৌদ্রের মধ্যে এসব দ্রব্য ফেলে রাখা ঠিক নয়। দ্রুত ছাঁয়ায় নেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। ঠাণ্ডা পানিতে ডুবিয়েও এসব দ্রব্যের শারীরিক তাপমাত্রা দ্রুত কমানো যায়।
৫। সংগৃহীত দ্রব্যাদি স্থানান্তরঃ বাণিজ্যিকভাবে অধিক পরিমাণ দ্রব্য দূরে স্থানান্তর করতে হলে দ্রব্যগুলি অবশ্যই প্যাকেজ করে নিতে হবে যাতে স্থানান্তরের সময় ক্ষত না হয়। এছাড়া Cold conveyance বা ঠাণ্ডা গাড়িতে পরিবহনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৬। গন্তব্যে পৌঁছার পর দ্রব্যগুলি সংরক্ষণের পূর্বে ভালভাবে বাছাই করে নিতে হবে যাতে কোনো পাকা ফল কাঁচা ফলের সঙ্গে না থাকে। কারণ এমনটি হলে, পাকা ফল থেকে নি:সৃত ইথাইলিন গ্যাস কাঁচা ফলকে দ্রুত পাকতে সাহায্য করবে।
৭। সংরক্ষণের কক্ষটিতে ভাল ভেন্টিলেশন এর ব্যবস্থা থাকতে হবে যাতে করে এসব দ্রব্য থেকে নি:সৃত ইথাইলিন গ্যাস দ্রব্যগুলোর চারিপার্শ্বে না থেকে দ্রুত তা বাহিরের বাতাসের সংগে মিশে যেতে পারে।
৮। বাণিজ্যিকভাবে সংরক্ষণের জন্য CA (Controlled atmosphere) বা নিয়ন্ত্রিত গ্যাসীয় অবস্থায় এসব দ্রব্যাদি সংরক্ষণ করা যায়। স্বাধারণত: বাতাসে ৭৮% ভাগ নাইট্রোজেন, ২১% অক্সিজেন, এবং ০.০৩% কার্বোন-ডাই অক্সাইড থাকে। এসব দ্রব্য সংরক্ষণের জন্য নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে সাধারণত: অক্সিজেন ৮% এর নীচে এবং কার্বোন ডাই-অক্সাইড ১% এরউপরে রাখা হয়।
৯। এসব সতেজ দ্রব্যাদি সংরক্ষণের উপযোগী তাপমাত্রা (০ সে:) ও বাতাসের আর্দ্রতার মাত্রায় (%) ভিন্নতা রয়েছে। প্রতিটি দ্রব্য তার জন্য নির্দিষ্ট তাপমাত্রা ও বাতাসের নির্দিষ্ট আর্দ্রতায় সংরক্ষণ করতে হবে। (উদাহরণ-উপরে উল্লিখিত: টেবিল-১)।
সতেজ ফলমূল, শাক-সবজি পুষ্টির আধার!
সংরক্ষণ করতে হলে, তা নিশ্চয়ই করতে হবে বৈজ্ঞানিক পন্থায়-
তাই, এব্যাপারে কেউ যেন আর না থাকি নির্বিকার।
লেখক: সিনিয়র কৃষিবিদ।

]]>
ধানের পরিবর্তে বাদাম চাষে ঝুঁকছেন https://sherakantha.com/2017/07/02/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%ae-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b7/ Sun, 02 Jul 2017 05:35:38 +0000 http://sherakantha.com/?p=122475 Continue reading ধানের পরিবর্তে বাদাম চাষে ঝুঁকছেন →]]> ধান আবাদে খরচ ও খাটনি দুটোই বেশি। ধান লাগানোর পর থেকে দুঃচিন্তায় থাকতে হয়। তার মধ্যে আবার কয়েক বছর ধরে ধানের বাজার দর খারাপ যাচ্ছে। একারণে বোরো ধান আবাদে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন নীলফামারীর কৃষকরা। ধানের বদলে বাদাম চাষের দিকে ঝুঁকছেন তারা।
নীলফামারীর ডোমার ইউনিয়নের পূর্ব চিকনমাটি গ্রামের কৃষক রশিদুল ইসলাম(৪০)। চলতি মৌসুমে তিনি চিনা বাদাম আবাদ করেছেন এক বিঘা জমিতে। নিজেসহ আরো কয়েকজন শ্রমিক নিয়ে ফসল তুলতে শুরু করেছেন জমি থেকে।
তিনি বলেন, ধান আবাদে লাভতো দূরের কথা আসল টাকা তুলতেই টানাটানি হয়ে পড়ে।
রশিদুলের মতো অনেক কৃষকই বোরো ধানের পরিবর্তে রবি শস্য আবাদ করছেন।
বিগত কয়েক বছর বোরো আবাদে লোকসান হওয়ায় বাদাম ও ভুট্টা আবাদে মনোযোগ দিয়েছেন উপজেলার ডোমার সদর, বামুনিয়া, বোড়াগাড়ি, জোড়াবাড়ি, ভোগডাবুড়ি, সোনারায় ও হরিণচড়া ইউনিয়নের কৃষকরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এ উপজেলার মাটি বেলে দোঁআশ হওয়ায় বাদাম চাষের উপযোগী। যার কারণে কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে আবাদ করা হচ্ছে বাদাম।
কৃষি কর্মকর্তা ও কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চাষের খরচ কম, উৎপাদন এবং বাজার দর ভালো হওয়ায় বাদাম আবাদে আগ্রহ বেড়েছে উপজেলার কৃষকদের মাঝে।

ডোমার ইউনিয়নের কৃষক আবু তালেব গত কয়েক বছর থেকে চিনা বাদাম আবাদ করছেন। এতে তিনি বেশ লাভবান হচ্ছেন বলে জানালেন।
তিনি জানান, বিঘা প্রতি বাদাম আবাদে খরচ হয় ৬ হাজার টাকা। আর বিঘা প্রতি অন্তত ৬ মণ উৎপাদনও হয়। দুই হাজার টাকা করে মণ বিক্রি হলেও ১২ হাজার টাকা পাওয়া যায়। খরচ বাদে লাভ থাকে ৬ হাজার টাকা।

আরেক চাষী আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, প্রথমবারের মতো এবার আমি ৫০ শতাংশ জমিতে হাইব্রিড জাতের চিনা বাদাম আবাদ করেছি। সেচের তেমন প্রয়োজন হয় না, কীটনাশক খরচও কম। নিরানি নেই, সবমিলিয়ে সহায়ক কৃষকদের জন্য শস্যটি(বাদাম)।
ডোমার সদর ইউনিয়নের পূর্ব চিকনমাটি ছোট রাউতা ব্লকের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আবু তালেব বলেন, মাঠ পর্যায়ে বাদাম চাষে আগ্রহ সৃষ্টি করতে কৃষকদের আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। প্রদর্শনী প্লট করে আবাদ বাড়ানোর চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, ১১৫-১২০দিনের মধ্যে বাদাম ঘরে তোলা যায়। বাজারে দামও ভালো।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, নীলফামারী জেলায় ২০১৪-১৫ মৌসুমে ২২৯ হেক্টর, ২০১৫-১৬ মৌসুমে ৯১৭ হেক্টর এবং ২০১৬-১৭ মৌসুমে ১০৫০ হেক্টর জমিতে বাদামের আবাদ হয়েছে।
অন্যদিকে গত মৌসুমের চেয়ে চলতি বোরো মৌসুমে ধানের আবাদ কমেছে। ২০১৫-১৬ মৌসুমে বোরো আবাদ ৮৩ হাজার ৬৬৭ হেক্টরে অর্জিত হলেও এবারে অর্জিত হয় ৮২ হাজার ১১০ হেক্টরে।
জানতে চাইলে ডোমার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাফর ইকবাল বলেন, গেল কয়েক বছরে কৃষকদের মাঝে বাদাম আবাদের আগ্রহ বেড়েছে। কৃষকরা জমি লিজ নিয়ে বাদাম করছেন।
ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে বলে জানালেন এ কৃষি কর্মকর্তা।

]]>
ঝিনাইদহে গমের পরিবর্তে ভুট্টা চাষ https://sherakantha.com/2017/07/01/%e0%a6%9d%e0%a6%bf%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%a6%e0%a6%b9%e0%a7%87-%e0%a6%97%e0%a6%ae%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%aa%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a7%87-%e0%a6%ad/ Sat, 01 Jul 2017 14:52:50 +0000 http://sherakantha.com/?p=122354 Continue reading ঝিনাইদহে গমের পরিবর্তে ভুট্টা চাষ →]]> এ বছর গমের পরিবর্তে ভুট্টা চাষ করেছেন ঝিনাইদহের কৃষক। গত কয়েক বছর ধরে গম ক্ষেতে হুইট ব্লাস্ট রোগ দেখা দেয়ায় এ বছর আর গম চাষ করেন নি তারা । কৃষকের দাবি ভুট্টার ন্যায্য দাম।

এখন চলছে ভুট্টার মৌসুম। ঝিনাইদহ জেলার কৃষক রাত দিন ব্যস্ত ভুট্টা কাটা, মাড়াই, শুকানো ও ঘরে তোলার কাজে । অক্টোবর মাসের ১৫ তারিখের পর থেকেই ভুট্টার বীজ বপন শুরু করেন কৃষক। আর মে মাসের মাঝামাঝি শুরু হয় ভুট্টা কাটা।

এ অঞ্চলে সুপার সাইন, এলিট, উত্তরোণসহ বিভিন্ন উচ্চফলনশীল জাতের ভুট্টা চাষ হয়েছে বেশি। এ পর্যন্ত বিঘায় ফলন পাওয়া গেছে ৫০ থেকে ৬০ মণ। প্রকারভেদে প্রতি মণ ভুট্টা বিক্রি হচ্ছে ছয়শ’ ৫০ থেকে সাতশ’ টাকায়।

ইতোমধ্যে ৮০ ভাগ জমির ভুট্টা কাটা শেষ হয়েছে। এবার হেক্টর প্রতি ১০ টনেরও বেশি ফলনের আশা করছে স্থানীয় কৃষি বিভাগ।

এবার জেলায় ১২ হাজার ছয়শ’ ৪০ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ হয়েছে বলে জানিয়েছে ঝিনাইদহ কৃষি বিভাগ।

]]>
ভোলায় ব্যক্তি উদ্যোগে মাছ চাষে সাফল্য (ভিডিও) https://sherakantha.com/2017/07/01/%e0%a6%ad%e0%a7%8b%e0%a6%b2%e0%a6%be%e0%a7%9f-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%a4%e0%a6%bf-%e0%a6%89%e0%a6%a6%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a7%8b%e0%a6%97%e0%a7%87-%e0%a6%ae%e0%a6%be/ Sat, 01 Jul 2017 14:34:46 +0000 http://sherakantha.com/?p=122346 Continue reading ভোলায় ব্যক্তি উদ্যোগে মাছ চাষে সাফল্য (ভিডিও) →]]> ভোলায় ব্যক্তি উদ্যোগে মাছ চাষ করে সফল হয়েছেন মৎসচাষি শেখ ফরিদ। তার এই উদ্যোগে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয়েছে শতাধিক মানুষের। মাছ চাষে এখন আগ্রহী হয়ে উঠছেন এলাকার অনেকে।

ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের নবীপুর গ্রামের বাসিন্দা শেখ ফরিদ। ২০১১ সালে ৬ লাখ টাকা পুঁজি নিয়ে দু’টি পুকুরে মাছ চাষ শুরু করেন। পরে এলাকার বিভিন্ন ব্যক্তি পর্যায়ের পুকুর লীজ নিয়ে মাছ চাষের পরিসর বাড়াতে থাকেন।

এরপর তাকে আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। বর্তমানে তিনি ২০টি পুকুরে মাছ চাষ করছেন। এসব পুকুরে তেলাপিয়া, রুই, কাতল, পাঙ্গাসসহ নানা প্রজাতির মাছ চাষ হচ্ছে। গত বছর তিনি ৬০ লাখ টাকার মাছ বিক্রি করেন।

তার সাফল্য দেখে ওই গ্রামের অনেকেই এখন মাছ চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। মাছচাষ প্রতিদিনই কেউ না কেউ তার কাছে এসে নানান পরামর্শ নেন। তিনিও সাহায্য নিচ্ছেন কৃষি বিভাগের।

কৃষি বিভাগ মনে করছে শেখ ফরিদের অনুপ্রেরণার এ অঞ্চল মৎস্য চাষে ভবিষ্যতে আরো অনেক উন্নয়ন ঘটবে।

 

 

 

]]>
ধানের দামে কৃষক খুশি, চালের দামে ভোক্তা https://sherakantha.com/2017/07/01/%e0%a6%a7%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%a6%e0%a6%be%e0%a6%ae%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a6%95-%e0%a6%96%e0%a7%81%e0%a6%b6%e0%a6%bf-%e0%a6%9a%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%87/ Sat, 01 Jul 2017 14:09:04 +0000 http://sherakantha.com/?p=122338 Continue reading ধানের দামে কৃষক খুশি, চালের দামে ভোক্তা →]]> ধানের ভালো দাম পেয়ে খুশি প্রান্তিক কৃষকরা। রাজধানীর পাশের জেলা মানিকগঞ্জ ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। কিন্তু ঈদের আগে জেলা শহরটির দুধবাজারে চাল কিনতে আসা ভোক্তাদের ভ্রু কুচকে তাকানোই বলে দেয় তারা পড়েছেন বিড়ম্বনায়। রাজধানীতেও ক্রেতাদের মধ্যে দেখা গেছে প্রায় একইরকম প্রতিক্রিয়া।

কারণ আগের তুলনায় কেজি প্রতি ৮-১০ টাকা বেশি দিয়ে চাল কিনতে হচ্ছে তাদের।

তবে কৃষকরা জানিয়েছেন, বাজারে চালের দাম নিয়ে ভোক্তা পর্যায়ে অসন্তুষ্টির জন্য তারা দায়ী নন। তাদের (কৃষক) এবং ভোক্তার মধ্যে ব্যাপারী, মিল মালিকদের মতো অতি মুনাফা প্রত্যাশি একটি শ্রেণী রয়েছে।

কৃষকরা মনে করেন এজন্যই বাজারে বেড়েছে চালের দাম। তারা সরাসরি ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করলে চালের সর্বনিম্ন দাম ৩৫-৩৮ টাকার বেশি হতো না।

 

ধানের দাম পেয়ে খুশি চরমকিমপুরের কৃষকরা
মানিকগঞ্জের চরমকিমপুর গ্রামের কৃষক মো.আব্দুল্লাহ জানান, এবারের বৃষ্টিপাত তাদের সেচ এবং বালাইনাশকের খরচ কমিয়েছে। ৫-৬ হাজার টাকা খরচে প্রতি বিঘা থেকে ২২-২৪ মণ ধান উঠেছে গোলায়।মধ্যস্বত্তভোগীদের দৌরাত্ম্যও গত মৌসুমের তুলনায় সহনীয় মাত্রায় ছিলো। কারণ গতবার বেঁধে দেয়া দরে কেউ ধান বিক্রি করতে পারেনি। গত মৌসুমে ১ মণ ধান বিক্রি করে কৃষক বড়জোর ৭’শ থেকে সাড়ে ৭’শ টাকা পেয়েছিলো। কিন্তু এবার ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০ টাকা পেয়েছে তারা।

 

মকিমপুর থেকে যে বাজারে যেতে মাত্র আধ ঘণ্টা লাগে সেই বাজারে (দুধবাজার) চাল কিনতে আসা নিম্নবিত্তের ভোক্তারা আছেন বিপাকে।

 

রাজশাহী-২৮ জাতের চাল কিনে দোকান থেকে বের হওয়া গোবিন্দ ঘোষ বলেন,‘ আগে যে চাল খেতাম ৪০-৪২টাকায় এখন সেটা ৫৬ টাকায় কিনতে হচ্ছে।’

ঈদের আগে প্রতিবারই বাজার দর মাত্রা ছাড়িয়ে যায় অভিযোগ করেন চাল কিনতে আসা আব্দুল মান্নান।

অবসরপ্রাপ্ত এই সরকারি কর্মকর্তা বলেন,‘ গতবছরের চেয়ে এবার একই চাল ১০-১২ টাকা বেশি দিয়ে কিনতে হচ্ছে।’

ইরি-বোরো ২৮ ও ২৯ সহ অন্যান্য চালের দাম যে হঠাৎ মাত্রা ছাড়িয়েছে সেটা স্বীকার করে নিলেন দুধবাজারের চাল বিক্রেতা মিজানুর রহমান ও বজলু মিয়া।

তারা জানান, খুচরা আড়তে চালের দাম ক্রেতাদের নাগালে রাখতে হলে মিল মালিকদের দিকে সরকারের কঠোর নজরদারি এবং নিয়ন্ত্রণ দরকার। কারণ তাদের জন্য বাজারে চালের দাম বৃদ্ধি পায় অথচ ভোক্তার সামনে বিড়ম্বনাময় পরিস্থিতিতে পড়তে হয় তাদের।

 

খুচরা বিক্রেতারাও অস্বস্তিতে
চাল বিক্রেতা মিজানুর বলেন,‘কয়েক মাস আগেও যে চাল ৩০-৩২ টাকায় বিক্রি করতে পারতাম, সেই চাল এখন ৪৬-৪৮ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। মিল মালিকদেরকে ট্রাক প্রতি লাখ টাকার বেশি দিয়ে চাল কিনতে হচ্ছে আমাদের।’

মানিকগঞ্জসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে খুচরা বাজারে মোটা চাল প্রতি কেজিতে বিক্রি হচ্ছে ৪৮টাকা। পাইজাম বিক্রি হচ্ছে ৫০টাকায়। বিরি-২৮ বিক্রি হচ্ছে ৫৬ টাকায়। তবে বর্তমানে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মিনিকেট। প্রতি কেজি মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৫৬-৬০ টাকায়। কোথাও কোথাও চালের মান ভেদে ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চালের দামের এই উচ্চগতিতে আলোচনা সমালোচনার শেষ নেই।

এমন পরিস্থিতিতে মঙ্গলবার চালের আমদানির ওপর ট্যারিফ ২৮ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ আশ্বাস দিয়ে বলেছেন, প্রতি কেজিতে চাল ৬ টাকা কমে যাবে। প্রতি কেজিতে চাল যদি ৬ টাকা কমে যায় তাহলে মোটা চাল প্রতি কেজিতে বিক্রি হবে ৪২ টাকায়। পাইজাম বিক্রি হবে ৪৪ টাকায়। বিরি-২৮ ৫৪ পরিবর্তে বিক্রি হবে ৪৮ টাকায়। বাজারে সবচেয়ে বেশি দামের চাল মিনিকেট বিক্রি হবে আনুমানিক ৫৪ টাকায়।

]]>
নওগাঁয় কৃষকদের মাঝে স্মার্ট মোবাইল বিতরণ https://sherakantha.com/2017/07/01/%e0%a6%a8%e0%a6%93%e0%a6%97%e0%a6%be%e0%a6%81%e0%a7%9f-%e0%a6%95%e0%a7%83%e0%a6%b7%e0%a6%95%e0%a6%a6%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%9d%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ae%e0%a6%be/ Sat, 01 Jul 2017 14:02:07 +0000 http://sherakantha.com/?p=122335 Continue reading নওগাঁয় কৃষকদের মাঝে স্মার্ট মোবাইল বিতরণ →]]> নওগাঁয় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিতে বিশেষ সফট্ওয়্যার সম্বলিত স্মার্ট মোবাইল ফোন বিতরণ করেছে। এর ফলে এখন থেকে মোবাইলের মাধ্যমে ফসলের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কৃষি বিভাগের সাথে কৃষক সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন।

এমপাওয়ার নামে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি করে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নওগাঁর বদলগাছি ও মহাদেবপুর উপজেলার ৫৭ জন কৃষককে বিশেষ সফট্ওয়্যার সম্বলিত এ মোবাইল সেট দেয়। এর মাধ্যমে এখন থেকে মোবাইল ফোনের এই সফট্ওয়্যার থেকে কৃষক কৃষি বিষয়ক যাবতীয় পরামর্শ পাবেন।

পরামর্শ বলতে শুধু রোগ বালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে নিরসন নয়, বরং কোন্ জমি কোন্ ধরণের ফসলের উপোযোগী কিংবা কোন্ ফসলে কেমন খরচ আর লাভ কত সে হিসেবও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানবে কৃষক।

নওগাঁয় ভালো ফলাফল পাওয়া গেলে সারা বরেন্দ্র এলাকায় এ প্রযুক্তি ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।

]]>