বৃহস্পতিবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

আনান কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের তাগিদ শ্রিংলার

সেরাকণ্ঠ ডট কম :
সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৭
news-image

রোহিঙ্গা ইস্যুতে ভারত সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন উল্লেখ করে মিয়ানমার সরকারকে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রোহিঙ্গাদের জন্য পাঠানো ত্রাণ হস্তান্তর অনুষ্ঠানে হর্ষবর্ধন শ্রিংলা এ মন্তব্য করেন। বিমানবন্দরে ভারতীয় ত্রাণ গ্রহণ করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ সময় চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার আবদুল মান্নান, জেলা প্রশাসক মো. জিল্লুর রহমান চৌধুরী, চট্টগ্রামে নিযুক্ত ভারতের ভারপ্রাপ্ত সহকারী হাইকমিশনার অরুন্ধতী দাশসহ দুই দেশের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বেলা সোয়া একটার দিকে ভারতের ত্রাণবাহী উড়োজাহাজটি বিমানবন্দরে পৌঁছায়। ওই ত্রাণ ওবায়দুল কাদেরের কাছে হস্তান্তর করেন ভারতের হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা।

ত্রাণ হস্তান্তরের সময় বিমানবন্দরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভারত আমাদের দুঃসময়ের বন্ধু। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়ে আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। বাংলাদেশের কঠিন সময়ে আমাদের পাশে আবার দাঁড়িয়েছে।’

ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, ‘ইতিমধ্যে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীর সংখ্যা চার লাখ অতিক্রম করেছে। আরও অনেক শরণার্থী বাংলাদেশে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। এমন কঠিন সময়ের মধ্যে ভারত সরকার রোহিঙ্গাদের জন্য ত্রাণ পাঠিয়েছে। এ জন্য নরেন্দ্র মোদি সরকারকে আমি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে অভিনন্দন জানাই।’

ভারতীয় হাইকমিশনার হর্ষবর্ধন শ্রিংলা বলেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার সরকারের অবস্থান আমরা সমর্থন করি না। আমরা মিয়ানমার সরকারকে দ্রুত কফি আনান কমিশনের প্রস্তাব বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছি। এই পরিস্থিতিতে আমরা রাখাইন রাজ্যে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছিলাম, যাতে রাজ্যের সব নাগরিক সমানভাবে উপকৃত হয়। সামাজিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার মাধ্যমে আমরা রাখাইনের পরিস্থিতির উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাই।’

হর্ষবর্ধন শ্রিংলা আরও বলেন, ‘বিপুলসংখ্যক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে আপনাদের (বাংলাদেশ) দেশে এসেছে। বাস্তুচ্যুত মানুষকে (রোহিঙ্গা) যেকোনো পক্ষে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হয়। এমন কিছু লক্ষণও দেখছি। কেউ কেউ এই সুযোগে তাদের কাজে লাগিয়ে সন্ত্রাস উসকে দিতে পারে। আমাদের দেশ (ভারত) সন্ত্রাসে মদদ না দেওয়ার বিষয়ে কঠোর নীতি বজায় রেখেছে। এ বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স নীতি নিয়েছি।’

ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, দুই দেশের (বাংলাদেশ ও ভারত) বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় ভারত সরকার সাত হাজার টন ত্রাণসহায়তা নিয়ে বাংলাদেশের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। তারই অংশ হিসেবে আজ ৫৩ টন ত্রাণের প্রথম চালান এল। এ রকম আরও একটি উড়োজাহাজে ত্রাণ আসবে। বাকি ত্রাণসামগ্রী ভারতের বিশাখাপত্তম বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা হবে।

রোহিঙ্গাদের জন্য ভারতের পাঠানো ৫৩ টন ত্রাণের মধ্যে চাল, ডাল, চিনি, লবণ, বিস্কুট, দুধ, সাবানসহ বিভিন্ন সামগ্রী রয়েছে। এর আগে আজ সকাল সোয়া নয়টায় মরক্কো থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য পাঠানো ত্রাণবাহী একটি উড়োজাহাজ চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করে। মরক্কো থেকে রোহিঙ্গাদের জন্য পাঠানো ১৪ টন ত্রাণের মধ্যে রয়েছে তাঁবু, কম্বল, ওষুধ, শিশুখাদ্য, ম্যাট্রেস ও চাল।

আজ সন্ধ্যা সাতটার দিকে ইন্দোনেশিয়া থেকে আরও দুটি ত্রাণবাহী কার্গো উড়োজাহাজ চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে অবতরণ করার কথা রয়েছে বলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান (শিক্ষা) জানিয়েছেন।