বৃহস্পতিবার, ১লা ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

সরাসরি ভোটযুদ্ধের অপেক্ষায় অনেক নারী রাজনীতিক

সেরাকণ্ঠ ডট কম :
জুলাই ১, ২০১৭
news-image

ডেস্ক রিপোর্ট : সংরক্ষিত কোটায় নয়, আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দলের নারী এমপিরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সরাসরি ভোটের লড়াইয়ে অংশ নিতে চান।বিএনপির কয়েকজন নেত্রীও একইরকম প্রস্তুতি নিচ্ছেন। তারা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হতে চান। এরইমধ্যে নারী এমপিদের অনেকে হাইকমান্ডের নির্দেশে নিজ এলাকায় নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছেন। অনেকে আছেন দলের ডাকের অপেক্ষায়।

বিভিন্ন দলে সংরক্ষিত আসনের বর্তমান ও সাবেক এমপিদের নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং ভবিষ্যতের পরিকল্পনা নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলেছে চ্যানেল আই অনলাইন।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য পিনু খান বলেন, আগামী নির্বাচনে দল থেকে ডাক পেলে নির্বাচনের প্রস্তুতি শুরু করব। তবে এবার সংরক্ষিত নয়, সরাসরি নির্বাচনে এমপি পদে লড়াই করতে চাই।

তিনি মনে করেন, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হলে এলাকার উন্নয়ন ও জনগণের উন্নয়ন দু’টোই ভালো করে করা যায় যেটি সংরক্ষিত আসনে থেকে সম্ভব নয়। বাজেট বরাদ্দ কম থাকায় এলাকার উন্নয় করা যায় না।

 

‘পাশাপাশি এলাকার প্রভাবশালী নেতাদের কারণে সংরক্ষিত আসনের নারী এমপিরা সেভাবে মূল্যায়ন পায় না,’ দাবি করে পিনু খান বলেন: এবার দল থেকে নমিনেশন পেলে দোহার-নবাবগঞ্জ থেকে নির্বাচন করতে চাই।

নির্বাচিত হলে দেশ ও এলাকার মানুষের জন্য আরও বেশি কাজ করতে চান বলে জানান মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পিনু খান।

তার মতোই সরাসরি ভোটে সংসদ সদস্য হওয়াকে বেশি সম্মাজনক বলে মনে করেন জাতীয় পার্টির এমপি খোরশেদ আরা হক। বর্তমানে তিনি কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান জেলার সংরক্ষিত আসনের এমপি।

দল থেকে মনোনয়ন পেলে কক্সবাজার-৩ আসন থেকে নির্বাচন করতে আগ্রহী তিনি। ‘দলের থেকে ডাক পেলেই নির্বাচনের জন্য পুরোদমে প্রস্তুতি নেব,’ বলে জানান তিনি।

 

এলাকার উন্নয়ন পরিপূর্ণ করতে ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হওয়া দরকার বলে মনে করা খোরশেদ আরা বলেন: সংরক্ষিত আসন ও নারী হওয়ার কারণে এলাকার উন্নয়নের যে পরিমাণ বাজেট দরকার সেটি পাওয়া যায় না। তবুও আমার এলকার সবার সহযোগিতায় জনগণের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। ভবিষ্যতে জনগণের কল্যাণে সরাসরি নির্বাচনে এমপি পদে লড়াই করব।

জাপা’র খোরশেদ আরা যেমন দলের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়, তেমনি নিজ দল আওয়ামী লীগের দিকে তাকিয়ে আছেন গোপালগঞ্জ জেলার সংরক্ষিত আসনের এমপি অ্যাডভোকেট উম্মে রাজিয়া কাজল।

তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা যেভাবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন ঠিক সেভাবে এলাকার জনগণকেও এগিয়ে নিয়ে যেতে চান। ‘দলের সিদ্ধান্তে নমিনেশন পেলে জনগণ ও এলাকার উন্নয়নে নিজেকে আরো বেশি সঁপে দেব।’

 

দল থেকে সরাসরি নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন না পেলেও শেখ হাসিনা ও দলের প্রতি সবসময় আনুগত্য থাকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা যেভাবে দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে পরিণত করেছেন, সেদিক থেকে তার ছায়ায় থাকাটাও অনেক গর্বের।

তবে, সংরক্ষিত আসনের এমপি হওয়ায় এলাকার কাজগুলো পরিপূর্ণভাবে করতে পারেননি বলেও জানান তিনি। বলেন, সরাসরি ভোটের মাধ্যমে এমপি না হওয়ায় এলাকার সরাসরি উন্নয়নে কাজ করা খুব কঠিন। নির্বাচিত হলে তা সহজ হয়, ক্ষমতাও বেশি হয়।

এমপি নির্বাচনের জন্য রাজিয়া কাজল এরইমধ্যে ব্যস্ত সময় পার করছেন নিজ এলাকায়। সবসময় এলাকার জনগণের কাছাকাছি থাকার কথা জানিয়েছেন তিনি।

আওয়ামী লীগ সূত্রগুলো বলছে , টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর) থেকে প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম, জামালপুর-২ (ইসলামপুর) আসন থেকে এমপি মাহজাবিন খালেদ বেবি, চাঁদপুরের হাজিগঞ্জ থেকে নুজাহান বেগম মুক্তাসহ অনেকে সরাসরি এমপি পদে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

বিএনপি’র নীরব প্রস্তুতি
ক্ষমতাসীন দলের পাশাপাশি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজ এলাকা থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বিএনপির কয়েকেজন নেত্রী। তবে প্রস্তুতিটা চলছে একটু নীরবে ও গোপনে।

জামালপুর-৫ আসন থেকে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, নিজ এলাকার মানুষের জন্য কিছু করব এই স্বপ্ন নিয়েই বেড়ে উঠেছি। রাজনৈতিক নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বর্তমানে এলাকার কর্মী ও নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছি। মাঠের খোঁজখবর নিচ্ছি। তৃণমূল নেতাকর্মীদের সঙ্গে ফোনের মাধ্যমে যোগাযোগ করছি। তাদের চাওয়া-পাওয়া বুঝছি। তাছাড়া এলাকার জনগণের কাছাকাছি যাওয়ার চেষ্টা করছি।

 

দলের জন্য দীর্ঘদিন কাজ করা মনি বলেন, বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া যদি আমাকে নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন দেন তাহলে রাজনৈতিকভাবে ভোটের লড়াই করতে আমি পুরোপুরি প্রস্তুত।

‘কিন্তু ক্ষমতাসীন দলের অধীনে নির্বাচন হলে কতটুকু জনগণ ভোট দিতে পারবে সেটি নিয়ে অনেক সন্দেহ রয়েছে। ৫০ শতাংশ ভোট যদি সুষ্ঠুভাবে জনগণ দিতে পারে তাহলেও বিএনপি সবোর্চ্চ আসন পাবে বলে আমি আশাবাদী।’

২০০৮ সালে ফরিদপুর-২ (নগরকান্দা) থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বিএপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ তার বাবা কে এম ওবায়দুর রহমানের আসন থেকে আবার এমপি পদে লড়াই করতে চান। শামা বলেন, বর্তমানে এমপি না হয়েও নিজ এলাকার জনগণের জন্য সবসময় কাজ করি, তাদের বিপদে-আপদে চলে যাই।

 

‘সেকারণেই বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া ও দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে আমি এলাকায় নির্বাচন করতে প্রস্তুত।’

বর্তমান সংসদে সংরক্ষিত আসনে ৫০ জন এমপি রয়েছেন। এর মধ্যে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ৪২ জন, জাতীয় পার্টির ৬ জন এবং জাসদ ও ওয়ার্কার্স পার্টির একজন করে ২ জন রয়েছেন।

এর বাইরে চলতি সংসদে ২২ জন নারী এমপি রয়েছেন যারা সরাসরি ভোটে নির্বাচিত। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ১৮ জন, জাতীয় পার্টির তিনজন ও জাসদের একজন।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুসারে ২০২০ সালের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর সব পর্যায়ের কমিটিতে এক-তৃতীয়াংশ নারী সদস্য নিশ্চিত করতে হবে। সে ধারাবাহিকতায় সংসদেও সরাসরি ভোটে আরো বেশি নারী এমপি নির্বাচিত হওয়ার কথা।

সম্প্রতি অনুষ্ঠিত যুক্তরাজ্যের নির্বাচনে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক এবং রূপা হকসহ দুইশ’র বেশি নারী এমপি নির্বাচিত হয়েছেন।