শুক্রবার, ২৩শে আগস্ট, ২০১৯ ইং

বর্বরতার দৃষ্টান্ত স্থাপন সামাজিক অপরাধ দমনে সক্রিয় হোন

সেরাকণ্ঠ ডট কম :
মার্চ ২৩, ২০১৯
news-image

জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা জরিপে বাংলাদেশ সামাজিক বিভিন্ন সূচকে যথেষ্ট এগিয়েছে বলে উল্লেখ করা হলেও সামাজিক অপরাধপ্রবণতা একটুও কমেনি বলেই মনে হয়। প্রতিদিন গণমাধ্যমে যে খবর আসছে, তাতে আতঙ্কিত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। বাগেরহাটের সদর উপজেলায় এক গৃহবধূকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। একই জেলার মোরেলগঞ্জে মুক্তিপণের দাবিতে মায়ের কোল থেকে অপহরণ করা শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। অপহরণের ছয় দিন পর গত রবিবার তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। অপহরণকারী চক্রের মূল হোতাকে পুলিশ ঢাকা থেকে আটক করেছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ীই শিশুটির লাশ উদ্ধার করা হয়। জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ছাগল চুরির ঘটনা নিয়ে এক বিধবাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে প্রথমে পেটানো এবং পরে চুল কেটে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সমাজকে যেন কোনোভাবেই অপরাধমুক্ত করা যাচ্ছে না। সামাজিক বন্ধন আলগা হয়ে যাওয়া, মূল্যবোধের অবক্ষয় ইত্যাদি কারণে বিস্তৃত হচ্ছে সামাজিক অপরাধের মাত্রা। অস্থিরতার মধ্য দিয়ে তৈরি হচ্ছে এক ধরনের অসুস্থ ধারা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আইনের শাসনের অভাব ও সাংস্কৃতিক অবক্ষয়। সহনশীলতার মাত্রাও যেন হ্রাস পেতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘটে যাওয়া সামাজিক অপরাধের ঘটনাগুলো বিচ্ছিন্নভাবে দেখার কোনো সুযোগ নেই, বরং এ ধরনের অপরাধের বিস্তৃতি উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই উদ্বেগ দূর করতে হলে এখনই দ্রæত ব্যবস্থা নিতে হবে।
সামাজিক অপরাধ প্রতিরোধে সমাজেরও বড় ধরনের দায় রয়েছে। প্রায় হারিয়ে যেতে বসা সামাজিক বন্ধন ও অনুশাসন ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। আর এর জন্য সবার আগে প্রয়োজন রাজনৈতিক সদিচ্ছা। সমাজকে অপরাধমুক্ত করে সুন্দরভাবে নতুন করে গড়ে তোলার রাজনৈতিক অঙ্গীকার যদি না থাকে, তাহলে কোনোভাবেই সমাজের দূষণ দূর করা যাবে না। সব ধরনের সামাজিক অনাচার দূর করার জন্য যে অনুশাসন প্রয়োজন, তা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক শক্তিকে আগে ঐক্যে পৌঁছতে হবে। অন্যথায় সমাজ অপরাধমুক্ত হবে না। মূল্যবোধের যে অবক্ষয় ঘটে গেছে, তা থেকে উত্তরণের জন্য দরকার বড় ধরনের সাংস্কৃতিক বিপ্লব। সেটাও নির্ভর করছে রাজনৈতিক অঙ্গীকারের ওপর। ইতিবাচক রাজনীতি সামাজিক অবক্ষয় রোধে ভ‚মিকা রাখবে এ প্রত্যাশা আমরা করতেই পারি।
বাগেরহাট ও জয়পুরহাটে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে, তাতে আমরা উদ্বিগ্ন। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। অপরাধীদের কঠোর শাস্তিই কাম্য।