শুক্রবার, ২২শে আগস্ট, ২০১৯ ইং

গরমের তীব্রতায় বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ

সেরাকণ্ঠ ডট কম :
মার্চ ৩০, ২০১৮
news-image

গরমের তীব্রতায় বাড়ছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। পানির অভাব তীব্র হয়েছে, এই সাথে পানিতে বাড়ছে জীবাণুর ঘনত্ব। ফলে হাসপাতালে বাড়ছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী। রাজধানীতে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীদের ওষুধ, খাবার সরবরাহসহ বিনামূল্যে চিকিৎসা দিয়ে থাকে মহাখালীর আইসিডিডিআরবি হাসপাতাল। এখানে এ গরমের দিনগুলোতে দৈনিক ভর্তি হচ্ছে সাড়ে পাঁচ শ’র বেশি রোগী। এসব রোগীর মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। আইসিডিডিআরবি হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মার্চ মাসের শেষ সপ্তাহে গড়ে পাঁচ শ’র বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে ভর্তির সংখ্যা ছিল চার শ’র কিছু বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের ন্যাশনাল হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা: আয়েশা আকতার জানান, গত ৯ দিনে (২০ থেকে ২৮ মার্চ) মহাখালী কলেরা হাসপাতালে চার হাজার ৩৪৫ জন ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ২০ মার্চ ৪২৮ জন, ২১ মার্চ ৪৬২, ২২ মার্চ ৪৬৬, ২৩ মার্চ ৪৫৮, ২৪ মার্চ ৪৬৮, ২৫ মার্চ ৪৭৭, ২৬ মার্চ ৫২৭, ২৭ মার্চ ৫০৬ ও ২৮ মার্চ ৫৫৩ জন রোগী ভর্তি হন। আইডিডিআরবির তথ্য অনুযায়ী গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে ছয় শ’র কাছাকাছি ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের দুই-তৃতীয়াংশই শিশু।

ডায়রিয়ার রোগী বাড়লেও চিকিৎসকেরা এটাকে খুবই স্বাভাবিক মনে করছেন। এ সময় প্রতি বছরই ডায়রিয়ায় আক্রান্তের হার বাড়ে। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এ সময় পানির অভাব হয়। গরমে-ঘামে গলা শুকিয়ে যায়। ফলে মানুষ কান্তি দূর করার জন্য, গলা ভেজাতে রাস্তার নানা রকম পানীয়, লেবুর শরবত, রাস্তার খোলা আইসক্রিম, কুলফি মালাই, রাস্তার চটপটি, নানা রকম খাবার খেয়ে থাকেন। বিশুদ্ধ পানি দিয়ে তৈরি না হওয়ায় এসবে প্রচুর জীবাণু থেকে যায়। বাসি-পচা খাবারও ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ। তা ছাড়া পাইপের পানিও না ফুটিয়ে পান করার কারণে মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। এ সব খাবার মানুষ সারা বছরই খেয়ে থাকে; কিন্তু মার্চের আগে ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা কম থাকে।

মার্চ মাস এলেই কেন ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে যায়Ñ এ প্রশ্নের উত্তরে আইসিডিডিআরবির ডা: প্রদীপ কুমার বর্ধন জানান, ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, গরম হলেই এটা বেড়ে থাকে। এটা অস্বাভাবিক নয় এবং এতে আতঙ্কেরও কিছু নেই।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা অবশ্য হঠাৎ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার সাথে পানি দূষণ ডায়রিয়ার অন্যতম কারণ বলে জানিয়েছেন। তারা বলছেন, শিশুদের বেশি ডায়রিয়া হওয়ার কারণ শিশুরা পানি পানে বড়দের মতো সতর্ক নয়। তা ছাড়া এদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও তুলনামূলক কম। ডায়রিয়া বিশেষজ্ঞ ডা: আজহারুল ইসলাম খান বলেন, ‘প্রতি বছর এ সময়টায় বাংলাদেশে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব বাড়ে। প্রথমত : গরম পড়ে। ফলে মানুষ পানি বেশি পান করে। দ্বিতীয়ত : পানিতে এ সময় জীবাণুর পরিমাণও বেড়ে যায়, জীবাণুর ঘনত্ব বাড়ে। এ সময় কম পানি পান করলেও ডায়রিয়া হয়ে যেতে পারে।’

তিনি বলেন, পেটে কমপক্ষে ১০ লাখের বেশি জীবাণু প্রবেশ করলে ডায়রিয়া হয়ে থাকে। এ সংখ্যাটা যে সব সময় একই থাকে তা নয়। তিনি বলেন, ডায়রিয়ার সাথে হাত না ধোয়ারও একটি সম্পর্ক থাকে। বিশেষ করে মল ত্যাগের পর ভালোভাবে হাত না ধুতে পারলে একই হাত দিয়ে খাবার খেলেও ডায়রিয়া হয়ে থাকে। সাবান দিয়ে ভালোভাবে কচলে হাত ধুলে হাতে থাকা জীবাণু মারা যায়। এতে যে ডায়রিয়া থেকে রক্ষা পাওয়া যায় তা নয়, আরো কিছু রোগ-জীবাণু থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। চিকিৎসকেরা জানান, একটু কষ্ট করে পানি ফুটিয়ে পান করলে ডায়রিয়ার সমস্যাটি থাকে না। ফুটাতে না পারলে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট দিয়ে পানি পান করা উচিত।

গরম বাড়ার সাথে সাথে বাজারে খাবার স্যালাইনের বিক্রি বাড়ে। এবারো একই অবস্থা হয়েছে। মানুষ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি সচেতন। ডায়রিয়ার অবস্থা হলেই খাবার স্যালাইন পান করে থাকে। এ ছাড়া গরমে বেশি ঘাম ঝরলেও কান্তি দূর করার জন্য খাবার স্যালাইন খাচ্ছে মানুষ। পান করছে লেবুর শরবত। তবে নগরীর বিভিন্ন এলাকার কয়েকটি ওষুধের দোকানে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তাদের কাছে যথেষ্ট খাবার স্যালাইন রয়েছে। কোনো সঙ্কট নেই। দেশের অনেক ওষুধ কোম্পানি খাবার স্যালাইন উৎপাদন করে থাকে। অর্ডার দিলেই কোম্পানির লোকজন দিয়ে যাচ্ছে। যেহেতু যথেষ্ট সরবরাহ আছে সেজন্য দাম বাড়ার কোনো অবকাশ নেই।

এ জাতীয় আরও খবর