শুক্রবার, ২২শে আগস্ট, ২০১৯ ইং

হলি আর্টিজান: উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকায় আসে রাজীব গান্ধী

সেরাকণ্ঠ ডট কম :
জুলাই ১, ২০১৭
news-image

গুলশানের অভিজাত হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে উত্তরাঞ্চল থেকে ঢাকায় আসে পুলিশের কাছে নিখুঁত টার্গেট কিলিং মাস্টার হিসেবে পরিচিত জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী।

শায়খ আব্দুর রহমানের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা জেএমবির সাধারণ কর্মী ছিল সে। ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর এক কিলিং মাস্টার হিসেবে সে নিজেতে গড়ে তোলে।

২০১৩ সালে কানাডা ফেরত তামিম চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয় হয় রাজীবের। এরপর নব্য জেএমবির উত্তরাঞ্চলের অন্যতম সামরিক কমান্ডার হিসেবে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তার সেলে ১০-১২ জন প্রশিক্ষিত জেএমবি সদস্যকে দেওয়া হয়েছিল। টার্গেট করা যে কোন ব্যক্তিকে হত্যা করতে পারদর্শী হওয়ায় রাজীব হয়ে ওঠে তামিম চৌধুরীর প্রিয়পাত্র।

গুলশানে হলি আর্টিজানে হামলার আগে উত্তরাঞ্চল থেকে তাকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। ওই হামলার অন্যতম পরিকল্পনাকারী বলা হয় তাকে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মে পর্যন্ত উত্তরাঞ্চলে একের পর এক টার্গেট কিলিংয়ের পর হলি আর্টিজানে হামলার চূড়ান্ত পরিকল্পনার জন্য তামিম চৌধুরীর নির্দেশে ঢাকায় আসে রাজীব। গত বছরের জুনে ঢাকায় আসার পর সে স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় জঙ্গিদের একটি আস্তানায় অবস্থান নেয়।

সেখানে আগে থেকে ছিল জেএমবির আরেক শীর্ষ নেতা তানভীর কাদেরীর পরিবার। হলি আর্টিজানে হামলার দিন বসুন্ধরার বাসায় ছিল রাজীব। হামলা শেষ হওয়ার পরপরই বাসা ছাড়ে তারা।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা চ্যানেল জানান, ২০১৪ সাল থেকে উত্তরাঞ্চলে অন্তত ২২টি টার্গেট কিলিংয়ের ঘটনায় কোন না কোনভাবে রাজীব গান্ধীর নাম এসেছে। তার নামে মামলা রয়েছে ১৫-২০টি। তার শিকারের তালিকায় রয়েছেন বিদেশি নাগরিক, পুরোহিত ও খ্রিস্টান যাজক।

তামিম চৌধুরীর সঙ্গে পরিচয়ের পর পুরনো জেএমবি ছেড়ে নব্য জেএমবিতে যোগ দেয় রাজীব।

রাজীব গান্ধীর বাড়ি গাইবান্ধার সাঘাটার পশ্চিম রাঘবপুরের ভুতমারিতে। তবে সে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের মালঞ্চা গ্রামে বসবাস করত। একসময় রঙমিস্ত্রির কাজ করত সে, লেখাপড়া করেছে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত। তার বাবা মাওলানা ওসমান গনি দুটি বিয়ে করেন। তিনি একসময় মসজিদে ইমামতি করতেন। তার প্রথম পক্ষের সন্তান জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী। জাহাঙ্গীরের বাবা চার বছর আগে মারা যান। তার মা রাহেলা বেগম সন্তানদের নিয়ে ভুতমারা গ্রামে থাকেন। তিনি পেশায় গৃহকর্মী।

এর আগে জেএমবির শীর্ষ নেতা শায়খ আবদুর রহমানের জামাতা আবদুল আওয়ালের একান্ত সহকারী ছিল রাজীব। পাচক হিসেবে আওয়ালকে রান্নাবান্না করেও খাওয়াত সে। আওয়ালের ফাঁসির দণ্ড কার্যকর হওয়ার পর রাজীব ধীরে ধীরে জেএমবির হাল ধরার চেষ্টা করে। জেএমবির কোন সদস্য আহত বা অসুস্থ হলে সে তাদেরকে নজরুল পরিচয়ে চিকিৎসাও দিত। তখন থেকে সে সংগঠনে ‘ডাক্তার’ নজরুল হিসেবেও পরিচিত হয়ে ওঠে।

গুলশান হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার বিষয়ে জবানবন্দীতে অস্ত্র, অর্থ, সদস্য সংগ্রহ, পরিকল্পনা, বিদেশীদের হত্যা ও হামলার ছক, উত্তরাঞ্চল থেকে গুলশানে জঙ্গি সরবরাহসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে রাজীব গান্ধী।

 

কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা বলেন: গুলশান হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলায় গ্রেফতার জঙ্গিদের মধ্যে রাজীব গান্ধীরই সংগঠন সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি তথ্য জানা। তার দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গুলশান হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে রয়েছে অন্তত ১৮ জন।

এর মধ্যে নব্য জেএমবির সামরিক কমান্ডার নুরুল ইসলাম মারজান নিহত হওয়ার পর গ্রেফতারের বাইরে যারা ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম জাহাঙ্গীর আলম ওরফে রাজীব গান্ধী। তাকে গ্রেফতার করার পর গুলশান হামলার পরিকল্পনাকারীদের মধ্যে এখনও গ্রেফতারের বাইরে আছে আরও পাঁচ জঙ্গি।

এ বছরের ১৩ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে টাঙ্গাইলের এলেঙ্গা থেকে দুর্ধর্ষ জঙ্গি রাজীব গান্ধীকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

গত বছরের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনা ঘটে।জঙ্গিরা ওই রাতে ২০ জনকে হত্যা করে, যাদের নয়জন ইটালির নাগরিক, সাতজন জাপানি, তিনজন বাংলাদেশি এবং একজন ভারতীয়। এ ছাড়া সন্ত্রাসীদের হামলায় দুজন পুলিশ কর্মকর্তাও প্রাণ হারান।জঙ্গিদের গুলি ও বোমায় আহত হন পুলিশের অনেকে।

পরদিন সকালে সেনা কমান্ডোদের উদ্ধার অভিযানে পাঁচ জঙ্গিসহ ছয়জন নিহত হয়, উদ্ধার হয় তিন বিদেশীসহ ১৩ জন। চ্যানেল আই অনলাইন

এ জাতীয় আরও খবর