শুক্রবার, ২৩শে আগস্ট, ২০১৯ ইং

জিম্বাবুয়ের কাছে হেরে ক্ষেপে গেলেন ম্যাথুজ

সেরাকণ্ঠ ডট কম :
জুলাই ১, ২০১৭
news-image

দিন কয়েক আগেই শ্রীলঙ্কার ক্রীড়া মন্ত্রী ক্রিকেটারদের সমালোচনা করায় বেজায় চটেছিলেন লাসিথ মালিঙ্গা। আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়ার পেছনে বাজে ফিল্ডিংয়ে দায়ী করেছিলেন ক্রীড়া মন্ত্রী দয়াসিরি জয়াসেকারা। মালিঙ্গা যা সইতে না পেরে মন্ত্রীকে বানর পর্যন্ত বলেছিলেন। যে কারণে ছয় মাসের স্থগিত নিষেধাজ্ঞা নিয়েই শুক্রবার জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে মাঠে নেমেছিলেন মালিঙ্গা। কিন্তু সেই প্রতিবাদী মালিঙ্গাই কিনা ম্যাচে ক্যাচ ছাড়লেন!
জিম্বাবুয়েকে শুক্রবার ৩১৭ রানের লক্ষ্য দিয়েও ম্যাচ হেরে গেছে শ্রীলঙ্কা। দেশের মাটিতে জিম্বাবুয়ের কাছে যেটি তাদের প্রথম হার। আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ৩১৬ রান করে স্বাগতিকরা। জিম্বাবুয়ে সেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে ৬ উইকেট আর ২.২ ওভার হাতে রেখেই। ঘরের মাঠে ৩০০ রানের বেশি স্কোর গড়ে এর আগে কখনো হারেনি শ্রীলঙ্কা। অথচ জিম্বাবুয়ের মতো দলের বিপক্ষে এদিন ৬ উইকেটে হার! পুরো ম্যাচে মালিঙ্গার ক্যাচটিসহ মোট তিনটি ক্যাচ ফেলেছেন লঙ্কান ফিল্ডাররা। যার মধ্যে দুটি ক্যাচই আবার সেঞ্চুরিয়ান ও ম্যাচ উইনার সলোমন মাইরের। ম্যাচ হারার পর তাই ফিল্ডারদের প্রতি ক্ষোভ আগলে রাখতে পারেননি লঙ্কান অধিনায়ক অ্যাঞ্জেলো ম্যাথুজ। হারের জন্য সরাসরি বোলিং এবং বাজে ফিল্ডিংকেই দুষলেন তিনি, ‘বোলিং এবং ফিল্ডিংয়ে আবারো যাচ্ছেতাই পারফরম্যান্স ডুবিয়েছে আমাদের।’

দুই বছর ধরেই ক্রমাগত ক্যাচ মিসের খেসারত দিয়ে আসছে শ্রীলঙ্কা। বর্তমান সময়ে শ্রীলঙ্কার বাজে ফর্মের কারণে এই বিষয়টি আরো বেশি করে ফুটে উঠছে। সর্বশেষ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ক্যাচ মিসের বড় মূল্য দিতে হয়েছে ১৯৯৬ বিশ্বকাপ জয়ীদের। বিদায় নিতে হয় গ্রুপ থেকেই। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৫ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের শুরুতে একই চিত্র। ম্যাথুজ তাই বলছেন, ‘আমরা গুরুত্বপূর্ণ সময়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্যাচ ছেড়েছি। যা বলে বোঝানো যাবে না। অনুশীলনে ফিল্ডিং নিয়ে আমরা অনেক পরিশ্রম করে আসছে। কিন্তু যেই না গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলোর মুখোমুখি হচ্ছি, আমরা ক্যাচ মিস করছি। যা খেলায় আমাদের পরাজিত করছে।’

 

১১৭ রান করে ম্যাচ সেরা সলোমন ১৭ রানের মাথায় ক্যাচ দিয়েছিলেন উইকেটরক্ষক নিরোশান ডিকভেলাকে। ব্যাক্তিগত ৯৪ রানে থাকা অবস্থায় মালিঙ্গাও ক্যাচ ছেড়েছেন সলোমনের। শেন উইলিয়ামসনের ক্যাচ ছেড়েছেন দানুশকা গুনাথিলাকা। এত কিছুর পর একজন অধিনায়ক চুপ থাকেন কি করে, ‘যখন কেউ চাপে থাকে এবং তখন তার কাছে ক্যাচ আসে, তখন সেটি আমরা মিস করি। কিন্তু চাপ এমন একটি বিষয় যা আমরা দিনের পর দিন বয়ে বেড়াতে পারি না। চাপ জয় করেই খেলতে হয়। সত্যিই আমরা অনেক পরিশ্রম করছি। কিন্তু এটা খুব দুঃখজনক যে সেরা ফিল্ডাররা ক্যাচ ছাড়ছে।’

তারপরও দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ম্যাথুজের কণ্ঠে, ‘আমাদের দলে অনেক তরুণ খেলোয়াড় আছে। আমরা যখন ফিল্ডিংয়ে নামি তখন আমাদের মনোভাব বদলানো এবং ক্ষিপ্রতা বাড়ানো উচিৎ। আজ সেটি খুবই খারাপ ছিল। আমাদের হাতে মাত্র একদিন সময় আছে। এবং আশা করি আমরা ফিরে আসবো এবং জয় তুলে নিতে পারবো। রান রেটের চাকা থামাতে ও ক্যাচ নিতে আমাদের বেশি মনোযোগী হওয়া চাই।’ গলে দুই দলের মধ্যে দ্বিতীয় ওয়ানডে মাঠে গড়াবে রোববার।

ম্যাথুজ বিশ্বাস করেন ৩১৬ রান জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল। লঙ্কান অধিনায়কের কণ্ঠে তাই দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত, ‘বোলারদের পারফরম্যান্স প্রত্যাশা মতো ছিল না। এই উইকেটে ৩১৬ ভালো স্কোর। বোলাররা ভালো করতে পারেনি এবং আমি পরবর্তী ম্যাচ নিয়ে নির্বাচকদের সঙ্গে কথা বলতে চাই।’ পরিবর্তন